3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

নিকোলা টেসলার হারিয়ে যাওয়া সেই আবিষ্কারগুলো

Now Reading
নিকোলা টেসলার হারিয়ে যাওয়া সেই আবিষ্কারগুলো

বিজ্ঞানের জগতে নিকোলা টেসলা এক অদ্ভুত ব্যক্তির নাম।কারণ তিনি যে সকল যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন তা মানুষের জীবনকে একেবারে বদলে দিতে পারতো। আর বিপদে পড়তে হতো সমাজের এলিট শ্রেণীর লোকদের।তার এরকম কয়েকটি অদ্ভুত আবিষ্কারের কথা নিচে বর্ণনা করা হলো-

 

১। Death beam-

১৯৩০ সালে নিকোলা টেসলা দাবি করেন যে সে একটা ‘death beam’ আবিষ্কার করেছেন, যেটাকে তিনি ‘teleforce’ বলেন। ডিভাইসটি প্রচন্ড শক্তিশালী একটি আলোকরশ্মি তৈরি করতে পারত যার মাধ্যমে শত্রুর যুদ্ধ বিমান, আর্মি বা যে কোনো কিছু ধংস করে দিতে পারত।

কিন্তু এই তথাকথিত ‘death beam’ পরে আর আবিষ্কৃত হয়নি কারণ তিনি (নিকোলা টেসলা) জানতেন, এটা বিভিন্ন দেশ-প্রদেশে বা জাতীর জন্য একে অপরকে ধংস করা খুব সহজ হবে।টেসলা বলেছেন, এটার মাধ্যমে যে কোনো কেউ ২০০মাইলের ভিতরে যে কোনো কিছু খুব সহজেই ধ্বংস করে দিতে পারবে। আর এটা যেকোনো দেশকে ছোট অথবা বড় রাখেতে শক্তিশালী দেয়াল হিসেবে কাজ করবে। আর এটা শত্রুদের সেনাবাহিনী, আকাশযান ইত্যাদি যেকোনো ধরনের আক্রমনর বিরুদ্ধে দুর্ভেদ্য দেয়ালের মত কাজ করবে। তিনি আরো বলেন- তার এই আবিষ্কার চুরি করে নেয়ার জন্য চোরেরা চেষ্টা চালিয়েছিল, তারা কক্ষে প্রবেশ করেছিল এবং কাগজ-পত্র খুটিয়ে খুটিয়ে দেখেছিল, কিন্তু চোরেরা বা গোয়েন্দারা শুন্য-হাতে ফিরে গিয়েছিল।

 

২।Free Electricity System-

১৯০১-১৯০২ সালে নিউ ইয়র্কে টেসলা বিশাল আকারের একটি ওয়ারলেস ট্রান্সমিশন স্টেশন তৈরি করেন।যদিও কেউ মনে করেন, টেসলা এটার মাধ্যমে wireless communication এর কোনো ব্যবস্থা করবেন।

যাইহোক, তার উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। টেসলা চেয়েছিলেন তার থিওরি ব্যবহার করে পৃথীবির মাধ্যমে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে তথ্য, ফোনালাপ, অবিকল ছবি প্রেরণ করবেন। যদি প্রজেক্টটি কাজ করত, তাহলে যেকোনো কেউ খুব সহজেই কোনো রড মাটিতে পুতে এর থেকে free electricity নিতে পারত।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এটা লাভজনক হত না। আর এটি বিশ্বের এলিট শ্রেণীর লোকদের জন্য অবিশ্বাস্যভাবে বিপদজনক হত। কারণ এটি energy industry তে অনেক পরিবর্তন আনত।

চিন্তা করুন, দুনিয়াটা কেমন হত যদি কোনো কিছু চালনা করার জন্য কোনো ফুয়েল বা তেল-কয়েলের কোনো দরকার না হত!!

অবশেষে ১৯০৬ সালে এটাকে প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং কখনও এর দিকে মন দেয়া হয় না।

 

৩।The Flying Saucer-

১৯১১ সালে টেসলা নিউ ইয়র্ককে বলেছিলেন তিনি একটি anti gravity “flying machine” নিয়ে কাজ করতেছেন।

তিনি বলেন, তার উড়ন্ত এই মেশিনের কোনো পাখা বা প্রপেলার থাকবে না। কেউ এটাকে মাটিতে দেখবে এবং কখনও ভাববে না যে এটা একটা flying machine (উড়ন্ত যন্ত্র / যানবাহন)। এটা এমনকি বাতাসের মধ্যে যেকোনো ডিরেকশনে ইচ্ছামত নিরাপদে নড়া-চড়া করতে পারবে। অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যেতে পারবে। এটার উত্তরণে কোনো প্রকার সাধারণ ক্ষমতার উপর নির্ভর করবে না যেভাবে পাখি ডানার মাধ্যমে করে থাকে। কিন্তু এটা মেকানিক্যাল এ্যাকশন এর উপরই নির্ভর করবে।

টেসলার এই flying machineও free energy পদ্ধতি ব্যবহার করবে। যেখানে অন্যান্য motor-car industry-গুলো জালানির উপর নির্ভর্শীল।

 

*এক মুহূর্তের জন্য চিন্তা করুন, তার এই আবিষ্কারগুলো যদি আজও সত্যিই থাকতো তাহলে আমাদের জীবনযাত্রারর মান কোথায় থাকত!?

-বিজ্ঞানীরা তো আজ পর্যন্ত গবেষণা করে যাচ্ছেন কিভাবে কোনো বস্তুকে শুন্যে ভাসিয়ে রাখা যায় ‘এলিয়েনের’ মত।কিন্তু তারা এখনও সম্পূর্ণরূপে সফল হতে পারেন নি, যা কিনা নিকোলা টেসলা প্রায় ১০০ বছর আগেই আবিষ্কার করেছিল।

 

ক্রায়োনিক্স বা মৃতদেহকে জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা।

Now Reading
ক্রায়োনিক্স বা মৃতদেহকে জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা।

সায়েন্স ফিকশন বা হরর মুভি, যেখানে আমরা প্রায়ই দেখি কোনো পাগলাটে বিজ্ঞানীর ল্যাবরেটরি থেকে কিংবা কোনো স্পেসশিপের ঢাকনা খুলে বরফাচ্ছাদিত শীতল কক্ষ থেকে এক দল মানুষ বা এ্যলিয়েন বের হয়ে আসছে যারা কিনা মৃতের মত ঘুমিয়ে ছিল শত শত বছর। আট-দশটা সাধারণ মানুষের মত তাদের চলা-ফেরা, বিশেষ কোনো মিশন নিয়ে শত বছর পরের পৃথিবীতে জেগে উঠেছে তারা। আমরা এসব দেখে শিহরিত রোমাঞ্চিত হই। কিন্তু পাঠক কখনো কি ভেবে দেখেছেন বাস্তবে এটি সম্ভব কিনা? সম্ভব হবে আপনার আমার প্রিয়জনকে এভাবে মৃত্যুঘুম থেকে জাগিয়ে তোলা? সবাই একবাক্যে না বললেও বিজ্ঞান আমাদের কথা মানতে নারাজ। আজকের বিজ্ঞানের দ্বারা সম্ভব না হলেও অনেক বিজ্ঞানীই কিন্তু মনে করেন একশো বছর, দুইশ বছর কিংবা তিনশো বছর পরের বিজ্ঞান হয়ত পারবে মৃতদেহকে জীবনে ফিরিয়ে আনতে আর এভাবেই ক্রায়োনিক্স প্রযুক্তির উদ্ভব।

ক্রায়োনিক্সকে সরাসরি প্রযুক্তি বললে ভুল হবে এটি হচ্ছে মূলত বিজ্ঞান এবং বিশ্বাসের মিশেল। আমরা যেভাবে খাদ্য ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করি ঠিক সেভাবেই এক বিশেষ উপায়ে রাসায়নিক প্রয়োগে মৃতদেহকে রাখা হয় অত্যন্ত শীতল অবস্থায় যাতে করে মানুষের দেহের কোষগুলো নষ্ট না হয়। কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গর যেন বিন্দু মাত্র ক্ষতি না হয়, ঠিক যেন একজন সাধারণ মানুষ ঘুমিয়ে আছে। তবে এটি সাধারণভাবে বরফ  দিয়ে ঠাণ্ডা করার মত নয় কারণ এভাবে দেহের কোষগুলো ঠাণ্ডায় জমে ফেটে যেতে পারে আর তাই ক্রায়োনিক্স বিশারদরা এতে প্রয়োগ করে ক্রায়োপ্রোটেকটেনট নামক এক বিশেষ রাসায়নিক, যা দিয়ে মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মৃতদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে শুরু করে রক্তনালির ভেতরের উপাদানকেও সংরক্ষণ করা সম্ভব। এমনকি বিজ্ঞানীরা এও দাবী করেন এতে নাকি মস্তিষ্কের প্রতিটি স্মৃতি পর্যন্ত অক্ষত থাকে। এভাবেই ভবিষ্যতে জাগিয়ে তোলার আশা নিয়ে সংরক্ষণ করা হয় মৃতদেহ আর এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ক্রায়োনিক্স।

8f1.jpeg

ক্রায়োনিক্সের শুরুটা কারো একার হাত ধরে হয়নি। বিভিন্ন সময়ে মৃত্যু নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্কের জের ধরেই এর আবির্ভাব। শুধু মাত্র হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হলেই মানুষ মারা যাবে কেউ কেউ এটা মেনে নিতে চাননি। কেননা ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা আছে,  অনেকক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র কিছুক্ষণ বন্ধ থাকার পরেও মানুষ বেঁচে ফিরে এসেছে। এই ক্ষেত্রে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যের সান্ডারল্যান্ডের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী দুই মেয়ের বাবা ডেভিড বিঙ্কসের কথা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। এপ্রিল মাসের এক সকালে ডেভিডের গোঙানিতে পত্নী লিনেটের ঘুম ভেঙ্গে যায়। পাশেই স্বামীকে দম নেয়ার জন্য হাঁসফাঁস করতে দেখে বুঝতে দেরি হয়নি যে তার স্বামীর হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে। তিনি তৎক্ষণাৎ এমবুলেন্স ফোন করেন। সাহায্যের জন্য অপেক্ষা না করে তিনি মুখে মুখ লাগিয়ে এবং বুকে চাপ দিয়ে স্বামীর শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখার চেষ্টা করেন। মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় এমবুলেন্স পৌঁছে যায়। হাসপাতালে ডাক্তারদের অবিরত চেষ্টা এবং ১৬ বার শক দেয়ার পর প্রায় ৭০ মিনিট পরে ডেভিডের হৃদযন্ত্র পুনঃরায় সচল হয়। এই ৭০ মিনিট তিনি কিন্তু অফিসিয়ালি মৃতই ছিলেন, তার কোনো পালস ছিল না। এরপর ডেভিড এক সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং কিছুটা সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে যান। ডেভিড বলেন, আগেরদিন তিনি আর দশটা সাধারণ মানুষের মতই  ঘুমাতে যান কিন্তু পরের দিন যখন জ্ঞান ফিরে আসে নিজেকে আবিষ্কার করেন হাসপাতালের বিছানায়, এর মাঝে কি হয়েছে তার কিছুই মনে নেই। এমন আরও অনেক ঘটনার কথা জানা যায়  হৃদযন্ত্র বন্ধ থেকে পুনঃরায় চালু হওয়ার। তাই সত্যিকার অর্থে ঠিক কখন মৃত্যু ঘটে তাই নিয়ে রয়ে গেছে বিতর্ক। আর এই ফাঁকেই উঠে এসেছে ক্রায়োনিক্স। ক্রায়োনিক্স বিজ্ঞানীদের দাবী এর মাধ্যমে নাকি আসল মৃত্যুর কয়েকমিনিট আগেই দেহের সবকিছু আটকে দেয়া সম্ভব এমনকি মৃত্যুকেও (!)

পাঠক আপনাদের কাছে যত উদ্ভটই হোক না কেন। এই ধারণা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সহ ইউরোপের অনেক দেশেই গড়ে উঠেছে ক্রায়োনিক্স ইন্সটিটিউট। আর এদের সদস্যসংখ্যা কিন্তু নেহাত কম নয়। অনেক বিত্তবান, তারকা, বিজ্ঞানীরা হচ্ছে এর সদস্য যারা নিজেদের দেহকে এভাবে ঠাণ্ডা মমি করার জন্য দিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতে মৃত্যু থেকে জেগে উঠার আশায়। যেভাবে প্রাচীন মিশরে মমি করা হত পুনঃজন্মের আশায়। একুশ শতকে এসে শুধু এর ধরণ বদলেছে। তবে এই ক্রায়োনিক্স সাধারণ মানুষের জন্য নয়, সদস্যকে অত্যন্ত ধনী হতে হবে এর জন্য। সম্পূর্ণ শরীর সংরক্ষণের প্রাথমিক খরচ ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ ডলার পর্যন্ত। প্রতি বছর গুনতে হবে আলাদা করে বার্ষিক সংরক্ষণ ফি। এর জন্য মৃত্যুর পূর্বে ব্যাংকে রেখে যেতে হবে বিশাল অংকের টাকা।

ক্রায়োনিক্স নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মুভি, টিভি সিরিয়াল এবং উপন্যাস। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আর্থার সি ক্লার্কের ‘৩০০১: দা ফাইনাল অডিসি’, জ্যাক লন্ডনের ‘অ্যা থাউজেন্ড ডেথস’, এইচপি লাভারক্রাফটের ‘কুল এয়ার’, এডগার রাইস ব্যরোজের ‘দা রিসারেকসন অব জিম্বার জ’। এছাড়া উল্লেখযোগ্য মুভি হচ্ছে পরিচালক ডব্লিউ ডি রিখটারের ‘লেট ফর ডিনার’, ফরেভার ইয়ং। আরও আছে উল্লেখযোগ্য টিভি সিরিজ ‘কোল্ড ল্যাজারুশ’, ‘ড. হু’, ‘গোথাম’ যেখানে দেখানো হয়েছে ক্রায়োনিক্স।

শুনতে যত উদ্ভটই হোক, এতসব ঝক্কি-ঝামেলা, খরচের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে যদি কোনোভাবে আরেকটিবার এই পৃথিবীতে ফিরে আশা যায়। পৃথিবীর খোলা হাওয়াতে আরেকটিবার শ্বাস নেয়ার জন্য বিত্তবানরা সব দিয়ে দিচ্ছে আর বিজ্ঞানীরা প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে। আসলেই কি সম্ভব হবে আবার কোনদিন ফিরে আশা ???

আমরা কি মস্তিষ্কের শুধু মাত্র কিছু অংশ ব্যবহার করি নাকি আরও বেশি ?

Now Reading
আমরা কি মস্তিষ্কের শুধু মাত্র কিছু অংশ ব্যবহার করি নাকি আরও বেশি ?

আমাদের আসে-পাশে আমরা অনেককেই বলতে শুনি, আমার ব্রেইন তোমার চাইতে অনেক বেশি কাজ করে, হুহ! আরও একটি অধিক প্রচলিত কথা হচ্ছে আমরা আমাদের ব্রেইনের ১০ শতাংশ ব্যবহার করি। অনেক সময় এমন অনেক আধ্যাত্মিক মানুষেরও দেখা পাওয়া যায় যাদের দাবি, তারা তাদের মস্তিষ্কের  সম্পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করে অনেক অকল্পনীয় কাজ করতে সক্ষম। দাবিগুলো আসলে কতটুকু সত্য ? ধারণাটি যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে বাকি অংশ ব্যবহার করে আমরা কি  কোনো অতিমানবীয় ক্ষমতার অধিকারী হতে পারব? আমাদের মাঝেই কি কোনো সুপারম্যান ঘুমিয়ে আছে? জাগিয়ে তোলার অপেক্ষায় ।

এর রহস্য সমাধানে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে ১৮০০ শতকে। ঘটনার সূত্রপাত দুই বিজ্ঞানীর একটি গবেষণা থেকে। হার্ভার্ডের দার্শনিক ও সাইকোলজিস্ট  উইলিয়াম জেমস এবং সাইকোলজিস্ট ও ফিজিসিয়ান বোরিস সিডিস ১৮৯০ সালে বিস্ময় শিশু উইলিয়াম জেমস সিডিস- উপর গবেষণা চালান। এই উইলিয়াম জেমস সিডিস এতটাই প্রতিভাবান ছিল যে মাত্র ১১ বছর বয়সেই সে হার্ভার্ডে সুযোগ পায় এবং গণিত ও প্রায় ৪০টি ভাষা এবং উপভাষার উপর তার দক্ষতা ছিল। এই উইলিয়াম জেমস সিডিস ছিল সাইকোলজিস্ট বোরিস সিডিসের ছেলে। এই শিশুকে নিয়ে গবেষণার এক পর্যায়ে বিজ্ঞানী উইলিয়াম মতবাদ দেন, মানুষ তাদের মানসিক ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করছে না। এই মতবাদে শুধু মাত্র একটি কিশোরের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে পুরো মানব জাতির বিষয়ে মতবাদ দেয়া হয়েছে। এটি একটি সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ধারণা এবং ত্রুটিপূর্ণ গবেষণা এই বিষয়ে কোন সন্দেহ থাকে না। হয়ত বিজ্ঞানী মহাশয়ের এই তত্ত্ব বেশিদিন ধোপে টিকত না। কিন্তু আমেরিকান লেখক লওয়েল থমাস(Lowell Thomas)  উইলিয়াম সাহেবের এই তত্ত্বকে আরেক বিখ্যাত লেখক ডেল কার্নেগীর কাছে লিখে পাঠান ‘How to win friends and influence people’ বইতে ছাপানোর জন্য। সেখানেই লওয়েল থমাস এই তত্ত্বের সাথে ১০% তকমা জুড়ে দেন। তিনি বলেন, প্রফেসর উইলিয়াম জেমস নাকি প্রায়শই বলতেন মানুষ তার সুপ্ত মানসিক শক্তির মাত্র ১০% ব্যবহার করতে পারে। আর ডেল কার্নেগীর  এই বইটি তৎকালীন সময়ে এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করে যে ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত এই বইটির বিশ্বব্যাপী ৩ কোটির বেশি কপি বিক্রি হয়। আর এভাবে একটি ভুল তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া সেই সময়কার আরও অন্যান্য বইতে এই একই কথা নানাভাবে ঘুরতে থাকে। পরবর্তীতে আরেক বিজ্ঞানী কার্ল স্পেনসার লেসলি(Karl Spencer Lashley) ঐ একই পথে হাঁটেন। এই বিজ্ঞানী আগের বিজ্ঞানীর চেয়ে আরেক কাঁঠি সরেশ। এই ভদ্রলোক এটা বিশ্বাস করতেন, আমাদের মস্তিষ্কে যে সৃতি জমা থাকে তা মস্তিষ্কের কোন নির্দিষ্ট অংশে সঞ্চিত থাকে না, মস্তিষ্কের কোন অংশ যদি কেটে সরিয়ে ফেলা হয় তাহলে সেই অনুপাতে কিছু স্মৃতি হারিয়ে যাবে। বিজ্ঞানী লেসলি তার এই মতবাদ প্রমাণে মাঠে নামলেন। ছুরি-কাঁচি চালালেন ইঁদুরের মস্তিষ্কের উপর। ১৯৩৯ সালে ইঁদুরের মস্তিষ্কের কিছু টিস্যু সরিয়ে ফেলেন এবং বলেন মস্তিষ্কের শুধু মাত্র ২% ভিজুয়াল থালামোকরটিক্যাল(visual thalamocortical pathway) থাকলেই ইঁদুর বিভিন্ন দৃশ্যমান বস্তুর পার্থক্য ধরতে পারে, এবং মস্তিষ্কের ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত সেরেব্রাল কর্টেক্স বাদ দিয়ে দিলেও ইঁদুরের কাজ কর্মের উপর তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না। এই পরীক্ষার জন্য ইঁদুরটি কে একটি গোলোকধাঁদার মধ্যে দিয়ে হাঁটতে দেয়া হয় এবং ইঁদুরটি অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে আসে। কিন্তু এখানে কথা থেকে যায়, কিছু টিস্যু সরিয়ে ফেললে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কিছু নির্দিষ্ট কাজ হয়ত করা সম্ভব এবং এখানে ইঁদুরকে শুধু মাত্র একটি কাজে লাগানো হয়েছে। আর কোনো কঠিন কাজ বা পরীক্ষা করা হয়নি। যা থেকে প্রমাণ হয় না যে ইঁদুরটি কি আসলেই মস্তিষ্কের একটি অংশবাদে সব কাজ ঠিকভাবে করতে পারছে কিনা। এই এক্সপেরিমেন্টের পরে মস্তিষ্কের একটি খুদ্র অংশ ব্যবহারের ধারণাটি বদ্ধমূল হয়ে যায় এবং উনিশ শতকে বিজ্ঞানীরা আসলেই বিশ্বাস করতেন আমদের মস্তিষ্কের একটি বিরাট অংশ অব্যবহৃত থাকে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করতে থাকেন কিভাবে বাকি অংশ ব্যবহার করা যায়, সম্পূর্ণ অংশ ব্যবহার করতে পারলে মানুষ কতটা শক্তিশালী হবে, মস্তিষ্কের ঐ অংশে কি ক্ষমতা লুকিয়ে আছে সেইসব জানার জন্য নিরন্তর গবেষণা চলতে থাকে। এমনও শোনা যায়, বিভিন্ন গোপন ল্যাবরেটরিতে মস্তিষ্কের বাকি ৯০% ব্যবহার করে কিভাবে সুপার হিউম্যান বা সুপার সোলজার তৈরি করা যায় সে চেষ্টাও করতে থাকে বিভিন্ন দেশ।  অন্যদিকে মিডিয়া এই ভ্রান্ত ধারণাকে পূঁজি করে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন, মুভি, নাটক তৈরি করতে থাকে। এমনকি আমরা আজও অনেক হলিউড মুভিতে দেখি নায়ক কোনোভাবে মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ অংশ ব্যবহারের রহস্য জেনে যায় বা কোনো দুর্ঘটনা, বজ্রপাত, আঘাত পেয়ে মস্তিষ্কের পূর্ণ ক্ষমতা পেয়ে কোনো অতিমানবে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে ২০১৪ সালের স্কারলেট জোহানসন(Scarlett Johansson) অভিনীত জনপ্রিয় মুভি ‘LUCY’-এর কথা উল্লেখ করা যায়। সেখানে দেখানো হয় স্কারলেট জোহানসন এর  রক্তে একটি ড্রাগ প্রবেশ করানো হলে তিনি তার মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ অংশ ব্যবহার করে ঈশ্বরসদৃশ্য ক্ষমতার অধিকারী হন। যা কিনা শুধু মাত্র হলিউড মুভিতেই সম্ভব।

পাঠক চলুন এবার জেনে নেয়া যাক কেন এই ধারণাকে এতক্ষণ ভ্রান্ত বলা হল। আমেরিকার বালটিমুরে অবস্থিত জন হপকিন্স স্কুল অফ মেডিসিনের নিউরোলজিস্ট বিভাগের প্রধান ডাঃ ব্যারি গর্ডন এই মতবাদকে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, আমাদের মস্তিস্ক দেহের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঙ্গ, মস্তিস্ক দেহের সম্পূর্ণ ওজনের ৩ শতাংশ হলেও মস্তিস্ক দেহের এনার্জির ২০ শতাংশ ব্যবহার করে। যদি এর ৯০ শতাংশই অব্যবহৃত থাকত তাহলে এত পরিমাণে এনার্জি খরচের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। আমরা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নিঃসন্দেহে আমাদের মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ অংশ ব্যবহার করছি। তবে তিনি এটাও বলেন যে, হ্যাঁ আমরা কোনো কোনো সময় মস্তিষ্কের ১০শতাংশ ব্যবহার করি যেমনঃ ঘুমানোর সময়, বিশ্রাম নেয়ার সময় এছাড়া আমাদেরকে মস্তিষ্কের পুরোটা ব্যবহার করতে হয়। তিনি আরও বলেন, আমদের মস্তিষ্কের ১০% হচ্ছে নিউরন আর বাকি ৯০% হচ্ছে গ্লায়াল সেল যেটি আমাদের দেহের কাজ-কর্মে সরাসরি অংশ না নিলেও এর কাজ হচ্ছে নিউরনকে পরোক্ষভাবে সাহায্য করা। এছাড়া নিউরোসায়েন্টিস্ট Professor Barry L Beyerstein এই ধারণার পক্ষে বিভিন্ন প্রমাণ তুলে ধরেন, যার কিছু উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরা হল।

ক) যদি আসলেই আমরা আমাদের মস্তিষ্কের ১০% ব্যবহার করতাম তাহলে এর কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আমরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারতাম  কিন্তু বাস্তবে মস্তিষ্কের একটি টিস্যুও যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে সাধারণ জীবন যাপন করা সম্ভব হয় না এবং এর প্রভাব মারাত্মক।

খ) তিনি ব্রেন স্ক্যানের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে আমরা যাই করি না কেন যেই অবস্থায় থাকি না কেন আমাদের মস্তিস্ক সর্বদা কার্যকর থাকে।

গ) নিউরো ইমেজিং এর মাধ্যমে দেখা যায় ঘুমের মধ্যেও মস্তিষ্কের সব অংশ কিছু মাত্রায় হলেও সচল থাকে। শুধুমাত্র গুরুতর কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হলেই মস্তিষ্কের কিছু অংশ নীরব হয়ে যায়।

ঘ) সিঙ্গেল ইউনিট রেকর্ডিং ব্যবহার করে তিনি মস্তিষ্কে ক্ষুদ্র ইলেক্ট্রোড প্রবেশ করিয়ে নিউরন সেল এর কর্মপদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করেন। যদি শতকরা ৯০ ভাগ নিউরন সেলই অকার্যকর থাকতো তাহলে সেটি এই রেকর্ডিং-এ ধরা পড়তো।

পাঠক আপনার আসে-পাশে যদি কখনো শুনে থাকেন কেউ মস্তিষ্কের বেশি অংশ ব্যবহার করে অতিইন্দ্রিয় কিছু করে দেখাচ্ছে তাতে কান দিবেন না। আমরা আমাদের মস্তিষ্কের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করছি। কেবল সেই লোকটি যা শিখেছেন বা জানেন আপনার তা জানা নেই।  আমরা চর্চা, সঠিক প্রয়োগ ও কঠোর পরিশ্রম এর মাধ্যমে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে পারি। আমরাও সব করতে পারি। এই জন্যই ক্লাসের শেষ বেঞ্চের ছেলেটি হয়ত আজ হার্ভার্ডে পি.এইচ.ডি করছে, এক সময়ের খারাপ ছাত্রটি হয়ত আজকে বিশ্বজয় করছে।

সোর্সঃ

https://en.wikipedia.org/wiki/How_to_Win_Friends_and_Influence_People
https://en.wikipedia.org/wiki/Ten_percent_of_the_brain_myth#Origin
https://en.wikipedia.org/wiki/William_James
https://en.wikipedia.org/wiki/Boris_Sidis

https://faculty.washington.edu/chudler/tenper.html
http://www.medicinenet.com/script/main/art.asp?articlekey=11382

বিজ্ঞান কি?

Now Reading
বিজ্ঞান কি?

আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব বিজ্ঞান নিয়ে । আমরা তো আমাদের শিক্ষাজীবনে অনেক বিজ্ঞান বই পড়েছি আবার আমরা বিজ্ঞানের অনেক আবিষ্কারও দেখেছি এবং দেখছি । আমরা কি জানি বিজ্ঞান কি ?

হয়তোবা আমরা অনেকেই জানি, বিজ্ঞান কি ? তবে, আজকে আমি আপনাদেরকে বিজ্ঞান সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক ধারণা দিতে চাই ।

বিজ্ঞান নামটা শুনলেই বোঝা যায় বিজ্ঞান একধরনের জ্ঞান । আর জ্ঞান কি ? জ্ঞান হল কোন কিছু সম্পর্কে তথ্য । পানি, মাটি, জীব, জড় ইত্যাদি এগুলো হল আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের অংশ । প্রাকৃতিক বিভিন্ন ঘটনা আমরা কে না জানি । আমরা যদি কাউকে জিজ্ঞেসা করি তাহলে সে নিশ্চয় মুখস্তবিদ্যার মত করে বলে দিবে ! এখানে একটা মজার বিষয় আছে সেটা হল, এই যে প্রাকৃতিক বিভিন্ন ঘটনা ঘটে এগুলো সম্পর্কে জ্ঞানও হল বিজ্ঞান ।

কিন্তু, প্রাকৃতিক যেকোনো তথ্যই বিজ্ঞান না ! আমরা যদি কোন পরিবেশ সম্পর্কে ঠোটস্ত ব্যাখ্যা বলি তাহলে সেটা বিজ্ঞান হবে না । বিজ্ঞানের জ্ঞান হতে হলে, পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ এর মাধ্যমে সমর্থিত ফল ফেতে হবে । যেমনঃ বৃষ্টি কীভাবে হয় ? এর সম্পর্কে যদি আমরা ঠোটস্ত ব্যাখ্যা বলি তাহলে সেটা বিজ্ঞান হবে না ! কারন এটির ব্যাখ্যা পরীক্ষণের মাধ্যমে বলা হয়নি আর এটিকে কোন পরীক্ষণও সমর্থন করেনা । আগেই বলেছি, বিজ্ঞানের জ্ঞান হতে হলে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ এর মাধ্যমে সমর্থিত ফল ফেতে হবে ।

তাহলে আমরা এতটুকু আলোচনা থেকে নিশ্চয় বুঝতে পারলাম বিজ্ঞান কি ?

তবে আরেকবার বলে দিতে চাই, আমরা যেসব প্রাকৃতিক ঘটনা দেখি সেগুলো আসলে বিজ্ঞান সম্পর্কে জ্ঞান আর আমরা পরীক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যেই ফল পায় তা হল বিজ্ঞানের জ্ঞান ।

তো আমরা এই জ্ঞান কীভাবে অর্জন করব ? বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার হিসেবে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, যুক্তিগত চিন্তার মাধমে বিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব । জ্ঞান যেমন বিজ্ঞান, তেমনি জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়াও বিজ্ঞান ।

বিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জনের জন্য বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দরকার বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি বা মনোভাব এবং এগুলোকে যুক্তিযুক্তভাবেও চিন্তা করতে হবে । অপরের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিজের ভুল স্বীকার করাকে বিজ্ঞানমনস্ক বলে । তাহলে বিজ্ঞানকে আমরা কি বলব ? বিজ্ঞানকে আমরা বলবো যে, প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে জ্ঞানও হল বিজ্ঞান, যা পরীক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া ফল এবং একটি বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি । বিজ্ঞানের জ্ঞান ও জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া একই পরিমাণে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি ।

এখন আমি আমার আলোচনার শেষ অংশটি নিয়ে আলোচনা করবো । এই অংশটি হল বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার ধাপ । তো বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার ধাপগুলো এখন আমরা জানবো ।

প্রশ্ন/সমস্যা নির্ধারণ ,   বিদ্যমান তথ্য সংগ্রহ,   পরীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা এবং উপাত্ত সংগ্রহের উপকরন তৈরী করা,  সম্ভাব্য ফলাফল,   পর্যবেক্ষণ ও উপাত্ত সংগ্রহ,   প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ,   সম্ভাব্য ফলাফল গ্রহন বা বর্জন,  ফলাফল প্রকাশ ।

আজকে আমার আলোচনা এতটুকুই ছিল । আশা করছি আপনারা বুঝতে পারবেন বিজ্ঞান কি ? এবং এর বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার ধাপগুলোও । আবার কোন একদিন বিজ্ঞান নিয়ে আরটিকেল লিখবো । এই আরটিকেলটি লেখার উদ্দেশ্য ছিল যে, আপনাদেরকে যাতে বিজ্ঞান সম্পর্কে বাসিক বা প্রাথমিক ধারণা দিতে পারি ।