3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী কিছু দেশের উত্থান-পতনের গল্প

Now Reading
পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী কিছু দেশের উত্থান-পতনের গল্প

পৃথিবীতে অনেক দেশ ও রাজত্ব শতাব্দীর পর শতাব্দী নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে সগৌরবে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই এমন কিছু রাষ্ট্র আছে, যাদের ভাগ্য এত সুপ্রসন্ন ছিল না। এমন অনেক রাষ্ট্র আছে যেগুলোর আয়ুষ্কাল ছিল এক বছর বা কয়েক মাস, এমনকি কয়েক দিন। একদিন স্থায়ী রাষ্ট্রের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। এর বেশিরভাগের নামই আমরা হয়ত জানি না, সৃষ্টি ও ধ্বংসের কাহিনী দূরে থাকুক। সংখ্যায় প্রায় একশ’ এমন রাষ্ট্রের পেছনের কাহিনী বলাও বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই ক্ষণস্থায়ী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যেগুলো সময়ের হিসেবে বেশিদিন স্থায়ী ছিল, তাদের নেপথ্যের কিছু ঘটনা জেনে নেওয়া যাক।

তাঙ্গানিকা (২ বছর ১৩৭ দিন)

দশম শতাব্দীর দিকে এলাকাটিতে বসতি স্থাপনের প্রমাণ মিললেও ১৮৮০ সালের দিকে জার্মান উপনিবেশে এবং ১৮৯১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হয় এটি। এটি ছিল মূলত জার্মান-পূর্ব আফ্রিকার অংশ, বর্তমানে যা রুয়ান্ডা, তানজানিয়ার মূল ভূখণ্ড এবং মোজাম্বিকের কিছু অংশ দ্বারা পরিবেষ্টিত। ভূখণ্ডটি বর্তমান জার্মানির চেয়ে প্রায় তিনগুণ বড় ছিল। জার্মান ঔপনিবেশিক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিদ্রোহের কারণে জার্মানরা এসে আনুষ্ঠানিকভাবে এলাকাটির দায়িত্ব গ্রহণ করে। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে ব্রিটেন দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তারাই ১৯২০ সালে এটিকেতাঙ্গানিকা রাজ্য নাম দেয়। এই নতুন রাজ্যের নামকরণ হয়েছিল সোয়াহিলি শব্দ ‘জাহাজযাত্রা’ (sail) ও ‘জনহীন প্রান্তর’ (wilderness) থেকে, যা সম্ভবত ঐ রাজ্যে যে হ্রদটি আংশিকভাবে পড়েছে, তার উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল।

লেক তাঙ্গানিকা; source: tanzaniatourism.go.tz

ব্রিটেন তাঙ্গানিকার স্বাধীনতাও মঞ্জুর করে, যেমনটা করেছিল তার পূর্ববর্তী বেশ কিছু উপনিবেশের ক্ষেত্রে। তবে এই নতুন প্রজাতন্ত্র বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সরকার তৎকালীন জানজিবারের সাথে যুক্ত হবার সিদ্ধান্ত নেয় একটি নতুন রাষ্ট্র গঠন করতে, যা বর্তমানে তানজানিয়া নামে পরিচিত।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে তাঙ্গানিকার পূর্ণ স্বাধীনতা চেয়ে ব্যানার; source: Wikimedia Commons

ইতালিয়ান রিজেন্সি অফ কার্নারো (১ বছর ১০৯ দিন)

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে ১৯১৯ সালে বর্তমানে ক্রোয়েশিয়ার অন্তর্গত ফিউম শহরে অরাজকতা বিরাজ করছিল, কেননা প্যারিস শান্তি সম্মেলনে ইতালি, হাঙ্গেরি ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে ভূখণ্ডটির অধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। ফিউম ইতালিকে না দিতে চাওয়ায় ইংরেজ, ফরাসি ও আমেরিকানদের উপর রাগান্বিত হয়ে গ্যাব্রিয়েল দা’ন্নুন্সিও নামে এক ইতালীয় কবি কিছু দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সাহায্যে শহরটি দখল করতে যায়।

গ্যাব্রিয়েল দা’ন্নুন্সিও; source: italcult.net

পরদিন গ্যাব্রিয়েল ইংরেজ, ফরাসি ও আমেরিকান সৈন্যদের কাছ থেকে শহরটির দখল নেয়। ফিউম শহরকে ইতালিয়ান রিজেন্সি অফ কার্নারো নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে এবং একটি ভোটের আয়োজন করে, যাতে দেশটির ইতালির অন্তর্ভুক্ত থাকার পক্ষে ব্যাপক ভোট পড়ে। কিন্তু ইতালি তার মিত্র দেশগুলোর চাপের মুখে এই অন্তর্ভুক্তিকরণ বাতিল ঘোষণা করে ও প্রক্রিয়াটিকে রদ করে দেয়।

ইতালিয়ান রিজেন্সি অফ কার্নারোর পতাকা; source: Wikimedia Commons

১৯২০ সালের সেপ্টেম্বরে গ্যাব্রিয়েল দেশটির সংবিধান উন্মোচন করেন। যাতে দেশটিকে কর্পোরেট ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার রূপরেখা টানা হয়, যেমন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল মুসোলিনি। রাষ্ট্রের পতন আসে ১২ই নভেম্বর র‍্যাপেলোর চুক্তির সাথে, যখন ইতালি ও যুগোস্লাভিয়া ফিউমকে পৃথক রাষ্ট্র নয় বরং একটি শহর হিসেবে চিহ্নিত করে। রাগান্বিত হয়ে ডিসেম্বরের ৩ তারিখ দা’ন্নুন্সিও ইতালির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং খুব দ্রুতই সেই মাসের ৩০ তারিখ পরাজিত হন। এর সাথে বিলুপ্তি ঘটে তার রাষ্ট্রেরও।

মারকোভ প্রজাতন্ত্র (২৪৮ দিন)

প্রথম রাশিয়ান বিপ্লবটি ১৯০৫-০৭ সাল পর্যন্ত রাশিয়ান সাম্রাজ্যকে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার দিকে পরিচালিত করে। সেই সময়ে মস্কো থেকে ১০০ মাইল দূরে মারকোভ গ্রামের লেখক সারজেই সেমেনোভ মস্কো সরকারকে তাদের দাবি দাওয়া সংক্রান্ত একটি চিঠি লিখে পাঠান। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে সেই চিঠির কোনো উত্তর আসেনি। ফলশ্রুতিতে কৃষক সংঘ নামে একটি রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয় মারকোভ গ্রামে।

মারকোভ গ্রামের কৃষক সংঘ; source: toptenz.net

১৯০৫ সালের ৩১ অক্টোবর তারা নিজেদের মারকোভ প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা দেয়। পি এ বারশিন নামে গ্রামের এক বয়োজ্যেষ্ঠকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। নতুন এই রাষ্ট্র রাশিয়ার সার্বভৌম সরকারের কর্তৃত্ব অস্বীকার করে এবং গণতান্ত্রিক পরিষদের মাধ্যমে ছোট আরও কিছু গ্রামের প্রতিনিধিত্ব করে। মাত্রই জন্ম নেওয়া রাষ্ট্রটিকে সাহায্য করতে শিকাগো থেকে একজন অধ্যাপক আসেন। তার সাথে সার্বভৌম সরকারকে প্রতিরোধ ও গণতন্ত্র দাবি করায় প্রজাতন্ত্রটি দ্রুতই খ্যাতি অর্জন করে। ১৯০৬ সালের জুলাইয়ে দেশজুড়ে চলা বিপ্লব সামগ্রিকভাবে পরাজিত হলে সার্বভৌম সরকারের বাহিনী মারকোভ প্রজাতন্ত্রের দিকে অগ্রসর হয়। সরকার ভেঙে, নেতাদের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে প্রজাতন্ত্রকে আবার রাশিয়ান সাম্রাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়।

লিথুয়ানিয়া রাজ্য (১৯৪ দিন)

১৯১৮ সালে ব্রেস্ট-লিটভস্কের চুক্তির পর জার্মানি যখন লিথুয়ানিয়ার নিয়ন্ত্রণ পায়, তখন স্থানীয় সরকার একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান সংরক্ষণ করতে চেয়েছিল। জার্মানি চেয়েছিল লিথুয়ানিয়া ও প্রুশিয়াকে একত্র করে একটি বৃহৎ রাষ্ট্র গঠন করতে। তাই লিথুয়ানিয়ার স্থানীয় সরকার নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় দ্বিতীয় কাইজার ভিলহেল্মের নিয়ন্ত্রাধীন জার্মান সাম্রাজ্যকে শান্ত করার প্রক্রিয়া খুঁজতে থাকে। সরকারের একটি বড় অংশের আপত্তির বিরুদ্ধে গিয়ে লিথুনিয়ার মন্ত্রীপরিষদ ‘তারিবা’ উরাখের ডিউক ভিলহেল্মকে রাজা হিসেবে নির্বাচিত করে।

উরাখের ডিউক ভিলহেল্ম; source: Wikimedia Commons

তাকে ১২ দফার একটি প্রস্তাব দেওয়া হয় রাজা হওয়ার জন্য এবং সাংবিধানিক রাজতন্ত্র গঠন করা হয়। নবীন এই রাজা কখনো লিথুয়ানিয়ায় পা রাখেননি, কেবল গ্রীষ্মকালীন অবকাশের সময়টায় তিনি লিথুয়ানিয়ান ভাষা শিখতেন। কেননা সেটি তার রাজা হবার প্রস্তাবের একটি আবশ্যিক শর্ত ছিল। উপরন্তু জার্মানির একটি নিজস্ব ধারণা ছিল যে, দেশ তার নিজস্ব নেতা নির্বাচন করতে পারবে না। তাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ স্তিমিত হবার সময়েও লিথুয়ানিয়ার স্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের ধারণায় জার্মানীর পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত ছিল। এসবের প্রেক্ষিতে ১৯১৮ সালের ২ নভেম্বর তারিবা, উরাখের ডিউকের প্রতি তাদের নিমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিয়ে সরকারেরবিলুপ্তি ঘটায় এবং এভাবেই ১৯৪ দিনের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে।

ইজো প্রজাতন্ত্র (১৮৪ দিন)

১৮৫০ সালে জাপান যাওয়ার পর কমোডর ম্যাথু পেরি প্রথম আমেরিকান কর্মকর্তা হিসেবে জাপানের লোকদের সাথে প্রকৃতপক্ষে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। এমনকি আমেরিকান ও জাপানিজ সরকারের মধ্যে বাণিজ্য শুরুর পেছনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। যেখানে বেশিরভাগ আমেরিকানের চোখে ম্যাথু পেরির এই কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল সাফল্য, সেখানে আদান-প্রদানের ব্যাপারগুলোয় তোকুগাওয়া সরকারের অবস্থান নিয়ে জাপানের জনসাধারণের একটি বড় অংশের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এর সূত্র ধরে প্রায় এক দশক পরে যে সকল শক্তি ক্ষমতা দখলের চেষ্টায় ছিল তারা বংশানুক্রমিক সম্রাট ‘তোকুগাওয়া শোগুনেট’ (জাপানের সামরিক সরকার, যার প্রধানকে ‘শোগুন’ বলা হত) উৎখাতের একটি পরিকল্পনা করে। এর সূত্র ধরে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের সূচনা হয় (বশিন যুদ্ধ), যেটি শেষ হয় সম্রাট-বিরুদ্ধ বাহিনীর জাপানের অধিকাংশ নিজেদের দাবি করা ও তোকুগাওয়ার শোগুনকে রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে অপসারণ করার মাধ্যমে।

তোকুগাওয়ার প্রাক্তন শোগুনের নৌবাহিনীর একটি অংশ অ্যাডমিরাল এনোমোটো টাকিয়াকি ও তার ফরাসি সামরিক উপদেষ্টাগণের নেতৃত্বে প্রধান দ্বীপ থেকে পালিয়ে, ইজো নামক (বর্তমানে যা হোক্কাইডো নামে পরিচিত) জনবিরল ও অনুন্নত দ্বীপে বসতি স্থাপন করে। এনোমোটো তৎকালীন সার্বভৌম আদালতের কাছে হোক্কাইডোকে উন্নত করে সামুরাইদের ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য একটি আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তার আর্জি খারিজ করে দেয়। এরপর ১৮৬৯ সালে টাকিয়াকি ইজো প্রজাতন্ত্র নামে একটি পৃথক রাষ্ট্রের ঘোষণা দেন। এই নতুন দেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল পুরনো সামুরাই পদ্ধতিগুলো সংরক্ষণ এবং সমাধিকারে বিশ্বাসী সরকার গঠন করা।

ইজো প্রজাতন্ত্রের পতাকা; source: althistory.wikia.com

ইজো সরকারই সর্বপ্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আয়োজন করে, যেখানে তাদের সরকারের পরিকল্পনাগুলো ছিল ফরাসি ও আমেরিকান দর্শনের উপর ভিত্তি করে। তবে শান্তি বেশিদিন ছিল না। শীঘ্রই সার্বভৌম সরকারের বাহিনী দ্বীপে তাদের জায়গা দৃঢ় করতে লাগল। আধুনিক জাপানি বহর ব্যবহার করে তারা সামুরাইদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধে জয়লাভ করে। এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক বাহিনী গোরিওকাকুর প্রধান দুর্গ ঘিরে ফেলে এবং টাকিয়াকিকে তার বাহিনীসহ আত্মসমর্পণ করতে বলে।

গোরিওকাকুর দুর্গ; source: Wikimedia Commons

ইজো প্রজাতন্ত্র ভেঙে যায়, সেই সাথে সামুরাই ঐতিহ্যের সমাপ্তি ঘটে। এই ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি ক্ষণস্থায়ী হলেও জাপানের উপর এর বেশ প্রভাব ছিল। যে গণতান্ত্রিক আদর্শ ইজোতে অনুশীলন করা হয়েছিল, তা পরবর্তীতে জাপান সাম্রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখনো পর্যন্ত সেই প্রজাতন্ত্রকে জাপানি সংস্কৃতিতে সামুরাই উপাখ্যানের শেষ গৌরব মনে করা হয়।

সাসকাচেওয়ানের প্রাদেশিক সরকার (৬২ দিন)

কানাডাকে যদিও গৎবাঁধা চিন্তায় শান্তিপ্রিয় ও কারো সাতে-পাঁচে না থাকা দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবু তাদের ইতিহাসও একদম সাদা নয়। কম পরিচিত কিন্তু বেশ প্রভাব বিস্তারকারী যুদ্ধগুলোর মধ্যে একটি ছিল ১৮৮৫’র সংক্ষিপ্ত উত্তর-পশ্চিমা বিদ্রোহ। বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব লিউ রিয়েলের নেতৃত্বে স্থানীয় ‘মেটিস’ ও ‘ক্রি’ জাতির লোকজনের দুর্দশার প্রেক্ষাপটে এই যুদ্ধ শুরু হয়। ইউরোপিয়ান এবং পূর্ব-উত্তর আমেরিকাবাসীর বিরুদ্ধে স্থানীয়দের খেপিয়ে তোলার ব্যাপারে রিয়েল আগে থেকেই সচেষ্ট ছিল। রিয়েল তার সবচেয়ে বড় বিদ্রোহটি শুরু করেন ১৮৮৫ সালে। তার মতে, এই বিদ্রোহের লক্ষ্য ছিল স্থানীয় জনগণকে তাদের মূল জীবনধারা ফেরত দেওয়া ও কানাডীয় সরকারের আধিপত্য হ্রাস করা। বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল ক্ষুদ্র কিছু খণ্ডযুদ্ধের মাধ্যমে, কিন্তু ১৮৮৫ এর মার্চেই রিয়েল তার বড় চালটি চালেন বাটোচের সাসকাচেওয়ানে প্রাদেশিক সরকার গঠনের মাধ্যমে একে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দিয়ে।

প্রাদেশিক সরকারের সদস্যদের সাথে লুই রিয়েল (মাঝখানে); source: thecanadianencyclopedia.ca

রিয়েল চেয়েছিলেন সাসকাচেওয়ানের স্থানীয় লোকজন এবং সেখানে বসবাসকারী শ্বেতাঙ্গ অধিবাসীদের তার নতুন সরকারের পতাকাতলে আনতে। দুর্ভাগ্যবশত রিয়েলের পরিকল্পনা কখনোই বাস্তবায়িত হতো না, কারণ, কানাডীয় সরকার রাজ্যের মাঝে বিশেষ প্রদেশের স্বাধীনতা কখনোই মঞ্জুর করতো না। সরকারের নির্দেশে ফ্রেডরিক মিডেল্টনের নেতৃত্বে প্রায় এক হাজার মিলিশিয়া এবং সাধারণ সৈন্য বাটোচের রাজধানী ঘিরে ফেলে এবং টানা দু’দিন একের পর এক আক্রমণ পরিচালনা করে। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ লোকের পলায়ন, আহত হওয়া ও মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে বাটোচের প্রতিরক্ষা এই আক্রমণের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে। ১২ই মে মিডেলটন, রিয়েলকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ এবং বিদ্রোহের সমাপ্তি টানেন। নভেম্বরে রিয়েলকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

আইসল্যান্ড ভূখণ্ড (৫৮ দিন)

নেপোলীয় যুগের ড্যানিশ অনুসন্ধানকারী জর্জেন জরগেন্সনের বৈচিত্র্যময় ও বিপজ্জনক অ্যাডভেঞ্চারে ভরা জীবন-গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায় সম্ভবত প্রায় দুই মাসের জন্য আইসল্যান্ডের একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের শাসক হওয়া। নেপোলীয় যুদ্ধে কোপেনহেগেনের উপর ব্রিটিশ বোমারুদের হামলার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন। ক্ষোভে জর্জেন নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং ‘এডমিরাল হাল’ নামে শত্রু জাহাজ আক্রমণকারী বেসরকারি জাহাজের নেতৃত্বে নিযুক্ত হন।

জর্জেন জরগেন্সন; source: Wikimedia Commons

পরপর কয়েকটি সফল অভিযানের পর এইচ.এম.এস স্যাফোর (ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির চারটি জাহাজকে একত্রে এই নামে ডাকা হতো) কাছে ধরা পড়ে এবং আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। ইংরেজ নৌবাহিনী তাকে লন্ডনে নিয়ে যায় এবং বেশ কয়েক মাস কারাগারে রাখে। প্যারোলে বের হয়ে জর্জেন জাহাজের একজন ইংরেজ ক্যাপ্টেনকে আইসল্যান্ডে বাণিজ্য অভিযানের জন্য রাজি করান, যা ড্যানিশ বাণিজ্যের সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যাপক খাদ্য সংকটে ভুগছিল। ১৮০৯ এর মার্চে জর্জেন আইসল্যান্ডে যান এবং সেখানকার অধিবাসীদের সাথে ডেনমার্কের শাসকগোষ্ঠীর ব্যবহার দেখে ব্যথিত হন। এর কয়েক মাস পর জর্জেন আবার আইসল্যান্ডে যান আরেকটি বাণিজ্য অভিযানে, তবে এবার স্থানীয় সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা নিয়ে। আইসল্যান্ডের নগরাধ্যক্ষকে গ্রেফতারে তাকে সাহায্য করতে তিনি ইংরেজ নাবিকদের রাজি করিয়ে ফেলেন। নগরাধ্যক্ষকে রাস্তা থেকে সরিয়ে জর্জেন আইসল্যান্ডের রক্ষক হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি আইসল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ঐতিহাসিক আইসল্যান্ডীয় সংসদ ‘অলটিং’ পুনঃনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।

জর্জেন জরগেন্সনের পতাকা; source: Wikimedia Commons

  • জর্জেনের বেশ কিছু বড় পরিকল্পনা ছিল আইসল্যান্ডবাসীদের নিয়ে, কিন্তু যখনই ড্যানিশ সরকারের কানে এই ঘটনার খবর পৌঁছে, তারা পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ইংরেজ সরকারের সাহায্য প্রার্থনা করেন। দু’মাস আইসল্যান্ডে শাসন করার পর এইচ.এম.এস তালবট সেখানে পৌঁছায় এবং জর্জেনের রাজত্ব উৎখাত করে। ভাবলেশহীন আইসল্যান্ডিক জনতা তাদের স্ব-ঘোষিত রক্ষকের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। আইসল্যান্ড আবার ড্যানিশ শাসনের অধিভুক্ত হয়। তবে জর্জেনের এই কর্মকাণ্ডগুলো পরবর্তীতে আইসল্যান্ডের স্বাধীনতা লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখনও পর্যন্ত জর্জেন ‘ডগ-ডে’স কিং’ বা ‘দুঃসময়ের রাজা’ নামে পরিচিত

একটু ঘুরে আসি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড থেকে

Now Reading
একটু ঘুরে আসি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড থেকে

বিচ্ছিন্নতার মাঝে লুকিয়ে থাকা এক অবিচ্ছিন্নতা, একতা। দূর থেকে দেখলে মনে হবে এ কেমন ক্যাম্পাস…সবকিছু আলাদা আলাদা ছন্নছাড়া! কিন্তু না, একটু কাছে গেলেই পাবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মিলিত সত্ত্বার ছোঁয়া।

সন্ত্রাসবিরোধী স্মারক রাজু ভাস্কর্য

সন্ত্রাসবিরোধী স্মারক রাজু ভাস্কর্য

টিএসসির সড়ক দ্বীপে চারদিক ঘিরে থাকে অনেক প্রাণোচ্ছলতা, ভুল শব্দে লিখে রাখা সাইনবোর্ড নিয়ে পানিপুরিওয়ালা, রঙিন বেলুন আর বেলুন হাতে ইতস্তত দাঁড়িয়ে থাকা ধূসর চোখের কিশোরটি। অনেকগুলো ধোঁয়া ওঠা চায়ের দোকান, মালাই চা…মাল্টা চা…লেবু চা…আদা চা…প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ রকমের চা তো পাবেনই, তাই যখন ইচ্ছে মিটিয়ে নেয়া আপনার চায়ের তৃষ্ণা! স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্যটিতে চিত্রিত অত্যাচারের দৃশ্য ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে এরই এক কোণে অবস্থান করছে।

চিত্রিত অত্যাচারের দৃশ্য, 'স্বোপার্জিত স্বাধীনতা'

চিত্রিত অত্যাচারের দৃশ্য, ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’

প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন উদযাপনে মুখরিত টিএসসি অডিটরিয়াম, সামনের বারান্দায় বহু সাংস্কৃতিক কর্মশালার আহবান নিয়ে বসে থাকে একঝাঁক বিদ্যার্থী। ভেতরের ক্যান্টিন, প্রাঙ্গন, মাঠ সব ভরে থাকে আড্ডার কলকাকলিতে। ছোট ছোট পথকলিরা কিছু ফুলের মালা বা চকলেট নিয়ে ঘুরতে থাকে এদিক ওদিক, অনেকটা জোর করেই যেন গছিয়ে দিতে চায়। ফুল নিলে বা একটু কুশল শুধালে ওদের মুখের হাসিটা ফুলের কৌমার্যকেও হার মানায় যেন। সামনেই সন্ত্রাসবিরোধী স্মারক রাজু ভাস্কর্য মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে যেন সকল অশুভ থেকে টিএসসিকে আগলে রাখতে।

চারুকলা অনুষদের অভ্যন্তরে দেখা মেলে এমন অনেক ভাস্কর্যের

চারুকলা অনুষদের অভ্যন্তরে দেখা মেলে এমন অনেক ভাস্কর্যের

বামপাশ দিয়ে বাংলা একাডেমী, একুশে বইমেলার প্রাঙ্গন,অন্যদিক দিয়ে সামনে আরেকটু এগোলে আলো-ছায়ার ঘেরাটোপে থাকা চারুকলা অনুষদ। এর দেয়ালে দেয়ালেই মেলে চারুকলার শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীলতার আঁচ। বাইরে চুড়ি নিয়ে বসে থাকা অক্লান্ত কিছু মুখ, চুড়ির বেসাতি এরা বয়ে আনেন প্রতিদিন নিয়ম করে, নিয়ম করেই বলে দেন কোন চুড়ি কার হাতে কেমন মানাবে; তার নিজের হাতে থাকে কয়েকগাছি মলিন থেকে মলিনতর হয়ে যাওয়া চুড়ি। আর লোকজ বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বসে থাকা উদাস করা কিছু চেহারা দৃষ্টি কেড়ে নেবেই নেবে। কারো হাতে হয়তো একটা বাঁশের বাঁশি ফুঁ দেয়ার অপেক্ষায়, কেউবা একটু দেখে নিচ্ছেন একতারা কিংবা দোতারাটাই।

জনমুখরিত টিএসসি...

জনমুখরিত টিএসসি…

কলাভবনের রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রবেশদ্বার যা খানিকটা গোলকধাঁধাঁর বোধ দিয়ে ফেলে নবাগতদের! কোনোটা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও রোকেয়া হলের মধ্য দিয়ে, কোনটি আবার অপরাজেয় বাংলার সাথে। হাকিম চত্বর,মিলন চত্বর, মল চত্বর, ভিসি চত্বর…সব চত্বরে মিলেমিশে একাকার কলাভবনের এলাকাটি।

পলেস্তারা খসা প্রায় হলদেটে দেয়াল, জানালা-দরজার কাঠের পুরনো সবুজ, বাইরের মধুদা’র আবক্ষ ভাস্কর্যে আজো শুকনো ফুলের মালা আর ভেতরের দেয়ালে লম্বা পোর্ট্রেট যেন একটি নির্দিষ্ট সময়কেই এখনো ধারণ করে আছে; এর আবহাওয়াতেই মিশে আছে প্রাচীনত্বের গন্ধ। পাশে অভিজাত ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, যার প্রাঙ্গনে প্রায়ই সমবেত হয় বাণিজ্যিক স্টলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক সুযোগ নিয়ে।

কলাভবনের ডাকসু সংগ্রহশালা

কলাভবনের ডাকসু সংগ্রহশালা

কলাভবনের শিক্ষার্থীদের মুখে প্রায়শ ধ্বনিত নাম ‘শ্যাডো’…কবে কখন কীভাবে এর নামকরণ হয়েছে কে জানে! এই ‘শ্যাডো’ হলো মোটামুটি সরু ও লম্বা একটি গলি যার দু’ধারে কর্মকর্তা-কর্মচারী-শিক্ষকদের গাড়ী ও বিপরীতে শিক্ষার্থীদের সাইকেল রাখা জড়ো করে। খাবারের দোকান, ফটোকপির দোকান…অনেক সমৃদ্ধ জায়গা বলা চলে একে।এর কাছাকাছিই ‘ডাকসু’, সাম্যবাদিতার বাণী ও চিত্রে ভরপুর দেয়াল-স্তম্ভ নিয়ে ডাকসু ভবন, এর সিঁড়ি অতি পরিচিত সদস্য কলাভবনের। এর পেছনের অংশটা ঝোপঝাড়ে ভরা, লম্বা শেকড়ের দৃষ্টিতে অরণ্যের অনুভব নিয়ে দু’এক পা তো হাঁটাই যায়!

কলাভবন যেমন সবসময় ভীড় ঘেঁষা, জনমুখর…ঠিক তার বিপরীত নিরিবিলি হাওয়া বয় কার্জন হল আর ফুলার রোডের এলাকাতে। স্মৃতি চিরন্তন পেরিয়েই প্রবেশ ঘটে ফুলার রোডে, প্রায় ফাঁকা চলার পথ মাঝে মাঝে চোখে পড়ে ঈশা খান ও অন্যান্য আবাসিক এলাকা থেকে আগত কিছু গাড়ি। আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়লে ভুলেই যেতে হয় এর একটু দূরে আছে অত ব্যাস্ত মোড়, পথ। কেমন শান্ত সুনিবিড় জায়গা, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা খেলছে, অলস বসে থাকা কারো কারো। সামনেই বৃটিশ কাউন্সিলের জ্ঞানচর্চার অভিজাত সীমানা, কড়া নজরদারি। আর একটু এগিয়ে গেলেই অদ্ভূত এক চত্বর, স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্য চত্বর…শামিম শিকদারের নিপুণ হাতে গড়ে তোলা এক একটি মুখাবয়ব-অবয়ব। এই চত্বরে ঢুকে পড়লে তাদের ভীড়ে হারিয়ে যেতেই হয়, সবক’টি মুখ মনে রাখতে ইচ্ছে হয় কিন্তু পারা যায় না।

শামিম শিকদারের গড়া স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্য চত্ত্বর...

শামীম শিকদারের গড়া স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্য চত্ত্বর…

ভাস্কর্যের কথা উঠলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো ভাস্কর্যের নাম একবার নিতেই হয়! তিন নেতার মাজার, সপ্তশহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, ঘৃণাস্তম্ভ, স্বামী বিবেকানন্দ ভাস্কর্য, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা, রাজু ভাস্কর্য, অপরাজেয় বাংলা…কত কত নাম! একেকটি নাম বহন করছে ইতিহাসের একেকটি খন্ডাংশ। জগন্নাথ হলের বুদ্ধমূর্তিটির কথা তো বলাই হলো না! বিশাল এই বুদ্ধমূর্তির সামনে সবার একবার হলেও দাঁড়ানো উচিত, ধ্যানগ্রস্ত বুদ্ধ যেন দর্শককেও আচ্ছন্ন করে ফেলতে চান তার ধ্যানে! ভাল লাগবে।

কলাভবন থেকে বেরুলেই হাকিম চত্ত্বর থেকে একটু দূরে গুরুদুয়ারা নানকশাহী… ইচ্ছে করলেই দেখে নিতে পারেন উপাসনালয়টি। মসজিদের পাশে কবি নজরুলের সমাধি যা দেখলেই মনে পড়ে যায় কবির শেষ ইচ্ছা, “মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই”…শুধু কবিই নন, পাশে আছে দেশের আরেক গুণী সন্তান শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের সমাধিও। আর কার্জন হলের ওদিকটাদে ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সমাধি। দেশের ইতিহাসের কারিগরেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকাতে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

অভিজাত কার্জন হল

অভিজাত কার্জন হল

আরেকটি সম্পূর্ণ পৃথক এলাকা হচ্ছে কার্জন হলের লালচে অভিজাত ভবনের নীরব সৌন্দর্য, শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড়… সব মিলিয়ে একটি সুনসান পরিবেশ। কার্জন হলের মধ্য দিয়ে হেঁটেই পৌঁছে যেতে পারেন দোয়েল চত্বরে, দুইদিকে এত কুটিরশিল্প আর এত গাছগাছালির সমাহার যে মনে হয় প্রতিদিনই এখানে মেলা বসেছে! সন্ধ্যেবেলা দোয়েল চত্বরের দোকানগুলোর আশেপাশে হাঁটলে একটা অদ্ভূত মায়া এসে যায় রঙ বেরং এর আলোর ছায়ায়। বাঁশ, কাঠ বা মাটির তৈরি ঝুলন্ত ল্যাম্পশেডগুলোতে ওরা সন্ধ্যায় আলো জ্বালে, আর পাশের রাস্তা থেকে দেখে মনে হয় আলোর মেলা বসেছে, একঝাঁক আলো নেমেছে ঝুপ করে!

এই ক্যাম্পাসের সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এর একটি অংশের সাথে অপরটির দারুণ অমিল রয়েছে। আর এই অমিলই একে করে তুলেছে বৈচিত্রপূর্ণ ও সমৃদ্ধ। এর দেয়ালে দেয়ালে এত লেখা আর ছবি রয়েছে যে মনে হয় পথের দু’ধারে দেয়ালগুলোও কথা বলে চলছে।  ইট-সুরকি নয় শুধু, এখানে প্রতিনিয়ত প্রাণ বয়ে যায় কর্মে-আলস্যে।

দোয়েল চত্ত্বর...

দোয়েল চত্ত্বর

ঢাবির ক্যাম্পাস নিজের মধ্যেই একটি বহুমাত্রা হয়ে আছে। এর সীমানায়, বিস্তৃতিতে, স্বাতন্ত্র্যে যে কাউকেই আকর্ষণ করবে শাহবাগের বেশ বড় এলাকাজুড়ে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি।