শুন্য

Now Reading
শুন্য

০ (উচ্চারণ: শূন্য) হলো একাধারে একটি সংখ্যা এবং অঙ্ক।এটি এককভাবে মানের অস্তিত্বহীনতা ও অন্যান্য সংখ্যার পিছনে বসে তাদের যুত পরিচয় প্রদান করে। এছাড়াও দশমিকের ডানে বসে এটি বিভিন্ন সংখ্যার দশমাংশ প্রকাশ করে।
ইংরেজিতে জিরো ( zero) শব্দটি এসেছে ভেনিশিয় শব্দ জিরো (zero) থেকে যা আবার ইতালিয় জিফাইরো (zefiro জেফিরো) থেকে পরিবর্তিত হয়ে এসেছিল। ইতালীয় জিফাইরো শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ “সাফাইর” বা “সাফাইরা” (صفر) থেকে যার অর্থ “সেখানে কিছু ছিল না”। এই শব্দটিই পরবর্তীতে ভারতীয় সংস্কৃতে অনুদিত হয়েছে শ্যুন্যেয়া (শ্যূন্য) যার অর্থ খালি বা ফাঁকা।

যার মানে পরিস্কার যে শুন্য (০) মুল্যহীন। শুন্য কে বৃওের ( সিফার) (صفر) সাথেও কিন্তু তুলনা করা যায়, কারন একি রকম দেখতে। বৃওের ব্যাস ও পরিধি সবই থাকলেও এটি একটি কেন্দ্র থেকে শুরু হয়ে আবার সেই কেন্দ্রে এসেই মিলিত হয়।

এবার আসি মূল কথায়, আমাদের জীবনের সাথে কিন্ত এই শুন্য মিলেও যায়।

যেমন : আপনার দৈনদিন জীবন যাই হোক না কেন, আমি আপনি আমরা সবাই কিন্তু একটা গন্ডিতে বাধা। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে কিন্তু ঠিকই বাসাতেই ফিরে আসতে হবে। আবার যাদের নির্দিষ্ট কোনো বাসা নেই।

তাদের ক্ষেত্রে কি হতে পারে???

দিন শেষে রাত, আর রাত শেষে দিন, ঠিক একটি কেন্দ্র থেকে শুরু, কিন্তু এখানে ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলেও শেষ কিন্তু হচ্ছে না। আসলে শেষ হচ্ছে প্রতিদিন। যখন একটি বিন্দু থেকে শুরু হয়ে আবার সেই বিন্দুর সাথে মিলে যাবে তখনি শেষ হয়ে যাবে, এই শেষের নাম ই হলো মৃত্যু।
মৃত্যু আসবেই, তারপরও আমাদের এই মৃত্যু নিয়ে কি কোনো প্রুস্তুতি আছে? না, একেবারেই নেই। কখনো ভেবে দেখেছেন আপনার
মৃত্যুর পর কি হবে। দুনিয়ার দু:খ কষ্ট কিছুই না, সময়ের ব্যবধানে মানুষ সব ই ভুলে যায়, কিন্তু মৃত্যুর পরে তো শেষ নেই। অনন্তকাল সেখানে থাকতে হবে।

যখন আমরা বা আমাদের কোনো প্রিয়জন আমাদের থেকে দূরে যায়, হোক কাজে হোক ঘুরতে, আমরা কিন্তু তার / আমাদের ব্যাগে করে প্রয়োজন মতো জিনিষপত্র গুছিয়ে দেই যাতে সেখানে গিয়ে ঝামেলা না হয়, একটা ব্যাগে কতই বা জিনিশ ধরে!! তারপরও চেষ্টার কমতি থাকে না।
মৃত্যুও কিন্তু একটা যাত্রা, আপনি সেই যাত্রা পথের ব্যাগ গুছিয়েছেন তো? প্রশ্ন আসতেই পারে, সেইখানে তো ব্যাগের দরকার হবে না!

হবে, কিন্তু সেই ব্যাগ দৃশ্যমান নয়, দুনিয়ার কিছুই যাবেনা আপনার সাথে। যাবে শুধু আপনার ” আমল “। এই যাত্রার সব কিছুই আপনার নিজের গুছিয়ে নিতে হবে। সেখানে সাহায্য করারও কেউ থাকবে না।
দুনিয়ার বর্তমানকালীন অবস্তায় এইসব চালিয়ে যাওয়া কঠিন, কিন্তু একটু চেষ্টা করলেই কিন্তু আমরা পারি। আপনি ঘরে বসে সারাদিন
” আমল ” / নামাজ ” পরলেন, তাহলে কিন্তু জীবন চলবেনা।

একটু উদাহরণ দিয়েই বলি!

একটা লম্বা রড/লাঠি তার দুই পাশে দুইটা চাকা লাগানো। একটা বড় আরেকটি ছোট। এবার আপনি এই লাঠি কে সামনে ঠেলে দিলে ফলাফল কি হবে? চলতে পারবে?? চলতে পারবে ঠিকই কিন্তু সেই বৃও / শুন্য র মতো হবে।

কারন ছোট চাকাকে কেন্দ্র করে বড় চাকা ঘুরতে থাকবে।আপনি একি গন্ডিতে চক্রাকারে ঘুরতে থাকবেন। ফলাফল সেই ০( শুন্য)।
আর যদি লাঠির দুচাকাই সমান হয় তাহলে?? চলতে কোনো ঝামেলা হবে না।

এবার ধরে নিন লাঠির একদিক আমার ইহকাল এবং আরেকটি পরকাল। দুই দিক সমানভাবে ব্যালেন্স করতে পারলেই জীবনে চলতে ঝামেলা হবে না আশা করছি।
মানুষের মৃত্যু হয় ঠিক ই কিন্তু মানুষের আত্নার হয় না। আর এই আত্নার
পোষাক হলো মানুষের দেহ। মৃত্যুর পর যা আত্না ফেলে চলে যায় আর পড়ে থাকে আমাদের মরদেহ। কাপড় পুরাতন হলে যেমন ফেলে দেয়া হয় এক সময় নষ্ট হয়ে যায় ঠিক তেমনি আমাদের দেহ মৃত্যুর পর পচে ক্ষয় হয়ে যায়।

দুনিয়াতে যেমন আপনার দেহের খাবার দরকার হয় তেমনি খাবার দরকার আপনার আত্নার, যাকে রুহু বলা হয়। দেহের খাবার হলো যা খেলে আপনার দেহে শক্তি সঞ্চয় হয়। আর আত্নার খাবার হলো
ভালো আমল, নামাজ। দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরলে আপনার মনে এমনি তেই শান্তি আসবে, মন ভালো থাকবে। এইটাই হলো আত্নার খাবার।
দুনিয়াতে মানুষের জীবন খুবই অল্প সময়ের, কতো সময় আমরা বিভিন্ন কাজে ব্যায় করি, নামাজ পড়তে খুব বেশি সময় লাগে না,
সুতরাং নামাজ পড়ে নিন। নিজের জন্য, অন্য কারও জন্য নয়!!
ধুরুন আপনি যাকে ভালোবাসেন অথবা আপনার পরিচিত কেউ,
তার গায়ে আগুন লেগে গেছে!! আপনি প্রানপন চেষ্টা করবেন আগুন নিভাতে, হয়তো সফলকাম ও হবেন। কিন্তু ভেবে দেখেছেন জাহান্নামের আগুনে আপনার প্রিয় মানুষ কে কিভাবে বাচাবেন? কোনো কিছুতেই সেই আগুন নিভে যাবে না।

তাই নিজে নামাজ পড়ুন আপনার আসে পাশের মানুষকেও পড়তে বলুন। মানুষ কিন্তু চারপাশ দেখেই শিখে, আপনি পড়তে শুরু করুন আপনার দেখাদেখি তারাও শুরু করবেন ” ইনশাআল্লাহ্‌ ”

প্রিয় মানুষ, বাবা/ মা কে নিয়ে সুন্দর জায়গাতে বেড়াতে যাওয়া সবার ই শখ, কখনো ইচ্ছে হয় নি সবাই কে নিয়ে জান্নাত বাসি হতে? কাছের মানুষ গুলো মিলে এমন একটা স্থান যেখানে কষ্ট বলে কিছু নেই!!!
আপনি একা সেখানে সুখে থাকবেন আর আপনার কাছের মানুষ গুলো জাহান্নামি হলে তা মটেও সুখকর নয়।

তাই খুব বেশী দেরি হয়ে যাবার আগেই অন্ধকার থেকে আলোর পথে আসুন। শুন্য থেকে শুরু আবার শুন্যতেই শেষ। আপনাকে আমাকে ফিরে যেতেই হবে আমাদের সৃষ্টিকারী ” আল্লাহ ” এর নিকট!

#Naf