ঘুরে এলাম মিনি কক্সবাজার (মৈনট ঘাট )

Now Reading
ঘুরে এলাম মিনি কক্সবাজার (মৈনট ঘাট )

প্রথম বার যখন মিনি কক্সবাজার গিয়ে ছিলাম তখন মাঝিরকান্দা নেমে ছিলাম । ও আচ্ছা আগে আপনাদের বলেনি মিনি কক্সবাজার বলতে কি বুঝিয়েছি । মিনি কক্সবাজার হলো মৈনট ঘাট । পদ্মার পার । খুব সুন্দর একটি জায়গা । মূলত স্থানীয়রা একটা মিনি কক্সবাজার বলে । আর সেখান থেকে মিনি কক্সবাজারের নাম সবার মুখে । একে মিনি কক্সবাজার বলার কারণ হচ্ছে , এখানে কক্সবাজারের মতো ঢেউ আসে , কিন্তু কক্সবাজারের মতো এতো বড় ঢেউ না । ছোট ছোট ঢেউ , যা আপনাকে অনেকটা কক্সবাজারের ফিল এনে দিবে । এখন ঈদের মৌসুম চলছে । ইচ্ছে করলে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সেখান থেকে । তাছাড়া আপনি শীতকালে গিয়েও বেরিয়ে আসতে পারেন । আমি আপনাকে বর্ষা কালে যেতে মানা করবো , কারণ বর্ষা কালে এমনিতে সারাদিন বৃষ্টি থাকে । তাছাড়া বলা যায়না যদি কখন উত্তাল হয়ে পড়ে । প্রিয় পাঠক কথা না বাড়িয়ে এখন আপনাদের কে বলছি আপনি কিভাবে একদিনের মধ্যে কম খরচে ঘুরে আসতে পারেন এই মিনি কক্সবাজার ।

কিভাবে যাবেন : প্রথম বার যখন আমি গিয়েছিলাম তখন একটু ভুল করেছিলাম । অবশ্য একে ভুল বলা যায়না । কারণ এই ভুলের কারণে আমি জজ বাড়ি ও উকিল বাড়িটি দেখতে পেয়েছিলাম । যদি আপনি সকাল সকাল বের হন তাহলে এই সব জায়গা ঘুরে বিকেল বেলা মৈনট ঘাট এ যেতে পারেন । আর আপনি যদি চান যে আপনি সরাসরি মৈনট ঘাট দেখবেন তাহলে সে ব্যবস্থাও আছে । আপনি যেখানে থাকুন না কেন . নবাবগঞ্জের গড়িয়ে উঠে পড়ুন । আর আপনি যদি ঝামেলা ছাড়া যেতে চান তাহলে চলে আসুন ঢাকার অন্যতম প্রাণ কেন্দ্র গুলিস্তান । আমি গুলিস্তান থেকে উঠে ছিলাম । প্রথমবার উঠে ছিলাম নবাবগঞ্জ গামী গাড়িতে । আর নেমে ছিলাম মাঝিরকান্দাতে ।সেখানে নেমে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে হবে জজ বাড়ি কোনটা আপনাকে দেখিয়ে দিবে । দেখা বেশ হলে আপনাকে অটো তে করে যেতে হবে বাঁশতলা । আবার সেখান থেকে অটো তে করে গিয়েছিলাম কার্তিকপুর । সেখান থেকে আপনি ইচ্ছা করলে পায়ে হেটে যেতে পারেন অথবা রিকশা করে যেতে পারেন । আমরা পায়ে হেটে গিয়েছিলাম সময় লেগেছিলো ২৫ মিনিট ।
অথবা আপনি ইচ্ছা করলে সরাসরি বসে আসতে পারেন । আমি এই ঈদে সরাসরি গিয়েছিলাম । এতে করে যেমন আমার সময় কম লেগেছে , সেই সাথে আগের বার থেকে টাকা ও কম খরচ হয়েছে । আমি গুলিস্তান থেকে যমুনা বসে করে এসে ছিলাম । আমাকে মৈনট ঘাটে নামিয়ে দিয়েছে । ঈদ উপলক্ষে ভাড়া ১০ টাকা বেশি নিয়েছে । ১০০ টাকা নিয়েছে । রেগুলার ভাড়া ৯০ টাকা ।

কি আছে মৈনট ঘাটে : প্রথম বার যখন গিয়েছিলাম তখন মানুষ তেমন একটা ছিল না । কিন্তু এইবার অনেক ভিড় পেয়েছি । ভিড় পাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল । ঈদের সময় . সবাই সবার পরিবার নিয়ে ঘুরে এসেছে । প্রথমবার যখন বন্ধুরা মিলে গিয়েছিলাম তখন স্প্রীডবোর্টে উঠেছিলাম । আমাদের সম্ভবত ২৫ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট এর মতো পদ্মা ঘুরিয়ে ছিল । ভাড়া পড়েছিল ১৮০০ টাকা । একটি স্প্রীডবোর্টে সর্বোচ্চ ১০ জন উঠা যাবে । আমি আপনাদের সেস্ত করবো ৫ জন এর বেশি উঠতে না । তাহলে আপনি আপনার জার্নিটা কে উপভোগ করতে পারবেন না । আর অবশ্যই স্প্রীডবোর্টে উঠার আগে লাইফ জ্যাকেট পড়ে নিবেন । নদীর অবস্থা দেখে উঠবেন । যদি নদীতে বেশি ঢেউ থাকে তাহলে উঠার দরকার নাই । আর এইবার আমরা উঠে ছিলাম ট্রলারে । আমার কাছে স্প্রীডবোর্ট থেকে ট্রলারে বেশি ভালো লেগেছিলো । ট্রলারে খরচ খুব কম পড়েছে । আপনাকে ১ ঘণ্টা ঘুরাবে আর ভাড়া পড়বে ৫০০ টাকা । আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো আপনি যদি পরিবার নিয়ে ঘুরতে যান তাহলে , স্প্রীডবোর্টে ঘুরতে পারেন । আর যদি বন্ধু বা প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে ঘুরতে যান তাহলে ট্রলারে করে ঘুরতে পারেন । তাছাড়া আপনি চাইলে গোসল করতে পারবেন মিনি কক্সবাজারে । অবশ্যই সাঁতার জানতে হবে আপনাকে । আর যদি না জানেন তাহলে নামতে পারবেন কিন্তু নদীর বেশি গভীরে যেতে পারবেন না । আর সাথে লাইফ জ্যাকেট থাকলে অনেক ভালো হয় । আর হ্যাঁ ছবি তুলতে একদম ভুলবেন না কিন্তু ।

খাবারের ব্যবস্থা : আমি আগের বার সাথে করে খাবার নিয়ে গিয়েছিলাম , এই বারো একই কাজ করেছি । যেহেতু দুই বাড়ি ফ্যামিলি টুর ছিল । বাসা থেকে খাবার নিয়ে আপনি পিকনিক এর মতো করে খেতে পারেন । আর যদি চান ওই খান খাবেন তাহলে সেই ব্যবস্থা আছে আপনার জন্য । আপনাকে বাস যেখানে নামিয়ে দিবে সেখান থেকে একটু সামনে এগিয়ে গেলে আপনি ভাত খাবার হোটেল পাবেন । মোটামুটি পরিবেশ । খাবারের দাম কম । আপনি যদি ইলিশ মাছ খেতে চান তাহলে সেই ব্যবস্থা ও আছে আপনার জন্য । কিন্তু আমার মনে একটা প্রশ্ন আদো ওই গুলো কি ইলিশ মাছ নাকি ইলিশ মাছের মতো দেখতে অন্য মাছ । যাই হোক তাদের খাবার খেতে আপনি স্বাদ পাবেন । পাঠকের মনে প্রশ্ন আসতে পারেন আমি যেহেতু খাইনি তাহলে কিভাবে বুঝলাম স্বাদ আছে ? রোজার আগে আমরা কিছু বন্ধুরা গিয়েছিলো সেখানে । আর খাবার খেয়েছিল ঐখান কার দোকানে , আমি শুধু তাদের উপর ভিত্তি করে বলেছি খাবারের টেস্ট কথা ।

ফিরে আসা : আপনি যেভাবে গিয়েছেন সেভাবে ইচ্ছে করলে ফিরে আসতে পারেন । আর হ্যাঁ ফিরে আসার সাথে আপনি নিয়ে আসবেন একগাদা স্মৃতি । আপনার ভ্রমণ আনন্দ দায়ক হোক সেই কামনা করি ।

আর এর আগে যদি আপনি যেয়ে থাকেন , তাহলে কমেন্টে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন ।

বাংলাদেশের নদীঃ ফারাক্কা বাঁধ এক মরণ ফাঁদ ( ২য় পর্ব)

Now Reading
বাংলাদেশের নদীঃ ফারাক্কা বাঁধ এক মরণ ফাঁদ ( ২য় পর্ব)

বাংলাদেশের পরিবেশ, প্রকৃতি, জীববৈচিত্র‍্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে নদী। নদীর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক এক আজন্ম ভালোবাসার। কিন্তু দিন দিন আমাদের দেশের নদীগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।পানির জন্য হাহাকার করছে প্রায় ৪ কোটিরও বেশি মানুষের জনপদ।

এই লেখার ১ম অংশে তুলে ধরেছিলাম (লিংক নিচে) বাংলাদেশের অনেক বড় বড় নদী থাকা সত্ত্বেও আজ আমাদের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখে। বাংলাদেশে আসা প্রধান আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোতে ভারত অন্যায়ভাবে বাঁধ দিয়ে আমাদের দেশের জলবায়ু, পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করছে। ভারত এ পর্যন্ত গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা বাঁধ, তিস্তা নদীতে গজলডোবা বাঁধ, বরাক নদীতে টিপাইমুখ বাঁধ প্রদান করেছে এবং ব্রহ্মপুত্র নদের উপর দিবাং নামে নতুন একটি বাঁধ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। যার মাধ্যমে আমাদেরকে পুরোপুরি পানিশূন্য করার পায়তারা চলছে। এইসব নদীগুলো আমাদের দেশের জীববৈচিত্র‍্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জলবায়ু এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভারত প্রদত্ত ফারাক্কা বাঁধ আমাদের দেশের জন্য যেসব বিশাল ক্ষতি বয়ে আনছে সেগুলো আজকে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

ফারাক্কা বাঁধঃ
ফারাক্কা বাঁধটি কলকাতা বন্দরকে পলি জমার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নির্মাণ করা হয়। গঙ্গা ও পদ্মা নদীর উজানে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলায় এই বাঁধটি অবস্থিত। ফারাক্কা বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় ১৯৬১ সালে এবং এই বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ করা হয় ১৯৭৫ সালে। ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল এই বাঁধটি চালু করা হয়। ফারাক্কা বাঁধের দৈর্ঘ্য প্রায় ২.২৪ কিলোমিটার (৭৩৫০ ফুট)। বাঁধটি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এর সহায়তায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যায়ে নির্মাণ করা হয়। বাঁধটিতে ১০৯টি গেট রয়েছে।এইখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য “ফারাক্কা সুপার তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের” জন্য পানি সরবরাহ করা হয়। ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশ- ভারত সীমান্ত থেকে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

এই ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের প্রায় ৪ কোটির ও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।বিলীন হয়ে যাচ্ছে পদ্মার শাখা নদ-নদী গুলো। শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিচ্ছে পানির ব্যাপক সংকট। বাংলাদেশের সাথে ভারতের পানি বন্টন নিয়ে একটি মাত্র চুক্তি গ্রহন করা হয়েছে আর তা হলো “গঙ্গা পানি চুক্তি”। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছরের জন্য এই চুক্তি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় চুক্তিটি ভারত ৩ মাসও ঠিকভাবে পালন করতে পারেনি। চুক্তি অনুযায়ী গঙ্গার মোট পানির ৮০% পানি ভারত ও বাংলাদেশ সমান হারে পাবে আর বাকি ২০% পানি গঙ্গা ও পদ্মার ৭টি শাখা নদীর নাব্যতা ঠিক রাখার জন্য ব্যবহার করা হবে। ১৯৯৭ সালের ২৭ মার্চ বাংলাদেশের একটি পর্যবেক্ষক দল দেখতে পায় বাংলাদেশে মাত্র ৬ হাজার ৪৫৭ কিউসেক পানি পায় যা বাঁধ চালু হওয়ার পর সর্বনিম্ন পানিপ্রবাহ। কিন্তু উক্ত চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশের পানি পাওয়ার কথা প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ কিউসেক। গঙ্গা চুক্তি অনুসারে ফারাক্কা পয়েন্টে ৭০ হাজার কিউসেক পানি থেকে ২০ হাজার কিউসেক পানি বাদে বাকি ৫০ হাজার কিউসেক পানি দুই দেশ সমান ভাবে পাবে। কিন্তু উক্ত পয়েন্টে ৫০ হাজার কিউসেক পানির কম হলে পানির বন্টন কিভাবে হবে তা রয়ে গেছে অধরা। ১৯৭৭ সালের পানি চুক্তিতে যেমন গ্যারান্টি ক্লোজ ছিলো ’৯৬ এর চুক্তিতে সেই গ্যারান্টি ক্লোজ না থাকায় ভারত আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে বাধ্য নয়। এই কারণে ভারত গঙ্গার পানি ফারাক্কা পয়েন্টে আসার আগেই তারা তাদের শহর, সেচ এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য পানিয়ে আগেই সরিয়ে রাখছে। তাদের ব্যবহারের পর ফারাক্কা পয়েন্টে যে পানি আসে তা যদি সম্পূর্ণ অংশও বাংলাদেশকে দিয়ে দেয় তাতেও বাংলাদেশের রয়ে যাবে বিশাল পানি সংকট।

ফারাক্কা বাঁধ দেয়ার আগে খুলনা অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমাণ ছিলো প্রায় ৫০০ মাইক্রোমাস কিন্তু বাঁধ দেয়ার পরে লবণাক্ততার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ মাইক্রোমাস। খুলনা অঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন “ সুন্দরবন” আজ জীববৈচিত্র‍্য ধ্বংস হওয়ার মুখে। হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দরবনের বিভিন্ন এন্ডেমিক উদ্ভিদ ও প্রাণি।

file-12-5.jpeg

পানি স্বল্পতার কারণে পদ্মার বড় শাখা নদী “গড়াই” আজ বিলীন হওয়ার পথে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প “জিকে সেচ প্রকল্প” ধ্বংসের মুখে। দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১২১,৪০০ হেক্টর জমি এই সেচ প্রকল্পের পানি দ্বারা পরিচালিত হয়। অনবরত গঙ্গার পানি প্রত্যাহার এর ফলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পখাতে বিশাল অংকের লোকসানের ভারে নুইয়ে পড়ছে। প্রত্যক্ষ ভাবে প্রতিববছর বাংলাদেশের মোট ক্ষতির পরিমান প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। আর পরোক্ষ ভাবে ক্ষতির কথা চিন্তা করলে তার হিসাবের পরিমান সঠিক ভাবে কেউ নির্ণয় করতে পারবে না।

ফারাক্কা বাঁধের কারণে ১৯৬০ সালের তুলনায় নদীতে পলিপ্রবাহ কমেছে ২০%। কার্বন প্রবাহ কমেছে ৩০%। আরিচাঘাটে করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে বাংলাদেশে গত ৪০ বছরে যে পরিমাণ মৎস্য আহরণ করা হতো তার চেয়ে এখন প্রায় ৭৫% কম মৎস্য উৎপাদন করা হয়। দাদারা (পশ্চিম বঙ্গ) আমাদের দেশের থেকে ইলিশ আমদানির জন্য ব্যাপক তোড়জোড় করছেন কিন্তু তারা যদি এই ভাবে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার করা শুরু করেন তাহলে আগামী ১৫-২০ বছর পর ইলিশের অবস্থান হবে ইতিহাসের পাতায়।

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মায় পানির অপ্রতুলতার কারণে পানির স্তর সাধারণের চেয়ে প্রায় ১৫ ফুট নিচে নেমে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির আর্দ্রতা প্রায় ৩৫% কমে গেছে। খরার সময় এ পদ্মাকে দেখে মনে হয় বাংলাদেশে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মরুর দেশ হিসেবে নাম লেখাবে।

বাংলাদেশের যাতায়াত পথের বিশাল একটি অংশ হচ্ছে এই পদ্মা নদী। পদ্মা নদীর কারণে খুব সহজে বিশাল পরিমাণের যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পানি না থাকলে বাংলাদেশের প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পথ নৌ যান চলাচলের জন্য কমে যায়। এর ফলে স্থল এবং নৌ পথে মাত্রার চেয়ে বেশি যাত্রি এবং পণ্য পরিবহন করা হয়। তাছাড়া বিশাল পরিমাণে মানুষ বেকারত্বও বরণ করে।

ফারাক্কা বাঁধ শুধু যে বাংলাদেশের ক্ষতি করছে তা নয়। ভারতে বিহার রাজ্যে এই বাঁধ নিয়ে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যেও চলছে নানা বাক বিতন্ডা। ফারাক্কা বাঁধের কারণে গতবছর বিহারে ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়। বন্যা মোকাবেলার জন্য তারা বাঁধের সব গুলো গেইট খুলে দেয় এই কারণে বাংলাদেশেও বন্যা দেখা দেয়। বিহারের মুখ্য মন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি তুলেছে ফারাক্কা বাঁধ যত শীঘ্রই তুলে দেয়া হোক। ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের সময় পশ্চিম বঙ্গের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার কপিল ভট্টাচার্য বলেছিলেন, এই বাঁধ দেয়া হলে বিহার রাজ্যে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে ব্যাপক বন্যা দেখা দিবে। এই কথা বলার কারণে তাকে “পাকিস্তানি গুপ্তচর” অ্যাখ্যায়িত করে তাকে তার পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। কালের পরিক্রমায় ৫০ বছর পর এসে তার কথাই সত্য হিসেবে দেখা দিয়েছে।

গঙ্গা বা পদ্মা পৃথিবীর অন্যতম বিশাল একটি নদী। এই নদীতে ভারত বাঁধ দেয়ার মাধ্যমে শুধু একটি দেশের অর্থনৈতিক কিংবা প্রাকৃতিক ক্ষতিই সাধন করেনি, আজ আমাদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

লিংকঃ http://footprint.press/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%83-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A7%9F/

বাংলাদেশের নদীঃ এক অসহায় কান্না (১ম পর্ব)

Now Reading
বাংলাদেশের নদীঃ এক অসহায় কান্না (১ম পর্ব)

“আজ রক্তনালী শুকিয়ে গেছে, রক্তশূন্য দেশে
কেউবা কাদেঁ সেই জ্বালায়, কেউবা আছে বেশ”

নদী, মাত্র দুটি বর্ণের ছোট্ট একটি শব্দ কিন্তু তার গভীরতা আর তার প্রশস্ততা মানুষের জীবনে রেখেছে এক বিশাল স্থান। নদী নিয়ে কত গল্প কত কবিতা নিয়ে গড়ে উঠেছে কবি লেখকদের সখ্যতা আবার তার বৈরিতাকেই নিয়ে প্রকাশ পেয়েছে সাধারণ জন-মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না। রবীন্দ্রনাথ যেমন মানুষের জীবনের ধারাবাহিকতাকে খুঁজে পেয়েছিলেন নদীর মাঝে তেমনি নদী পূর্ণতা পেয়েছে মানুষের জীবনে। আমাদের প্রাণের দেশ বাংলাদেশ, যা এমন একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে রয়েছে যার কারণে বাংলাদেশ নদীর দেশ হিসেবেই গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে।

পৃথিবীর আদি সভ্যতা থেকে প্রায় সব সভ্যতাই গড়ে উঠেছে নদীকে কেন্দ্র করে। মোহেঞ্জাদারো ও হরপ্পা সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো সিন্ধু নদের অববাহিকায়, সুমেরীয় সভ্যতা ইরাকের ইফ্রেতিস-তাইগ্রিস এর পাড়ে কিংবা চীনের গড়ে উঠা হোয়াংহো ও ইয়াংসি নদীর পাশেই গড়ে ওঠে। নদীই আমাদের বর্তমান সভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নীল নদ, সিন্ধু কিংবা হোয়াংহো সব নদীই বাঁচিয়ে রেখেছে তাদের সভ্যতাকে। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যার সিংহভাগ অঞ্চল ঘিরে রয়েছে নদী।

বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। উপনদী, শাখা নদী সহ প্রায় ৮০০ টি নদী রয়েছে আমাদের দেশে। যদিও নদীর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর মতে বাংলাদেশে মোট নদীর সংখ্যা ৪০৫টি। এই ৪০৫টি নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১০২টি নদী , উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ১১৫টি নদী , উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৮৭টি নদী , উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ৬১টি নদী , পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চলে ১৬টি নদী এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ২৪টি নদী রয়েছে। এইসব নদী বাংলাদেশের ভূখন্ডের প্রায় ২৪,১৪০ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে।

হাজার হাজার ফুট উঁচু পাহাড় থেকে ছুটে চলে আসা জলরাশি স্থলভাগ অতিক্রম করার সময় নদী নামে পরিচিতি লাভ করে। এর ভেতর অনেকের নাম হয় নদী আর কেউবা নাম পায় নদ। নদ ও নদীর পার্থক্য হলো ব্যাকরণগত। যে সকল নদীর নাম নারীবাচক তাদেরকে বলা হয় নদী। আর যে সকল নদীর নাম পুরুষবাচক তাদেরকে বলা হয় নদ।

যে সকল নদী অন্য কোন নদী থেকে সৃষ্টি না হয়ে বরং কোনো প্রাকৃতিক উৎস (হিমবাহ, পর্বত, ঝর্ণা) থেকে সৃষ্টি হয় তাদেরকে বলা হয় প্রধান নদী বলা হয়। বাংলাদেশের প্রধান নদী গুলো হচ্ছে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রক্ষ্মপুত্র ও কর্ণফুলী। আমাদের দেশের প্রাণসঞ্চার জাগিয়ে রাখতে এইসব নদীর ভূমিকা অনেক। বাংলাদেশের দীর্ঘতম ও বৃহত্তম নদী হচ্ছে মেঘনা। মেঘনা নদীর দৈর্ঘ্য ৬৬৯ কিলোমিটার এবং প্রতি মিনিটে ৩৮১২৯ ঘনমিটার পানি প্রবাহিত হয় এই নদীতে। বিশ্বের ৩য় বৃহত্তম নদী হিসেবে মেঘনা অবস্থান করছে। বাংলাদেশের নদীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নাব্যতাও বেশি মেঘনা নদীর। যার গভীরতা প্রায় ৬০৯ মিটার। আর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম নদী গোবরা যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ কিলোমিটার। আর বাংলাদেশের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী হচ্ছে কর্ণফুলী নদী।

কিন্তু বাংলাদেশ আজ মরুভূমি হওয়ার দিকে একটু একটু করে যাত্রা করছে। বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলো আন্তর্জাতিক বা আন্তঃসীমান্ত নদী। আন্তঃসীমান্ত নদী এমন ধরণের নদী যা এক বা একাধিক দেশের রাজনৈতিক সীমা অতিক্রম করে। বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা প্রায় ৫৮টি যার ভেতর ৫৫ টি নদীই এসেছে ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে। অন্য বাকি ৩টি নদী সাঙ্গু, মাতামুহুরি ও নাফ এসেছে মায়ানমার থেকে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছে এরূপ নদীর সংখ্যা মাত্র ১টি (কুলিখ নদী)। আর বাংলাদেশ থেকে ভারতে আবার ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা নদীর সংখ্যা মাত্র ৩টি। আত্রাই, পুণর্ভবা ও ট্যাঙ্গন সেই ৩টি নদী।আন্তঃসীমান্ত নদী গুলো বাংলাদেশের জলবায়ু, অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বিরাট ভুমিকা রাখে। অপরদিকে এই নদীগুলো তাদের স্রোতের সাথে পলি মাটি বহন করে যা নদীর তলদেশ ভরাট করে ফেলে এই কারনে অনেক সময় দেখা দেয় বন্যার প্রকোপ।
কিন্তু ভারত এইসব নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করে আমাদের জলবায়ু এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করার পিছনে অনেক বড় ভূমিকা পালন করছে। কোনো আন্তর্জাতিক নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করে এর গতিপথ পরিবর্তন করতে চাইলে অন্য যে দেশে এই নদী গিয়েছে তাদের অনুমতি নিয়ে বাঁধ নির্মাণ করতে হয় এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে তাদেরকে সেই নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা প্রদান করতে হবে। ভারত সেই আন্তর্জাতিক নিয়মের কোনো তোয়াক্কা না করে আমাদেরকে আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা প্রদান করেছে না। এই কারণে আমাদের দুই দেশের মাঝে রয়েছে বহুদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা।

ভারত বাংলাদেশে আসা আন্তঃসীমান্ত নদী গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা বাঁধ, তিস্তা নদীর উপর গজলডোবা বাঁধ, বরাক নদীর উপর টিপাইমুখ বাঁধ প্রদান করছে। ভারত দিবাং বাঁধ নামে নতুন একটি বাঁধ এর পরিকল্পনা করছে যা ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ব্রক্ষ্মপুত্র নদের উপর করা হবে। এই বাঁধ যদি দেয়া হয় তাহলে দিবাং বাঁধ হবে ভারতের সবচেয়ে বড় বাঁধ।
বড় নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করলে তা বাঁধ নির্মাণ অঞ্চল এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য এর ব্যাপক ক্ষতি করে। ভারত এইসব আন্তর্জাতিক নদীর উপর জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কিংবা তাদের খরা প্রবণ অঞ্চলে পানি দেয়ার জন্য বাঁধ প্রদান করে আমাদের দেশের জন্য ব্যাপক ক্ষতি করছে।যার ফলে আমাদের অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া সহ নানা ধরনের ক্ষতি সাধন করছে।
এই লেখার ২য় পর্বে আমরা তুলে ধরবো কিভাবে ভারতের এইসব বাঁধের কারণে আমাদের দেশের উত্তরাঞ্চাল মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। কিভাবে ফারাক্কা বাঁধ আমাদের ক্ষতি করছে, কিংবা টিপাইমুখ বাঁধ আমাদের জন্য কি কোনো সুখ বয়ে এনেছে?

টেকেরঘাট – ভ্রমণ কথা

Now Reading
টেকেরঘাট – ভ্রমণ কথা

ভালোবাসার মাঝে যেন লুকিয়ে আছে আমাদের বাংলাদেশ । আমরা অনেক টাকা খরচ করে দেশের বাহিরে গিয়ে থাকি তাদের দেশের সুন্দর্য উপভোগ করার জন্য । কিন্তু আমাদের ঘরের পাশে যে এক সুন্দরের লীলাভূমি তা হয়তো আমাদের কখনোই খেয়াল হয়নি । আসলে কবি যথার্থ বলেছেন

বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে
বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে
দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,
দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শিষের উপরে
একটি শিশিরবিন্দু।

এখন মূল আলোচনায় ফিরে আসি । আজ আমি আপনাদের আমার সাথে আমার লেখায় মাধ্যমে ঘুরিয়ে নিয়ে আসবো সুনামগঞ্জ । আমরা অনেকেই সুনামগঞ্জে গিয়েছি বিশেষ করে টাংগুয়া হাওর ঘুরে জন্য । বা অনেকে আবার সুনামগঞ্জের শিমুল বাগান ঘুরে এসেছেন । এর সামনে থেকে এগিয়ে গেলে মানে টাংগুয়া হাওর থেকে সামনে গেলে আপনি দেখতে পাবেন টেকেরঘাট ।

একদিকে লেক আরেক দিকে ছোট ছোট পাহাড় । যা আপনি দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না । অপরূপ সাজে যেন প্রকৃতি তার আপন মনে সেজে বসে আছে আপনার জন্য .। মূলত টেকেরঘাট হলো একটি পরিতেক্ত চুনাপাথরের খনি । এখানে আগে চুনাপাথর উত্তোলন করা হতো । একসময় একে পরিতেক্ত ঘোষণা করা হয় তার পর থেকে যেন এই টেকেরঘাট হয়ে উঠছে পর্যটক প্রেমীদের কাছে এর সুন্দর্যের লীলা ভূমি ।

আপনি দুই ভাবে যেতে পারবেন এই সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার টাংগুয়া হাওরে । টাংগুয়া হাওর এর কথা বললাম কারণ আপনি যদি টাংগুয়া হাওর হয়ে যান তাহলে আপনি এক সাথে দুইটি জায়গা ঘুরে আসতে পারবেন ।

১ আপনি ট্রেনে করে যেতে পারবেন এই টেকেরঘটে । প্রথমে আপনি হাওর এক্সপ্রেস করে চলে আসুন মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে । সেখান থেকে আপনি রিক্সা করে চলে আসুন দৌলত পুর গ্রামের ব্রীজে। আপনি যদি ট্রেনে করে আসেন তাহলে ভাড়া লাগবে ৩২০ টাকা শোভন চেয়ার । আর মোহনগঞ্জ থেকে দৌলত পুর ভাড়া নিবে ৬০ টাকা । আপনাকে রিকশাওয়ালা ব্রীজের গোড়ায় নামিয়ে দিবে । এই ব্রিজ মূলত নেত্রকোনা আর সুনামগঞ্জ কে আলাদা করেছে । আপনি ব্রীজ এর থেকে রিক্সা নিয়ে চলে যাবেন ধর্ম পাশা গ্রামে । ভাড়া পড়বে ৬০ টাকা . সেখান থেকে তাহের পুর হয়ে চলে আসুন । সেখানে দেখা পাবেন টাংগুয়া হাওর এর । একটি নৌকা বা স্প্রীড বোর্ড ভাড়া করে ঘুরে বেড়ান টাংগুয়া হাওর । যখন রোদ নেমে আসবে তখন মাঝিকে বলবেন তিনি যেন আপনাকে টেকেরঘাট কাছে নামিয়ে দিয়ে . নৌকা ভাড়া পড়বে ৬০০ টাকার মতো । যেই ঘাটে আপনাকে নামিয়ে দিবে সেখান থেকে হেটে আসলে আপনার ৩০ মিনিট লাগবে অথবা অটো তে করে আসলে ১০ টাকা ভাড়া নিবে। টেকেরঘাট দেখে আপনার মন ভরে যাবে । একদিকে নীল পানি আর পাশে ছোট ছোট টিলা আর কিছু পাহাড় বাংলাদেশের শেষ সীমানায় উঁকি দিচ্ছে ।

২ আপনি চাইলে বাসে করে চলে আসতে পারেন সুনামগঞ্জ । আপনি সায়দাবাদ থেকে সুনামগঞ্জ গামী যেকোনো বাসে বা শ্যামলী বা হানিফ এ করে চলে আসুন সুনামগঞ্জে । ভাড়া পড়বে ৫৫০ টাকা । সময় প্রায় ৫ ঘন্টা লাগবে । আপনাকে ওরা নামিয়ে দিবে নতুন ব্রীজ এর সামনে । আপনি সেখানে দেখবেন কিছু লোক মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আপনার জন্য । আপনি যদি সরাসরি টেকেরঘাট যেতে চান তাহলে রিজার্ভ করে নিতে পারেন । ভাড়া পড়বে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা । টেকেরঘাট যাওয়ার পথে যাদুকাটা নদী পড়বে । তা পার হতে মানুষ এর জন্য ৫ টাকা আর মোটরসাইকেল এর জন্য ২০ টাকা । আবার আপনি ভেঙে ভেঙে ও যেতে পারেন । আপনি নতুন ব্রীজ থেকে যাদুকাটা নদী ভাড়া পড়বে ২০০ টাকা আর নদী পার হয়ে মোটরসাইকেল ভাড়া নিতে হবে টেকেরঘাট পযর্ন্ত ভাড়া নিবে ১২০ টাকা । আপনি অবশ্যই ভাড়া নেয়ার আগে দাম দামি করে নিবেন । তাহলে আপনার কিছু টাকা বেঁচে যাবে ।

আপনি যদি যেতে চান শুধু টেকেরঘাট দেখার জন্য তাহলে আমি বলবো শীতের সময় যাওয়ার জন্য । তখন হাওরের পানি একদম কম থাকে জীবনের ঝুঁকি কম থাকে । আর প্রকৃতির আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন । আর যদি আপনি ট্রেনে করে যেতে চান মানে টাংগুয়া হাওর ও সাথে টেকেরঘাট দেখবেন তাহলে বলবো বর্ষার শেষে ও শরৎ কালে যেতে পারেন ।

সুনামগঞ্জে থাকার ব্যবস্থা খুব খারাপ না হলেও আপনি মোটামুটি মানের ভালো হোটেল পাবেন । হোটেল ভাড়া মূলত সিজন আর রুমের সাইজের উপর নির্ভর করে । আর যেহেতু আপনি হাওর এলাকায় যাচ্ছেন সেখানে খাবারে কোনো সমস্যা হবে না। বিশেষ করে মাছের কোনো অভাব পাবেন না । আসে পাশে যেই সব খাবার হোটেল আছে সেগুলোতে আপনি তাজা মাছ পাবেন । ঢাকায় আসার পথে আপনি বড় গলদা চিংড়ি নিয়ে আসতে পারেন কম দামে ।

আপনি টোটাল দুইদিনের প্ল্যান করে যেতে পারেন । যদি ট্রেনে যান তাহলে টোটাল খরচ পড়বে ১৫০০ টাকা আর যদি বসে যান তাহলে পড়বে ২০০০ টাকার মত ।

স্মৃতি

Now Reading
স্মৃতি

নদীর তীরটায় বসে স্টিমারগুলোর যাওয়া আসা নিরিক্ষন করছি মনোযোগ সহকারে ৷ মেয়েটা কখন এসে পাশে বসলো টেরই পাইনি ৷ পাশ ফিরতেই চমকে উঠলাম,
> তুমি এখানে? (আমি)
> সেতো দেখতেই পাচ্ছো
> এত যায়গা থাকতে আমার পাশেই বসতে হলো?
> আমার ইচ্ছা, কোন সমস্যা?
> না, তোমার যেখানে মন চায় বসো, দাড়াও, শুয়ে গড়াগড়ি খাও, আমি যাই…
বলে উঠতে যাবো, মেঘা হাত টেনে ধরে বসালো আবার ৷ হ্যা, মেয়েটার নাম মেঘা ৷ আমরা পরষ্পর ক্লাসমেট ৷ ক্লাসের সেরা সুন্দরীদের মধ্যে মেঘাও একজন ৷ আর আমি প্রিতম, বলা যায় ক্লাসের সবচেয়ে নির্বাক ছেলেটা ৷ ক্লাস ওফ থাকলে সবাই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়, আর আমি একা একা বসে থাকি, এত শোরগোল আমার ভাললাগেনা ৷ প্রকৃতির সাথে নিরব বন্ধুত্ব ওরা বুঝবে না ৷
কিছুদিন ধরে যেখানেই যাই, মেঘা সেখানে গিয়ে আমার সাথে প্রকৃতির বন্ধুত্ব ফাটল ধরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে ৷ বিরক্তি লাগে, সেটা বোঝার চেষ্টাই করে না ৷
> ওই, কি ভাবছো? (মেঘা)
> তোমার কথা (বলে ভাবলাম, কি বললাম?)
> তাহলে ভাবো, মন দিয়ে ভাবো
> আমি আসলে ভাবছিলাম, তুমি আমায় এভাবে বিরক্ত করে কি মজা পাও?
> খুব বিরক্ত করি?
> আমার একা থাকতেই ভাল লাগে ৷ তুমি বুঝতে চাওনা কেন সেটা?
> আমি আমার উত্তর পাইনি
> কোনটার?
> খুব বিরক্ত করি?
> হ্যা (কঠোর ভাবে বললাম)
মেঘা আমার দিকে করুনভাবে তাকালো কিছুক্ষন, তারপর উঠে চলে গেল ৷
কেমন যেন একটু খারাপ লাগলো ৷ একটু ভাল করেও নিষেধ করে দিতে পারতাম ৷ না, সরি বলা দরকার ৷ কিন্তু তারপর থেকে এই তিনদিন কলেজেই আসলোনা মেঘা ৷ ওর এক বান্ধবীর থেকে বাসার ঠিকানা নিয়ে কলেজ শেষে ওর বাসায় গেলাম ৷ কলিংবেল চাপতেই একজন মধ্যবয়সী মহিলা দরজা খুলল,
> কে? (মহিলা)
> আন্টি আমি প্রিতম, মেঘার ক্লাসমেট
> ওহ, আমি মেঘার মা ৷ আসো, ভেতরে আসো
আমাকে বসতে বলে তিনি ভেতরে চলে গেলেন ৷ কিছুক্ষণ পর মেঘা আসলো ৷ নিরবে দাড়িয়ে আছে দেখে বললাম,
> সরি মেঘা, আমার ঐদিন ওভাবে বলা উচিত হয়নি
> (নিরব)
> কিছু বলবে না?
> ইটস্ ওকে
> হুম, তাহলে আজ আসি
> মা তোমার জন্য নাস্তা আনছে, একটু পরে যাও ৷ চলো তোমায় চারদিকটা ঘুরিয়ে দেখাই ৷
> ঠিক আছে
মেঘাদের বাড়িটা অনেক বড়, অনেকগুলো রুম ৷ কিন্তু মানুষ মাত্র তিনজন ৷ মেঘার রুমটাও দেখলাম ৷ বেশ সাজানো গোছানো ৷ হটাৎ মেঘার মায়ের ডাকে মেঘা আমাকে ওর রুমে বসতে বলে চলে গেল ৷ আমি বসে বসে ওর বইখাতা নাড়াচাড়া করতে লাগলাম ৷ টেবিলের উপর একটা খোলা ডায়রি দেখলাম ৷ লিখতে লিখতেই রেখে গেছে কেউ ৷ নিয়ে পড়তে লাগলাম ৷ কিছুক্ষন পর মেঘা আসলো ৷ আমার হাতে ওর ডায়রিটা দেখে কেমন যেন চুপসে গেলো ৷
> তুমি আমার ডায়রি পড়ছো কেন? (মেঘা)
> এতদুর ভাবার আগে তোমার আমার সম্পর্কে ভাল করে জেনে নেওয়া উচিত ছিল
> সেজন্যই তো কখনো দাবি করিনি (মেঘা)
> আমি যখন গ্রামে থাকতাম, আমার একটা খেলার সাথী ছিল, প্রেমা ৷ আমাদের অজান্তে ছোটবেলা থেকে আমাদের বিয়ের কথাও হয়ে ছিল আমাদের বাবা মার মধ্যে ৷ সারাদিনই একসাথে কাটতো আমাদের ৷ কিন্তু মাধ্যমিক শেষের পথে এক এক্সিডেন্টে ওর বাবা মা দুজনেই মারা যায় ৷ আর ওকে ওর মামা বিদেশে নিয় যায় তার কাছে ৷ ও চলে যাওয়ার পরই আমার জীবনে ওর অস্তিত্বটা বুঝতে পারি ৷ ভালবাসা কি যখন একটু একটু বুঝতে শিখলাম, তখন বুঝলাম আমি ওকে ভালবাসি ৷ পরে মার থেকেই জানলাম যে আমাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল ৷
> এখন সে কোথায়? (মেঘা কাঁপা গলায় বলল)
> জানিনা, চেষ্টা করেছি অনেক, কিন্তু ওর কোন খোজ পাইনি এখনো
> যদি কখনো খুজে না পাও?
> জানিনা
> প্রিতম, যদি কখনো তাকে ফিরে পাও, আমি তোমাদের মাঝে বাঁধা হবোনা কখনই
মেঘার দিকে তাকালাম ৷ কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে ৷ আমি কিছু না বলে বেরিয়ে আসলাম ৷ সেদিনের পর থেকে মেঘার সাথে টুকটাক ভালো মন্দ কথা হতে থাকে ৷ যত দিন যায়, তা বাড়তেই থাকে ৷ মেঘার কেয়ার নেওয়া, নিঃস্বার্থ ভাবে ভালবেসে যাওয়ার কাছে আমিও যেন দুর্বল হয়ে পড়ি ৷ তবু প্রেমাকে শেষ বারের মত একবার খোজার দাবি মেঘা ফিরিয়ে দেয় না ৷ কিন্তু এবারও কোন সন্ধান করতে পারলাম না ৷ পড়াশুনা শেষ করে একটা বেসরকারি কোম্পানীতে জয়েন করেছি ৷ বাসা থেকে বিয়ের চাপ দিচ্ছে, তাই মাকে মেঘার কথা বললাম ৷ তারপর পারিবারিকভাবেই আমাদের বিয়ে হলো ৷ বিয়ের তিন বছর হয়ে গেছে ৷ হ্যা, সূখেই আছি আমি ৷ আজ আরও একটা সুখের দিন ৷ আমাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা বাড়তে চলেছে ৷ কিছুক্ষণ পর নার্স এসে জানালো,
> কনগ্রাচুলেশান, আপনার মেয়ে হয়েছে
> আমি কি এখন ভেতরে যেতে পারি? (আমি)
> আজ যেতে পারবেন না
> কেন?
> অনেক কষ্টে আপনার স্ত্রীকে বাঁচানো গেছে ৷ ডাক্তার আপা না থাকলে ওনাকে বাঁচানো সম্ভব হতো না ৷ কাল পর্যন্ত ওনার কাছে যেতে পারবেন না
> ওহ, কোন ডাক্তার আপা?
> আসুন, ওনার কেবিন দেখিয়ে দিচ্ছি
> চলুন
নার্স কেবিন দেখিয়ে দিয়ে চলে গেল
> আসতে পারি? (আমি)
> আসুন
> আমি মেঘার হাসবেন্ড
> ওহ, কনগ্রাচুলেশন
> থ্যাংক ইউ, কিন্তু আমাকে ভেতরে যেতে দিচ্ছে না
> কালকের আগে যেতে পারবেন না ৷ আর দুজনেই এখন বিপদমুক্ত ৷ চিন্তার কিছু নেই
> অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, আসি
> ওকে
উঠতে যাবো, তখনি চোখ আটকে গেলো টেবিলের উপরের নেমপ্লেটে প্রেমার নাম দেখে ৷ এবার ভাল করে তাকালাম ওনার দিকে ৷ ঘাড়ের কাছে কাটা দাগ দেখে চিনতে ভুল হলো না যে এই আমার সেই প্রেমা ৷ কি বলবো ভেবে পেলাম না ৷ নিরবেই বেরিয়ে আসলাম ৷ সাজানো জীবনটা যেন এক মুহুর্তেই এলোমেলো হয়ে গেলো ৷ দুদিনের মধ্যে আর একবারও প্রেমার সামনে গেলাম না ৷ আজ মেঘাকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি ৷ মেঘাকে গাড়িতে বসিয়ে আমি প্রেমার কেবিনে আসলাম ৷ প্রেমা জানলার পাশে দাড়িয়ে ছিল ৷ পায়ের শব্দ পেয়ে আমার দিকে তাকিয় বলল,
> কিছু বলবে? (নির্বিকার ভাবে বলল)
তুমি বলায় অবাক হয়ে তাকাতে দেখে বলল,
> তুমি আমায় চিনতে পারো, আর আমি তোমায় চিনবো না, এটা কেমন করে ভাবলে
> (নিরব)
> কেমন আছো?
> ভালই (গলাটা ধরে আসছে)
> মেঘাকে অনেক ভালবাসো, তাই না?
> হুম, বিয়ে করেছ?
> খুজে পাইনি যে তোমায়
> আমিও খুজতে কম করিনি, কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে
> হুম, সে দাবিও নেই আমার ৷ তবে একটা অনুরোধ রাখবে
> বলো
> মেয়ের নাম প্রেমা রাখবে?
> হুম
প্রেমা আবার জানলার দিকে ফিরে দাড়ালো ৷ আমি কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে বেরিয়ে আসলাম ৷ চোখটা ভেজা অনুভব করলাম ৷ তাই মেঘার চোখে পড়ার আগেই মুছে নিলাম ৷ গাড়িতে উঠলাম ৷ মেয়েটাকে কোলে নিলাম ৷ ওর পলকহীন চোখজোড়া তাকিয়ে আছে আমার দিকে, আর আমিও ৷ গাড়ি ছুটে চলেছে দুপাশের অতীতকে পেছনে রেখা, ছুটছে আপন ঠিকানায়, জীবনের শেষ ঠিকানায়…….

জাফলং ভ্রমণ – শেষ পর্ব

Now Reading
জাফলং ভ্রমণ – শেষ পর্ব

সিলেট শহর থেকে জাফলং তেমন একটা দূর না । কিন্তু আপনার যাত্রা পথে সবচেয়ে যাই ঝামেলায় আপনি পড়বেন তা হল রাস্তা । কারণ জাফলং যাওয়ার পথে রাস্তা খুবই খারাপ । যা আপনাকে ভোগান্তিতে ফেলবে ।

আমাদের সিএনজি এগিয়ে চলছে । আমি সিএনজি এর সামনে বসার কারণে বাহিরের খুব সুন্দর দৃশ গুলো খুব কাছ থেকে দেখতে পারছিলাম .। তামাবিল এর আগে থেকে আপনার চোখ যেন বাহির থেকে আর সরতে চাইবে না । কি সুন্দর তার দৃশ , আমি যতই যেন দেখছি ততই যেন মুগ্ধ হচ্ছি . কি সুন্দর পাহাড় . আমার মনে হচ্ছিলো আরেকটু হলে বুঝি মেঘের সাথে গিয়ে বারি খাবে .

আমি শুধু চিন্তা করছিলাম জাফলং যাওয়ার আগে যদি এত সুন্দর দৃশ দেখা যায় , না জানি জাফলং এ আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে . আমি বাহিরের ছবি ক্যামেরা বন্ধি করতে ভুললাম না . আমরা এখন যেই  দিক দেখছি মূলত তা হলো ভারতের মেঘালয় , বাহিরের সুন্দর দৃশ দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম জাফলং এর পাহাড়ে .

আমরা গিয়েছিলাম ২৫০ টাকা করে . যখন সিএনজি থেকে নেমে যাচ্ছিলাম তখন সিএনজি ড্রাইভার বলছিলো আপনারা আবার কি ফিরে যাবেন আমার সাথে . আমি বললাম যাবো . তখন উনি বললেন তাহলে আপনাদের ৩৫০ টাকা করে পরবে. আমরা প্রথমে একটু অবাক হলাম . তিনি আমাদের বললেন যাওয়ার সময় লোক পাওয়া যায় না আর অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে আমাদের জন্য . আমি বললাম না ভাই আপনি চলে যান .

যখনি সিএনজি থেকে নামবেন তখনি আপনাকে একদল লোক ঘিরে ধরবে . ভয় পাবেন না তারা নিজেদের গাইড বলে দাবি করবে , আপনি ইচ্ছা করলে তাদের ভাড়া করতে পারেন , কিন্তু আমি আপনাদের বলবো না নেয়াটাই বেস্ট , আমরা না নিয়ে প্রথমে দাঁড়িয়ে পাহাড় থেকে মেঘলয়ের দৃশ উপভোগ করলাম , তার পর পাহাড় বেয়ে নিচে নেমে গেলাম . সাবধানের সাথে নামবেন , যখনি নিচে নামছিলাম জাফলং নদী এর দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম কিভাবে ইন্ডিয়া থেকে আমাদের দেশে পানি আসছিলো .

আসলে বাংলাদেশ অনেক সুন্দর তখনি আপনি উপভোগ করতে পারবেন যখন আপনি চামড়ার চোখ দিয়ে না দেখে মনের চোখ দিয়ে দেখবেন . .আমরা পাহাড় বেয়ে নিচে নেমে গেলাম. নামার সময় আমাদের সামনে একটা মাঠ এর মতো একটা জায়গা পড়লো . সেখানে আপনি বাহারি দোকান দেখতে পাবেন , হরেক রকমের মালামাল নিয়ে তারা বসে আছে , যেহেতু ইন্ডিয়া কাছে তাই বেশির ভাগ পণ্য আপনি ইন্ডিয়ার দেখতে পারবেন , সেখানে আমাদের দেশি শাল পাওয়া যায় কিন্তু আমার কাছে মানের দিক থেকে তেমন একটা ভালো লাগে নি , একটু সামনে এগিয়ে গেলে আপনার চোখে ধরা দিবে জাফলং এর আসল সুন্দর্য , তখন শীত কাল থাকার কারণে পানি কিছু টা কম ছিল. জাফলং বর্ষায় এক রূপ ধারণ করে আর শীতে আরেক রূপ ধারণ করে . আমার কাছে শীতের দৃশ টা মন কেরে নিয়েছে .পানি কখনই আপনার হাঁটুর উপরে যাবে না , আমাদের আর তর সইলো না . নেমে পড়লাম পানি তে . ভিজিয়ে নিলাম নিজেদের পা কে আর মনে মনে বলতে লাগলাম অবশেষে আমি ইহাকে জয় করতে পারলাম . মাথার উপর যেমন রোদ আবার পায়ের নিয়ে বরফের চেয়েও ঠান্ডা পানি . আপনির দিকে তাকালে আপনি নিচে পাথরের টুকরো দেখতে পারবেন . পানি খুবই স্বচ্ছ হবার কারণে পানিতে যেই সব মাছ ও পাথর আছে আপনি তা খালি চোখে দেখতে পারবেন .

আপনি জাফলং এ কিছু লোক দেখতে পাবেন যারা টাকার বিনিময়ে আপনার ছবি তুলে দিবে . আপনি ইচ্ছা করলে তাদের দিয়ে ছবি তুলিয়ে নিতে পারেন . নেয়ার আগে অব্যশই দাম জিজ্ঞেস করে নিবেন , আমরা একটা সাইডে আমাদের ব্যাগ রেখে নেমে পড়লাম পানিতে . পানিতে বসে শুয়ে যেভাবে পারি মজা করলাম. পানি এতো পরিমান ঠান্ডা ছিল যে মনে হচ্ছিলো শরীর বুঝি এখনই জমে যাবে .আর হে মালামাল রাখার ক্ষেত্রে সাবধানতার দিকে খেয়াল রাখবেন ,

বাংলাদেশের পাশেই ইন্ডিয়া . আমাদের সাইড টাকে বলা হয় জাফলং আর তাদের সাইড কে বলা হয় মেঘলায় . মাঝে আপনি বিএসফ ও আমাদের দেশের বিজিবি কে দেখতে পাবেন. যারা সর্বদা সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত . আপনি যখনি ইন্ডিয়ার সাইডে ঢুকতে থাকবেন পানির পরিমান আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে , আরেকটু যাওয়ার পর বিএসফ আপনাকে সাবধান করে বাংলাদেশের সীমান্তে ফিরে জিতে বলবে , ওই খানে না যাওয়াটাই ভাল .

আমরা কিছু ক্ষণ মজা করে ছবি তুলে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম . বার বার মনে হচ্ছিলো এর মজার সময় গুলো যদি শেষ না হতো তাহলে অনেক ভালো হতো . পেটে তখন প্রচন্ড খুদা . যাই মাঠ ধরে নদীর দিকে গিয়েছিলাম সেই মাঠ ধরে এগুলে দেখতে পেলাম একটা খাবারের দোকান . বসে পড়লাম খেতে . আমার কাছে পুরো ভ্রমণের এই জায়গাটা বেশি ভালো লেগেছে কারণ পিছনে পাহাড় আর সামনে নদী মাঝে মাঠের মধ্যে বসে খাবার খাওয়া এক অন্য রকম ফিলিং . টাকি মাছের ভর্তা সাথে ডিম্ আর ডাল. মনে হয় স্বর্গের খাবার . খাবার খেয়ে রওয়না দিলাম . আপনি যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে হবে কোথা থেকে বাস ছেড়ে যায় কদম তলির উদ্দেশে . অটো তে করে গেলে ভাড়া লাগবে ১০ টাকা . ভালোমত ধরে বসবেন রাস্তা খুবই খারাপ / তারা আপনাকে বাসস্ট্যান্ড এ নামিয়ে দিবে বাস আসলে উঠে পড়বেন ভাড়া নিবে ৫০ টাকা .

এই ছিল আমাদের সিলেটের জাফলং ভ্রমণ . আজকের দিনে এসেও স্মৃতিতে ভাসে সেই দিনগুলো . আসলে প্রতিটা ভ্রমণই খুবই আনন্দের

জাফলং ভ্রমণ – পর্ব ৩য়

Now Reading
জাফলং ভ্রমণ – পর্ব ৩য়

মনে প্রাণে বিশ্বাস করা হয় , এইখানের যেসব কবুতর মাজারের বাহিরে উড়ে চলে যায় তার বিশ্বাসঘাতক ।

তারা মাজারের সাথে বেঈমানি করে মাজারের বাহিরে চলে গিয়েছে । এই স্থান থেকে সামনে এগিয়ে গিয়ে প্রথমে আপনার চোখে পড়বে বড় একটি পাতিলা । যেখানে মানুষ মানতের টাকা দিচ্ছে । খুব সুন্দর একটি জায়গা এই মাজার। যখনি আপনি মাজারের ভিতর ঢুকবেন সাথে সাথে নিজেকে রিফ্রেশ মনে হবে । মাজারের গেট দিয়ে বরাবর তাকালে দেখতে পারবেন বিশাল এক উঁচু বিল্ডিং ।বিল্ডিং মূলত মসজিদ । মসজিদ দিয়ে উঠার আগে সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে আপনার জুতা জমা দিতে হবে ।তা না হলে জুতা হারানোর ভয় থাকে । জুতা জমা দিয়ে আপনি মাসজিদ বরাবর উঠে যান । সোজা উঠে হাতের ডান পাশে আপনি একটি রাস্তা দেখতে পাবেন । সেই রাস্তা ধরে এগুলে আপনি সরাসরি চলে আসবেন শাহ্‌ জালালের মাজারে । আপনি উপরে উঠার সময় আগরবাতি বা কয়েকটি মোমবাতি কিনে নিয়ে যেতে পারেন । আমরা সেখানে দাড়িয়ে কিছুক্ষন দুরুদ পড়ালাম । ঠিক নেমে আসার পথে আপনি যেই ডানে মোড় দিয়ে মাজারে উঠে গিয়েছিলেন সেই মোড়ে দাঁড়ালে আপনি ছোট একটি রাস্তা পাবেন যেখান দিয়ে আপনি সরাসরি মাজারের কবর স্থানে চলে যাবেন ।

আমি গিয়ে প্রথমে প্রয়াত সালমান শাহ্‌ এর কবর খুঁজে বের করলাম । অনেক খোঁজা খুজি করে বের করলাম তার কবর । তার কবরের সামনে গিয়ে দাড়িয়ে কবর জিয়ারত করলমা। খুব কষ্ট পেলাম যখন দেখলাম কিছু লোক ছবি তোলার জন্য তার কবরের মাঝে গিয়ে দাড়াতে ও দ্বিধা বোধ করছে না । শেষে নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে বললাম ভাই আপনারা এক কাজ করেন কবর খুড়ে তাকে বের করে ছবি তোলেন ।

আপনি আশে পাশ ঘুরে দেখতে পারেন । খুব সুন্দর একটি জায়গা । আপনার ঘুরাঘুরি শেষ হলে দর্গার গেট দিয়ে বের হয়ে আসলে দেখবেন আপনাকে সবাই ঘিরে ধরবে। আমরা যখন বের হয়ে আসলাম সবাই আমাদের বলছিল্ যাবেন নাকি ভাই শাহ্‌ পরাণ । আপনি ইচ্ছা করলে দুই ভাবে যেরে পারেন
১ – রিজার্ভ করে যেতে পারেন
২ – শেয়ার করা সিএনজি তে করে যেতে পারেন ।

যদি আপনি শেয়ার করা সিএনজি তে যেতে চান তাহলে আপনাকে দর্গার বাহির হয়ে একদম শেষ মাথায় গিয়ে দাড়াতে হবে । সেখানে লোকাল সিএনজি পাবেন , আমরা চলে গেলাম একদম শেষের দিকে । উঠে পড়লাম সিএনজি তে । ভাড়া নিবে ২৫ টাকা করে । আমরা যাওয়ার পথে সিলেটে অপরুপ দৃশ গুলো উপভোগ করলাম । তখন মনে মনে বলতে লাগলাম আসলে আমাদের দেশ অনেক সুন্দর । মনে ভরে যাচ্ছিল সিলেটের সৌন্দর্য দেখে । যাওয়ার পথে আপনার চোখে পড়বে অসংখ্য ছোট ছোট টিলা । যখন আপনি মাজারের কাছা কাছি চলে আসবেন ঠিক তার আগ মুহূর্তে দেখতে পাবেন এমসি কলেজ । খুব সুন্দর কলেজটি । আমাদের চোখ কে বার বার অবাক করে দিচ্ছে এই সিলেট শহর । রাস্তা ঘাঁট আপনি পরিষ্কার পাবেন । অন্যান্য জেলার রাস্তার তুলনায় সিলেটের রাস্তা আমরা কম ভাঙা পেয়েছি। বলা যেতে পারে আমাদের কাছে শাহ্‌ জালাল থেকে শাহ্‌ পরাণ পর্যন্ত এক আরাম দায়ক ভ্রমণ ছিল । কখন যে চলে আসলাম শাহ্‌ পরাণের মাজারে টের পেলাম না।সিএনজিতে পরিচয় হয়েছিল এক লোকের সাথে । তিনি তামাবিল যাবেন । আমাদের জন্য ভালোই হল এক জন লোক পেলাম জাফলং যাওয়ার জন্য । আমরা মাজারের কাছে নেমে চলে গেলাম মাজার জিয়ারত করতে । শাহ্‌ পরাণের মাজার আবার উঁচু একটি টিলার উপরে । এই খানেও আপনাকে জুতা জমা দিয়ে যেতে হবে । আমরা শাহ্‌ জালাল যেভাবে জিয়ারত করলাম ঠিক একই ভাবে শাহ্‌ পরাণ জিয়ারত করে বের হয়ে পড়লাম জাফলং এর জন্য ।

আপনি যদি রির্জাভ যান তাহলে ১৫০০ থেকে ২০০০ এর মত লাগবে । আমরা ছিলাম ৩ জন । সাথে আরেক জন যোগার করে লোকাল সিএনজি তে করে রওনা হলাম সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাফলং এ । আমাদের লোকাল সিএনজিতে করে যেতে এক এক জনের লেগেছে প্রায় ২৫০ টাকা করে । আপনি কদমতলি থেকে বাসে করে যেতে পাড়েন ।ভাড়া পড়বে ৬০ টাকা করে । আমি বলবো যাওয়ার সময় সিএনজি তে করে যেতে । কারন জাফলং এর আসল সৌন্দর্য দেখতে পাবনে তার যাওয়ার পথে । আমাদের সিএনজি চলছে তার আপন মনে । কিছু দুর গিয়ে ড্রাইভার গ্যাস নিয়ে নিল । আমি খুব ভালো আড্ডা শুরু করে দিলাম সিএনঞ্জি ড্রাইভার এর সাথে । সিএনজি যতই সামনে যাচ্ছে আমার তখন মনে হচ্ছিল আমরা মনে হয় সৌন্দর্যের স্বর্গের মধ্যে প্রবেশ করছি । কিছু ক্ষন যাওয়ার পর আমরা একটা ব্রিজের উপর উঠলাম । আমি আগে থেকে জানতাম ব্রিজের নিচে যে নদী বয়ে যাচ্ছে তার পানির রঙ নীল । বাংলাদেশের এক মাত্র নদী যার পানি নীল । সেখানে সিএনজি থামিয়ে কিছু সৃতি বন্দি করলাম ক্যামেরায় । সামান্য যাত্রা বিরতি নিয়ে আবার যাত্রা শুরু হল জাফলং এর উদ্দেশে ।