ঘুরে এলাম মিনি কক্সবাজার (মৈনট ঘাট )

Now Reading
ঘুরে এলাম মিনি কক্সবাজার (মৈনট ঘাট )

প্রথম বার যখন মিনি কক্সবাজার গিয়ে ছিলাম তখন মাঝিরকান্দা নেমে ছিলাম । ও আচ্ছা আগে আপনাদের বলেনি মিনি কক্সবাজার বলতে কি বুঝিয়েছি । মিনি কক্সবাজার হলো মৈনট ঘাট । পদ্মার পার । খুব সুন্দর একটি জায়গা । মূলত স্থানীয়রা একটা মিনি কক্সবাজার বলে । আর সেখান থেকে মিনি কক্সবাজারের নাম সবার মুখে । একে মিনি কক্সবাজার বলার কারণ হচ্ছে , এখানে কক্সবাজারের মতো ঢেউ আসে , কিন্তু কক্সবাজারের মতো এতো বড় ঢেউ না । ছোট ছোট ঢেউ , যা আপনাকে অনেকটা কক্সবাজারের ফিল এনে দিবে । এখন ঈদের মৌসুম চলছে । ইচ্ছে করলে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সেখান থেকে । তাছাড়া আপনি শীতকালে গিয়েও বেরিয়ে আসতে পারেন । আমি আপনাকে বর্ষা কালে যেতে মানা করবো , কারণ বর্ষা কালে এমনিতে সারাদিন বৃষ্টি থাকে । তাছাড়া বলা যায়না যদি কখন উত্তাল হয়ে পড়ে । প্রিয় পাঠক কথা না বাড়িয়ে এখন আপনাদের কে বলছি আপনি কিভাবে একদিনের মধ্যে কম খরচে ঘুরে আসতে পারেন এই মিনি কক্সবাজার ।

কিভাবে যাবেন : প্রথম বার যখন আমি গিয়েছিলাম তখন একটু ভুল করেছিলাম । অবশ্য একে ভুল বলা যায়না । কারণ এই ভুলের কারণে আমি জজ বাড়ি ও উকিল বাড়িটি দেখতে পেয়েছিলাম । যদি আপনি সকাল সকাল বের হন তাহলে এই সব জায়গা ঘুরে বিকেল বেলা মৈনট ঘাট এ যেতে পারেন । আর আপনি যদি চান যে আপনি সরাসরি মৈনট ঘাট দেখবেন তাহলে সে ব্যবস্থাও আছে । আপনি যেখানে থাকুন না কেন . নবাবগঞ্জের গড়িয়ে উঠে পড়ুন । আর আপনি যদি ঝামেলা ছাড়া যেতে চান তাহলে চলে আসুন ঢাকার অন্যতম প্রাণ কেন্দ্র গুলিস্তান । আমি গুলিস্তান থেকে উঠে ছিলাম । প্রথমবার উঠে ছিলাম নবাবগঞ্জ গামী গাড়িতে । আর নেমে ছিলাম মাঝিরকান্দাতে ।সেখানে নেমে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে হবে জজ বাড়ি কোনটা আপনাকে দেখিয়ে দিবে । দেখা বেশ হলে আপনাকে অটো তে করে যেতে হবে বাঁশতলা । আবার সেখান থেকে অটো তে করে গিয়েছিলাম কার্তিকপুর । সেখান থেকে আপনি ইচ্ছা করলে পায়ে হেটে যেতে পারেন অথবা রিকশা করে যেতে পারেন । আমরা পায়ে হেটে গিয়েছিলাম সময় লেগেছিলো ২৫ মিনিট ।
অথবা আপনি ইচ্ছা করলে সরাসরি বসে আসতে পারেন । আমি এই ঈদে সরাসরি গিয়েছিলাম । এতে করে যেমন আমার সময় কম লেগেছে , সেই সাথে আগের বার থেকে টাকা ও কম খরচ হয়েছে । আমি গুলিস্তান থেকে যমুনা বসে করে এসে ছিলাম । আমাকে মৈনট ঘাটে নামিয়ে দিয়েছে । ঈদ উপলক্ষে ভাড়া ১০ টাকা বেশি নিয়েছে । ১০০ টাকা নিয়েছে । রেগুলার ভাড়া ৯০ টাকা ।

কি আছে মৈনট ঘাটে : প্রথম বার যখন গিয়েছিলাম তখন মানুষ তেমন একটা ছিল না । কিন্তু এইবার অনেক ভিড় পেয়েছি । ভিড় পাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল । ঈদের সময় . সবাই সবার পরিবার নিয়ে ঘুরে এসেছে । প্রথমবার যখন বন্ধুরা মিলে গিয়েছিলাম তখন স্প্রীডবোর্টে উঠেছিলাম । আমাদের সম্ভবত ২৫ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট এর মতো পদ্মা ঘুরিয়ে ছিল । ভাড়া পড়েছিল ১৮০০ টাকা । একটি স্প্রীডবোর্টে সর্বোচ্চ ১০ জন উঠা যাবে । আমি আপনাদের সেস্ত করবো ৫ জন এর বেশি উঠতে না । তাহলে আপনি আপনার জার্নিটা কে উপভোগ করতে পারবেন না । আর অবশ্যই স্প্রীডবোর্টে উঠার আগে লাইফ জ্যাকেট পড়ে নিবেন । নদীর অবস্থা দেখে উঠবেন । যদি নদীতে বেশি ঢেউ থাকে তাহলে উঠার দরকার নাই । আর এইবার আমরা উঠে ছিলাম ট্রলারে । আমার কাছে স্প্রীডবোর্ট থেকে ট্রলারে বেশি ভালো লেগেছিলো । ট্রলারে খরচ খুব কম পড়েছে । আপনাকে ১ ঘণ্টা ঘুরাবে আর ভাড়া পড়বে ৫০০ টাকা । আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো আপনি যদি পরিবার নিয়ে ঘুরতে যান তাহলে , স্প্রীডবোর্টে ঘুরতে পারেন । আর যদি বন্ধু বা প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে ঘুরতে যান তাহলে ট্রলারে করে ঘুরতে পারেন । তাছাড়া আপনি চাইলে গোসল করতে পারবেন মিনি কক্সবাজারে । অবশ্যই সাঁতার জানতে হবে আপনাকে । আর যদি না জানেন তাহলে নামতে পারবেন কিন্তু নদীর বেশি গভীরে যেতে পারবেন না । আর সাথে লাইফ জ্যাকেট থাকলে অনেক ভালো হয় । আর হ্যাঁ ছবি তুলতে একদম ভুলবেন না কিন্তু ।

খাবারের ব্যবস্থা : আমি আগের বার সাথে করে খাবার নিয়ে গিয়েছিলাম , এই বারো একই কাজ করেছি । যেহেতু দুই বাড়ি ফ্যামিলি টুর ছিল । বাসা থেকে খাবার নিয়ে আপনি পিকনিক এর মতো করে খেতে পারেন । আর যদি চান ওই খান খাবেন তাহলে সেই ব্যবস্থা আছে আপনার জন্য । আপনাকে বাস যেখানে নামিয়ে দিবে সেখান থেকে একটু সামনে এগিয়ে গেলে আপনি ভাত খাবার হোটেল পাবেন । মোটামুটি পরিবেশ । খাবারের দাম কম । আপনি যদি ইলিশ মাছ খেতে চান তাহলে সেই ব্যবস্থা ও আছে আপনার জন্য । কিন্তু আমার মনে একটা প্রশ্ন আদো ওই গুলো কি ইলিশ মাছ নাকি ইলিশ মাছের মতো দেখতে অন্য মাছ । যাই হোক তাদের খাবার খেতে আপনি স্বাদ পাবেন । পাঠকের মনে প্রশ্ন আসতে পারেন আমি যেহেতু খাইনি তাহলে কিভাবে বুঝলাম স্বাদ আছে ? রোজার আগে আমরা কিছু বন্ধুরা গিয়েছিলো সেখানে । আর খাবার খেয়েছিল ঐখান কার দোকানে , আমি শুধু তাদের উপর ভিত্তি করে বলেছি খাবারের টেস্ট কথা ।

ফিরে আসা : আপনি যেভাবে গিয়েছেন সেভাবে ইচ্ছে করলে ফিরে আসতে পারেন । আর হ্যাঁ ফিরে আসার সাথে আপনি নিয়ে আসবেন একগাদা স্মৃতি । আপনার ভ্রমণ আনন্দ দায়ক হোক সেই কামনা করি ।

আর এর আগে যদি আপনি যেয়ে থাকেন , তাহলে কমেন্টে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন ।

বাংলাদেশের নদীঃ ফারাক্কা বাঁধ এক মরণ ফাঁদ ( ২য় পর্ব)

Now Reading
বাংলাদেশের নদীঃ ফারাক্কা বাঁধ এক মরণ ফাঁদ ( ২য় পর্ব)

বাংলাদেশের পরিবেশ, প্রকৃতি, জীববৈচিত্র‍্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে নদী। নদীর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক এক আজন্ম ভালোবাসার। কিন্তু দিন দিন আমাদের দেশের নদীগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।পানির জন্য হাহাকার করছে প্রায় ৪ কোটিরও বেশি মানুষের জনপদ।

এই লেখার ১ম অংশে তুলে ধরেছিলাম (লিংক নিচে) বাংলাদেশের অনেক বড় বড় নদী থাকা সত্ত্বেও আজ আমাদের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখে। বাংলাদেশে আসা প্রধান আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোতে ভারত অন্যায়ভাবে বাঁধ দিয়ে আমাদের দেশের জলবায়ু, পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করছে। ভারত এ পর্যন্ত গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা বাঁধ, তিস্তা নদীতে গজলডোবা বাঁধ, বরাক নদীতে টিপাইমুখ বাঁধ প্রদান করেছে এবং ব্রহ্মপুত্র নদের উপর দিবাং নামে নতুন একটি বাঁধ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। যার মাধ্যমে আমাদেরকে পুরোপুরি পানিশূন্য করার পায়তারা চলছে। এইসব নদীগুলো আমাদের দেশের জীববৈচিত্র‍্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জলবায়ু এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভারত প্রদত্ত ফারাক্কা বাঁধ আমাদের দেশের জন্য যেসব বিশাল ক্ষতি বয়ে আনছে সেগুলো আজকে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

ফারাক্কা বাঁধঃ
ফারাক্কা বাঁধটি কলকাতা বন্দরকে পলি জমার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নির্মাণ করা হয়। গঙ্গা ও পদ্মা নদীর উজানে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলায় এই বাঁধটি অবস্থিত। ফারাক্কা বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় ১৯৬১ সালে এবং এই বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ করা হয় ১৯৭৫ সালে। ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল এই বাঁধটি চালু করা হয়। ফারাক্কা বাঁধের দৈর্ঘ্য প্রায় ২.২৪ কিলোমিটার (৭৩৫০ ফুট)। বাঁধটি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এর সহায়তায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যায়ে নির্মাণ করা হয়। বাঁধটিতে ১০৯টি গেট রয়েছে।এইখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য “ফারাক্কা সুপার তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের” জন্য পানি সরবরাহ করা হয়। ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশ- ভারত সীমান্ত থেকে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

এই ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের প্রায় ৪ কোটির ও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।বিলীন হয়ে যাচ্ছে পদ্মার শাখা নদ-নদী গুলো। শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিচ্ছে পানির ব্যাপক সংকট। বাংলাদেশের সাথে ভারতের পানি বন্টন নিয়ে একটি মাত্র চুক্তি গ্রহন করা হয়েছে আর তা হলো “গঙ্গা পানি চুক্তি”। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছরের জন্য এই চুক্তি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় চুক্তিটি ভারত ৩ মাসও ঠিকভাবে পালন করতে পারেনি। চুক্তি অনুযায়ী গঙ্গার মোট পানির ৮০% পানি ভারত ও বাংলাদেশ সমান হারে পাবে আর বাকি ২০% পানি গঙ্গা ও পদ্মার ৭টি শাখা নদীর নাব্যতা ঠিক রাখার জন্য ব্যবহার করা হবে। ১৯৯৭ সালের ২৭ মার্চ বাংলাদেশের একটি পর্যবেক্ষক দল দেখতে পায় বাংলাদেশে মাত্র ৬ হাজার ৪৫৭ কিউসেক পানি পায় যা বাঁধ চালু হওয়ার পর সর্বনিম্ন পানিপ্রবাহ। কিন্তু উক্ত চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশের পানি পাওয়ার কথা প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ কিউসেক। গঙ্গা চুক্তি অনুসারে ফারাক্কা পয়েন্টে ৭০ হাজার কিউসেক পানি থেকে ২০ হাজার কিউসেক পানি বাদে বাকি ৫০ হাজার কিউসেক পানি দুই দেশ সমান ভাবে পাবে। কিন্তু উক্ত পয়েন্টে ৫০ হাজার কিউসেক পানির কম হলে পানির বন্টন কিভাবে হবে তা রয়ে গেছে অধরা। ১৯৭৭ সালের পানি চুক্তিতে যেমন গ্যারান্টি ক্লোজ ছিলো ’৯৬ এর চুক্তিতে সেই গ্যারান্টি ক্লোজ না থাকায় ভারত আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে বাধ্য নয়। এই কারণে ভারত গঙ্গার পানি ফারাক্কা পয়েন্টে আসার আগেই তারা তাদের শহর, সেচ এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য পানিয়ে আগেই সরিয়ে রাখছে। তাদের ব্যবহারের পর ফারাক্কা পয়েন্টে যে পানি আসে তা যদি সম্পূর্ণ অংশও বাংলাদেশকে দিয়ে দেয় তাতেও বাংলাদেশের রয়ে যাবে বিশাল পানি সংকট।

ফারাক্কা বাঁধ দেয়ার আগে খুলনা অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমাণ ছিলো প্রায় ৫০০ মাইক্রোমাস কিন্তু বাঁধ দেয়ার পরে লবণাক্ততার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ মাইক্রোমাস। খুলনা অঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন “ সুন্দরবন” আজ জীববৈচিত্র‍্য ধ্বংস হওয়ার মুখে। হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দরবনের বিভিন্ন এন্ডেমিক উদ্ভিদ ও প্রাণি।

file-12-5.jpeg

পানি স্বল্পতার কারণে পদ্মার বড় শাখা নদী “গড়াই” আজ বিলীন হওয়ার পথে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প “জিকে সেচ প্রকল্প” ধ্বংসের মুখে। দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১২১,৪০০ হেক্টর জমি এই সেচ প্রকল্পের পানি দ্বারা পরিচালিত হয়। অনবরত গঙ্গার পানি প্রত্যাহার এর ফলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পখাতে বিশাল অংকের লোকসানের ভারে নুইয়ে পড়ছে। প্রত্যক্ষ ভাবে প্রতিববছর বাংলাদেশের মোট ক্ষতির পরিমান প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। আর পরোক্ষ ভাবে ক্ষতির কথা চিন্তা করলে তার হিসাবের পরিমান সঠিক ভাবে কেউ নির্ণয় করতে পারবে না।

ফারাক্কা বাঁধের কারণে ১৯৬০ সালের তুলনায় নদীতে পলিপ্রবাহ কমেছে ২০%। কার্বন প্রবাহ কমেছে ৩০%। আরিচাঘাটে করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে বাংলাদেশে গত ৪০ বছরে যে পরিমাণ মৎস্য আহরণ করা হতো তার চেয়ে এখন প্রায় ৭৫% কম মৎস্য উৎপাদন করা হয়। দাদারা (পশ্চিম বঙ্গ) আমাদের দেশের থেকে ইলিশ আমদানির জন্য ব্যাপক তোড়জোড় করছেন কিন্তু তারা যদি এই ভাবে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার করা শুরু করেন তাহলে আগামী ১৫-২০ বছর পর ইলিশের অবস্থান হবে ইতিহাসের পাতায়।

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মায় পানির অপ্রতুলতার কারণে পানির স্তর সাধারণের চেয়ে প্রায় ১৫ ফুট নিচে নেমে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির আর্দ্রতা প্রায় ৩৫% কমে গেছে। খরার সময় এ পদ্মাকে দেখে মনে হয় বাংলাদেশে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মরুর দেশ হিসেবে নাম লেখাবে।

বাংলাদেশের যাতায়াত পথের বিশাল একটি অংশ হচ্ছে এই পদ্মা নদী। পদ্মা নদীর কারণে খুব সহজে বিশাল পরিমাণের যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পানি না থাকলে বাংলাদেশের প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পথ নৌ যান চলাচলের জন্য কমে যায়। এর ফলে স্থল এবং নৌ পথে মাত্রার চেয়ে বেশি যাত্রি এবং পণ্য পরিবহন করা হয়। তাছাড়া বিশাল পরিমাণে মানুষ বেকারত্বও বরণ করে।

ফারাক্কা বাঁধ শুধু যে বাংলাদেশের ক্ষতি করছে তা নয়। ভারতে বিহার রাজ্যে এই বাঁধ নিয়ে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যেও চলছে নানা বাক বিতন্ডা। ফারাক্কা বাঁধের কারণে গতবছর বিহারে ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়। বন্যা মোকাবেলার জন্য তারা বাঁধের সব গুলো গেইট খুলে দেয় এই কারণে বাংলাদেশেও বন্যা দেখা দেয়। বিহারের মুখ্য মন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি তুলেছে ফারাক্কা বাঁধ যত শীঘ্রই তুলে দেয়া হোক। ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের সময় পশ্চিম বঙ্গের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার কপিল ভট্টাচার্য বলেছিলেন, এই বাঁধ দেয়া হলে বিহার রাজ্যে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে ব্যাপক বন্যা দেখা দিবে। এই কথা বলার কারণে তাকে “পাকিস্তানি গুপ্তচর” অ্যাখ্যায়িত করে তাকে তার পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। কালের পরিক্রমায় ৫০ বছর পর এসে তার কথাই সত্য হিসেবে দেখা দিয়েছে।

গঙ্গা বা পদ্মা পৃথিবীর অন্যতম বিশাল একটি নদী। এই নদীতে ভারত বাঁধ দেয়ার মাধ্যমে শুধু একটি দেশের অর্থনৈতিক কিংবা প্রাকৃতিক ক্ষতিই সাধন করেনি, আজ আমাদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

লিংকঃ http://footprint.press/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%83-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A7%9F/