5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

ইন্টারনেটে ভুয়া খবর ঠেকাতে আইন প্রণয়ন

Now Reading
ইন্টারনেটে ভুয়া খবর ঠেকাতে আইন প্রণয়ন

তথ্যপ্রযুক্তির জগতে প্রভাবশালী ফেসবুক, টুইটার, গুগল—সব প্রতিষ্ঠানেরই এশিয়া সদর দপ্তর রয়েছে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে। ৫০ বছর আগে ব্রিটিশদের পরাধীনতা থেকে মুক্ত হয় দেশটি। তখন থেকেই একটি রাজনৈতিক দলই দেশটিকে পরিচালনা করছে। দেশটির সরকারের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কেন্দ্রস্থল হওয়ায় এবং সেখানে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বসবাস থাকায় ও ইন্টারনেটে ব্যাপক প্রবেশাধিকার থাকায় ভুয়া খবরের ছড়িয়ে পড়ার দিক দিয়ে দেশটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে সিঙ্গাপুরের অবস্থান ১৫১। রাশিয়া ও মিয়ানমারেরও নিচে দেশটির অবস্থান।

ইন্টারনেটের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার মতামত পাতায় এক খোলা চিঠি লেখেন। ওই চিঠিতে জাকারবার্গ বলেন, ক্ষতিকর কনটেন্ট পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নেওয়া বেশ কঠিন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন কিছু আইন দেখতে চান বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নতুন আইনগুলো সব ওয়েবসাইটের জন্যই প্রযোজ্য হতে হবে, যাতে কোনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বন্ধের কাজটি সহজ হয়। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি ইন্টারনেটের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানোর দুই দিন পর সিঙ্গাপুর সরকার এ পদক্ষেপ নিল।

ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ভুয়া খবর ঠেকাতে আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর। গতকাল সোমবার দেশটির পার্লামেন্টে এ–সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এটি আইনে পরিণত হলে সরকার বিপুল ক্ষমতা পেয়ে যাবে ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকার সংগঠন। পার্লামেন্টে উত্থাপিত প্রস্তাব অনুসারে, ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা কিছু তথ্য ভুয়া মনে করলে ‘জনস্বার্থে’ তা সরিয়ে নেবে এবং পোস্টদাতাকেও সতর্ক করবে।

ফেসবুক তার প্ল্যাটফর্ম থেকে সাদা জাতীয়তাবাদী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী তথ্য নিষিদ্ধ করেছে

Now Reading
ফেসবুক তার প্ল্যাটফর্ম থেকে সাদা জাতীয়তাবাদী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী তথ্য নিষিদ্ধ করেছে

ফেসবুক জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকে ফেসবুক ও ইনস্ট্রাগ্রাম “জাতীয়তাবাদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের প্রশংসা, সমর্থন ও প্রতিনিধিত্ব” অবরুদ্ধ করবে। সশস্ত্র মিডিয়া দৈত্য সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী থেকে উপাদান সনাক্ত এবং ব্লক করার ক্ষমতা উন্নত করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।ফেসবুক ব্যবহারকারীরা আপত্তিজনক শর্ত অনুসন্ধানের জন্য দাতব্যকে নির্দেশিত করবে যা ডানদিকে ডান চরমপন্থাকে জোর করে।
নিউজিল্যান্ডে দুই মসজিদের উপর হামলা চালানোর পর সামাজিক নেটওয়ার্ক চাপে পড়েছে। ফেসবুকে কিছু সাদা জাতীয়তাবাদী কন্টেন্টের অনুমতি দেয় যা বর্ণবাদী হিসাবে বিবেচিত ছিল না – যা সাদা জাতিগত রাজ্যের সৃষ্টি করার জন্য ব্যবহারকারীদের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানি বুধবার একটি ব্লগ পোস্টে বলেছিল যে এটি শিক্ষাবিদ ও বেসামরিক গোষ্ঠীর সাথে তিন মাসের কথোপকথনের পর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এটি হ’ল লোকেদের সাহায্যের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এমন সম্পদগুলিতে হোয়াইট সার্বমাসত্বের সাথে সম্পর্কিত পদ অনুসন্ধানের জন্য পুনর্নির্দেশ করবে। ঘৃণা গ্রুপ পিছনে ছেড়ে।

ফেসবুক, টুইটার এবং ইউটিউব এই মাসের শুরুর দিকে তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছিল হোয়াইট ন্যাশনালস্টের সাথে বন্দুকধারী ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে গুলি চালানোর লাইভস্ট্রিম গ্রাফিক ফুটেজের ফলে। এই ভিডিওটি অনুলিপি এবং একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি থেকে আপলোড করা হয়েছিল যখন মূল ফেসবুক থেকে নিচে নামিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাকিন্দ আর্মেন ​​এই আক্রমণের পর তাদের সাইটগুলিতে ভাগ করা চরমপন্থী সামগ্রীর জন্য আরো দায়িত্ব নিতে প্ল্যাটফর্মের আহ্বান জানান।
তিনি ফেসবুকের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, “এটি যথেষ্ট পরিমাণে এগিয়ে যায়নি এবং সহিংস চরমপন্থীদের দ্বারা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির ব্যবহার সম্পর্কিত একটি সমন্বিত বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আমি মনে করি ফেসবুকের সম্প্রদায়ের মানগুলি যখন আপনি দেখেন যে তারা ঘৃণাত্মক বক্তব্যের অনুমতি দেয় না, তখন আপনি সম্ভবত মোটামুটিভাবে অনুমান করবেন যে তারা যা ঘোষণা করেছে তা ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

অস্ট্রেলিয়াকে কঠোর ফৌজদারি জরিমানা করার হুমকি দিয়েছে এবং কর্মকর্তাদের জন্য কারাদন্ডসহ। কারণ সামাজিক মিডিয়া কোম্পানি তাদের পণ্য নিরাপদ নিশ্চিত করতে এবং সন্ত্রাসী আক্রমণ লাইভ স্ট্রিমিং প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে তাই।
স্কট মরিসন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী, এই সপ্তাহে সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে সন্ত্রাসী সামগ্রীর সাথে “অস্ত্রোপচার” করা থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করছে।

ফেসবুক বলেছে যে এটি এখন পরিষ্কার যে এই ধারণাগুলি সংগঠিত ঘৃণা গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত ছিল এবং হোয়াইট সার্বিকতা থেকে আলাদাভাবে দেখা যায় নি। কোম্পানী আরও যোগ করেছে যে এটি সন্ত্রাসী উপাদানগুলির জন্য পর্যবেক্ষণ থেকে মেশিন লার্নিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিস্তৃত করেছে। এতে সাদা সর্ম্পকেবাদীদের সহ ঘৃণা গোষ্ঠীগুলির জন্য পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত সপ্তাহে ফেসবুক জানিয়েছে যে নিউজিল্যান্ড মসজিদের হামলার প্রথম ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোম্পানিটি লাইভস্ট্রিম ভিডিওর 1.2 মিলিয়ন কপি ফেসবুক থেকে মুছে ফেলে। ফেসবুক থেকে সরানো আগেই লাইভস্ট্রিমটি ৪০০০বার দেখানো হয়েছিল।
মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রদত্ত অনলাইন আক্রমন প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার কারণে গত বছর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ফেসবুক। তাই এখন বিশেষ করে ঘৃণাত্মক বক্তৃতা মোকাবেলা করার জন্য সংস্থাটি তার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

ইইউ কর্মী ইন্টারনেট ফিল্টার মুক্ত রাখতে নিচ্ছে চূড়ান্ত পদক্ষেপ……

Now Reading
ইইউ কর্মী ইন্টারনেট ফিল্টার মুক্ত রাখতে নিচ্ছে চূড়ান্ত পদক্ষেপ……

মার্চের শেষের দিকে ইউরোপীয় সংসদটি একটি ল্যান্ডমার্ক কপিরাইট সংস্কারের উপর ভোট দেওয়ার প্রত্যাশা করছে যা ইইউটিউব এবং ফেসবুকের মতো সৃজনশীল ও রাজনৈতিক অভিব্যক্তিগুলির জন্য প্রধান অনলাইন স্পেসগুলি উত্থাপন করতে পারে। ইইউ কপিরাইট নির্দেশিকাটির সর্বশেষ খসড়া – যা মূলত বন্ধ করা দরজাগুলির পিছনে টানা এবং বিতর্কিত হয়েছে অন্তর্ভুক্ত ১৩টি আর্টিকেল করে। যার জন্য ইউটিউবের মত ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মগুলি “আপলোড ফিল্টার” ইনস্টল করার জন্য একটি প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া দরকার যা ব্যবহারকারীদের কপিরাইট-সুরক্ষিত আপলোড থেকে বাধা দেয় এবং প্রধান ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে কার্যকরভাবে “পূর্ব সেন্সরশিপ” এর একটি সিস্টেম প্রয়োগ করে।

কপিরাইট নির্দেশনার একটি চূড়ান্ত ভোট ২৬ শে মার্চ থেকে ২৮ শে মার্চের মধ্যে আশা করা হচ্ছে। ভোটের দিনগুলিতে নাগরিকদের এবং ডিজিটাল অধিকার সমর্থকদের এই নীতির পুনর্বিবেচনার জন্য আইনীদের দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ করার জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ১২ মার্চ পর্যন্ত আর্টিকেল ১৩ এর বিরুদ্ধে পাঁচ মিলিয়নেরও বেশি লোকের একটি পিটিশন স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং হাজার হাজার লোক তাদের ইউরোপীয় সংসদ সদস্যকে ডেকে পাঠিয়েছে। ২৩শে মার্চ জনবিক্ষোভের একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং কয়েকটি বড় ওয়েবসাইট যেটি প্রভাবিত হবে সেটি ২১ শে মার্চ জার্মানির চেক, ড্যানিশ এবং স্লোভাক সংস্করণ সহ একটি প্রতীকী ব্ল্যাকআউট অনুষ্ঠিত করার পরিকল্পনা করেছে । এই ধরনের পরিবর্তন আইন শুধুমাত্র ইইউ সদস্য রাজ্যের জন্য প্রযোজ্য হলেও এটি বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটে প্রচুর প্রভাব ফেলতে পারে। যদি ইউরোপে এই ধরনের ফিল্টারিং সিস্টেমগুলি তৈরি এবং স্থাপন করা হয় তবে অন্য দেশে সরকার আগ্রহ হতে পারে এবং তাদের নিজস্ব অঞ্চলের অনুরূপ (বা এমনকি অভিন্ন) প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারে।

ইরাক বিতর্কিত সাইবারক্রাইম বিল বিতর্ক স্থগিত করেছে-

ইরাকের কাউন্সিল অফ রিপ্রেজেনটেটিভস বিতর্কিত সাইবারক্রাইম বিল বিবেচনা করছে যা “কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট” ব্যবহার করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের জন্য সারাজীবন কারাদণ্ড এবং বেআইনি জরিমানা আরোপ করবে যাতে দেশের স্বাধীনতা, সততা ও নিরাপত্তা বা তার সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক বা নিরাপত্তা স্বার্থ বা ইলেকট্রনিক আর্থিক ব্যবস্থার দুর্বল আস্থার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করতে না পারে। এই মাসের গোড়ার দিকে মানবাধিকার সংগঠন ইরাকী সংসদকে বিল প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। কাউন্সিলটি মার্চের ১৪ তারিখে বিলটি বিতর্ক করার জন্য নির্ধারিত হয়েছিল তবে পরে এটি সময়সূচী থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

ভেনিজুয়েলার সাংবাদিক সংকটের মধ্যে আটক-

ভেনেজুয়েলার সাংবাদিক ও মানবাধিকার রক্ষাকর্মী লুইস কার্লোস দিয়াজ ১১ ই মার্চ সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন এবং পরে তাকে সরকারি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আটক করা হয়। তিনি ১২ মার্চ মুক্তি পেয়েছিলেন, অভিযোগ ও মুলতুবি থাকা অবস্থায় তিনি প্রতি আটদিন অন্তর অন্তর কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করবেন। লুইস কার্লোস গ্লোবাল ভয়েসেস সম্প্রদায়ের দীর্ঘকালীন এবং পালিত সদস্য । এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ভেনেজুয়েলার চলমান সংকটের মধ্যে তথ্যগুলিতে জনসাধারণের অ্যাক্সেস বজায় রাখার জন্য বক্তৃতার স্বাধীনতা রক্ষা এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্কের ব্যবহার করার জন্য কাজ করেছেন। তিনি এবং তার স্ত্রী নাকি সোটো একটি অতিশয় জনপ্রিয় ভিডিও প্রোগ্রাম হোস্ট করেন যেখানে তারা রাজনৈতিক ভাষ্য এবং হাস্যরস প্রদান করে।

মিশরীয় কর্তৃপক্ষ ব্লগার আলা আব্দ এল ফাত্তাহর মুক্তি স্থগিত রেখেছে-

মিশরীয় কর্তৃপক্ষ বিশিষ্ট ব্লগার এবং কর্মী আলা আব্দ এল ফাত্তাহের মুক্তি ১০ দিন ধরে বিলম্বিত করেছে । ১৭ ই মার্চ, ২0১৯ তারিখে আবদুল ফাত্তাহা পাঁচ বছরের সাজা ভোগ করে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। ২0১৩ সালের নভেম্বরে বিশিষ্ট ব্লগার এবং রাজনৈতিক কর্মীকে তার বাড়ী থেকে আটক করা হয়েছিল । এক বছরেরও বেশি সময় পরে তাকে ২0১৩ সালে আইনের অধীনে “প্রতিবাদ সংগঠিত” করার জন্য পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এবং অননুমোদিত বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সামরিক বিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নিলেও তিনি সংগঠিত করার ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা রাখেননি।

নারী “Aurat March”-এর নেতারা পাকিস্তানি অনলাইন হুমকি্র মুখোমুখি-

৮ মার্চ পাকিস্তানের সাতটি শহরের নারীরা নারী ও এলজিবিটিকিউর জনগণের অধিকার প্রচারের লক্ষ্যে একটি জাতীয় “Aurat March” -এ অংশগ্রহণ করেছিল। মার্চে যখন অনলাইনে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পেয়েছিল তখন তারা সরকারি কর্মকর্তাদের দ্বারা চূড়ান্ত তদন্তের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছিল এবং পাকিস্তানের নারীর আন্দোলনে কিছু নেতৃস্থানীয় কণ্ঠের বিরুদ্ধে উন্মুক্ত হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ডিজিটাল রাইটস ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও গ্লোবাল ভয়েসেস সম্প্রদায়ের সদস্য নিহাত বাবা প্রকাশ্যে টুইটারে আরও কয়েক শত নারীকে ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ জানান।

ফিলিপাইন মিডিয়া গ্রুপ সাইবার আক্রমণ অস্বীকার-

ফিলিপাইনে কয়েকটি মিডিয়া গ্রুপ সাইবার সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে ১২ মার্চ বিশ্বব্যাপী স্বাধীন মিডিয়া সাইটগুলিতে সাইবার হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বুলাটাত, কোডো প্রোডাকসন্স, পিনয় সাপ্তাহিক এবং অ্যালটারমিডিয়া এমন সাইটগুলির মধ্যে রয়েছে যা ২0১৮ সালের ডিসেম্বরে পরিষেবা অস্বীকার (ডিডিএস) আক্রমণকে বঞ্চিত করে। গ্রুপগুলি বলে যে এই হামলাগুলি ফিলিপাইন সরকার দ্বারা সমর্থিত ছিল। ফিলিপাইনের জাতীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের ওয়েবসাইটও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে।

ফেসবুকের লাইভস্ট্রিম বন্ধ করে দেওয়ার দাবি নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা

Now Reading
ফেসবুকের লাইভস্ট্রিম বন্ধ করে দেওয়ার দাবি নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা

ব্রেনটন হ্যারিসন টারান্ট নামের অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ২৮ বছর বয়সী তরুণ গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে জুমার নামাজ চলাকালে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। কাছাকাছি লিনউড মসজিদে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। দুই মসজিদে হামলায় প্রাণ হারান ৫০ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

আর নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ভয়াবহ হামলা ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার হওয়ার পর থেকে ফেসবুকের ওপর বৈশ্বিক চাপ বাড়ছে। ফেসবুক কীভাবে আপত্তিকর সহিংস কন্টেন্ট তাদের প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ দিয়েছে, তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। ফেসবুকের লাইভস্ট্রিম বন্ধ করে দেওয়ার দাবি উঠছে।

ফেসবুকের পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গুগলের ইউটিউব, টুইটারেও লাখ লাখ কপি ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিও কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। কিন্তু মসজিদে হামলার ঘটনাটি ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বেছে নেওয়ায় এ প্ল্যাটফর্ম নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সরকার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ছড়ানো রোধে বাড়তি ব্যবস্থা নিতে বলেছে। তারা এসব মাধ্যমের ভারসাম্য রক্ষার নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা বিশেষ করে ভিডিও লাইভস্ট্রিমের বিষয়টিতে আপত্তি করছে। যুক্তরাষ্ট্রেও এসব কোম্পানির সমালোচনা হচ্ছে। সেখানকার প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এলিজাবেথ ওয়ারেন নির্বাচনে জিতলে ফেসবুক, গুগল ও আমাজনের মতো কোম্পানিগুলোকে ভেঙে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

ফেডারেল সরকার ও বিরোধী লেবার পার্টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সন্ত্রাসী ভাবধারা ও কনটেন্ট ছড়ানো রোধে বাড়তি পদক্ষেপ দাবি করছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্মে সন্ত্রাসী ভিডিও ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, একবার এসব মাধ্যমে ভিডিও চলে এলে তা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো কঠিন। এ বিষয়ে বাস্তবিক কিছু আলোচনা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। এত দিন তারা সীমিত আকারে সহযোগিতা করেছে।

নিউজিল্যান্ডের সন্ত্রাসী হামলার ওই ভিডিও পুরোপুরি ফেসবুক থেকে মুছে ফেলা হয়েছে—এমন কথা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি ফেসবুকের মুখপাত্র। ওই ঘটনার সম্পাদিত ও বিকৃত নানা ফুটেজ ফেসবুকে আপলোড করার চেষ্টা করছেন অনেকেই। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, ২৪ ঘণ্টায় ১৫ লাখ ভিডিও সরানো হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই আপলোড করার সময় বাধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিন লাখ ভিডিও পোস্ট হয়ে গেছে।

ফেসবুক নিউজিল্যান্ডের নীতিমালাবিষয়ক পরিচালক মিয়া গারলিক বলেছেন, নীতিমালাবিরুদ্ধ কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাঁরা। প্রযুক্তি ও মানুষের সহায়তায় সম্পাদিত ভিডিওগুলোও মুছে ফেলা হবে।

নির্বাচনে নজরদারি করবে ফেসবুক……

Now Reading
নির্বাচনে নজরদারি করবে ফেসবুক……

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ছিল ফেক নিউজ। এ নিয়ে নানান আলোচনা ও সমালোচনা নির্বাচনের পরেও চলছে। সেই আলোচনা–সমালোচনা এবার বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে না হয় সে জন্য ব্যবস্থা নেবে ফেসবুক। ৫৪৩ আসনের নির্বাচন ঘিরে কেউ যেন গুজব ও ভুয়া খবর ফেসবুকে ছড়াতে না পারে, সে জন্য তৎপর ফেসবুক। এ জন্য ভারতে পর্যবেক্ষণকেন্দ্র (অপারেশন সেন্টার) খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক।

ভারতে লোকসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হবে আগামী ১১ এপ্রিল থেকে। এরপর ছয় ধাপে এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে চলবে নির্বাচন। সাত ধাপে নির্বাচন শেষে আগামী ২৩ মে ভোটের ফল ঘোষণা হবে। সেই নির্বাচন উপলক্ষে ফেসবুক নয়াদিল্লিতে পর্যবেক্ষণকেন্দ্র চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুরো নির্বাচনে ফেসবুককে ব্যবহার করে যেন কেউ ভুয়া খবর ছড়াতে না পারে এই কেন্দ্র থেকে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে ভারতে ফেসবুকের পর্যবেক্ষণকেন্দ্র কবে খোলা হবে বা কবে থেকে চালু হচ্ছে তা জানা যায়নি।

ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার পাবলিক পলিসি পরিচালক শিবনাথ থুকরাল বলেছেন, ভারতের নয়াদিল্লিতে ফেসবুক অপারেশন সেন্টার খুলবে। ফেসবুকের প্রধান কার্যালয় মেনলো পার্ক (ক্যালিফোর্নিয়া), ডাবলিন (আয়ারল্যান্ড) এবং সিঙ্গাপুর কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এ পর্যবেক্ষণকেন্দ্র থেকে ২৪ ঘণ্টা নির্বাচন নজরদারি করা হবে। ভারতের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়াতে পারবে না—এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফেসবুক সেটা নিশ্চিত করতে চায়। এ ব্যাপারে ভারতের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ফেসবুক তাদের সহযোগিতা করে যাবে।

ভারতে বিগত নির্বাচনগুলোর সময় ফেসবুকে অনেক ভুয়া খবর ছড়ানো হয়েছিল। এ জন্য জনপ্রিয় এ মাধ্যম ব্যাপকভাবে সমালোচনার মধ্যে পড়ে। তবে এবার সে সুযোগ থাকছে না বলে জানিয়ে দিয়েছে ফেসবুক।

গতকাল রোববার ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। সে সময় তিনি বলেন, ফেসবুক, টুটটার, হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগের সব মাধ্যম রাজনৈতিক দলগুলোর বিঞ্জাপন প্রচারের আগে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলবেন। এ ছাড়া ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগ ‘সাইলেন্স প্রিয়ড’–এ চলে যাবে।

এপ্রিল ও মে মাসের সাতটি দিনে সাত দফায় লোকসভার মোট ৫৪৩টি আসনের ভোট গ্রহণ হবে। এই তারিখগুলো হলো ১১ এপ্রিল, ১৮ এপ্রিল, ২৩ এপ্রিল, ২৯ এপ্রিল, ৬ মে, ১২ মে ও ১৯ মে। আর ২৩ মে ফল ঘোষণা করা হবে। ভারতে লোকসভা নির্বাচনের পাশাপাশি বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে অন্ধ্র প্রদেশ, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ ও ওডিশা রাজ্যে।

প্রায় ৯০ কোটি ভোটার এবারের লোকসভা নির্বাচনে ভোট দেবেন। এবারের লোকসভা নির্বাচনে মোট ১০ লাখ ভোটকেন্দ্র থাকবে। গতবারের চেয়ে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন ৮ কোটির বেশি ভোটার।

বর্তমান লোকসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৩ জুন। লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে জয়ী হতে হবে ২৭২টি আসনে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি ২৮২টি আসনে জয় পেয়েছিল। সব মিলিয়ে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পেয়েছিল ৩৩৬টি আসন। আর দুই দফা সরকার গঠনের পর মাত্র ৪৪টি আসনে জয়ী হতে পেরেছিল কংগ্রেস।

প্রাইভেসিকেন্দ্রিক ফেসবুক নেটওয়ার্ক তৈরি করার জোরদার প্রচেষ্টা……

Now Reading
প্রাইভেসিকেন্দ্রিক ফেসবুক নেটওয়ার্ক তৈরি করার জোরদার প্রচেষ্টা……

ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ প্রাইভেসিকেন্দ্রিক ফেসবুক নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চান। তাঁর বিশ্বাস, নিরাপদ ব্যক্তিগত বার্তা আদান–প্রদান করার সেবা উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মের চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হবে। সম্প্রতি এক ব্লগ পোস্টে জাকারবার্গ তাঁর লক্ষ্যের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ফেসবুকের হাতে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং সেবা আছে তবে এতে বার্তা এনক্রিপ্ট–সুবিধা যুক্ত করলে নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন দেখিয়ে অর্থ আয়ের সুযোগ কমবে।

সম্প্রতি ফেসবুক ঘিরে বেশ কিছু তথ্য ফাঁস ও কেলেঙ্কারির কারণে সমালোচনা হচ্ছে। জাকারবার্গ বলেছেন, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম মানুষকে বন্ধু ও কমিউনটির সঙ্গে তাদের পছন্দের ভিত্তিতে যোগাযোগের সুযোগ করে দেয়। কিন্তু মানুষের এখন ব্যক্তিগত ঘরের মতো ডিজিটাল ক্ষেত্রেও একান্ত যোগাযোগের সুবিধা চাওয়া বেড়েছে। তাই তিনি সোশ্যাল নেটওয়ার্ককে প্রাইভেসিকেন্দ্রিক করতে চান এবং তথ্য সংরক্ষণব্যবস্থাকেও নিরাপদ করতে চান। প্রাইভেসি রক্ষার এ লক্ষ্য অর্জনে যেসব দেশ বাক্‌স্বাধীনতা লঙ্ঘন ও মানবাধিকার রক্ষা না করার ঘটনায় দুর্বল, তাদের স্পর্শকাতর তথ্য সংরক্ষণ করা হবে না। এ লক্ষ্য অর্জনে কয়েকটি দেশে ফেসবুক বন্ধ হতে পারে বা অনেক দেশে কার্যক্রম চালানো কঠিন হতে পারে। বিষয়টি মেনে নিতে প্রস্তুত। এনক্রিপ্ট বার্তা আদান–প্রদানের বিষয়টি ব্যবসার জন্য নতুন টুল তৈরি হবে বলে মনে করেন জাকারবার্গ। অনলাইন পেমেন্ট ও কমার্স খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। কবে নাগাদ এ লক্ষ্যে কাজ শুরু হবে, তার সময়সীমা বেঁধে দেননি জাকারবার্গ। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ সুবিধা চালু হতে পারে।

জাকারবার্গ বলেছেন, ‘আমি মনে করি, মানুষ যাতে ব্যক্তিগতভাবে কথাবার্তা বলতে পারে এবং মুক্তভাবে কথাবার্তা চালাতে পারে, সে লক্ষ্য আমাদের কাজ করা উচিত। পৃথিবীকে যদি আমরা সেদিকে নিতে পারি, তবে একটা পার্থক্য গড়ে দেওয়া যাবে।’

আমাদের সমাজের তেলতেলে নেতা ।

Now Reading
আমাদের সমাজের তেলতেলে নেতা ।

বাংলাদেশে আজ তেলের দাম যত বেশি হক না কেন নিজ থেকে উপরের লেভেলের কাউকে তেল মারতে তাদের তেমন বেগ পেতে হয় না।হক সে পিয়ন পদে আছে , বা হক সে বাংলাদেশে রাজনীতির সাথে জড়িত আছে । বাংলাদেশী ব্যতীত অন্য কোনো দেশে এই রকম নিজের থেকে উপরের লেভেলের বসদের তেল দেয়ার সিস্টেম আছে কিনা তা আমার জানা নেই ।

আমাদের সমাজে একটা প্রচলিত কথা আছে , অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে , নিজেকে সেই গর্তে পড়তে হয় । ঠিক আজ এই কথা টা আমাদের সামনে প্রমাণ করে দিলেন বরিশাল জেলার আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজু । তিনি এক ধারে বরিশাল জেলার ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন তিনি । ইউএনও তারিক সালমানের বিরুদ্ধে সাজু সাহেব মামলা করেন , কারণ তারিক সালমান বঙ্গবন্ধু এর বিকৃত ছবি ২৬ মার্চ এর আমন্ত্রণ পত্রে ব্যবহার করেছেন । সব কিছুর একটা সীমা রেখা থাকে । কিন্তু আমাদের সাজু সাহেব মনে হয় তার সীমারেখা বুঝে উঠতে পারেন নি । যার কারণে তিনি তার নিজের তেলে পা পিছলে পরে গিয়েছেন ।

বাংলাদেশের অন্যতম ইউটিউববার ও বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট এর সিইও নাহিদ সাহেব এই নিয়ে গত কাল বাংলাদেশীজম ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও আপলোড দিয়েছেন । তিনি তার ভিডিওতে বলেছেন . তেলাতেলি আজ এমন এক পর্যায় চলে গিয়েছে যে , এখন বড় বড় মানুষের এমন ভাবে তেল ঢালে যে সে নিজেরা পা পিছলে পরে যায় । আসলে উনি ঠিক কথা বলেছেন । ওবায়েদ উল্লাহ কে আজ অতিরিক্ত তেল ঢালার কারণে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে

ঘটনা ঘটেছিলো একটি বাচ্চা ছেলে বঙ্গবন্ধুর ছবি তার ভালোবাসার জায়গা থেকে এঁকে ছিল । সেই ছবিটি ইউএনও এর পছন্দ হবার কারণে তিনি আমন্ত্রণ কার্ডে ছবিটি ব্যবহার করেছিল । যা আমাদের সাজু সাহেবের নাকি পছন্দ হয়নি । অতিরিক্ত ভালোবাসা থেকে তিনি মামলা ঠুকে দেন সালমান এর নাম ।

ভিডিও তে আরো বলা হয়েছে , একটা মানুষ এর ব্যক্তিগত জীবনে সুখ , দুঃখ . হাসি , কান্না এই সব থাকবে । কখনো তাদের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হবে , আবার কখনো তাদের মধ্যে পুনরায় ভালোবাসা সৃষ্টি হবে । আবার কেউ তাদের ঝামেলার কাৰণে এঁকে অপর থেকে সরে আসবে । এইটাই নিয়ম । আমরা হয়তো ভুলে গিয়েছি যারা সেলেব্রিটি তাদের ব্যক্তিগত জীবন আছে । এতক্ষণে পাঠক নিশ্চয় বুঝে গিয়েছেন নাহিদ সাহেব ভিডিও তে কাকে নিয়ে কথা বলেছে । হ্যাঁ আপনারা ঠিক ধরেছেন । তাসান মিথিলা ইস্যু নিয়ে কথা বলা হয়েছে । তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত ঝামেলার কারণে তারা একে অপর থেকে দূরে থাকছেন , যখন দেখলেন দূরে থেকে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না তখন তারা সিদ্ধান্ত নিলেন তারা তাদের সম্পর্ক বেশ করে দিবেন মানে ডিভোর্স করবেন । ফেসবুকে কতিপয় কিছু মানুষ এই বিষয়টাকে নিয়ে প্রচণ্ড পরিমাণে নাচানাচি শুরু করে দিয়েছেন । এমনকি তারা ফেসবুকে ইভেন্ট খুলেছে । ইভেন্ট এর নাম দিয়েছে ” তাসান মিথিলার ডিভোর্স আমরা মানি না ” । আরে ভাই আপনি কেন তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে টানা টানি করবেন ।
নাহিদ সাহেবের সাথে আমি একটা কথায় এক মোট পোষণ করছি , তিনি বলেছেন তাসান কেন তার ব্যক্তিগত ব্যাপার তার ব্যক্তিগত পেজে শেয়ার করছেন ।
আসলে ঠিক , আপনার নিজেদের ব্যাপার নিজেদের কাছে রাখলে হয়তো আমাদের এই রকম কিছু দেখতে হতো না ।

তিনি তার ভিডিও তে আরেকটি ব্যাপার তুলে ধরেছেন – আজ দুই দিন ধরে ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে । একটি মেয়ে কেঁদে কেঁদে ভিডিও করছে , অবশ্য তার চোখে পানি নামের কোনো রাসায়নিক বস্তু দেখা যায়নি । মেয়েটি তার ভিডিও তে বলেছেন তার বাবা নাকি তার অপর অনেক অত্যাচার করে ।ক্লাস ফাইভ এ থাকতে তার দেহের বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছে । মেয়েটি এমন ভাবে কথা কে সাজিয়ে বলেছে যে কেউ তার কথা শুনে কনভেস হতে বাধা । কিন্তু কিছু অতিবাহিত না হতে নাটকের মোড় অন্য দিকে ঘুরে যায় । মেয়েটির ভাই আরেকটি ভিডিও করে । তার ভাই বলে এই মেয়েটি তার আপন বোন । আর কিছু দিন আগে সে বাসা থেকে পালিয়েছে । যখন বাসায় থাকতো তখন সারা দিন দরজা বন্ধ করে লাইট অফ করে থাকতো । এমনকি তার ভাই বলেছে , তার নাকি সন্দেহ হয়েছিল মেয়েটি ড্রাগ সেবন করে কিনা এই ব্যাপারে । এই ব্যাপার গুলো নাহিদ সাহেব তার ভিডিওতে খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলে সবার কাছে ।

আসলে আমাদের সমাজ আজ ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে । আমাদের কে আরো সচেতন হতে হবে । আমাদের কাজ কে আমাদের সীমার মধ্যে আনতে হবে । অন্যের ব্যক্তিগত ব্যাপার এ নাক কম গলাতে হবে । আর খুব সহজে বিশ্বাস না করে সময় নিয়ে যাচাই বাছাই করতে হবে । তাহলে সমাজ থেকে এই সব কীট একদিন লেজ গুটিয়ে পালাবে । আর আমরা যদি তাদের ভিডিও বা তাদের অন্যায় কে প্রশ্রয় দেই বা নীরব থাকে , তাহলে একদিন দেখবো ওই সব কীট গুলো আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে ।

কেমন চলছে ‘ফেসবুক’ বাংলাদেশে? (and its no good!)

Now Reading
কেমন চলছে ‘ফেসবুক’ বাংলাদেশে? (and its no good!)

ফেসবুক,বিজ্ঞানের এগিয়ে যাওয়ার পথচলায় প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে ইন্টারনেট জগতে।বর্তমানে আমাদের দেশের কয়েক কোটি মানুষ এই সাইটের সাথে জড়িত। যেখানে মাত্র কয়েক বছর আগেও এর সংখ্যা এক কোটিরও কম ছিল।আর এখন অনেক মোবাইল অপারেটর এ বিষয়কে মাথায় রেখে দিচ্ছে নানা অফার।হঠাৎ এই সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেকে যেমন বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে তেমনি এর নেতিবাচক ফলাফলও অসংখ্য।

এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে আইসিটির উন্নয়ন এর ফলে আজ কোনো কিছুই আমাদের অগোচরে নেই।সবার কাছে ইন্টারনেট পৌছে যাওয়া শুরু হয়েছে।আর এখন মানুষ ফেসবুক ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার প্রায় করে না বললেই চলে।সকলেরই ফেসবুকে একটা আইডি চাই।ছোট ছেলে-মেয়েরাও আজ খুব একটিভ এই সাইটে।তবে আমাকে যদি কেউ বলে ফেসবুক কি আসলেই এতো জরুরি?এতটাই প্রয়োজনীয়?

বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় আজ এখানে জুড়ে বসেছে সস্তা নোংরামি,বেহায়াপনা,ডিজিটাল ডাকাতিসহ নানান ধরনের সাইবার অপরাধ।যা শুধু দেশ না পুরো জাতির ইমেজ খারাপ করছে কখনো কখনো।

ফেসবুকের নেতিবাচক দিকগুলোর অন্যতম একটি হলো পর্নোগ্রাফি।হয়তো ভাবতে পারেন ফেসবুকে আবার এইসব কিভাবে সম্ভব?ওই যে প্রযুক্তি,তার কারণ এ আজ এটা সম্ভব।ফেসবুক লাইভকে কাজে লাগিয়ে আজ কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ ছড়াচ্ছে এইসব।অনেক পেজেই আজ এইসব ছড়ানো হচ্ছে।তবে এগুলো কোনোটিই বাংলাদেশি পেজ নয়।এখন আপনার মনে আসতে পারে,তাহলে আমরা এইসব থেকে মুক্ত।না,কারণ কিছু বিকৃত মানসিকতার মানুষ রয়েছে আমাদেরই মাঝে।বাংলাদেশি কয়েকটি গ্রুপে লাইভ পর্ন জাতীয় পোষ্ট দেখা গিয়েছে।আর এগুলো সবই কোনো না কোনো মেম্বার দ্বারা ওই গ্রুপে শেয়ার করা হয়েছে।আমি নিজেই এমন এক বিষয় লক্ষ্য করেছি একটি ফেসবুক গ্রুপে।বিশাল সংখ্যক মেম্বার নিয়ে গঠিত এইসব গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন।আর এটিকে পুঁজি করে এইসব ছড়ায় গুটিকয়েক অমানুষ।তাহলে বুঝতেই পারছেন কতটা খারাপের দিকে যাচ্ছে এই ফিচারটি।

এটিই শেষ নয়।সম্প্রতি এক ফেসবুক গ্রুপের এডমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে ‘ডিজিটাল চাঁদাবাজি’র।খাবারের রিভিউ বিষয়ক ওই গ্রুপটি ভোজন রসিকদের মাঝে বেশ পপুলার।সেই গ্রুপেরই এক এডমিনের উপর উঠেছে এমন অভিযোগ।তার বিরুদ্ধে কিছু ক্যাফে,রেস্তোরাঁ,হোটেলের ভালো রিভিউ পাইয়ে দেয়ার বদলে মাসে কয়েক হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠে।যদিও সে এইসব মিথ্যে দাবি করে থানায় জিডি করেছে।ধরুন ব্যাপারটি সত্যি হলে তা কতটা ভয়াবহ?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত এই সাইটে থাকে একে অপরের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ,থাকে অশ্লীলতাকে নিয়ে দিনরাত মজা-ঠাট্টা।চলে একে অপরের ক্ষতি করার লক্ষ্যে অপপ্রচার।চলে মানুষকে ধোকা দেয়ার মাধ্যমে কিছু নোংরা উদ্দেশ্য হাসিল করা(সচেতন অনেকেই দেখে থাকবেন নানান পেজের কমেন্ট বক্সে)।চলে লাইভে এসে নোংরামি করা,সস্তায় পাবলিসিটি পাবার আসায় নিম্নমানের কর্মকাণ্ড।চলে মাদকের দিকে ধাবিত করার নোংরা খেলা(কিছু ‘memes’ এর জন্য দায়ী)।চলে সেলেব্রিটিদের হেয় করার মতো বাজে খেলা,স্ক্যান্ডেল শব্দটিকে পুঁজি করে তাদের করা হয় হেনস্থা। এতেই শেষ করছি যদিও লিস্টটা এতো সহজে শেষ করার মতো না।

তবে একটা বিষয় না বললেই নয়।বেশি ফেসবুক নির্ভরতা ভালো নয় আমাদের জন্য।এর ইফেক্ট খুবই মারাত্মক হতে পারে ছোটদের জন্য।অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহারকারীরা একাকীত্বে ভোগে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।একইসাথে এটি অবসাদের কারণ হতে বলে তারা ধারনা করছেন।ফেসবুকের জন্মস্থান আমেরিকায় এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।তারা নিজেদের অঞ্চল ভিত্তিক নতুন সামাজিক মাধ্যমে যোগ দিতে বেশি পছন্দ করছেন নিজেদের সামাজিকতাকে বজায় রাখতে।

এতো খারাপের মাঝেও ফেসবুকের রয়েছে ইতিবাচক কিছু ব্যবহার।আর এই ব্যবহারগুলোই আমাদের করা উচিত নিজেদের এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য।

আজকাল প্রায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ফেসবুক লাইভের উৎকৃষ্ট ব্যবহার করছে। তারা ফেসবুক লাইভে এসে পড়ালেখার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে।যার ফলে আজ অনেকের টিউশনের প্রয়োজন হচ্ছে না।এতে বেশ লাভবান হচ্ছে শহরের বাইরের ছাত্র-ছাত্রীরা।কিছু প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে প্লাটফর্ম। যার সম্পর্কে অনেকেই ফেসবুকে সহজেই জানতে পারছে।’ফুটপ্রিন্ট’ ঠিক এমনই এক প্লাটফর্ম।

এছাড়াও আজ এই ইতিবাচক দিকে জায়গা করে নিয়েছে।যে কোনো দুর্যোগ এ এক হয়ে কাজ করছে অনেকে।শীতের সময় ফেসবুক ইভেন্ট এর মাধ্যমে চেষ্টা করা হয় অসহায়দের মাঝে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া।চলে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে রক্তের সন্ধান।চলে এক হয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে নিজেদের অবস্থানের জানান দেয়া।চলে মানুষের মাঝে মানবতাবোধ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা।ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে করা হয় প্রোমোশনাল,সাইন্স ফেয়ারসহ নানান ইভেন্ট।যার মূল লক্ষ্য থাকে দেশের সেবা,দেশের মানুষের সেবা,বিজ্ঞানের উন্নয়নসহ আরো নানান ইতিবাচক বিষয়।

এতো নেতিবাচক আর ইতিবাচকের মাঝে খারাপ বিষয়গুলোই আমাদের সামনে অনেক বেশি আসে।যার কারণে আমরা খারাপের প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়ি।ভুলে যাই নিজেদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য এর কথা।নেমে পড়ি ভার্চুয়াল লাইফে তথাকথিত ফেমাসের তকমা গায়ে লাগানোর প্রতিযোগিতায়।

সবখানে ভালো-মন্দ রয়েছে।আমরা সৃষ্টির সেরা।আর আমাদের কাজও তাই হওয়া প্রয়োজন অন্যদের থেকে আরো ভালো।আর তা না হলে কি পার্থক্য রয়ে যাবে আমাদের আর পশুদের মাঝে?মনুষ্যত্বকে হারিয়ে ফেলতে নয় বরং এর এটিকে আরো বেগবান করার জন্য ‘ফেসবুক’ নামক এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা উচিত বলে আমি মনে।ভুল মানুষই করে তাই আমাদের উচিত নিজেদেরকে শুধরে ফেসবুকের নেতিবাচক দিকগুলোকে এড়িয়ে চলে তার ইতিবাচক দিকগুলোর দিকে নজর দেয়া।

অনলাইনে পরিচয়, অতঃপর….

Now Reading
অনলাইনে পরিচয়, অতঃপর….

“Looking through the window

This is not the main door.

It is easy to say, but hard to obey.

What do u think?

Please think before u ink.”

একটা সময় ছিলো যখন এভাবে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটানো হতো।এক সময় চিঠি চালাচালির জায়গা নিলো ইমেইল আর মোবাইল ফোন। দিনভর মোবাইল অপারেটরদের কে কত বেশি সেবা প্রদান করতে পারে সেই প্রতিযোগীতার পুরো সুবিধা ভোগ করতো শহর গ্রামের সব প্রেমিক প্রেমিকারা। কেউ এস এম এসের মাধ্যমে তো কেউ রাতভর ফোনালাপের মাধ্যমে। সকালে যার যার ক্লাসে উপস্থিতির হার কমছে, রেজাল্ট খারাপ করছে, তাতে কি। গুনগুন করে গাইছে গান…. “এখন তো সময়,ভালোবাসার!” যুগ আরো ডিজিটাল হচ্ছে।সাথে ডিজিটালাইজড হচ্ছে ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যমও। এখন আর কেউ শুধু ফোনে কন্ঠ শুনেই সন্তুষ্ট নয়। কি করবে বেচারা রা। আমাদের স্যাটেলাইট বিনোদন যে শিখিয়েছে “ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর!” তাইতো এবার লাইভ দেখা চাই।

আজকাল ফেসবুকের টাইমলাইনে অনলাইন সম্পর্ক নিয়ে অনেক ঘটনা দূর্ঘটনা চোখে পড়ছে।“প্রেম” / “ভালোবাসা” শব্দগুলো আজকাল কেমন হালকা আর সস্তা গোছের কিছু হয়ে গেছে। ফেসবুকের ভালোবাসার সুত্র ধরে ভালোবাসার মানুষটাকে ঠিকঠাক না চিনেই, না বুঝেই ম্যাসেন্জারে বা ভিডিও চ্যাটে  নিজেদের সম্পুর্ন ব্যাক্তিগত ভাবে উপস্থাপন। পরবর্তীতে কোন কারনে সেই সম্পর্ক না টিকলে অমনি সেই দুর্বল মূহুর্তে করা ব্যাক্তিগত ভিডিও ভাইরাল করে প্রতিশোধ নেয়া! তারই জের ধরে কোন এক পক্ষের আত্মহত্যা করার মতো ঘটনা এখন অহরহই ঘটছে।

হারিয়ে গেছে সেই সুন্দর ভালেবাসার সম্পর্কগুলো, যেখানে ডেটিং বলতে ছিলো হেলভেশিয়া বা  KFC কিংবা বইমেলার বটতলা বা টিএসসি’র ক্যান্টিন। এখন সব বদলে গেছে, জায়গা করে নিয়েছে অসংখ্য লিটনের ফ্লাট। মানুষের মনমানসিকতা ভয়ঙ্করভাবে বদলাচ্ছে, রুচির বদল হচ্ছে। কার কজন বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড সেটাতেও যেন অসুস্থ এক প্রতিযোগীতায় নেমেছে আজকের প্রজন্ম। ভালোবাসার প্রপোজ করার ব্যাপারটাও ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয় সস্তাদরের জনপ্রিয়তা লাভের আশায়। সবচে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে এই আধুনিক  প্রেমিক প্রেমিকাদের দলটার বয়সের সীমা ১৮ ও পার হয়নি। স্কুল কলেজের এসব মাত্র দুনিয়া চিনতে শুরু করা কিশোর কিশোরীরা যে বিপথে যাবেনা  এতো বলাইবাহুল্য। ওদের বোঝাতে গেলে অনেক বাবা মা রাই সন্তানের চোখের শুল হচ্ছেন। ঐশীর বাবা মা’র করুণ পরিনতি চোখের সামনে ভেসে উঠে।

অনলাইন প্রেমের সফল পরিনতি যে একেবারেই নেই তা নয়। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি এমন অনেক জুটিকে চিনি যারা অনলাইনের বিভিন্ন চ্যাট সাইট থেকে পরিচিত হয়ে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বিয়ের মতো সামাজিক স্বীকৃতি পেয়েছে। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সুখে শান্তিতে দিন কাটাচ্ছে। তাই শুধুমাত্র অনলাইন সম্পর্ক গুলোর সবগুলোই যে খারাপ পরিণতির স্বীকার হয়,সেটা ভুল। সম্পর্ক যেই মাধ্যমেই হোকনা কেনো মানুষটাকে যাচাই বাছাই করে তারপর সম্পর্কের গভীরতা বাড়ানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যেই সম্পর্ক গুলো সামান্য পাসওয়ার্ড দেয়ানেয়াকে বিশ্বাসের মাধ্যম মনে করে,লাইভ  বা ব্যক্তিগত ভিডিও করাটাকে সম্পর্কের গভীরতার ভিত্তি মনে করে সেই সম্পর্কগুলো থেকে বেরিয়ে আসাই উচিত হবে।

মনের সাথে মনের সম্পর্ক থাকলে তবেই সেই সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া ভালো। নয়তো সারা জীবনভর পস্তানো লাগবে। আরেকটা ব্যাপার লক্ষনীয় যে ভালোবাসার মানুষটি যদি সমবয়সী হয়,তখন সেই ভালোবাসার মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধের অভাব দেখা যায়,যেখান থেকেও অনেক সম্পর্কে কোন নাম নেয়ার আগেই ফাটল ধরে।প্রতিশোধপরায়ন হয়ে কোন পক্ষ বেছে নেয় খুনাখুনি, এসিড মারা বা আরো কোন রোমহর্ষক কাজ। ভালোবাসাবাসি নিয়ে যেসব কবিতা,গল্প,উপন্যাস  তা আজকালকার ভালোবাসাবাসির স্টাইলের সাথে যায় না যেন। ভালোবাসা হয়ে গেছে যেন আর্থিক স্ট্যাটাস আর ফ্যাশন নির্ভর। কার কতো স্টাইলিশ গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড আছে সেটার শো অফ চলে যেন। সম্পর্কের স্থায়ীত্বের চেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে যেন সম্পর্কের জাহির করা ব্যাপারটা। জিনিষ পুরোনো হলে আমরা যেমন বদলে ফেলি, তেমনি যেন পুরোনো হয়ে যাওয়া সম্পর্ক কেও ঝেড়ে ফেলে দিতে দ্বিধা করেনা আজকালকার এসব হালফ্যাশনের সম্পর্কধারীরা। একটা গেলো তো কি হলো,আরেকটা আসবে- এমন নীতি তে চলছে যেন। তারপর কোন পক্ষ যদি সম্মত না হয় তখন ধর্ষণ, খুন,গুম তো আছেই। যেই সময়ের ভালোবাসাবাসির মিষ্টি সেই চিঠি চালাচালির কথা বলছিলাম শুরুতে, তখনো যে জোর জবরদস্তির ব্যাপারটা ছিলোনা, তা কিন্তু না। তবে তখনকার প্রতিশোধপরায়ণতার স্টাইল ছিলো এসিড মারা পর্যন্ত। ধর্ষণ তখন এতো ব্যাপকহারে বাড়েনি। এখন তো মনে হয় যেন, সেই ভালো ছিলো! এসিড মারার তো একটা চিকিৎসা আছে, ধর্ষণের শিকার হওয়া মানুষটার মনের তো চিকিৎসা নেই। সহজ সরল বিশ্বাাসের কি করুণ পরিণতি!

একটু সচেতন হলেই কিন্তু এসব পরিস্থিতি এড়ানো যায়। একটু মনকে শক্ত রাখতে পারলেই হলো। সম্পর্কের গভীরতার প্রমাণ কখনোই ভিডিও চ্যাটে শরীর দেখানো হতে পারেনা। সম্পর্কে বিশ্বাসের প্রমান হতে পারেনা পাসওয়ার্ড দেয়া না দেয়া। এসব অবান্তর ব্যাপারগুলো এড়িয়ে গেলেই অনেক সম্পর্ক একটা নাম নিতে পারে। স্হায়ীত্বও বাড়তে পারে। মানুষ চিনতে মানুষটার সাথে খুব কি অন্তরঙ্গ আসলেই হওয়া লাগে? সুন্দর একটা সম্পর্ক যখন কোন নাম নেয়, একটা পরিবার গড়ে ওঠে সেই সম্পর্ককে ঘিরে, তখন সেই গল্প শুনতেও যেমন আনন্দের,বলতেও তেমনি সুখের।সেই আনন্দ বা সুখ অধরা কিছুই না; শুধু যদি একটু সচেতনতা বাড়ানো যায়। ডাস্টবিনে পলিথিন মোড়ানো সদ্যজাত বাচ্চা গুলোকে মৃত অবস্থায় পেতে আর ভালো লাগেনা। আসুন সবাই মিলে সচেতন হই।

 

ফেসবুক-লাইভে তরুণীদের নোংরামোঃ সস্তা জনপ্রিয়তা নাকি বেহায়াপনা?

Now Reading
ফেসবুক-লাইভে তরুণীদের নোংরামোঃ সস্তা জনপ্রিয়তা নাকি বেহায়াপনা?

ফেসবুক ছাড়া জীবন অচল, এমনটাই বর্তমানে আমাদের অবস্থা। ফেসবুক ছাড়া আমরা এক মুহুর্তও চলতে পারিনা। বর্তমানে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সহজলভ্য হয়ে যাবার কারণে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফেসবুকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। মেসেঞ্জারে ইন্সট্যান্ট চ্যাট, ফেসবুক কল ( অডিও-ভিডিও), ভিডিও আপলোড – সব কিছু মিলিয়ে ফেসবুক সারা বিশ্বকে করছে নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে হালের জনপ্রিয় তারকারা সবাই কমবেশি এতে আসক্ত।

আজকের এই লেখা মূলত ফেসবুক কেন্দ্রিক নয়, ফেসবুকের নতুন একটি সিস্টেম নিয়ে; আর তা হল “ফেসবুক লাইভ”

সবকিছুরই একটা ভালো এবং মন্দ দিক রয়েছে। তবে মানুষ বোধহয় মন্দ আর নিষিদ্ধের প্রতিই আকর্ষিত হয় বেশি। ঠিক তেমনি, এই ফেসবুক লাইভ কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে উচ্ছৃংখল নারীদের একটি গ্রুপ যারা কিনা অর্ধনগ্ন হয়ে লাইভে আসছে; লাইভে এসে নোংরা কথাবার্তা দিয়ে যুবক সম্প্রদায়কে উসকে দিচ্ছে ; সর্বোপরি যৌনতাকে উসকে দিচ্ছে।

অথচ কিছুদিন আগেও ফেসবুক এমন ছিলো না; হ্যাঁ অনেকেই সস্তা জনপ্রিয়তা পাবার উদ্দেশ্যে খোলামেলা ছবি দিয়ে আলোচনায় আসতে চেয়েছিল, কিন্তু সেগুলো যতটানা প্রভাব ফেলেছিল, এই লাইভ সুবিধা পেয়ে তা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। ফেসবুকের নিউজ ফিড হয়ে পড়েছে দূষিত।

বাংলাদেশের একটি বড় অংশ নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করছে যারা কিনা কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী। এদের বয়স মিনিমাম ১৩ থেকে ২৩ এর কোঠায়। এই সকল নোংরা ফেসবুক লাইভ মূলত এই বয়সী মানুষকে উদ্দেশ্য করেই করা হচ্ছে। খোলামেলা পোশাকে নিজের শরীর দেখিয়ে, নোংরা কথা, অশ্রাব্য ভাষার গান ইত্যাদির মাধ্যমে তারা নিজেদের অসভ্যপনা কে তুলে ধরছে।

এই সকল নারীরা শুধুমাত্র ফেসবুকের সস্তা জনপ্রিয়তা, লাইক, কমেন্টসের ভীড়েই সীমাবদ্ধ নয়। কিছু কুলাঙ্গার ইউটিউবার আবার এদেরকে হাইলাইট করছে ইন্টারভিউ নেবার নাম করে, হয় নিজেদের সস্তা জনপ্রিয়তা বাড়াতে, নয়তো সেই নারীই আসছে ইউটিউব চ্যানেলকে টাকা দিয়ে নিজেকে আরো বেশি জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে। সেইসব ইন্টারভিউতে চলে নানা প্রকার নোংরা প্রশ্নোত্তর। আমি নিজেই এই আর্টিকেল লেখার উদ্দেশ্যে দেখতে গিয়ে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারিনি। সেখানকার কমেন্ট গুলো পড়ে যা বুঝলাম, সবাই না, একটা নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষের কাছে এগুলো খুব বেশি জনপ্রিয়। সেইসকল মানুষ এগুলো গোগ্রাসে গিলছে, লাইক দিচ্ছে, শেয়ার করছে ফেসবুকে। ফলে ধীরে ধীরে ভিডিও গুলো ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে এবং আপনি না চাইলেও যেকোন ভাবে আপনার ফেসবুক নিউজ ফিডে এসে যাচ্ছে। অনেকেই কৌতুহল দমাতে না পেরে দেখছেনও।

আমি চাইনা, আমার এই লেখা পড়ে নতুন কেউ তাদের প্রতি আকৃষ্ট হোক; তাই আমি নির্দিষ্ট করে নাম বলতে চাচ্ছি না। কিন্তু আমি নতুন করে নাম বলার কে? আমি খুব ভালো করেই জানি, যারা এই লেখাটি পড়ছেন, তারা অনেকেই হয়তো আমার চাইতেও ভালো জানেন, কেউ আবার একটু হলেও জানেন।

বিগত দুই-এক বছর ধরে নোংরামীতে চ্যাম্পিয়ন যে কিনা বাংলাদেশের সানী লিয়ন বলে দাবী করেছিল, কয়েক মাস আগে তার আত্নহত্যার খবর জানলাম। কারণ হিসেবে পত্র-পত্রিকার নিউজে উঠে এসেছিল, বিবাহিত সেই মেয়ে অনেক চেষ্টার পরেও যখন মিডিয়াতে কোনভাবে সুবিধা করে উঠতে পারছিল না, ঠিক তখনই সে নিজেকে ফেসবুকে এভাবে অর্ধনগ্ন করে ছবি আপলোড করছিল; কিছু মানুষ আবার তাতে হুমড়ী খেয়েও পড়ছিল; শেয়ার আর লাইকের বন্যায় সে ভেসে যাচ্ছিল; অনেক ফেসবুক পেজ নিজেদেরকে জাহির করতে তাকে নিয়ে ট্রল করছিল। কথা শেষমেষ একটাই কিন্তুঃ “তিনি একজন ফেসবুক সেলিব্রেটি”; ঠিক হাসবো না কাদঁবো বুঝে উঠতে পারছি না।

এই সেলিব্রেটির শেষটা অবশ্য দুঃখের, সে আত্নহত্যা করে। এই আত্নহত্যা দিয়ে কি হল? সে কিন্তু চাইলে এসব বাদ দিয়ে স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে বসবাস করতে পারতো, কিন্তু পারিবারিক ঝামেলা আর মানসিক বিষণ্ণতা তাকে নিয়ে গেছে মৃত্যুর দুয়ারে।

আমি সামগ্রিকভাবে এই আত্নহত্যা করা মডেলের দোষ না দিয়েই বলতে চাচ্ছি, তার শুরু করার পর থেকে তাকে দেখে অনেকেই এই সস্তা জনপ্রিয়তা পাবার আশায় তাকেই অনুকরণ করছে।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে বা তাদের মুখেই জানা গেছে, এসবের ফলে তারা অনেকেই পরিবার থেকে বিতাড়িত। অনেকেই পশ্চিমা স্টাইলে বয়ফ্রেন্ডের সাথে লিভ টুগেদার করছে। আমার কথা হলো, আচরণেই নাকি বংশের পরিচয়; তাহলে এইসব মেয়েরা কি পরিবার থেকে কোনো শিক্ষা পায়নি? নাকি ফেসবুকের সেলিব্রেটি হবার নেশাই এদেরকে এতদূর আনতে বাধ্য করেছে? কি এর উত্তর?

এসব লাইভের কমেন্টে ছোড়া হয় যাবতীয় নোংরা প্রশ্ন, নির্লজ্জের মত এসব নারীরা আবার সেইসকল প্রশ্নের উত্তরও দিয়ে যায়। বেহায়াপনার কোন সীমারেখা এদের কাছে নাই; কি বলবো, বেহায়াপনার সীমা নিয়েও এখন আমাদের ভাবতে হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে, একজন মোটাসোটা মেয়েকে প্রায়ই দেখা যায় লাইভে। কে আশা করি বুঝতে পেরেছেন। সে মোটা নাকি চিকন এই নিয়ে আমার মাথাব্যথা নয়। কথা হলো, মানুষ তাকে আদর করে ( নাকি ব্যঙ্গ করে জানিনা ) নাম দিয়েছে হাতিপু বা তার মোটাসোটা শরীরের কারণে হাতি-আপু। অবাক লাগে, সে এই নামেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে!! কোন প্রতিবাদ নেই তার! লজ্জা ! লজ্জা!

এমন অনেক আপু ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এখন আমাদের চারপাশে। এগুলো ভার্চুয়াল বা সামাজিক মাধ্যমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না এখন আর। আমাদের বাস্তবিক জীবনে এর কঠিন প্রভাব পড়তে দেখা যাচ্ছে। মেডিক্যাল সায়েন্সের ভাষায় কিংবা একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষও বুঝতে পারছেন যে এরা এক একটা মানসিক রোগীর পর্যায়ে চলে গেছে; ফেসবুকই এদের ধ্যান-জ্ঞান বর্তমানে। এরা কেউই সুস্থ জীবনযাপন করছে না বর্তমানে। অনেকেই আবার নেশাগ্রস্ত হয়েও লাইভে আসে।

আমার আগের লেখা ছিল নাইট ক্লাব আর ডিসকো বার নিয়ে যেখানে অবাধে মাদক ব্যবসা চলছে। সেখানে আমি প্রশাসন কেন নীরব বলে উল্লেখ করেছিলাম; হ্যাঁ শুধু প্রশাসনের দোষ দিলেই হবেনা, কিন্তু প্রশাসনও নীরব ভূমিকা পালন করলে তাতে প্রশ্ন উঠবেই। ফেসবুক লাইভের ক্ষেত্রে বিটিআরসির সঠিক উদ্যোগ হতে পারে এর থেকে রেহাই পাবার উপায়। তারা ইচ্ছে করলেই সেইসব আইডি ডিজেবল করে দিতে পারে !! ফলে অন্যরাও এইসব নোংরামো করার আগে ভাববে। আর এই নোংরা নারীদের দোষ দিয়েও শুধু লাভ নেই; আমরা যারা এর ভিউয়ার্স, তারা কি করছি ? তারা এগুলোকে প্রমোট করছি; ফলে ভাইরাল হয়ে যেতে সময় লাগছে না। আমি এখানে ঐসব নারীদের নাম উল্লেখ করে দিলে আপনারা এখনই গুগলে কিংবা ফেসবুকে সার্চ লাগাবেন; নাহ! আমি এটা চাইনা। আমি চাচ্ছি যুবসমাজের ভেতরে , আমাদের সকলের মাঝে এর বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরী করতে। আমরা যদি এইসকল লাইভ দেখা বাদ দিই, এদেরকে প্রোমোট করার সুযোগ না দিই, তাহলে ওরাও এত সাহস পাবেনা বরং আগ্রহ হারিয়ে এসব করা বন্ধ করে দিবে।

এইসকল ভুয়া সেলিব্রেটিদেরকে বলছি, আপনারা দয়া করে এসব বন্ধ করে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন। পড়ালেখা করুন বা সংসার ধর্ম করুন; দেশের উন্নতি করা যায় এমন কিছু করুন। আমরা বাংলাদেশের মানুষ ফেসবুকে এমন নোংরা নিউজফিড দেখতে চাইনা।

আমরা ফেসবুকিং করবো, নিজেদের প্রয়োজনে! বন্ধু বিদেশে থাকলে সহজে একটা কল দিতে পারি, যারা বিদেশে আছে তারা দেশের মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারে সহজে; লাইভের কথা বলবো? মনে করুন, আপনি মহাস্থানগড়ে ঘুরতে গেলেন, সেখান থেকে আপনি লাইভে আসতে পারেন। বন্ধুদের নতুন কিছু জানালেন। নতুন একটা রেসিপি পেয়েছেন? রান্না করবেন? লাইভে এসে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। কিংবা বিজ্ঞানভিত্তিক অনেক কিছুই শেয়ার করা সম্ভব ; সর্বোপরি ইতিবাচক দিকের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে।

আমাদেরকে অবশ্যই শিক্ষামূলক দিকগুলো বের করতে হবে প্রতিটা বিষয়ের। তাহলেই আমরা প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করতে পারবো।

Page Sidebar