প্রতারক চক্র, ফোন করে টাকা চাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

Now Reading
প্রতারক চক্র, ফোন করে টাকা চাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কুমিল্লায় পরীক্ষার ফল পরিবর্তন ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে ফোন করছে প্রতারক চক্র, ফোন করে টাকা চাওয়া হচ্ছে।

গত বুধবার পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে চিঠি দিয়ে এ পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়েছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে বোর্ডের ওয়েবসাইটে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে এ ধরনের প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের অনুরোধ করা হয়।
এ ব্যাপারে এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোর্ডের পাঁচজন কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা আউটসোর্সিংয়ের (বাইরে থেকে) কাজ করছেন, তাঁদের মধ্যে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রতারক চক্রের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। এখান থেকেই আগাম তথ্য পাচার হয়। এঁদের সঙ্গে প্রতারক চক্রের যোগসাজশ রয়েছে।শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক নেই। স্কুলের প্রধান শিক্ষক, কলেজের অধ্যক্ষদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলেছি।’

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১ জুলাই পরীক্ষার ফল পরিবর্তন ও চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। একই সঙ্গে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তখনকার এসপি মো. শাহ আবিদ হোসেনের সঙ্গে দেখা করেন বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। তখন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মুন্সীরহাট শাহাদাৎ মেমোরিয়াল ও নন্দনপুর উচ্চবিদ্যালয়ের দুই প্রধান শিক্ষক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেন। এতে তাঁরা চাকরি দেওয়ার কথা বলে জনৈক ব্যক্তি তাঁদের কাছে টাকা দাবি করে বলে উল্লেখ করেন। প্রতারক তাঁর পরিচয় হিসেবে বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের নাম ব্যবহার করেন। এর আগে এইচএসসি পরীক্ষার ফল পরিবর্তন করে দেওয়ার কথা বলে ২১ জুন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়ার নাম ব্যবহার করে প্রতারক চক্র। প্রতারকেরা এ নাম করে বরুড়া উপজেলার আগানগর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শরীফুল ইসলামকে ফোন করে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত আমার কাছে প্রতারক চক্র পরীক্ষার ফল পরিবর্তন করে দেবে বলে দফায় দফায় ফোন করে। এরই মধ্যে আমার কাছ থেকে কিছু টাকাও হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে জানলাম বিষয়টি ভুয়া। আমি এর প্রতিকার চাই।’
এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকেই প্রতারক চক্র ঘুরেফিরে তিনটি মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছে। আমরা বোর্ড থেকে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছি। এরপরেও নিত্যনতুন ধারণা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে অর্থ দাবি করে আসছে একটি চক্র।’

প্রতারক চক্র দুর্নীতি দমন কমিশনকে ঘিরে

Now Reading
প্রতারক চক্র দুর্নীতি দমন কমিশনকে ঘিরে

সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ঘিরে একটি প্রতারক চক্র বেশ সক্রিয়। দুদক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। এ বিষয়ে সংস্থাটি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে এ–সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দুদক বলছে, তারাও বিষয়টি জেনেছে। এ প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কমিশনের নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট সক্রিয় রয়েছে।
জানা গেছে, দুদকের কর্মকর্তা, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে একাধিক প্রতারক বা প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা কমিশনের মামলা অথবা কমিশনের কাল্পনিক মামলা অথবা কাল্পনিক অভিযোগ থেকে অব্যাহতি অথবা অভিযুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে টেলিফোনের মাধ্যমে অনৈতিক অর্থ দাবি করছে। আবার এমনও অনেক প্রতারক আছে, যারা কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থায় বিভিন্ন অনৈতিক তদবিরও করছে। প্রতারক চক্র কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের কর্মকর্তাদের আত্মীয়, বন্ধু কিংবা অন্য কোনো স্বজন পরিচয় দিয়ে অনৈতিক তদবির করছে।

দুদক বলছে, প্রতারকদের আইন আমলে আনা একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা কমিশন নিরলসভাবে পরিচালনা করছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন অনুসারে কোনো একক ব্যক্তির অভিপ্রায় অনুসারে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার যেমন কোনো সুযোগ নেই, তেমনি অভিযুক্ত হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া কমিশনের কর্মকর্তাদের অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত বিষয়ে শুধু চিঠির মাধ্যমেই যোগাযোগের নির্দেশনা রয়েছে, টেলিফোন বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নয়।
দুদক এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে সবার সহায়তা চেয়েছে। তারা বলছে, যদি কোনো ব্যক্তি কমিশনের কর্মকর্তা কিংবা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে টেলিফোন বা ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে কমিশনের কর্মকর্তা বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বজন পরিচয় দিয়ে অনৈতিক কোনো বিষয়ে তদবির করে বা অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তাহলে এই টেলিফোনের সত্যতা নিশ্চিত হতে হবে। ওই ব্যক্তির পরিচয়ের নিশ্চয়তা এবং প্রতিকার পাওয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে দুদকের পরিচালক (গোয়েন্দা) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী (মোবাইল নম্বর- ০১৭১১-৬৪৪৬৭৫) অথবা উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্যের (মোবাইল নম্বর-০১৭১৬-৪৬৩২৭৬) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে বহুমাত্রিক ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন। কমিশনের গোয়েন্দা তৎপরতায় গত ৭ নভেম্বর দুদকের একটি বিশেষ দল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর রাজ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট থেকে প্রতারক ফয়সল রানা ওরফে মো. ফয়েজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।

প্রণব ভট্টাচার্য জানান, গত ২৪ জানুয়ারি নয়াপল্টন এলাকা থেকে দুদক কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী হাসান মুন্না ওরফে রফিককে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা করা হয়। দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-২ এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেলের (এনটিএমসি) যৌথ অভিযানে আরেক ভুয়া দুদক কর্মকর্তা নাজমাকে (আসল নাম রাজু মিয়া) ১৪ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইভাবে র‌্যাব-২ এবং এনটিএমসির যৌথ দল ভুয়া দুদক কর্মকর্তা কথিত সিরাজুল ইসলাম ওরফে হাজি জহিরুল হুদা ওরফে প্রশান্ত ওরফে সুশান্ত ওরফে মনিরুজ্জামান মিয়া ওরফে শহিদুল ইসলামকে (প্রকৃত নাম আনিসুর রহমান বাবুল) ঢাকার হাজারীবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

Page Sidebar