বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ইচ্ছুকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা

Now Reading
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ইচ্ছুকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ইচ্ছুকদের জন্য কিছু কথা:
আমি মো: শাহাদাত হোসেন। আমি বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগে অধ্যয়নরত আছি। আমার এই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আসার পূর্বে আমাকে একটি ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আসতে হয়েছে। আর এর জন্য ভর্তি কোচিং করতে হয়েছে। পড়াশোনা আসলে নিজের কাছে। কোচিং শুধু গাইড লাইন মাত্র। আর এই কোচিং এর সময়টা খুব মুল্যবান। তাই এই মুল্যবান সময়ের কিছুদিক আপনাদের কাছে তুলে ধরছি যা আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে আমি লিখলাম:
১. কোচিং এর এই সময়টা যেহেতু কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় থাকে না তাই এসময় কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। কোচিং এর ক্লাস না করলে বাসায় নালিশও যায় না। তাই অনেকে এ সময় ধুমায়ে আড্ডা দেয়। সবার মাঝে একবার হলেও বড় হয়ে গেছি এই কথাটা উকি দেয়। এই বড় বড় ভাবটা একদমই পরিহার করে চলতে হবে। ভাই আপনারা এই সুযোগ নিতে গেলেই কিন্তু ছিটকে যাবেন।
২. অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হবেন না। কোচিং এর কয়েকটা পরীক্ষায় ভাল করেই ভেবে বসবেন না যে বুয়েট, মেডিকেল আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিত। যারা কোচিং এ ভাল করে তাদের একটা বৃহৎ অংশ কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় খারাপ করে। অনেকে আবার এইচ,এস,সি তে গোল্ডেন + পেয়ে ধরে নেয় যে আমাকে আর ঠেকায় কে। তাই প্রতিবার এদের মধ্যে কেও কেও পরীক্ষায় খারাপ করে,এমনকি চান্স পায় না। তাই বলি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হবেন না।
৩. চান্স কি পাব? আমাকে দিয়ে কি হবে? এই ধরনের চিন্তা ঝেরে ফেলে দিন। নিজেকে যোগ্য ভেবে লেগে যান। কোচিং এর কয়েকটা পরীক্ষাতে খারাপ করে ভেবে বসবেন না যে আপনাকে দিয়ে হবে না। কোচিং এর কিছু অপ্রয়োজনীয় কঠিন প্রশ্নের উত্তর না পেরে হতাশ হবেন না। বরং আমি চান্স পাবই এই ভেবে নেমে পড়ুন।
৪. এক হাতে সব শোল ধরতে যাবেন না। ধরেন আপনি মনে করলেন যে আমি একাই বুয়েট, মেডিকেল আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাটিয়ে দেবেন আর এমন ভেবে ৩-৪টা কোচিং এ ভর্তি হলেন আর ৫-৬ জন টিউটর রেখে পড়লেন। তাহলে আপনার ক্ষতি ছাড়া ভাল হবে না। এসব না করে প্রথমে আপনার লক্ষ্য ঠিক করে তারপর মাঠে নেমে যান।
৫. ভর্তি পরিক্ষার সময় সব পারি এমন ভাব দেখাবেন না আর চান্স পাওয়ার জন্য আপনাকে সব উত্তর করতে হবে এমনও না। যদি কেউ সব উত্তর করে তাহলে করুকনা,আপনাকে যে প্রথম হতে হবে এমন কোনো কথা নাই। তাই মাথা ঠিক রেখে আপনি ঠিক যতটুকু পারেন ততটুকু উত্তর করেন, না পারা প্রশ্ন নিয়ে মাথা ঘামিয়ে সময় নষ্ট না করে যা পারেন তা আগে উত্তর করুন। তারপর যদি সময় থাকে তাহলে না পারা প্রশ্নের জন্য যত ইচ্ছে মাথা খাটান।
৬. কোচিং এর সময় মোবাইল এবং কম্পিউটার এর ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন। পরিচিত বন্ধু বা বান্ধবি থেকে নিজেকে একটু কৌশলে দূরে সরিয়ে আনুন।কারন আপনি যদি এই কাজটা মাত্র ৫ মাসের জন্য করতে পারেন তাহলে আপনার পড়ালেখায় মনোনিবেশ করতে সুবিধা হবে। মনে রাখবেন আপনি চান্স না পেলে আপনার সব বন্ধু কিন্তু পাশে এসে দাঁড়াবে না।
৭. অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে দুই একটা জায়গায় পরীক্ষা দেবেন না। কয়েকটা জায়গায় পরীক্ষা দেবেন যাতে কোনো রিস্ক না থাকে। এমনকি দুর্ভাগ্যবশত আপনি ধরেন অসুস্থতার জন্য একটা পরীক্ষা মিস করলেন। তখন কি হবে?
৮. নিজে যা পারেন তা নিয়ে চিন্তা করুন। আর চিন্তা করবেন যে ৪০০০০-৫০০০০ জনের সাথে আপনাকে প্রতিযোগিতা করতে হবে। আর সেরাদের সেরা হতে হবে।
৯. নিজের যদি ব্যক্তিগত কোন দুঃখ-কষ্ট থাকে তাহলে তা অবলীলায় নিজের আপনজনদের সাথে শেয়ার করুন। এসময়ে নিজের ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্ট থেকে নিজেকে যত দূরে রাখতে পারেন ততই ভাল।
১০. হয়ত আপনাকে পড়ালেখায় মনযোগী দেখে আপনার প্রিয় অনেক বন্ধুই হাসি ঠাট্টা মশকরা করবে। এতে রেগে গেলে চলবে না। মনে রাখবেন, “রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন”। তাই আপনি আপনার মতো পড়ালেখা চালিয়ে যাবেন। পরবর্তীতে দেখবেন আপনি যদি বুয়েট, মেডিকেল বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পান তবে তারাই এসে আপনার সফলতার গুন গাইবে এবং বন্ধুমহলে আপনাকে তার প্রিয় বন্ধু বলে পরিচয় দিতে চাইবে। আর দেখবেন প্রায়শই আপনার সাথে যোগাযোগ করতে চাইবে।
১১. সুযোগ হলে পত্রিকা পরবেন। ২ঘন্টা ফেসবুকে সময় দেওয়ার চেয়ে ১০মিনিট পত্রিকায় সময় দিলেও আপনি বেশি উপকার পাবেন।
আর সর্বদা ভাববেন যে আপনাকে বড় হতে হবে সমাজের নিকট, পরিবারের নিকট, বন্ধুদের নিকট। আর সপ্ন দেখবেন জীবনে এমন কিছু করার যাতে বাচ্চার ভবিষ্যতে আপনাকে আইডল মনে করে। মনে রাখবেন, “আপনার জীবনের কারিগর আপনি নিজেই”। সর্বদা বিশ্ববিদ্যালয় এর কথা ভাববেন। সুযোগ হলে আপনার স্বপ্নের ক্যাম্পাসে গিয়ে ঘুরে আসবেন। সেখানের ভাইয়া বা আপুদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করবেন তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ। অনেক স্বপ্ন দেখবেন আর মনে রাখবেন, “স্বপ্ন সেটা নয় যেটা আপনি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখেন, স্বপ্ন হল সেটা যেটা আপনাকে ঘুমোতে দেয় না” (এ.পি.জে. আবুল কালাম আজাদ)
পরিশেষে বলতে চাই, আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যাত্রা সফল হোক। শুভকামনা রইল। আর আমার বারিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আপনাদের নিমন্ত্রণ রইল। ধন্যবাদ
received_1847842518766047.jpeg