চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল

Now Reading
চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গল নাম না বলে আপনি যে কাউকেই জিজ্ঞেস করেন , চায়ের দেশ কাকে বলা হয় ? তিনি ডান বাম না ভেবে আপনাকে বলে দিবে শ্রীমঙ্গল । শ্রীমঙ্গল এমন একটি জায়গায় যেখানে চা হওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযোগী । বাংলাদেশে আর কোথাও এতো চা গাছ বা চায়ের বাগান নেই যতটা শ্রীমঙ্গলে আছে । অপরূপ সুন্দোর্য চায়ের বাগান । শেষ বার গিয়েছিলাম শীতে ।আমি আপনাকে বলবো আপনি শীত কালে কোথাও যদি যেতে চান তাহলে শ্রীমঙ্গল গিয়ে ঘুরে আসুন । ভুলেও বর্ষা কালে যাবেন না । তাহলে জোক আপনাকে আক্রমণ করবে ১০০% শিউর । আর গ্রীস্মকালে গেলে রোদে আপনাকে পুড়তেই হবে । আমি বলবো আপনি শ্রীমঙ্গল ডিসেম্বর এর ২৩ বা ২৪ তারিখে যান ।

খন কিভাবে যাবেন শ্রীমঙ্গল তা এখন আমি বলবো । আশা করি খুব কম খরচে আপনাকে আমি দেখাবো কিভাবে ঘুরে আসতে পারেন ।

আপনি দুই ভাবে যেতে পারেন ট্রেন বা বাস । আমি আপনাকে প্রেফার করবো আপনি ট্রেনে যান তাহলে জার্নিটা যেমন উপভোগ হয়ে উঠবে ঠিক তেমনি খরচ ও কমে যাবে ।

ট্রেন – প্রথমে কমলাপুর থেকে দুই তিন দিন আগে ট্রেনের টিকিট কেটে নিন । তা না হলে আপনি সিট্ পাবেন না । আপনি যদি শোভন চেয়ার যান তাহলে ভাড়া পরবে ২২৫ টাকা । আর হ্যাঁ আপনাকে একটা কথা বলে রাখি অনেকে হয়তো জানেন না , শ্রীমঙ্গল কোনো জেলা নয় । মৌলুভীবাজার এর একটি থানা বা উপজেলা হলো শ্রীমঙ্গল । সিলেট গামী যেকোনো ট্রেনের টিকেট কাটলেই হবে আপনার । সকাল , বিকেল , রাত সব সময় টিকিট পাবেন আপনি । কেটেনিন যে কোনো একটি ট্রেনের টিকেট । ট্রেনে করে গেলে আপনি উপভোগ করতে পারবেন হবিগঞ্জ ও মৌলিভীবাজারের ছোট ছোট কিছু পাহাড় । আপনার জার্নি তখনি আরো মজার হয়ে উঠবে যখন ট্রেনে কিছু লোক একতারা হাতে নিয়ে উঠে আপনাকে আঞ্চলিক গান গাইয়ে শোনাবে । আমি বলবো আপনি একদম সকালে অথবা রাতের ট্রেনে শ্রীমঙ্গল চলে যান । আমি রাতের ট্রেনে গিয়েছিলাম । আপনাকে চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল স্টেশন নামিয়ে দিবে । আপনি সেখান থেকে নেমে সিএনজি করে চলে আসুন মৌলুভীবাজারে ভাড়া নিবে ৩০ টাকা করে । প্রথম দিন আপনি রেস্টে থাকুন । মৌলুভীবাজারের অনেক থাকার হোটেল পাবেন । ভাড়া ৩০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে পড়বে । সেখানে আপনি উঠতে পারেন ।

বাস – আর যারা বাসে যেতে চান তারা প্রথমে চলে আসুন সায়েদাবাদে । সেখান থেকে শ্যামলী বা হানিফা করে হবিগঞ্জ এর নতুন ব্রিজ নেমে যান । ভাড়া পড়বে ৩৫০ টাকা সময় লাগবে মাত্র ৩ ঘন্টা । ২৪ ঘন্টা গাড়ি পাবেন । নতুন ব্রিজ নেমে একটি সিএনজি করে চলে আসুন মৌলিভীবাজার এর চকবাজার । ভাড়া পড়বে ৬০ টাকা করে । নেমে হোটেল ভাড়া করে রেস্টে থাকুন ।

চা বাগান

শ্রীমঙ্গল চা বাগান

 

পরের দিন আপনি একটি সিএনজি ভাড়া করতে পারেন সারা দিনের জন্য । আমি তাই করেছিলাম । সারা দিনের জন্য একটি সিএনজি ভাড়া করেছিলাম মাত্র ৭০০ টাকায় । ভাড়া করার আগে অবশ্যই বলে নিবেন যেন আপনাকে শ্রীমঙ্গল , উপজাতি পল্লী , বদ্ধভূমি , চা বাগান , বিজিবি পার্ক ঘুরিয়ে নিয়ে আসে । সাথে কমলা ও লেবু বাগান যেন ঘুরায় । আপনি যদি সকালে বের হন তাহলে আপনার মোটামুটি ৪ থেকে ৫ ঘন্টা সময় লাগবে ভালমতো সব ঘুরতে । প্রথমে আপনাকে চা বাগান নিয়ে যাবে ।

রাবার বাগান

শ্রীমঙ্গল রাবার বাগান

আমি যাবার পথে রাবার বাগান দেখবেন সেখানে গাড়ি থামিয়ে কিছু ছবি তুলে নিতে পারেন । আমি তাই করে ছিলাম । আপনি রাস্তা দেখে মুগ্ধ হয়ে যাবেন । অনেক সুন্দর রাস্তা । অনেক পরিষ্কার ও গোছালো । তার একটু সামনে এগিয়ে গেলে আপনার চোখে পড়বে চা বাগান । আপনি গাড়ি থেকে নেমে চা বাগানের ছোট ছোট পাহাড় বেয়ে উপরে উঠে যান । বেশি দূর না যাওয়া ভাল , পথ হারিয়ে ফেলতে পারেন অথবা সঙ্গে দামি কিছু থাকলে ছিনতাই হবার ভয় থাকবে । আসে পাশের ছবি তুলতে পারেন ।

 

ভাস্কার

চা এর দেশে স্বাগতম ভাস্কর্য

আবার নেমে সিএনজি তে বসে পড়ুন । সেখান থেকে আপনাকে নিয়ে যাবে একটা ভাস্কর্য এর কাছে । যেখানে লেখা আছে চায়ের দেশে স্বাগতম । খুব সুন্দর একটা জায়গা । নেমে কিছু ছবি তুলে নিন । ঠিক এই ভাস্কর্য পাশে একটি রাস্তা গিয়েছে , এই রাস্তা আপনাকে উপজাতিদের পল্লী তে নিয়ে যাবে । সিএনজি ড্রাইভার কে বলুন তিনি আপনাকে নিয়ে যাবে । ওখানে গেলে আপনি দেখবেন তাদের জীবন ধরণের স্টাইল । খুব সুন্দর তাদের পল্লী গুলো । উঁচু উঁচু করে তাদের বাড়ি গুলো । আপনি নেমে আসে পাশে ঘুরে আসতে পারেন । আমি যখন গিয়েছিলাম তখন তাদের বড় দিন ছিল । খুব সুন্দর করে সাজিয়ে ছিল পল্লী কে ।

সেখান থেকে চলে গেলাম লেবু বাগানে । যখনি আপনি প্রবেশ করবেন তখনি আপনার নাকে এসে ধাক্কা দিবে লেবুর গন্ধ । আপনি সেখানে নেমে কোনো গাছ থেকে লেবু ছিড়বেন না । যারা লেবু পারছে তাদের বলুন একটি লেবু দিতে দেখবেন তারা পানেক মিনিমাম ৮টি লেবু দিবে । আমাকে ও দিয়েছিলো । কি সুন্দর লেবুর ঘ্রান । পুরো সিএনজি লেবুর ঘ্রানে ভরে গিয়েছে । সেখান থেকে আপনি বিজিবি পার্কে যেতে পারেন । সেখানে আপনি সাত রঙের চা পাবেন । আমার বেক্তিগত মতামত , চা একটা একদম মজা না । আপনার কাছে হয়তো মজা লাগতে পারে । সেখানে ঘুরে আপনি আশে পাশের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে আসতে পারেন ।

খরচ

ট্রেনে ২২০ টাকা থাকা ৪০০ টাকা করে দুই দিন থাকলে পড়বে ৮০০ টাকা । খাওয়া দুই দিনের পড়বে ৬০০ টাকা । আর সিএনজি ভাড়া ৭০০ । ও ঢাকায় আসার ভাড়া ২২০ টাকা । টোটাল – ২৫০০ টাকা আর বাসে গেলে শুধু বাস ভাড়া বাড়বে আর সব ঠিক থাকবে । আপনি যদি গ্রুপ নিয়ে যান বা দুই জন গেলে টাকা আরো কমে যাবে ২০০০ টাকার মধ্যে হয়ে যাবে । আমরা তিন জন গিয়েছিলাম আমাদের পড়েছিল ১৫০০ টাকা করে ।

দেশপ্রেম কি শুধু মুখেই? কতটুকু দেশপ্রেমিক আমরা?

Now Reading
দেশপ্রেম কি শুধু মুখেই? কতটুকু দেশপ্রেমিক আমরা?

দেশপ্রেম কথাটা আমরা সবাই শুনেছি।

তবে আসল কথা হল এর প্রকৃত অর্থ আমরা অনেকেই জানি না।একটা শব্দের অর্থ কখনোই সামান্য হয় না।আর তা যদি হয় ‘দেশপ্রেম’! তবে এর অর্থ হবে একেবারেই অন্যরকম। কারণ আপনি শুধু কথায় নয় কাজে পরিণত করে দেখাতে হবে আপনার মাঝে থাকা দেশপ্রেমকে।আর যদি তা পারেন,তবেই আপনাকে বলা হবে একজন দেশপ্রেমিক।আর আপনার এই দেশপ্রেমই পারে আপনার দেশকে এগিয়ে নিতে।

আজকাল দেশপ্রেমিক শব্দটা একটি ট্যাগে পরিণত হয়েছে।যে কেউ নিজেকে দেশপ্রেমিক বলে দাবি করে বসে। যদিও বাস্তব জীবনে তার কাজে কর্মে এর বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় না।সবাই নিজের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার কথা বলে ফেসবুকের কমেন্ট বক্সে।কিন্তু দিনে একটি কাজ দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গল এর জন্য করেছে এমন মানুষ পাওয়া ধীরে ধীরে মুস্কিল হয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের দরকার কেবল মুখে আর লেখায় নয় কাজের মাধ্যমে দেশের জন্য কাজ করা।দেশপ্রেমে বলিয়ান হয়ে দেশের মাঝে নিজেদের মাঝে এক ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

অনেক তো সমালোচনা করলাম সে সকল লোকদের যারা মুখে নিজে দেশকে বদলানোর কথা বলে কিন্তু বাস্তবে এর পুরো উল্টো। আসুন দেখা যাক আমাদের দেশকে আমরা কেমন ভালোবাসি আর আমাদের দেশপ্রেম কতটুকু।

একটা সাধারণ উদাহরণই দিই।আপনারা প্রায় সবাই দেখেছেন বর্তমান ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর একটি প্রকল্প ছিল রাস্তার পাশে মিনি ডাস্টবিন স্থাপন করা।আর এর জন্য প্রায় ৩০০০ এর বেশি মিনি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়।এ কাজটি আমার মতে একটি অসাধারণ পদক্ষেপ ছিল।আমাদের শহরকে পরিষ্কার রাখার জন্যে এর খুবই প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন অনেকেই।তবে আফসোস এর বিষয় বেশির ভাগ লোকই ডাস্টবিনের ব্যবহার জানলেও তার উপযুক্ত ব্যবহার না করে ময়লা ফেলল ওই রাস্তার উপর।মজার ব্যাপার ডাস্টবিনগুলো স্থাপনের মাত্র কয়েক দিন পর এগুলোর কয়েক ভাগ চুরি হয়ে গেল।হায়রে দেশ আমার।তখনই মনে আসে কবির সেই কথা,

“সাত কোটি সন্তানের মুগ্ধ জননী,        রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করো নি”

তবে আমার দেখা অনেকেই একটু কষ্ট করে হলেও কয়েক পা এগিয়ে মিনি ডাস্টবিনের ব্যবহার করেছেন।তবে এতেই তাদের পুরো কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে বলে আমি মনে করি না।আমাদের উচিত ছিল যারা রাস্তায় না বুঝে এসব ময়লা ফেলে তাদের দেখলে ওই ময়লা কষ্ট করে পাশের ডাস্টবিনটিতে ফেলার জন্য বিনীত অনুরোধ করা।অনেকেই বলবেন ভাই এটা করে লাভ নাই।তবে ভাই আমার মতে লাভ না হলেও দিন শেষ ঘুমানোর আগে এটার স্বস্তিতে থাকতে পারব যে আজ অন্তত একটা ভালো কাজ দেশের জন্য করেছি।

সামান্য ডাস্টবিন ব্যবহারের উদাহরণ দিয়েছি।অনেকেই একমত হবেন আবার অনেকেই কিছু ত্রুটির কথা জানাবেন।আমার মতে যদি আপনি ত্রুটি দেখতে পান তবে তা অবশ্যই আমাদের মেয়র অথবা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাতে পারেন।আমার দেখা মতে আমাদের বর্তমান মেয়ররা যথেষ্ট চেষ্টা করছে শহরটাকে ঠিক করার।

যাক এই টপিক।আমাদের মাঝে আসলেই দেশপ্রেমটা কম।তা না হলে পর পর তিনবার দুর্নীতিতে আর যাই হোক চ্যাম্পিয়ন হতাম না।বাদ দেই এসব কথা।অতীতকে নিয়ে কান্না করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা সরু না করাই ভালো।

তবে আশার বিষয়কে আজ তরুণ প্রজন্মের অনেকেই দেশে বাইরে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করছে।দেশের জন্য কিছু করতে চাইছে অথবা করছে।আর যখন আপনি দেশের জন্য কিছু করছেন তা অবশ্যই মানুষের জন্যও করা হয়।আর এটাই হলো মানবতা।তাহলে বুঝতেই পারছেন দেশপ্রেমের মহত্ত্ব।

বর্তমান সময়ে বিশেষ কোনো দিনে যেমন একুশে ফেব্রুয়ারি,২৬শে মার্চ,১৬ই ডিসেম্বর এর দিনগুলোতে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানকে শহীদ মিনার,স্মৃতিসৌধ এসব জায়গায় নিয়ে যায়।তাদের বেশির ভাগই মনে করে এতে সন্তানের কাছে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।হবে তবে অন্যরকম এক দেশপ্রেম।আর তা হলো এই দিনগুলোতে শুধুমাত্র ঘুরতে যাবার জন্য ওই সব যায়গা ঘুরে আসা।কারণ যদি দেশের জন্য কাজ করাই না শিখে তবে এসবের মূল্য বৃথা।

দেখতেই পারছেন নতুন প্রজন্মের কিছু নমুনা আজকাল।এক এক এলাকায় আজ ছোট ছোট বাচ্চাদের ‘গ্যাং’ নামক জিনিষটা প্রায় ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে।আর এই গ্যাংগুলোর মধ্যে মারামারির ফল হলো প্রাণ ঝড়ে পড়া।কি শিখেছে তারা?কি শিখানো হয়েছে তাদের?তাদের এই কর্মকান্ডের দায় কি তাদের পরিবার এড়িয়ে যেতে পারে?না কখনোই না।কারণ আজ যদি তাদের বাবা মা তাদের সামনে দেশপ্রেমের উদাহরণ রাখতো তবে তারা এই পথে যাবার কথা ভাবতো না।

প্রজন্মের অনেকেই আজ দেশকে নিয়ে ভাবাকে একঘেয়েমি বলে মনে করে।তবে বিশেষ দিনে ঠিকই পৌছে যায় বিশেষ স্থানে একটা সেলফি তোলার জন্য।এইকি পূর্বের সন্তানদের আত্নত্যাগের মূল্য?

এখনই সময় পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে দেশের প্রতি কাজ করার জন্য নৈতিক শিক্ষা প্রদান করার।কেবল প্রশাসন এর ভুল না ধরে তাদের সাহায্য করার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যই পারে এ দেশকে বিশ্বের মাঝে এক রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে।আপনি কি চান না অন্য দেশে গিয়ে নিজেকে ‘বাংলাদেশি’ বলে গর্ব বোধ করতে?অবশ্যই চান বলে আমি মনে করি।

তবে আজই চেষ্টা করে দেখুন দেশের জন্য কিছু করার।মনে শান্তি না পেলে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।