কেমন চলছে ‘ফেসবুক’ বাংলাদেশে? (and its no good!)

Now Reading
কেমন চলছে ‘ফেসবুক’ বাংলাদেশে? (and its no good!)

ফেসবুক,বিজ্ঞানের এগিয়ে যাওয়ার পথচলায় প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে ইন্টারনেট জগতে।বর্তমানে আমাদের দেশের কয়েক কোটি মানুষ এই সাইটের সাথে জড়িত। যেখানে মাত্র কয়েক বছর আগেও এর সংখ্যা এক কোটিরও কম ছিল।আর এখন অনেক মোবাইল অপারেটর এ বিষয়কে মাথায় রেখে দিচ্ছে নানা অফার।হঠাৎ এই সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেকে যেমন বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে তেমনি এর নেতিবাচক ফলাফলও অসংখ্য।

এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে আইসিটির উন্নয়ন এর ফলে আজ কোনো কিছুই আমাদের অগোচরে নেই।সবার কাছে ইন্টারনেট পৌছে যাওয়া শুরু হয়েছে।আর এখন মানুষ ফেসবুক ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার প্রায় করে না বললেই চলে।সকলেরই ফেসবুকে একটা আইডি চাই।ছোট ছেলে-মেয়েরাও আজ খুব একটিভ এই সাইটে।তবে আমাকে যদি কেউ বলে ফেসবুক কি আসলেই এতো জরুরি?এতটাই প্রয়োজনীয়?

বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় আজ এখানে জুড়ে বসেছে সস্তা নোংরামি,বেহায়াপনা,ডিজিটাল ডাকাতিসহ নানান ধরনের সাইবার অপরাধ।যা শুধু দেশ না পুরো জাতির ইমেজ খারাপ করছে কখনো কখনো।

ফেসবুকের নেতিবাচক দিকগুলোর অন্যতম একটি হলো পর্নোগ্রাফি।হয়তো ভাবতে পারেন ফেসবুকে আবার এইসব কিভাবে সম্ভব?ওই যে প্রযুক্তি,তার কারণ এ আজ এটা সম্ভব।ফেসবুক লাইভকে কাজে লাগিয়ে আজ কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ ছড়াচ্ছে এইসব।অনেক পেজেই আজ এইসব ছড়ানো হচ্ছে।তবে এগুলো কোনোটিই বাংলাদেশি পেজ নয়।এখন আপনার মনে আসতে পারে,তাহলে আমরা এইসব থেকে মুক্ত।না,কারণ কিছু বিকৃত মানসিকতার মানুষ রয়েছে আমাদেরই মাঝে।বাংলাদেশি কয়েকটি গ্রুপে লাইভ পর্ন জাতীয় পোষ্ট দেখা গিয়েছে।আর এগুলো সবই কোনো না কোনো মেম্বার দ্বারা ওই গ্রুপে শেয়ার করা হয়েছে।আমি নিজেই এমন এক বিষয় লক্ষ্য করেছি একটি ফেসবুক গ্রুপে।বিশাল সংখ্যক মেম্বার নিয়ে গঠিত এইসব গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন।আর এটিকে পুঁজি করে এইসব ছড়ায় গুটিকয়েক অমানুষ।তাহলে বুঝতেই পারছেন কতটা খারাপের দিকে যাচ্ছে এই ফিচারটি।

এটিই শেষ নয়।সম্প্রতি এক ফেসবুক গ্রুপের এডমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে ‘ডিজিটাল চাঁদাবাজি’র।খাবারের রিভিউ বিষয়ক ওই গ্রুপটি ভোজন রসিকদের মাঝে বেশ পপুলার।সেই গ্রুপেরই এক এডমিনের উপর উঠেছে এমন অভিযোগ।তার বিরুদ্ধে কিছু ক্যাফে,রেস্তোরাঁ,হোটেলের ভালো রিভিউ পাইয়ে দেয়ার বদলে মাসে কয়েক হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠে।যদিও সে এইসব মিথ্যে দাবি করে থানায় জিডি করেছে।ধরুন ব্যাপারটি সত্যি হলে তা কতটা ভয়াবহ?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত এই সাইটে থাকে একে অপরের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ,থাকে অশ্লীলতাকে নিয়ে দিনরাত মজা-ঠাট্টা।চলে একে অপরের ক্ষতি করার লক্ষ্যে অপপ্রচার।চলে মানুষকে ধোকা দেয়ার মাধ্যমে কিছু নোংরা উদ্দেশ্য হাসিল করা(সচেতন অনেকেই দেখে থাকবেন নানান পেজের কমেন্ট বক্সে)।চলে লাইভে এসে নোংরামি করা,সস্তায় পাবলিসিটি পাবার আসায় নিম্নমানের কর্মকাণ্ড।চলে মাদকের দিকে ধাবিত করার নোংরা খেলা(কিছু ‘memes’ এর জন্য দায়ী)।চলে সেলেব্রিটিদের হেয় করার মতো বাজে খেলা,স্ক্যান্ডেল শব্দটিকে পুঁজি করে তাদের করা হয় হেনস্থা। এতেই শেষ করছি যদিও লিস্টটা এতো সহজে শেষ করার মতো না।

তবে একটা বিষয় না বললেই নয়।বেশি ফেসবুক নির্ভরতা ভালো নয় আমাদের জন্য।এর ইফেক্ট খুবই মারাত্মক হতে পারে ছোটদের জন্য।অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহারকারীরা একাকীত্বে ভোগে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।একইসাথে এটি অবসাদের কারণ হতে বলে তারা ধারনা করছেন।ফেসবুকের জন্মস্থান আমেরিকায় এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।তারা নিজেদের অঞ্চল ভিত্তিক নতুন সামাজিক মাধ্যমে যোগ দিতে বেশি পছন্দ করছেন নিজেদের সামাজিকতাকে বজায় রাখতে।

এতো খারাপের মাঝেও ফেসবুকের রয়েছে ইতিবাচক কিছু ব্যবহার।আর এই ব্যবহারগুলোই আমাদের করা উচিত নিজেদের এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য।

আজকাল প্রায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ফেসবুক লাইভের উৎকৃষ্ট ব্যবহার করছে। তারা ফেসবুক লাইভে এসে পড়ালেখার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে।যার ফলে আজ অনেকের টিউশনের প্রয়োজন হচ্ছে না।এতে বেশ লাভবান হচ্ছে শহরের বাইরের ছাত্র-ছাত্রীরা।কিছু প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে প্লাটফর্ম। যার সম্পর্কে অনেকেই ফেসবুকে সহজেই জানতে পারছে।’ফুটপ্রিন্ট’ ঠিক এমনই এক প্লাটফর্ম।

এছাড়াও আজ এই ইতিবাচক দিকে জায়গা করে নিয়েছে।যে কোনো দুর্যোগ এ এক হয়ে কাজ করছে অনেকে।শীতের সময় ফেসবুক ইভেন্ট এর মাধ্যমে চেষ্টা করা হয় অসহায়দের মাঝে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া।চলে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে রক্তের সন্ধান।চলে এক হয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে নিজেদের অবস্থানের জানান দেয়া।চলে মানুষের মাঝে মানবতাবোধ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা।ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে করা হয় প্রোমোশনাল,সাইন্স ফেয়ারসহ নানান ইভেন্ট।যার মূল লক্ষ্য থাকে দেশের সেবা,দেশের মানুষের সেবা,বিজ্ঞানের উন্নয়নসহ আরো নানান ইতিবাচক বিষয়।

এতো নেতিবাচক আর ইতিবাচকের মাঝে খারাপ বিষয়গুলোই আমাদের সামনে অনেক বেশি আসে।যার কারণে আমরা খারাপের প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়ি।ভুলে যাই নিজেদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য এর কথা।নেমে পড়ি ভার্চুয়াল লাইফে তথাকথিত ফেমাসের তকমা গায়ে লাগানোর প্রতিযোগিতায়।

সবখানে ভালো-মন্দ রয়েছে।আমরা সৃষ্টির সেরা।আর আমাদের কাজও তাই হওয়া প্রয়োজন অন্যদের থেকে আরো ভালো।আর তা না হলে কি পার্থক্য রয়ে যাবে আমাদের আর পশুদের মাঝে?মনুষ্যত্বকে হারিয়ে ফেলতে নয় বরং এর এটিকে আরো বেগবান করার জন্য ‘ফেসবুক’ নামক এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা উচিত বলে আমি মনে।ভুল মানুষই করে তাই আমাদের উচিত নিজেদেরকে শুধরে ফেসবুকের নেতিবাচক দিকগুলোকে এড়িয়ে চলে তার ইতিবাচক দিকগুলোর দিকে নজর দেয়া।