ঢাকার মধ্যে একদিনের আনন্দ ভ্রমণ – পর্ব ২য়

Now Reading
ঢাকার মধ্যে একদিনের আনন্দ ভ্রমণ – পর্ব ২য়

মানুষের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সময় গুলো কাটে যখন সে তার পরিবার কে সময় দেয় । সময়টা তখন আরো আনন্দের হয় যখন সেই পরিবার কে নিয়ে বাহির থেকে ঘুরে আসে । ব্যস্ততার জীবনে সময় বের করা খুব কষ্টের হয়ে পড়ে । যত টুকু সময় বের করা হয় সেই সময় যদি পরিবারের সাথে কাটানো যায় তাহলে নিজে মধ্যে রিফ্রেশ একটা ভাব আসে ।

আমি আগের পর্বে ঢাকার মধ্যে কিছু জায়গা দেখিয়ে ছিলাম , যেখানে আপনি চাইলে এক দিনের মধ্যে আপনার প্রিয় মানুষ বা পরিবার কে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন । আজ আমি আপনাদের আরো কিছু জায়গা এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো । সামনে ঈদ আসছে , ইচ্ছে করলে আপনি ঘুরে আসতে পারেন এই জায়গা গুলো ।

 

সাফারি পার্ক

গাজীপুরের সাফারি পার্ক – ঢাকার অদূরে অবস্থিত এই সাফারি পার্ক । ঢাকা থেকে যেতে আপনার সময় লাগবে মাত্র ১ ঘণ্টা । ঢাকা থেকে ৪০ কিলো মিটার দূরে অবস্থিত । বাংলাদেশের অন্যতম বিশাল সাফারি পার্ক হচ্ছে এটি । মোট ১২২৫ একর জমির উপর তৈরি করা হয়েছে এই পার্কটি । আন্তর্জাতিক মানের একটি পার্ক যেখানে বন্যা প্রাণীদের সংরক্ষণ করা হয়েছে । বন্যা প্রাণীরা খোলা মেলা পরিবেশ বেড়ে উঠছে । খাঁচার প্রাণী সব উন্মুক্ত করা হয়েছে । ভেতরে প্রবেশ করলে আপনি বাস পাবেন । সেখান করে ঘুরে দেখতে পারেন সম্পূর্ণ পার্কটি । বাস আপনাকে ঘুরে দেখাবে তাদের এই পার্ক । এখানে প্রবেশ মূল্য একটু অন্য রকম । মানে বড়দের জন্য প্রবেশ ফি ৫০ টাকা আর ছোট দের জন্য ২০ টাকা । আর আপনি যদি বাসে করে ঘুরতে চান তাহলে আপনাকে গুনতে হবে ১০০ টাকা । আপনি যদি ক্রাউন এভিয়ারি ঘুরতে চেনা তাহলে আপনাকে গুনতে হবে ১০ টাকা মানে আপনি যেকোনো এভিয়ারি প্রবেশ করলে আপনাকে ১০ টাকা করে দিতে হবে । আপনি শ্রীপুর গামী যেকোনো বাসে উঠে যেতে পারেন । বাস আপনাকে নামিয়ে দিবে বাঘের বাজারে । সেখান আপনি অটো পাবেন ।অটো কে বললেই হবে তারা আপনাকে পার্কে নামিয়ে দিবে । অটো তে করে যেতে সময় লাগবে ২০ মিনিট ।

নুহাস পল্লী

 

গাজীপুরের নুহাশ পল্লী – বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ এর নুহাশ পল্লীর নাম শুনেন নাই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল ।সামনে ঈদ আসছে । আপনি ইচ্ছা করলে আপনার পরিবার কে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন নুহাশ পল্লী থেকে । ঢাকা থেকে আপনাকে প্রথমে গাজীপুর যেতে হবে । ভালো হবে আপনি যদি গুলিস্তান থেকেই রওনা দেন । তা ছাড়া আপনি অন্য যে কোনো জায়গা থেকে যেতে পারেন । আপনি যেখান থেকে যান না কেন আপনাকে নামতে হবে গাজীপুরের পাড়াবাজারে । ড্রাইভার কে বললে ড্রাইভার আপনাকে নামিয়ে দিবে । সেখান থেকে আপনি সি এন জি বা অটো তে করে চলে আসুন নুহাশ পল্লী । আপনাকে প্রবেশ মূল্য পরিশোধ করে ভেতরে ঢুকতে হবে । প্রবেশ মূল্য ধরে হয়েছে ২০০ টাকা । ভেতরে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে সবুজে ঘেরা পরিবেশ । সেই সাথে পুকুর , পিকনিক স্পোর্ট । হরেক রকমের গাছ আপনি দেখতে পাবেন । তাছাড়া আপনি আরো দেখবেন গাছের উপরে বাসা বানানো । বৃষ্টি বিলাস নামের একটি সুন্দর বাড়ি ।

 

আহসান মঞ্জিল

আহসান মঞ্জিল – পুরান ঢাকার ইসলামপুরে ঠিক বুড়িগঙ্গা নদীর পাশে রয়েছে নবাবদের বাড়ি আহসান মঞ্জিল । নবাব আহসান এর নাম । পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী একটি জায়গা ।এই বন্ধে আপনি ঘুরে আসতে পারেন এখন থেকে । আহসান মঞ্জিল যেতে হলে আপনাকে আসতে হবে সদরঘাট । সদরঘাট বা ভিক্টোরিয়া পার্ক গামী যেকোনো বাসে উঠলে আপনাকে নামিয়ে দিবে কোর্টকাছারি । সেখান থেকে আপনি ইচ্ছা করলে হেঁটে যেতে পারবেন অথবা ইচ্ছা করলে আপনি রিকশা করতে যেতে পাবেন । আহসান মঞ্জিল প্রবেশ করতে হলে আপনাকে টিকিট কিনতে হবে । টিকিট এর মূল্য ২০ টাকা । আর অপ্রাপ্তদের জন্য প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা । প্রবেশের মুখে আপনাকে জমা দিতে হবে আপনার ব্যাগ । আপনি ভেতরে কোনো ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারবেন না । ভেতরে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে নবাব দের ব্যবহার করা বিভিন্ন জিনিস পত্র । বিশেষ করে আপনাকে অবাক করবে বিশাল হাতির মাথা । অনেক বছর আগের এই হাতির মাথা কে সংরক্ষণ করে রেখেছে তারা । তা ছাড়া আপনি দেখতে পাবেন তাদের খাবার রুম সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ।

 

লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা – পুরান ঢাকার আরেকটি ঐতিহ্যবাহী জায়গা হলো লালবাগ কেল্লা । মোগল আমলের তৈরি একটি দুর্গ । পরীবিবির মাজার এখানে অবস্থিত । আপনাকে প্রথম আসতে হবে গুলিস্তানে । সেখান থেকে আপনি রিকশা অথবা লেগুনা যোগে চলে যেতে পারেন পুরান ঢাকার লালবাগে । কেল্লার নাম অনুসারে রাখা হয় এই জায়গার নাম । আপনি ভেতরে বাগান ও বিশাল বড় একটি দীঘি দেখতে পাবেন । বর্তমানে সেখানে পানি নেই । এই দীঘিকে পরীবিবির দীঘি বলা হয় । আপনি ভেতরে একটি সুড়ঙ্গ দেখতে পাবেন । এই সুড়ঙ্গ কে নিয়ে আছে অনেক রকমের গল্প ।তাছাড়া ভেতরে জাদুঘর ও আছে । সকাল ১০ টা থেকে খোলা থাকে । প্রবেশ মূল্য বড় দের জন্য ২০ টাকা আর ছোটদের জন্য ১০ টাকা । সাপ্তাহিক বন্ধ রবিবার ।

চলবে

ঘুরে আসুন লালবাগ কেল্লা

Now Reading
ঘুরে আসুন লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা । ঢাকার এক ঐতিহাসিক স্থান । ঢাকাকে যদি আপনি কারো কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে চান তাহলে কিছু স্থানের নাম বললেই হয়ে যায় । আর সেই সব কিছু স্তনের মধ্যে লালবাগ কেল্লা অন্যতম । ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে প্রায় ১৭ শ শতকে জায়গা নিয়ে নির্মিত মুগল দুর্গ ।

পরিচিতি

১৬৭৮ সালে সুবাদার মুহাম্মদ আজম শাহ সর্ব প্রথম এই দুর্গ নির্মাণ করেন । মাত্র ১৫ মাস তিনি ঢাকায় ছিলেন । পরে তাকে দিল্লিতে পাঠানো হয় । তখন দুর্গের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি । পরবর্তীতে ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদ রাজধানী স্থানান্তর করার ফলে এর কাজ কার আর সামনে বাড়েনি । আস্তে আস্তে এটি একটি পরিতেক্ত দুর্গতে পরিনিত হয় । ১৮৪৪ সালে আওরঙ্গবাদ নাম পরিবর্তন করে লালবাগ রাখা হয় । এখানে দুর্গ বা কেল্লা থাকার কারণে পরবর্তীতে এর নাম করা হয় লালবাগ কেল্লা ।

 

লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা

কি আছে এর ভিতরে ?

প্রথমে আপনাকে নাম মাত্র মূল্যে ভিতরে প্রবেশ করতে হবে । আপনি ভিতরে ঢুকলে দেখতে পাবেন কিছু ছোট ছোট অট্টলিকার মতো করে রাখা নবাবদের দুর্গ । শাহ আজমের সাথে শায়েস্তা খাঁ এর মেয়ে পরী বিবির বিয়ে হয় । পরবর্তী কালে পরী বিবি মারা যান । তখন শায়েস্তা খাঁ প্রায় নিজের মেয়ে কে দেখতে পেতেন । এমন শোনা যায় তার মেয়ে যেখানে গোসল করতো সেখানে পানির শব্দ পাওয়া যেত । পরবর্তী কালে তিনি এর দুর্গের নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন । সেখানে আপনি শায়েস্তা খাঁ এর মেয়ে পরী বিবির মাজার দেখতে পাবেন । পরী বিবিকে মসজিদের মাঝখানে কবর দেয়া হলো । বর্তমানে আপনি সেখানে কিছু জাদুঘর দেখতে পাবেন । যেখানে নবাবদের পোশাক , তলোয়ার ও বিভিন্ন জিনিস দেখতে পাবেন । তাছাড়া একটু পশ্চিম পাশে গেলে আপনি দেখতে পাবেন বাহিরে রাখা আছে কিছু কামান ও কিছু অস্ত্র । আগের দিনে তারা শত্রু মোকাবেলা করার জন্য এই সব জিনিস ব্যবহার করতো ।

পরী বিবির মাজার

পরী বিবির মাজার

 

দুর্গের ভিতরে সবচেয়ে আলোচিত জায়গা হলো সুড়ঙ্গ পথ । এই পথ নিয়ে নানান মানুষের মুখে নানান কথা বার্তা শোনা যায় ।অনেকে বলে এই পথ দিয়ে গেলে আপনি আর কোনো দিন ফিরে আসবেন না ।তারা বলে এর ভিতরে নাকি রয়েছে কিছু আত্মা । আবার অনেকে বলে এর ভিতরে দিয়ে অনেক মানুষ গিয়েছে কিন্তু তারা আর ফিরে আসতে পারেনি ।তারা সবাই মারা গিয়েছে । আবার লোক মুখে এমন ও কথা শোনা যায় এই রাস্তা দিয়ে কুকুর কে পাঠানো হয়েছিল পরবর্তীতে আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি । অনেকে বলে এই রাস্তা মুর্শিদাবাদ গিয়ে মিলেছে । আবার অনেকে বলে এই রাস্তা বুড়িগঙ্গায় গিয়ে মিলেছে । আসলে মূলত কথা হলো এর ভিতরে আলো বাতাস পরিবেশ করতে পারেনি কখনো , তাই এর ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে গিয়েছে । কেউ যদি এই রাস্তা দিয়ে কোনো ভাবে যায় থামলে সে বিষাক্ত গ্যাস এর কবলে পরে মারা যাবে । অথবা রাস্তা হারিয়ে ফেলতে পারে । মূলত এই সুড়ঙ্গ পথ বানানো হয়েছিল নবাবদের জন্য । যাতে করে তারা সহজে পালিয়ে যেতে পারে যখন শত্রু পক্ষ আক্রমণ করবে ।

তাছাড়া এই দুর্গের ভেতরের পরিবেশ ছোট ছোট কয়েকটি বাগান আপনাকে মুগ্ধ করবে ।আর পথের ধারে দেখতে পাবেন বিশাল বড় এক পুকুর । কিন্তু পানি নেই । ধারণা করা হয় এখানে মাঝে মাঝে পরীবিবি গোসল করতো । আর আপনাকে মুগ্ধ করতে রয়েছে কিছু ঝর্ণা ।

কিভাবে যাবেন ?

যদি আপনি ঢাকার বাহিরে থাকেন তাহেল প্রথমে আপনাকে ঢাকায় আসতে হবে । কারণ এটি ঢাকায় অবস্থিত । ঢাকার প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তানে আপনাকে আসতে হবে । সেখান থেকে আপনি দেখতে পাবেন অনেক রিক্সা বা টেম্পু কেল্লা কেল্লা বলে ডাকছে আপনি উঠে পড়ুন যে কোনো একটি তে । ভাড়া নিবে ১৫ টাকা । আর যদি আপনি রিকশা করে যেতে চান তাহলে ভাড়া পর্বে ৫০ টাকার মতো

আর আপনি যদি ঢাকায় থাকেন তাহেল আপনি চলে আসুন গুলিস্থান । সেখান থেকে রিক্সা বা টেম্পু করে চলে যায় লালবাগ কেল্লায় ।

প্রবেশ মূল্য –

লালবাগ কেল্লা প্রবেশ করতে হলে আপনাকে গুনতে হবে ২০ টাকা । আর আপনি যদি বিদেশী নাগরিক হয়ে থাকেন তাহেল প্রবেশ মূল্য ১০ গুন্ বেড়ে হয়ে যাবে ২০০ টাকা । আর আপনি যদি সার্ক ভুক্ত নাগরিক হন তাহলে আসল দাম থেকে ৫ গুন্ বেড়ে হয়ে যাবে ১০০ টাকা । তাছাড়া নতুন ভাবে কেল্লার ভেতরে ওয়াইফাই জোন চালু করেছে । মানে আপনি কেল্লার ভিতরে প্রবেশ করলে চলে যাবেন ওয়াইফাই এর আন্ডারে । আপনি এই সেবা পাবেন একদম বিনামূল্যে । আর আপনি যদি স্কুল বা কলেজের ছাত্র ছাত্রী হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে তারা মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দিবে ।

কখন যাবেন ?

গরম কাল মানে গ্রীস্মকালে সকাল ১০ থেকে বিকেল ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে
আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে

রবিবার সম্পূন বন্ধ থাকে লালবাগ কেল্লা । সোমবার অর্ধদিবস খোলা থাকে ।
যেহেতু এটি একটি সরকারি দর্শনীয় স্থান তাই সরকারি ছুটির দিন বন্ধ রাখা হয় ।