কুয়োর ব্যাঙঃ বাঙালিত্ববোধ ও মূল্যবোধের হন্তারক

Now Reading
কুয়োর ব্যাঙঃ বাঙালিত্ববোধ ও মূল্যবোধের হন্তারক

আমরা বাঙালিরা যারা দেশ থেকে বিদেশে পড়তে আসি, প্রত্যেকেই নানান দেশের মানুষের সাথে মেলামেশা করি। আমরা সকলেই আমাদের দেশের একেকজন প্রতিনিধি।
আমার মাঝেই আমার দেশ। আমাকে দিয়েই আমার দেশ, আমার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব চিনে নেবে, এটা আমাদের সকলের অন্তরে ধারণ করে চলতে হবে।
আমাদের সকলেরই উচিৎ, আচার আচরণ আর ব্যবহার দিয়ে নিজের দেশকে সকলের সামনে তুলে ধরা। অথচ, আমি অনেক সময়ই এর বিপরীত দেখতে পাই যা খুব হতাশাজনক।
সেদিন চাইনিজ আর্টস অ্যান্ড লিটারেচার ক্লাসে নানান দেশি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে আমাদের জাতীয় সংগীত বাজানো হলো। সকলেই নিজ নিজ জায়গা থেকে সাথে সাথে দাঁড়ালাম। চাইনিজ টিচারও সম্মানের সহিত আমাদের সাথে দাঁড়িয়ে গেল। সত্যিই এক মধুর দৃশ্য ছিল সেদিন। অথচ, সেই মধুর দৃশ্যের মাঝে আমাদেরই কিছু বাঙালী সহপাঠী সামনের সাড়িতে বসে গালে হাত দিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে অন্যদের দিকে তাকাচ্ছিল। শেষে বিরক্ত হয়ে নিজে থেকেই দাঁড়িয়ে যেতে বললাম। বেশ কয়েকবার বলার পড়েও তাদের দাঁড় করানো যায়নি। সত্যিকার অর্থে, দেশপ্রেম বলে কয়ে কারো মাঝে নিয়ে আসা যায় না। এটা একটা মানুষের ভিতর-গত ব্যাপার যা উপলব্ধি করতে হয় নিজে থেকে। দেশে থাকতে এরা নিশ্চয়ই জাতীয় সংগীতের সাথে দাঁড়ানো শিখেছে, পতাকার দিকে তাকিয়ে স্যালুট দেয়া শিখেছে। আর, এখানে এসে এসব ভুলে গেছে অথবা মনে রেখেও দেশের টান উপলব্ধি করতে পারছে না।

যাক সেকথা, এবার পাতি নেতাদের কথায় আসি।
বন্ধু মহলে এরা সবসময় নিজেদেরকে একেকজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে জাহির করতে ব্যস্ত। ভাবখানা এমন যে, সে যা বলবে অন্যরা সেভাবেই চলবে। দেশিও চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে সে অন্যদের মাঝে নিজেকে কুখ্যাত বানাতে একটুও দ্বিধা-বোধ করেনা। এদের মুখে সবসময় কিছু কমন কথা লেগে থাকে যা শুনতে শুনতে প্রায় মুখস্থ হয়ে গেছে। দেশে থেকে সে এই করছে, সেই করছে, একে মেরেছে, ওকে ধরেছে, দেশে তার বেশ কয়েকটা কেস চলমান, আরও কত কি। ব্যাপারগুলো এমনভাবে বলে, যেন সে মহান কাজ সাধন করে এসেছে যা না বললেই নয়। মূলত: এসব কথা বলে সবাইকে তার নিজ ক্ষমতার ব্যাপারে জানান দিচ্ছে, যাতে সবাই তাকে ভয় পায়। চিন্তা করে দেখেনা যে, তার এই কাজগুলো কতটা খারাপ আর এগুলো বলে বলে বেড়ানো কতখানি আহাম্মক হবার শামিল। একজনকে এও বলতে শুনেছি, সে নাকি তার ইউনিভার্সিটির শিক্ষককে মেরে সেখান থেকে ব্যান হয়ে বিদেশে পড়তে গেছে। একথা বলে বলে সে আসরও জমিয়ে ফেলেছে। কত বড় গর্দভ হলে এমন কাজ করে আর নিজেকে এভাবে উপস্থাপন করে। শিক্ষককে মেরে সেখান থেকে ব্যান হয়ে যাওয়াকে অথবা নানান অপকর্ম করাকে সে যদি বিশেষ অর্জন মনে করে, তবে তার উচিত সার্টিফিকেটের পিছনে এসব অভিজ্ঞতা লিখে রাখা। তার চিন্তা অনুযায়ী এসব তার ভবিষ্যতে কাজে লাগতেও পারে। সার্টিফিকেটের পিছনে লিখতে বলার পিছনে কারণ আছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রদত্ত সার্টিফিকেটে তার এসব মহান কাজ উল্লেখ থাকবে না। যেটুকু থাকবে, তা হলো একজন মানুষের বৈধ শিক্ষা। অবৈধ বা অসামাজিক শিক্ষার জায়গা মানুষ গড়ার কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দলিলে নেই।

আরেকদল মানুষ আছে, যারা নিজের দেশের মানুষকে পায়ে ঠেলে অন্য দেশের মানুষকে কোলে রাখে। আমি অনেককেই দেখেছি, যারা একে অপরের ভাল বন্ধু, কিন্তু ফরেইনদের সাথে কথা বলার সময় অন্যজনকে আর চিনেই না। বরং সেই বন্ধুকে নিয়ে হাসি তামাশা করে ফরেইনদের মাঝে জায়গা করে নেয়। অথচ সে জানেই না, তার এই চালাকি ওই ফরেইনর খুব সহজে ধরে ফেলে এবং সেই আহাম্মক নিজেকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।

এবার বিদেশীদের নিকট বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে কিছু কথা বলি।
প্রথম যখন আমার ইউনিভার্সিটিতে পা রাখি, দেশি বিদেশি অনেক বন্ধু নিয়ে একসাথে আমার দেশ নিয়ে গল্প করছিলাম। এক আফ্রিকান বন্ধু মাঝখান থেকে বলে উঠলো, “হেই ফ্রেন্ডস, আই নো সাম বাংলাদেশি ওয়ার্ডস”। আমি আগ্রহ ভরে তার কাছ থেকে সেই শব্দগুলো শুনতে চাইলাম। তার মুখ থেকে শোনা আমার প্রথম শব্দটি ছিলো, “বোকাচোদা”। এরপর আরও কিছু শব্দ শুনেছি, যা আমি এখানে উল্লেখ করতে পারছিনা। অন্যদেশি ফ্রেন্ডরা যখন এর মানে যানতে চাইলো, তখন সে ওসব শব্দ অনুবাদ করে তাদের শুনালো। কে তাকে এসব শিখিয়েছে জিজ্ঞেস করার পর জানতে পারলাম, আমাদের আগে যারা এসেছে, তারাই ওকে এসব শব্দ শিখিয়েছে। এমন ঘটনা আমি আশা করিনি। নিজ দেশের অপ্রীতিকর শব্দ অন্য দেশের মানুষের মুখ থেকে বের হবে, এটা কল্পনাতীত। দিন যত গড়িয়েছে, বাংলা ভাষার অপ্রীতিকর শব্দ বিদেশিদের মুখে তত বেশি শোনা গেছে। কিছুদিন পরে আমি আমার দেশি সকল বন্ধুদের এটা করতে বারণ করলাম। এও বললাম যে, যদি কিছু শিখাতেও হয়, ভাল কিছু শিখাও। আমাদের শেখানো এসব বাংলা ভাষা বিশ্বময় ছড়িয়ে যাক তাদের দ্বারা। বেশ কয়েকজন আমার পক্ষে কথা বললেও কিছু ফ্রেন্ড আমার কথার বিরোধিতা করলো। তাদের মুখ থেকে শোনা গেলো যে, তারা তাদের বাপের টাকায় পড়তে এসেছে, কারো কথা শোনার জন্য আসেনি। আমি তাদের আর কিছু বলতে পারিনি। তবে যারা আমার কথা পজিটিভ-লি গ্রহণ করেছে, তারা পরবর্তীতে বিদেশীদের অনেক গুলো বাংলা ভাষা শিখিয়েছে যা মধুর। বিদেশি বন্ধুদের সাথে দেখা হলেই তারা বলতো, “কেমন আছো ভালো”। আমি তাদের এই বাক্যটাকে সংশোধন করে দিয়েছি। এখন সামনাসামনি দেখা হলে জিজ্ঞেস করে। “কেমন আছো?” আমি যখন বলি, “ভাল আছি, তুমি?”। তখন সে সুন্দর করে বলে, “আমি ভাল আছি”। এরকম আরও কিছু সুন্দর বাংলা বাক্য তাদের মুখ থেকে বের হয়, যা শুনলে ভিতর থেকেই একটা প্রশান্তি চলে আসে। আমরা যারা পজিটিভ কথা শিখিয়েছি, আমাদের দেখে তারা পজিটিভ কথাই বলে। আর যারা গালি শিখিয়েছে, দূর থেকে তাদের কাউকে দেখলে, “হেই বোকাচোদা” বলে ডাক দেয়। মূর্খতার পরিচয় তারা সেখান থেকেই পেয়ে যায়।

সত্যিকার অর্থে এরা সবাই একেকটা কুয়োর ব্যাঙ। কুয়ো থেকে খোলা জায়গায় আসলে ব্যাঙ যেমন লাফায়, এরাও তেমন লাফাচ্ছে। এদের সকলেরই উচিত, নিজের চারপাশটা খোলা চোখে দেখে নিজেকে শুধরানো। আর মনে রাখা উচিত, পূর্বের অপকর্ম কখনোই নিজেকে কারো কাছে বড় করে না আর ভবিষ্যতকে আলোকিত করে না। ভবিষ্যতকে আলোকিত করতে চাই সঠিক শিক্ষা আর মানুষ হবার সঠিক পদক্ষেপ।

কেবলমাত্র সিভি’তে বাংলাদেশী লিখলে হবে না, হৃদপৃন্ডের মধ্যখানে রক্ত কণিকা দ্বারা লিখে নিতে হবে আমি ‘বাংলাদেশি’

Now Reading
কেবলমাত্র সিভি’তে বাংলাদেশী লিখলে হবে না, হৃদপৃন্ডের মধ্যখানে রক্ত কণিকা দ্বারা লিখে নিতে হবে আমি ‘বাংলাদেশি’

“আত্মার সাথে মাতৃভূমির নিবিড় ভাবে সু-সম্পর্ক স্থাপন করার নাম’ই হচ্ছে দেশপ্রেম”

১- বর্তমানে চলার পথে দেখা যায়, একদল জ্ঞানী ব্যক্তি অন্য একদল অজ্ঞানী ব্যক্তি কে তার ভূল ত্রুটির কারণে বলে থাকে যে, “এই হচ্ছে আমাদের বাঙ্গালীদের দোষ” এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এই যে, যদি কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে তবে তার দায় বর্তানোর কথা ঐ অজ্ঞ ব্যক্তি বা ব্যক্তি বর্গের। কিন্তু জ্ঞানী ব্যক্তি সম্পূর্ণ দায় ভার’ই দিয়ে দিলো বাঙ্গালী জাতীর উপর, যা ঐ জ্ঞানী ব্যক্তির দেশপ্রেম কে ক্ষুন্ন করে, শুধু তাই নয় বাংলাদেশ কে বিশ্বের দরবারে হীন করে এবং লুন্ঠিত করা হয় বাংলার পদমর্যাদাকে।

হে জ্ঞানী আপনি যদি প্রকৃত পক্ষেই জ্ঞানী হয়ে থাকেন, আপনি যদি সত্যিই সচেতন ব্যক্তি হয়ে থাকেন, আপনি যদি নিতান্তই বাংলাদেশ কে সোনার বাংলায় পরিণত করতে চান তবে আপনার উক্তি এবং কার্যাদি হতে হবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষে, দেশের ভাবমূর্তি কে নষ্ট করার প্রত্যয়ে না।

২-বর্তমান বিশ্বে ক্রিকেট একটি জনপ্রিয় খেলা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ কে এক সুমহান মর্যাদার স্থান তৈরি করে দিয়েছে। যে সুবাদে ‘বিসিবি’ দেশের প্রতিভাবান খেলোয়ার আবিষ্কারের লক্ষে বাংলাদেশ প্রিমিয়ারলীগ(বিপিএল) এর আয়োজন করে, যেখানে বাংলাদেশের বিভাগ অংশগ্রহণ করে থাকে। ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, কুমিল্লা ও রংপুর ইত্যাদি।কিন্তু এই বিপিএল নিয়েই আমাদের যত জড়তা তা হচ্ছে, আমরা নিজেদের ভিতরে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে দেই। নিজ নিজ বিভাগের হয়ে ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, কুমিল্লা ও রংপুর নিয়ে ভিন্নতা সৃষ্টি করে দেই। কেউ কেউ বলি ঢাকার অবদান বেশি, কেউ বলি বরিশাল বড়, কেউ বা বলি চট্টগ্রাম শ্রেয়। আবার এ ও বলে থাকি তামিম চট্টগ্রামের ছেলে, সাকিব মাগুরার, মাশরাফি নড়াইলের, আশরাফুল-তাসকিন ঢাকার, মোসাদ্দেক ময়মনসিংহের, মুশফিক বগুড়ার, ছাব্বির রাজশাহীর ও মুস্তাফিজ সাতক্ষীরার।

দেখুন আমরা সামান্য বিপিএল এ এই এসব মহান ব্যক্তিদের কে ভাগাভাগি করে নেই। বিপিএল এর মূল লক্ষ হচ্ছে বাংলাদেশ কে তথা বাংলাদেশ দল কে এগিয়ে নেওয়ার, ভাগাভাগির জন্য না। তামিম-সাকিব-মাশরাফি-আশরাফুল-তাসকিন-মুশফিক-মোসাদ্দেক-মুস্তাফিজ ও ছাব্বির শুধু চট্টগ্রাম, মাগুরা, নড়াইল, ঢাকা, বগুড়া, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা ও রাজশাহীর নয়, তারা সমগ্র বাংলার তথা তারা সবাই বাংলাদেশী। তারা আমাদের দেশের এক একজন লড়াকু সৈনিক। কিন্তু আমরা তাদের বিভাজন করে ফেলি।

এই কি আমাদের দেশপ্রেম….??? এই কি আমাদের স্বদেশ প্রেম….??? ব্যাপার গুলো কি সত্যিই হাস্যকর নয়….?

আমরা সকলই একে অপরের পরিপূরক। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলী, কীর্তনখোলা, গড়াই, আত্রাই ও ধ্বলেশ্বরী সব মিলিয়েই বাংলা, শুধু পদ্মা, মেঘনা, যমুনাই বাংলা নয়।

৩-ইট, বালু, খোয়া, সিমেন্টের সংমিশ্রণে তৈরি হয় একটি সু-উচ্চ বহুতল ভবন। যারা প্রত্যেকেই প্রত্যেক কে আঁকড়ে ধরে রাখে,একে অপর কে জটিল ভালোবাসায় মধুর মিলনে শত শত বছর যাবৎ সাক্ষী হয়ে আছে দন্ডায়মান রুপে। তদ্রুপ আমরা বাঙ্গালী আমরা ও আমাদের কে ইট, বালু, খোয়া, লোহা ও সিমেন্টের ন্যায় গঠন করি, গড়ে তুলি জটিল ভালোবাসা আর মধুময় সংমিশ্রণ। যা অবশ্যই বিশ্বের মানচিত্রে আমাদের কে, আমাদের বাংলাদেশ কে সোনার বাংলায় বাস্তব রুপে রুপান্তরিত করবে। প্রত্যেকটি গ্রাম, উপজেলা, জেলা, বিভাগ শুধু মাত্র স্থানের নামকরণের জন্য। আমরা প্রত্যেকেই বাঙ্গালী, প্রত্যেকেই বাংলাদেশি। আমাদের কে একত্রিত হতে হবে “একতাই বল ” সেই ভাব সম্প্রসারণ কে এখন বাস্তবে সম্প্রসারিত করতে হবে। দেশপ্রেমিক হতে হলে অবশ্যই একত্বাবাদ সৃষ্টি করতে হবে।

৪- একজন মায়ের কাছে ফেলানি, রাজন, সাইফ, আদনান, তমাল, হিমেল, তনু, তাশফিয়া, জান্নাত, মৌ যেমন সমান, তদ্রুপ বাংলার প্রত্যেকটি স্বত্বার কাছে বাংলাদেশ কে সমান ভাবতে হবে, তবেই তো দেখা মিলবে সেই প্রকৃত চিরাচরিত দেশপ্রেম। শুধু পদ্মা সেতু নির্মাণে ১০০ টাকা দিয়ে দেশপ্রেমিক হওয়া যায় না। রহিম মিয়ার বাড়ির সামনে বয়ে যাওয়া খালের উপর ভাঙ্গা সাঁকো নির্মাণে এগিয়ে যাওয়াও দেশপ্রেম। করিম মিয়ার পুকুরের মাছ বন্যায় ভেঁসে যাচ্ছে তার সাথে পুকুরে জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়াও দেশপ্রেম। ছোট বেলায় পড়েছিলাম ক্ষুদ্র হতেই বৃহৎ এর উৎপত্তি, ঠিক তেমনি ছোট ছোট কাজের মাধ্যমেই নিজেকে দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

৫- একজন প্রবাসীর কাছে জিজ্ঞেস করুন দেশের মায়া, মমতা, ভালোবাসা কতটুকু? তা সে খুব সহজেই বুঝতে পারে,বাংলার অভাব পূরণে তাই তো সে কয়েক মাইল দূরুত্ব অতিক্রম করে একজন বাঙ্গালীর কাছে ছুটে চলে যায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। সেই দেশপ্রেমের টানে। একজন সন্তারের তার মায়ের প্রতি যেমন ভালোবাসা থাকে, ঠিক তেমনি দেশের প্রতি ও একই ভালোবাসা থাকা উচিত। মায়ের আদর, স্নেহ, বাঁধা, নিষেধ, হুকুম, শাসন আমরা যে ভাবে ভালোবাসি, আর প্রত্যেকটি স্তরকে যথাযথ ভাবে যেমনি মূল্যায়ন করি প্রাণপণ চেষ্টার মাধ্যমে, তদ্রুপ দেশপ্রেমিক হতে হলে দেশের সর্ব স্তরে নিজের ভূমিকা থাকা বাঞ্চণীয়।

৬-দেখুন তো মনে আছে কি’ না….? জীবনে কত সহস্রবার বলেছিলাম “আমি শপথনামা করছি যে নিজেকে সর্বদা স্বদেশ প্রেমে নিয়োজিত রাখবো” আসলে ঐ বাক্যটি ছিল আমাদের মুখস্থ বিদ্যা। স্যারের বেত্রাঘাতের ভয়ে ঐ লাইন গুলো মগজে ধারণ করেছিলাম শুধু মাত্র সেদিন, যদি স্যারের ভয়ে মুখস্থ না করে স্বদেশের জন্য নিজে দু’টি লাইন বা বাক্য লিখতে পারতাম তাহলে হয়তোবা আজ আমরা উদ্যমের সাথে বলতে পারতাম আমি দেশপ্রেমিক। দেশ কে আর না হলে ও দু’টি বাক্য উপহার দিতে পেরেছি।

৭-আবার অনেক ভাই বলে থাকে, বাংলাদেশ আমাদের কি দিয়েছে….??? তাদের কাছে আমার উত্তর একটাই, আপনি আগে তালিকা করুণ বাংলা আপনাকে, আমাদেরকে কি না দিয়েছে..? এক কথায় বলতে গেলে বাংলা পূর্ণতার একটি থলে, শুধু মাত্র নিয়ন্ত্রণ এবং আমাদের কার্যবিধির কারণে বাংলা আজ পিছিয়ে। আমরা যদি প্রত্যেকেই প্রত্যেকের স্থান থেকে নিয়ন্ত্রণাধীন ভাবে চলি এবং কার্যবিধি গুলো সঠিক ও স্বচ্ছ ভাবে পালন করি তবেই আপনার আমার বাংলা এগিয়ে যাবে দুর্বার গতিতে।

♥ভালোবাসা রইলো অফুরন্ত, কোটি বাঙ্গালীর আঙিনায় ♥

দেশপ্রেম কি শুধু মুখেই? কতটুকু দেশপ্রেমিক আমরা?

Now Reading
দেশপ্রেম কি শুধু মুখেই? কতটুকু দেশপ্রেমিক আমরা?

দেশপ্রেম কথাটা আমরা সবাই শুনেছি।

তবে আসল কথা হল এর প্রকৃত অর্থ আমরা অনেকেই জানি না।একটা শব্দের অর্থ কখনোই সামান্য হয় না।আর তা যদি হয় ‘দেশপ্রেম’! তবে এর অর্থ হবে একেবারেই অন্যরকম। কারণ আপনি শুধু কথায় নয় কাজে পরিণত করে দেখাতে হবে আপনার মাঝে থাকা দেশপ্রেমকে।আর যদি তা পারেন,তবেই আপনাকে বলা হবে একজন দেশপ্রেমিক।আর আপনার এই দেশপ্রেমই পারে আপনার দেশকে এগিয়ে নিতে।

আজকাল দেশপ্রেমিক শব্দটা একটি ট্যাগে পরিণত হয়েছে।যে কেউ নিজেকে দেশপ্রেমিক বলে দাবি করে বসে। যদিও বাস্তব জীবনে তার কাজে কর্মে এর বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় না।সবাই নিজের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার কথা বলে ফেসবুকের কমেন্ট বক্সে।কিন্তু দিনে একটি কাজ দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গল এর জন্য করেছে এমন মানুষ পাওয়া ধীরে ধীরে মুস্কিল হয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের দরকার কেবল মুখে আর লেখায় নয় কাজের মাধ্যমে দেশের জন্য কাজ করা।দেশপ্রেমে বলিয়ান হয়ে দেশের মাঝে নিজেদের মাঝে এক ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

অনেক তো সমালোচনা করলাম সে সকল লোকদের যারা মুখে নিজে দেশকে বদলানোর কথা বলে কিন্তু বাস্তবে এর পুরো উল্টো। আসুন দেখা যাক আমাদের দেশকে আমরা কেমন ভালোবাসি আর আমাদের দেশপ্রেম কতটুকু।

একটা সাধারণ উদাহরণই দিই।আপনারা প্রায় সবাই দেখেছেন বর্তমান ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর একটি প্রকল্প ছিল রাস্তার পাশে মিনি ডাস্টবিন স্থাপন করা।আর এর জন্য প্রায় ৩০০০ এর বেশি মিনি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়।এ কাজটি আমার মতে একটি অসাধারণ পদক্ষেপ ছিল।আমাদের শহরকে পরিষ্কার রাখার জন্যে এর খুবই প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন অনেকেই।তবে আফসোস এর বিষয় বেশির ভাগ লোকই ডাস্টবিনের ব্যবহার জানলেও তার উপযুক্ত ব্যবহার না করে ময়লা ফেলল ওই রাস্তার উপর।মজার ব্যাপার ডাস্টবিনগুলো স্থাপনের মাত্র কয়েক দিন পর এগুলোর কয়েক ভাগ চুরি হয়ে গেল।হায়রে দেশ আমার।তখনই মনে আসে কবির সেই কথা,

“সাত কোটি সন্তানের মুগ্ধ জননী,        রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করো নি”

তবে আমার দেখা অনেকেই একটু কষ্ট করে হলেও কয়েক পা এগিয়ে মিনি ডাস্টবিনের ব্যবহার করেছেন।তবে এতেই তাদের পুরো কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে বলে আমি মনে করি না।আমাদের উচিত ছিল যারা রাস্তায় না বুঝে এসব ময়লা ফেলে তাদের দেখলে ওই ময়লা কষ্ট করে পাশের ডাস্টবিনটিতে ফেলার জন্য বিনীত অনুরোধ করা।অনেকেই বলবেন ভাই এটা করে লাভ নাই।তবে ভাই আমার মতে লাভ না হলেও দিন শেষ ঘুমানোর আগে এটার স্বস্তিতে থাকতে পারব যে আজ অন্তত একটা ভালো কাজ দেশের জন্য করেছি।

সামান্য ডাস্টবিন ব্যবহারের উদাহরণ দিয়েছি।অনেকেই একমত হবেন আবার অনেকেই কিছু ত্রুটির কথা জানাবেন।আমার মতে যদি আপনি ত্রুটি দেখতে পান তবে তা অবশ্যই আমাদের মেয়র অথবা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাতে পারেন।আমার দেখা মতে আমাদের বর্তমান মেয়ররা যথেষ্ট চেষ্টা করছে শহরটাকে ঠিক করার।

যাক এই টপিক।আমাদের মাঝে আসলেই দেশপ্রেমটা কম।তা না হলে পর পর তিনবার দুর্নীতিতে আর যাই হোক চ্যাম্পিয়ন হতাম না।বাদ দেই এসব কথা।অতীতকে নিয়ে কান্না করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা সরু না করাই ভালো।

তবে আশার বিষয়কে আজ তরুণ প্রজন্মের অনেকেই দেশে বাইরে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করছে।দেশের জন্য কিছু করতে চাইছে অথবা করছে।আর যখন আপনি দেশের জন্য কিছু করছেন তা অবশ্যই মানুষের জন্যও করা হয়।আর এটাই হলো মানবতা।তাহলে বুঝতেই পারছেন দেশপ্রেমের মহত্ত্ব।

বর্তমান সময়ে বিশেষ কোনো দিনে যেমন একুশে ফেব্রুয়ারি,২৬শে মার্চ,১৬ই ডিসেম্বর এর দিনগুলোতে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানকে শহীদ মিনার,স্মৃতিসৌধ এসব জায়গায় নিয়ে যায়।তাদের বেশির ভাগই মনে করে এতে সন্তানের কাছে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।হবে তবে অন্যরকম এক দেশপ্রেম।আর তা হলো এই দিনগুলোতে শুধুমাত্র ঘুরতে যাবার জন্য ওই সব যায়গা ঘুরে আসা।কারণ যদি দেশের জন্য কাজ করাই না শিখে তবে এসবের মূল্য বৃথা।

দেখতেই পারছেন নতুন প্রজন্মের কিছু নমুনা আজকাল।এক এক এলাকায় আজ ছোট ছোট বাচ্চাদের ‘গ্যাং’ নামক জিনিষটা প্রায় ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে।আর এই গ্যাংগুলোর মধ্যে মারামারির ফল হলো প্রাণ ঝড়ে পড়া।কি শিখেছে তারা?কি শিখানো হয়েছে তাদের?তাদের এই কর্মকান্ডের দায় কি তাদের পরিবার এড়িয়ে যেতে পারে?না কখনোই না।কারণ আজ যদি তাদের বাবা মা তাদের সামনে দেশপ্রেমের উদাহরণ রাখতো তবে তারা এই পথে যাবার কথা ভাবতো না।

প্রজন্মের অনেকেই আজ দেশকে নিয়ে ভাবাকে একঘেয়েমি বলে মনে করে।তবে বিশেষ দিনে ঠিকই পৌছে যায় বিশেষ স্থানে একটা সেলফি তোলার জন্য।এইকি পূর্বের সন্তানদের আত্নত্যাগের মূল্য?

এখনই সময় পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে দেশের প্রতি কাজ করার জন্য নৈতিক শিক্ষা প্রদান করার।কেবল প্রশাসন এর ভুল না ধরে তাদের সাহায্য করার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যই পারে এ দেশকে বিশ্বের মাঝে এক রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে।আপনি কি চান না অন্য দেশে গিয়ে নিজেকে ‘বাংলাদেশি’ বলে গর্ব বোধ করতে?অবশ্যই চান বলে আমি মনে করি।

তবে আজই চেষ্টা করে দেখুন দেশের জন্য কিছু করার।মনে শান্তি না পেলে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।