5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

বায়ু দূষণের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছে ভারতে

Now Reading
বায়ু দূষণের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছে ভারতে

বায়ু দূষণের ফলে প্রতি বছর প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে ভারতে। বিষাক্ত বাতাসের কারনে ভারতে মৃত্যুর হার দিনদিন বেড়েই চলেছে। বিষাক্ত বাতাসের কারণে ২০১৭ সালে ভারতে ১২ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর ২০১৫ সালে ১১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল ভারতে। ২০১৯ সালের স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার রিপোর্ট এমনটাই বলছে।
স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার রিপোর্ট বলছে, ভারতে ২০১৭ সালে ১২ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বিষাক্ত বাতাসে। আর একই কারণে ২০১৫ সালে ১১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ২০১৭ সালে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ বেড়ে গেছে। বিশ্বের মধ্যে বায়ুদূষণে অতি বিপজ্জনক রাজধানীগুলোর মধ্যে এক নম্বরেই রয়েছে দিল্লি।
বিশ্বের প্রথম ২০টি সবচেয়ে দূষিত শহরের মধ্যে ১৫টিই ভারতের। বিশ্বে যে যে কারণগুলোতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়, তার মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে বায়ুদূষণ। দিল্লি, গুরগাঁও ও ফরিদাবাদসহ ভারতের গাঙ্গেয় শহরগুলোতে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, কোনও ব্যক্তি যদি ধূমপায়ী না-ও হন, তাও স্রেফ বায়ুদূষণের জন্য তিনি চেন স্মোকারের সমান ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

ঢাকা বায়ু দূষণে দ্বিতীয় শহর বিশ্ব তালিকায়

Now Reading
ঢাকা বায়ু দূষণে দ্বিতীয় শহর বিশ্ব তালিকায়

ঢাকার বায়ু দূষণের মাত্রা মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর পর্যায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়।
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট এবং এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড পলুশন রিসার্চ- চলতি মাসে তাদের পৃথক দুটি গবেষণাপত্রেও ঢাকায় বায়ু দূষণের মারাত্মক ঝুঁকির কথা প্রকাশ করেছে। বিশ্বের ৭৩টি দেশের বায়ুর মানের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার আয়তনে বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তু কণিকার পরিমাণ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বায়ু দূষণের ৫৮ শতাংশ উৎস হচ্ছে মহানগরীর আশেপাশের অঞ্চলে স্থাপিত ইটভাটা। আর রাস্তাঘাটের ধুলা এবং মোটরগাড়ি ও কারখানার দূষণ মিলে ২৬ শতাংশ। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবে পাঁচ বছর আগেও বায়ুদূষণে ওই তিন খাতের অবদান ছিল ১৫ শতাংশ।

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ, তীব্র যানজট, মেয়াদোত্তীর্ণ মোটরযান ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ভারী ধাতু ধুলার সঙ্গে যোগ হচ্ছে। এর ফলে রাস্তাঘাট বা খোলা স্থান ছাড়াও বাড়িঘর, অফিস-আদালত, হাসপাতাল, শ্রেণিকক্ষ ও খেলার মাঠেও বাতাসে ক্ষতিকর অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণার উপস্থিতি দেখা দিয়েছে।

গবেষণায় ঢাকার রাস্তার ধুলায় সর্বোচ্চ মাত্রায় সিসা, ক্যাডমিয়াম, দস্তা, ক্রোমিয়াম, নিকেল, আর্সেনিক, ম্যাঙ্গানিজ ও কপারের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মাটিতে যে মাত্রায় ক্যাডমিয়াম থাকার কথা, ধুলায় তার চেয়ে প্রায় ২০০ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। আর নিকেল ও সিসার মাত্রা দ্বিগুণের বেশি। খুব সহজেই এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা ত্বকের সংস্পর্শে আসছে; শ্বাসপ্রশ্বাস, খাদ্য ও পানীয়র মাধ্যমে মানুষের শরীরেও প্রবেশ করছে। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছে নগরবাসী, বিশেষ করে শিশুরা। শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে শরীরে বাসা বাঁধছে ক্যানসারসহ রোগবালাই।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, মারাত্মক দূষণকারী ইটের ভাটার কালো ধোঁয়া এবং যানবাহন ও কারখানার ক্ষতিকারক ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাছাড়া উন্নয়ন মূলক কাজ, ইমারত নির্মাণ এবং রাস্তাঘাট খোড়াখুড়ি ও মেরামতকাজে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে এগুলি থেকে বায়ু দূষণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে।

Page Sidebar