বৃদ্ধা মায়ের আহাজারি

Now Reading
বৃদ্ধা মায়ের আহাজারি

মা শব্দটি সঙ্গে সকল ব্যক্তিই পরিচিত । প্রত্যেক ব্যক্তিই মায়ের গর্ভে জন্ম লাভ করিয়া থাকে । মায়ের রক্ত মাংস সেবন করিয়া জীবনধারন করিয়া থাকে । মায়ের গর্ভে তিলে তিলে বড় হয় । দশমাস দশ দিন মা একটি শিশুকে উদরে রেখে ,প্রশবযন্ত্রনা নিয়ে শিশুটিকে পৃথিবীর আলো দেখায় । হাটিহাটি পা পা করিযা বড় করিয়া তুলে ।মা একটুও মাত্র বিচলিত হয় না । কেননা , শিশুটির মুখ হইতে অমূল্য ‘মা’ ডাক শোনার জন্য । তবে কেন ‘মা’ নামের প্রায় প্রেত্যেক নারীকে ছেলের বা ছেলের বউ এর অমানুষিক অত্যাচার সহ্য করিতে হয় ? কেন দিন ভরে অনাহারে থাকিতে হয়?
যাহা বলিতে সংকোচ হইলেও বলিতে দিধা থাকে না যে ,ছেলেরা বউ ওর আচলের নীচে চাপা পড়িয়া বয়। বউ তখন তাহার সবকিছু হইয়া যায় আর মা হয়ে উঠে কাজের মানুষ । তবে কেন ? এই প্রশ্নটা আমি পৃথিবীর সকল বিবেকমান মানুষের জন্য রাখিয়া দিলাম ।

“বৃদ্ধা মায়ের আহাজারি” এই উদ্দেশ্যে লিখিলাম যে , আমার এক প্রতিবেশি বৃদ্ধা মহিলার আত্নজীবনী সম্পর্কে জানলে সকলের চোখে পানি না আসলেও ,চোখে পানি আসতে বিন্দুমাত্র বাকি থাকিবে না । দুই সন্তানের জননী নাম “আন্জুমা” । দুই ছেলের একমাত্র জননী আন্জুমা । তাহার বয়স প্রায় ৬৫-৭০ বছরের কাছাকাছি বা উদ্ধে । খুব অল্প বয়সে তাহার বাবার ঘরের ভাত পেটে সহ্য হয়নি । আমাদের সমাজে সাধারনত মেয়েদের বোঝা ভাবা হয় । কেন?সেই কারণেই বাবা আন্জুমা’র বিবাহ দিয়া দিল পাশের গ্রামে । সেখানেই তাহার সংসার জীবন শুরু । একের পর এক নিয়মিত ভাবেই দুইটি সন্তানের জননী হয়ে উঠলো । এখন বর্তমানে আন্জুমান সাত সন্তানের জননী । অবাক হবার কিছুই নাই । কেননা আন্জুমানের বিবাহ হয় এক বিবাহিতা পুরুষের সঙ্গে । যাহার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে প্রথম স্ত্রী মারা যায় ।আজ আন্জুমান বড়ই অসহায় । কারণবসত চোখের আলো হারাইয়া প্রায় অন্ধ । চোখে দেখেনা । লাঠি নিয়ে চলাফেরা করে । কখনো কখনো মাটিতে পড়ে গড়া দেয় । তাহার চোখে আলো নাই এছাড়া কি হইবে তাহার জীবনে ? বাবার ঘর হইতে স্বামীর ঘরে এসে সে কখনো সুখের মুখ দেখেনি ।আজ সে বড় অসহায় ,সাহায্য করার মত কেউ তাহাকে সাহায্য করে এগিয়ে আসেনা । বাকি রইলো তাহার জন্ম দেওয়া দুই ছেলে । পূর্বেই বলেছি ,ছেলেদের বিয়ে হয়ে গেলে বউ এর আচলের নীচে চাপা পড়ে যায় । এরাও তার ব্যতিক্রম নয় । একটি মাত্র মা , দিন একটি । দিনে খাবার সময় তিনটা ।যদি মনে করা যায় দুই ছেলের নিকটে দিনে তিনবার করে খেলে ,ছয় বার খাওয়া হয় ।কিন্তু দিনে তাহার পেটে ছয়বার তো দূরের কথা ,তিনবারও খাবার জোটেনা আন্জুমা’র পেটে । তাহাকে পালা করে খেতে হয় । পালা বলিতে ,একবার এই ছেলের কাছে একবার অন্য ছেলের কাছে । পর্যাক্রমে একমাস পর পর । পেট ভরার মত পর্যাপ্ত খাবার পায় না , পরিধানের মত পোশাক পায়না ,মাথায় দেবার মত নারিকেল তৈল পায় না । এই কি বৃদ্ধা মহিলার সাজ ? আজ আন্জুমা আর মা ডাক শেনে না । ছেলে ঠিকমতো কথা বলে না । মায়ের খোজ করে না ।মায়ের অবস্থার অবনতি দেখে জিঙ্গাসা করে না ,মা তুমি কেমন আছো ? একমাস খাবার পর বড় ছেলের নিকট হতে ছোট ছেলের নিকট অসেছে আন্জুমা । ছোট ছেলে আর্থিক দিক থেকে সচল নয় । আন্জুমা আজ না খেয়েই দিন কাটায় । দিনের প্রথম ভাগে পান্তা ভাত ,মধ্য জোগাড় হয়কি না ঠিক নাই ,দিনের শেষে হাল্কা খেয়েই রাত কাটায় । আবার সকাল হয় ,সূর্য উঠে ,অন্ধকার দূর হয় কিন্তু আন্জুমা’র জীবনের সূর্য তো উঠে না । বৃদ্ধা হলেও পূর্বের চেহেরা হারিয়েছে । হায়িয়েছে নতুন দিনের পথচলা । সন্তানেরা তার পূর্বের দিন গুলো মনে করে না । মায়ের কথা ভাবে না ।
আন্জুমা একটা কথা বলে শুরু হয় ছেলের বউ’র সঙ্গে ঝগড়া । ঘর হইতে বাহির করিয়া দেয় । খেতে না দেওয়ার ভয় দেখায় । তবে কেন? বউয়েরা কি একটুও ভাবে না যে , তাহারও মা আছে । তাহারে জীবন আছে । তাহার মায়েরও এমন অবস্থা হইতে পারে । আধুনিক যুগে এমন অবস্থার সম্মুখে প্রায় সকল বৃদ্ধা বাবা-মা’কে পড়তে দেখা যায় । আচ্ছা এই পরিনতির কি অবসান ঘটানো যায় না? বৃদ্ধাদের প্রতি একটু সহনভূতিশীল হওয়া যায় না ? মানুষ আজ আছে কাল নেই তবে কেন ,এত অহংকার ? কেন এত অমানবিক কাজ র্কম ? ছেলেরা কি বউ’র হাতের পুতুল ?আন্জুমা’র কি হবে তা হয়তো কেউ জানেনা ,তবে পৃথিবীর প্রত্যেক দেশে আন্জুমা’র মত হাজারো আন্জুমা রয়েছে । যাদের পরিনতি প্রায় এক ।

মা সন্তান জন্ম দেয় উপরিক্ত কিছু পাওয়ার জন্য না । সমাজে সুখে, সুন্দর ভাবে জীবন কাটানোর জন্য । আর সন্তানেরা কি করে ? পিতা-মাতা উপর তার যে দায়িত্ব ,তা থেকে পিতা-মাতাকে বঞ্চিত করে । সম্পর্কের বাধন ছিন্ন করে । মা’কে চাকরের মত খাটিয়ে নেই । এটাই কি সন্তানের দায়িত্ব? আমার এই লেখনি ,কাউকে উদ্দেশ করিয়া লিখি নাই । যাহারা মায়ের প্রতি এইরুপ আচরন করে তাহাদের উদ্দেশ্য করিয়া বলিলাম । যদিও সে ব্যক্তি সমাজের কোন উচ্চ আসনেও অবস্থান করিয়া থাকে ।মা সন্তান জন্ম দেয় উপরিক্ত কিছু পাওয়ার জন্য না । সমাজে সুখে, সুন্দর ভাবে জীবন কাটানোর জন্য । আর সন্তানেরা কি করে ? পিতা-মাতা উপর তার যে দায়িত্ব ,তা থেকে পিতা-মাতাকে বঞ্চিত করে । সম্পর্কের বাধন ছিন্ন করে । মা’কে চাকরের মত খাটিয়ে নেই । এটাই কি সন্তানের দায়িত্ব? আমার এই লেখনি ,কাউকে উদ্দেশ করিয়া লিখি নাই । যাহারা মায়ের প্রতি এইরুপ আচরন করে তাহাদের উদ্দেশ্য করিয়া বলিলাম । যদিও সে ব্যক্তি সমাজের কোন উচ্চ আসনেও অবস্থান করিয়া থাকে । কেননা সে সন্তান মা’কে সম্মান দিতে পারে না সে সন্তান পৃথিবীর উচ্চস্থানে বসিয়া , উচ্চ মর্যাদা নিয়া বেঁচে থাকিতে পারে না । মানুষ একে অন্যের পরিপূরক । তার সুকর্ম ও কুকর্মের সাজা তাকেই পেতে হবে । অন্য কোন পন্থা অবলম্বন করিবে না ।প্রত্যেক নর-নারীর উচিত যাহার যে স্থান,তাহাকে সেই স্থানে বা মর্যাদায় পদারর্পন করানো । পৃথিবীতে মহান আল্লাহর পর পিতা-মাতার অবস্থান । তাহারা যেন কোন কারণে কষ্ট না পা তাদের দায়িত্ব তার সন্তানের এবং ছেলের পর তার স্ত্রী’র ।পৃথিবীর সকল মাকে যদি যোগ্য স্থান প্রদান করা হয় তাহলে, পৃথিবী অনেক পরিবর্তন হবে । বৃদ্ধ মায়েরা বেঁচে থাকার সাহস পাবে । বৃদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষাত্রে সন্তানের প্রতি ,দেশেষ সরকার নতুন ণীতি বা অাইন তৈরি করেন ,তাহলে পৃথিবীর প্রতি সবচেয়ে সুকর্ম বলিলা বিবেচিত হইবে ! অর্থা মানব জগৎতে শ্রেষ্ট নেতা-নেত্রী বলিয়া মানিয়া নিতে কাহারও কোন দিধা থাকিবে না ।