মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি!

Now Reading
মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি!

সংস্কার চেয়ে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের উপহার স্বরূপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের কোটা পদ্ধতিকেই বাতিল ঘোষণা করে দিলেন। কোটা সংস্কার  নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাহাঙ্গীর কবির নানক জাতীয় সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে সে একই বিষয়ে সরকার পূর্ব হতেই গঠনমূলক কাজ করে আসছে।  ১৯৭২সাল হতে চালু হওয়া এই কোটা পদ্ধতি ধাপে ধাপে তারা সংস্কার করেছেন। ছাত্রদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে তার সরকার সবসময় সচেতন উল্ল্যেখ করে তিনি আরো বলেছেন- আন্দোলনকারীরা যে দাবী নিয়ে আন্দোলন করছেন তা কিন্তু বহু আগেই সরকার নিজ থেকে পূরণ করে দিয়েছে। তারা না বুজেই রাস্তায় নেমেছে এবং তাদের দাবীও স্পষ্ট নয়। বিগত বিসিএস পরীক্ষাগুলোতে  মেধার ভিত্তিতেই অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি উল্ল্যেখ করেন যারাই বিসিএস পরীক্ষা দেন তারা প্রত্যেকেই মেধাবী আর কোটাভোগী হলেও তাকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আসতে হয়। যেহেতু ছাত্র-ছাত্রীরা চাইছে না তবে এ কোটা পদ্ধতির আর থাকবেনা। পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সরকার অন্যভাবে চাকরির ব্যাবস্থা করবে। সমাজের কোন শ্রেণী যেন রাষ্ট্রের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয় সে ব্যাপারেও সচেষ্ট আছে সরকার।

তিনি বলেছেন- শিক্ষাই দারিদ্র বিমোচনের মুল হাতিয়ার তাই শিক্ষার উপরই গুরুত্ব বেশি দিয়েছে তার সরকার। সে লক্ষ্যেই শিক্ষার বহুমুখী ট্রেনিং এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলে প্রশিক্ষিত করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিশ্চিত কর্মক্ষেত্র প্রসারে উদ্দ্যেগ নিয়েছে সরকার। উচ্চ শিক্ষা লাভে শিক্ষা সহায়তা ট্রাষ্ট ফান্ড গঠন করে গরীব ও মেধাবীদের বৃত্তি দেয়া এবং প্রাইমারী থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা পয়াসায় বই দিয়ে ছেলে মেয়েদের সহযোগিতা করছে কেবল লেখা পড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হয়ে যেন তারা দেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে। কোটা সংস্কারের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন- হটাৎ শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়ে সারাদেশে রাস্তায় নেমে এল কেবল ইন্টারনেটে ছড়ানো মিথ্যে গুজবে, এমনকি যেভাবে মেয়েরা রাতের বেলায় হল ছেড়ে বেড়িয়ে এল তাতে তাদের নিরাপত্তা বিগ্নিত হলে এর দায় দায়িত্ব কে নিত? এই ইন্টারনেট তাঁর বদান্যতায় সবার হাতে পৌঁছেছে মনে করিয়ে দিয়ে  সকলকে তার গঠন মুলক ব্যাবহারে আহ্বান জানান তিনি।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে হামলার ক্ষোভ এবং  নিন্দা জানিয়ে বলেন- কোন ছাত্র এমন জঘন্য ঘটনা ঘটাতে পারেনা। যে বা যারা এই পরিকল্পিত ঘটনা ঘটিয়েছে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করেন- যারা এই হামলা করেছে তাদের খেসারত দিতেই হবে, ইতিমধ্যেই  এ বিষয়ে দেশের গোয়েন্দাবাহিনী তদন্তে মাঠে নেমেছে। ভিসির বাড়ীর মালামাল কারা লুট করেছে এবং কারা হামলা করেছে তাদের শনাক্ত করতে ছাত্র-শিক্ষকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।

এখনো প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর শিক্ষককে সম্মান করতে তিনি ভুলেন না উল্ল্যেখ করে বলেন- শিক্ষক এবং গুরু জনকে অপমান করে হয়ত ডিগ্রী নেয়া যায়, কিন্তু প্রকৃত শিক্ষিত হওয়া যায় না। প্রত্যেকের উচিৎ শালীনতা বজায় রেখে নিয়ম এবং আইন মান্য করা। একটা রাষ্ট্র কিছু নীতি মালার ভিত্তিতে চলে  আর সেভাবেই সরকার পরিচালিত হয়। তাঁর সরকার শিক্ষায় সেমিস্টার ও গ্রেডিং পদ্ধতির প্রচলন করে দেশের বাইরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার বৈষম্য দূরীকরণ করে মান বাড়িয়েছেন বলেও উল্ল্যেখ করেন। তিনি উল্ল্যেখ করেন- ইতিমধ্যেই মন্ত্রী পরিষদের সচিবকে দায়িত্ব দিয়েছেন যেন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে আলাপ  আলোচনা করে কিভাবে যৌক্তিক পর্যায়ে পৌঁছানো যায় তা খতিয়ে দেখতে। সংসদে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন- তাঁর প্রেরিত প্রতিনিধির সাথে আলাপ ও সমঝোতার পর আন্দোলনকারীরা সুনির্দিষ্ট তারিখ দেয়ার পরও কেন আবার আন্দোলন শুরু করে রাস্তা ঘাট বন্ধ করা হল, কেনই বা সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিতে হবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যা হয়েছে অনেক হয়েছে, এবার বাড়ি ফিরে যাও। কোটা থাকলেই সংস্কারের প্রশ্ন উঠবে। সাধারণ মানুষের বারবার এই কষ্ট বন্ধ করতে এবং বারবার এই আন্দোলন ঝামেলা মেটানোর জন্য কোটা পদ্ধতি বাতিল হলেই উত্তম মনে করেন বলে সংসদে জানিয়েছেন তিনি।

নারী ছলনাময়ী না সাবধানীঃ নারী দিবস ২০১৮

Now Reading
নারী ছলনাময়ী না সাবধানীঃ নারী দিবস ২০১৮

টাইটানিক সিনেমার শেষের দিকে বৃদ্ধা রোজের একটা ডায়লগ আমার মনে পড়ে – “A women heart is deep ocean of secrets.” । মেয়েরা অনেক গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারে – এটা বুঝানো হয়ম্নি এই বাক্যের মাধ্যমে। বরং এই বাক্যের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে – মেয়েরা খুব সহনশীল। প্রকৃতিগত কারনে আমরা পুরুষরা শারীরিক শক্তি বলে বেশি সক্ষম, ব্রেন খাটানোর জায়গা ও সুযোগ হয়ত আমাদের বেশী। কিন্তু সহনশীলতা – এই জায়গাটাতে তারা আমাদের থেকে বহু বহু গুনে এগিয়ে।

নারী শ্রেষ্ঠ নাকি পুরুষ – এ নিয়ে বিতর্ক চিরদিনের। কবি নজরুল ইসলাম অবশ্য বলে গেছে দুই সাইডেই সমান । উনার ভাষ্যে –

“বিশ্বে যা কিছু মহার সৃষ্টির চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধের তার নর।”

এত উলটো টাও কিন্তু হয়।

“বিশ্বে যা কিছু মহার ধ্বংসের চির অকল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধের তার নর।”

গোলডা মেইর , একজন শিক্ষিকা যিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বলেছেন – “” Weather women are better than men i cant say but they are certainly no worse.” এর মানে মেয়েরা কখনোই ছেলেদের থেকে খারাপ না।

নারী নিয়ে অনেক গান আছে। আইয়ুব বাচ্চু বলেছেন – মেয়ে তুমি কি দুঃখ চিন , চিন না তবে চিনবে কেমন করে এই আমাকে? তপু ভাই বলেছেন – মেয়ে , তুমি এখনো আমায় গে ভাব কি?

দুঃখিত গে না, শব্দটা বন্ধু হবে। বন্ধুতের পরবর্তী পদ ভালবাসা আর সে ভালবাসায় দিনে দিনে মনের মিল না হলেই আমাদের কাছে নারী ছলনাময়ী। আসলে মেয়েরা ছলনাময়ী/হঠকারী না। শব্দ গুলো কেমন যেন ঘৃনা ধরায়। আসলে নারী খুব সাবধানী, এরা প্রকৃতিগত ভাবেই এমন।নিজেদের নিরাপত্তার কথা সবার আগে তাদের চিন্তা করতে হয়।

ভাল খারাপ দুটি দিক নিয়েই মানুষ। দুনিয়াতে খারাপ নারী পুরুষের অনুপাত তা সমান সমান বৈকি। কে যেন বলেছিল – “দুনিয়াতে খারাপ মহিলা অনেক আছে, কিন্তু খারাপ মা একটিও নাই।” বিপরীতে আবার পুরুষ লাগাবেন না, দুনিয়ায় খারাপ পুরুষ তো আছেই, খারাপ বাবাও আছে। অনেক বাবা আছে, উনাদের নস্টামির সিড়ি নিজের মেয়েকে জোর পুর্বক বিছানায় নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত হয়।
ইমদাদুল হক মিলনের একটা বই ছোটকালে উপহার পেয়েছিলাম জেঠির কাছ থেকে। সেখানে এক মা নিজের সন্তান এর ভাল থাকা ও নিজের ভালবসার জন্য জেলে থেকে মাছ ব্যাবসায়ী, তার থেকে ভাড়াটে গুন্ডা এবং ঐ গুন্ডার সি এন জি ওয়ালার ঘর পর্যন্ত করে।

মেয়েরা মায়ের জাত। কাজেই তারা শ্রদ্ধার পাত্রী। আজকের নারী দিবসে পৃথিবীর সকল মা – বোনকে জানাই অন্তরের গভীর থেকে শত সম্মান ও সালাম।

ফেসবুক-লাইভে তরুণীদের নোংরামোঃ সস্তা জনপ্রিয়তা নাকি বেহায়াপনা?

Now Reading
ফেসবুক-লাইভে তরুণীদের নোংরামোঃ সস্তা জনপ্রিয়তা নাকি বেহায়াপনা?

ফেসবুক ছাড়া জীবন অচল, এমনটাই বর্তমানে আমাদের অবস্থা। ফেসবুক ছাড়া আমরা এক মুহুর্তও চলতে পারিনা। বর্তমানে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সহজলভ্য হয়ে যাবার কারণে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফেসবুকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। মেসেঞ্জারে ইন্সট্যান্ট চ্যাট, ফেসবুক কল ( অডিও-ভিডিও), ভিডিও আপলোড – সব কিছু মিলিয়ে ফেসবুক সারা বিশ্বকে করছে নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে হালের জনপ্রিয় তারকারা সবাই কমবেশি এতে আসক্ত।

আজকের এই লেখা মূলত ফেসবুক কেন্দ্রিক নয়, ফেসবুকের নতুন একটি সিস্টেম নিয়ে; আর তা হল “ফেসবুক লাইভ”

সবকিছুরই একটা ভালো এবং মন্দ দিক রয়েছে। তবে মানুষ বোধহয় মন্দ আর নিষিদ্ধের প্রতিই আকর্ষিত হয় বেশি। ঠিক তেমনি, এই ফেসবুক লাইভ কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে উচ্ছৃংখল নারীদের একটি গ্রুপ যারা কিনা অর্ধনগ্ন হয়ে লাইভে আসছে; লাইভে এসে নোংরা কথাবার্তা দিয়ে যুবক সম্প্রদায়কে উসকে দিচ্ছে ; সর্বোপরি যৌনতাকে উসকে দিচ্ছে।

অথচ কিছুদিন আগেও ফেসবুক এমন ছিলো না; হ্যাঁ অনেকেই সস্তা জনপ্রিয়তা পাবার উদ্দেশ্যে খোলামেলা ছবি দিয়ে আলোচনায় আসতে চেয়েছিল, কিন্তু সেগুলো যতটানা প্রভাব ফেলেছিল, এই লাইভ সুবিধা পেয়ে তা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। ফেসবুকের নিউজ ফিড হয়ে পড়েছে দূষিত।

বাংলাদেশের একটি বড় অংশ নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করছে যারা কিনা কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী। এদের বয়স মিনিমাম ১৩ থেকে ২৩ এর কোঠায়। এই সকল নোংরা ফেসবুক লাইভ মূলত এই বয়সী মানুষকে উদ্দেশ্য করেই করা হচ্ছে। খোলামেলা পোশাকে নিজের শরীর দেখিয়ে, নোংরা কথা, অশ্রাব্য ভাষার গান ইত্যাদির মাধ্যমে তারা নিজেদের অসভ্যপনা কে তুলে ধরছে।

এই সকল নারীরা শুধুমাত্র ফেসবুকের সস্তা জনপ্রিয়তা, লাইক, কমেন্টসের ভীড়েই সীমাবদ্ধ নয়। কিছু কুলাঙ্গার ইউটিউবার আবার এদেরকে হাইলাইট করছে ইন্টারভিউ নেবার নাম করে, হয় নিজেদের সস্তা জনপ্রিয়তা বাড়াতে, নয়তো সেই নারীই আসছে ইউটিউব চ্যানেলকে টাকা দিয়ে নিজেকে আরো বেশি জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে। সেইসব ইন্টারভিউতে চলে নানা প্রকার নোংরা প্রশ্নোত্তর। আমি নিজেই এই আর্টিকেল লেখার উদ্দেশ্যে দেখতে গিয়ে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারিনি। সেখানকার কমেন্ট গুলো পড়ে যা বুঝলাম, সবাই না, একটা নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষের কাছে এগুলো খুব বেশি জনপ্রিয়। সেইসকল মানুষ এগুলো গোগ্রাসে গিলছে, লাইক দিচ্ছে, শেয়ার করছে ফেসবুকে। ফলে ধীরে ধীরে ভিডিও গুলো ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে এবং আপনি না চাইলেও যেকোন ভাবে আপনার ফেসবুক নিউজ ফিডে এসে যাচ্ছে। অনেকেই কৌতুহল দমাতে না পেরে দেখছেনও।

আমি চাইনা, আমার এই লেখা পড়ে নতুন কেউ তাদের প্রতি আকৃষ্ট হোক; তাই আমি নির্দিষ্ট করে নাম বলতে চাচ্ছি না। কিন্তু আমি নতুন করে নাম বলার কে? আমি খুব ভালো করেই জানি, যারা এই লেখাটি পড়ছেন, তারা অনেকেই হয়তো আমার চাইতেও ভালো জানেন, কেউ আবার একটু হলেও জানেন।

বিগত দুই-এক বছর ধরে নোংরামীতে চ্যাম্পিয়ন যে কিনা বাংলাদেশের সানী লিয়ন বলে দাবী করেছিল, কয়েক মাস আগে তার আত্নহত্যার খবর জানলাম। কারণ হিসেবে পত্র-পত্রিকার নিউজে উঠে এসেছিল, বিবাহিত সেই মেয়ে অনেক চেষ্টার পরেও যখন মিডিয়াতে কোনভাবে সুবিধা করে উঠতে পারছিল না, ঠিক তখনই সে নিজেকে ফেসবুকে এভাবে অর্ধনগ্ন করে ছবি আপলোড করছিল; কিছু মানুষ আবার তাতে হুমড়ী খেয়েও পড়ছিল; শেয়ার আর লাইকের বন্যায় সে ভেসে যাচ্ছিল; অনেক ফেসবুক পেজ নিজেদেরকে জাহির করতে তাকে নিয়ে ট্রল করছিল। কথা শেষমেষ একটাই কিন্তুঃ “তিনি একজন ফেসবুক সেলিব্রেটি”; ঠিক হাসবো না কাদঁবো বুঝে উঠতে পারছি না।

এই সেলিব্রেটির শেষটা অবশ্য দুঃখের, সে আত্নহত্যা করে। এই আত্নহত্যা দিয়ে কি হল? সে কিন্তু চাইলে এসব বাদ দিয়ে স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে বসবাস করতে পারতো, কিন্তু পারিবারিক ঝামেলা আর মানসিক বিষণ্ণতা তাকে নিয়ে গেছে মৃত্যুর দুয়ারে।

আমি সামগ্রিকভাবে এই আত্নহত্যা করা মডেলের দোষ না দিয়েই বলতে চাচ্ছি, তার শুরু করার পর থেকে তাকে দেখে অনেকেই এই সস্তা জনপ্রিয়তা পাবার আশায় তাকেই অনুকরণ করছে।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে বা তাদের মুখেই জানা গেছে, এসবের ফলে তারা অনেকেই পরিবার থেকে বিতাড়িত। অনেকেই পশ্চিমা স্টাইলে বয়ফ্রেন্ডের সাথে লিভ টুগেদার করছে। আমার কথা হলো, আচরণেই নাকি বংশের পরিচয়; তাহলে এইসব মেয়েরা কি পরিবার থেকে কোনো শিক্ষা পায়নি? নাকি ফেসবুকের সেলিব্রেটি হবার নেশাই এদেরকে এতদূর আনতে বাধ্য করেছে? কি এর উত্তর?

এসব লাইভের কমেন্টে ছোড়া হয় যাবতীয় নোংরা প্রশ্ন, নির্লজ্জের মত এসব নারীরা আবার সেইসকল প্রশ্নের উত্তরও দিয়ে যায়। বেহায়াপনার কোন সীমারেখা এদের কাছে নাই; কি বলবো, বেহায়াপনার সীমা নিয়েও এখন আমাদের ভাবতে হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে, একজন মোটাসোটা মেয়েকে প্রায়ই দেখা যায় লাইভে। কে আশা করি বুঝতে পেরেছেন। সে মোটা নাকি চিকন এই নিয়ে আমার মাথাব্যথা নয়। কথা হলো, মানুষ তাকে আদর করে ( নাকি ব্যঙ্গ করে জানিনা ) নাম দিয়েছে হাতিপু বা তার মোটাসোটা শরীরের কারণে হাতি-আপু। অবাক লাগে, সে এই নামেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে!! কোন প্রতিবাদ নেই তার! লজ্জা ! লজ্জা!

এমন অনেক আপু ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এখন আমাদের চারপাশে। এগুলো ভার্চুয়াল বা সামাজিক মাধ্যমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না এখন আর। আমাদের বাস্তবিক জীবনে এর কঠিন প্রভাব পড়তে দেখা যাচ্ছে। মেডিক্যাল সায়েন্সের ভাষায় কিংবা একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষও বুঝতে পারছেন যে এরা এক একটা মানসিক রোগীর পর্যায়ে চলে গেছে; ফেসবুকই এদের ধ্যান-জ্ঞান বর্তমানে। এরা কেউই সুস্থ জীবনযাপন করছে না বর্তমানে। অনেকেই আবার নেশাগ্রস্ত হয়েও লাইভে আসে।

আমার আগের লেখা ছিল নাইট ক্লাব আর ডিসকো বার নিয়ে যেখানে অবাধে মাদক ব্যবসা চলছে। সেখানে আমি প্রশাসন কেন নীরব বলে উল্লেখ করেছিলাম; হ্যাঁ শুধু প্রশাসনের দোষ দিলেই হবেনা, কিন্তু প্রশাসনও নীরব ভূমিকা পালন করলে তাতে প্রশ্ন উঠবেই। ফেসবুক লাইভের ক্ষেত্রে বিটিআরসির সঠিক উদ্যোগ হতে পারে এর থেকে রেহাই পাবার উপায়। তারা ইচ্ছে করলেই সেইসব আইডি ডিজেবল করে দিতে পারে !! ফলে অন্যরাও এইসব নোংরামো করার আগে ভাববে। আর এই নোংরা নারীদের দোষ দিয়েও শুধু লাভ নেই; আমরা যারা এর ভিউয়ার্স, তারা কি করছি ? তারা এগুলোকে প্রমোট করছি; ফলে ভাইরাল হয়ে যেতে সময় লাগছে না। আমি এখানে ঐসব নারীদের নাম উল্লেখ করে দিলে আপনারা এখনই গুগলে কিংবা ফেসবুকে সার্চ লাগাবেন; নাহ! আমি এটা চাইনা। আমি চাচ্ছি যুবসমাজের ভেতরে , আমাদের সকলের মাঝে এর বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরী করতে। আমরা যদি এইসকল লাইভ দেখা বাদ দিই, এদেরকে প্রোমোট করার সুযোগ না দিই, তাহলে ওরাও এত সাহস পাবেনা বরং আগ্রহ হারিয়ে এসব করা বন্ধ করে দিবে।

এইসকল ভুয়া সেলিব্রেটিদেরকে বলছি, আপনারা দয়া করে এসব বন্ধ করে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন। পড়ালেখা করুন বা সংসার ধর্ম করুন; দেশের উন্নতি করা যায় এমন কিছু করুন। আমরা বাংলাদেশের মানুষ ফেসবুকে এমন নোংরা নিউজফিড দেখতে চাইনা।

আমরা ফেসবুকিং করবো, নিজেদের প্রয়োজনে! বন্ধু বিদেশে থাকলে সহজে একটা কল দিতে পারি, যারা বিদেশে আছে তারা দেশের মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারে সহজে; লাইভের কথা বলবো? মনে করুন, আপনি মহাস্থানগড়ে ঘুরতে গেলেন, সেখান থেকে আপনি লাইভে আসতে পারেন। বন্ধুদের নতুন কিছু জানালেন। নতুন একটা রেসিপি পেয়েছেন? রান্না করবেন? লাইভে এসে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। কিংবা বিজ্ঞানভিত্তিক অনেক কিছুই শেয়ার করা সম্ভব ; সর্বোপরি ইতিবাচক দিকের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে।

আমাদেরকে অবশ্যই শিক্ষামূলক দিকগুলো বের করতে হবে প্রতিটা বিষয়ের। তাহলেই আমরা প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করতে পারবো।