বিবেকহীন বোধ, ক্ষত-বিক্ষত দেহ

Now Reading
বিবেকহীন বোধ, ক্ষত-বিক্ষত দেহ

সত্যি বলতে কি এমন একটা বিষয় নিয়ে লিখছি যেটা কখনই ভাবিনি এমনটার অবতারণা হতে পারে।

ইদানিং কালে সমাজে যৌনতার প্রকোপ এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে যা  অন্যসময়ের চেয়ে তা মাত্রারিক্ত। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে পূর্বের যেকোন সময়ের চেয়ে এর ভয়াবহতা বেড়েছে বহুগুণ। চারিদিকে যেন নরপশুদের উন্মত্ত প্রতিযোগিতা! কিশোরী থেকে বাচ্চা পর্যন্ত কেউ যেন এই ভয়াল থাবা থেকে নিস্তার পাচ্ছে না। অনেকক্ষণ ঘুরে ফিরে একটা শব্দ লিখতে চাচ্ছি কিন্তু কেন জানি সাহস পাচ্ছিনা। সত্যি বলতে কি এত কঠিন এবং খারাপ শব্দ ব্যাবহার করে লিখতে মন সায় দিচ্ছিলনা, কিন্তু সামাজিক দায়বদ্ধতা উপলব্দি থেকে লিখছি।

সামাজিক  যোগাযোগ মাধ্যম এবং দেশের অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে এই জঘন্য বিষয়টি বারবার ঘুরে ফিরে আসছে। আর তা হল ধর্ষণ। মানুষের বিবেক বুদ্ধি ও জ্ঞান যখন লোপ পায় তখন সে অদমের চাইতেও খারাপ। আর এই অদম অমানুষ গুলি সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে তাদের বিষ বাস্প ছড়িয়ে সমাজকে কলঙ্কিত করতে কুণ্ঠাবোধ করছেনা ইদানীং। ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন অসহায় নারী কিংবা শিশুকে জোড় পূর্বক যৌন নির্যাতন করাকেই আমরা ধর্ষণ বলে থাকি। এখনতো ধর্ষণ এর সাথে আরেকটি বাস্তবতার রুপ দিয়েছে পাষণ্ড নরপশুরা, আর তা হল হত্যা। ধর্ষণ পরবর্তী প্রমাণ মুছে দিতে হয়ত তাদের এই হিংস্রতা।

দিনদিন  আমরা কিসের দিকে ধাবিত হচ্ছি? বাংলাদেশ যখন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নীত হয়ে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, তখন সমাজের কিছু হীন মানুষ এখনো আইয়ামে জাহেলিয়ার মতাদর্শে নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছে। আইয়ামে জাহেলিয়ার অর্থ হচ্ছে অন্ধকার যুগ বা কুসংস্কারাচ্ছন্ন যুগ। এ যুগে সাধারণত আরবগণ স্বভাব ও চরিত্রের দিক থেকে অজ্ঞতা ও মূর্খতার চরম অন্ধকারে নিমজ্জিত থেকে যথেষ্ট বর্বর ছিল। কিন্তু এখনতো সেসময় আর নেই? তবে কেন এই নর পশুদের তাণ্ডব ও পাশবিকতা সে সময়কার মত?  

এমনি কিছু ঘটনার মধ্যে কিছু কিছু ঘটনা মানুষের মনকে মারাত্মক নাড়া দিয়েছে। জাগ্রত করেছে বিবেক এর কাছে প্রশ্ন। প্রকাশ্য বা  অপ্রকাশ্য অসংখ্য ঘটনার মাঝে সাম্প্রতিক দু-একটি ঘটনা পূর্বের অনেক ঘটনাকে ছাপিয়ে গেছে। তেমনি কয়েকটির মধ্যে- গত ১৭ই মার্চ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার একটা হাওরে এক কিশোরীর ক্ষত-বিক্ষত নিথরদেহ সবুজ ঘাসের উপর পড়ে থাকার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। চারিদিকে উঠেছে নিন্দার ঝড়, সকলেই পুলিশের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করছেনা তারা। ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করার পর হত্যা করা হয়েছে। কিশোরীর বাবা সায়েদ আলীর বক্তব্য, সপ্তাহ দুয়েক আগে ৪ঠা মার্চ আদালতে মামলা করেছিলেন।  সেই মামলায় তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মহিলা সদস্য কলম চাঁন বিবির পুত্র বাবুল মিয়াকে প্রধান অভিযুক্ত করে তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। মামলা পরবর্তীতে অভিযুক্ত যুবকের হুমকির কারণে তিনি মেয়েকে নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কিন্তু বাঁচাতে আর পারেননি। মার্চের শুরুতে ধর্ষণের অভিযোগে কিশোরীর বাবা যে মামলা করেন, তার এজাহারে বলা হয়- গত ২১শে জানুয়ারি তার ১৬ বছরের মেয়ে বিউটি আক্তারকে প্রতিবেশী যুবক বাবুল মিয়া অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশ সহ বিভিন্নভাবে সমাধানের চেষ্টা করে সময়-ক্ষেপণ করা হয়েছে। মামলা করলেও গ্রামে এই মেম্বারের প্রভাবের কারণে প্রথমে তাদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্ষণের মামলার পর পুলিশ সেভাবে তৎপর ছিল না। মেয়েটির বাবা সায়েদ আলী ঠেলাগাড়ি চালিয়ে সংসার চালান অন্যদিকে অভিযুক্ত যুবকের মা ইউপি সদস্য হওয়ায় কিশোরীর পরিবারটি তুলনামূলক অসহায়। তাই তারা সঠিক বিচার পায়নি, এদিকে সেই হতভাগা তরুণীর ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহের সেই ছবি সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রশাসন নরেচড়ে বসে। তবে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপারের বক্তব্য, ধর্ষণ মামলা সরাসরি পুলিশের কাছে হয়নি, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে আদালতে। আদালত থেকে মামলা থানায় আসার পরই তারা তৎপর থেকে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্তের মা সেই ইউপি মেম্বার সহ দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে কিন্তু প্রধান অভিযুক্ত বাবুল মিয়া পলাতক রয়েছে। বাবুল মিয়াকে গ্রেফতারের জন্য ডিবিসহ পুলিশে সব ইউনিট কাজ করছে। এদিকে ধর্ষণের অভিযোগের ব্যাপারে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল, মেয়েটির মৃতদেহ পওয়ার পরদিন ১৮ই মার্চ। হতভাগ্য মেয়েটির বাবা তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনার দ্রুত বিচার দাবী করেন।

এদিকে এই ঘটনার কিছুদিন পূর্বের আরেকটি জঘন্য ঘটনাতেও  হতবাক হয়েছে সকলে। গত ৫মার্চ জন্মদাতা বাবা কর্তৃক ঔরসজাত মেয়ে ধর্ষণ হয়েছে কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে। মা মারা যাওয়া ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে স্থানীয় এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে দিলেও স্বামীর সাথে তার সংসার করতে বাঁধা দেয়। ঔরসজাত মেয়েকে নিজের বাড়িতে রেখে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন মিলনে লিপ্ত হয়। এমনকি কক্সবাজার শহরে বেড়াতে নিয়ে গিয়েও রাতে বোর্ডিঙয়ে তাকে জোড়পূর্বক এই জঘন্য কর্মকাণ্ডটি করে। কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফিরে মেয়েটি স্থানীয় লোকজন ও প্রতিবেশী নারীদের  বিষয়টি জানায়। পুলিশের কাছে নির্যাতিত মেয়েটির অভিযোগ, তার বুকে চুরি ধরে, ভয় দেখিয়ে নিয়মিত যৌন নির্যাতন করত তার বাবা। কখনো পানের বরজে, কখনোবা গরুর গোয়াল ঘরে, কখনো নিজ বাড়িতেই তাকে ধর্ষণ করত তার বাবা। ধর্ষিত মেয়েটির একটি কন্যা সন্তানও আছে যাকে ভরণ পোষণের অভাবে সে অন্যের কাছে দত্তক দেয়। পূর্বের ন্যায় শারীরিক নির্যাতনের চেষ্টা করলে মেয়েটির শোর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তার লম্পট পিতাকে আটক করে স্থানীয় মেম্বারের কাছে হাজির করে এবং পরবর্তীতে মহেশখালী থানার কাছে সোপর্দ করে।

হঠাৎ করেই যেন হিংস্র মানুষরুপী জানোয়ারের সংখ্যা বেড়ে গেছে দেশে।মাত্র ২২ মাস বয়সী একটি শিশুকেও অমানবিকভাবে ধর্ষন করা হয়েছে। ২২ মাস বয়সী একটি অবুজ বাচ্চার কি দোষ ছিল? সমাজের কাছে এর সদুত্তর নেই। এসব ঘটনা লিখতেও ভাল লাগছেনা। শুধু একটাই দাবী এসব মানুষরুপী জানোয়ার লম্পটদের সরাসরি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হউক। অন্যথা সমাজের এই বিষ বাস্প আরো অধিকতরভাবে সংক্রমিত হতে পারে। ধর্ষকরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে বলেই, আরো অনেকেই উৎসাহিত হচ্ছে আর চারিদিকে ঘটছে ধর্ষনের নানান ঘটনা। এমনও হতে পারে অনেক নির্যাতিত আছে যারা লোকচক্ষু ও সামাজের ভয়ে তাদের সাথে ঘটা অমানবিক ঘটনাকে আড়াল করে রাখে। নিরবে নিভৃতে তাদের চোখের জল রক্ত হয়ে বয়।

এখনি সময় প্রতিরোধের। ধর্ষকদের যথাযথ বিচারপূর্বক এমন নজির স্থাপন প্রয়োজন যেন উৎসাহীরা বুঝে এর পরিণতি।

ধর্ষন প্রতিরোধে সমাজে  নানান উদ্যেগ গ্রহন করা যায়ঃ পাড়ায় পাড়ায় স্থানীয় জনগনের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স বা মহল্লা কমিটি গঠন করে ধর্ষণসহ নানান অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ করা। ইভ-টিজিং এ সম্পৃক্তদের সামাজিকভাবে বয়কট ও আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করা। নারী নির্যাতনের উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে কঠিন সাজার ব্যাবস্থা করা। স্কুল পর্যায় থেকে নারীদের আত্মরক্ষার কৌশন শেখানোর ব্যাবস্থা করাসহ ইত্যাদির মাধ্যমে সামাজিক এই ব্যাধি প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যমতের  ভিত্তিতে এগিয়ে এসে সমাধানের পথ বের করা অতীব জরুরী।

আমি পতিতা বলছি । শেষ পর্ব

Now Reading
আমি পতিতা বলছি । শেষ পর্ব

প্রথম পর্বের পর

মেজাজটা খারাপ হয়েছে আমার আগে আসবে বলে আমাকে ১ ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখেছে । ১ ঘণ্টা পর হাঁপাতে হাঁপাতে আসে আমার সামনে । মেজাজটা এতো খারাপ হচ্ছিলো যে , ইচ্ছে করছিলো কষিয়ে একটা থাপ্পড় মারি , কিন্তু না আমি থাপ্পড় তো মারলাম না উল্টো রাসেল কে দেখে কেঁদে দিলাম । যাই হোক আমাকে শান্ত করে রিকশা করে একটা বাসায় নিয়ে গেলো ।

রাসেল আমি যদি আজ হারিয়ে যেতাম । আমার অনেক ভয় করছিলো । ঢাকায় এতো মানুষ !
হা হা হা কি যে বলো না , রাস্তায় এতো জ্যাম ছিল যা বলার বাহিরে । তাই দেরি হয়েছে । আচ্ছা এই সব কথা বাদ দাও তো । যাও হাত মুখ ধুয়ে খাবার খেয়ে নাও । আমি তোমার জন্য হোটেল থেকে খাবার এনে রেখেছি ।

আমি আর কোনো কথা না বলে হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে নিলাম । আমি যেই রুমে আছি সেখানে একা আমি একটা মেয়ে না , আমার সাথে অনেক মেয়ে আছে । আর তাদের দেখতে অনেক অদ্ভুত লাগছে । কি রকম ভাবে যেন সেজে আছে । আমি রাসেল কে বললাম ওরা করা ? আর আমার কাজ কি ?
রাসেল বলল ওরা ও নাকি কাজের জন্য ঢাকায় আসছে । আর আমাকে কাল বা পরশু জয়েন করবে ।
আমি আর কোনো কথা বললাম না । আমাকে খাওয়ানো শেষ হলে রাসেল চলে গেলো । আমি একা একটা রুমে শুয়ে পড়লাম । পরের দিন সন্ধ্যায় একটা লোক কে নিয়ে আসলো রাসেল । আমাকে দেখিয়ে কি যেন বলে চলে গেলো লোকটি । আমি রাসেল কে বললাম

রাসেল এই লোকটি কে ?
তুমি যেখানে কাজ করবে তার বস উনি । তোমাকে দেখতে এসেছে । কাল সন্ধ্যা থেকে তোমার কাজ শুরু ।
কাল সন্ধ্যা ? কাল সন্ধ্যা কেন । মানুষ তো দিনে কাজ করে আমি রাতে কেন করবো ?
আসলে এইটা একটা বিদেশী কোম্পানি তো তাই ।

আমি আর কোনো কথা না বলে খেয়ে গতকালের মতো আজকেও শুয়ে পড়লাম । কাল সন্ধ্যায় রাসেলের সাথে যেই লোকটি এসেছে সে আসলো আমার রুমে । আমি খাটের এক পাশে বসে আছি । উনি ঢুকে রুমের দরজা বন্ধ করে দিলো । আমি সাথে সাথে বলে উঠলাম , আপনি কি করছেন দরজা বন্ধ করেছেন কেন ? উনি জবাব না দিয়ে আমার সামনে এসে বসে আমার গায়ে হাত দিচ্ছিল । আমি সাথে সাথে দৌড়ে ঘরের এক কোনায় চলে গেলাম । উনি বলে উঠলো দৌড়িয়ে লাভ নেই । আমার কাছে তোমাকে ধরা দিতে হবে । রাসেল হেব্বি একটা মাল রেডি করেছে আমার জন্য ।

দেখেন আপনি ভুল করছেন । আমি কাজ করতে এসেছি । গ্রামে আমার বাবা । খুব অসহায় । আমার কোনো ক্ষতি করবেন না । আমাকে যেতে দিন । রাসেল কোথায় । এই বলে আমি চিৎকার চেঁচামেচি করা শুরু করলাম ।
উনি বলে উঠলো রাসেল তোমাকে আমার কাছে আজ রাতের জন্য বেঁচে দিয়েছে । এখন তুমি আমার । এই কথা বলে হিংস্র ক্ষুধার্ত বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো । আমি কত না চিৎকার করছি । উনাকে আমি বাবা বলেও ডাকছি নিজের ইজ্জত টুকু বাঁচানোর জন্য ।কিন্তু না কোনো কিছু তে কাজ হচ্ছে না । আমার কান্নায় সেদিন সেই রুমের বাতাস পর্যন্ত কেঁদে ছিল । কিন্তু ওই নর পিচাশের মন একবার কেঁদে উঠেন । সেদিন থেকে আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গিয়েছে । সারা রাত চলে আমার উপর অমানবিক নির্যাতন । ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে আমাকে উলঙ্গ রেখে আমার দেখার উপর ২ হাজার টাকা রেখে উঠে চলে যায় ।
আচ্ছা পাঠক আপনাদের কাছে একটা প্রশ্ন আমার ইজ্জত কি ২ হাজার টাকা ? আপনার মা বোনের ইজ্জত কি ২ হাজার টাকা ?
কিছুক্ষণ পর রাসেল আসে আমার রুমে । কি আমার ভালোবাসা ! আহা আমাকে উলঙ্গ দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি আমার ভালোবাসা । আমার এই নির্যাতিত দেখার উপর চলে আরেক দফা নির্যাতন । বিশ্বাস করেন এইবার আমি চিৎকার করেনি । আমি নড়াচড়াও করেনি । শুধু কান্না করেছি , নীরব কান্না । আমাকে এমন একটা ঘরে রাখা হয়েছিল আশে পাশে কি ঘটছে বলাও যায়না ।

তারপর থেকে আমাকে আর জোর করতে হয়নি , আমি নিজে স্বেচ্ছায় গিয়েছি তাদের সাথে । আর যেটাকে কামাই করেছি তা দিয়ে আমি এতিমদের খাইয়েছি । সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত নিজের বাবাকে একটা টাকাও পাঠায়নি । কিভাবে পাঠাবো ? নিজের দেহ বেচা টাকা কিভাবে নিজের বাবাকে খাওয়াই ।

আর রাসেল এর অবস্থা হলো . রাসেল দুই বছর পর একটি মেয়েকে বিয়ে করে । কিন্তু তাদের কোনো বাচ্চা হচ্ছিলো না । অনেক চেষ্টার পর একটা বাচ্চা হলো , তাও মেয়ে ! কিন্তু মেয়েটি সর্ব অঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী । না কথা বলতে পারে না ভালো ভাবে হাঁটতে পারে । রাসেল কোনো দিন তার সন্তানের মুখে বাবা ডাক শুনেনি । আমি যেখানে আজ দেহ ব্যবসা করি এখানে অনেক মেয়ের আশা হয়েছে তার হাত ধরে । আজ রাসেল ভালো হয়ে গিয়েছে . কিন্তু আমার মতো অনেক মেয়ের কান্নার আর্তনাদ মিশে আছে তার আশে পাশে ।

আজ আমি আপনাদের ভদ্র সমাজে পতিতা । কিন্তু আপনারা ?

আমি পতিতা বলছি । পর্ব ১ম

Now Reading
আমি পতিতা বলছি । পর্ব ১ম

একদিন একটা আননোন নাম্বার থেকে আমার নাম্বার এ কল আসে । গল্পটা আমাদের এভাবেই শুরু । আমার নাম নীলা । বাবা কৃষক , যার কারণে বেশিদূর আমার লেখা পড়া আলোর মুখ দেখেনি । মা মারা গিয়েছে ছোট বেলায় । বড় হয়েছি নানুর কাছে । বাবার সাথেই নানুর বাসা ছিল । নানু বুড়ো হয়ে যাবার কারণে আমার দিকে তেমন খেয়াল রাখতে পারতো না । আর আমাদের পরিবারকে যদি বলতে চাই এক কথায় , তাহলে বলবো আমরা দিন আনি দিন খাই । অনেক সময় চুলায় আগুন জ্বলে না । পাঠক নিশ্চয়ই আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগছে আমি কেন এই সব কথা বলছি ? কারণ আমার পতিতা হয়ে উঠার পিছনে অনেকটা আমার পরিবারের দায় ছিল । যাই হোক মূল গল্পে ফিরে আসি ।

আমি মোবাইল আননোন নাম্বার খুব কম ধরি । কিন্তু কি বুঝে যেন সেদিন ধরলাম । অপর প্রান্ত থেকে একজন বলল আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি । আমি এই কথা শোনার পর কিছু না বলেই লাইন কেটে দেই । ভয়ে তখন বুক ধরফর করছিলো । এই প্রথম কেউ আমাকে এই সব কথা বলল । কিছুক্ষণ পর আবার কল আসে সেই নাম্বার থেকে । আমি কল ধরিনি ।

২ মাস পর আবার কল আসে সেই নাম্বার থেকে । আমি প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম তখন কার কথা । কল ধরার সাথে সাথে বলে আমাকে মাফ করে দিন । আমি অবাক হয়ে বলি কে আপনি ?
কিছু দিন আগে আপনার নাম্বারে আমার বন্ধু ভুল করে কল দিয়ে i love you বলেছে । আসলে ও একটু দুষ্ট ধরণের । আমি ওর পক্ষ আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি ।
এভাবে আমাদের কথা শুরু হয় ।
প্রথম দিকে কিছু দিন পর পর আমাকে কল দিয়ে কথা বলতো । তার পর কল আসাটা অনেকটা নিয়মিত হয়ে পড়েছে । আমি ও উনাকে ভালো লাগা শুরু হয়েছে । উনি কিভাবে যেন কথা বলতেন । একদম মায়ায় জড়ানো কথা । আমি হারিয়ে যেতাম তার কথায় ।

এক সময় আমাদের পরিচয় ভালোবাসায় পরিণত হয় । উনার পরিচয়টা দেয়া যাক । উনার নাম রাসেল । ঢাকায় অনেক বড় একটা কোম্পানিতে পিয়ন হিসেবে কাজ করে । শুনেছি ভালো বেতন পান । বাবা নেই , মা কে নিয়ে থাকে । একটা বোন ছিল বিয়ে হয়েছে ৪ বছর । উনার মা মেয়ে দেখছেন তার জন্য । কিন্তু উনি চান একটা গ্রামের মেয়ে বিয়ে করবে , যাতে করে উনার মা কে দেখে শুনে রাখতে পারে । খুব ভালো মানুষ । মেয়েদের অনেক সম্মান দিয়ে কথা বলে । এমন কোনো সময় ছিল না উনি কল ধরে আমাকে সালাম দেননি ।

একদিন আমি তাকে বলি , আমার পরিবার তো অনেক গরিব তোমার মা কি আমাকে মেনে নিবে ? আমি তো দেখতেও সুন্দর না , আমাদের টাকা পয়সাও নেই । মাঝে মাঝে মনে হয় আমাকে কি তুমি সত্যি ভালোবাসো ?

অরে দূর পাগলী ভালোবাসা কি চেহারা দিয়ে হয় নাকি । ভালোবাসা মনের বেপার । তোমার সাথে আমার মনের অনেক মিল । যার সাথে যার মনের মিল তার সাথেই তো বাসা বাধা যায় । আর টাকা পয়সা কয়দিন , ভালোবাসা চিরদিন ।

আসলে এর আগে আমি কোনো ছেলের সাথে মেশা হয়ে উঠেনি । ছেলে মানুষ মনে হয় অনেক ভালো হয় তাই না ? অভাবের সংসার নিজে যদি কিছুটা সাহায্য করতে পারি পরিবার কে তাহলে অনেক ভালো হয় । এইভাবে রাসেল কে বলি আমি তো তেমন লেখা পড়া করিনি , কোনো রকম ক্লাস ৪ পাশ করেছি । এর আগে আমি কখনো ঢাকায় আসিনি । আমি চাচ্ছিলাম ঢাকায় এসে একটা কাজ করতে । প্রথম দিকে উনি অনেক রাগ করেছে এই কথা শুনে । ভয়ে উনাকে আর কখনো বলিনি আমি কাজ করতে চাই । মাস খানিক যেতে না যেতে উনি আমাকে বলল , তুমি কিছু দিন আগে বলেছিলে একটা কাজের জন্য । আমি অনেক ভেবে দেখলাম আসলে তুমি যদি কাজ করো তাহলে একদিকে তোমার পরিবার ভালো চলবে আরেক দিকে তুমি বাস্তবতাকে চিনবে । আর তাছাড়া এখন পর্যন্ত তোমাকে ছবিতে ছাড়া সামনা সামনি দেখাও হয়নি । এই উসিলায় তোমার সাথে দেখাও হবে আমার । আমি শুনে খুব খুশি হলাম । আমি আমার ভালোবাসার মানুষের সাথে দেখা করতে পারবো আর কিছু ইনকাম করে পরিবার কে দিতে পারবো । এদিক সেদিক না ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম আমি ঢাকায় যাবো ।

ব্যাগ গুছিয়ে বাবার চোখের পানি উপেক্ষা করে নতুন জীবনের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম ঢাকা । যাওয়ার সময় শুধু গাড়িভাড়া নিয়ে গিয়েছিলাম । কাৰণ রাসেল বলেছে আমার জন্য বাস স্ট্যান্ডে অপেক্ষা করবে । ভয় ও লাগছিলো আরেক দিকে আনন্দ লাগছিলো এখন থেকে আমার বাবা কষ্ট কিছুটা হলেও কমবে । কিন্তু আমি এখনো জানিনা ঢাকায় কি কাজ করবো । রাসেল বলেছে আমার জন্য নাকি অনেক ভালো একটা কাজ জোগাড় করে রেখেছে । গাড়িতে উঠে ঘুমিয়ে গিয়েছি , স্বপ্নে দেখলাম রাসেল কে নিয়ে খুব সুখে আছি , আমাদের ঘরে খুব সুন্দর একটা মেয়ে হয়েছে । কখন যে ঢাকায় আসলাম টের পেলাম না ।

বাস স্ট্যান্ড এ নেমে মেজাজটা এতো খারাপ হলো । কারণ …….

 

চলবে ।

ধর্ষণ নিয়ে বিতর্ক মানেই পোশাক বনাম দৃষ্টিভঙ্গি।দায়ী কোনটি?

Now Reading
ধর্ষণ নিয়ে বিতর্ক মানেই পোশাক বনাম দৃষ্টিভঙ্গি।দায়ী কোনটি?

গত কয়েকদিন ধরেই দেশের অন্যতম এক আলোচনীয় বিষয় হলো ধর্ষণ।

আসলে গত কয়েকদিন না।এর আগেও কয়েকবার এই টপিক নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছিল দেশ।এইতো সেদিন তনুকে ধর্ষণ ও হত্যা করে কিছু নরপশু।যদিওবা আজ পর্যন্ত এর বিচার পাবার মতো কোনো প্রক্রিয়া আমরা দেখতে পারিনি।তাই যা হবার তাই হচ্ছে।পুনরায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে কিছুদিন আগে।তবে এবার আর কাউকে তনুর মতো প্রাণ দিতে হয়নি।তবে যা ক্ষতি হয়েছে তা পূরণীয় নয়।একই সাথে এইসব বিষয় জানান দিচ্ছে জাতি ক্রমাগত অবক্ষয় এর।

তবে আজকের টপিকটা একটু ভিন্ন।এখানে আমরা আলোচনা করবো এইসব ধর্ষণের কারণ কি?কি মনে করে এসব নিয়ে এখনকার সমাজ?কেমন চিন্তাধারা প্রদর্শন করছে আমাদের তরুণ-তরুণীরা?চলুন দেখি তারা কি ভাবে আর তাদের চিন্তা কতটুকু ঠিক বা ভুল।

কিছুদিন ধরে দেখলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বর্তমান সময়ে কোনো ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতন এর কোনো টপিক উঠলেই শুরু হয় কাঁদা ছোড়াছুড়ি।ছেলেদের অধিকাংশ স্বাভাবিক ভাবে বা বরাবরের মতোই মেয়েদের পোশাক নিয়ে কথা বলে।অনেকে আবার ‘বোরকা’ পড়ার এডভাইস দেয়।আবার অনেকে বলে অন্তত হিজাব পড়া উচিত।

ছেলেদেরকে দিয়েই শুরু করি যদিও আমরা বলি ‘লেডিস ফার্স্ট’।উপরে লিখিত কথাগুলো বেশিরভাগ ছেলেই বলে থাকে।অনেকে আবার এসবের সাথে কিছু বাণী জুড়ে দেয়।আমি তাদের বলবো তাদের কথা ঠিক তবে যুক্তিসংগত নয়।বোরকা,হিজাব এসব কিছুই হয়ে দাঁড়াবে না যখন আপনার উদ্দেশ্য হবে পিশাচ এর মতো।যখন আপনি নারীর মর্যাদা দিতে না পেরে তার পোশাকের উপর আঙুল দেবেন।নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা খারাপ উদ্দেশ্যকে সামলাতে না পেরে হামলা করে বসবেন একজন নিরীহ মেয়ের উপর?কোথায় বলা আছে এমন পাষণ্ড টাইপ কাজ করার কথা?নিজেকে সামলে রাখার মতো শক্তি কি আমাদের দেয়া হয়নি?আমরা কি এতই কাপুরুষ যে গায়ের জোঁড়ে মায়ের জাতির সম্মানহানি করবো?

আমি কিছুদিন আগে এই টাইপের কমেন্টকারী কয়েকজনের ফেসবুক আইডি ঘুরে আসি।তাজ্জব হয়ে যাই তাদের টাইমলাইন,ছবির কালেকশন দেখে।বেশিরভাগ ব্যক্তির সাথেই অসংখ্য মেয়ে আইডির যোগ রয়েছে।তবে এসব মেয়ের কোনো ছবিতেই তাদের বোরকা পড়া অবস্থায় দেখলাম না।তবে চিন্তা করে দেখুন ওই ব্যক্তির চিন্তাধারা কতটা মারাত্মক।আমাদের যুবসমাজের বেশিরভাগ এর এই অবস্থাই চলছে।নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির কথা না বলে দায় চাপিয়ে দিচ্ছি আরেকজনের ঘাড়ে।আমাদের ছেলেদেরই কাতুকুতু বেশি।আর যাই বলুন এটা বিশ্বাস করাই লাগবে।আমরা যদি নিজেদের দৃষ্টি বা নজর ঠিক রাখি তবে কখনই এমনটা হতো না।

আমার কথার সাথে অনেকেই একমত হতে নাও পারেন।আবার অনেকে অনেক নীতিকথা বলে নিজের পাণ্ডিত্যের পরিচয় দিতে পারেন।তবে আমি একটা কথাই বলবো নিজের দিকটা ঠিক রাখলে এমন পাপের কর্ম কখনো হতো না।তাই দোষটা আমাদের অর্থাৎ ছেলেদেরই নিতে হবে।কারণ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক থাকলে এমন কাজ হওয়া প্রায় অসম্ভব।

এবার আসি মেয়েদের ব্যাপারে।মেয়েদের আমি তেমন কোনো দোষ দেবো না।তবে আমি জানিনা কোন কারণে একদিনের জন্য আমরা পহেলা বৈশাখ,পহেলা ফাল্গুনসহ আরো কয়েকখানা দিন পালন করি।এখনকার জেনারেশান মানে আমরা সত্যি বলতে একটু উপভোগ করার জন্য দিনগুলোতে রাস্তায় নামি।কাজে দেশের কোনো সংস্কৃতি-ঐতিহ্য এর ধার ধারি না শুধু দিনগুলো আসলেই নানান সাজে নিজেদের উপস্থাপন করি বাঙালি হিসেবে।এসবের কোনো মূল্য নেই।দিনরাত পশ্চিমা সংস্কৃতির পেছনে দৌড় দিতে দিতে আজ আমরা ওয়েস্টার্ন জগতে পা দেয়ার চেষ্টা করছি।আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা বাঙালি।আমাদের আছে গৌরবের এক ঐতিহ্য।একজন জিন্স-শার্ট পড়া বাঙালি মেয়ের চাইতে শাড়ি পড়া বাঙালি মেয়েকে দেখতে আরো বহুগুণ সুন্দর লাগে।বিশ্বাস না হলে দয়া করে একবার যাচাই করে দেখবেন।বাঙালির গৌরবকে ধরে রাখা আমাদেরই কর্তব্য।তাই আমাদের পশ্চিমা অশ্লীলতাকে ছুঁড়ে ফেলে নিজেদেরকে একদিনের নয় চিরদিনের বাঙালি করে তুলতে হবে।তবে আমি মানুষের নিজ ইচ্ছাকে শ্রদ্ধা করি।তাই কেউ সেই পশ্চিমাদের ফলো করতে চাইলে তার প্রতি সমবেদনা এইযে তার কোনো সৌন্দর্য এর মাধ্যমে অন্তত প্রকাশ পাবে না।কারণ বাঙালির সৌন্দর্য বাঙালির সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যতেই লুকিয়ে আছে।যদি আপনি এখন পর্যন্ত ইউরোপ-আমেরিকান মডেলদের ফলো করে এসে থাকেন আর যদি ভেবে থাকেন আপনি নিজের সৌন্দর্যতা প্রকাশ করছেন।তবে আফসোস আপনি এই কাজটিতে ব্যর্থ।

আমি একজন সাধারণ বাঙালি।ধর্ষণ এর মতো কাজ আমার জন্য অপমানের।কারণ এই কাজ দ্বারা আমার মায়ের জাতির উপর কেউ আঘাত এনেছে বলেই আমি মনে করি।আমি ঘৃণা করে তাদের যারা বলে নারী কেবল তার পোশাকের কারণেই ধর্ষিত হয়।খারাপ লাগে এইসব কথা শুনে।কোন সমাজে থাকি আমরা যেখানে নারীকে বিবেচনা করা হয় তার পোশাক দিয়ে?আপনি আজ পোশাকের সমালোচনা করছে কয়দিন পর আপনার বোন বা মেয়েকেই ওই পোশাকে দেখা গেলে আপনি ভেবে দেখুন আপনার মতো লোকেরা কি ভাবতে পারে মনে মনে।ভাগ্যিস বিজ্ঞানীরা এখনো মানুষের প্রতি সেকেন্ডের চিন্তাধারা জানার মতো কোনো প্রযুক্তি তৈরি করতে পারেনি।নইলে সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন আমাদের কি হতো।

পরিশেষে বলতে চাই ধর্ষণ বিতর্কে পোশাকের ব্যাপারটা প্রায় নিরর্থক।কারণ ধর্ষণের মতো নিকৃষ্ট বিষয় থেকে আজ ছোট বাচ্চারাও রেহাই পাচ্ছে না।এই সবই আমাদের অর্থাৎ ছেলেদের নৈতিক অবক্ষয় আর অশ্লীলতাকেই আমাই দায়ী করি।আর মেয়েদের বলবো ভারতীয় বা পশ্চিমা রঙ ঢং ছেড়ে জাতির ঐতিহ্যকে কাছে টেনে নিতে হবে।বাঁচাতে হবে দেশের সংস্কৃতি।

নিজেরা এভাবে চলতে পারলেই হয়ত একদিন আমাদের দেশে ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে না।করতে হবে না তনুর মতো মেয়েদের ধর্ষণ আর হত্যার বিচারের জন্য অপেক্ষা।

“বদলে যেতে হবে আমাদেরই”

অনলাইনে পরিচয়, অতঃপর….

Now Reading
অনলাইনে পরিচয়, অতঃপর….

“Looking through the window

This is not the main door.

It is easy to say, but hard to obey.

What do u think?

Please think before u ink.”

একটা সময় ছিলো যখন এভাবে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটানো হতো।এক সময় চিঠি চালাচালির জায়গা নিলো ইমেইল আর মোবাইল ফোন। দিনভর মোবাইল অপারেটরদের কে কত বেশি সেবা প্রদান করতে পারে সেই প্রতিযোগীতার পুরো সুবিধা ভোগ করতো শহর গ্রামের সব প্রেমিক প্রেমিকারা। কেউ এস এম এসের মাধ্যমে তো কেউ রাতভর ফোনালাপের মাধ্যমে। সকালে যার যার ক্লাসে উপস্থিতির হার কমছে, রেজাল্ট খারাপ করছে, তাতে কি। গুনগুন করে গাইছে গান…. “এখন তো সময়,ভালোবাসার!” যুগ আরো ডিজিটাল হচ্ছে।সাথে ডিজিটালাইজড হচ্ছে ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যমও। এখন আর কেউ শুধু ফোনে কন্ঠ শুনেই সন্তুষ্ট নয়। কি করবে বেচারা রা। আমাদের স্যাটেলাইট বিনোদন যে শিখিয়েছে “ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর!” তাইতো এবার লাইভ দেখা চাই।

আজকাল ফেসবুকের টাইমলাইনে অনলাইন সম্পর্ক নিয়ে অনেক ঘটনা দূর্ঘটনা চোখে পড়ছে।“প্রেম” / “ভালোবাসা” শব্দগুলো আজকাল কেমন হালকা আর সস্তা গোছের কিছু হয়ে গেছে। ফেসবুকের ভালোবাসার সুত্র ধরে ভালোবাসার মানুষটাকে ঠিকঠাক না চিনেই, না বুঝেই ম্যাসেন্জারে বা ভিডিও চ্যাটে  নিজেদের সম্পুর্ন ব্যাক্তিগত ভাবে উপস্থাপন। পরবর্তীতে কোন কারনে সেই সম্পর্ক না টিকলে অমনি সেই দুর্বল মূহুর্তে করা ব্যাক্তিগত ভিডিও ভাইরাল করে প্রতিশোধ নেয়া! তারই জের ধরে কোন এক পক্ষের আত্মহত্যা করার মতো ঘটনা এখন অহরহই ঘটছে।

হারিয়ে গেছে সেই সুন্দর ভালেবাসার সম্পর্কগুলো, যেখানে ডেটিং বলতে ছিলো হেলভেশিয়া বা  KFC কিংবা বইমেলার বটতলা বা টিএসসি’র ক্যান্টিন। এখন সব বদলে গেছে, জায়গা করে নিয়েছে অসংখ্য লিটনের ফ্লাট। মানুষের মনমানসিকতা ভয়ঙ্করভাবে বদলাচ্ছে, রুচির বদল হচ্ছে। কার কজন বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড সেটাতেও যেন অসুস্থ এক প্রতিযোগীতায় নেমেছে আজকের প্রজন্ম। ভালোবাসার প্রপোজ করার ব্যাপারটাও ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয় সস্তাদরের জনপ্রিয়তা লাভের আশায়। সবচে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে এই আধুনিক  প্রেমিক প্রেমিকাদের দলটার বয়সের সীমা ১৮ ও পার হয়নি। স্কুল কলেজের এসব মাত্র দুনিয়া চিনতে শুরু করা কিশোর কিশোরীরা যে বিপথে যাবেনা  এতো বলাইবাহুল্য। ওদের বোঝাতে গেলে অনেক বাবা মা রাই সন্তানের চোখের শুল হচ্ছেন। ঐশীর বাবা মা’র করুণ পরিনতি চোখের সামনে ভেসে উঠে।

অনলাইন প্রেমের সফল পরিনতি যে একেবারেই নেই তা নয়। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি এমন অনেক জুটিকে চিনি যারা অনলাইনের বিভিন্ন চ্যাট সাইট থেকে পরিচিত হয়ে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বিয়ের মতো সামাজিক স্বীকৃতি পেয়েছে। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সুখে শান্তিতে দিন কাটাচ্ছে। তাই শুধুমাত্র অনলাইন সম্পর্ক গুলোর সবগুলোই যে খারাপ পরিণতির স্বীকার হয়,সেটা ভুল। সম্পর্ক যেই মাধ্যমেই হোকনা কেনো মানুষটাকে যাচাই বাছাই করে তারপর সম্পর্কের গভীরতা বাড়ানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যেই সম্পর্ক গুলো সামান্য পাসওয়ার্ড দেয়ানেয়াকে বিশ্বাসের মাধ্যম মনে করে,লাইভ  বা ব্যক্তিগত ভিডিও করাটাকে সম্পর্কের গভীরতার ভিত্তি মনে করে সেই সম্পর্কগুলো থেকে বেরিয়ে আসাই উচিত হবে।

মনের সাথে মনের সম্পর্ক থাকলে তবেই সেই সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া ভালো। নয়তো সারা জীবনভর পস্তানো লাগবে। আরেকটা ব্যাপার লক্ষনীয় যে ভালোবাসার মানুষটি যদি সমবয়সী হয়,তখন সেই ভালোবাসার মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধের অভাব দেখা যায়,যেখান থেকেও অনেক সম্পর্কে কোন নাম নেয়ার আগেই ফাটল ধরে।প্রতিশোধপরায়ন হয়ে কোন পক্ষ বেছে নেয় খুনাখুনি, এসিড মারা বা আরো কোন রোমহর্ষক কাজ। ভালোবাসাবাসি নিয়ে যেসব কবিতা,গল্প,উপন্যাস  তা আজকালকার ভালোবাসাবাসির স্টাইলের সাথে যায় না যেন। ভালোবাসা হয়ে গেছে যেন আর্থিক স্ট্যাটাস আর ফ্যাশন নির্ভর। কার কতো স্টাইলিশ গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড আছে সেটার শো অফ চলে যেন। সম্পর্কের স্থায়ীত্বের চেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে যেন সম্পর্কের জাহির করা ব্যাপারটা। জিনিষ পুরোনো হলে আমরা যেমন বদলে ফেলি, তেমনি যেন পুরোনো হয়ে যাওয়া সম্পর্ক কেও ঝেড়ে ফেলে দিতে দ্বিধা করেনা আজকালকার এসব হালফ্যাশনের সম্পর্কধারীরা। একটা গেলো তো কি হলো,আরেকটা আসবে- এমন নীতি তে চলছে যেন। তারপর কোন পক্ষ যদি সম্মত না হয় তখন ধর্ষণ, খুন,গুম তো আছেই। যেই সময়ের ভালোবাসাবাসির মিষ্টি সেই চিঠি চালাচালির কথা বলছিলাম শুরুতে, তখনো যে জোর জবরদস্তির ব্যাপারটা ছিলোনা, তা কিন্তু না। তবে তখনকার প্রতিশোধপরায়ণতার স্টাইল ছিলো এসিড মারা পর্যন্ত। ধর্ষণ তখন এতো ব্যাপকহারে বাড়েনি। এখন তো মনে হয় যেন, সেই ভালো ছিলো! এসিড মারার তো একটা চিকিৎসা আছে, ধর্ষণের শিকার হওয়া মানুষটার মনের তো চিকিৎসা নেই। সহজ সরল বিশ্বাাসের কি করুণ পরিণতি!

একটু সচেতন হলেই কিন্তু এসব পরিস্থিতি এড়ানো যায়। একটু মনকে শক্ত রাখতে পারলেই হলো। সম্পর্কের গভীরতার প্রমাণ কখনোই ভিডিও চ্যাটে শরীর দেখানো হতে পারেনা। সম্পর্কে বিশ্বাসের প্রমান হতে পারেনা পাসওয়ার্ড দেয়া না দেয়া। এসব অবান্তর ব্যাপারগুলো এড়িয়ে গেলেই অনেক সম্পর্ক একটা নাম নিতে পারে। স্হায়ীত্বও বাড়তে পারে। মানুষ চিনতে মানুষটার সাথে খুব কি অন্তরঙ্গ আসলেই হওয়া লাগে? সুন্দর একটা সম্পর্ক যখন কোন নাম নেয়, একটা পরিবার গড়ে ওঠে সেই সম্পর্ককে ঘিরে, তখন সেই গল্প শুনতেও যেমন আনন্দের,বলতেও তেমনি সুখের।সেই আনন্দ বা সুখ অধরা কিছুই না; শুধু যদি একটু সচেতনতা বাড়ানো যায়। ডাস্টবিনে পলিথিন মোড়ানো সদ্যজাত বাচ্চা গুলোকে মৃত অবস্থায় পেতে আর ভালো লাগেনা। আসুন সবাই মিলে সচেতন হই।