কেবলমাত্র সিভি’তে বাংলাদেশী লিখলে হবে না, হৃদপৃন্ডের মধ্যখানে রক্ত কণিকা দ্বারা লিখে নিতে হবে আমি ‘বাংলাদেশি’

Now Reading
কেবলমাত্র সিভি’তে বাংলাদেশী লিখলে হবে না, হৃদপৃন্ডের মধ্যখানে রক্ত কণিকা দ্বারা লিখে নিতে হবে আমি ‘বাংলাদেশি’

“আত্মার সাথে মাতৃভূমির নিবিড় ভাবে সু-সম্পর্ক স্থাপন করার নাম’ই হচ্ছে দেশপ্রেম”

১- বর্তমানে চলার পথে দেখা যায়, একদল জ্ঞানী ব্যক্তি অন্য একদল অজ্ঞানী ব্যক্তি কে তার ভূল ত্রুটির কারণে বলে থাকে যে, “এই হচ্ছে আমাদের বাঙ্গালীদের দোষ” এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এই যে, যদি কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে তবে তার দায় বর্তানোর কথা ঐ অজ্ঞ ব্যক্তি বা ব্যক্তি বর্গের। কিন্তু জ্ঞানী ব্যক্তি সম্পূর্ণ দায় ভার’ই দিয়ে দিলো বাঙ্গালী জাতীর উপর, যা ঐ জ্ঞানী ব্যক্তির দেশপ্রেম কে ক্ষুন্ন করে, শুধু তাই নয় বাংলাদেশ কে বিশ্বের দরবারে হীন করে এবং লুন্ঠিত করা হয় বাংলার পদমর্যাদাকে।

হে জ্ঞানী আপনি যদি প্রকৃত পক্ষেই জ্ঞানী হয়ে থাকেন, আপনি যদি সত্যিই সচেতন ব্যক্তি হয়ে থাকেন, আপনি যদি নিতান্তই বাংলাদেশ কে সোনার বাংলায় পরিণত করতে চান তবে আপনার উক্তি এবং কার্যাদি হতে হবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষে, দেশের ভাবমূর্তি কে নষ্ট করার প্রত্যয়ে না।

২-বর্তমান বিশ্বে ক্রিকেট একটি জনপ্রিয় খেলা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ কে এক সুমহান মর্যাদার স্থান তৈরি করে দিয়েছে। যে সুবাদে ‘বিসিবি’ দেশের প্রতিভাবান খেলোয়ার আবিষ্কারের লক্ষে বাংলাদেশ প্রিমিয়ারলীগ(বিপিএল) এর আয়োজন করে, যেখানে বাংলাদেশের বিভাগ অংশগ্রহণ করে থাকে। ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, কুমিল্লা ও রংপুর ইত্যাদি।কিন্তু এই বিপিএল নিয়েই আমাদের যত জড়তা তা হচ্ছে, আমরা নিজেদের ভিতরে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে দেই। নিজ নিজ বিভাগের হয়ে ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, কুমিল্লা ও রংপুর নিয়ে ভিন্নতা সৃষ্টি করে দেই। কেউ কেউ বলি ঢাকার অবদান বেশি, কেউ বলি বরিশাল বড়, কেউ বা বলি চট্টগ্রাম শ্রেয়। আবার এ ও বলে থাকি তামিম চট্টগ্রামের ছেলে, সাকিব মাগুরার, মাশরাফি নড়াইলের, আশরাফুল-তাসকিন ঢাকার, মোসাদ্দেক ময়মনসিংহের, মুশফিক বগুড়ার, ছাব্বির রাজশাহীর ও মুস্তাফিজ সাতক্ষীরার।

দেখুন আমরা সামান্য বিপিএল এ এই এসব মহান ব্যক্তিদের কে ভাগাভাগি করে নেই। বিপিএল এর মূল লক্ষ হচ্ছে বাংলাদেশ কে তথা বাংলাদেশ দল কে এগিয়ে নেওয়ার, ভাগাভাগির জন্য না। তামিম-সাকিব-মাশরাফি-আশরাফুল-তাসকিন-মুশফিক-মোসাদ্দেক-মুস্তাফিজ ও ছাব্বির শুধু চট্টগ্রাম, মাগুরা, নড়াইল, ঢাকা, বগুড়া, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা ও রাজশাহীর নয়, তারা সমগ্র বাংলার তথা তারা সবাই বাংলাদেশী। তারা আমাদের দেশের এক একজন লড়াকু সৈনিক। কিন্তু আমরা তাদের বিভাজন করে ফেলি।

এই কি আমাদের দেশপ্রেম….??? এই কি আমাদের স্বদেশ প্রেম….??? ব্যাপার গুলো কি সত্যিই হাস্যকর নয়….?

আমরা সকলই একে অপরের পরিপূরক। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলী, কীর্তনখোলা, গড়াই, আত্রাই ও ধ্বলেশ্বরী সব মিলিয়েই বাংলা, শুধু পদ্মা, মেঘনা, যমুনাই বাংলা নয়।

৩-ইট, বালু, খোয়া, সিমেন্টের সংমিশ্রণে তৈরি হয় একটি সু-উচ্চ বহুতল ভবন। যারা প্রত্যেকেই প্রত্যেক কে আঁকড়ে ধরে রাখে,একে অপর কে জটিল ভালোবাসায় মধুর মিলনে শত শত বছর যাবৎ সাক্ষী হয়ে আছে দন্ডায়মান রুপে। তদ্রুপ আমরা বাঙ্গালী আমরা ও আমাদের কে ইট, বালু, খোয়া, লোহা ও সিমেন্টের ন্যায় গঠন করি, গড়ে তুলি জটিল ভালোবাসা আর মধুময় সংমিশ্রণ। যা অবশ্যই বিশ্বের মানচিত্রে আমাদের কে, আমাদের বাংলাদেশ কে সোনার বাংলায় বাস্তব রুপে রুপান্তরিত করবে। প্রত্যেকটি গ্রাম, উপজেলা, জেলা, বিভাগ শুধু মাত্র স্থানের নামকরণের জন্য। আমরা প্রত্যেকেই বাঙ্গালী, প্রত্যেকেই বাংলাদেশি। আমাদের কে একত্রিত হতে হবে “একতাই বল ” সেই ভাব সম্প্রসারণ কে এখন বাস্তবে সম্প্রসারিত করতে হবে। দেশপ্রেমিক হতে হলে অবশ্যই একত্বাবাদ সৃষ্টি করতে হবে।

৪- একজন মায়ের কাছে ফেলানি, রাজন, সাইফ, আদনান, তমাল, হিমেল, তনু, তাশফিয়া, জান্নাত, মৌ যেমন সমান, তদ্রুপ বাংলার প্রত্যেকটি স্বত্বার কাছে বাংলাদেশ কে সমান ভাবতে হবে, তবেই তো দেখা মিলবে সেই প্রকৃত চিরাচরিত দেশপ্রেম। শুধু পদ্মা সেতু নির্মাণে ১০০ টাকা দিয়ে দেশপ্রেমিক হওয়া যায় না। রহিম মিয়ার বাড়ির সামনে বয়ে যাওয়া খালের উপর ভাঙ্গা সাঁকো নির্মাণে এগিয়ে যাওয়াও দেশপ্রেম। করিম মিয়ার পুকুরের মাছ বন্যায় ভেঁসে যাচ্ছে তার সাথে পুকুরে জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়াও দেশপ্রেম। ছোট বেলায় পড়েছিলাম ক্ষুদ্র হতেই বৃহৎ এর উৎপত্তি, ঠিক তেমনি ছোট ছোট কাজের মাধ্যমেই নিজেকে দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

৫- একজন প্রবাসীর কাছে জিজ্ঞেস করুন দেশের মায়া, মমতা, ভালোবাসা কতটুকু? তা সে খুব সহজেই বুঝতে পারে,বাংলার অভাব পূরণে তাই তো সে কয়েক মাইল দূরুত্ব অতিক্রম করে একজন বাঙ্গালীর কাছে ছুটে চলে যায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। সেই দেশপ্রেমের টানে। একজন সন্তারের তার মায়ের প্রতি যেমন ভালোবাসা থাকে, ঠিক তেমনি দেশের প্রতি ও একই ভালোবাসা থাকা উচিত। মায়ের আদর, স্নেহ, বাঁধা, নিষেধ, হুকুম, শাসন আমরা যে ভাবে ভালোবাসি, আর প্রত্যেকটি স্তরকে যথাযথ ভাবে যেমনি মূল্যায়ন করি প্রাণপণ চেষ্টার মাধ্যমে, তদ্রুপ দেশপ্রেমিক হতে হলে দেশের সর্ব স্তরে নিজের ভূমিকা থাকা বাঞ্চণীয়।

৬-দেখুন তো মনে আছে কি’ না….? জীবনে কত সহস্রবার বলেছিলাম “আমি শপথনামা করছি যে নিজেকে সর্বদা স্বদেশ প্রেমে নিয়োজিত রাখবো” আসলে ঐ বাক্যটি ছিল আমাদের মুখস্থ বিদ্যা। স্যারের বেত্রাঘাতের ভয়ে ঐ লাইন গুলো মগজে ধারণ করেছিলাম শুধু মাত্র সেদিন, যদি স্যারের ভয়ে মুখস্থ না করে স্বদেশের জন্য নিজে দু’টি লাইন বা বাক্য লিখতে পারতাম তাহলে হয়তোবা আজ আমরা উদ্যমের সাথে বলতে পারতাম আমি দেশপ্রেমিক। দেশ কে আর না হলে ও দু’টি বাক্য উপহার দিতে পেরেছি।

৭-আবার অনেক ভাই বলে থাকে, বাংলাদেশ আমাদের কি দিয়েছে….??? তাদের কাছে আমার উত্তর একটাই, আপনি আগে তালিকা করুণ বাংলা আপনাকে, আমাদেরকে কি না দিয়েছে..? এক কথায় বলতে গেলে বাংলা পূর্ণতার একটি থলে, শুধু মাত্র নিয়ন্ত্রণ এবং আমাদের কার্যবিধির কারণে বাংলা আজ পিছিয়ে। আমরা যদি প্রত্যেকেই প্রত্যেকের স্থান থেকে নিয়ন্ত্রণাধীন ভাবে চলি এবং কার্যবিধি গুলো সঠিক ও স্বচ্ছ ভাবে পালন করি তবেই আপনার আমার বাংলা এগিয়ে যাবে দুর্বার গতিতে।

♥ভালোবাসা রইলো অফুরন্ত, কোটি বাঙ্গালীর আঙিনায় ♥