বিশ্বকাপ ফুটবল-আবেগ…. সাপোর্ট নাকি বাড়াবাড়ি?

Now Reading
বিশ্বকাপ ফুটবল-আবেগ…. সাপোর্ট নাকি বাড়াবাড়ি?

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই চার বছর পর পর সবার মাঝে এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করা।আর এ জন্যই একে “গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ” বলা হয়।

৯০ মিনিটের এ খেলা প্রচলিত আছে শত বছর ধরে।আর তা একে নিয়ে আবেগটাও কম নয় মানুষের।আর যদি বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বলতে হয় তবে নিজ দেশের নাম আগে চলে আসে।আর নামটা আসে ফেভারিট টিম নিয়ে অবশ্যই নয়।বরং পাগল সাপোর্টার নিয়ে।আজ যদি সাপোর্ট এর দিক দিয়ে বিবেচনা করা হয় তবে আমার মনে হয় বাংলাদেশ সেরা পাচঁ এ জায়গা করে নিতেই পারে।কারণগুলো খুবই সহজঃ

১।বিশ্বে জার্মানির সবচেয়ে বড় পতাকা তৈরি হয়েছে এ দেশেরই এক কৃষক দ্বারা ।
২।নিজের জমি বিক্রি করে অন্য দেশের পতাকা বানানো লো আমাদের দেশেরই।
৩।খেলার ফলাফল নিয়ে রাইভেলসদের ফ্যানদের মাঝে এ বিশ্বকাপে মারামারি হয় এ দেশেই।
৪।নিজের সাপোর্ট করা দল হেরে গেলে বা বাদ পড়ে গেলে নিজের প্রাণটা সহজেই দিতে পারে এ দেশেরই কিছু মানুষ।
৫।দল হারলে আবেগে সারাক্ষণ কাদঁতে পারে এ দেশের মানুষ।
৬।অন্য দেশকে সাপোর্ট করতে প্রতিটি বাড়িতে কোনো না কোনো দেশের পতাকা দেখা যাবেই এ দেশে।
৭।ফ্যানসদের নানান কীর্তিকলাপে ব্যস্ত থাকে সামাজিক যোগাযোগ থেকে বাস্তবিক যোগাযোগ।

আরো নানান কারণে আমরা সেরা সাপোর্টার হিসেবে টপে থাকতেই পারি।যতটা অন্য দেশকে সাপোর্ট এর দিক থেকে এগিয়ে রয়েছি ঠিক ততটাই পিছিয়ে এ দেশের জাতীয় দল।ফুটবল খেললেও তাদের নেই কোনো প্যাশন ।এ যেন জীবিকার তাগিদে আট দশটা কাজের মতোই করে তারা।আর তার ফলাফল দেখিতে ফিফার র‍্যাঙ্কিং এর তলানিতে যেতে হবে আপনাকে।একদম শেষে তাকাবেন।খুব কম কষ্টতেই পেয়ে যাবেন মাতৃভুমিকে রিপ্রেজেন্ট করা দলটিকে।যদিও আরো বড় খবর তিন বছরের নিষেধাজ্ঞায় আছে জাতীয় দল।সর্বনিম্ন ম্যাচও জিততে না পারায় এ শাস্তি ।যা খুব আরামেই উপভোগ করছে সবাই।যদিও আমার কাছে এটা অপমানের।তিন বছর আগে র‍্যাঙ্কিং এ আমাদের সাথে থাকা পাশের দেশ ভারত আজ সেরা ১০০ দলের একটি।এত কম সময়ে তাদের উন্নতি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।তাদের চিন্তা ভাবনাই তাদের ২০২২ সালে বিশ্বকাপ খেলায় চান্স এনে দিতে পারে বলে আশা করছে তারা।তবে আমি বলে রাখতে পারি ২০২২ না হলেও ২০১৬ সালের বিশ্বকাপ অবশ্যই খেলবে ভারত।কারণ তারা জানে, কেবল অন্য দেশকে সাপোর্ট করলেই নয়।এমনই ন কিছু করতে হবে যেন অন্যের কাছে না যেতে হয়

ভারতেও আমাদের দেশের মতো অনেক পাগল ফ্যান রয়েছে ফুটবলের।তবে আমার কাছে আমরা তাদের থেকে একটু হলেও এগিয়ে আছি।আর তা কেবল এ বিশ্বকাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ।এরপর আসল সাপোর্টার মানে ফুটবলের আসল সাপোর্টার খুব কমই পাওয়া যাবে বলে আমি আশাবাদী ।”খালি কলসি বাজে বেশি” এ কথার পুরো সত্যতা আমাদের মাঝেই বলতে পারেন।

পুরো সাড়ে তিনটি বছর ফুটবলের কোনো খবর নেই কিন্তু আর পিতৃ বা কোনো এক সূত্রে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার সাপোর্টার হয়ে বনে যান ফুটবলের সবজান্তা।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গঠনমূলক সমালোচনা বা যে কোনো ধরনের ফুটবল বিষয়ক বিষয়ে করে বসেন যত ধরনের আবেগী কমেন্ট ।অনেকে রেগে মনের ডিকশনারি থেকে গালাগালির ভান্ডারটা বের করে প্রয়োগ করে দেন অন্যের উপর।এ কেমন বাড়াবাড়ি?

দল হেরে বাদ নিয়েছে।ফেভারিট প্লেয়ার খারাপ খেলছে।আবেগে নিজের প্রাণটাকে দড়ির সাথে ঝুলিয়ে শেষ করে দেয়ার মতো সহজ কিন্তু পাপের কাজ করতে পিছপা হতে ভয় পাইনা আমরা।হ্যাঁ এই আমরা যারা দেশের জন্য বা দেশের স্বার্থের জন্য প্রাণ দিতে পারবো কিনা এখন একাত্তরের মতো তা জানিনা তবে অন্য কোনো দেশের ফুটবল দলের জন্য দিয়ে দিতে পারি।

সারা বছর নানান দেশে নানান ফুটবলের লীগ বা টুর্নামেন্ট চলে।সেগুলোর কোনো ম্যাচই দেখা হয়না অথচ বিশ্বকাপ এলেই যেন লোকের এসব লীগ পকেটে চলে যায়।মানে এগুলা ব্যাপার না।বিশ্বকাপে দল সাপোর্ট করবো।আর দল নিয়ে কেউ কিছু করলে তাকে গালি দেবো,নিজের প্রাণ দিয়ে দেবো,মিষ্টি বিতরণ করবো আরো কত কি।

পরিশেষে অনেক কিছুই বলতে চাই।চার বছর পর পর আসে এ টুর্নামেন্ট।খেলে বিশ্বের বাঘা বাঘা দলগুলো।আর এ শুধু দল নয় পুরো জাতীয় দল।আপনি সাপোর্ট করতেই পারেন যে কোনো দলকে।কিন্তু আপনার আমার এটাও মনে রাখতে হবে যাদের জন্যে আমরা এতোকিছু করি তারা আমাদের বলতে গেলে চেনেই না।তাদের আমাদের নিয়ে অত মাথাব্যাথা নেই।তারা কেবল তাদের নিজ দেশের জন্য খেলে।আর ফ্যানদের আনন্দ দিতে খেলে।এর বেশি হলে টাকা পায় তারা আর কিছুই নেই।

আর সেখানে আমরা তাদের জন্য নিজের জমি বিক্রি করি।পরিচিতদের সাথে অনেক সময় ঝগড়া করে ফেলি।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে অপরের সাথে খারাপ আচরণ করি।নিজের মহামূল্যবান জীবনটা বিলিয়ে দেই কাদের জন্য?ওই দলের জন্য যারা আমাদের নিয়ে জানে না অনেক কিছুই।যারা জানে না আমরা কতটা পাগল বলে এমন করি।তারা জানে না আমরা নিজেদের মাঝে বিবাদে জড়াই তাদের নিয়ে।

আমাদের উচিত নিজেদের মাঝে ফুটবল নিয়ে বা খেলাধুলা নিয়ে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করা।খেলাধুলা কেবল বিনোদনেরই একটি অংশ।এর চেয়ে বেশি কিছু তা হতে পারে না।আর এ বিনোদনের অংশকে নিয়ে এমন কর্মকাণ্ড সত্যিই হাস্যকর।নিজের দলকে মন দিয়ে সাপোর্ট করলে এমনটা হয়না।ফুটবলকে সাপোর্ট করলে এমন কাজ করার প্রশ্নই আসে না।কারণ ফুটবল তার সাপোর্টারদের আক্রমণাত্মক হতে শেখায় না।ফুটবল মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়।আপনি কোনো দলের জন্য প্রাণ দিচ্ছেন,জমি বিক্রি করছে বা যা যা বিরাট কাজ করছেন সাপোর্ট এর নামে তা আপনার ফেভারিট দল জানলেও অবাকের আগে লজ্জা পাবে বা হাসবে।আর প্রাণ দিয়ে দিয়েছেন জানলে তারা নিজেদেরকেই অপরাধী ভাবতে পারে।তার আর বাড়াবাড়ি নয়।

ভালোবাসুন কেবল ফুটবলকে,
তবেই ভালোবাসতে পারবেন সবকিছুকে।

রক্ত (১ম পর্ব)

Now Reading
রক্ত (১ম পর্ব)

শীতের বিকাল।রিমাদের বাড়িতে আজ বিরাট আয়োজন হয়েছে।আর হবেই না কেন?আজ যে রিমার বড় দিদির গায়ে হলুদ।বোনের গায়ে হলুদ হলেও রিমার সাজ দেখে যে কারো মনে হবে আজ ওর নিজেরই বিয়ে হতে চলেছে।

যাই হোক,বহুদিন পর বাড়িতে সব আত্বীয়রা একত্রিত হয়েছেন।এই দেখুন রিমার বোনের নামটা বলতে ভুলে গেলাম।আমাদের কনের নাম সুমোনা।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগ হতে স্নাতক পাস করেছে।সেখানেই তার হবু বরের সাথে দেখা,পরিচয়,একে অপরকে চেনা আর এইযে পরশু বিয়ে।খুব সহজ ব্যাপারটা।বরের নামটা আপাতত গোপন থাক।সে সময় বুঝে ঠিকই এসে পড়বে।

রিমা,সুমোনার কিন্তু একজন বড় ভাই রয়েছে।তার পুরো নামটা বলি।তার পুরো নাম “মাহমুদ আল রিমন” ।বয়স প্রায় ২৮ এর মতো হবে।রিমন তার ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেই জার্মানিতে পা দেয়।কয়েক বন্ধুর সাথে সেখানের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়েছিল সেখানে।যদিও সেখানে এক মজার কান্ড বাঁধিয়ে আসে আমাদের রিমন ভাই।কৌতুহলবশত জার্মানির এক বেসরকারী গোয়েন্দা সংস্থায় চাকরি পেতে পরীক্ষা দেয় সে।ছোট থেকেই বিচক্ষণ রিমনের চাকরিটা পেতে দেরি হয়নি।তবে এক বছরের মাথায় কোনো এক কারণে তার বাবার অনুরোধে দেশে ফিরে আসে।এখানে এসেও তিনি থামেননি।ইনভেস্টিগেটর হিসেবে কাজ করছেন দেশের এক গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে।বহু ব্যস্ততার মাঝেও একমাত্র নিজের বোনের বিয়ে আছে বলেই মাত্র তিনদিনের ছুটিতে বাড়িতে আছে।

এদিকে বাড়িতে আসা আত্বীয়দের নিয়ে ব্যস্ত আছেন রহমান সাহেব।তিনি আর কেউ নন।রিমা,সুমোনা আর রিমনের বাবা।বুড়োদের নিয়ে আড্ডার আসরে বসেছেন তিনি।এত কিছুর ব্যবস্থা করতে হবে তাও যেন এসব কিছুই না তার কাছে।কিছু বললেই বলেন দুই মেয়ে আর এক ছেলেকে বড় করেছি।এগুলো এর চেয়ে কঠিন কাজ হবে কি?হ্যাঁ বলতে গেলে দুই মেয়ে আর ছেলেকে একাই বড় করেছেন তিনি।রিমার জন্মের দুই বছরের মাথায় এক রোড এক্সিডেন্টে মারা যান তার স্ত্রী সুষমা।এত তাড়াতাড়ি ছেলে-মেয়েদের ছেড়ে চলে গেলেও রহমান সাহেব ভেঙে পড়েননি।তিনি জানতেন তার সামনে বহু চ্যালেঞ্জ।আর ভেঙে পড়লে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে না।আর আজ তো মনে হচ্ছে তিনি তার চ্যালেঞ্জকে দুমড়ে দিয়েছেন।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।সবাই বসে আছে কখন সব আয়োজন শুরু হয়।এদিকে রহমান সাহেব ছেলে রিমনকে খুঁজছেন।অবশেষে খুঁজে পেলেন বারান্দায়।তবে একি!ছেলে অনুষ্ঠানের সাজ না সেজে নিজের ডিউটির পোশাক পড়েছে যে?যা তিনি ভেবেছিলেন তাই হলো।জরুরি ভিত্তিতে ডাক পড়েছে রিমনের।কোনো এক ইনভেস্টিগেশন এর কাজে এখনই তাকে ঢাকা ছাড়তে হবে।বোনের বিয়েতে একমাত্র আর বড় ভাই থাকবে না ভেবে ভেঙে পড়তে বসেছেন রহমান সাহেব।ছেলে বাবাকে বোঝানোর সব চেস্টাই করছে তবে কাজ হচ্ছে না।এদিকে রিমা তার কাজ করে চলছে।বাবার অনুপস্থিতিতে সে নিজেই যেন বাড়ির বড় কর্তী হয়েছেন।আর তাই শুরু হয়ে গেছে হলুদের মূল আনুষ্ঠানিকতা।সবার মনে তখনো অনেক আনন্দ।কিন্তু তখনো কেউ জানেই না বোনের হলুদে বাড়িতে থাকবে না ভাই।রিমা আর সুমোনা জানতে পারলে কি হবে ভেবে দেখুন একবার।

রিমন বাড়ি থেকে বেড়িয়ে সিএনজি নিয়ে রওনা দিয়েছেন শাহজালাল বিমান বন্দরের দিকে।সেখানেই তার সাথে দেখা করবেন এ ইনভেস্টিগেশনে তার সহযোগী সাত্তার।রিমন এখনো কিছুই জানে না কি হয়েছে বা কি ঘটতে চলেছে।বাবাকে শুধু কথা দিয়েছে বিয়েতে সে উপস্থিত থাকবেই থাকবে।যদিও সে জানে তা সম্ভব না হবার সম্ভাবনাই বেশি।বিমানবন্দরের সামনে আসতেই তার মনে পড়লো ভুল করে নিজের মানিব্যাগ ফেলে এসেছেন।নিজের উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে তার।কিন্তু দেখলেন সিএনজি চালক চলে যাচ্ছেন।অবাক হয়ে হা করে দাঁড়িয়ে থাকলেও সিএনজি যাবার পর তার কাছেই দাঁড়িয়েছিল একজন।ব্যক্তিটি বললো,”কিছু মনে করবেন না।আমিই ভাড়া দিয়ে দিয়েছি।আমার নাম সাত্তার।আমার সাথেই আপনার দেখা করার কথা ছিল।”এতক্ষণে রিমন বুঝতে পারলো আসল ব্যাপার।ইনিই তার সহযোগী হবেন এ ইনভেস্টিগেশনে।সাত্তারকে ধন্যবাদ জানিয়ে দুজনই হাঁটা দিলেন বিমানবন্দরের ভেতরের দিকে।যেতে যেতে কথা হচ্ছিল তাদের।

রিমনঃ”আচ্ছা,বলুনতো কি হয়েছে?আমাকে এখনো হেডকোয়ার্টার থেকে কিছুই বলা হয়নি।”
সাত্তারঃ”আসলে একটা জোঁড়া খুন হয়েছে রাঙামাটির এক গ্রামে।জায়গাটা আমার পরিচিত বলেই আমাকে আপনার সাথে পাঠিয়েছে।”
রিমনঃ”তারমানে আমরা রাঙামাটি যাচ্ছি?ওহ আমার আর নিজের বোনের বিয়েতেও উপস্থিত থাকা হচ্ছে না তাহলে।”
সাত্তারঃ”ব্যাপারটা দুঃখজনক।তবে এটাই আমাদের কাজ।”
রিমনঃ”চলুন,কি আর করার আছে?ছুটিটাও ঠিকমতো পেলাম না এবারো।”
রিমনের কথায় মৃদু একটা হাসি দিল সাত্তার।হাসিটা রিমনের কাছে কিছুটা রহস্যের মনে হলেও তার কাছে এখন এসব নিয়ে চিন্তা করে কাজ নেই।

সব কাজ শেষ।এবার শুধু বিমানে উঠে রওনা দেবার পালা।বিমানে ওঠার আগে সরাসরি বাবাকে ফোন না দিয়ে ভয়েস মেসেজে নিজের ব্যস্ততার সারাংশ পেশ করে দিলেন।মনে মনে ভাবছে আবার বোধহয় আর বাড়িতেই ঢুকতে পারবেন না আর।বিমান চলতে শুরু করেছে।সাথে শুরু হয়েছে রিমনের নতুন অভিযান।এবার সাথে সঙ্গী সাত্তার।প্রথমে চট্টগ্রাম তারপর সেখান থেকে সংস্থার দেয়া গাড়িতে করে যাবে সেই জায়গায় যেখানে তাদের কাজ করতে হবে।খুনের কেইস আর তাই রিমনের মনে অনেক কৌতুহল ।কি হতে যাচ্ছে?ছোটবেলায় পড়া গল্পের মতোই কি হবে অভিযান নাকি এবার আরো দুর্ধর্ষ কিছু হতে চলেছে?পাশে সাত্তার প্রায় ঝিমুচ্ছে ।বিমানের জানালা দিয়ে বাইরের আবহাওয়া দেখছে রিমন।কালো আঁধারের মতোই যেন দিনটা পার হয়েছে তার।আগামীকাল কি হবে তা সে জানে না।আশেপাশের সবাই প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে।ক্লান্ত রিমনেরও ঘুম পাচ্ছে।মনে মনে কি যেন ভাবতে ভাবতে তার দুচোখের পাতা মিলে গেল। (চলবে….)

কেমন চলছে ‘ফেসবুক’ বাংলাদেশে? (and its no good!)

Now Reading
কেমন চলছে ‘ফেসবুক’ বাংলাদেশে? (and its no good!)

ফেসবুক,বিজ্ঞানের এগিয়ে যাওয়ার পথচলায় প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে ইন্টারনেট জগতে।বর্তমানে আমাদের দেশের কয়েক কোটি মানুষ এই সাইটের সাথে জড়িত। যেখানে মাত্র কয়েক বছর আগেও এর সংখ্যা এক কোটিরও কম ছিল।আর এখন অনেক মোবাইল অপারেটর এ বিষয়কে মাথায় রেখে দিচ্ছে নানা অফার।হঠাৎ এই সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেকে যেমন বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে তেমনি এর নেতিবাচক ফলাফলও অসংখ্য।

এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে আইসিটির উন্নয়ন এর ফলে আজ কোনো কিছুই আমাদের অগোচরে নেই।সবার কাছে ইন্টারনেট পৌছে যাওয়া শুরু হয়েছে।আর এখন মানুষ ফেসবুক ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার প্রায় করে না বললেই চলে।সকলেরই ফেসবুকে একটা আইডি চাই।ছোট ছেলে-মেয়েরাও আজ খুব একটিভ এই সাইটে।তবে আমাকে যদি কেউ বলে ফেসবুক কি আসলেই এতো জরুরি?এতটাই প্রয়োজনীয়?

বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় আজ এখানে জুড়ে বসেছে সস্তা নোংরামি,বেহায়াপনা,ডিজিটাল ডাকাতিসহ নানান ধরনের সাইবার অপরাধ।যা শুধু দেশ না পুরো জাতির ইমেজ খারাপ করছে কখনো কখনো।

ফেসবুকের নেতিবাচক দিকগুলোর অন্যতম একটি হলো পর্নোগ্রাফি।হয়তো ভাবতে পারেন ফেসবুকে আবার এইসব কিভাবে সম্ভব?ওই যে প্রযুক্তি,তার কারণ এ আজ এটা সম্ভব।ফেসবুক লাইভকে কাজে লাগিয়ে আজ কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ ছড়াচ্ছে এইসব।অনেক পেজেই আজ এইসব ছড়ানো হচ্ছে।তবে এগুলো কোনোটিই বাংলাদেশি পেজ নয়।এখন আপনার মনে আসতে পারে,তাহলে আমরা এইসব থেকে মুক্ত।না,কারণ কিছু বিকৃত মানসিকতার মানুষ রয়েছে আমাদেরই মাঝে।বাংলাদেশি কয়েকটি গ্রুপে লাইভ পর্ন জাতীয় পোষ্ট দেখা গিয়েছে।আর এগুলো সবই কোনো না কোনো মেম্বার দ্বারা ওই গ্রুপে শেয়ার করা হয়েছে।আমি নিজেই এমন এক বিষয় লক্ষ্য করেছি একটি ফেসবুক গ্রুপে।বিশাল সংখ্যক মেম্বার নিয়ে গঠিত এইসব গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন।আর এটিকে পুঁজি করে এইসব ছড়ায় গুটিকয়েক অমানুষ।তাহলে বুঝতেই পারছেন কতটা খারাপের দিকে যাচ্ছে এই ফিচারটি।

এটিই শেষ নয়।সম্প্রতি এক ফেসবুক গ্রুপের এডমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে ‘ডিজিটাল চাঁদাবাজি’র।খাবারের রিভিউ বিষয়ক ওই গ্রুপটি ভোজন রসিকদের মাঝে বেশ পপুলার।সেই গ্রুপেরই এক এডমিনের উপর উঠেছে এমন অভিযোগ।তার বিরুদ্ধে কিছু ক্যাফে,রেস্তোরাঁ,হোটেলের ভালো রিভিউ পাইয়ে দেয়ার বদলে মাসে কয়েক হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠে।যদিও সে এইসব মিথ্যে দাবি করে থানায় জিডি করেছে।ধরুন ব্যাপারটি সত্যি হলে তা কতটা ভয়াবহ?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত এই সাইটে থাকে একে অপরের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ,থাকে অশ্লীলতাকে নিয়ে দিনরাত মজা-ঠাট্টা।চলে একে অপরের ক্ষতি করার লক্ষ্যে অপপ্রচার।চলে মানুষকে ধোকা দেয়ার মাধ্যমে কিছু নোংরা উদ্দেশ্য হাসিল করা(সচেতন অনেকেই দেখে থাকবেন নানান পেজের কমেন্ট বক্সে)।চলে লাইভে এসে নোংরামি করা,সস্তায় পাবলিসিটি পাবার আসায় নিম্নমানের কর্মকাণ্ড।চলে মাদকের দিকে ধাবিত করার নোংরা খেলা(কিছু ‘memes’ এর জন্য দায়ী)।চলে সেলেব্রিটিদের হেয় করার মতো বাজে খেলা,স্ক্যান্ডেল শব্দটিকে পুঁজি করে তাদের করা হয় হেনস্থা। এতেই শেষ করছি যদিও লিস্টটা এতো সহজে শেষ করার মতো না।

তবে একটা বিষয় না বললেই নয়।বেশি ফেসবুক নির্ভরতা ভালো নয় আমাদের জন্য।এর ইফেক্ট খুবই মারাত্মক হতে পারে ছোটদের জন্য।অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহারকারীরা একাকীত্বে ভোগে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।একইসাথে এটি অবসাদের কারণ হতে বলে তারা ধারনা করছেন।ফেসবুকের জন্মস্থান আমেরিকায় এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।তারা নিজেদের অঞ্চল ভিত্তিক নতুন সামাজিক মাধ্যমে যোগ দিতে বেশি পছন্দ করছেন নিজেদের সামাজিকতাকে বজায় রাখতে।

এতো খারাপের মাঝেও ফেসবুকের রয়েছে ইতিবাচক কিছু ব্যবহার।আর এই ব্যবহারগুলোই আমাদের করা উচিত নিজেদের এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য।

আজকাল প্রায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ফেসবুক লাইভের উৎকৃষ্ট ব্যবহার করছে। তারা ফেসবুক লাইভে এসে পড়ালেখার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে।যার ফলে আজ অনেকের টিউশনের প্রয়োজন হচ্ছে না।এতে বেশ লাভবান হচ্ছে শহরের বাইরের ছাত্র-ছাত্রীরা।কিছু প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে প্লাটফর্ম। যার সম্পর্কে অনেকেই ফেসবুকে সহজেই জানতে পারছে।’ফুটপ্রিন্ট’ ঠিক এমনই এক প্লাটফর্ম।

এছাড়াও আজ এই ইতিবাচক দিকে জায়গা করে নিয়েছে।যে কোনো দুর্যোগ এ এক হয়ে কাজ করছে অনেকে।শীতের সময় ফেসবুক ইভেন্ট এর মাধ্যমে চেষ্টা করা হয় অসহায়দের মাঝে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া।চলে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে রক্তের সন্ধান।চলে এক হয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে নিজেদের অবস্থানের জানান দেয়া।চলে মানুষের মাঝে মানবতাবোধ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা।ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে করা হয় প্রোমোশনাল,সাইন্স ফেয়ারসহ নানান ইভেন্ট।যার মূল লক্ষ্য থাকে দেশের সেবা,দেশের মানুষের সেবা,বিজ্ঞানের উন্নয়নসহ আরো নানান ইতিবাচক বিষয়।

এতো নেতিবাচক আর ইতিবাচকের মাঝে খারাপ বিষয়গুলোই আমাদের সামনে অনেক বেশি আসে।যার কারণে আমরা খারাপের প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়ি।ভুলে যাই নিজেদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য এর কথা।নেমে পড়ি ভার্চুয়াল লাইফে তথাকথিত ফেমাসের তকমা গায়ে লাগানোর প্রতিযোগিতায়।

সবখানে ভালো-মন্দ রয়েছে।আমরা সৃষ্টির সেরা।আর আমাদের কাজও তাই হওয়া প্রয়োজন অন্যদের থেকে আরো ভালো।আর তা না হলে কি পার্থক্য রয়ে যাবে আমাদের আর পশুদের মাঝে?মনুষ্যত্বকে হারিয়ে ফেলতে নয় বরং এর এটিকে আরো বেগবান করার জন্য ‘ফেসবুক’ নামক এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা উচিত বলে আমি মনে।ভুল মানুষই করে তাই আমাদের উচিত নিজেদেরকে শুধরে ফেসবুকের নেতিবাচক দিকগুলোকে এড়িয়ে চলে তার ইতিবাচক দিকগুলোর দিকে নজর দেয়া।