তিস্তা চুক্তি ও তার পানি বণ্টন প্রশ্ন!

Now Reading
তিস্তা চুক্তি ও তার পানি বণ্টন প্রশ্ন!

তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি আবারো সামনে চলে এসেছে। সম্প্রতি শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন এবং বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারত গমন করেছিলেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর একই অনুষ্ঠানে ছিলেন পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানারজি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অনুষ্ঠান পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গের তাজ বেঙ্গল হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী একান্তে বৈঠক করেছেন মমতা ব্যানার্জি। উক্ত বৈঠকটি বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়, স্বাভাবিকভাবে এপার বাংলার জনগণের আসার সঞ্চার হয়।

বৈঠক শেষে মমতা ব্যানার্জি যখন গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার তিস্তা পানি-বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তখন সবার আশা আকাঙ্খা প্রবলভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু আশায় কিছুটা ভাঁটা পরেছে যখন মমতা আলোচনার বিষয়বস্তু এখনই প্রকাশ করবেন না বলে জানান। ছিটমহলের মতো বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়েছে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে। কিন্তু তিস্তার এই পানি বণ্টন চুক্তিটি বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। কার্যত কোন সমাধানই হচ্ছেনা, এর প্রধান কারন মমতা ব্যানারজির একগুয়ামি। মমতা ব্যানার্জি বরাবরই বলে আসছেন, সিকিমে অনেকগুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হয়েছে তারা প্রতিটি প্রকল্পের জন্যই নদীর পানি সাময়িকভাবে ধরে রেখে তারপরে ছাড়ে। এসব প্রকল্পে সাময়িকভাবে পানি ধরে রাখার ফলে পশ্চিমবঙ্গে আসার পরে তিস্তার প্রবাহ খুবই ক্ষীণ হয়ে গেছে। এই অল্প পরিমাণের পানি দিয়েই পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের চাষের প্রয়োজন মেটানো যাচ্ছে না। সুতরাং বাংলাদেশকে পানি দেয়ার পূর্বে তাকে তার নিজের রাজ্যের কৃষকদের প্রয়োজনের কথাটাই অগ্রাধিকার পাবে। স্বাভাবিকভাবে তার কথায় যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়, কিন্তু মিথ্যে অজুহাতে দিনের পর দিন এভাবে পানি ধরে রেখে বাংলাদেশের সাথে এক প্রকার বিমাতা সুলভ আচরণ করছে মমতা। বাংলাদেশকে পানি ছাড়লে পশ্চিমবঙ্গে শুষ্কতা দেখা দেবে এমন টুনকো যুক্তিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা শুরু থেকেই এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে আছেন। তবে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এর সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে তিস্তার পানি-বণ্টন নিয়ে মমতা ব্যানার্জি আগের অনড় অবস্থান থেকে সড়ে আসছেন। অর্থাৎ বলা যায় তিস্তার বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বরফ আস্তে আস্তে গলতে শুরু করেছে। তবে এটা ভেবে আনন্দে আত্মহারা হলে বোকামি হবে

মুখ্যমন্ত্রী মমতা তিস্তার পানি-বণ্টন নিয়ে খোলা খুলি কোন প্রতিশ্রুতি দেননি। তাছাড়া দুই দেশের ঘনিষ্ঠ কোন পক্ষই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, ফলে এখনই নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না তিস্তা নিয়ে মমতা তাঁর অবস্থান বদলেছেন। তবে সবপক্ষই এটা স্বীকার করছেন যে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে জটিল এ সমস্যার চটজলদি কোন সমাধান শিগ্রই হচ্ছেনা। চুক্তি বাস্তবায়নের পূর্ব শর্ত হিসেবে বেসিন ম্যানেজমেন্ট বা অববাহিকায় সুষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

গত বছর দুই দেশের বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক হলেও কার্যত বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষিত তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী সে সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দুই সরকারের মেয়াদ থাকা অবস্থাতেই এই চুক্তি স্বাক্ষর এবং বাস্তবায়ন হবে। এদিকে শান্তিনিকেতনে নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবন উদ্ভোধনের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছিলো সেখানে, তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যুটি ঘুরে ফিরে আলোচনায় এসেছে – এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ডিলিট ডিগ্রী গ্রহণ করার প্রাক্কালে এক ভাষণে মমতা ব্যানারজিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, – অনেক কিছুই বলার ছিল কিন্তু সেসব বলে এত সুন্দর একটা অনুষ্ঠান নষ্ট করতে চাইনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন কিছু বলতে চেয়েও অভিমান করে বললেননা। যাই হউক তিস্তা বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বৈরতা থাকা সত্ত্বেও আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন অনেকে। ইতিমধ্যে তিস্তা নিয়ে দুই দেশের যৌথ কমিশন কাজ শুরু করেছে।