বারমুডা ট্রাইএঙ্গেল-শয়তানের ত্রিভুজ

Now Reading
বারমুডা ট্রাইএঙ্গেল-শয়তানের ত্রিভুজ

এই পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত ঘটছে জানা-অজানা অনেক ঘটনা। সব ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে পাওয়া ও হয়ে উঠে দুষ্কর। তবুও মানুষের এই জানার স্পৃহা কোনদিন ফুরাবার নয়। অজানাকে জানার কৌতুহল নিয়ে মানুষ ছুটে চলে সামনের দিকে।অজানাকে জানতে গিয়ে কৌতুহলী মানুষ অনেক বিপদের সম্মুখীন হয়, অনেক সময় দিতে হয় প্রাণ। তবুও এ যাত্রা যে থেমে থাকার নয়।

বারমুডা ট্রাইএংগেল এমনই একটি জায়গা যার প্রতি গোটা বিশ্বের মানুষের রয়েছে অদম্য কৌতুহল।স্থানীয় লোক্মুখে এটি ডেভিল’স ট্রাইএঙ্গেল অথবা হারিকেন এলেই নামে পরিচিত। উত্তর আমেরিকায় উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমে এর অবস্থান। কথিত আছে, ৫০ এর বেশি জাহাজ এবং ২০ টির বেশি উড়োজাহাজ রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায় এই ট্রাইএঙ্গেলে।

কবে থেকে বারমুডা ট্রাইএঙ্গেল ডেভিল’স ট্রাইএঙ্গেলে রুপান্তর হল?
৫ ডিসেম্বর,১৯৪৫ সাল ফ্লোরিডা থেকে ১৪ জন এয়ারম্যান ক্যাম্প থেকে তাদের প্র্যাকটিসে বের হন। প্রায় দেড় ঘন্টা পর কন্ট্রোল রুমে মেসেজ আসে এরকম যে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারছেন না,দিক নির্দেশনাকারী তিনটি কম্পাসই সঠিকভাবে দিক নির্দেশনা দিতে সক্ষম হচ্ছে না। তারা কোনভাবেই পশ্চিমে যেতে পারছেননা এবং চেনা যায়গা ও তাদের কাছে অচেনা হয়ে যাচ্ছে। এরপর আর কোন সিগন্যাল পাওয়া যায়নি ওই প্লেন থকে, যার নাম ছিল ফ্লাইট ১৯। পরবর্তীতে এই প্লেনটিকে খুঁজে আনতে আরেকটি সার্চ প্লেন পাঠানো হয় যা কিনা উড্ডয়নের ২৭ মিনিট পর আর কোন সিগন্যাল পাঠায়নি। এভাবে আরো অনেক জাহাজ এবং প্লেন তার দিকসীমা না খুঁজে পেয়ে হারিয়ে যায় সমুদ্রের বুকে।

বারমুডার নামকরন যেভাবে হল-
ত্রিভূজাকৃতির এই মৃত্যুপুরীকে প্রথম বারমুডা ট্রাইএঙ্গেল নাম দিয়েছিলেন, লেখক ভিনসেন্ট গেডিস ,১৯৬৪ সালে।

বারমুডা ট্রাইএংগেলের রহস্যভেদ-
ইউ এস এর বিজ্ঞানীদের মতে, বারমুডা ট্রাইএংগেল এ ঘটা সকল দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ঘণ্টায় ২৭৩ কি.মি বেগে প্রবাহিত হওয়া একটি ঝড়। এই ঝড় সৃষ্টি হয় Hexagonal Cloud বা ষড়ভুজই মেঘ থেকে। তাদের দাবী,বারমুডা ট্রাইএংগেলের উপর ষড়ভুজ মেঘ এমনভাবে জমাট বেধে যায়, যার ফলে Air Bomb বা বায়ু বোমা সৃষ্টি হচ্ছে। এই বিধ্বংসী ঝড়ের এতটাই ক্ষমতা যা জলের উপর আঘাত করলে সমুদ্রের পানির ঢেউ ৪০-৫০ ফুট উপরে উঠে যায়। যা সমুদ্রে চলতে থাকা জাহাজ কে নিমিষে ডুবিয়ে নিয়ে চলে যায় এবং কোনো উড়োজাহাজ ও এই ঝড়ের মধ্যে চলতে না পেরে সমুদ্রের তলদেশে হারিয়ে যায়।
এখন নিশ্চয়ই মনে প্রশ্ন আসবে, তাহলে জাহাজ কিংবা প্লেনের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাএয়া যায় না কেন? হ্যাঁ, এর উত্তর হল, পোর্তোরিকো খাঁদ বা পোর্তোরিকো ট্রেঞ্জ যা আটলান্টিক মহাসাগরেরে ২৮৩৭৩ ফুট গভীর একটি সুবিশাল খাঁদ যাতে কোন
ধ্বংশাবশেষ জমা হলে তা খুঁজে পাওয়া আর সম্ভব হয় না। এছাড়া ধারণা করা হয় যে, আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে প্রচুর মিথেন গ্যাস থাকায় তা সমুদ্রের পানির প্লবতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে জাহাজ ভেসে থাকতে পারে না।

বারমুডা ট্রাইএংগেল নিয়ে যত অতিপ্রাকৃতিক কথা প্রচলিত ছিল তার অবসান হয় আমেরিকার বিজ্ঞানীদের এই গবেষনালব্ধ ফলাফল থেকে। যদিও অনেক জাহাজ এবং বিমান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার রিসার্চে দেখা গেছে এর অধিকাংশই চালকের ভুলের কারণে দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। এরকম একটি উদাহরন হল -কোস্টগার্ড ১৯৭২ সালে ভিএ ফগ (V.A. Fogg) নিখোঁজ হওয়ার কারণ হিসেবে বেনজিন-এর পরিত্যক্ত অংশ অপসারণের জন্য দক্ষ শ্রমিকের অভাব ছিল বলে ধারণা করা হয়।