2
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

আমি পতিতা বলছি । শেষ পর্ব

Now Reading
আমি পতিতা বলছি । শেষ পর্ব

প্রথম পর্বের পর

মেজাজটা খারাপ হয়েছে আমার আগে আসবে বলে আমাকে ১ ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখেছে । ১ ঘণ্টা পর হাঁপাতে হাঁপাতে আসে আমার সামনে । মেজাজটা এতো খারাপ হচ্ছিলো যে , ইচ্ছে করছিলো কষিয়ে একটা থাপ্পড় মারি , কিন্তু না আমি থাপ্পড় তো মারলাম না উল্টো রাসেল কে দেখে কেঁদে দিলাম । যাই হোক আমাকে শান্ত করে রিকশা করে একটা বাসায় নিয়ে গেলো ।

রাসেল আমি যদি আজ হারিয়ে যেতাম । আমার অনেক ভয় করছিলো । ঢাকায় এতো মানুষ !
হা হা হা কি যে বলো না , রাস্তায় এতো জ্যাম ছিল যা বলার বাহিরে । তাই দেরি হয়েছে । আচ্ছা এই সব কথা বাদ দাও তো । যাও হাত মুখ ধুয়ে খাবার খেয়ে নাও । আমি তোমার জন্য হোটেল থেকে খাবার এনে রেখেছি ।

আমি আর কোনো কথা না বলে হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে নিলাম । আমি যেই রুমে আছি সেখানে একা আমি একটা মেয়ে না , আমার সাথে অনেক মেয়ে আছে । আর তাদের দেখতে অনেক অদ্ভুত লাগছে । কি রকম ভাবে যেন সেজে আছে । আমি রাসেল কে বললাম ওরা করা ? আর আমার কাজ কি ?
রাসেল বলল ওরা ও নাকি কাজের জন্য ঢাকায় আসছে । আর আমাকে কাল বা পরশু জয়েন করবে ।
আমি আর কোনো কথা বললাম না । আমাকে খাওয়ানো শেষ হলে রাসেল চলে গেলো । আমি একা একটা রুমে শুয়ে পড়লাম । পরের দিন সন্ধ্যায় একটা লোক কে নিয়ে আসলো রাসেল । আমাকে দেখিয়ে কি যেন বলে চলে গেলো লোকটি । আমি রাসেল কে বললাম

রাসেল এই লোকটি কে ?
তুমি যেখানে কাজ করবে তার বস উনি । তোমাকে দেখতে এসেছে । কাল সন্ধ্যা থেকে তোমার কাজ শুরু ।
কাল সন্ধ্যা ? কাল সন্ধ্যা কেন । মানুষ তো দিনে কাজ করে আমি রাতে কেন করবো ?
আসলে এইটা একটা বিদেশী কোম্পানি তো তাই ।

আমি আর কোনো কথা না বলে খেয়ে গতকালের মতো আজকেও শুয়ে পড়লাম । কাল সন্ধ্যায় রাসেলের সাথে যেই লোকটি এসেছে সে আসলো আমার রুমে । আমি খাটের এক পাশে বসে আছি । উনি ঢুকে রুমের দরজা বন্ধ করে দিলো । আমি সাথে সাথে বলে উঠলাম , আপনি কি করছেন দরজা বন্ধ করেছেন কেন ? উনি জবাব না দিয়ে আমার সামনে এসে বসে আমার গায়ে হাত দিচ্ছিল । আমি সাথে সাথে দৌড়ে ঘরের এক কোনায় চলে গেলাম । উনি বলে উঠলো দৌড়িয়ে লাভ নেই । আমার কাছে তোমাকে ধরা দিতে হবে । রাসেল হেব্বি একটা মাল রেডি করেছে আমার জন্য ।

দেখেন আপনি ভুল করছেন । আমি কাজ করতে এসেছি । গ্রামে আমার বাবা । খুব অসহায় । আমার কোনো ক্ষতি করবেন না । আমাকে যেতে দিন । রাসেল কোথায় । এই বলে আমি চিৎকার চেঁচামেচি করা শুরু করলাম ।
উনি বলে উঠলো রাসেল তোমাকে আমার কাছে আজ রাতের জন্য বেঁচে দিয়েছে । এখন তুমি আমার । এই কথা বলে হিংস্র ক্ষুধার্ত বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো । আমি কত না চিৎকার করছি । উনাকে আমি বাবা বলেও ডাকছি নিজের ইজ্জত টুকু বাঁচানোর জন্য ।কিন্তু না কোনো কিছু তে কাজ হচ্ছে না । আমার কান্নায় সেদিন সেই রুমের বাতাস পর্যন্ত কেঁদে ছিল । কিন্তু ওই নর পিচাশের মন একবার কেঁদে উঠেন । সেদিন থেকে আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গিয়েছে । সারা রাত চলে আমার উপর অমানবিক নির্যাতন । ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে আমাকে উলঙ্গ রেখে আমার দেখার উপর ২ হাজার টাকা রেখে উঠে চলে যায় ।
আচ্ছা পাঠক আপনাদের কাছে একটা প্রশ্ন আমার ইজ্জত কি ২ হাজার টাকা ? আপনার মা বোনের ইজ্জত কি ২ হাজার টাকা ?
কিছুক্ষণ পর রাসেল আসে আমার রুমে । কি আমার ভালোবাসা ! আহা আমাকে উলঙ্গ দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি আমার ভালোবাসা । আমার এই নির্যাতিত দেখার উপর চলে আরেক দফা নির্যাতন । বিশ্বাস করেন এইবার আমি চিৎকার করেনি । আমি নড়াচড়াও করেনি । শুধু কান্না করেছি , নীরব কান্না । আমাকে এমন একটা ঘরে রাখা হয়েছিল আশে পাশে কি ঘটছে বলাও যায়না ।

তারপর থেকে আমাকে আর জোর করতে হয়নি , আমি নিজে স্বেচ্ছায় গিয়েছি তাদের সাথে । আর যেটাকে কামাই করেছি তা দিয়ে আমি এতিমদের খাইয়েছি । সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত নিজের বাবাকে একটা টাকাও পাঠায়নি । কিভাবে পাঠাবো ? নিজের দেহ বেচা টাকা কিভাবে নিজের বাবাকে খাওয়াই ।

আর রাসেল এর অবস্থা হলো . রাসেল দুই বছর পর একটি মেয়েকে বিয়ে করে । কিন্তু তাদের কোনো বাচ্চা হচ্ছিলো না । অনেক চেষ্টার পর একটা বাচ্চা হলো , তাও মেয়ে ! কিন্তু মেয়েটি সর্ব অঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী । না কথা বলতে পারে না ভালো ভাবে হাঁটতে পারে । রাসেল কোনো দিন তার সন্তানের মুখে বাবা ডাক শুনেনি । আমি যেখানে আজ দেহ ব্যবসা করি এখানে অনেক মেয়ের আশা হয়েছে তার হাত ধরে । আজ রাসেল ভালো হয়ে গিয়েছে . কিন্তু আমার মতো অনেক মেয়ের কান্নার আর্তনাদ মিশে আছে তার আশে পাশে ।

আজ আমি আপনাদের ভদ্র সমাজে পতিতা । কিন্তু আপনারা ?

আমি পতিতা বলছি । পর্ব ১ম

Now Reading
আমি পতিতা বলছি । পর্ব ১ম

একদিন একটা আননোন নাম্বার থেকে আমার নাম্বার এ কল আসে । গল্পটা আমাদের এভাবেই শুরু । আমার নাম নীলা । বাবা কৃষক , যার কারণে বেশিদূর আমার লেখা পড়া আলোর মুখ দেখেনি । মা মারা গিয়েছে ছোট বেলায় । বড় হয়েছি নানুর কাছে । বাবার সাথেই নানুর বাসা ছিল । নানু বুড়ো হয়ে যাবার কারণে আমার দিকে তেমন খেয়াল রাখতে পারতো না । আর আমাদের পরিবারকে যদি বলতে চাই এক কথায় , তাহলে বলবো আমরা দিন আনি দিন খাই । অনেক সময় চুলায় আগুন জ্বলে না । পাঠক নিশ্চয়ই আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগছে আমি কেন এই সব কথা বলছি ? কারণ আমার পতিতা হয়ে উঠার পিছনে অনেকটা আমার পরিবারের দায় ছিল । যাই হোক মূল গল্পে ফিরে আসি ।

আমি মোবাইল আননোন নাম্বার খুব কম ধরি । কিন্তু কি বুঝে যেন সেদিন ধরলাম । অপর প্রান্ত থেকে একজন বলল আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি । আমি এই কথা শোনার পর কিছু না বলেই লাইন কেটে দেই । ভয়ে তখন বুক ধরফর করছিলো । এই প্রথম কেউ আমাকে এই সব কথা বলল । কিছুক্ষণ পর আবার কল আসে সেই নাম্বার থেকে । আমি কল ধরিনি ।

২ মাস পর আবার কল আসে সেই নাম্বার থেকে । আমি প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম তখন কার কথা । কল ধরার সাথে সাথে বলে আমাকে মাফ করে দিন । আমি অবাক হয়ে বলি কে আপনি ?
কিছু দিন আগে আপনার নাম্বারে আমার বন্ধু ভুল করে কল দিয়ে i love you বলেছে । আসলে ও একটু দুষ্ট ধরণের । আমি ওর পক্ষ আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি ।
এভাবে আমাদের কথা শুরু হয় ।
প্রথম দিকে কিছু দিন পর পর আমাকে কল দিয়ে কথা বলতো । তার পর কল আসাটা অনেকটা নিয়মিত হয়ে পড়েছে । আমি ও উনাকে ভালো লাগা শুরু হয়েছে । উনি কিভাবে যেন কথা বলতেন । একদম মায়ায় জড়ানো কথা । আমি হারিয়ে যেতাম তার কথায় ।

এক সময় আমাদের পরিচয় ভালোবাসায় পরিণত হয় । উনার পরিচয়টা দেয়া যাক । উনার নাম রাসেল । ঢাকায় অনেক বড় একটা কোম্পানিতে পিয়ন হিসেবে কাজ করে । শুনেছি ভালো বেতন পান । বাবা নেই , মা কে নিয়ে থাকে । একটা বোন ছিল বিয়ে হয়েছে ৪ বছর । উনার মা মেয়ে দেখছেন তার জন্য । কিন্তু উনি চান একটা গ্রামের মেয়ে বিয়ে করবে , যাতে করে উনার মা কে দেখে শুনে রাখতে পারে । খুব ভালো মানুষ । মেয়েদের অনেক সম্মান দিয়ে কথা বলে । এমন কোনো সময় ছিল না উনি কল ধরে আমাকে সালাম দেননি ।

একদিন আমি তাকে বলি , আমার পরিবার তো অনেক গরিব তোমার মা কি আমাকে মেনে নিবে ? আমি তো দেখতেও সুন্দর না , আমাদের টাকা পয়সাও নেই । মাঝে মাঝে মনে হয় আমাকে কি তুমি সত্যি ভালোবাসো ?

অরে দূর পাগলী ভালোবাসা কি চেহারা দিয়ে হয় নাকি । ভালোবাসা মনের বেপার । তোমার সাথে আমার মনের অনেক মিল । যার সাথে যার মনের মিল তার সাথেই তো বাসা বাধা যায় । আর টাকা পয়সা কয়দিন , ভালোবাসা চিরদিন ।

আসলে এর আগে আমি কোনো ছেলের সাথে মেশা হয়ে উঠেনি । ছেলে মানুষ মনে হয় অনেক ভালো হয় তাই না ? অভাবের সংসার নিজে যদি কিছুটা সাহায্য করতে পারি পরিবার কে তাহলে অনেক ভালো হয় । এইভাবে রাসেল কে বলি আমি তো তেমন লেখা পড়া করিনি , কোনো রকম ক্লাস ৪ পাশ করেছি । এর আগে আমি কখনো ঢাকায় আসিনি । আমি চাচ্ছিলাম ঢাকায় এসে একটা কাজ করতে । প্রথম দিকে উনি অনেক রাগ করেছে এই কথা শুনে । ভয়ে উনাকে আর কখনো বলিনি আমি কাজ করতে চাই । মাস খানিক যেতে না যেতে উনি আমাকে বলল , তুমি কিছু দিন আগে বলেছিলে একটা কাজের জন্য । আমি অনেক ভেবে দেখলাম আসলে তুমি যদি কাজ করো তাহলে একদিকে তোমার পরিবার ভালো চলবে আরেক দিকে তুমি বাস্তবতাকে চিনবে । আর তাছাড়া এখন পর্যন্ত তোমাকে ছবিতে ছাড়া সামনা সামনি দেখাও হয়নি । এই উসিলায় তোমার সাথে দেখাও হবে আমার । আমি শুনে খুব খুশি হলাম । আমি আমার ভালোবাসার মানুষের সাথে দেখা করতে পারবো আর কিছু ইনকাম করে পরিবার কে দিতে পারবো । এদিক সেদিক না ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম আমি ঢাকায় যাবো ।

ব্যাগ গুছিয়ে বাবার চোখের পানি উপেক্ষা করে নতুন জীবনের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম ঢাকা । যাওয়ার সময় শুধু গাড়িভাড়া নিয়ে গিয়েছিলাম । কাৰণ রাসেল বলেছে আমার জন্য বাস স্ট্যান্ডে অপেক্ষা করবে । ভয় ও লাগছিলো আরেক দিকে আনন্দ লাগছিলো এখন থেকে আমার বাবা কষ্ট কিছুটা হলেও কমবে । কিন্তু আমি এখনো জানিনা ঢাকায় কি কাজ করবো । রাসেল বলেছে আমার জন্য নাকি অনেক ভালো একটা কাজ জোগাড় করে রেখেছে । গাড়িতে উঠে ঘুমিয়ে গিয়েছি , স্বপ্নে দেখলাম রাসেল কে নিয়ে খুব সুখে আছি , আমাদের ঘরে খুব সুন্দর একটা মেয়ে হয়েছে । কখন যে ঢাকায় আসলাম টের পেলাম না ।

বাস স্ট্যান্ড এ নেমে মেজাজটা এতো খারাপ হলো । কারণ …….

 

চলবে ।

সালমান শাহ – একজন কালজয়ী নায়ক

Now Reading
সালমান শাহ – একজন কালজয়ী নায়ক

ভালবাসার আরেক নাম সালমান শাহ । এখনো অনেক তরুণীর রাজপুত্র সালমান শাহ ।

তিনি তার অভিনয় এর দক্ষতা ও স্টাইল দিয়ে জয় করে নেন সবার হৃদয় । তার চলচিত্র জীবন বেশি দিনের নয় । মাত্র ৪ বছর চলচিত্র জীবনে জয় করেন সবার হৃদয় । এরি মাঝে প্রশংসিত হয় দেশ ও দেশের বাহিরের মিডিয়ার কাছে । এই ৪ বছর চলচিত্র ক্যারিয়ারে তিনি আমাদের উপহার দেন ২৭ ছবি । যার মধ্যে ১৪ টি ছবি জুটি বেঁধে করেন শাবনূর এর সাথে । তার প্রথম ছবি কেয়ামত থেকে কেয়ামত দিয়ে শুরু করে জীবনের শেষ ছবি পর্যন্ত সকল ছবি ব্যবসা সফল ।

সালমান শাহ

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন এই কালজয়ী নায়ক । তার সম্পুন নাম শাহারিয়ার চৌধুরী ইমন । চলচিত্রে তিনি সালমান শাহ নামে বেশ জনপ্রিয় । তার মা নীলা চৌধুরী । নীলা চৌধুরী তার সন্তানকে অনেক বেশি ভালবাসতেন । তার শিক্ষা জীবন শুরু হয় খুলনার বয়রা মডেল হাইস্কুল থেকে । ১৯৮৭ সালে তিনি ঢাকার ধানমন্ডি আরব মিশন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে তিনি ভর্তি হন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ।পরবর্তীতে তিনি বিকম পাস করে লেখা পড়ার ইতি টানেন ।

অভিনয় শুরু

প্রথম জীবনে তিনি নাটকের মাধ্যে আত্মপ্রকাশ করেন নিজেকে । ১৯৮৫ সালে তার অভিনিত প্রথম নাটক আকাশ ছোঁয়া দিয়ে যাত্রা শুরু করেন । এর পর তিনি আরও কিছু নাটক ও বিজ্ঞাপনে কাজ করেন । সোহানুর রহমান সোহান এর কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির মাধ্যে নিজেকে আত্মপ্রকাশক করেন বড় পর্দায় । এই ছবির প্রথম দিন তার সাথে মৌসুমি ও আগুনের অভিষেক হয় । তিনি তার প্রথম ছবিতে অভিনয় দিয়ে মন জয় করে নেন দর্শক এর । এর সাথে ব্যবসা সফল হয় কেয়ামত থেকে কেয়ামত । চারিদিকে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে । একের পর এক ব্যবসা সফল ছবি উপহার দিতে থাকেন । তার মধ্যে অন্তরে অন্তরে , দেনমোহর , স্বপ্নের ঠিকানা , সুজন সখি , স্বপ্নের পৃথিবী সহ ২১ টি ছবি । তাকে নিয়ে পরিচালক দের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় ।

কেয়ামত থেকে কেয়ামত

সালমান শাহ এর প্রথম ছবি কেয়ামত থেকে কেয়ামত । ১৯৯২ সালে সোহানুর রহমান সোহান এর কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবিটি মক্তি পায় । মুক্তি পাবার সাথে সাথে আলোড়ন সৃষ্টি করে সবার মাঝে । এমনকি আজ ২০১৭ সালে দাড়িয়ে এখন পর্যন্ত ছবিটি তার আগের গৌরব নিয়ে চলছে । ছবিটি মূলত আমির খান ও জুহি চাওলা জুটির সুপারহিট ছবির কপিরাইট নিয়ে তৈরি করা হয় । কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবিতে অভিনয় করেন মৌসুমি । তার ও এটি ছিল প্রথম ছবি ।বাংলা চিত্রনাট্য লিখেছেন সোহানুর রহমান সোহান ও সংলাপ লিখেছেন অশীষ কুমার লোহ ।চলচ্চিত্রটির প্রযোজক সুকুমার রঞ্জন ঘোষ এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেড ।

সালমান শাহর মৃত্যু

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ মারা যান । প্রথমে দিকে ধারনা করা হত তার মৃত্যুর জন্য তার বাবা দায়ী । প্রথম দিকে তার বাবা একটি নিহত অজ্ঞাত নামা মামলা করেন । কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে ২৪ জুলাই তার বাবা তাকে হত্যা করে এই ভিত্তিতে থানায় একটি মামলা হয় । এই অভিযোগে সিএমএম আদালত অপমৃত্যু এর সাথে হত্যা মামলার অভিযোগ তদন্ত করে মামলা জমা দিতে সিআইডি আদেশ দেয়া হয় । মামলা তদন্ত করে সিআইডি একই বছরের ৩ নভেম্বর অপমৃত্যু বলে মামলার তদন্ত জমা দেন দায়রা আদালতে । ২৫ নভেম্বর আদালত তদন্ত গ্রহন করলে তার বাবা তাতে অসন্তুষ্ট হয়ে রিভিশন আবেদন করেন ।
রিভিশন মামলায় উপর রায় দিয়ে দেন সিএমএম আদালত । ২০০৩ সালে ১৯ মে আবার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন । দীর্ঘ ১২ বছর মামলার তদন্ত চলার পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট মামলার রায় প্রকাশ হয় ।
রায়ে বলা হয় সালমান শাহ এর মৃত্যু ছিল অপমৃত্যু

পরবর্তীতে তার মা নীলা চৌধুরী রায়ের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করেন।যার ফলে মামলা আবার বিচার বিভাগের কাছে চলে যায় । এইবার মামলায় নতুন করে আসামী করা হয় প্রয়ত সালমান শাহ এর স্ত্রী কে । তার মা বলেন আমার ছেলের মৃত্যুর অন্য আমার ছেলের স্ত্রী দায়ী । কারন হিসেবে তিনি বলেন আমার ছেলে বেচে থাকা অবস্থায় তাদের মধ্যে কিছুটা ঝামেলা চলছিল। তাদের ঝামেলার মুল বিষয় ছিল তার স্ত্রীর পরকীয়া ছিল । তিনি বলেন তার ছেলেয় বউ এর পরিকীয়া ছিল এক প্রবাসীর সাথে । টাকার লোভে তার ছেলেকে মেরে ফেলেন । এই নিয়ে এখন কেউ মন্তব্য করছে না কারন মামলা এখন বিচারাধীন । কে অপরাধী তা বিজ্ঞ আদালত বের করবেন ।

মৃত্যুঞ্জয়ী সালমান শাহ

মরে গিয়েছেন অনেক আগে কিন্তু তিনি এখন বেচে আছেন আমাদের সবার মাঝে । আমাদের ভালবাসার মাঝে । আজ ও কানে ভেসে আছে তুমি আমার জান গো বন্ধু অন্তরের অন্তর । আসলেই সালমান শাহ তুমি আছো আমাদের অন্তরে । থাকবে চিরকাল ।

Page Sidebar