“শুক্রগ্রহ” নিয়ে বিশ্বে নতুন মিশন বৃদ্ধির আশা……

Now Reading
“শুক্রগ্রহ” নিয়ে বিশ্বে নতুন মিশন বৃদ্ধির আশা……

শুক্রগ্রহ ভূতাত্ত্বিকভাবে মৃত এই ধারণাটি দীর্ঘদিনের একটি “পৌরাণিক ঘটনা” বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। এবং নতুন গবেষণা কাঁটা হতে পারে যে উপলব্ধি চিরতরে শেষের প্রান্তে। চলমান আগ্নেয়গিরি এবং টেকটোনিক কার্যকলাপের সূত্র সূচিত করে যে, পৃথিবীর বিভিন্ন সময়ে গ্রহটি খুব বেশি জীবিত। এখন বিজ্ঞানীরা গ্রহের আড়াআড়ি ব্যাখ্যা করার জন্য নতুন বিবরণ তৈরি করছেন। এটির একটি ধারণা রয়েছে যা “টফি গ্রাইটস” এর অস্তিত্ব প্রস্তাব করে। এই তত্ত্ব এক্সোপ্ল্যানেট অধ্যয়ন মাধ্যমে সংকলিত জ্ঞানের সঙ্গে জড়িত। টেক্সাসের উডল্যান্ডসের ৫০তম লুনার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্স কনফারেন্সে (এলপিএসসি) নতুন ধারণা নিয়ে আলোচনা চলছে।

গত কয়েক দশক ধরে মঙ্গলের উপর ফোকাস এই গ্রহের ভূতত্ত্ব সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে রূপান্তরিত করেছে। ইতোমধ্যে, শুক্রগ্রহের পৃষ্ঠপোষক গবেষকরা ম্যাগেলান-এর একটি NASA মিশন থেকে ১৯৯৪ সালের শেষের দিকে ডেটাতে ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছিলেন। ইউরোপীয় মিশন, শুক্রগ্রহ এক্সপ্রেস এবং জাপানের মহাকাশযান আকাশসুকি তখন থেকেই সেখানে রয়েছে তবে উভয়ই বায়ুমন্ডলীয় বিজ্ঞানের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে । একটি নতুন মিশন নিয়ে মত অনুভূতি বছর পরে কখনও ঘটবে না। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি (এসএসএ) একটি ভেনাস মিশনকে মূল্যায়ন করছে যার নাম এনভিশন। এর পাশাপাশি দুটি জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রস্তাব – থিয়েস এবং স্পিকা। অন্যান্য ধারণাও নাসাকে প্রস্তাব করা হচ্ছে।

শুক্র গ্রহটি ৫০০ সেন্টিমিটারের পৃষ্ঠ তাপমাত্রা সহ পৃথিবীর একটি উষ্ণগৃহ – সীসা দ্রবীভূত করতে যথেষ্ট গরম। কিন্তু এটি কেবলমাত্র তাপ নয় যা অস্বাভাবিক করে তোলে: গ্রহের পুরু বায়ুমণ্ডলটি ৯০ বার পর্যন্ত পৃষ্ঠের চাপকে ক্র্যাক করে যা সমুদ্রের নিচে ৯০০ মিটার উপভোগ করতে পারার সমান। কিন্তু শুক্র এবং পৃথিবী অনেক বেশি অনুরূপ হতে শুরু করেছে। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়্যাল হোললে রিচার্ড গাইল বলেন, “সম্ভবত তারা জোড়া হিসাবে শুরু হয়েছিল কিন্তু তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে” এনভিশন এর প্রধান তদন্তকারী।
“সেই সময় পৃথিবীটি অক্সিজেন এবং জীবন অর্জন করেছে এবং মূলত বেশ ঠান্ডা জলবায়ুতে আছে তবে শুক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে গরম এবং শুকিয়ে গেছে।”

মঙ্গলগ্রহের মতো শুক্রগ্রহেও জীবনের জন্য যথাযথ অধিকার থাকতে পারে। কিন্তু ডাঃ গাইল বলেছিলেন যে, লাল প্ল্যানেট প্রায় ১০০ মিলিয়ন বছর ধরে তার উপরিভাগে প্রচুর পরিমাণে পানি আয়োজন করতে পারে তবে শুক্র গ্রহটি তার প্রথম ইতিহাসের এক বিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় ধরে মহাসাগরকে ধরে রাখতে পারে। কিভাবে এবং কখন এটি জল হারিয়ে পাজনে হ্রাস পায় বিজ্ঞানীরা কেবল একটি হালকা নতুন মিশন চালাতে চায়। এটা ভাগ্য এমনকি পৃথিবীর জন্য একটি চরম ভবিষ্যত পথ উপস্থাপন করতে পারে।

রোবোটিক প্রোবের সাথে শুক্র গ্রহের আবিষ্কারের ইতিহাস ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। যদিও আমেরিকা মঙ্গল অনুসন্ধানের সমার্থক হয়ে উঠেছে তবে এটি সোভিয়েত ছিল যারা ১৯৬০, ৭০ এবং ৮০ এর দশকে আমাদের নিকটতম প্রতিবেশীকে চিহ্নিত করেছিল। তারা বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতার সাথে গ্রহের দিকে প্রায় ৩০ টি প্রোব চালু করে। কিন্তু সফল মিশন পৃষ্ঠের ছবি সহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফেরত পাঠিয়েছে। এক প্রোবের ফলে বিদ্যুৎ কি হতে পারে তা সনাক্ত করা যায় অন্যরা শিলা নমুনা বিশ্লেষণ করে যা বেসাল হিসাবে পৃথিবীতে পাওয়া সাধারণ ধরণের অনুরূপ। ভেনাসে আগ্রহের পুনরুত্থানের অংশ যা চলছে ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপের প্রকারের দিকে এবং এটি আমাদেরকে সাধারণভাবে বলতে পারে পাথুরে গ্রহগুলির সম্পর্কে।

পৃথিবীর পুষ্প পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রক্রিয়ার জন্য দায়ী ভেনাস প্ল্যাটের গঠনাত্মক অভাব বলে মনে করা হয়। কিন্তু লক্ষ লক্ষ বছর আগে আগ্নেয়গিরির বহিঃপ্রকাশের কারণে শুক্রগ্রহটি মূলত “মৃত” হয়ে উঠেছে এই ধারণাটি ক্রমবর্ধমান সংখ্যক গবেষকদের দৃষ্টিতে ভুল। পৃথিবীতে টেকটনিক ক্রিয়াকলাপের অনেক লক্ষণ যেমন ছত্রাক এবং ত্রুটিগুলির নেটওয়ার্ক, শুক্রতে পাওয়া যেতে পারে। ড. গেইল এই লক্ষণগুলি চিহ্নিত করেছেন যে শুক্রগ্রহের ৫০০-১০০০ কিমি পর্যন্ত ক্রমবর্ধমান ব্লকগুলিতে ভেনিস এর ক্রাস্টটি ভেঙ্গে গেছে যা সমুদ্রের উপর বরফের ভাসমান প্যাকিংয়ের মতো ধীরে ধীরে ধাক্কা দেয় এবং একে অপরকে ধাক্কা দেয়। প্রক্রিয়াটি ক্রভের নিচে মন্টেল অঞ্চলে কনভেকশন (হট ট্রান্সফার প্রক্রিয়া যা গরমতর উপাদান উপরে এবং শীতল ঘন উপাদানটি নিচে ঠেলে দেয়) দ্বারা চালিত হয়। ইশতার টেরা শুক্রের প্রধান উচ্চভূমি অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি যা কখনও কখনও “মহাদেশ” হিসাবে বর্ণনা করা হয়।

নিকোলা টেসলার হারিয়ে যাওয়া সেই আবিষ্কারগুলো

Now Reading
নিকোলা টেসলার হারিয়ে যাওয়া সেই আবিষ্কারগুলো

বিজ্ঞানের জগতে নিকোলা টেসলা এক অদ্ভুত ব্যক্তির নাম।কারণ তিনি যে সকল যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন তা মানুষের জীবনকে একেবারে বদলে দিতে পারতো। আর বিপদে পড়তে হতো সমাজের এলিট শ্রেণীর লোকদের।তার এরকম কয়েকটি অদ্ভুত আবিষ্কারের কথা নিচে বর্ণনা করা হলো-

 

১। Death beam-

১৯৩০ সালে নিকোলা টেসলা দাবি করেন যে সে একটা ‘death beam’ আবিষ্কার করেছেন, যেটাকে তিনি ‘teleforce’ বলেন। ডিভাইসটি প্রচন্ড শক্তিশালী একটি আলোকরশ্মি তৈরি করতে পারত যার মাধ্যমে শত্রুর যুদ্ধ বিমান, আর্মি বা যে কোনো কিছু ধংস করে দিতে পারত।

কিন্তু এই তথাকথিত ‘death beam’ পরে আর আবিষ্কৃত হয়নি কারণ তিনি (নিকোলা টেসলা) জানতেন, এটা বিভিন্ন দেশ-প্রদেশে বা জাতীর জন্য একে অপরকে ধংস করা খুব সহজ হবে।টেসলা বলেছেন, এটার মাধ্যমে যে কোনো কেউ ২০০মাইলের ভিতরে যে কোনো কিছু খুব সহজেই ধ্বংস করে দিতে পারবে। আর এটা যেকোনো দেশকে ছোট অথবা বড় রাখেতে শক্তিশালী দেয়াল হিসেবে কাজ করবে। আর এটা শত্রুদের সেনাবাহিনী, আকাশযান ইত্যাদি যেকোনো ধরনের আক্রমনর বিরুদ্ধে দুর্ভেদ্য দেয়ালের মত কাজ করবে। তিনি আরো বলেন- তার এই আবিষ্কার চুরি করে নেয়ার জন্য চোরেরা চেষ্টা চালিয়েছিল, তারা কক্ষে প্রবেশ করেছিল এবং কাগজ-পত্র খুটিয়ে খুটিয়ে দেখেছিল, কিন্তু চোরেরা বা গোয়েন্দারা শুন্য-হাতে ফিরে গিয়েছিল।

 

২।Free Electricity System-

১৯০১-১৯০২ সালে নিউ ইয়র্কে টেসলা বিশাল আকারের একটি ওয়ারলেস ট্রান্সমিশন স্টেশন তৈরি করেন।যদিও কেউ মনে করেন, টেসলা এটার মাধ্যমে wireless communication এর কোনো ব্যবস্থা করবেন।

যাইহোক, তার উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। টেসলা চেয়েছিলেন তার থিওরি ব্যবহার করে পৃথীবির মাধ্যমে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে তথ্য, ফোনালাপ, অবিকল ছবি প্রেরণ করবেন। যদি প্রজেক্টটি কাজ করত, তাহলে যেকোনো কেউ খুব সহজেই কোনো রড মাটিতে পুতে এর থেকে free electricity নিতে পারত।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এটা লাভজনক হত না। আর এটি বিশ্বের এলিট শ্রেণীর লোকদের জন্য অবিশ্বাস্যভাবে বিপদজনক হত। কারণ এটি energy industry তে অনেক পরিবর্তন আনত।

চিন্তা করুন, দুনিয়াটা কেমন হত যদি কোনো কিছু চালনা করার জন্য কোনো ফুয়েল বা তেল-কয়েলের কোনো দরকার না হত!!

অবশেষে ১৯০৬ সালে এটাকে প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং কখনও এর দিকে মন দেয়া হয় না।

 

৩।The Flying Saucer-

১৯১১ সালে টেসলা নিউ ইয়র্ককে বলেছিলেন তিনি একটি anti gravity “flying machine” নিয়ে কাজ করতেছেন।

তিনি বলেন, তার উড়ন্ত এই মেশিনের কোনো পাখা বা প্রপেলার থাকবে না। কেউ এটাকে মাটিতে দেখবে এবং কখনও ভাববে না যে এটা একটা flying machine (উড়ন্ত যন্ত্র / যানবাহন)। এটা এমনকি বাতাসের মধ্যে যেকোনো ডিরেকশনে ইচ্ছামত নিরাপদে নড়া-চড়া করতে পারবে। অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যেতে পারবে। এটার উত্তরণে কোনো প্রকার সাধারণ ক্ষমতার উপর নির্ভর করবে না যেভাবে পাখি ডানার মাধ্যমে করে থাকে। কিন্তু এটা মেকানিক্যাল এ্যাকশন এর উপরই নির্ভর করবে।

টেসলার এই flying machineও free energy পদ্ধতি ব্যবহার করবে। যেখানে অন্যান্য motor-car industry-গুলো জালানির উপর নির্ভর্শীল।

 

*এক মুহূর্তের জন্য চিন্তা করুন, তার এই আবিষ্কারগুলো যদি আজও সত্যিই থাকতো তাহলে আমাদের জীবনযাত্রারর মান কোথায় থাকত!?

-বিজ্ঞানীরা তো আজ পর্যন্ত গবেষণা করে যাচ্ছেন কিভাবে কোনো বস্তুকে শুন্যে ভাসিয়ে রাখা যায় ‘এলিয়েনের’ মত।কিন্তু তারা এখনও সম্পূর্ণরূপে সফল হতে পারেন নি, যা কিনা নিকোলা টেসলা প্রায় ১০০ বছর আগেই আবিষ্কার করেছিল।

 

ক্রায়োনিক্স বা মৃতদেহকে জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা।

Now Reading
ক্রায়োনিক্স বা মৃতদেহকে জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা।

সায়েন্স ফিকশন বা হরর মুভি, যেখানে আমরা প্রায়ই দেখি কোনো পাগলাটে বিজ্ঞানীর ল্যাবরেটরি থেকে কিংবা কোনো স্পেসশিপের ঢাকনা খুলে বরফাচ্ছাদিত শীতল কক্ষ থেকে এক দল মানুষ বা এ্যলিয়েন বের হয়ে আসছে যারা কিনা মৃতের মত ঘুমিয়ে ছিল শত শত বছর। আট-দশটা সাধারণ মানুষের মত তাদের চলা-ফেরা, বিশেষ কোনো মিশন নিয়ে শত বছর পরের পৃথিবীতে জেগে উঠেছে তারা। আমরা এসব দেখে শিহরিত রোমাঞ্চিত হই। কিন্তু পাঠক কখনো কি ভেবে দেখেছেন বাস্তবে এটি সম্ভব কিনা? সম্ভব হবে আপনার আমার প্রিয়জনকে এভাবে মৃত্যুঘুম থেকে জাগিয়ে তোলা? সবাই একবাক্যে না বললেও বিজ্ঞান আমাদের কথা মানতে নারাজ। আজকের বিজ্ঞানের দ্বারা সম্ভব না হলেও অনেক বিজ্ঞানীই কিন্তু মনে করেন একশো বছর, দুইশ বছর কিংবা তিনশো বছর পরের বিজ্ঞান হয়ত পারবে মৃতদেহকে জীবনে ফিরিয়ে আনতে আর এভাবেই ক্রায়োনিক্স প্রযুক্তির উদ্ভব।

ক্রায়োনিক্সকে সরাসরি প্রযুক্তি বললে ভুল হবে এটি হচ্ছে মূলত বিজ্ঞান এবং বিশ্বাসের মিশেল। আমরা যেভাবে খাদ্য ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করি ঠিক সেভাবেই এক বিশেষ উপায়ে রাসায়নিক প্রয়োগে মৃতদেহকে রাখা হয় অত্যন্ত শীতল অবস্থায় যাতে করে মানুষের দেহের কোষগুলো নষ্ট না হয়। কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গর যেন বিন্দু মাত্র ক্ষতি না হয়, ঠিক যেন একজন সাধারণ মানুষ ঘুমিয়ে আছে। তবে এটি সাধারণভাবে বরফ  দিয়ে ঠাণ্ডা করার মত নয় কারণ এভাবে দেহের কোষগুলো ঠাণ্ডায় জমে ফেটে যেতে পারে আর তাই ক্রায়োনিক্স বিশারদরা এতে প্রয়োগ করে ক্রায়োপ্রোটেকটেনট নামক এক বিশেষ রাসায়নিক, যা দিয়ে মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মৃতদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে শুরু করে রক্তনালির ভেতরের উপাদানকেও সংরক্ষণ করা সম্ভব। এমনকি বিজ্ঞানীরা এও দাবী করেন এতে নাকি মস্তিষ্কের প্রতিটি স্মৃতি পর্যন্ত অক্ষত থাকে। এভাবেই ভবিষ্যতে জাগিয়ে তোলার আশা নিয়ে সংরক্ষণ করা হয় মৃতদেহ আর এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ক্রায়োনিক্স।

8f1.jpeg

ক্রায়োনিক্সের শুরুটা কারো একার হাত ধরে হয়নি। বিভিন্ন সময়ে মৃত্যু নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্কের জের ধরেই এর আবির্ভাব। শুধু মাত্র হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হলেই মানুষ মারা যাবে কেউ কেউ এটা মেনে নিতে চাননি। কেননা ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা আছে,  অনেকক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র কিছুক্ষণ বন্ধ থাকার পরেও মানুষ বেঁচে ফিরে এসেছে। এই ক্ষেত্রে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যের সান্ডারল্যান্ডের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী দুই মেয়ের বাবা ডেভিড বিঙ্কসের কথা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। এপ্রিল মাসের এক সকালে ডেভিডের গোঙানিতে পত্নী লিনেটের ঘুম ভেঙ্গে যায়। পাশেই স্বামীকে দম নেয়ার জন্য হাঁসফাঁস করতে দেখে বুঝতে দেরি হয়নি যে তার স্বামীর হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে। তিনি তৎক্ষণাৎ এমবুলেন্স ফোন করেন। সাহায্যের জন্য অপেক্ষা না করে তিনি মুখে মুখ লাগিয়ে এবং বুকে চাপ দিয়ে স্বামীর শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখার চেষ্টা করেন। মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় এমবুলেন্স পৌঁছে যায়। হাসপাতালে ডাক্তারদের অবিরত চেষ্টা এবং ১৬ বার শক দেয়ার পর প্রায় ৭০ মিনিট পরে ডেভিডের হৃদযন্ত্র পুনঃরায় সচল হয়। এই ৭০ মিনিট তিনি কিন্তু অফিসিয়ালি মৃতই ছিলেন, তার কোনো পালস ছিল না। এরপর ডেভিড এক সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং কিছুটা সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে যান। ডেভিড বলেন, আগেরদিন তিনি আর দশটা সাধারণ মানুষের মতই  ঘুমাতে যান কিন্তু পরের দিন যখন জ্ঞান ফিরে আসে নিজেকে আবিষ্কার করেন হাসপাতালের বিছানায়, এর মাঝে কি হয়েছে তার কিছুই মনে নেই। এমন আরও অনেক ঘটনার কথা জানা যায়  হৃদযন্ত্র বন্ধ থেকে পুনঃরায় চালু হওয়ার। তাই সত্যিকার অর্থে ঠিক কখন মৃত্যু ঘটে তাই নিয়ে রয়ে গেছে বিতর্ক। আর এই ফাঁকেই উঠে এসেছে ক্রায়োনিক্স। ক্রায়োনিক্স বিজ্ঞানীদের দাবী এর মাধ্যমে নাকি আসল মৃত্যুর কয়েকমিনিট আগেই দেহের সবকিছু আটকে দেয়া সম্ভব এমনকি মৃত্যুকেও (!)

পাঠক আপনাদের কাছে যত উদ্ভটই হোক না কেন। এই ধারণা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সহ ইউরোপের অনেক দেশেই গড়ে উঠেছে ক্রায়োনিক্স ইন্সটিটিউট। আর এদের সদস্যসংখ্যা কিন্তু নেহাত কম নয়। অনেক বিত্তবান, তারকা, বিজ্ঞানীরা হচ্ছে এর সদস্য যারা নিজেদের দেহকে এভাবে ঠাণ্ডা মমি করার জন্য দিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতে মৃত্যু থেকে জেগে উঠার আশায়। যেভাবে প্রাচীন মিশরে মমি করা হত পুনঃজন্মের আশায়। একুশ শতকে এসে শুধু এর ধরণ বদলেছে। তবে এই ক্রায়োনিক্স সাধারণ মানুষের জন্য নয়, সদস্যকে অত্যন্ত ধনী হতে হবে এর জন্য। সম্পূর্ণ শরীর সংরক্ষণের প্রাথমিক খরচ ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ ডলার পর্যন্ত। প্রতি বছর গুনতে হবে আলাদা করে বার্ষিক সংরক্ষণ ফি। এর জন্য মৃত্যুর পূর্বে ব্যাংকে রেখে যেতে হবে বিশাল অংকের টাকা।

ক্রায়োনিক্স নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মুভি, টিভি সিরিয়াল এবং উপন্যাস। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আর্থার সি ক্লার্কের ‘৩০০১: দা ফাইনাল অডিসি’, জ্যাক লন্ডনের ‘অ্যা থাউজেন্ড ডেথস’, এইচপি লাভারক্রাফটের ‘কুল এয়ার’, এডগার রাইস ব্যরোজের ‘দা রিসারেকসন অব জিম্বার জ’। এছাড়া উল্লেখযোগ্য মুভি হচ্ছে পরিচালক ডব্লিউ ডি রিখটারের ‘লেট ফর ডিনার’, ফরেভার ইয়ং। আরও আছে উল্লেখযোগ্য টিভি সিরিজ ‘কোল্ড ল্যাজারুশ’, ‘ড. হু’, ‘গোথাম’ যেখানে দেখানো হয়েছে ক্রায়োনিক্স।

শুনতে যত উদ্ভটই হোক, এতসব ঝক্কি-ঝামেলা, খরচের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে যদি কোনোভাবে আরেকটিবার এই পৃথিবীতে ফিরে আশা যায়। পৃথিবীর খোলা হাওয়াতে আরেকটিবার শ্বাস নেয়ার জন্য বিত্তবানরা সব দিয়ে দিচ্ছে আর বিজ্ঞানীরা প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে। আসলেই কি সম্ভব হবে আবার কোনদিন ফিরে আশা ???

Page Sidebar