আয়নার আয়নাবাজি – আয়নাবাজি মুভি রিভিউ

Now Reading
আয়নার আয়নাবাজি – আয়নাবাজি মুভি রিভিউ

মুভিটা গত বছর মুক্তি পেয়েছে মানে ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর । আয়নাবাজি মুক্তি পাবার আগেই সারা ফেলেছে দর্শকদের মাঝে । আয়নাটা বাজি এমন একটা মুভি যার ছবির পোস্টার থেকে শুরু করে ছবির শেষের দৃশে পর্যন্ত ছিল অসাধারণ কারু কাজ । ছবির মান নিয়ে কোনো কথা হবে না । অসাধারণ অভিনয় করেছেন ছবির অভিনেতারা ।

ছবির সামনে ও পিছনের মানুষ জন :

পরিচালনায় – অমিতাভ রেজা
চিত্রনাট্য – গাউসুল আলম শাওন , অনম বিশ্বাস
সংলাপ – আদনান আদিব খান
সংগীত পরিচালক – হাবিব ওয়াহিদ , ফুয়াদ , অর্ণব
প্রধান অভিনেত ও অভিনেত্রী – চঞ্চল চৌধুরী , নাবিলা , পার্থ বড়ুয়া লুৎফর রহমান

প্রথমে আসি অমিতাভ রেজার ব্যাপারে । নিসন্দেহে তিনি একজন ভালো নির্মাতা । উনি বেশ ভালো কাজ করেন নতুন পুরাতন সবাইকে নিয়ে । উনার বিজ্ঞাপন ও নাটকের মান খুবই ভালো । বিজ্ঞাপন ও নাটক দিয়ে এর আগেও নিজেকে প্রমান করেছেন অনেক বার । সর্বশেষ একটি টেলিকম এর বিজ্ঞাপন দিয়ে খুব ভালো ভাবে নিজেকে সবার সামনে প্রমান দিয়েছেন । এখন প্রশ্ন আসতে পারে তার ছবি নিয়ে । কারণ এর আগে তিনি কখনো ছবি পরিচালনা করেনি । তার প্রথম ছবি আয়নাবাজি । ধাপে ধাপে এগিয়েছেন এই মুভি নিয়ে । প্রথমে তিনি টিজার মুক্তির মাধম্যে সারা ফেলেদেন সবার মাঝে । তখন সবাই বুঝতে পারে ভালো কিছু আসছে । তারপর গান এবং সর্ব শেষ ছবির ট্রেলার মুক্তি দিয়ে কাঁপিয়ে দেন ইউটুবে কে । মানুষ তখন ছবি নিয়ে বেশ আলোচনা করছে । আর তখনি বোঝা গেল ছবিটা এইবার সত্যি সত্যি কাঁপিয়ে দিবে

ছবির গল্পের সাথে ছবির নামের স্বার্থগত ১০০ ভাগ মিলেছে । আয়নায় যেখানে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখা যায় ঠিক তেমনি আয়না বাজির ছবিতে আয়না চরিতের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে সবার কাছে । চঞ্চল চৌধুরী মানে আয়না নিজেকে টাকার প্রযোজনে নিজে আরেক জনের ভিতরে প্রবেশ করে । অসাধারণ তার অভিনয় । এক চরিত্র থেকে বের হয়ে আরেক চরিত্রে কাজ করা মোটেও সহজ কথা নয় । এই গুণী অভিনেতা নিজেকে প্রমান করেছেন আরো আগেই আর এই ছবির মাধম্যে নিজের জাত তুলে ধরলেন সবার কাছে । আর সঙ্গী হিসেবে ও নিজেকে বেশ ভালোই প্রমান করলেন নাবিলা ।

৩০ তারিখে মুক্তি পাবার আগে থেকে সব টিকিট বিক্রি শেষ । মানে প্রতিটা শো হাউস ফুল গিয়েছে । এই জিনিস দেখে অনেকের মধ্যে আবার ফিল হতে শুরু করলো সিনেমার সোনালী দিন আবার ফেরত আসছে । ছবির শুরু তে অমিতাভ রেজা দর্শকদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিলেন আয়না কে । সাধারণ জীবন যাপন , আর পুরান ঢাকার ঐতিহ্য কে সবার সাথে খুব ভালোভাবে তুলে ধরলেন তিনি । দেখিয়েছেন আমাদের সমাজে মানুষ টাকার জন্য কি করতে পারে আর মানুষ কে টাকা দিয়ে কি করানো যেতে পারে । দেখিয়েছে কিভাবে খুব সাধারণ ভাবে নিজের ভালোবাসা বলা যায় নিজের ভালোবাসার মানুষের কাছে । সাংবাদিক চরিত্রে খুব ভালো কাজ করেছেন পার্থ বড়ুয়া । ছবির স্বার্থে চঞ্চল চৌধুরী নিজেকে পরিবর্তন করেছেন অনেক । তিনি আয়নাবাজিতে নিজেকে মোট ৬ বারের ওপর পরিবর্তন করেছেন । কি সুন্দর তার অভিনয় । প্রথমে তিনি একটি পাগল ছেলের দৃশে অভিনয় করেন । যেখানে তিনি আরেক জন এর হয়ে জেল খেটে দিচ্ছেন ।এক এক বার তিনি এক এক জনের হয়ে জেল খাটছেন । এই ভাবে তার গল্প এগুতে থাকে ।সর্বশেষ একজন সমাজের প্রভাবশালী নেতার হয়ে জেল খাটেন কিন্তু প্রতিবার বের হতে পারলেও এই বার সে রাজনৈতিক নেতা তাকে বের না করাতে আদালত থেকে তার ফাঁসির রায় হয়ে যায় । আয়না তার নিজের মধ্যে অস্থির থাকলেও কাউকে বুঝতে দেয় না । ধীরে ধীরে বের হয়ে আসে জেল থেকে । এই ভাবে এগুতে থাকে ছবির ঘটনা ।

ছবির প্রতিটা বিভাগে কাজের মান ছিল অসাধারণ । সেই সাথে অমিতাভ রেজার পরিচালনা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না । ক্যামেরায় রাশেদ সাহেবের কাজ দেখে আপনি নতুন করে ঢাকা কে চিনবেন । বিশেষ করে তিনি পুরান ঢাকা কে তুলে ধরেছেন খুব সুন্দর ভাবে । শুধু ক্যামেরায় নয় সংলাপ থেকে শুরু করে গানের প্রতিটা কথা যেন নিজেকে ছুঁয়ে যাবে । আপনিও হারিয়ে যাবেন তাদের সাথে ।

দিন দিন আমাদের হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরে আসছে এই সব ছবির মাধ্যমে । আসলে আমাদের দেশের হলের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে ভালো মানের ছবির অভাবে । আমাদের দেশের যেই সব গুণী পরিচালকরা আছে তারা যদি নিজেদের মেলে ধরতে পারেন ও অভিনেতারা যদি তাদের অভিনয়ের ১০০ ভাগ দিয়ে থাকেন তাহলে ছবি হিট হবেই আর দিন দিন হলের সংখ্যাও বাড়বে ।

আয়নাবাজি তার আয়নাগিরি দেখিয়ে যেমন জয় করেছে বাংলাদেশের মানুষের মন ঠিক দেশের বাহিরেও ছিল আয়নার বাজির প্রভাব । দেশের মাটিতে সফল ভাবে চলে বিদেশের মাটিতেও ছিল আয়নার জয় । সেই সাথে উঠেছে অনেক গুলো পুরস্কার । দেখিয়ে দিয়েছে ভালো ছবি করলে শুধু দেশে না বিদেশের মাটিতেও চলে

কুয়োর ব্যাঙঃ বাঙালিত্ববোধ ও মূল্যবোধের হন্তারক

Now Reading
কুয়োর ব্যাঙঃ বাঙালিত্ববোধ ও মূল্যবোধের হন্তারক

আমরা বাঙালিরা যারা দেশ থেকে বিদেশে পড়তে আসি, প্রত্যেকেই নানান দেশের মানুষের সাথে মেলামেশা করি। আমরা সকলেই আমাদের দেশের একেকজন প্রতিনিধি।
আমার মাঝেই আমার দেশ। আমাকে দিয়েই আমার দেশ, আমার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব চিনে নেবে, এটা আমাদের সকলের অন্তরে ধারণ করে চলতে হবে।
আমাদের সকলেরই উচিৎ, আচার আচরণ আর ব্যবহার দিয়ে নিজের দেশকে সকলের সামনে তুলে ধরা। অথচ, আমি অনেক সময়ই এর বিপরীত দেখতে পাই যা খুব হতাশাজনক।
সেদিন চাইনিজ আর্টস অ্যান্ড লিটারেচার ক্লাসে নানান দেশি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে আমাদের জাতীয় সংগীত বাজানো হলো। সকলেই নিজ নিজ জায়গা থেকে সাথে সাথে দাঁড়ালাম। চাইনিজ টিচারও সম্মানের সহিত আমাদের সাথে দাঁড়িয়ে গেল। সত্যিই এক মধুর দৃশ্য ছিল সেদিন। অথচ, সেই মধুর দৃশ্যের মাঝে আমাদেরই কিছু বাঙালী সহপাঠী সামনের সাড়িতে বসে গালে হাত দিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে অন্যদের দিকে তাকাচ্ছিল। শেষে বিরক্ত হয়ে নিজে থেকেই দাঁড়িয়ে যেতে বললাম। বেশ কয়েকবার বলার পড়েও তাদের দাঁড় করানো যায়নি। সত্যিকার অর্থে, দেশপ্রেম বলে কয়ে কারো মাঝে নিয়ে আসা যায় না। এটা একটা মানুষের ভিতর-গত ব্যাপার যা উপলব্ধি করতে হয় নিজে থেকে। দেশে থাকতে এরা নিশ্চয়ই জাতীয় সংগীতের সাথে দাঁড়ানো শিখেছে, পতাকার দিকে তাকিয়ে স্যালুট দেয়া শিখেছে। আর, এখানে এসে এসব ভুলে গেছে অথবা মনে রেখেও দেশের টান উপলব্ধি করতে পারছে না।

যাক সেকথা, এবার পাতি নেতাদের কথায় আসি।
বন্ধু মহলে এরা সবসময় নিজেদেরকে একেকজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে জাহির করতে ব্যস্ত। ভাবখানা এমন যে, সে যা বলবে অন্যরা সেভাবেই চলবে। দেশিও চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে সে অন্যদের মাঝে নিজেকে কুখ্যাত বানাতে একটুও দ্বিধা-বোধ করেনা। এদের মুখে সবসময় কিছু কমন কথা লেগে থাকে যা শুনতে শুনতে প্রায় মুখস্থ হয়ে গেছে। দেশে থেকে সে এই করছে, সেই করছে, একে মেরেছে, ওকে ধরেছে, দেশে তার বেশ কয়েকটা কেস চলমান, আরও কত কি। ব্যাপারগুলো এমনভাবে বলে, যেন সে মহান কাজ সাধন করে এসেছে যা না বললেই নয়। মূলত: এসব কথা বলে সবাইকে তার নিজ ক্ষমতার ব্যাপারে জানান দিচ্ছে, যাতে সবাই তাকে ভয় পায়। চিন্তা করে দেখেনা যে, তার এই কাজগুলো কতটা খারাপ আর এগুলো বলে বলে বেড়ানো কতখানি আহাম্মক হবার শামিল। একজনকে এও বলতে শুনেছি, সে নাকি তার ইউনিভার্সিটির শিক্ষককে মেরে সেখান থেকে ব্যান হয়ে বিদেশে পড়তে গেছে। একথা বলে বলে সে আসরও জমিয়ে ফেলেছে। কত বড় গর্দভ হলে এমন কাজ করে আর নিজেকে এভাবে উপস্থাপন করে। শিক্ষককে মেরে সেখান থেকে ব্যান হয়ে যাওয়াকে অথবা নানান অপকর্ম করাকে সে যদি বিশেষ অর্জন মনে করে, তবে তার উচিত সার্টিফিকেটের পিছনে এসব অভিজ্ঞতা লিখে রাখা। তার চিন্তা অনুযায়ী এসব তার ভবিষ্যতে কাজে লাগতেও পারে। সার্টিফিকেটের পিছনে লিখতে বলার পিছনে কারণ আছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রদত্ত সার্টিফিকেটে তার এসব মহান কাজ উল্লেখ থাকবে না। যেটুকু থাকবে, তা হলো একজন মানুষের বৈধ শিক্ষা। অবৈধ বা অসামাজিক শিক্ষার জায়গা মানুষ গড়ার কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দলিলে নেই।

আরেকদল মানুষ আছে, যারা নিজের দেশের মানুষকে পায়ে ঠেলে অন্য দেশের মানুষকে কোলে রাখে। আমি অনেককেই দেখেছি, যারা একে অপরের ভাল বন্ধু, কিন্তু ফরেইনদের সাথে কথা বলার সময় অন্যজনকে আর চিনেই না। বরং সেই বন্ধুকে নিয়ে হাসি তামাশা করে ফরেইনদের মাঝে জায়গা করে নেয়। অথচ সে জানেই না, তার এই চালাকি ওই ফরেইনর খুব সহজে ধরে ফেলে এবং সেই আহাম্মক নিজেকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।

এবার বিদেশীদের নিকট বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে কিছু কথা বলি।
প্রথম যখন আমার ইউনিভার্সিটিতে পা রাখি, দেশি বিদেশি অনেক বন্ধু নিয়ে একসাথে আমার দেশ নিয়ে গল্প করছিলাম। এক আফ্রিকান বন্ধু মাঝখান থেকে বলে উঠলো, “হেই ফ্রেন্ডস, আই নো সাম বাংলাদেশি ওয়ার্ডস”। আমি আগ্রহ ভরে তার কাছ থেকে সেই শব্দগুলো শুনতে চাইলাম। তার মুখ থেকে শোনা আমার প্রথম শব্দটি ছিলো, “বোকাচোদা”। এরপর আরও কিছু শব্দ শুনেছি, যা আমি এখানে উল্লেখ করতে পারছিনা। অন্যদেশি ফ্রেন্ডরা যখন এর মানে যানতে চাইলো, তখন সে ওসব শব্দ অনুবাদ করে তাদের শুনালো। কে তাকে এসব শিখিয়েছে জিজ্ঞেস করার পর জানতে পারলাম, আমাদের আগে যারা এসেছে, তারাই ওকে এসব শব্দ শিখিয়েছে। এমন ঘটনা আমি আশা করিনি। নিজ দেশের অপ্রীতিকর শব্দ অন্য দেশের মানুষের মুখ থেকে বের হবে, এটা কল্পনাতীত। দিন যত গড়িয়েছে, বাংলা ভাষার অপ্রীতিকর শব্দ বিদেশিদের মুখে তত বেশি শোনা গেছে। কিছুদিন পরে আমি আমার দেশি সকল বন্ধুদের এটা করতে বারণ করলাম। এও বললাম যে, যদি কিছু শিখাতেও হয়, ভাল কিছু শিখাও। আমাদের শেখানো এসব বাংলা ভাষা বিশ্বময় ছড়িয়ে যাক তাদের দ্বারা। বেশ কয়েকজন আমার পক্ষে কথা বললেও কিছু ফ্রেন্ড আমার কথার বিরোধিতা করলো। তাদের মুখ থেকে শোনা গেলো যে, তারা তাদের বাপের টাকায় পড়তে এসেছে, কারো কথা শোনার জন্য আসেনি। আমি তাদের আর কিছু বলতে পারিনি। তবে যারা আমার কথা পজিটিভ-লি গ্রহণ করেছে, তারা পরবর্তীতে বিদেশীদের অনেক গুলো বাংলা ভাষা শিখিয়েছে যা মধুর। বিদেশি বন্ধুদের সাথে দেখা হলেই তারা বলতো, “কেমন আছো ভালো”। আমি তাদের এই বাক্যটাকে সংশোধন করে দিয়েছি। এখন সামনাসামনি দেখা হলে জিজ্ঞেস করে। “কেমন আছো?” আমি যখন বলি, “ভাল আছি, তুমি?”। তখন সে সুন্দর করে বলে, “আমি ভাল আছি”। এরকম আরও কিছু সুন্দর বাংলা বাক্য তাদের মুখ থেকে বের হয়, যা শুনলে ভিতর থেকেই একটা প্রশান্তি চলে আসে। আমরা যারা পজিটিভ কথা শিখিয়েছি, আমাদের দেখে তারা পজিটিভ কথাই বলে। আর যারা গালি শিখিয়েছে, দূর থেকে তাদের কাউকে দেখলে, “হেই বোকাচোদা” বলে ডাক দেয়। মূর্খতার পরিচয় তারা সেখান থেকেই পেয়ে যায়।

সত্যিকার অর্থে এরা সবাই একেকটা কুয়োর ব্যাঙ। কুয়ো থেকে খোলা জায়গায় আসলে ব্যাঙ যেমন লাফায়, এরাও তেমন লাফাচ্ছে। এদের সকলেরই উচিত, নিজের চারপাশটা খোলা চোখে দেখে নিজেকে শুধরানো। আর মনে রাখা উচিত, পূর্বের অপকর্ম কখনোই নিজেকে কারো কাছে বড় করে না আর ভবিষ্যতকে আলোকিত করে না। ভবিষ্যতকে আলোকিত করতে চাই সঠিক শিক্ষা আর মানুষ হবার সঠিক পদক্ষেপ।

“আস্তে আস্তে চুমা দিও, কামড় দিও না !!” – একজন ‘আরজে ট্যায’ এবং বাংলাদেশে অপসংস্কৃতি

Now Reading
“আস্তে আস্তে চুমা দিও, কামড় দিও না !!” – একজন ‘আরজে ট্যায’ এবং বাংলাদেশে অপসংস্কৃতি

নিজের বিবেকবোধ থেকেই এই লেখাটা লিখছি।

সময় এখন অগ্রগতির, বিশ্বের অন্যন্য দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাবার, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলার। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনি বা আমি বাংলাদেশ কিংবা নিজের দেশে বসে নিজের সংস্কৃতিকে ভুলে, নিজের ভাষাকে ছোট করে নিজেকে পশ্চিমা ঢঙ্গে সঙ সেজে উপস্থাপন করবো।

বিশ্বাস করুন, একজন বাংলাদেশী হিসেবে নিজের কাছেই আমার লজ্জা করে, কি করে কিছু মানুষ আজকাল সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য নিজেকে উজার করে দিচ্ছে ? কি করে নিজের এরা নিজের দেশ, নিজের সংস্কৃতি, মাতৃভাষাকে ছোট করে যাচ্ছে? আচ্ছা এরা কি সত্যই বাংলাদেশী? এরা কি নিজের দেশের ইতিহাস জানেনা? ৫২ এর ভাষা আন্দোলন কিংবা ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ – এসবের কিছুই কি তারা জানেনা? নাকি দেশদ্রোহী কোনো রাজাকারের স্পার্ম থেকে এদের জন্ম? কি খুব বেশি বলে ফেললাম? বেশি বললে ফেললেও আমি দুঃখিত হতে পারছিনা বলেই দুঃখিত !!

হ্যাঁ, আজকের এই লেখাতে আমি বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট নারী পর্ণোগ্রাফিক স্টাইলিশ আরজে  কিংবা রেডিও জকির কথা বলছি। তিনি আর কেউ নন, তিনি আমাদের আরজে ট্যায। বাংলায় উচ্চারন তাজ হলেও ইংরেজি উচ্চারণে মুখশ্রী বাকিঁয়ে তিনি ট্যায উচ্চারণ করেন। বাহ! নাম নিয়েও কত ভন্ডামী রে বাবা!!

আচ্ছা, রেডিও জকি কি জানেন তো? রেডিও চ্যানেলে যিনি মাইক্রোফোনের সামনে অনর্গল কথা বলে যান তার শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেখানে এই আরজে ট্যায একটু ব্যতিক্রমী বটে।  তার ব্যপারে  যতদূর জেনেছি সে রেডিও স্পাইস নামক একটি এফ এম চ্যানেলে জকিগিরি করে। আর সেই চ্যানেলের সেই সিইও।  এখন কথা হলো, তাকে মানুষ তো চিনেনা, কিভাবে চেনানো যায়? কিভাবে জনপ্রিয় হওয়া যায় সেই উপায় হিসেবেই তার ফেসবুকে আগমন।

ব্যস! ফেসবুকে এসেই বাজিমাত!

রেডিওতে মানুষ কথা শোনে, মুখ দেখেনা, কিন্তু ট্যায এর বেলায় ভিন্ন কথা। তিনি ভিডিও করে আপলোড দিতে লাগলেন, ফেসবুক লাইভে আসতে লাগলেন বর্তমান সময়ের আরো কিছু সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়া ইউটিউবার আর শিল্পীকে নিয়ে।  নিজের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর এইতো সুযোগ।

সে টার্গেট করলো যুব সমাজকে।  কারণ এদেরকে আকর্ষণ করতে পারলেই নিজের প্লান সাকসেসফুল। হ্যাঁ ঠিক তাই হলো।

পশ্চিমা পোশাক বা খোলামেলা পোশাকে হাজির হয়ে নিজের শরীর দেখিয়ে ডিজিটালি নগ্নতার বহিঃপ্রকাশ।  আমার ভাবতেও অবাক লাগে ,  একজন বাংলাদেশী হয়ে বাঙালী মেয়ে হয়ে সে কিভাবে এত নিচে নামতে পারে! তার শারীরিক অঙ্গভঙ্গিই বলে দেয় সে কোন স্তরের খ্যাত। আরে ভাই, যে শাড়ি পড়েও শালীনভাবে চলতে পারে ,সে খ্যাত না রে! এই অসভ্যগুলোই খ্যাত যারা শরীরে পোশাক পেচিঁয়ে রাখতে জানেনা। ট্যায ম্যাডাম থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গিয়ে ভিডিও আপলোড দিলেন যেখানে শরীরের উপরিভাগ নেটের কাপড়ের নিচে ভাসছে। বাহ! এই হলো আধুনিকতা। নতুন করে আধুনিকতার সঙ্গা আমাকে শিখতে হবে বলে মনে হচ্ছে।

তার পোশাক নিয়ে আর কিছুই বলতে চাচ্ছিনা।   এইবার আসি একটু ভিন্ন বিষয়ে। আচ্ছা, এই মহিলা কি স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক? আই মিন, আমি একটু ভিন্ন কিছু বোঝাতে চাচ্ছি। দুঃখিত, আমি  কি বোঝাবো নতুন করে, সেই তো আরেক খ্যাত সস্তা মডেল আম্ব্রিন এর সাথে লাইভে এসে যা দেখিয়ে গেল বাংলাদেশকে…! দেশে বোধহয় এই প্রথম কোনো মেয়ে নির্লজ্জ বেহায়াপনার মত আরেকটি মেয়ের গালে বিশ্রীভাবে চুমু দিয়ে প্রমাণ করে দিল যে সে আসলে একটা লেসবিয়ান। এইটা আমার কথা না, সারা বাংলাদেশের মানুষ যারা সেই ভিডিও দেখেছে তাদের কথা।  ওহ আরেকটা কথা, কানে কানে বলি, ঐটা আমিও দেখেছি, তাই বলছি কি, ট্যায আসলেই মনে হয় একটা লেসবো!!

পৌষ সংক্রান্তি নিয়ে ছোট একটা ভিডিও আছে, যেখানে তার বাংলা শুনলে মনে হয়, একটা প্লের বাচ্চাও তার থেকে ভালো বাংলা বলতে পারে।  এছাড়াও কুয়াকাটার একটা ভিডিও দেখলে মনে হয়, সে আমাদের দেশে হিন্দি গানকে প্রমোট করছে।  অবাক লাগে, আমার কান্না আসে যখন দেখি এই মেয়ের মত আমাদের দেশে হাজারো লক্ষ মানুষ আছে যারা কিনা নিজের দেশের নিজের ভাষার গান শোনা বাদ দিয়ে হিন্দি উর্দু গানে মজে আছে।  তাদেরকে বললে বলে , বাল! বাংলা গান শোনে কে? তারা নাকি হিন্দিতে ফিলিংস পায়, জানিনা তারা কিসের ফিলিংস পায়, তবে এইটুকু বুঝি তারা মানসিক বিকারগ্রস্ত। তাদের বাবা-মা তাদেরকে দেশকে সেভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেনি বোধহয়।

পহেলা বৈশাখে তার ও তার সাথীদের নিয়ে তৈরী করা ভিডিওতে তার নাচটা দেখে মনে হল, তিনি পঙ্গু ছিলেন, সুস্থ হয়ে মাত্র বিছানা থেকে উঠে এসেছেন! হায়রে! বাঙালী হয়েও তোরা পঙ্গুই থেকে যাবি।

আবার আসি ট্যায আপার কথায়,  আপার অনুষ্ঠান যদি ২ ঘন্টার হয়ে থাকে, তবে সেখানে ১ ঘন্টা ৫০ মিনিট ইংরেজি চলে। বাকি ১০ মিনিট বাংলিশ। শুনতে গেলে দম আটকে আসে।  একবার সৌমিক রহমান আর সৌভিক রহমান নামে দুইজন ইউটিউবার অভিনেতাকে নিয়ে ভিডিও আপলোড করলো, সেখানে তাদের একজনকে ট্যায সেনশনাল বা স্পাইসি গান গাইতে বলছে; বাহ! কি যুগ রে ভাই? গান আবার স্পাইসিও হয় নাকি? এ তো পুরাই লুল!!

এভাবে বলতে গেলে আমার লেখা আমি শেষ করতে পারবো না।   তবে যে ব্যাপারটি নিয়ে সারা দেশে সোশ্যাল মিডিয়াতে ঝড় উঠেছিল, তা হল নতুন মডেল অভিনেত্রী শাহতাজ এর সাথে সেই গানঃ

“ফুল দিও কলি দিও কাঁটা দিও না!

আস্তে আস্তে  চুমা দিও, কামড় দিও না!”

সেই ভিডিও পুরো ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেল একদিনের মধ্যে।  সেখানে তার সেই অঙ্গভঙ্গি মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছে এই আরজে আর যাইহোক, কোনো সুস্থ মানুষ না। অসুস্থ বলতে বলা হচ্ছে সে নেশাগ্রস্ত কিনা। তার ভিডিওর অনেক কমেন্টে দেখলাম, “এ কি নেশা টেশা করে নাকি?” এই টাইপের কমেন্ট। শাহতাজ সেই ভিডিওতে ইতস্তত বোধ করছিল। ট্যায অবশ্য তাকে কিভাবে বুকের উপর দিয়ে হাত নাচিয়ে নিচে নামিয়ে এনে আবার উপরে আনতে সেই প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলো।

বর্তমান সময়ের কিছু খ্যাত তার অনুষ্ঠানে নিয়মিত আসা যাওয়া করে।  তাদের দ্বারা নিজের প্রচার। আই মিন, খ্যাত রা তো খ্যাতদের দিয়েই পরিচিত হবে তাইনা? ছোট আজাদ নামক একজন ইউটিউবার এর সাথে ভিডিওতে আরজে ট্যায তার বুক ডাউন শো এর মাধ্যমে দর্শকদের এটাই জানিয়েছে যে সে বুক বা শারীরিক কসরতে খুব বেশি অভিজ্ঞ।

র‌্যাপার প্রিতম যে কিনা সুকান্তের আঠারো বছর বয়স গানটার বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছে, মডেল টয়া যে কিনা মেয়েদের বাইরে গেলে কনডম নিয়ে বেরোতে বলে , জালালি সেট নামক র‌্যাপার যারা বাংলায় র‌্যাপ করে গালি দিতে ওস্তাদ সাথে র‌্যাপকেও রেপ করে ছাড়ছে, জাকিলাভ নামক ইউটিউবার যে কিনা ইউটিউব কে পর্ণটিউব বানাতে ব্যস্ত, সালমান মুক্তাদির সহ আরো অনেকে যারা সত্যিই বাঙ্গালী কিনা বলে সন্দেহ করা হয়, ডিজে সনিকা যে কিনা তারই ধাচের – এমন ক্যাটাগরির কিছু মানুষ তার লাইভ বা প্রোগ্রামের নিয়মিত অতিথি।

আর এত কিছুর পরেও সবচাইতে অবাক লাগে যখন দেখি ফাহমিদা নবী, শাফিন আহমেদ, হাবিব ওয়াহিদ, সিয়াম আহমেদ (অভিনেতা), মেহেরীন এর মত শিল্পীরাও তার অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন। কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি আমি।

সর্বশেষে,

শহরের সবচাইতে হটেষ্ট এফ এম চ্যানেল  এবং আরজে ট্যায, আপনাকে বলছি,

আপনার এই অধিকার নেই যে আপনি লক্ষ শহীদের রক্তে কেনা এই বাংলাদেশের মাতৃভাষাকে ইচ্ছা মত ব্যবহার করবেন।  বাংলাদেশ একটা পশ্চিমা দেশ নয় যে আপনি ইচ্ছামত খোলামেলা পোশাক পড়বেন যেখানে আপনার শরীরের অধিকাংশই খোলা থাকে।  ফেসবুক শুধু এডাল্টদের স্থান নয় আর, এখানে কিশোর কিশোরীদের বিচরণ রয়েছে।  তারা তবে কি শিখবে? আরজে কে সম্মানজনক পেশা হিসেবে নেয়া যায়, তাহলে কি তারা এটা শিখবে যে আরজে হতে গেলে আপনার মত পোশাক পরিধান করা, ইংরেজি বাংলা মিলিয়ে কি আজব ভাষা বলা কিংবা কয়েকটা ছেলে ডেকে এনে হিন্দি কিংবা সুরসুরি দেয়া গানের সাথে শরীর দুলিয়ে নাচা? কেন, আপনি শালীন পোশাক পড়ে দেশপ্রেমের গান শোনাতে পারেন না? পারেন না একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের গান শোনাতে? পারেন না শুদ্ধ বাংলায় কথা বলে রোল মডেল হতে যেখানে আমরা সবাই ১০০ টা কথা বললে ৫০টা ইংরেজি বলি?

আপনাকেই বা কি করে পুরোপুরি দোষ দিই বলেন? এই দেশে তো এখন সোজা পথে জনপ্রিয় হওয়া বেশ কঠিন। এখন তো বিটিভির যুগ নেই, মেধা থাকলেও মেধার মূল্য নেই। তাই বাঁকা পথে হাটঁতে চাই অনেকেই। আর দেশের মানুষের ভেতরেও অপসংস্কৃতি এমন ভাবে ঢুকে গেছে পার্শবর্তী দেশ ভারতের চ্যানেলগুলো চলার কারণে যে আপনাকে আমি শতভাগ দোষ দিতে পারছিনা। তবে যাই করেন, নিজের দেশ, দেশের ভাষাটাকে আর সংস্কৃতিটাকে এভাবে ছোট করবেন না।

আপনি কি জানেন না,  এই দেশ আমাদের মা, এই বাংলা ভাষা আমাদের প্রাণ, এগুলো আমাদের রক্তের সাথে মিশে আছে?