5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

মাঠে না থেকেও নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন নেইমার

Now Reading
মাঠে না থেকেও নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন নেইমার

মাঠে খেলার সময় নেইমার প্রায় সময় তার মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। আর এই কারনে তিনি অনেকবার বিভিন্ন শাস্তি এবং নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন।

কিন্তু এখন তিনি মাঠের বাহিরে আছেন। চোটের কারণে তিনি দলে নেই। তবে এবার মাঠে না খেলেও নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার।

প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) নেইমারকে ছাড়াই তৈরি করেছিল চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার সুযোগ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে তাদেরই মাঠে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল।
ফিরতি লেগে ২-১ হলেও শেষ আটে উঠে যেত পিএসজি। পার্ক ডি প্রিন্সেসে দলের খেলা দেখতে তাই গ্যালারিতে উপস্থিত হয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু মাঠে বসে দেখলেন শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতে পিএসজিকে বাদ করে দিয়েছে ম্যানইউ।
রেফারির ওই শেষ সময়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা বিতর্ক ছিল। তাই মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি নেইমার। গ্যালারির মধ্যেই তাকে চিৎকার চেঁচামেচি করতে দেখা যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তো রীতিমত গালাগালই করেন রেফারি আর ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাকে।
ইনস্টাগ্রামের পোস্টে নেইমার ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, ‘এটা আসলেই লজ্জাজনক! উয়েফা এমন চারজনকে নিয়োগ দিয়েছে, যারা স্লো মোশনে ভিআরের সিদ্ধান্ত কিভাবে নিতে হয় তার কিছুই জানে না। এটা কোনোভাবেই হ্যান্ডবল ছিল না। পেছনে আপনি কিভাবে হ্যান্ডবল দেন? আহ।’
এমন পোস্টে স্পষ্টতই উয়েফার আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন নেইমার। এতে সামনের মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে এক থেকে তিন ম্যাচ পর্যন্ত নিষিদ্ধ হতে পারেন তিনি। ২৭ মার্চ উয়েফার মিটিং আছে। সেখানেই হয়তো সিদ্ধান্ত হবে, নেইমারের জন্য কি শাস্তি অপেক্ষা করছে।

নেইমার একটি নষ্ট ছেলে

Now Reading
নেইমার একটি নষ্ট ছেলে

নেইমার বর্তমান বিশ্বের তারকা ফুটবলারদের মধ্যে একজন। পৃথিবী জুড়ে নেইমারের সমর্থকেরও অভাব নেই। কিন্তু এক সাবেক ব্রাজিল তারকা নেইমারকে বলেছেন ‘নষ্ট ছেলে’।

১৬ বছরের বিশ্বকাপ খরা ঘোচানোর জন্য গত বিশ্বকাপে গিয়েছিল ব্রাজিল। দলের মূল তারকা নেইমার ব্রাজিলকে আরেকটা বিশ্বকাপ এনে দেবেন, এ প্রত্যাশাই ছিল ব্রাজিলের শত-কোটি ভক্ত সমর্থকের। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিদায় নেয় নেইমারের ব্রাজিল।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ-ব্যর্থতার জন্য কম মানুষ নেইমারকে দোষ দেননি। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন নব্বই দশকের ব্রাজিল তারকা নেতো। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বাদ পড়ার জন্য নেইমারকে অভিযুক্ত করে নেতো বলেছেন, নেইমার একজন নষ্ট ছেলে!

নেইমারকে ফুটবলার হিসেবে মানতেই কষ্ট হচ্ছে নেতোর। ফুটবল খেলোয়াড় নন, নেইমার শুধুই একজন তারকা, এমনটাই ভাবছেন নেতো, ‘রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে মেসির খেলা দেখেছেন? সেভিয়ার বিপক্ষে ওর খেলা দেখেছেন? ৩৩ বছর বয়সে এসে রোনালদো জুভেন্টাসের হয়ে কি করছে দেখছেন? রোনালদো এখন ইতালিয়ান লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আর নেইমার? ও তো কোনো ফুটবলারই না। ও শুধুই একজন তারকা। ও একটা নষ্ট ছেলে। আবার ওকে আপনি কিছু বলতেও পারবেন না কেননা কিছু বলতে গেলেই ওর বাবা রেগে যাবে। ওর মুখের ওপর উচিত কথা বলার সাহস শুধু আমার আর ওয়াল্টার ক্যাসাগান্দ্রের (পোর্তোর হয়ে ইউরোপিয়ান কাপ ও তুরিনোর হয়ে উয়েফা কাপ জেতা সাবেক ব্রাজিল তারকা) আছে।’ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পেছনেও নেতো দায়ী করেছেন নেইমারকে, ‘আমরা শুধুমাত্র নেইমারের জন্যই বিশ্বকাপটা হারিয়েছি। কারণ ও দেশের হয়ে কিছুই করতে পারে না।’
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফ্রি-কিক বিশেষজ্ঞ মানা হয় নেতোকে। সব্যসাচী খেলোয়াড় ছিলেন তিনি, আক্রমণভাগের বেশ কয়েকটা জায়গায় খেলতে পারতেন। নব্বইয়ের দশকে ব্রাজিলের হয়ে ১৬ ম্যাচ খেলে ৭ গোল করেছেন। ব্রাজিলের ক্লাব করিন্থিয়ানসের কিংবদন্তি তিনি। রোমারিও, দুঙ্গা আর তাফারেলের মতো খেলোয়াড়দের সতীর্থ হয়ে ১৯৮৮ সালে সিউল অলিম্পিকে ব্রাজিলের হয়ে রুপা জিতেছিলেন নেতো।
ওদিকে নেইমার মনে করেন ব্রাজিল ব্যর্থ হলেই সমালোচনার তিরটা তাঁর দিকেই বেশি তাক করা হয়, ‘ব্রাজিল হারলে বলতে গেলে আমার ওপরেই সব দোষ চাপানো হয়। আমার মনে হয় আমাকে একটু বেশিই সমালোচনা সহ্য করতে হয় বাকিদের চেয়ে। অবশ্য আমি জানি এমনটাই হবে যে। ক্যারিয়ারজুড়ে তীব্র সমালোচনার তীর সহ্য করে এসেছি আমি, তাই না?’

বিশ্বকাপ জেতাই নিইমারের স্বপ্ন, ব্যালন ডি’অর নয়

Now Reading
বিশ্বকাপ জেতাই নিইমারের স্বপ্ন, ব্যালন ডি’অর নয়

প্রত্যেকটা ফুটবলারের স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপ জেতা। সকল ফুটবলারই এই স্বপ্নটা দেখে থাকেন। কিন্তু ব্যক্তিগত অর্জনের কথা বললে সবার আগে আসে ব্যালন ডি’অর জয়। ফুটবলের অন্যতম সর্বোচ্চ পুরস্কার হচ্ছে ব্যালন ডি’অর।

নেইমার অসাধারণ একজন ফুটবল খেলোয়াড় তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অসাধারণ খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বও ব্যক্তিগত পর্যায়ে ফুটবলের অন্যতম সর্বোচ্চ পুরস্কার ব্যালন ডি’অর এখনো পাননি পিএসজির ফরোয়ার্ড নেইমার। অসাধারণ খেলোয়াড় হয়ে উঠতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ফুটবলের অন্যতম সর্বোচ্চ পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ের কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না পিএসজির ফরোয়ার্ড নেইমার। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয়কেই পাখির চোখ করেছেন ব্রাজিলের এই তারকা।
এই মুহূর্তে পায়ের চোটে মাঠের বাইরে আছেন নেইমার। গত ২৩ জানুয়ারি ফরাসি কাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ডান পায়ের পাতায় আঘাত পেয়ে আড়াই মাসের জন্য ছিটকে যান বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই ফুটবলার। ব্রাজিলের এক টিভি অনুষ্ঠানে নিজের ক্যারিয়ার ও লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেন তিনি।
“আমি মনে করি না যে সাংবাদিকদের ভোটে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ার দরকার আপনার আছে। এমনকি প্রতিভাবান সব খেলোয়াড় ব্যালন ডি’অর জেতেনি। যদি এটা (ব্যালন ডি’অর জয়) না ঘটে তাতে আমার দুনিয়াও শেষ হবে না, আর আমি যা অর্জন করেছি তা মুছেও যাবে না।”
“এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার, যার স্বপ্ন সবাই দেখে। যাই হোক, আমার লক্ষ্য, যে কোনো কিছুর চেয়েই বেশি, আর তা হলো বিশ্বকাপ জয়। আমি প্রতিদিন সেই স্বপ্নই দেখি।”
ভবিষ্যতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
“রিয়াল বিশ্বের অন্যতম বড় ক্লাব। যে কোনো খেলোয়াড় যার ব্যাপারে রিয়াল আগ্রহী, সেখানে খেলার আকর্ষণ বোধ করবে। আজ, আমি প্যারিসে খুব খুশি – এখানে আমি খুব ভালো করছি। যাই হোক, ভবিষ্যতের কথা কেউই বলতে পারে না।”
নেইমার যদি রিয়ালে যোগ দেন তাহলে রিয়ালের শক্তি বেড়ে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

যে ৭টি কারণে বিশ্বকাপে ফেবারিট ব্রাজিল

Now Reading
যে ৭টি কারণে বিশ্বকাপে ফেবারিট ব্রাজিল

বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিল ফেবারিটের তালিকায় থাকবে না, সেটা কখনো সম্ভব নয় এবং এখনও পর্যন্ত ঘটেনি। ব্রাজিলের জনগণের রয়েছে ফুটবলের প্রতি মারাত্মক এক ভালবাসা, বলা হয় জন্মের পর থেকে ব্রাজিলের একটি বাচ্ছা খেলাধুলার অনুষঙ্গ হিসেবে প্রথমেই একটি বল পায় মা-বাবা থেকে। আগ্রহ ও আকর্ষণ এবং ফুটবলে ঈর্ষনীয় সাফল্য, বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে অন্যতম ফেবারিটের আসনে বসিয়ে দেয় ব্রাজিলকে। তবে এবার সত্যিকার অর্থেই ব্রাজিল রয়েছে ফেবারিটের তালিকায় শীর্ষ আসনটিতে। কয়েকটি দেশকে চাইলেও কোনভাবেই বিশ্বকাপের ফেবারিটের তালিকা থেকে বাদ দেয়া যায় না, আর তাদের মধ্যে অন্যতম ব্রাজিল। আর এবার কোচ তিতে যেভাবে দলটিকে তৈরি করেছেন, তাতে সর্বমহলের প্রশংসা পেয়েছেন। ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিততে না পারাটাই হবে এবার আশ্চর্যের।

চলুন জেনে নিই কেন তিতের এই ব্রাজিলকে এবার সবচেয়ে ফেবারিট ধরা হচ্ছে? এমন কি বিশেষ বৈশিষ্ট আছে এই দলটিতে? ব্রাজিলের শক্তির উৎসটাই বা কি? কিংবা অন্যদের সঙ্গে তাদের মূল পার্থক্য কোন কোন জায়গায়? এমন চমকপ্রদ সাতটি বিষয় জেনে গেলে যে কেউ ব্রাজিলকে ফেবারিট বলে দিতে পারেন নির্দ্বিধায়।

১. ব্রাজিলের স্তম্ব তার শক্তিশালী ডিফেন্সঃ কোচ তিতে তার ডিফেন্সকে বেশ শক্তিশালী রুপে গড়ে তোলার দিকেই প্রথম নজর দিয়েছিলেন। তিনি প্রথমেই দলের ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভার মধ্যে একপ্রকার হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হন। কেননা গত বিশ্বকাপে বিধ্বস্ত হওয়ার পর কোচ দুঙ্গা প্রথমেই থিয়াগো সিলভার কাছ থেকে ক্যাপ্টেনসি কেড়ে নিয়েছিলেন, আর তাতেই মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙ্গে পড়েন সিল্ভা। তিতের সাহসী উদ্যোগে থিয়াগো সিলভার নেতৃত্বে এখন সেন্টার হাফে মিরান্দা এবং মার্কুইনহোসকে নিয়ে পৃথিবীর সেরা এবং শক্তিশালী ডিফেন্স লাইন তৈরি করে ফেলেছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের এই ডিফেন্স ভাঙা যে কারও জন্য সত্যিই খুব কঠিন হবে। অন্যদিকে থিয়াগো-মিরান্দা এবং মার্কুইনহোসের সম্মুখভাগে তিতে রেখেছেন কাসেমিরো এবং পওলিনহোকে। এই দু’জন যেমন ভারসাম্য তৈরি করতে পারছেন, তেমনি রক্ষণভাগকেও দিচ্ছেন দারুণ এক নিরাপত্তা। প্রশ্ন জাগতে পারে সেটা আবার কেমন? ব্রাজিলের ম্যাচের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। কারণ, এই ডিফেন্স লাইনের বদৌলতে ব্রাজিল এখনও পর্যন্ত ১৯ ম্যাচে ৩৯টি গোল দিয়ে বিপরীতে মাত্র ৫টি গোল হজম করেছে।

২. বিশ্বসেরা গোলরক্ষকঃ ২০০২ বিশ্বকাপের পর আর কোন গোলরক্ষকই স্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। সম্ভবত রাশিয়া বিশ্বকাপে এই প্রথম একজন বিশ্বসেরা গোলরক্ষক নিজেকে জানান দিয়েছে সে কতটা সেরা। আর তিনি হচ্ছেন ব্রাজিলের অ্যালিসন। ইতালিয়ান ক্লাব রোমা এবং জাতীয় দল ব্রাজিলের হয়ে যে তিনি কতটা নির্ভরশীল গোলরক্ষক- সেটা ইতিমধ্যেই শক্তভাবে প্রমাণ দিয়েছেন। আর এ কারণেই, এখন থেকেই অ্যালিসনের উপর নজর ফেলেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। তাছাড়া এবারের ব্রাজিলের লাইনআপে অ্যালিসনের ব্যাকআপ হিসেবে রয়েছেন আরেক নির্ভরশীল গোলরক্ষক অ্যাডারসন। তাকেও ভাবা হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে।

৩. দলের প্রায় প্রতিটি খেলোয়াড়ই রয়েছেন ফর্মের তুঙ্গেঃ কোচ তিতে তার নিয়মিত লাইনআপ তৈরি করছেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা ফুটবলারদের সমন্বয়ে। আর ব্রাজিল ফুটবলাররাও ভাল করে জানেন, তারা যদি ভালো পারফরম্যান্স করতে পারেন, তবেই তিতের দলে পরের সুযোগটা পাবেন নয়তো নয়। পারফরম্যান্সে সামান্য ঘাটতি থাকলেই পড়ে যাবেন বাতিলের খাতায়। আর এই প্র্যাকটিসটা সম্ভবত শুরু হয়েছে এবার কেননা গত আট বছরের ইতিহাসে এমন উদাহরণ দেখা যায়নি ব্রাজিল দলে। কিন্তু এবার তা করতে পেরেছেন তিতে, দলের খেলোয়াড়দের বুঝাতে পেরেছেন খেলার ভেতরেই থাকতে হবে।

৪. নেইমার নির্ভরতা অবসানঃ নিঃসন্দেহে নেইমার ব্রাজিল তথা বিশ্বের সবচেয়ে বড় তারকা ফুটবলার। তবে বর্তমান ব্রাজিল দলটিতে নেইমারই একমাত্র বিশ্বসেরা ফুটবলার নন। দলটিতে তার সাথে আরও রয়েছেন বেশ কয়েকজন বিশ্বসেরা ফুটবলার। যেমন মার্চেলো, কৌতিনহো, উইলিয়ান, ডগলাস কস্তা, গ্যাব্রিয়েল জেসুসরা এখন নেইমারকে ছাড়াও জেতাতে পারেন দলকে।

৫. দলের ত্রাতা নাম্বার নাইনঃ ব্রাজিলের হাতে রয়েছে ত্রুপের তাস অর্থাৎ একজন বিশ্বসেরা সেন্টার ফরোয়ার্ড। গোলের সামনে যার ওপর আস্থা রাখতে পারেন তিতে থেকে শুরু করে গোটা ব্রাজিলই। ব্রাজিলের এই একটা সেন্টার ফরোয়ার্ডের অভাবেই গত কয়েকটি বছর বেশ ভুগতে হয়েছে। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সেন্টার ফরোর্ডের দায়িত্বে ছিলেন লুই ফ্যাবিয়ানো। ফ্যাবিয়ানো শক্তিশালী একজন ফুটবলার ছিলেন বটে কিন্তু সেরা ছিলেননা। এর পরের ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সেন্টার ফরোয়ার্ড ছিলেন ফ্রেড। যাকে ব্রাজিল সমর্থকরাই ভালভাবে মেনে নিতে পারেননি, শুনতে হয়েছিল ধুয়ো ধ্বনি। এর কারণ, পোস্টের সামনে সহজ বল পেয়েও জালে জড়াতে ব্যর্থ হতেন ফ্রেড। তবে সেই অভাব এখন আর নেই, তা কাটিয়ে দিয়েছেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। বয়সে তরুণ এই ফুটবলার ব্রাজিলের হয়ে ইতিমধ্যেই ১৫ ম্যাচে করেছেন ৯ গোল। তাকে ব্রাজিলের বিশ্বনন্দিত স্ট্রাইকার রোনালদোর উত্তরসুরি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৬. পুনর্জীবিত আত্মবিশ্বাসঃ দুঙ্গার কাছ থেকে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর তিতে ব্রাজিলকে যেভাবে গড়ে তুলেছেন সেটা সত্যিই বিস্ময়কর। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে না হেরে টানা সাফল্য, এবং সবার আগে ফেবারিট হয়ে বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করা এবং বাছাই পর্বের পর প্রায় প্রতিটি প্রীতি ম্যাচেই দারুণ সাফল্য ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে শতগুণে। সর্বশেষ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে নেইমারকে ছাড়া ১-০ গোলে জয় নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপের পূর্বেই ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস পুনর্জীবিত হয়েছে।

৭. বিতর্কহীন একজন কোচঃ ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শক্তিই হচ্ছে সম্পূর্ণ বিতর্কহীন একজন কোচ পাওয়া। তিতে তার পূর্বসূরী দুইজনের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রের এবং সদালাভি। দুঙ্গা এবং স্কলারির চেয়ে খেলোয়াড় এবং মিডিয়ার সঙ্গে তিতের সম্পর্ক বেশ বন্ধুর্থপূর্ণ। তিতের এই স্নেহ ভালবাসার কারণেই খেলোয়াড়রা সত্যি সত্যিই বিশ্বকাপের জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। ব্রাজিল দলের খেলোয়াড়রা আর কিছু না হোক, অন্তত কোচের সম্মান রক্ষার্থেই মাঠে তারা জান-প্রাণ উজাড় করে জয়ের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত।

 

সর্বাগ্রে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করে জায়ান্ট ব্রাজিলের চমক

Now Reading
সর্বাগ্রে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করে জায়ান্ট ব্রাজিলের চমক

রাশিয়া বিশ্বকাপে সর্বপ্রথম ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করলো পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার একমাত্র গৌরব অধিকারী ব্রাজিল। ফিফা অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশকেই তাদের দল ঘোষণার জন্য ৪ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে, কিন্তু তার পূর্বেই সর্বাগ্রে দল ঘোষণা ঘোষণা করল ফুটবল জায়ান্টরা। সোমবার রাতেই ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। নেইমারসহ এক ঝাঁক তারকা নিয়ে ব্রাজিলের শক্তিশালী আক্রমণভাগ সাজানো হয়েছে এবার।

হাঁটুর চোটের কারণে লেফটব্যাক দানি আলভেজ রাশিয়া বিশ্বকাপ মিস করছেন, তার পরিবর্তে দলে ঢুকেছেন করিন্থিয়ান্সের ফাগনার ও ম্যানচেস্টার সিটির দানিলো। আলভেজ না থাকলেও কোচ তিতে লেফট ব্যাকের পজিশনটি অবধারিতভাবে রেখেছেন রিয়াল মাদ্রিদের মার্সেলোর জন্য, আর একই পজিশনে রাইটব্যাকে খেলবেন আতলেতিকো মাদ্রিদের ফেলিপে লুইস। ব্রাজিল তার হেক্সা জয়ের মিশনে আক্রমণভাগে রাখছে নতুন চমক শাখতার দোনেৎস্কের তাইসনকে। মিডফিল্ডে ভরসা হয়ে থাকবেন কাসেমিরো, পাউলিনয়ো, কৌতিনয়োরা। ২৩ সদস্যের দলে আরো ডাক পেয়েছেন ইউক্রেনের ক্লাব শাখতারের মিডফিল্ডার ফ্রেদ। তাইসনকে দলে রাখা প্রসঙ্গে কোচ তিতের যুক্তি, ফিলিপে কৌতিনিয়ো সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে খেলতে পারেন আর তার জায়গা ছেড়ে দিতে পারেন উইলিয়ানকে। দলে একজন ‘পেসমেকার’ এর বিশেষ প্রয়োজন দেখছেন তিনি তাই এই সিদ্ধান্ত।

কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে বারবার উঠে এসেছে দলের সুপারস্টার নেইমারের ইনজুরির বিষয়টি। পায়ের এই ইনজুরির কারণে ফেব্রুয়ারি থেকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন নেইমার। ব্রাজিল ভক্তদের প্রত্যাশা সঠিক সময়েই ইনজুরি কাটিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন তারকা স্ট্রাইকার নেইমার।
রাশিয়া যাওয়ার পূর্বে লন্ডনের টটেনহাম হটস্পারে ট্রেনিং করবে তিতের শিষ্যরা। আর লিভারপুলের মাঠে ৩ জুন ক্রোয়েশিয়া ও ১০ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভিয়ানায় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল বিশ্বকাপ দলের হট স্টাররা।

রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপ আসরে ব্রাজিল গ্রুপ “ই” তে পড়েছে। ১৪ জুন শুরু হওয়া রাশিয়া বিশ্বকাপে আগামী ১৭ জুন সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে সেলেকাওদের। ‘ই’ গ্রুপে তাদের অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী কোস্টা রিকা ও সার্বিয়া।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ২৩ সদস্যের লাইনআপঃ
গোলকিপার : অ্যালিসন, এডারসন, কাসিও
ডিফেন্ডার : ফ্যাগনার, দানিলো, মার্সেলো, ফিলিপ লুইস, মারকুইনহোস, মিরান্ডা, থিয়াগো সিলভা, জেরোমেল।
মিডফিল্ডার : কাসেমিরো, ফার্নান্দিনহো, ফ্রেড, পাউলিনহো, ফিলিপ কুতিনহো, রেনাতো আউগুস্তো, উইলিয়ান।
ফরোয়ার্ড : নেইমার, তাইসন, ডগলাস কস্তা, রবার্টো ফিরমিনো, গ্যাব্রিয়েল জেসুস ।

Page Sidebar