ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কিছু মসজিদ !

Now Reading
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কিছু মসজিদ !

ঢাকা কে মসজিদের নগরী বলা হয় ।ঢাকার মতো এতো মসজিদ বাংলাদেশের কোথাও নেই । আপনি যদি সত্যিকার অর্থে মসজিদের নগরী দেখতে চান থামলে আপনাকে যেতে হবে পুরান ঢাকায় । আপনি কিছু দূর যাওয়া মাত্র একটি করে মসজিদ দেখতে পাবেন । পুরান ঢাকার যখন এক সাথে সব মসজিদ আজান দেয়া শুরু করে , আপনি দ্বিধায় পরে যাবেন এইভাবে যে কোনটা কোন মসজিদের আজান ।

আজ আমি সেই রকম ঢাকার মধ্যে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কিছু মসজিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো । যদি কখনো সময় হয় আপনাদের ইচ্ছে করলে সেখানে গিয়ে নামাজ পড়ে আসতে পারেন ।

১- তাঁরা মসজিদ – পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় অবস্থিত তাঁরা মসজিদ । ঢাকা শহরে যত গুলো ঐতিহ্যবাহী মসজিদ আছে তার মধ্যে আরমানিটোলার তাঁরা মসজিদ অন্যতম । ইন্টারনেট ও স্থানীয় লোকদের থেকে জানা যায় এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয় আঠারো শতকের দিকে মানে ইংরেজদের আমলে । লোক মুখে শুনা যায় মির্জা গোলাম পীর এই মসজিদটি নির্মার করেন । এই মসজিদের নাম তাঁরা মসজিদ হওয়ার কারণ হলো , এই মসজিদের সাদা মার্বেল পাথরের গায়ে অসংখ্য তাঁরা আঁকা রয়েছে । আর এর থেকে তার নাম করুন করা হয় তাঁরা মসজিদ । মসজিদের প্রবেশ পথে আপনার চোখে পর্বে বিশাল আকৃতির একটি তাঁরা । মূলত এই ঝর্ণা । বিকেল বেলা ঝর্ণা ছাড়া হয় । মাঝে মাঝে মানুষ নামাজ পড়ে এসে এখানে বসে । প্রথম দিকে তিনটি গম্বুজ থাকলেও পরবর্তী কালে আরো ২টি গম্বুজ নির্মাণ করা হয় । এখন সর্বমোট ৫টি গম্বুজ আছে । প্রথম দিকে মসজিদটি অনেক সারা মাটা ছিল । পরবর্তী কালে এই সংস্করণ করুন করে বর্তমান রূপ দেয়া হয় । মসজিদের পিছনের বাম সাইডে রয়েছে একটি কবরস্থান । মির্জা সাহেবকে এখানে করব দেয়া হয়েছিল . লোক মুখে জানা যায় মসজিদের প্রথম ইমাম কে এখানে কবর দেয়া হয়েছিল । প্রথম অবস্থায় মসজিদ এর আকার ছোট থাকলো পরবর্তী কালে এর আকৃতি বড় করা হয়েছে । প্রতিদিন এখানে হাজারো দেশি ও বিদেশী দর্শনার্থী ঘুরতে আসেন । আপনি ও ইচ্ছে করলে ঘুরে আসতে পারেন তাঁরা মসজিদ থেকে , আর পুরান ঢাকার খাবার খেতে ভুলবেন না । তাঁরা মসজিদ থেকে একটু সামনে এগিয়ে গেলে আপনি পাবেন ফুচকার দোকান । ঢাকার অন্যতম বিখ্যাত ফুচকার দোকান ।

তাঁরা মসজিদ

২- লালবাগ শাহী মসজিদ – লালবাগ যেমন লালবাগ কেল্লার জন্য বিখ্যাত , ঠিক অপর দিকে লালবাগ শাহী মসজিদ এর জন্য বিখ্যাত ।প্রায় ৩০০ বছর আগের এই মসজিদ । এর নির্মল কাল ১৭০৩ সাল। ১৭০৩ সালের দিকে ফারুক এই মসজিদটি নির্মার করে থাকেন । ঢাকার মধ্যে যেসব বড় মসজিদ আছে তার মধ্যে এটি অন্যতম , এই মসজিদে এক সাথে প্রায় ১৫০০ লোক নামাজ পড়তে পারে । এই মসজিদের মূল নকশা ঠিক রেখে বহুবার সংস্করণ করা হয় । এই মসজিদের কিবলার উপর দিকে একটি গম্বুজ আছে । যা সচরাচর দেখা যায় না । এর মসজিদের আয়তনের দিক থেকে অনেক বড় । প্রতিবার সংস্করণের সময় মসজিদের আয়তন বৃদ্ধি করা হচ্ছিলো । এই মসজিদের প্রত্যেকটা মিহবারের দিকে ৩ টি করে প্রবেশ পথ রাখা হয়েছে । আপনি যখন লালবাগ কেল্লা ঘুরতে যাবেন তখন ইচ্ছে করলে এই জায়গা ঘুরে আসতে পারেন । আর লালবাগ কেল্লার বিখ্যাত খেতে পুরি আপনি এখানে পাবেন । ঘুরে ঘুরি শেষে ইচ্ছে করলে খেতে দেখতে পারেন ।

লালবাগ শাহী মসজিদ

৩- বিনত বিবির মসজিদ – বিভিন্ন তথ্যমতে ঢাকার সবচেয়ে পুরাতন মসজিদ হিসেবে বিনত বিবির মসজিদ কে ধরা হয় । বিনত বিবির মসজিদ তার নির্মাতা বিনত বিবির নাম অনুসারে রাখা হয়ে । পুরান ঢাকার নারিন্দায় এই মসজিদের দেখা পাওয়া যায় । ১৪৫৭ সালে মারহামাতের মেয়ে মুসাম্মাত বখত বিনত বিবি এটি নির্মাণ করেন । প্রায় ৬০০ বছর পুরাতন এই মসজিদ । আগে যখন মানুষ বাংলায় ব্যবসা করতে আসতো তখন এই মসজিদে নামাজ পড়তো । কারণ নারিন্দায় ছিল বুড়িগঙ্গা নদীর শাখা । বিভিন্ন বার এই মসজিদকে সংস্করণ করা হয়ে । বিনত বিবি কে মসজিদের পাশে শায়িত করা হয় । প্রথম দিকে দুইতলা থাকলেও পরবর্তী কালে সংস্করণ করে উপরের দিকে ৩ তলা করা হয় । নারিন্দা গেলে আপনি ভুলেও বিউটির লাচ্ছি খেতে ভুল করবেন না । ঢাকার যত লাচ্ছি আছে তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো এই বিউটির লাচ্ছি ।

বিনত বিবির মসজিদ

৪- চক বাজার শাহী মসজিদ – এটি বাংলার এমন একটি মসজিদ যা উদ্বোধন করেছিলেন বাংলার শেষ নবাব শায়েস্তা খাঁ । চক বাজার শাহী মসজিদ চক বাজারে অবস্থিত । বর্তমানের এর আয়তন আগে থেকে বৃদ্ধি করে দ্বিগুণ করা হয়েছে ।এটি প্রায় চারশো বছর আগের মসজিদ । আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য যে এটি তার আগের যে নির্মাণ হারায় । মানে আগে যেভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল , বর্তমানে সংস্কার করে তা পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে । প্রথম দিকে তিনটি গম্বুজ নিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল । মসজিদের আয়তন ছোট হওয়ার কারণে সামনের দিকে যে জায়গা রাখা হয়েছিল , পরবর্তী কালে সেই জায়গায় মসজিদ এর কিছু অংশ নির্মাণ করা হয় ।

 চক বাজার শাহী মসজিদ

 

তথ্যসূত্র :

১- https://bn.wikipedia.org/wiki/

২-http://bn.banglapedia.org

৩- http://parjatan.portal.gov.bd/site/page/2e69b14b-6f96-4606-9fba-dbc70fc411b5

৪- https://bn.wikipedia.org/wiki/

ঢাকার মধ্যে একদিনের আনন্দ ভ্রমণ – পর্ব ২য়

Now Reading
ঢাকার মধ্যে একদিনের আনন্দ ভ্রমণ – পর্ব ২য়

মানুষের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সময় গুলো কাটে যখন সে তার পরিবার কে সময় দেয় । সময়টা তখন আরো আনন্দের হয় যখন সেই পরিবার কে নিয়ে বাহির থেকে ঘুরে আসে । ব্যস্ততার জীবনে সময় বের করা খুব কষ্টের হয়ে পড়ে । যত টুকু সময় বের করা হয় সেই সময় যদি পরিবারের সাথে কাটানো যায় তাহলে নিজে মধ্যে রিফ্রেশ একটা ভাব আসে ।

আমি আগের পর্বে ঢাকার মধ্যে কিছু জায়গা দেখিয়ে ছিলাম , যেখানে আপনি চাইলে এক দিনের মধ্যে আপনার প্রিয় মানুষ বা পরিবার কে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন । আজ আমি আপনাদের আরো কিছু জায়গা এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো । সামনে ঈদ আসছে , ইচ্ছে করলে আপনি ঘুরে আসতে পারেন এই জায়গা গুলো ।

 

সাফারি পার্ক

গাজীপুরের সাফারি পার্ক – ঢাকার অদূরে অবস্থিত এই সাফারি পার্ক । ঢাকা থেকে যেতে আপনার সময় লাগবে মাত্র ১ ঘণ্টা । ঢাকা থেকে ৪০ কিলো মিটার দূরে অবস্থিত । বাংলাদেশের অন্যতম বিশাল সাফারি পার্ক হচ্ছে এটি । মোট ১২২৫ একর জমির উপর তৈরি করা হয়েছে এই পার্কটি । আন্তর্জাতিক মানের একটি পার্ক যেখানে বন্যা প্রাণীদের সংরক্ষণ করা হয়েছে । বন্যা প্রাণীরা খোলা মেলা পরিবেশ বেড়ে উঠছে । খাঁচার প্রাণী সব উন্মুক্ত করা হয়েছে । ভেতরে প্রবেশ করলে আপনি বাস পাবেন । সেখান করে ঘুরে দেখতে পারেন সম্পূর্ণ পার্কটি । বাস আপনাকে ঘুরে দেখাবে তাদের এই পার্ক । এখানে প্রবেশ মূল্য একটু অন্য রকম । মানে বড়দের জন্য প্রবেশ ফি ৫০ টাকা আর ছোট দের জন্য ২০ টাকা । আর আপনি যদি বাসে করে ঘুরতে চান তাহলে আপনাকে গুনতে হবে ১০০ টাকা । আপনি যদি ক্রাউন এভিয়ারি ঘুরতে চেনা তাহলে আপনাকে গুনতে হবে ১০ টাকা মানে আপনি যেকোনো এভিয়ারি প্রবেশ করলে আপনাকে ১০ টাকা করে দিতে হবে । আপনি শ্রীপুর গামী যেকোনো বাসে উঠে যেতে পারেন । বাস আপনাকে নামিয়ে দিবে বাঘের বাজারে । সেখান আপনি অটো পাবেন ।অটো কে বললেই হবে তারা আপনাকে পার্কে নামিয়ে দিবে । অটো তে করে যেতে সময় লাগবে ২০ মিনিট ।

নুহাস পল্লী

 

গাজীপুরের নুহাশ পল্লী – বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ এর নুহাশ পল্লীর নাম শুনেন নাই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল ।সামনে ঈদ আসছে । আপনি ইচ্ছা করলে আপনার পরিবার কে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন নুহাশ পল্লী থেকে । ঢাকা থেকে আপনাকে প্রথমে গাজীপুর যেতে হবে । ভালো হবে আপনি যদি গুলিস্তান থেকেই রওনা দেন । তা ছাড়া আপনি অন্য যে কোনো জায়গা থেকে যেতে পারেন । আপনি যেখান থেকে যান না কেন আপনাকে নামতে হবে গাজীপুরের পাড়াবাজারে । ড্রাইভার কে বললে ড্রাইভার আপনাকে নামিয়ে দিবে । সেখান থেকে আপনি সি এন জি বা অটো তে করে চলে আসুন নুহাশ পল্লী । আপনাকে প্রবেশ মূল্য পরিশোধ করে ভেতরে ঢুকতে হবে । প্রবেশ মূল্য ধরে হয়েছে ২০০ টাকা । ভেতরে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে সবুজে ঘেরা পরিবেশ । সেই সাথে পুকুর , পিকনিক স্পোর্ট । হরেক রকমের গাছ আপনি দেখতে পাবেন । তাছাড়া আপনি আরো দেখবেন গাছের উপরে বাসা বানানো । বৃষ্টি বিলাস নামের একটি সুন্দর বাড়ি ।

 

আহসান মঞ্জিল

আহসান মঞ্জিল – পুরান ঢাকার ইসলামপুরে ঠিক বুড়িগঙ্গা নদীর পাশে রয়েছে নবাবদের বাড়ি আহসান মঞ্জিল । নবাব আহসান এর নাম । পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী একটি জায়গা ।এই বন্ধে আপনি ঘুরে আসতে পারেন এখন থেকে । আহসান মঞ্জিল যেতে হলে আপনাকে আসতে হবে সদরঘাট । সদরঘাট বা ভিক্টোরিয়া পার্ক গামী যেকোনো বাসে উঠলে আপনাকে নামিয়ে দিবে কোর্টকাছারি । সেখান থেকে আপনি ইচ্ছা করলে হেঁটে যেতে পারবেন অথবা ইচ্ছা করলে আপনি রিকশা করতে যেতে পাবেন । আহসান মঞ্জিল প্রবেশ করতে হলে আপনাকে টিকিট কিনতে হবে । টিকিট এর মূল্য ২০ টাকা । আর অপ্রাপ্তদের জন্য প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা । প্রবেশের মুখে আপনাকে জমা দিতে হবে আপনার ব্যাগ । আপনি ভেতরে কোনো ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারবেন না । ভেতরে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে নবাব দের ব্যবহার করা বিভিন্ন জিনিস পত্র । বিশেষ করে আপনাকে অবাক করবে বিশাল হাতির মাথা । অনেক বছর আগের এই হাতির মাথা কে সংরক্ষণ করে রেখেছে তারা । তা ছাড়া আপনি দেখতে পাবেন তাদের খাবার রুম সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ।

 

লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা – পুরান ঢাকার আরেকটি ঐতিহ্যবাহী জায়গা হলো লালবাগ কেল্লা । মোগল আমলের তৈরি একটি দুর্গ । পরীবিবির মাজার এখানে অবস্থিত । আপনাকে প্রথম আসতে হবে গুলিস্তানে । সেখান থেকে আপনি রিকশা অথবা লেগুনা যোগে চলে যেতে পারেন পুরান ঢাকার লালবাগে । কেল্লার নাম অনুসারে রাখা হয় এই জায়গার নাম । আপনি ভেতরে বাগান ও বিশাল বড় একটি দীঘি দেখতে পাবেন । বর্তমানে সেখানে পানি নেই । এই দীঘিকে পরীবিবির দীঘি বলা হয় । আপনি ভেতরে একটি সুড়ঙ্গ দেখতে পাবেন । এই সুড়ঙ্গ কে নিয়ে আছে অনেক রকমের গল্প ।তাছাড়া ভেতরে জাদুঘর ও আছে । সকাল ১০ টা থেকে খোলা থাকে । প্রবেশ মূল্য বড় দের জন্য ২০ টাকা আর ছোটদের জন্য ১০ টাকা । সাপ্তাহিক বন্ধ রবিবার ।

চলবে

ঘুরে আসুন আহসান মঞ্জিল

Now Reading
ঘুরে আসুন আহসান মঞ্জিল

যারা অল্প সময়ের জন্য ঢাকার আসে পাশের সুন্দর জায়গা থেকে ঘুরে আসতে চান তাদের জন্য আহসান মঞ্জিল হবে উপযুক্ত স্থান । খুব সুন্দর করে গড়ে তোলা হয়েছে আহসান মঞ্জিল কে ।

ইতিহাস –
কোন এক ফরাসির কাছ থেকে ১৮৩৫ সালে আব্দুল গনি কিনে নেয় এই প্রাসাদটি । যখন ফরাসি থেকে কিনে নেন তখন প্রাসাদের অবস্থা কিছুটা খারাপ ছিল । পরবর্তী কালে ১৮৭২ সালে আব্দুল গনি এটিকে আবার পূর্ণ নির্মাণ করেন । তার ছেলে আহসানউল্লাহ এর নাম অনুসারে তিনি এই প্রাসাদের নাম রাখেন আহসান মঞ্জিল । কিন্তু প্রাসাদটি বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি । ১৮৯৭ সালে ১২ জুন শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেঙে যায় আহসান মঞ্জিল এর অনেকখানি অংশ । পরবর্তী কালে আবার তা পূর্ণ নির্মাণ করেন নবাব আহসানউল্লাহ ।
এটি ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত । ইসলামপুর ব্রিটিশ আমল থেকে বিখ্যাত ছিল তাদের বাণিজ্যের জন্য । এখানে নানান জিনিস পত্র পাওয়া যেত । ঢাকার সাথে তখন বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল এই বুড়িগঙ্গা নদী । পরবর্তী কালে নদীর পানি দূষিত হওয়ার কারণে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখন আর আগের মতো পণ্য আনা নেয়া হয়ে না । ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলে নবাবের পরিবার বিদেশে চলে যায় । নবাব যাদের উপর দায়িত্ব দিয়ে যান তারা ভালো মত দেখা শুনা না করার কারণে তাদের প্রাসাদ ক্ষতির সম্মুখীন হলে , তখন নবাব সিদ্ধান্ত নেন তাদের এই জায়গাটা তারা নিলাম করে দিবেন । কিন্তু তৎকালীন সরকার এই জায়গার গুরুত্ব বুঝতে পেরে নিলাম সিদ্ধান্ত বাতিল করান । এবং নবাব থেকে নিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান ঘোষণা করেন । পরবর্তী কালে জনসাধারণের জন্য জাদুঘর নির্মাণ করেন ।

কি আছে আহসান মঞ্জিলে ?

এই প্রাসাদের ছাদের উপরে আছে কে বিশাল গম্বুজ ।যা একসময় ঢাকার সবচেয়ে বড় গম্বুজ ছিল । আগের দিনের নবাবের এই প্রাসাদে বসে সারা ঢাকা শহর কে পরিচালনা করতো । মূল প্রাসাদের আঙিনা দিয়ে সুবিশাল সিঁড়ি দেখতে পাওয়া যায় ।যা মূলত প্রাসাদের মূল ফটকের সাথে যুক্ত । আপনি যদি সেই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যান , তাহলে আপনি নাচের ঘর দেখতে পাবেন । আর যদি সিঁড়ি দিয়ে দাঁড়িয়ে নিচ বরাবর তাকান তাহলে আপনার সামনে ফুটে উঠবে বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য । আপনি সামনে মাঠের মত দেখতে পাবেন , আর আপনার চোখ যদি একটু সামনে যায় তাহলে আপনি বুড়িগঙ্গা নদী দেখতে পাবেন । আর দেখবেন ইসলামপুর এর মানুষের জীবন যাত্রা এর কিছু চিত্র ।

প্রথমে আপনাকে টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকতে হবে । বর্তমানে টিকিটের মূল্য বাংলাদেশী দের জন্য ২০ টাকা । সার্ক ভুক্ত দেশের জন্য ১০০ টাকা আর বিদেশী নাগরিকদের জন্য ২০০ টাকা । টিকিট কেটে আপনার প্রয়োজনীয় মালামাল কাউন্টারে জমা দিয়ে টোকেন নিয়ে নিন । এই টোকেন পরবর্তী কালে বের হওয়ার সময় কাউন্টারে দেখিয়ে আপনার মাল বুঝে নিবেন । ভুলেও টিকিট ফেলে দিবেন না ।কারণ মূল ভবনে প্রবেশ করার জন্য আপনার টিকিটি লাগবে । আপনি সোজা হেঁটে যাবার পথে ফুলের বাগান দেখতে পাবেন । সোজা হেঁটে হাতের ডান পাশ ধরে গেলে আপনি ভবনের প্রবেশ পথ দেখতে পাবেন । টিকিটে দেখিয়ে ভেতরে ঢুকলে প্রথমে পরবে রণ সাজে সজ্জিত এক সেনা । যুদ্ধে যাওয়ার আগে এই রকম পোশাক পরিধান করা হতো । আপনি সেই রাস্তা ধরে সামনে আসলে দেখতে পাবেন কিছু ছবি আর বই নিয়ে একটি ঘর । এখান থেকে আপনি ছবি কিনে নিতে পারেন কারণ ভেতরে মোবাইল বা ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষেধ । তার পরের কামরায় আপনি বিশাল আকারের ঝাড়বাতি দেখতে পাবেন । আর সাথে আহসান মঞ্জিল এর সুন্দর কিছু ছবি দেখতে পাবেন । একের পর এক কামরায় আপনি এক এক রকমে জিনিস দেখতে পাবেন । একটি কামরা আছে যেখানে নবাবদের সময় চিকিৎসা করার যন্ত্রপাতি আছে । আপনি দেখলে অবাক হয়ে যাবেন । কারণ এই সব যন্ত্রপাতি এখন দেখতে পাওয়া যায়না বললেই চলে । আপনি একটু সামনে আসলে দেখতে পাবেন বিশাল একটা হাতির মাথার খুলি । খুব সুন্দর চক চক করছে । আমি যখন প্রথম দেখি তখন অনেকটা অবাক হয়ে যাই । কারণ মাথার সাইজটা বিশাল ছিল । তার পর আপনি দেখতে পাবেন একটা কামরা যেখানে নবাবরা বসে খাবার খেয়ে থাকতো । বিশাল বড় তাদের খাবার রুম।রুম দেখে বোঝা যায় , তারা যখন খাবার খেতে বসতো, তখন অনেক মানুষ এক সাথে বসতো । প্রথম তোলা ঘোরা শেষ হলে আপনি উপরের কামরায় যেতে পারবেন । সেখানে বিভিন্ন নবাব সহ বাংলাদেশে অনেক নামীদামী ব্যক্তিদের ছবি আছি । তার পাশের কামরায় গেলে দেখতে পাবেন নবাবদের ঘুমানোর ঘর ও কিছু আসবাবপত্র যা তারা বিভিন্ন সময় ব্যবহার করেছেন । এছাড়া আপনি আরও অনেক কিছু দেখতে পাবেন । যা আপনাকে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করবে ।

কিভাবে আসবেন ?

আপনি ঢাকার বাহিরে বা ঢাকার ভিতরে যেখানেই থাকেন না কেন আপনাকে প্রথমে গুলিস্তান অথবা সদরঘাট আসতে হবে । সেখান থেকে ইসলামপুর হয়ে কাউকে জিজ্ঞেস করলে দেখিয়ে দিবে আহসান মঞ্জিল কোথায় ।

সাবধানতা

আপনি কাউন্টার মাল জমা দেয়ার সময় অবশ্যই নিজের মোবাইল , টাকা সাথে রাখবেন । ইচ্ছা করলে পানির বোতল সাথে রাখতে পারেন । আর ভুলেও ভেতরে ছবি তোলার চেষ্টা করবেন না । যদি করেন তাহলে ভেতরে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে খুব বেশি ভালো ব্যবহার পাবেন না ।

ঘুরে আসুন লালবাগ কেল্লা

Now Reading
ঘুরে আসুন লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা । ঢাকার এক ঐতিহাসিক স্থান । ঢাকাকে যদি আপনি কারো কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে চান তাহলে কিছু স্থানের নাম বললেই হয়ে যায় । আর সেই সব কিছু স্তনের মধ্যে লালবাগ কেল্লা অন্যতম । ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে প্রায় ১৭ শ শতকে জায়গা নিয়ে নির্মিত মুগল দুর্গ ।

পরিচিতি

১৬৭৮ সালে সুবাদার মুহাম্মদ আজম শাহ সর্ব প্রথম এই দুর্গ নির্মাণ করেন । মাত্র ১৫ মাস তিনি ঢাকায় ছিলেন । পরে তাকে দিল্লিতে পাঠানো হয় । তখন দুর্গের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি । পরবর্তীতে ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদ রাজধানী স্থানান্তর করার ফলে এর কাজ কার আর সামনে বাড়েনি । আস্তে আস্তে এটি একটি পরিতেক্ত দুর্গতে পরিনিত হয় । ১৮৪৪ সালে আওরঙ্গবাদ নাম পরিবর্তন করে লালবাগ রাখা হয় । এখানে দুর্গ বা কেল্লা থাকার কারণে পরবর্তীতে এর নাম করা হয় লালবাগ কেল্লা ।

 

লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা

কি আছে এর ভিতরে ?

প্রথমে আপনাকে নাম মাত্র মূল্যে ভিতরে প্রবেশ করতে হবে । আপনি ভিতরে ঢুকলে দেখতে পাবেন কিছু ছোট ছোট অট্টলিকার মতো করে রাখা নবাবদের দুর্গ । শাহ আজমের সাথে শায়েস্তা খাঁ এর মেয়ে পরী বিবির বিয়ে হয় । পরবর্তী কালে পরী বিবি মারা যান । তখন শায়েস্তা খাঁ প্রায় নিজের মেয়ে কে দেখতে পেতেন । এমন শোনা যায় তার মেয়ে যেখানে গোসল করতো সেখানে পানির শব্দ পাওয়া যেত । পরবর্তী কালে তিনি এর দুর্গের নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন । সেখানে আপনি শায়েস্তা খাঁ এর মেয়ে পরী বিবির মাজার দেখতে পাবেন । পরী বিবিকে মসজিদের মাঝখানে কবর দেয়া হলো । বর্তমানে আপনি সেখানে কিছু জাদুঘর দেখতে পাবেন । যেখানে নবাবদের পোশাক , তলোয়ার ও বিভিন্ন জিনিস দেখতে পাবেন । তাছাড়া একটু পশ্চিম পাশে গেলে আপনি দেখতে পাবেন বাহিরে রাখা আছে কিছু কামান ও কিছু অস্ত্র । আগের দিনে তারা শত্রু মোকাবেলা করার জন্য এই সব জিনিস ব্যবহার করতো ।

পরী বিবির মাজার

পরী বিবির মাজার

 

দুর্গের ভিতরে সবচেয়ে আলোচিত জায়গা হলো সুড়ঙ্গ পথ । এই পথ নিয়ে নানান মানুষের মুখে নানান কথা বার্তা শোনা যায় ।অনেকে বলে এই পথ দিয়ে গেলে আপনি আর কোনো দিন ফিরে আসবেন না ।তারা বলে এর ভিতরে নাকি রয়েছে কিছু আত্মা । আবার অনেকে বলে এর ভিতরে দিয়ে অনেক মানুষ গিয়েছে কিন্তু তারা আর ফিরে আসতে পারেনি ।তারা সবাই মারা গিয়েছে । আবার লোক মুখে এমন ও কথা শোনা যায় এই রাস্তা দিয়ে কুকুর কে পাঠানো হয়েছিল পরবর্তীতে আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি । অনেকে বলে এই রাস্তা মুর্শিদাবাদ গিয়ে মিলেছে । আবার অনেকে বলে এই রাস্তা বুড়িগঙ্গায় গিয়ে মিলেছে । আসলে মূলত কথা হলো এর ভিতরে আলো বাতাস পরিবেশ করতে পারেনি কখনো , তাই এর ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে গিয়েছে । কেউ যদি এই রাস্তা দিয়ে কোনো ভাবে যায় থামলে সে বিষাক্ত গ্যাস এর কবলে পরে মারা যাবে । অথবা রাস্তা হারিয়ে ফেলতে পারে । মূলত এই সুড়ঙ্গ পথ বানানো হয়েছিল নবাবদের জন্য । যাতে করে তারা সহজে পালিয়ে যেতে পারে যখন শত্রু পক্ষ আক্রমণ করবে ।

তাছাড়া এই দুর্গের ভেতরের পরিবেশ ছোট ছোট কয়েকটি বাগান আপনাকে মুগ্ধ করবে ।আর পথের ধারে দেখতে পাবেন বিশাল বড় এক পুকুর । কিন্তু পানি নেই । ধারণা করা হয় এখানে মাঝে মাঝে পরীবিবি গোসল করতো । আর আপনাকে মুগ্ধ করতে রয়েছে কিছু ঝর্ণা ।

কিভাবে যাবেন ?

যদি আপনি ঢাকার বাহিরে থাকেন তাহেল প্রথমে আপনাকে ঢাকায় আসতে হবে । কারণ এটি ঢাকায় অবস্থিত । ঢাকার প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তানে আপনাকে আসতে হবে । সেখান থেকে আপনি দেখতে পাবেন অনেক রিক্সা বা টেম্পু কেল্লা কেল্লা বলে ডাকছে আপনি উঠে পড়ুন যে কোনো একটি তে । ভাড়া নিবে ১৫ টাকা । আর যদি আপনি রিকশা করে যেতে চান তাহলে ভাড়া পর্বে ৫০ টাকার মতো

আর আপনি যদি ঢাকায় থাকেন তাহেল আপনি চলে আসুন গুলিস্থান । সেখান থেকে রিক্সা বা টেম্পু করে চলে যায় লালবাগ কেল্লায় ।

প্রবেশ মূল্য –

লালবাগ কেল্লা প্রবেশ করতে হলে আপনাকে গুনতে হবে ২০ টাকা । আর আপনি যদি বিদেশী নাগরিক হয়ে থাকেন তাহেল প্রবেশ মূল্য ১০ গুন্ বেড়ে হয়ে যাবে ২০০ টাকা । আর আপনি যদি সার্ক ভুক্ত নাগরিক হন তাহলে আসল দাম থেকে ৫ গুন্ বেড়ে হয়ে যাবে ১০০ টাকা । তাছাড়া নতুন ভাবে কেল্লার ভেতরে ওয়াইফাই জোন চালু করেছে । মানে আপনি কেল্লার ভিতরে প্রবেশ করলে চলে যাবেন ওয়াইফাই এর আন্ডারে । আপনি এই সেবা পাবেন একদম বিনামূল্যে । আর আপনি যদি স্কুল বা কলেজের ছাত্র ছাত্রী হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে তারা মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দিবে ।

কখন যাবেন ?

গরম কাল মানে গ্রীস্মকালে সকাল ১০ থেকে বিকেল ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে
আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে

রবিবার সম্পূন বন্ধ থাকে লালবাগ কেল্লা । সোমবার অর্ধদিবস খোলা থাকে ।
যেহেতু এটি একটি সরকারি দর্শনীয় স্থান তাই সরকারি ছুটির দিন বন্ধ রাখা হয় ।