জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট = ABC

Now Reading
জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট = ABC

গত বছর চট্টগ্রামের কিছু কিছু এলাকায় রাস্তার পাশের ড্রেনগুলো কেটে বড় করা হয়েছিল। তার একমাত্র কারণ হল এসব এলাকায় সামান্য বৃষ্টি পরলে পানি উঠোত। কিন্তু তারপরো পানি আটকে থাকত। আমরা যদি ড্রেনের দিকে একটু চোখ দি তাহলে দেখতে পাই প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ইত্যাদি। এদিকে পানি জমে থাকলে সরকার কে গালি দেই। এসরের জন্য তো আর সরকার দায়ী না। এসবের জনয় দায়ী আমরাই। আমাদের ফেলানো পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতলগুলই ড্রেনের পানি আটকে রাখে। যার কারণে আমরা জলাবদ্ধতার কারণে ভুগি। এলাকাবাসীরা মিলে ঠিক করল সবাই ঐক্য হয়ে ড্রেনের কাজ শুরু করবে।দেশে তো নিজেদের নাম দেয়া জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট আছে। আমরা চাইলে এটিকে জাতীয় ঐক্য বলরতে পারি।

সরকার কে গালি দেয়ার আগে আসুন আমরা নিজেদের মনের চিন্তা ধারা পালটাই। চট্টগ্রামের অনেক এলাকায় গত ১ বছর আগে রাস্তা খুব খারাপ ছিল। ওই রাস্তা দিয়ে হাঁটলেই মানুষের গালি সোনা জেত। সরকারকে গালি দিত। এখন সেই রাস্তা অনেক সুন্দর করা হয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। সত্যি অবাক করার মত। কিন্তু সেসব মানুষগুলোর মুখ থেকে আর প্রশংসা সোনা যায় না। এমনকি আমাদের জাতীয় ক্রিকেট টিমের বোলার তাস্কিনের বাচ্চাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম।
পুরো ভিডিওটি নিচে দেয়া হল।

‘বাঙ্গাল’ থেকে যেভাবে বাঙালি

Now Reading
‘বাঙ্গাল’ থেকে যেভাবে বাঙালি

প্রাচীনকালে বঙ্গ বা বাঙ্গাল নামে যে জায়গা বোঝাতো তা ছিল আজকের বাংলার (বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার) একটা অংশমাত্র। সে সময় বাংলাদেশ বিভক্ত ছিল নানা জনপদে। প্রত্যেকটি কৌমের নামে জনপদের নাম হয়েছিল। যেমন বঙ্গ, গৌড়, পুণ্ড্র ও রাঢ় ইত্যাদি। এদের ছিল আলাদা আলাদা রাষ্ট্রও। কেশব সেন ও বিশ্বরুপ সেনের শাসনামলে বঙ্গের দুটো বিভাগ ছিল। একটি বিক্রমপুর ভাগ, অন্যটি নাব্যমণ্ডল (বাখরগঞ্জ জেলা থেকে পূর্ব দিকে সমুদ্র পর্যন্ত)। হরিকেল নামে বাংলার আরেকটি জনপদের কথা শুনতে পাওয়া যায়। তাতেও বলা হয়েছে এর সীমা ছিল বাখরগঞ্জ জেলা থেকে সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত। চন্দ্রদ্বীপও ছিল এর আরেকটি নাম। সমতট নামে বাংলাদেশের আরেকটি প্রাচীন জনপদের নাম পাওয়া যায়, যার সীমা ছিল ত্রিপুরা থেকে চব্বিশ পরগণা পর্যন্ত প্রসারিত। আবার বৌদ্ধযুগে পূর্ব বাংলাকে সমতট বলা হয়েছে।

বাঙ্গাল নামেও আলাদা জনপদের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। পূর্ব বঙ্গ ও দক্ষিণ বঙ্গের সমুদ্র এলাকা জুড়ে সমগ্র ভূখণ্ডই ছিল এর অন্তর্গত। পুণ্ড্রবর্ধন এর রাজধানী ছিল বগুড়ার মহাস্থানগড়। এর অন্তর্ভুক্ত ছিল দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলা। আবার বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী এবং পাবনা মিলে ছিল বরেন্দ্র জনপদ। রাঢ় জনপদের রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ। বর্ধমান, হুগলী, হাওড়া জেলা দক্ষিণ রাঢ় হিসেবে চিহ্নিত হলেও আসলে প্রাচীন সুক্ষ্ম জনপদ ছিল এটি। মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, কটোয়ার প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে ছিল প্রাচীন ব্রজভুমি। গৌড় নামেও একটি জনপদ গড়ে উঠেছিল। মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম গৌড়ের আদি কেন্দ্র হলেও এক সময় সমগ্র বাংলাদেশকে গৌড় বলা হত।

ষষ্ঠ শতকে বঙ্গ অঞ্চলে স্বাধীন স্বতন্ত্র রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সাথে নতুন রাষ্ট্রযন্ত্রেরও পত্তন হয়। সপ্তম শতক থেকে রাজা শশাঙ্কের আমলে প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন জনপদকে একসুত্রে গাঁথবার প্রচেষ্টা চলে। পাল ও সেন আমলেও (৮০০-১২০০) এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। দিল্লির মুসলিম সুলতানদের বাদ দিলে বাংলার স্বাধীন সুলতানি আমলের প্রায় দুশো বছরের ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতি বাংলাদেশ গঠনের ইতিহাসে একটা বড় ধরনের ‘মাইলফলক’। এই সুলতানি আমলেই (১৩৪২-১৫৩৮সাল) প্রথম গৌড় ও বঙ্গ মিলে একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এর অধিবাসীরা ছিলো বাঙালি এবং তাদের রাষ্ট্র বাংলাদেশ নামে ছিল পরিচিত।

পাঠান আমলেও (১৫৩৮-১৫৬৪) ঐক্যবদ্ধ বাংলার অস্তিত্ব বজায় ছিল। তবে মোঘল বিরোধী শেরশাহ্‌ দিল্লি থেকেই শাসন কাজ পরিচালনা করতেন। ফলে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ আবার স্বাধীনতা হারায়। এ অবস্থায় এ অঞ্চলের শাসন ক্ষমতা দখল করে মোগলরা (১৫৭৬-১৭৫৭) এবং মোগল সম্রাট আকবরের আমলে ‘বাংলাদেশ’ এর নামকরণ করা হয় ‘সুবা বাংলা’। আর ঢাকাকে করা হয় এর রাজধানী। এর ভেতর দিয়ে ঢাকা এই প্রথম বাংলার রাজধানী হবারও সৌভাগ্য অর্জন করে। মোগলদের প্রায় দুশো বছর রাজত্বকালের পর ইংরেজ শাসকরা (১৭৫৭-১৯৪৭) এদেশের শাসন ক্ষমতা দখল করে রাখে। ইংরেজরা বাংলার নামকরণ করে ‘বেঙ্গল’ বলে। ১৯০৫সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ, পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম প্রভৃতি অঞ্চল এই বেঙ্গল প্রদেশেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯০৫ সালে ‘বঙ্গ ভঙ্গ’ ঘোষিত হলে পূর্ব বাংলা আলাদা প্রদেশে রুপান্তরিত হয় এবং ঢাকাকে করা হয় দ্বিতীয়বারের মত রাজধানী। ১৯১১ সালে সেটা আবারো রদ করা হয়, সেই থেকে ১৯৪৭সাল পর্যন্ত এ অবস্থাই বজায় থাকে। তবে এ বছরেরই ১৪ আগস্ট ব্রিটিশদের ভেদনীতির কারণে অখণ্ড ভারতকে ভাগ করে ভারত ও পাকিস্তান এ দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হলে পূর্ব বাংলা পাকিস্তান অংশের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তার নতুন নামকরণ করা হয় পূর্ব পাকিস্তান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভূগোল এই অবস্থাতেই থাকে। কেবল মুক্তিযুদ্ধের ন’মাস এই রাজধানী ঢাকা থেকে স্থানান্তর করে মেহেরপুরের মুজিব নগরে নেয়া হলেও যুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন বাংলার রাজধানী হিসেবে তা আবার ঢাকায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়।

তিস্তা চুক্তি ও তার পানি বণ্টন প্রশ্ন!

Now Reading
তিস্তা চুক্তি ও তার পানি বণ্টন প্রশ্ন!

তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি আবারো সামনে চলে এসেছে। সম্প্রতি শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন এবং বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারত গমন করেছিলেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর একই অনুষ্ঠানে ছিলেন পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানারজি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অনুষ্ঠান পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গের তাজ বেঙ্গল হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী একান্তে বৈঠক করেছেন মমতা ব্যানার্জি। উক্ত বৈঠকটি বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়, স্বাভাবিকভাবে এপার বাংলার জনগণের আসার সঞ্চার হয়।

বৈঠক শেষে মমতা ব্যানার্জি যখন গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার তিস্তা পানি-বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তখন সবার আশা আকাঙ্খা প্রবলভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু আশায় কিছুটা ভাঁটা পরেছে যখন মমতা আলোচনার বিষয়বস্তু এখনই প্রকাশ করবেন না বলে জানান। ছিটমহলের মতো বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়েছে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে। কিন্তু তিস্তার এই পানি বণ্টন চুক্তিটি বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। কার্যত কোন সমাধানই হচ্ছেনা, এর প্রধান কারন মমতা ব্যানারজির একগুয়ামি। মমতা ব্যানার্জি বরাবরই বলে আসছেন, সিকিমে অনেকগুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হয়েছে তারা প্রতিটি প্রকল্পের জন্যই নদীর পানি সাময়িকভাবে ধরে রেখে তারপরে ছাড়ে। এসব প্রকল্পে সাময়িকভাবে পানি ধরে রাখার ফলে পশ্চিমবঙ্গে আসার পরে তিস্তার প্রবাহ খুবই ক্ষীণ হয়ে গেছে। এই অল্প পরিমাণের পানি দিয়েই পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের চাষের প্রয়োজন মেটানো যাচ্ছে না। সুতরাং বাংলাদেশকে পানি দেয়ার পূর্বে তাকে তার নিজের রাজ্যের কৃষকদের প্রয়োজনের কথাটাই অগ্রাধিকার পাবে। স্বাভাবিকভাবে তার কথায় যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়, কিন্তু মিথ্যে অজুহাতে দিনের পর দিন এভাবে পানি ধরে রেখে বাংলাদেশের সাথে এক প্রকার বিমাতা সুলভ আচরণ করছে মমতা। বাংলাদেশকে পানি ছাড়লে পশ্চিমবঙ্গে শুষ্কতা দেখা দেবে এমন টুনকো যুক্তিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা শুরু থেকেই এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে আছেন। তবে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এর সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে তিস্তার পানি-বণ্টন নিয়ে মমতা ব্যানার্জি আগের অনড় অবস্থান থেকে সড়ে আসছেন। অর্থাৎ বলা যায় তিস্তার বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বরফ আস্তে আস্তে গলতে শুরু করেছে। তবে এটা ভেবে আনন্দে আত্মহারা হলে বোকামি হবে

মুখ্যমন্ত্রী মমতা তিস্তার পানি-বণ্টন নিয়ে খোলা খুলি কোন প্রতিশ্রুতি দেননি। তাছাড়া দুই দেশের ঘনিষ্ঠ কোন পক্ষই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, ফলে এখনই নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না তিস্তা নিয়ে মমতা তাঁর অবস্থান বদলেছেন। তবে সবপক্ষই এটা স্বীকার করছেন যে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে জটিল এ সমস্যার চটজলদি কোন সমাধান শিগ্রই হচ্ছেনা। চুক্তি বাস্তবায়নের পূর্ব শর্ত হিসেবে বেসিন ম্যানেজমেন্ট বা অববাহিকায় সুষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

গত বছর দুই দেশের বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক হলেও কার্যত বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষিত তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী সে সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দুই সরকারের মেয়াদ থাকা অবস্থাতেই এই চুক্তি স্বাক্ষর এবং বাস্তবায়ন হবে। এদিকে শান্তিনিকেতনে নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবন উদ্ভোধনের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছিলো সেখানে, তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যুটি ঘুরে ফিরে আলোচনায় এসেছে – এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ডিলিট ডিগ্রী গ্রহণ করার প্রাক্কালে এক ভাষণে মমতা ব্যানারজিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, – অনেক কিছুই বলার ছিল কিন্তু সেসব বলে এত সুন্দর একটা অনুষ্ঠান নষ্ট করতে চাইনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন কিছু বলতে চেয়েও অভিমান করে বললেননা। যাই হউক তিস্তা বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বৈরতা থাকা সত্ত্বেও আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন অনেকে। ইতিমধ্যে তিস্তা নিয়ে দুই দেশের যৌথ কমিশন কাজ শুরু করেছে।

 

হঠাৎ করেই বেড়ে গেল বাংলাদেশ থেকে ভারতে জ্বালানি তেল পাচার!

Now Reading
হঠাৎ করেই বেড়ে গেল বাংলাদেশ থেকে ভারতে জ্বালানি তেল পাচার!

ভারতে বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর পর প্রতিবেশীদেশ বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের ডিজেলের দামে অনেকটাই ব্যবধান তৈরি হয়ে গেছে। ফলশ্রুতিতে সীমান্ত এলাকায় ডিজেলের চোরাচালান পূর্বের চেয়ে হটাত করেই আবার বেড়ে গেছে। যদিও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ দাবি করছে ডিজেল পাচারের ঘটনা এখনও তেমন করে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছয়নি। এদিকে এই চোরাচালানের ফলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এর মধ্যেই বিপুল রাজস্ব হারানোর সম্ভাবনা করছে। তাই তারা সীমান্ত এলাকার পেট্রোল পাম্পগুলোতে গুরুত্ব দিয়ে মনিটরিংও শুরু করেছে। এদিকে ভারতের অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারত যতদিন না জ্বালানি তেলে শুল্ক ও করের পরিমাণ কমাচ্ছে ততদিন তেল এই পাচারের সমস্যা থেকেই যাবে।

ভারতে ডিজেলের দাম এখন প্রায় প্রতিদিনই পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে যা দেশের গর রেকর্ডে সর্বকালীন বেশি। বাংলাদেশের সাথে লাগোয়া সীমান্তবর্তী ভারতের আসাম বা পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ৭১ রুপিতে, যা বাংলাদেশের ৮৮ টাকার সমান। তার বিপরীতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ডিজেলের দাম মাত্র ৬৫ টাকা লিটার অর্থাৎ টাকার হিসেবে ভারতে প্রায় ২৩টাকা বেশি হিসেবে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। আর এই কারণেই সীমান্ত এলাকা দিয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে ডিজেল সহ অন্যান্য জ্বালানি এবং হঠাৎ করেই তৎপর হয়েছে চোরাকারবারীরা। গবেষকদের মতে পাশাপাশি দুটো দেশে জ্বালানির দামে এতটা তারতম্য থাকলে স্মাগলিং ঠেকানো বেশ মুশকিল। যেহেতু সীমান্তও নিশ্ছিদ্র নয়, সেখানে জ্বালানি চোরাচালান সহজেই করা যায়। বস্তুত বাংলাদেশ বা আরও অন্যান্য সার্ক দেশে জ্বালানি পাচারের এই সমস্যাটা বারবার ঘটছে , পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে যদি জ্বালানির মূল্যের এই ফারাকটা থাকে তবে চোরা পথে পাচারও ঘটবে। আশার কথা হচ্ছে- হয়তো তারা বিরাট কোনও স্কেলে করতে পারবে না, অর্থাৎ ট্যাঙ্কার বা লড়িতে করে হয়তো তেল পাচার করা যাবে না – কিন্তু ছোট ছোট মাপে এটা পাচার হবেই।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বা বিপিসি-র শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাদের ভর্তুকি দেওয়া ডিজেল যে ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে তারা এই সমস্যা সম্পর্কে অবহিত। বিপিসির ভাষ্য, “বাংলাদেশ সরকার প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় বাইশ-তেইশ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এখন সীমান্ত এলাকার পাম্পগুলোতে ডিজেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে কি না তাও বলা মুশকিল। তবে তারা তাদের সকল তেল কোম্পানিকে আদেশ দিয়েছে তারা যেন ওখানকার সব পাম্পে ভাল করে যাচাই-বাছাই করে তার পরেই তেল দেয়।” এদিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তারা বলেছেন তা হল- “বেনাপোল বা বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে শত শত ট্রাক আসে মাল নিয়ে তারা ট্যাঙ্ক প্রায় খালি করে বাংলাদেশে ঢোকে আর ফিরে যাওয়ার সময় ট্রাকের ট্যাঙ্ক পুরোটাই ভর্তি করে নিয়ে যায়। চোখের সামনে প্রতিদিন এভাবে একশো থেকে দেড়শো ট্রাক সস্তার ডিজেল পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে।

বিএসএফ দাবি করছে, ফেন্সিডিল বা গরুর মতো অত সহজে এই দাহ্য পদার্থটি পাচার করা যায় না। তারা বলছে ভারতে ডিজেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি হলেও এই মার্জিনটা তত লোভনীয় নয়। তারা হয়ত তাদের স্বপক্ষে বক্তব্য দিতেই পারে, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যেকার চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত দিয়ে ছোট ছোট জ্যারিকেন বা কন্টেনারে করে ডিজেল পাচারের ঘটনা সম্প্রতি খুব বেড়ে গেছে। একদিকে ডিজেলে বাংলাদেশের ভর্তুকি অন্যদিকে ভারতে বসানো শুল্ক। সবমিলিয়ে ডিজেল এখন চোরাকারবারিদের অন্যতম লাভের হাতিয়ার।
ভারতের বিজেপি সরকার ২০১৪ পরবর্তী এ পর্যন্ত মোট ৯বার জ্বালানি তেলের ওপর এক্সাইজ ডিউটি বাড়িয়েছে বিপরীতে কমিয়েছে মাত্র ১বার। বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ বর্ডারে জ্বালানি তেলের সহজলভ্যতা রোধ করে কঠোর নজরদারি বাড়ানো, অন্যথা রাষ্ট্র হারাবে তার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

বাংলাদেশের সাথে আবারো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করল মিয়ানমার

Now Reading
বাংলাদেশের সাথে আবারো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করল মিয়ানমার

মিয়ানমার বাংলাদেশকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে তাদের কারাগারে আটক ৮৩জন বাংলাদেশীকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। তারা আদৌ বাংলাদেশী কিনা তা প্রকাশ না করে কিংবা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তা যাচাই বাচাইয়ের সময় দিতেও নারাজ। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে এই ৮৩ জন কারাবন্দীকে ফেরত নিতে মিয়ানমার কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার চেয়েছিল বিজিবি ও মিয়ানমারের বিজিপি এর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এসব রাজনৈতিক বন্দীদের চিহ্নিত করে যেন তাঁদের ফেরত আনা যায়। মিয়ানমার তাঁদের সীমান্ত পয়েন্ট দিয়েও এসব বন্দীদের প্রত্যাবাসনে আগ্রহী নয়। এখন মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এই বন্দীদের বোঝা উল্ল্যেখ করে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত বিমান করে ফেরত নিতে চাপ দিচ্ছে। মিয়ানমার সরকার তাদের প্রেরিত চিঠিতে জানিয়ে দিয়েছে, রাখাইন রাজ্যের কারাগারে আটক বাংলাদেশীদের মুক্তি দিয়ে রাজধানী ইয়াঙ্গুনে স্থানান্তর করতে তাদের আর্থিক খরচ ও অন্যান্য সহযোগিতা বাড়তি বোঝার মত। আটক বাংলাদেশীদের বিমানে ফিরিয়ে দিতে ইয়াঙ্গুন হাইকমিশনের আর্থিক সামর্থ্য অপর্যাপ্ত। তাই বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগেই এসব বন্দীদের কালক্ষেপণ না করে বিমানে ফিরিয়ে নিতে হবে।

মিয়ানমারের এমন অবন্ধুত্বসুলভ আচরণে হতাশ এবং ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ সরকার। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের এই আচরণকে ঔদ্ধত্যমূলক ও সুপ্রতিবেশীসুলভ নয় বলে জানিয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে তাদের ১১লাখ রোহিঙ্গা নাগরিককে মানবিক কারণে বাংলাদেশ নিজ ভূখণ্ডে সাময়িক স্থান দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মিয়ানমারের অনুরোধে বাংলাদেশ বন্ধুত্বের নিদর্শন স্থাপন করতে গিয়ে তাদের নাগরিককে ক্ষমা করে দিয়েছে।  সমুদ্রপথে অবৈধ উপায়ে মালয়েশিয়া কিংবা থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আটককৃতদের নাম ও পরিচয় বাংলাদেশের কাছে পাঠানোর রীতি অনুসরণ করত মিয়ানমার যেটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও একইভাবে অনুসরণ করা হয়। কিন্তু এবারের মিয়ানমারের তোড়জোড় পূর্বের সকল উদাহরণকে ছাপিয়ে উদ্দেশ্যমূলক মনে করছে বাংলাদেশ।

সূত্রমতে, বাংলাদেশের কারাগারে মিয়ানমারের প্রায় দেড়শ বন্দী রয়েছে, সে বিষয়ে তারা নির্বিকার। তাদের বন্দীদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে কোন আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। তাদের এহেন আচরণে বাংলাদেশও সেইসব বন্দীদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে বলবে।

১৯৮০ সালের সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ আটক অনুপ্রবেশকারীদের বিভিন্ন সময়ে বিনিময় বা হস্তান্তর করেছে। অনেক সময় বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া দুইদেশের জেলেরা ভুলবশত একে অন্যের সীমানায় প্রবেশ করে আটক হত। পরে দুই দেশের সমতা ও আলাপের ভিত্তিতে বন্দী বিনিময় বা হস্তান্তর হত। কিন্তু হটাত মিয়ানমার রোহিঙ্গা ইস্যু পরবর্তীতে বাংলাদেশের সাথে অবন্ধুত্বসুলভ আচরণ করে যাচ্ছে।

মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ!

Now Reading
মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ!

মোবাইল ইন্টারনেট বর্তমান প্রজন্মের কাছে একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। শুধু তাই নয় কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণ ব্যাক্তিদের কাছে একটা স্মার্ট ফোন থাকা চাই আর তার সাথে অবশ্যই ইন্টারনেট সংযোগ। এরপরও বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীর সংখ্যা এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় আশানুরূপ নয়। জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন কম এমন দেশের মধ্যে নেপাল ও মিয়ানমার মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশ থেকে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছে। সেখানে এই হার শতকরা ২৮ থেকে ৩৫ শতাংশ। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে এশিয়া প্যাসিফিক রিজিয়নের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক থেকে তালিকার সবচেয়ে তলানিতে রয়েছে। বৈশ্বিক মোবাইল ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা জিএসএমএ এমন তথ্যটি দিচ্ছে।

২০১৭ সালের বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের তথ্য তুলে ধরে জিএসএমএ রিপোর্ট দিচ্ছে, সেসময় বাংলাদেশে থ্রি-জি নেটওয়ার্ক চালু হয়। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন মোবাইল ইন্টারনেট সাবস্ক্রাইব করলেও কিন্তু এই অনুপাত স্থিতিশীল ছিল।

জিএসএমএ বলছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মাত্র ২১ শতাংশ মানুষ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যাবহার করছে যা এই অঞ্চলের মধ্যে সর্বনিম্ন। রিপোর্টটিতে বলা হচ্ছে, এ দুটি দেশের মোবাইল অপারেটর কোম্পানির অধিকাংশ গ্রাহকই মোবাইল ফোনে মূলত ফোনকল এবং এসএমএস সার্ভিস ব্যবহার করে থাকেন।

জিএসএমএ এর পর্যবেক্ষণ বলছে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে এই ইন্টারনেট ব্যয় বহন করা কষ্টকর। তাদের সামর্থ্যের বিষয়টি মূলত এখানে বড় অন্তরায় হিসেবে উল্ল্যেখ করেছে। বলা হচ্ছে, এই ব্যয় মেটাতেই তাদের মাসিক আয়ের বড় অংশ সেখানে চলে যায়। ক্রমাগত মোবাইল সেক্টরে উচ্চহারে করারোপ এবং ফি নির্ধারণের ফলে মোবাইল অপারেটরদের সার্বিকভাবে ব্যয় বেড়েছে। যার দরুন সে প্রভাব সরাসরি পড়ছে রি-টেইলে এবং বাড়ছে এর মূল্য। ব্যবহারকারীদের ওপর এই চাপ পড়ার কারণে ডিজিটাল অগ্রগতিও হচ্ছে শ্লথ। প্রতিবেশী অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মোবাইল সার্ভিসের ট্যারিফ ব্যয় অনেক বেশি। এছাড়াও বাংলাদেশ তার গ্রাহক প্রতি গড় রেভিন্যুর মাত্রার দিক থেকে বিশ্বের সর্বনিম্ন দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। আঞ্চলিক-ভাবে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে তার অবকাঠামোগত সমস্যা এবং সামর্থ্যের অভাব।

বাংলাদেশে সরকারি আয়ের অন্যতম একটি উৎস হচ্ছে মোবাইল খাত যা থেকে প্রাপ্ত কর ও ফি সরকারের কোষাগারে জমা হয়। কিন্তু জিএসএমএ বলছে, প্রচলিত এই কর ব্যবস্থা মোবাইল সেবা দানের উন্নতির জন্য মোটেও সহায়ক নয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মোবাইল সেবার গুণগত মানেও ।

এদিকে উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিরা তরঙ্গ ও কর জটিলতার কারণে তাদের নেটওয়ার্ক কভারেজ সম্প্রসারণে চাহিদা মোতাবেক বিনিয়োগ করতে পারছেনা। এরই মধ্যে আবার চালু হয়েছে ফোরজি, আশা করা যাচ্ছে বাংলাদেশ মোবাইল ব্রডব্যান্ড প্রযুক্তির উত্তরণে এগিয়ে যাবে তা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

 

চলবে…

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৯টি ক্যাটাগরিতে কর্মী নিয়োগ

Now Reading
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৯টি ক্যাটাগরিতে কর্মী নিয়োগ

বাংলাদেশ থেকে ১৯ টি ক্যাটাগরিতে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে দুবাইয়ে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে । বিগত কয়েক মাসের আলাপ আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে নিজ নিজ দেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনিস্ট্রি অব হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড এমিরেটাইজেশনের আন্ডার সেক্রেটারী সাইফ আহমেদ আল সুআইদি। স্বাক্ষরের পরবর্তী সমঝোতা স্মারকটি কার্যকর হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

দুবাইয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনিস্ট্রি অব হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড এমিরেটাইজেশনের দফতরেই এই সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত করে উভয় দেশের আগ্রহও সম্মতির ভিত্তিতে তা স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতা স্মারকটি সুষ্ট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উভয় দেশের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি জয়েন্ট কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে যাতে কমিটির সদস্যদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব প্রদানের কথা উল্ল্যেখ আছে। এ সমঝোতা স্মারকটির উন্মোচনের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কন্নোয়ন সহ সেখানে শ্রমিক বা কর্মী প্রেরণ প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে।

এখন থেকে সমঝোতা স্মারক এর চুক্তিনুযায়ি বাংলাদেশ থেকে ১৯টি ক্যাটাগরিতে কর্মী নিয়োগ, পদ্ধতি, রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি ও উভয় দেশের সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য, এমপ্লয়ারদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, কর্মীদের অধিকার, সুযোগ সুবিধা, নিয়োগ চুক্তির বিধান ও পৃথক একটি বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাসহ বিবিধ উল্লেখ আছে।

শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার্থে ২০১৭ সালে কার্যকর হওয়া আইন মোতাবেক সমঝোতা স্মারকটিতে শ্রমিক, মালিক ও উভয় দেশের সরকারের দায়িত্ব এর ব্যাপারে উল্ল্যেখ আছে । তাই উক্ত আইনের আলোকেই শ্রমিকদের নিরাপদ, সুশৃংখল ও দায়িত্বশীল শ্রম অভিবাসনের লক্ষ্য অর্জনের বিষয়ের কথা বিবেচনায় রেখে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়।

তবে তুলনামূলক কম বেতনের চাকরী গুলাতেই এ নীতি কার্যকর হবে। এই ১৯টি ক্যাটাগরির চাকরীতে বেতন  সাধারণত ৭০০– ১০০০ দিরহাম হয়ে থাকে এবং এসব চাকরীও খুব একটা সম্মানজনক নয়। বর্তমানে যারা নির্দিষ্ট চাকরীর ভিসায় রয়েছেন তাদের ভাল জায়গায় কাজ করার সুযোগ থাকলেও ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় তারা অল্প বেতনের চাকরী করছেন। সেখানে অবস্থিত বাংলাদেশীদের দাবী-  সংযুক্ত আরব আমিরাতে ট্যাকনিকেল কাজ জানা ব্যক্তিদের প্রচুর চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সেই ভিষাগুলা চালু করতে সরকার খুব একটা উদ্দ্যেগী নয়। তারা আশা করছেন সরকার যেন সেসব ভিসার বন্দনীতি তুলে নিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

প্রবাসী বাঙালীদের জন্য আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রক্সি ভোট ও পোস্টাল ভোট এর ব্যাবস্থা

Now Reading
প্রবাসী বাঙালীদের জন্য আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রক্সি ভোট ও পোস্টাল ভোট এর ব্যাবস্থা

রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে এক সেমিনারে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। সিইসি বলেছেন, ‘বর্তমানে প্রক্সি ভোট ও পোস্টাল ভোটের নিয়ম আছে যার মাধ্যমে প্রবাসীরা ভোট দিতে পারেন। আগামী নির্বাচনে এসব পদ্ধতি নিয়ে প্রচার করা হবে।’

উল্ল্যেখ যে, পোস্টাল ভোট পদ্ধতিতে একজন প্রবাসে বসবাসকারী বাংলাদেশী নাগরিক তার আবেদনের ভিত্তিতে পছন্দনুযায়ী যেকোনো যায়গা থেকে ভোট দিতে পারেন। প্রবাসীদের দেয়া ঠিকানায় আগে থেকে ব্যালট সরবরাহ করা হয় যা ভোট দেয়ার পর ডাকযোগে দেশে পাঠানো হয়। আর এ পদ্ধতি চালু রয়েছে ২০০৮ সাল থেকে। ২০০৮ এবং ২০১৪সালে দুই দফা প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হলেও পরে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। আধুনিক প্রায় সকল দেশ তার প্রবাসে থাকা নাগরিকদের জন্য এই পোস্টাল ভোট এর ব্যাবস্থা বহু আগে থেকেই চালু করেছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান ও ভোটাধিকার প্রয়োগ। উক্ত সেমিনারে সিইসি বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা আছে নির্বাচন কমিশনের। প্রক্সি ভোট ও পোস্টাল ভোট এর মাধ্যমেই প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সংযুক্ত করা হবে। তবে তিনি এ পদ্ধতিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোটার করতে প্রধান অন্তরায় হিসেবে দ্বৈত নাগরিকত্বকেই দেখছেন। সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্থাটির এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক বলেছেন, প্রবাসে ভোট গ্রহণের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন যা একাদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম তার বক্তব্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও তুলে ধরেন।  তিনি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দূতাবাসে লোকাল সার্ভার স্থাপন, প্রবাসীদের সংখ্যানুহারে রেজিস্ট্রেশন টিম তৈরি করে কাজ এগিয়ে নেয়া এবং নিবন্ধন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ আইটি কর্মকর্তা নিয়োগ করার উপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরো বলেন, প্রবাসে ভোটগ্রহণে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, বিপুল সংখ্যক ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যয়, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, সংহিসতা রোধ, পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করা। উক্ত সেমিনারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও অন্য চার নির্বাচন কমিশনার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রদূত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেন।

আধুনিক ই-পাসপোর্টের নব যুগে বাংলাদেশ

Now Reading
আধুনিক ই-পাসপোর্টের নব যুগে বাংলাদেশ

২০১৮ এর জুলাই মাস থেকেই বাংলাদেশে চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট। শক্তিশালী একটি ‘চিপ’ এর মাধম্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই ই-পাসপোর্টটি সহজ করে দেবে বিশ্বভ্রমণ। এই ইপাসপোর্টের আরেক নাম বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট যাতে নিরাপত্তা চিহ্ন হিসেবে যুক্ত থাকবে আঙুলের ছাপের পাশাপাশি চোখের মণির ছবিও। এটি দেখতে অনেকটা এটিএম কার্ড এর মতই হবে আর এতে থাকা চিপসে সন্নিবেশিত থাকবে পাসপোর্টধারীর পাসপোর্টধারীর সকল তথ্য। ইপাসপোর্ট চালু হলে পাসপোর্টধারীদের কঠিন হয়ে পরবে তার পরিচয় গোপন করা, সুযোগ থাকবেনা জালিয়াতির। আধুনিক প্রযুক্তির এই ই-পাসপোর্ট চালু রয়েছে বিশ্বের ১১৮টি দেশে, আর ১১৯ নম্বর দেশ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ।

২০১৬ সালে এমআরপির পাশাপাশি ই-পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বর্তমান সরকার। আর সেই মোতাবেক ইপাসপোর্ট কার্যক্রমের দিকে এগুচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ই-পাসপোর্টের নমুনা কপি (Specimen copy)’র অনুমোদন দিয়েছেন। ই-পাসপোর্টের যুগে ঢুকে পড়া নিঃসন্দেহে এগিয়ে রাখবে বাংলাদেশকে। জার্মানির একটি কোম্পানির সঙ্গে এরইমধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। জার্মানির প্রযুক্তিতে জিটুজির মাধ্যমে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট হবে।  এই পরিষেবা চালু হলে বাংলাদেশ ঢুকে পড়বে নতুন যুগে। প্রতিটি ইমিগ্রেশন ষ্টেশনে ই-গেট স্থাপন করা হবে যাতে ই-পাসপোর্টধারী ব্যক্তি লাইনে না দাঁড়িয়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমিগ্রেশন শেষ করতে পারেন। বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্নকালে কেবল পাসপোর্ট নম্বর বললেই তা হয়ে যাবে। এতে সময়ের সাশ্রয় ঘটবে এবং ভোগান্তিও কমে যাবে পুরোপুরি।  ই-পাসপোর্ট চালু হলে সাথে করে এমআরপি পাসপোর্ট বহন করা লাগবে না অথবা বিদেশে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলেও বিড়ম্ভনার শিকার হতে হবে না।

বর্তমানে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ব্যাবহার করছেন। আর প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজারের মত আবেদন জমা পড়ছে এমআরপি এর জন্য। চাহিদার এই বিশালত্বকে সামাল দিতে এবং দ্রুত করতে ইপাসপোর্ট কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার, নতুন এই পাসপোর্ট সেবা চালু হলে এর মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চালু হওয়ার পর কেউ এমআরপি পাসপোর্ট রিনিউ করতে গেলেই ই-পাসপোর্ট এর আওতাভুক্ত হবেন । অর্থাৎ তাকে ইপাসপোর্ট প্রদান করা হবে। বর্তমানে পাঁচ বছর মেয়াদে সাধারণ ও জরুরি পাসপোর্ট এর বিপরীতে তিন ৩,৪৫০ ও ৬,৯০০ টাকা ফি দিতে হয়।

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদিচ্ছায় এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বাংলাদেশে এগিয়ে যাবে বিশ্বের উন্নত দেশের সাথে তাল মিলিয়ে।

“মুজিব নগর সরকার” গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভিত্তি

Now Reading
“মুজিব নগর সরকার” গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভিত্তি

১৭ এপ্রিল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন আজ, এই দিনটি ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস নামে বাঙালীর অবিছেদ্য অংশ হয়ে আছে। এই দিনটিকে কেন মুজিব নগর দিবস বলা হয় তা জানতে ইতিহাস ঘুরে আসতে হবে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে বাংলাদেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করে স্বাধীন রাষ্ট্রটির প্রথম সরকার গঠন করে। আর এই সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। ইতিহাসবিদ-গবেষকগণ এর মতে- স্বাধীনতা অর্জনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এই সরকার গঠন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

যুদ্ধ পূর্ববর্তী দেশের ভেতর বিভিন্ন জায়গায় যখন প্রতিরোধ লড়াই শুরু হলতখন ৭০ এর নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামীলীগের নেতারা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিক নির্দেশনায়। ঐতিহাসিক ২৬ শে মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষনাকে প্রতিপাদন করে আওয়ামীলীগ এর নেতারা দেশের সীমান্তে সংগঠিত করেন জনপ্রতিনিধিদের। মাত্র দু’ সপ্তাহের তৎপরতায় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র জারি করা হয় যার মাধ্যমে গঠন করা হয় প্রবাসী সরকার। সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী, এম মনসুর আলীকে অর্থমন্ত্রী, এই এচ এম কামারুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং খন্দকার মোস্তাক আহমেদকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করা হয়। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বন্দি হওয়ায় তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। ১১ এপ্রিল রাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে কর্নেল এম এ জি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয় এবং সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ পদে কর্নেল আবদুর রবের নিযুক্ত করা হয়। মুজিব নগরে সেদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করে এর কার্যকারিতা ঘোষণা করা হয় ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে।

এর সপ্তাহখানিক পর ১৭ই এপ্রিল বিদেশী সাংবাদিক, প্রতিনিধি ও হাজারো মানুষের সরব উপস্থিতিতে বাংলাদেশের মুক্তাঞ্চল হিসেবে খ্যাত মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার আম বাগানে(পরবর্তী নাম মুজিবনগর) আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত অস্থায়ী সরকার, যা পরবর্তীতে গোটা দেশে মুজিবনগর সরকার নামেই পরিচিত হয়। বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বেশ কয়েক প্লাটুন ইপিআর পুলিশ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা সন্মান সূচক গার্ড অব অনার প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এর মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। অতঃপর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠনের কথা ঘোষনা করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ তার ভাষনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষাপট গভীরভাবে বর্ণনা করেন। ভাষণের শেষভাগে তিনি বলেন- “বিশ্ববাসীর কাছে আমরা আমাদের বক্তব্য পেশ করলাম, বিশ্বের আর কোন জাতি আমাদের চেয়ে স্বীকৃতির বেশি দাবিদার হতে পারে না। কেননা, আর কোন জাতি আমাদের চাইতে কঠোরতর সংগ্রাম করেনি, অধিকতর ত্যাগ স্বীকার করেনি। জয়বাংলা। আর এভাবেই একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সূচনা হল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে জেলা ভিত্তিক প্রশাসনিক পরিষদ ও বেসামরিক প্রশাসনকে অধিক গণতান্ত্রিক করার লক্ষ্যে সমগ্র বাংলাদেশকে ১৯৭১ এর জুলাই মাসে ৯টি অঞ্চল এবং সেপ্টেম্বর মাসে চূড়ান্তভাবে ১১টি অঞ্চলে ভাগ করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। জোন ভাগ করে প্রতিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদ গঠন করে দেয়া হয়। তাছাড়া প্রতিটি জোনে সংসদ সদস্যদের নিয়েও একটি আঞ্চলিক উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হত।

আজ জাতি রাজকীয় এই দিনটিকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে। দিনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি চিরস্মরনীয় হয়ে আছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভীত রচিত হয়েছে এই দিনে। বিশ্ব চিনেছে বাংলাদেশ নামের এক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে।