1
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
ফ্রেশ!
REGISTER

২৫ সেপ্টেম্বরকে ‘বাংলাদেশি অভিবাসী দিবস’ হিসেবে ঘোষনা দিলেন নিউ ইয়র্ক সিনেট

Now Reading
২৫ সেপ্টেম্বরকে ‘বাংলাদেশি অভিবাসী দিবস’ হিসেবে ঘোষনা দিলেন নিউ ইয়র্ক সিনেট

নিউ ইয়র্ক সিনেটে ‘বাংলাদেশি অভিবাসী দিবস’ আইন পাশ হয়েছে । এ বছর থেকে নিউইয়র্ক স্টেটে ২৫ সেপ্টেম্বর ‘বাংলাদেশি অভিবাসী দিবস’ হিসেবে পালিত হবে। নিউইয়র্ক স্টেট ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে দিনটিকে। মুক্তধারা ফাউন্ডেশননের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহা’র পক্ষ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি আলবেনিতে অনুষ্ঠিত সেনেট অধিবেশনে এই বিলটি উত্থাপন করেন টবে আন্ স্তাভাস্কি। সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হওয়ার পরে ‘বাংলাদেশি অভিবাসী দিবস’ রেজ্যুলেশন ৩২২ নাম্বারের আইনটি ঘোষণা করেন নিউইয়র্ক স্টেটের গভর্নর এণ্ড ক্যুমো।

বালাদেশি অভিবাসী দিবস হিসেবে ২৫ সেপ্টেম্বরকে বাচাই করা প্রসঙ্গে দিবসটির স্বপ্নদ্রষ্টা বিশ্বজিত সাহা বলেন, ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রথমবারের মত বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। তাই দিনটি বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষার জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী ২০২১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শত জন্মবার্ষিকী। তার আগে ২৫ সেপ্টেম্বরকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘বাংলাদেশি অভিবাসী দিবস’ ঘোষণা করে জাতির জনককে শ্রদ্ধা জানাবার গৌরবতম অধ্যায় হবে বলে মনে করেন।

বিশ্বজিত সাহা আরো বলেন, বিশ্বে প্রবাসী আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। বাংলাদেশ পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম দেশ যে দেশের এত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বর্তমানে প্রায় ৮৮ লাখ বাংলাদেশি বাস করেন। বাংলাদেশ জন্মের ৪৭বছরেও এ বিপুল সংখ্যক প্রবাসীদের জন্য আলাদা কোনো দিবস ছিলোনা। আজ প্রবাসীদের জন্যও একটি দিবস হয়েছে। সকল প্রবাসীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আকুল আবেদন করেছেন তিনি যেনো ২৫ সেপ্টেম্বরকে ‘বাংলাদেশি অভিবাসী দিবস’ হিসেবে সংসদে আইন আকারে পাশ করা হয় যেমন আইন পাশ করা হয়েছে নিউইয়র্ক স্টেটে।

সিনেট অফিস থেকে পাশ হওয়া রেজ্যুলেশনটি ১২ মার্চ মুক্তধারা ফাউন্ডেশনে পাঠানো হয়। আগামি ১৭ মার্চ নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য শিশু-কিশোর মেলায় এই রেজ্যুলেশনটি প্রদর্শিত হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে মুক্তধারা ফাউণ্ডেশন গত ৩ বছর ধওে এই শিশু-কিশোর মেলা আয়োজন করে আসছে।

কিন্তু বাংলাদেশি অভিবাসী দিবস আইন পাশ করার লক্ষে বিশ্বজিত সাহা ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রথম সেনেটর টবে আন্ স্তাভাস্কির কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের জানুযারি মাসে সেনেট অধিবেশনে এই প্রস্তাব উত্থাপিত হলে রিপাবলিকান সেনেটরদের বিরোধিতার মুখে বাতিল হয়ে যায়। পরে বিশ্বজিত সাহা ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে সেনেটর হোজে প্যারাল্টার সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি তাকে জানান।

সেনেটর আশ্বাস দেন এবং ২০১৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর হোজে পেরাল্টা একটি প্রকলেমেশনে ২৫ সেপ্টেম্বরকে ’বাংলাদেশি অভিবাসী দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করেন । ইতোপূর্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রেজ্যুলেশটিও সেনেটর হোজে প্যারাল্টার প্রস্তাবনায় নিউইয়র্কে স্টেটে পাশ হয়েছে এবং তা স্টেট ক্যালেণ্ডারের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

“মুজিব নগর সরকার” গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভিত্তি

Now Reading
“মুজিব নগর সরকার” গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভিত্তি

১৭ এপ্রিল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন আজ, এই দিনটি ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস নামে বাঙালীর অবিছেদ্য অংশ হয়ে আছে। এই দিনটিকে কেন মুজিব নগর দিবস বলা হয় তা জানতে ইতিহাস ঘুরে আসতে হবে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে বাংলাদেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করে স্বাধীন রাষ্ট্রটির প্রথম সরকার গঠন করে। আর এই সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। ইতিহাসবিদ-গবেষকগণ এর মতে- স্বাধীনতা অর্জনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এই সরকার গঠন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

যুদ্ধ পূর্ববর্তী দেশের ভেতর বিভিন্ন জায়গায় যখন প্রতিরোধ লড়াই শুরু হলতখন ৭০ এর নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামীলীগের নেতারা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিক নির্দেশনায়। ঐতিহাসিক ২৬ শে মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষনাকে প্রতিপাদন করে আওয়ামীলীগ এর নেতারা দেশের সীমান্তে সংগঠিত করেন জনপ্রতিনিধিদের। মাত্র দু’ সপ্তাহের তৎপরতায় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র জারি করা হয় যার মাধ্যমে গঠন করা হয় প্রবাসী সরকার। সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী, এম মনসুর আলীকে অর্থমন্ত্রী, এই এচ এম কামারুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং খন্দকার মোস্তাক আহমেদকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করা হয়। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বন্দি হওয়ায় তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। ১১ এপ্রিল রাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে কর্নেল এম এ জি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয় এবং সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ পদে কর্নেল আবদুর রবের নিযুক্ত করা হয়। মুজিব নগরে সেদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করে এর কার্যকারিতা ঘোষণা করা হয় ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে।

এর সপ্তাহখানিক পর ১৭ই এপ্রিল বিদেশী সাংবাদিক, প্রতিনিধি ও হাজারো মানুষের সরব উপস্থিতিতে বাংলাদেশের মুক্তাঞ্চল হিসেবে খ্যাত মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার আম বাগানে(পরবর্তী নাম মুজিবনগর) আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত অস্থায়ী সরকার, যা পরবর্তীতে গোটা দেশে মুজিবনগর সরকার নামেই পরিচিত হয়। বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বেশ কয়েক প্লাটুন ইপিআর পুলিশ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা সন্মান সূচক গার্ড অব অনার প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এর মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। অতঃপর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠনের কথা ঘোষনা করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ তার ভাষনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষাপট গভীরভাবে বর্ণনা করেন। ভাষণের শেষভাগে তিনি বলেন- “বিশ্ববাসীর কাছে আমরা আমাদের বক্তব্য পেশ করলাম, বিশ্বের আর কোন জাতি আমাদের চেয়ে স্বীকৃতির বেশি দাবিদার হতে পারে না। কেননা, আর কোন জাতি আমাদের চাইতে কঠোরতর সংগ্রাম করেনি, অধিকতর ত্যাগ স্বীকার করেনি। জয়বাংলা। আর এভাবেই একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সূচনা হল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে জেলা ভিত্তিক প্রশাসনিক পরিষদ ও বেসামরিক প্রশাসনকে অধিক গণতান্ত্রিক করার লক্ষ্যে সমগ্র বাংলাদেশকে ১৯৭১ এর জুলাই মাসে ৯টি অঞ্চল এবং সেপ্টেম্বর মাসে চূড়ান্তভাবে ১১টি অঞ্চলে ভাগ করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। জোন ভাগ করে প্রতিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদ গঠন করে দেয়া হয়। তাছাড়া প্রতিটি জোনে সংসদ সদস্যদের নিয়েও একটি আঞ্চলিক উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হত।

আজ জাতি রাজকীয় এই দিনটিকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে। দিনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি চিরস্মরনীয় হয়ে আছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভীত রচিত হয়েছে এই দিনে। বিশ্ব চিনেছে বাংলাদেশ নামের এক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে।

Page Sidebar