3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

বিশ্বাস করো

Now Reading
বিশ্বাস করো

” বিশ্বাস করো, তোমায় নিয়ে এখন আমি রীতিমতো চমকে আছি। কিছুক্ষন আগে এক অদ্ভুত ব্যাপার আবিষ্কার করেছি।কোন গাছের গুড়িতে, বাসের ভাঙ্গাচোরা সিটে, পোড়াবাড়ির পেছনের দেয়ালে, ছাদের ছোট কার্নিশে কিংবা চিকা মারা নিষেধ বিবিধ যুক্ত দেয়ালে যেভাবে তুমি এবং আমির নাম লেখা থাকে পাশাপাশি, খুব ভালোবাসা নিয়ে। সেভাবে আমার হৃদয়েও তোমার নাম লেখা আছে । কিন্তু অদ্ভুত অদ্ভুস্যতায় তোমার নামের পাশের অপর আমিটা এই আমি নই। অন্য কোন তৃতীয় সত্ত্বা!
বিশ্বাস করো, আমার খুব চিন্তা হচ্ছে! ”

আনির্বানের লাগাম ছাড়া অদ্ভুত কথায় অমিত্রা হেসে হেসে লুটিপুটি খাচ্ছে। আমিত্রার এই হাসি অনির্বানের কাছে এখন নিরর্থক মনে হচ্ছে। পুরোপুরি নিরর্থক! প্রেমিকার হাসি প্রেমিকের কাছে সব সময় মধুর হয় না। মাঝে মাঝে নিরস প্রেমিক, প্রেমিকার সরস হাসিতে বিরস হয়। তবু প্রেমিক সত্ত্বা চুপ থাকে। তার প্রেমিকাকে বুঝতেও দিতে চায় না, তার হাসি এখন শহরের লোকাল বাসের হর্নের মতো লাগছে। তবু, অনির্বানের নিশ্চুপতা অমিত্রার চোখ এড়ায়নি। আমিত্রা হাসি থামিয়ে খুব একটা কঠিন বৃদ্ধ মেজাজে বললো,

” অনির্বান শোন, অবুঝ কিশোরের প্রগলভতা তোমার মুখে মানায় না। তুমি এখনো সেই কিশোর মতো ভাবো। বড়দের মতো ভাবতে শেখো, নইলে এই কারনেই তোমাকে আমি ত্যাজ্য প্রেমিক বানাতে পারি। আমি জানি, নিশ্চই তুমি আমার ক্ষমতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল! ”

কথিত হয় প্রেমিকার মুখ এক পাশে এবং জাগতিক রহস্য অন্য পাশে। অনির্বান এই কথার সাথে এখন চোখ বন্ধ করে একমত। কারনটাও বেশ অদ্ভুত । কারন অনির্বান মনে মনে অমিত্রাকে এমনটাই অবুঝ কিশোরি ভাবে। যেমনটা অমিত্রা অনির্বানকে কিছুক্ষন আগে বলেছে । অনির্বান মনে মনে যা ভাবে অমিত্রা তাই বলে দেয় । অদ্ভুত কিংবা অদ্ভুস্যময়! আনির্বান অমিত্রার দিকে তখন নির্বাক শ্রোতার মতো তাকিয়ে থাকে!

কিছুক্ষন আগে প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হয়েছে, মুষলধারায় বৃষ্টি । অমিত্রা সেই বৃষ্টিতে একা একা ভিজছে । অনির্বান ভিজতে পারছে না, এ তার শাস্তি । অমিত্রা বলেছে সে কোন কিশোরের সাথে ভিজতে চায় না ।অর্নিবান করুন করুনধারার অপূর্বময় বৃষ্টিতে অমিত্রায় পাগলামি দেখছে । অমিত্রা পাগলের মতো ভিজছে, লাফাচ্ছে , মাঝে মাঝে চুপ চাপ চোখ বন্ধ করে ঠায় দাঁড়িয়ে অনূভব করছে বৃষ্টির প্রতিটি ফোটা। অনির্বান অমিত্রার দিকে মায়াময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে ; মুচকি হাসিতে মনে মনে বলছে,

“অদ্ভুস্য তুমি এক অবুঝ কিশোরী ,
আমি দৃশ্য সত্য অবুঝ বালক ;
যখন তোমায় না বোঝাটাই আমার এক দৃশ্য অপরাধ। “….

অনলাইনে পরিচয়, অতঃপর….

Now Reading
অনলাইনে পরিচয়, অতঃপর….

“Looking through the window

This is not the main door.

It is easy to say, but hard to obey.

What do u think?

Please think before u ink.”

একটা সময় ছিলো যখন এভাবে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটানো হতো।এক সময় চিঠি চালাচালির জায়গা নিলো ইমেইল আর মোবাইল ফোন। দিনভর মোবাইল অপারেটরদের কে কত বেশি সেবা প্রদান করতে পারে সেই প্রতিযোগীতার পুরো সুবিধা ভোগ করতো শহর গ্রামের সব প্রেমিক প্রেমিকারা। কেউ এস এম এসের মাধ্যমে তো কেউ রাতভর ফোনালাপের মাধ্যমে। সকালে যার যার ক্লাসে উপস্থিতির হার কমছে, রেজাল্ট খারাপ করছে, তাতে কি। গুনগুন করে গাইছে গান…. “এখন তো সময়,ভালোবাসার!” যুগ আরো ডিজিটাল হচ্ছে।সাথে ডিজিটালাইজড হচ্ছে ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যমও। এখন আর কেউ শুধু ফোনে কন্ঠ শুনেই সন্তুষ্ট নয়। কি করবে বেচারা রা। আমাদের স্যাটেলাইট বিনোদন যে শিখিয়েছে “ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর!” তাইতো এবার লাইভ দেখা চাই।

আজকাল ফেসবুকের টাইমলাইনে অনলাইন সম্পর্ক নিয়ে অনেক ঘটনা দূর্ঘটনা চোখে পড়ছে।“প্রেম” / “ভালোবাসা” শব্দগুলো আজকাল কেমন হালকা আর সস্তা গোছের কিছু হয়ে গেছে। ফেসবুকের ভালোবাসার সুত্র ধরে ভালোবাসার মানুষটাকে ঠিকঠাক না চিনেই, না বুঝেই ম্যাসেন্জারে বা ভিডিও চ্যাটে  নিজেদের সম্পুর্ন ব্যাক্তিগত ভাবে উপস্থাপন। পরবর্তীতে কোন কারনে সেই সম্পর্ক না টিকলে অমনি সেই দুর্বল মূহুর্তে করা ব্যাক্তিগত ভিডিও ভাইরাল করে প্রতিশোধ নেয়া! তারই জের ধরে কোন এক পক্ষের আত্মহত্যা করার মতো ঘটনা এখন অহরহই ঘটছে।

হারিয়ে গেছে সেই সুন্দর ভালেবাসার সম্পর্কগুলো, যেখানে ডেটিং বলতে ছিলো হেলভেশিয়া বা  KFC কিংবা বইমেলার বটতলা বা টিএসসি’র ক্যান্টিন। এখন সব বদলে গেছে, জায়গা করে নিয়েছে অসংখ্য লিটনের ফ্লাট। মানুষের মনমানসিকতা ভয়ঙ্করভাবে বদলাচ্ছে, রুচির বদল হচ্ছে। কার কজন বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড সেটাতেও যেন অসুস্থ এক প্রতিযোগীতায় নেমেছে আজকের প্রজন্ম। ভালোবাসার প্রপোজ করার ব্যাপারটাও ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয় সস্তাদরের জনপ্রিয়তা লাভের আশায়। সবচে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে এই আধুনিক  প্রেমিক প্রেমিকাদের দলটার বয়সের সীমা ১৮ ও পার হয়নি। স্কুল কলেজের এসব মাত্র দুনিয়া চিনতে শুরু করা কিশোর কিশোরীরা যে বিপথে যাবেনা  এতো বলাইবাহুল্য। ওদের বোঝাতে গেলে অনেক বাবা মা রাই সন্তানের চোখের শুল হচ্ছেন। ঐশীর বাবা মা’র করুণ পরিনতি চোখের সামনে ভেসে উঠে।

অনলাইন প্রেমের সফল পরিনতি যে একেবারেই নেই তা নয়। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি এমন অনেক জুটিকে চিনি যারা অনলাইনের বিভিন্ন চ্যাট সাইট থেকে পরিচিত হয়ে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বিয়ের মতো সামাজিক স্বীকৃতি পেয়েছে। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সুখে শান্তিতে দিন কাটাচ্ছে। তাই শুধুমাত্র অনলাইন সম্পর্ক গুলোর সবগুলোই যে খারাপ পরিণতির স্বীকার হয়,সেটা ভুল। সম্পর্ক যেই মাধ্যমেই হোকনা কেনো মানুষটাকে যাচাই বাছাই করে তারপর সম্পর্কের গভীরতা বাড়ানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যেই সম্পর্ক গুলো সামান্য পাসওয়ার্ড দেয়ানেয়াকে বিশ্বাসের মাধ্যম মনে করে,লাইভ  বা ব্যক্তিগত ভিডিও করাটাকে সম্পর্কের গভীরতার ভিত্তি মনে করে সেই সম্পর্কগুলো থেকে বেরিয়ে আসাই উচিত হবে।

মনের সাথে মনের সম্পর্ক থাকলে তবেই সেই সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া ভালো। নয়তো সারা জীবনভর পস্তানো লাগবে। আরেকটা ব্যাপার লক্ষনীয় যে ভালোবাসার মানুষটি যদি সমবয়সী হয়,তখন সেই ভালোবাসার মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধের অভাব দেখা যায়,যেখান থেকেও অনেক সম্পর্কে কোন নাম নেয়ার আগেই ফাটল ধরে।প্রতিশোধপরায়ন হয়ে কোন পক্ষ বেছে নেয় খুনাখুনি, এসিড মারা বা আরো কোন রোমহর্ষক কাজ। ভালোবাসাবাসি নিয়ে যেসব কবিতা,গল্প,উপন্যাস  তা আজকালকার ভালোবাসাবাসির স্টাইলের সাথে যায় না যেন। ভালোবাসা হয়ে গেছে যেন আর্থিক স্ট্যাটাস আর ফ্যাশন নির্ভর। কার কতো স্টাইলিশ গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড আছে সেটার শো অফ চলে যেন। সম্পর্কের স্থায়ীত্বের চেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে যেন সম্পর্কের জাহির করা ব্যাপারটা। জিনিষ পুরোনো হলে আমরা যেমন বদলে ফেলি, তেমনি যেন পুরোনো হয়ে যাওয়া সম্পর্ক কেও ঝেড়ে ফেলে দিতে দ্বিধা করেনা আজকালকার এসব হালফ্যাশনের সম্পর্কধারীরা। একটা গেলো তো কি হলো,আরেকটা আসবে- এমন নীতি তে চলছে যেন। তারপর কোন পক্ষ যদি সম্মত না হয় তখন ধর্ষণ, খুন,গুম তো আছেই। যেই সময়ের ভালোবাসাবাসির মিষ্টি সেই চিঠি চালাচালির কথা বলছিলাম শুরুতে, তখনো যে জোর জবরদস্তির ব্যাপারটা ছিলোনা, তা কিন্তু না। তবে তখনকার প্রতিশোধপরায়ণতার স্টাইল ছিলো এসিড মারা পর্যন্ত। ধর্ষণ তখন এতো ব্যাপকহারে বাড়েনি। এখন তো মনে হয় যেন, সেই ভালো ছিলো! এসিড মারার তো একটা চিকিৎসা আছে, ধর্ষণের শিকার হওয়া মানুষটার মনের তো চিকিৎসা নেই। সহজ সরল বিশ্বাাসের কি করুণ পরিণতি!

একটু সচেতন হলেই কিন্তু এসব পরিস্থিতি এড়ানো যায়। একটু মনকে শক্ত রাখতে পারলেই হলো। সম্পর্কের গভীরতার প্রমাণ কখনোই ভিডিও চ্যাটে শরীর দেখানো হতে পারেনা। সম্পর্কে বিশ্বাসের প্রমান হতে পারেনা পাসওয়ার্ড দেয়া না দেয়া। এসব অবান্তর ব্যাপারগুলো এড়িয়ে গেলেই অনেক সম্পর্ক একটা নাম নিতে পারে। স্হায়ীত্বও বাড়তে পারে। মানুষ চিনতে মানুষটার সাথে খুব কি অন্তরঙ্গ আসলেই হওয়া লাগে? সুন্দর একটা সম্পর্ক যখন কোন নাম নেয়, একটা পরিবার গড়ে ওঠে সেই সম্পর্ককে ঘিরে, তখন সেই গল্প শুনতেও যেমন আনন্দের,বলতেও তেমনি সুখের।সেই আনন্দ বা সুখ অধরা কিছুই না; শুধু যদি একটু সচেতনতা বাড়ানো যায়। ডাস্টবিনে পলিথিন মোড়ানো সদ্যজাত বাচ্চা গুলোকে মৃত অবস্থায় পেতে আর ভালো লাগেনা। আসুন সবাই মিলে সচেতন হই।