এবারের পুলিৎজারে আছেন আমাদের পনিরও

Now Reading
এবারের পুলিৎজারে আছেন আমাদের পনিরও

আলোকচিত্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গা বিপর্যয়ের ভয়াবহতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার স্বীকৃতি হিসেবে সাংবাদিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা পুলিতজার পুরস্কার জিতে নিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ফটোগ্রাফি টিম। বাংলাদেশে নিযুক্ত রয়টার্সের আলোকচিত্রী মোহাম্মদ পনির হোসেন ওই টিমের এক গর্বিত সদস্য । এ খবরে উচ্ছ¡সিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি বলেন, রয়টার্সের তৈরি করা ফটো-স্টোরিতে তিনটি ছবি রয়েছে আমার তোলা।

২০১৭ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সে দেশের সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও গণহত্যা পরিস্থিতি আলোকচিত্রের মাধ্যমে প্রকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার জন্য রয়টার্সের ফটোগ্রাফি টিমকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। পনির বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের নিয়ে রয়টার্সের একটি টিম কাজ করেছি। কাজটি যে সবাই একসঙ্গে করেছি, এমনও না। বাইরে থেকে রয়টার্সের যারা এসেছিলেন, তারা হয়তো একদিনের ভিসা নিয়ে এসেছিলেন, ফলে তাদেরও টানা অনেক দিন এখানে থাকার সুযোগ ছিল না। পরবর্তীতে আমাদের সবার তোলা ছবি নিয়ে একটি স্টোরি তৈরি করা হয়, যেখানে আমারও তিনটি ছবি ছিল। ছবিগুলোর বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনটি ছবির একটি ছিল সাগর পাড়ি দিয়ে ভেলায় চড়ে ভেসে আসছে রোহিঙ্গারা, একটি বৃষ্টির তোড়ে অসহায় রোহিঙ্গা শিশু আর বয়স্কদের ছবি, আর একটি ছিল একজন রোহিঙ্গা নারী তার সদ্যমৃত শিশুকে চুমু খাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি বিভাগের এ পুরস্কারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন বিভাগেও পুরস্কার জিতেছে বার্তা সংস্থাটি। এই প্রথম একসঙ্গে দুটি পুরস্কার জিতল রয়টার্স। এদিকে হলিউডে যৌন হয়রানির খবর ফাঁস করে নিউইয়র্ক টাইমসও ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে ওয়াশিংটন পোস্ট যৌথভাবে পুরস্কার জিতেছে। পাশাপাশি, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতার্তের মাদকবিরোধী যুদ্ধে পুলিশের কিলিং স্কোয়াডের তৎপরতা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন বিভাগেও পুরস্কার পেয়েছে রয়টার্স।

এ বিষয়ে রয়টার্সের এডিটর-ইন-চিফ স্টিফেন জে অ্যাডলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ঘটনাবলির ওপর কাজের জন্য এ বছর অনেকগুলো পুলিতজার পুরস্কার দেয়া হয়েছে। এ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে বিশ্বের নজর কাড়তে পারায় রয়টার্সের কর্মী হিসেবে আমরা গর্বিত। ফিলিপাইন নিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, মাদকবিরোধী স্কোয়াডের একজন পুলিশ সদস্য কী অস্বাভাবিক সংখ্যায় মানুষ হত্যা করছে। এ স্কোয়াডের অনেক সদস্যকে তার নিজ শহর থেকেই কিলিং স্কোয়াডে রিক্রুট করা হয়েছে। দুতার্তে সেখানে মেয়র থাকাকালেও এ স্কোয়াডের মাধ্যমে অনেককে হত্যা করেছেন।

অ্যাডলার আরো বলেন, বাংলাদেশের উদ্দেশে ধাবমান রোহিঙ্গা জনস্রোতের অসাধারণ ছবিগুলোতে শুধু যুদ্ধের মানবিক ক্ষতির বিষয়টাই দেখানো হয়নি, এসব ঘটনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে ফটো সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয় ভূমিকার বিষয়টিও উঠে এসেছে এতে। রোহিঙ্গা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার জেরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ গত ১২ ডিসেম্বর থেকে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে আটকে রেখেছে। তারা রাখাইন রাজ্যের চাঞ্চল্যকর ১০ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনার খবরাখবর সংগ্রহ করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক যুগের দাপ্তরিক গোপনীয়তা ভঙ্গ আইনে মামলা হয়েছে।

 

 

[পোস্টটি অন্য সাইট থেকে গৃহীত]