শুভাগত হোম চৌধুরী ; একটি দীর্ঘশ্বাসের নাম

Now Reading
শুভাগত হোম চৌধুরী ; একটি দীর্ঘশ্বাসের নাম

শুভাগত হোম চৌধুরী।

নামটা একই সাথে হতাশা ও দীর্ঘশ্বাসের। আবার কারো কারো কাছে শুধুই বিরক্তির। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, এই মানুষটার নাম বাংলাদেশের স্কোয়াডে দেখলে আমরা অধিকাংশই বিরক্তিতে নাক-মুখ কুঁচকে ফেলি। কিন্তু আসলেই কি এই শুভাগত এতটা হেলাফেলার যোগ্য? কিংবা তার মধ্যে কি একদল মানুষ অমিত সম্ভাবনা কখনোই দেখেনি?

১১ই নভেম্বর ১৯৮৬ সালে শুভাগতর জন্ম ওই ময়মনসিংহ জেলায়, যেখানে জন্ম বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আরেক কাণ্ডারি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের। ডানহাতি ব্যাটসম্যান এবং ডানহাতি অফব্রেক করা এই অলরাউন্ডার প্রথম ঢাকার হয়ে ফার্স্ট-ক্লাস ক্যারিয়ার শুরু করে ২০০৯-১০ মৌসুমে। অলরাউন্ডের হলেও শুভাগত তার সলিড ব্যাটিং টেকনিক এবং ফার্স্ট বোলারদের বিপরীতে তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এর জন্যই সুপরিচিত ছিলেন। ‘ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমী’ টিমে থাকতেই তিনি এই গুণাগুণ রপ্ত করেছিলেন।

২০০৪-০৫ সালের দিকে ঢাকায় আসার আগে শুভাগতের ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা সামান্যই ছিল। ময়মনসিংহ এবং কিশোরগঞ্জের স্থানীয় লিগে খেলেছিলেন কিছুদিন। ঢাকায় ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেট লিগে তিনি ‘ক্রিকেট কোচিং স্কুল’ এর হয়ে তিনে ব্যাট করা শুরু করেন। বড় বড় টিমগুলোর অফার পাওয়া সত্ত্বেও তিনি সিসিএস এর হয়ে নিয়মিত পারফর্মার ছিলেন। ২০০৯-১১ সময়কালের মধ্যে শুভাগতর অসাধারণ পারফরম্যান্স তাকে জাতীয় দলের বিবেচনায় নিয়ে আসে। জাতীয় ক্রিকেট লিগ টিটুয়েন্টির ফাইনালে খুলনার বিরুদ্ধে তার ৬২ রানের ইনিংস, বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ট্যুর ম্যাচে তার ৩০ বলে ৯১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই ট্যুর ম্যাচে জয় প্রত্যাশী ইংলিশদের হতাশ করে শুভাগতর কল্যাণে ড্র করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

শুভাগতর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে ২০১১ বিশ্বকাপের ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দলে জায়গা পায় সে। একই বছর এপ্রিলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্কোয়াডে জায়গা পায় শুভাগত হোম।
তবে তার ওয়ানডে অঅভিষেক হয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১১ এর আগস্টে। নাসির হোসেনের জাতীয় দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে কখনোই দলে নিয়মিত হতে পারেননি শুভাগত। ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয় শুভাগত হোমের। এরপর থেকে টেস্ট দলেও আসা যাওয়ার মধ্যেই থেকেছেন। খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে টেস্ট দলেও নিয়মিত হতে পারেননি। তবে প্রায়ই টেস্ট স্কোয়াডে দেখা যেত তাকে। ঘরোয়া লিগের পারফরম্যান্সের কারণেই হয়তো নির্বাচকরা তাকে বিবেচনা করতেন। ঘরোয়া লিগে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সগুলো হল-
ব্যাটিং ২৩,৪৬,১৯,১০০,৫২,১,৬,১৩,৫।

বোলিং ২০২-৩, ৫১-২, ৪৬-৪, ৯১-৬,৭৭-৪,৯১-১, ১০১-৫।

সম্প্রতি শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ওয়ানডে দলেও স্কোয়াডে রাখা হয়েছে শুভাগতকে। এখানে হয়তো অনেকে ভক্তরই আফসোস থেকে যাবে নাসির হোসেনের জন্য। শুভাগত হয়তো টেস্ট দলে যথেষ্ট সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। তবে লিমিটেড ওভারে তিনি কতবার সুযোগ পেয়েছেন সেটা জানলে হয়তো অনেকেই চমকে যাবেন। নিচে তার ক্যারিয়ার স্ট্যাট দিচ্ছি।
.
টেস্ট

ম্যাচ- ৮
ইনিংস- ১৫
রান- ২৪৪
সর্বোচ্চ- ৫০
গড়- ২২.১৮
ফিফটি- ১
হান্ড্রেড- ০
উইকেট- ৮
গড়- ৬৩.২৫
.
ওয়ানডে(ব্যাটিং)

ম্যাচ- ৪
ইনিংস- ৩
রান- ৭০
গড়- ৩৫.০০
স্ট্রাইক রেট- ৮১.৩৯
ফিফটি- ০
হান্ড্রেড- ০
সর্বোচ্চ- ৩৫*
ওয়ানডে(বোলিং)
এক ইনিংসে দুই ওভার বল করে ৯-০।

টিটুয়েন্টি
ম্যাচ- ৫
ইনিংস-৪
নটআউট ইনিংস- ২
রান- ৩৫
গড়- ১৭.৫০
সর্বোচ্চ- ১৬*
স্ট্রাইক রেট- ১০০
উইকেট- ২
ইকোনমি- ৬.৪৫
বেস্ট- ১৮-১

.

শুভাগত যদি সামনের কোন সিরিজে স্কোয়াডে জায়গা পান তবে তার সামনে সুযোগ থাকবে দলে জায়গা পোক্ত করার। তথাপি নিজের সামর্থ্যের জানান দেয়ার। নতুবা তিনি হয়তো থেকে যাবেন এক আফসোসের নাম হয়েই। শুভাগত হোম চৌধুরীর জন্য শুভকামনা।