ব্ল্যাক-ম্যাজিক বা কালোজাদু সংক্রান্ত কিছু বাস্তব ঘটনা (পর্ব-২)

Now Reading
ব্ল্যাক-ম্যাজিক বা কালোজাদু সংক্রান্ত কিছু বাস্তব ঘটনা (পর্ব-২)

প্রথম পর্ব প্রকাশিত হবার পর সবার কাছ থেকে যে পরিমাণ ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি, তা অবিশ্বাস্য; আমার ফেসবুকের ইনবক্সে কিংবা পোষ্টের কমেন্টে সবার মন্তব্য দেখে মনে হলো, পর্ব-২ প্রকাশ করার সময় হয়েছে।

একটা কথা বলে রাখি, কালোজাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিক করাটা এত সহজ কোনো ব্যাপার নয়। এখানে যে ঘটনার বিবরণ রয়েছে, তা থেকে কারো পক্ষেই কোনো খারাপ কিছু করা সম্ভব হবে না। এগুলা বাস্তব ঘটনা মাত্র। সুতরাং, ভীত হবার কিছু নেই; উপভোগ করুন, নিজে সচেতন থাকুন, চারপাশের মানুষকেও সচেতন করে তুলুন। কারণ, কালো জাদুর অস্তিত্ব রয়েছে।

আজকের এই পর্বে আরো দুটি বাস্তব ঘটনার বিবরণ রয়েছে যার একটি আবার ১৯৬৮ সালের। বরাবরের মত এখানেও ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।

যশোরের মেয়ে বৃষ্টি। বয়স মাত্র সতেরো। কলেজের ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্রী। এসএসসি পরীক্ষার পর থেকে হঠাৎ তার কি হলো, সে রাতে কি দিনে কখনোই ঘুমাতে পারতো না সাথে প্রচন্ড মাথাব্যথা। ওর চোখে ঘুম বলে কিছু ছিলো না। ডাক্তার দেখিয়ে, চোখে চশমা লাগিয়ে, কড়া ঘুমের ঔষধ খেয়েও লাভ হয়নি। এভাবেই দুই আড়াই মাস কাটে। এক সময় ওর বড় মামীর মনে সন্দেহ জাগে যে বৃষ্টিকে কেউ জাদু করে ক্ষতি করলো কিনা। বৃষ্টির মামী বৃষ্টিকে তার গ্রামের এক চাচী সম্পর্কীয় বৃদ্ধার কাছে নিয়ে গেলো। সেই বৃদ্ধার নাকি কিছু ক্ষমতা ছিলো। গ্রামের মানুষ বলতো তার ঘাড়ে নাকি জ্বিন আছে। যাইহোক, সেই বৃদ্ধা বৃষ্টিকে প্রথমে একটা টুলে বসতে বলে। নিজেও সামনাসামনি আরেকটা টুলে বসে ওর চোখের দিকে টানা তাকিয়ে থেকে দোয়া পড়ে ওর শরীরে ফুকঁ দিতে থাকে। এরপর বৃদ্ধা বৃষ্টিকে বিছানায় শুতে বলে আর চুল গুলা মেঝের দিক ছেড়ে দিতে বলে। বৃদ্ধা পড়া তেল আর পানি একসাথে মিশিয়ে তা বৃষ্টির চুলে দিতে থাকে। কিছুক্ষণ পর দেখা যায় চুলে জট ধরে চুলের রঙ কিছুটা বাদামী লাল হয়ে গেছে। পাশে বসে থাকা বৃষ্টির মামীকে উদ্দেশ্য করে বৃদ্ধা তখন বলে, “তোর ভাগ্নীরে তো জাদু করা হইছে, আর কয়েকদিন গেলে মাইয়াডার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাইতো।” এরপর তিনি বৃষ্টির মামীকে দুইদিন পর আবার বৃষ্টিকে নিয়ে আসতে বলেন। দুইদিন পর গেলে বৃদ্ধা বলেন বৃষ্টিকে জাদু করার পেছনে এক তান্ত্রিক, এলাকার একটা ছেলে আর বাড়ির কাজের মেয়ের হাত রয়েছে।

বাসায় এসে কাজের মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে প্রথমে স্বীকার না করলেও পরে জানের ভয় দেখালে সব স্বীকার করে। ছেলেটা ছিল এলাকারই একটা বখাটে ছেলে। বৃষ্টি যখন স্কুলে যেতো, প্রায়ই এসে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। কিন্তু কখনোই বৃষ্টি রাজি হয়নি বলে ছেলেটা বৃষ্টির এই ক্ষতি করে। প্রথমে কাজের মেয়ে বৃষ্টির মাথার কয়েকটা চুল, হাত পায়ের নখ আর ব্যবহৃত জামার অংশ সংগ্রহ করে ঐ ছেলেকে দেয়। সেগুলো সেই তান্ত্রিকের কাছে দিলে সে সেগুলো সুতা দিয়ে একসাথে বাধেঁ। তারপর জাদু করে মোম গলিয়ে মোম এর ভেতর ভরে ছেলেটাকে দিয়ে দেয়। ছেলেটা সেটা আবার কাজের মেয়েকে দিয়ে বলে বৃষ্টির বালিশের ভেতর ঢুকিয়ে সেলাই করে দিতে। কাজের মেয়েটাও ঠিক সেভাবে কাজ করে বিনিময়ে ভালো অংকের টাকাও পায়। সব জানার পর সেই মোম বালিশ থেকে বের করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। বৃষ্টিও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যায়। কাজের মেয়ে আর বখাটে ছেলেটাকে পরবর্তীতে এলাকা ছাড়া করা হয়।

এখন যে ঘটনাটি লিখছি, এটা আরো ৪৯ বছর আগের একটি ঘটনা। যার সাথে ব্যাপারটা ঘটেছিলো তার বয়স এখন ৬২বছর। তিনি নিজেই ফোন করে সবকিছু বলেছিলেন।

 

১৯৬৮ সাল। ১৩ বছরের দুরন্ত কিশোরী রিনা। উচ্ছল হাসিখুশি রিনা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। রিনা সারাদিন মন মরা হয়ে বসে থাকে, একা একা কান্নাকাটি করে, একা বসে আনমনে কি ভাবে, ধীরে ধীরে ওর খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, চোখে রক্ত জমাট বাধঁতে থাকে। রিনাকে সারা রাজশাহীর ডাক্তার কবিরাজ দেখিয়েও লাভ হয়না। ফলে অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে থাকে। এক সময় দেখা যায় রিনার নাভীতে পচঁন ধরেছে আর রাত হলেই বলে মাথার ভেতর যন্ত্রণা করে। একদিন রিনার মা মেয়ের মাথা ব্যথার কথা শুনে মাথা টিপে দিতে থাকে, হঠাৎ তার হাতে শক্ত কিছু বাধেঁ। বের করে দেখেন খুব ক্ষুদ্র একটা তাবিজ। ব্যস, রিনার মা বুঝে যান যে মেয়েকে কেউ তাবিজ করেছে। পরদিনই মসজিদের ইমাম সাহেবকে ডেকে আনা হয়। ইমাম সাহেব এসে সব ঘর, আসবাবপত্র বিছানা ভালো করে খুজঁতে বলেন। রিনার ঘর থেকে প্রচুর তাবিজ পাওয়া যায়। ইমাম সাহেব বললেন যে এখানে বাড়ির মানুষের বা পরিচিত কারো হাত রয়েছে। সব তাবিজ বিশেষ কায়দায় পুড়িয়ে ফেলা হয়। ইমাম সাহেব যখন জানতে পারেন যে রিনার নাভীতে পচঁন ধরেছে, তখন তিনি বলেন যে এই জাদুতে বদ জ্বীনেরও হাত আছে। সেদিন বিকেলেই ইমাম এক শিঙ্গা নিয়ে আসেন। শিঙ্গা রিনার মায়ের কাছে দিয়ে বলেন যে মেয়ের নাভীতে যেখানে পচঁন ধরেছে, আমি দোয়া পড়ে শেষ করার সাথে সাথে সেখানে জোরে জোরে ফুঁক দিবেন। সেভাবেই চলতে লাগলো বেশ কিছুক্ষণ। এরপর সবচেয়ে অবাক করা ব্যপারটা দেখা গেলো যে শিঙ্গার সাথে একজোঁড়া ক্ষুদ্র তাবিজ বের হয়ে আসছে। ইমাম বলেন, জ্বীন দিয়ে এই তাবিজ জোড়াঁ ওকে স্বপ্নে খাওয়ানো হয়েছে। তাবিজ জোড়া যখন ভাঙ্গা হয়, সেখানে আরবিতে দুইটি নাম লেখা ছিলো। একটাতে রিনা আর একটাতে জাহিদ। তখনই সকল রহস্যের উদঘাটন হয়।

জাহিদ ছিলো রিনার বড় বোনের মেজো দেবর। সে রিনাকে বিয়ে করতে চাইতো। কিন্তু একই বাড়িতে রিনার বাবা আর বিয়ে দিতে চাচ্ছিলেন না। এদিকে রিনারও মত থেকেও ছিলো না যেহেতু বাবা চাইতেন না। তাই রিনার মন পেতে সে এক দরবেশকে দিয়ে এই কাজ করায় কিন্তু দরবেশের ভুলে ভুল তাবিজে রিনার জীবন মৃত্যু-মুখে পতিত হয়।

পরে অবশ্য রিনা আর জাহিদের বিয়ে হয় এবং তারা এখনো সুখের সাথে সংসার করে যাচ্ছে।

 

চলবে………