5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

মেসিই পারে এই জাদু, ফ্রি কিকেও ‘পানেকা’!

Now Reading
মেসিই পারে এই জাদু, ফ্রি কিকেও ‘পানেকা’!

লা লিগায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। এই দিনেও মেসির পারফমেন্স ছিল অন্য মাপের। পেনাল্টিতে ‘পানেনকা’ শট নতুন কিছু নয়। স্পটকিকে অনেকেই এই শটে ‘পা যশ’ দেখিয়েছেন। কিন্তু ফ্রি কিকে এমন কিছু এর আগে কেউ দেখেছেন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে। জবাবটা পরোক্ষভাবে দিয়ে দিয়েছেন সার্জিও বুসকেটস, ‘(মাঠের) বাইরে থেকে তাঁর খেলায় বিস্ময় জাগতে পারে। কিন্তু এসবে আমরা আর অবাক হই না। অনুশীলনে সে যা করে ম্যাচে তা করা আরও কঠিন। কিন্তু আমাদের সয়ে গেছে।’
তা যেতেই পারে। কিন্তু দর্শকেরা কাল লিওনেল মেসিকে আবিষ্কার করেছেন নতুন করে। এস্পানিওলের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। ৭১ মিনিটে মেসির প্রথম গোল ছাপিয়ে গেছে এই জয়। ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার বিষয়বস্তু, পেনাল্টিতে পানেনকা শট দেখা গেছে। দূরত্বটা মাত্র ১২ গজ হলেও ওখান থেকে পানেনকা শটে গোল করা ভীষণ স্নায়ুচাপের ব্যাপার। একটু গড়বড় হলেই লক্ষ্যভ্রষ্ট। আর সেখানে মেসি কি না, ফ্রি কিক নিলেন পানেনকা শটে! অনেক ফুটবলারের কাছে এই ভাবনাটুকুই তো দুঃসাহসের শামিল।
কেননা, গোলশূন্য ব্যবধানে থাকা ম্যাচের ওই পরিস্থিতিতে অমন শট অনেকের কাছেই স্রেফ ‘ইচ্ছাপূরণ’ ছাড়া আর কিছুই মনে হবে না। আর ১২ গজ দূরত্বের পানেনকা শট-ই বেশির ভাগ সময় গড়বড় হয়ে যায়, সেখানে ২০ গজ দূরত্বের ফ্রি কিকে এই শট নিলে লক্ষ্যভেদের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। কিন্তু প্রতিভাদের কাজ হলো শূন্য সম্ভাবনাকে সাফল্যের পূর্ণতা দেওয়া। মানব দেয়াল সামনে রেখে মেসি ২০ গজ দূরত্বের ফ্রি কিকে পানেনকা শট নিয়ে ঠিক এ কাজটিই করেছেন—গোল!
ফ্রি কিক নেওয়ার আগে কিছুই টের পাওয়া যায়নি। আর দশটা ফ্রি কিকের মতো সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। শুধু এস্পানিওল গোলরক্ষক গোলপোস্টের ডান দিকে একটু সরে দাঁড়িয়েছিলেন। ডিফেন্ডার ভিক্টর সানচেজ বাঁ প্রান্তে, আর দুজনের সামনে মাঝে মানব দেয়াল। মেসি করলেন কি আলতো শটে—দেখে মনে হবে পা-কে চামচ বানিয়ে বল তুলছেন—বলকে এস্পানিওল মানব দেয়ালের ওপর দিয়ে খানিকটা বাঁক খাইয়ে মাঝ বরাবর পাঠালেন। সানচেজ একটু সরে এসে হেডে বলের গতিপথ পাল্টানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর কিছুই করার ছিল না, হেডটা শুধু গোল ঠেকানোর ব্যর্থ প্রয়াস। বল তাঁর মাথা ছুঁইয়ে আশ্রয় নেয় জালে।
মেসির অনেক গোলই অনেকের কাছে স্মরণীয়। উপস্থিত বুদ্ধি ও দক্ষতার মিশ্রণে কালকের করা গোলটা এই তালিকায় হয়ে থাকবে সবশেষ সংযোজন। আবার এই গোলটি দিয়ে বার্সা তারকা এক দশকে প্রতি মৌসুমে ন্যূনতম ৪০ গোলের মাইলফলক ছুঁলেন। তবে ফ্রি কিকে মেসি যে পানেনকা শট নেবেন, তা স্বয়ং বার্সা কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দেরও ধারণায় ছিল না। ম্যাচ শেষে ভালভার্দে বলেন, ‘সে কী করতে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এটি আমাদের পরিকল্পনার অংশ ছিল, তা বলতে পারলে ভালোই লাগত। কিন্তু ব্যাপারটি সেরকম নয়। সে আমার কোনো কিছু না শুনেই গোলটা করেছে। আশা করি গোলটা মেসি পাবে।’
ভালভার্দের ইচ্ছাপূরণ হয়েছে। গোলটা ‘আত্মঘাতী’ না লিখে মেসির নামের পাশেই লিখেছেন ম্যাচের রেফারি। তবে ফ্রি কিক থেকে মেসির পানেনকা শটে গোল করা কিন্তু এই প্রথম নয়। ২০১০ সালে আলমেইরার বিপক্ষে ফ্রি কিক থেকে অনেকটা একইভাবে গোল করেছিলেন মেসি। সেবার অবশ্য বল সরাসরি জড়িয়েছিল জালে। তখন আর্জেন্টাইনের বয়স ছিল ২২ বছর। আর এখন চলছে ৩২ বছর। মাঝের এই এক দশকে কত কিছু পাল্টেছে। কিন্তু বল পায়ে মেসির ধার, বুদ্ধিমত্তা আর দক্ষতা থেকে গেছে আগের মতোই।

নিজেদের মাঠে টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত থাকল বার্সেলোনা

Now Reading
নিজেদের মাঠে টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত থাকল বার্সেলোনা

অলিম্পিক লিওঁ এক গোল দিয়ে নিজেদের রক্ষণ ভাগ ধরে রাখতে পারলেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত লিওঁর। কিন্তু তা করা সম্ভব না, কারন সামনে লিওনেল মেসির অপ্রতিরোধ্য বার্সেলোনা।

উল্টো হেরেছে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে। চ্যাম্পিয়নস লিগে এ নিয়ে নিজেদের মাঠে টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত থাকল কাতালানরা। এর মধ্যে ২৭টিই জয়, বাকি ৩ ম্যাচ ড্র।
একাদশে মেসি-সুয়ারেজের সঙ্গী কে হবেন? পছন্দের তালিকায় কুতিনহো নাকি ডেম্বেলে? ভালভার্দে তাঁর ৪-৩-৩ ফরমেশন আস্থা রেখেছেন কুতিনহোর ওপর।
গুরুর আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন শিষ্য। প্রথমার্ধেই দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন বার্সেলোনার এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। ম্যাচের শেষ সময়ে এসে ডেম্বেলেকেও খেলিয়েছেন ভালভার্দে। কুতিনহোর মতো গুরুর আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন ডেম্বেলেও। লিওঁর মাঠে প্রথম লেগে গোলশূন্য ড্র করলেও বুধবারের দ্বিতীয় লেগে ৫-১ গোলের জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। ন্যু ক্যাম্পের ফলাফলে ৫-১ গোলের অগ্রগামিতায় চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে পাত্তাই পায়নি লিওঁ। অতিথিদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা খেলে বার্সেলোনা। ১৬তম মিনিটে পেনাল্টি আদায় করেন সুয়ারেজ। বার্সেলোনার উরুগুইয়ান এই তারকাকে ডি বক্সে ফাউল করে বসেন লিওঁর খেলোয়াড়। পরের মিনিটে গোলরক্ষক বরাবর সোজাসুজি নেওয়া স্পটকিকে বল জালে জড়ান মেসি। ১-০তে এগিয়ে থাকা স্বাগতিকেরা বল দখল আর আক্রমণেও বেশ এগিয়ে থাকে। প্রথমার্ধেই অতিথিদের রক্ষণে ফের হানা দেন সুয়ারেজ। ৩১তম মিনিটে তাঁর দুর্দান্ত পাস থেকে টোকা দিয়ে গোল করেন কুতিনহো।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলায় ফেরার চেষ্টা করে লিওঁ। ৫৮তম মিনিটে লুকাস টুসার্টের গোলে ব্যবধানও কমায় অতিথিরা। কিন্তু ৭৮তম মিনিটে মেসির গোলে ব্যবধান বাড়ায় বার্সা। বুসকেটসের বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ান পাঁচবারের বর্ষসেরা এই তারকা। ৮১তম মিনিটে আবারও মেসিজাদু। এবার গোল না করে করিয়েছেন। মাঝমাঠ থেকে বল টেনে এনে ডি বক্সে বল বাড়ান পিকের দিকে। বল ঠিকানায় পৌঁছাতে ভুল করেননি পিকে। মিনিট পাঁচেক পর ফের মেসি! এবার গোল করিয়েছেন কুতিনহোর বদলি হিসেবে নামা ডেম্বেলেকে দিয়ে।

বার্সেলোনার দ্বারাই এটা সম্ভব

Now Reading
বার্সেলোনার দ্বারাই এটা সম্ভব

বার্সেলোনা হচ্ছে এমন একটা দল যাদের কাছে ফুটবল প্রেমীদের প্রত্যাশা সবসময় অনেক বেশি থাকে। বার্সেলোনাও সেই প্রত্যাশা পূরণ করে চলেছে। এমনই একটি ম্যাচ হয়ে গেলো গতকাল।

শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লা লিগায় দুর্দান্ত গতিতে ছুটে চলা বার্সা। সোমবার মেসি-সুয়ারেজের দেওয়া গোলে দেপোর্তিভো আলাভেসকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ভালভারদের দল।
প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ যেখানে জয়ের মুখ দেখছে না সেখানে সুনিপুণ ভাবে জয় তুলে নিচ্ছে বার্সা।
ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যু-তে রায়ো রায়ো ভায়েকানোকে ৩-১ গোলে হারিয়ে লা লিগায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন মেসিরা। অথচ প্রথমে গোল খেয়ে কাতালানরা ব্যাকফুটে চলে যায়। এই গোলই প্রথম ও শেষ গোল রায়োর। পরের গল্প শুধু মেসি-সুয়ারেজদের। তবে গল্পের প্রথম সূচনা করেন জেরার্ড পিকে।
৩৮ মিনিটে ডান পাশ থেকে করা মেসির ফ্রি-কিকে দুর্দান্ত গতিতে হেড দিয়ে রায়োর জালে বল জড়ান পিকে। সমতা এনে তবে স্বস্তিতে বিরতিতে যায় বার্সা। বিরতি থেকে ফেরার সাত মিনিট পর বার্সা আবারও গোলের দেখা পায়। এবার গোলের নায়ক স্বয়ং মেসি। পেনাল্টি থেকে গোল দিয়ে মেসি এগিয়ে দেন বার্সাকে।
আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে বার্সার খেলোয়াড়রা একের পর এক গোল মিস না করলে আরও বড় ব্যবধানে জয় পেত নিঃসন্দেহে। ম্যাচে শেষ বাঁশি বাজার আগে গোল দিয়ে রায়োর কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন লুইস সুয়ারেজ।
ইভান রাকিতিচের সহায়তায় ৮২ মিনিটে ডি-বক্সে মেসির পাসে বল যায় রাকিতিচের পায়ে, রাকিতিচ দেরি না করে বল দিয়ে দেন সুয়ারেজের কাছে, দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে সুয়ারেজ জালে বল জড়াতে ভুল করেননি।

কীভাবে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত জয় পেতে হয় বার্সেলোনার চেয়ে বেশী আর কোন ক্লাব মনে হয় জানে না। লা লিগায় রায়ো ভায়েকানোকে হারিয়ে জয়ের ধারা বজায় রাখল কাতালান ক্লাবটি।

মেসি সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

Now Reading
মেসি সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

মেসি কে জানে না এমন মানুষ হয়তো নেই। মেসি ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় যিনি টানা পাচটি ফিফা বালোঁ দ’অর পুরস্কার জিতেছেন। এছাড়া প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি তিনটি ইউরোপীয়ান গোল্ডেন শু পুরস্কারও জিতেছেন। বার্সেলোনার হয়ে মেসি সাতটি লা লিগা, দুইটি কোপা দেল রে, পাঁচটি স্পেনীয় সুপার কোপা, চারটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ, দুইটি উয়েফা সুপার কাপ জিতেছেন। তবে তার সম্পর্কে সব কি সব জানেন? তবে চলুন জেনে নেই তার সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য :

১।তার পুরো নাম লুইস লিওনেল আন্দ্রেস মেসি

২।সে বিশ্বের সর্বনিম্ন ফরোয়ার্ডার

৩। গ্রোথ হরমোন এর সমস্যা হওয়ায় তার শারীরিক বৃদ্ধিতে সমস্যা ছিল

৪।বিশ্বাস না হলেও সত্য যে লিওনেল মেসি তার প্রথম বার্সেলোনা চুক্তিটি টিস্যু পেপারের একটি অংশে স্বাক্ষর করেন

৫।মেসি তার প্রথম ম্যাচ এ মাত্র ৪৪ সেকেন্ড মাঠে ছিলেন কারন এরপর সে লাল কার্ড পান

৬।মেসির বয়স যখন পাঁচ বছর তখন থেকে তিনি তার স্ত্রীকে চেনেন

৭।মেসি দুটি দেশ এর নাগরিকতা আছে – আর্জেন্টিনার এবং স্পেন এর

৮।২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিক গেমসে তিনি আর্জেন্টিনীয় ফুটবল দলের হয়ে অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন

৯।লিওনেল মেসি বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ফুটবল খেলোয়াড়

১০।বার্সেলোনা যদি কোন করনে লিওনেল মেসির সাথে তাদের চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে চুক্তির একটি বিধি ঙ্ঘনের জন্য বার্সেলোনাকে ৩৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হবে।

 

ব্রিঃদ্রঃ এই পোষ্টে ব্যবহৃত তথ্য গুলো ব্যক্তিগত অনুসন্ধান ও উইকিপিডিয়ার সাহায্যে প্রকাশিত ।

যে সকল কারণে লিওনেল মেসি বিশ্বের সেরা ফুটবলার!

Now Reading
যে সকল কারণে লিওনেল মেসি বিশ্বের সেরা ফুটবলার!

লিওনেল মেসি

স্পেনীয় ভাষায় পুরো নাম লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচ্চিত্তিনি।

নতুন করে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়াটা হবে সম্পূর্ণ অর্থহীন। বিশ্বের এমন কোনো মানুষ নেই যে কিনা মেসি কে চেনে না, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও মেসি বলতে পাগল। লিওনেল মেসিকে সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের মধ্যে একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। বলতে দ্বিধা নেই ম্যারাডোনা এবং পেলের সময়ে তারা দুজন যেমন তাদের নিজেরদের দিক দিয়ে স্বমহিমায় সেরা ছিলেন, তেমনি আজকের সময়ে মেসি, নেইমার, সুয়ারেজ কিংবা রোনালদো তাদের নিজেদের দিক থেকে অবশ্যই সেরা। কিন্তু মেসির মধ্যে এমন কিছু গুণাবলী রয়েছে যা তাকে অন্য আর সব গ্রেট খেলোয়াড়দের থেকেও অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি বর্তমানে আর্জেনটিনা জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব পালন করছেন এবং স্প্যানিশ ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার প্রাণভোমরা তিনিই।

ঠি কি কারণে বা কি গুণাবলীর কারণে লিওনেল মেসি বিশ্বের সেরা ফুটবলার সেটা নিয়েই নিচের আলোচনাঃ

ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণ
৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার লিওনেল মেসি তার আইডল ডিয়েগো ম্যারাডোনার থেকে মাত্র দুই ইঞ্চি লম্বা। মেসিও ম্যারাডোনার মতই খেলার সময় বিস্ময়করভাবে নিজের ভারসাম্য রক্ষায় সেরা।  তাছাড়াও মূল ব্যপারটি হলো, শারীরিক গঠনে ছোট হবার কারণে সে তার শরীরের নিচের অংশের শক্তিকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারে যার ফলে সে অবিশ্বাস্য গতিতে নিজের স্থান পরিবর্তন করতে পারে। এছাড়াও গোল অভিমুখে বল নিয়ন্ত্রণে মেসি বলে একাধিক স্পর্শ করে থাকে যা তাকে বেশি গোল পেতে সাহায্য করে; যেখানে অন্যান্য বড় মাপের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সেটি দেখা যায়না।

ধৈর্য
ফুটবল খেলোয়াড়দের প্রায়ই দেখা যায় মাঠে একটুর থেকে একটু হলেই ধৈর্য হারাতে। কিন্তু লিওনেল মেসি সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম, তাকে অন্যতম শান্ত-শিষ্ট খেলোয়াড় হিসেবে ধরা হয় তার শান্ত মেজাজের কারণে। এছাড়াও, গোল দেবার ক্ষেত্রে দেখা যায় সে কিছুটা সময় নিয়ে সামনের ডিফেন্ডারদেরকে পরাস্ত করে গোল অভিমুখে বল পাঠায়, ফলে গোল-কিপার তার অবস্থান ধরতে পারেনা এবং ফলাফল হিসেবে বল জালে জড়িয়ে যায়।

ড্রিবলিং
যদি কোন একটি শক্তি থেকে থাকে যা মেসিকে আর সকল সেরা খেলোয়াড়দের থেকে উচুঁতে রাখে, তবে তা হল তার ড্রিবলিং ক্ষমতা। ড্রিবলিং করার মাধ্যমে এক সাথে একাধিক খেলোয়াড়কে পরাস্ত করাটা মেসির এক অনন্য প্রতিভা; এছাড়াও তার গতি ও ড্রিবলিং এর অসাধারণ সমন্বতায় ডিফেন্ডারদের পক্ষে তাকে বেঁধে রাখাটা সম্ভবপর হয়ে ওঠেনা। ম্যারাডোনার মতই, মেসিও মূলত এক পায়ের খেলোয়াড়; একবার পূর্ণ গতিতে বল নিয়ে ছুটতে শুরু করলে দেখা যায়,সে খুব কমই তার ডান পায়ের ব্যবহার করে। তার বাম পায়ের সাথে বলের নিয়ন্ত্রণ এতটাই অসাধারণ যে সে একজন বা একাধিক ডিফেন্ডারকে অতি দ্রুত পাশ কাটিয়ে কিংবা দুই পায়ের মধ্য দিয়ে সহজেই বল পাস করে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন।

দূরপাল্লার শট ও নিখুঁত পাস
লিওনেল মেসির আরেকটি অসাধারণ গুণ হলো দূর থেকে এমনকি ডি-বক্সের অনেক বাইরে থেকে সরাসরি জালে বল পাঠানো। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিকে শট নিয়ে গোল করাটা তার কাছে যেন মামুলি ব্যপার। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ইরানের বিপক্ষে সেই গোলের কথা নিশ্চয় ভুলে যাননি? সামনে ১০জন ইরানিয়ান ফুটবলারকে রেখে ডি-বক্সের বাইরে থেকে মেসির বাম পায়ের শট! একমাত্র গোলে আর্জেনটিনার জয়। এটি তো কেবল একটিমাত্র উদাহরণ। জাভিয়ের হার্নান্দেজ ও আন্দেস ইনিয়েস্তার মত লিওনেল মেসিও নিখুঁত পাসে অনন্য। অন্যকে গোল করায় সহায়তা করতে মেসির নিখুঁত পাসের ভুমিকা অনবদ্য।

স্বার্থহীন স্ট্রাইকার কিংবা গোল এসিস্টে সেরা
স্ট্রাইকারদের বেলায় একটা কথা বেশ শোনা যায় যে তারা নিজেদের নামের পাশে গোল বসাতে স্বার্থপর হয়। কিন্তু একজন সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে মেসির সাথে এমন কথা ঠিক যায়না, কেননা মেসি নিজে যেমন গোল করেন, অন্যদের গোল করাতেও ভূমিকা রাখেন। যেমন, ২০১৪/১৫ মৌসুমে MSN ত্রয়ীর ১২০ গোলের ৫৮ গোল মেসির এবং মেসি ৩১টি গোল এসিস্টে ভূমিকা রাখেন।

অবিশ্বাস্য দ্রুতগতি সম্পন্ন ফুটবলার
গতিতে মেসি অতুলনীয়। মেসি অতি দ্রুত দিক পরিবর্তন করতে পারেন বিধায় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পক্ষে তাকে ধরাটা বেশ কঠিন হয়ে যায়। এছাড়াও অবিশ্বাস্য দ্রুতগতির মেসি মুহূর্তের ভেতর জায়গা পরিবর্তন করতে পারেন।

শক্তিমত্তায় অসাধারণ
রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড় সার্জিও রামোস খুব ভালো করেই জানেন, মেসিকে ট্যাকল বা আঘাত করে কোন কাজ হয়না। মেসিকে থামানোর জন্য এই ফুল-ব্যাক প্লেয়ার সব ধরণের ক্রিয়া কৌশল অবলম্বন করেও সফল হতে পারেননি। মেসির শক্তিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা অনর্থক যেখানে শক্তিমত্তার প্রশ্নে ম্যারাডোনার সাথে মেসির তুলনা চলে আসে। মেসি আত্নবিশ্বাস ও দৃঢ়তায় বিশ্বের যেকোন খেলোয়াড়ের চাইতে সেরা কিনা- খেলার মাধ্যমেই তিনি এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

পেশাদারীত্বে অবিচল
মেসি এমন একজন শক্তিমান খেলোয়াড় যিনি তার শারীরিক প্রস্তুতি এবং খাদ্যকে গুরুত্ব সহকারে দেখেন। লিওনেল মেসির শারীরিক ও মানসিক শক্তি সমানভাবে চিত্তাকর্ষক। ক্লাব ও দেশের পক্ষে সমানভাবে শ্রেষ্ঠ হওয়া স্বত্ত্বেও তিনি ক্যামেরার মুখোমুখি হওয়ার সময় সবসময় একটি সাহসী হাসি দিয়ে যে কোনও সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন; এমনকি কোন অভিযোগ ছাড়াই শান্ত ও ধৈর্যের সাথে প্রবল চাপের মুখেও প্রতিপক্ষের ক্রমাগত মোকাবেলা করতে পারেন মেসি।

লিওনেল মেসি কখনোই ভিনগ্রহের কেউ নয়, তিনিও আর দশটা সাধারণ মানুষের মতই কিন্তু বিধাতা তাকে অসাধারণ গুণাবলি দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তিনি তার ঐ পা দুটো দিয়ে জয় করেছেন সারা পৃথিবীর মানুষের মন। লিওনেল মেসি ছোটবেলায় ভয়ংকর শরীর বৃদ্ধিকারী হরমোনের সাথে লড়াই করে আজ বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়েছেন, যার মানে তিনি বড় ও শক্তিশালী কোন কিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন যার শিক্ষা আজো তার মধ্যে রয়ে গেছে।

লিওনেল মেসির হাতে একটা বিশ্বকাপ উঠুক, সেই কামনাই রইলো।

Page Sidebar