বিপদে পড়বে ব্যাংক

Now Reading
বিপদে পড়বে ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অতিরিক্ত তারল্য ক্রমেই কমছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ব্যাংকিং খাতের এডি রেশিও।
প্রত্যাশা অনুযায়ী আমানতের সংস্থান না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সহসাই ব্যাংকগুলোর আমানত সংকট কাটবে, এমন আভাস দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।
তারল্য সংকটে আছে দেশের ব্যাংকিং খাত। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত বছরের নভেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে ঋণ-আমানতের অনুপাত (এডি রেশিও) ছিল ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এ হিসাবায়নের মধ্যে আছে ব্যাংকগুলোয় বড় অংকের সরকারি আমানত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গত ফেব্রুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি আমানত বাদ দিলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের এডি রেশিও ৯২ শতাংশেরও বেশি।

ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ঠিক জানি না, ব্যাংকিং খাতে কী পরিমাণ সরকারি আমানত রয়েছে। সরকার তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার স্বার্থেই ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেবে। এর বাইরে ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ঋণও বাড়াবে। ফলে আগামী দিনগুলোয় ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট আরো বাড়বে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বন্ড মার্কেটকে বিকশিত করতে হবে।
একই সঙ্গে দেশে বাড়াতে হবে বিদেশী বিনিয়োগ। নতুন মুদ্রানীতিতেও সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। এর আগের মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছিল। আর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। যদিও ডিসেম্বর পর্যন্ত তা ১৩ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। অর্থবছরের বাকি সময়ে এ ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

আইএমএফের হিসাবে, ২০১৬ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এডি রেশিও ছিল ৭৫ শতাংশ। সরকারি আমানত বাদ দিলে এ হার ৮০ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল। এর পর থেকেই ব্যাংকিং খাতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে এডি রেশিও। ২০১৮ সালের নভেম্বরে এডি রেশিও বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশে। সরকারি আমানত বাদ দিয়ে হিসাব করলে ওই সময় ব্যাংকিং খাতের এডি রেশিও ৯২ দশমিক ২ শতাংশ ছাড়ায়।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনে ব্যাংকগুলোয় থাকা সরকারি আমানত তুলে নেয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, পদ্মা সেতুসহ একাধিক বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। বৃহৎ আরো নতুন প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি বৃহৎ ব্যয়ের খাতে যুক্ত হয়েছে এলএনজি। এ ব্যয় সংস্থানে ব্যাংকগুলোয় থাকা সরকারি আমানত তুলে নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক থেকে সরকারের বড় অংকের ঋণ গ্রহণেরও প্রয়োজন পড়বে। এমনিতেই তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকিং খাতের জন্য যা বিপদ ডেকে আনবে।

ব্যাংকার ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে যে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ, তাতে সরকারি আমানত থেকে ব্যয়ের প্রয়োজন পড়বে। ফলে তুলে নেয়ার প্রয়োজন হবে সরকারি আমানত। এতে বেড়ে যাবে ঋণ-আমানতের অনুপাতও, যা বিপদে ফেলবে ব্যাংকগুলোকে।

৫ দিনের জন্য লেনদেন বন্ধ ডাচ-বাংলা ব্যাংকের

Now Reading
৫ দিনের জন্য লেনদেন বন্ধ ডাচ-বাংলা ব্যাংকের

সিস্টেম আপগ্রেডের জন্য ৫ দিন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ থাকবে। প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম, পোজ ও এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা এই দিনগুলোতে বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি সাপেক্ষে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কাজ শুরু হবে বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে মঙ্গলবার (১৯মার্চ) পর্যন্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি সাপেক্ষে সিস্টেম আপগ্রেডের জন্য আগামী ১৪ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ১৯ মার্চ (মঙ্গলবার) সকাল ৬টা পর্যন্ত শাখা, এটিএম বুথসহ পিওএস এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানান ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকতা সগির আহমেদ ।
এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সিস্টেম আপগ্রেডের জন্য আগামী ১৪ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ১৯ মার্চ (মঙ্গলবার) সকাল ৬টা পর্যন্ত শাখা, এটিএম বুথসহ পিওএস এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৪ হাজার ৬৬৮টি এটিএম বুথ রয়েছে, যার বেশিরভাগেই ফার্স্টট্রাক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গ্রাহকদের আরও উন্নত সেবা দিতে ব্যাংকের সফটওয়্যার আপগ্রেড করার কাজ চলবে। ফলে মোট পাঁচদিন ব্যাংকের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এরইমধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে এবং গ্রাহকদের এসএমসের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (জনসংযোগ) ছগির আহমেদ। এসময় গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য ব্যাংকটির পক্ষ থেকে দুঃখও প্রকাশ করেন তিনি।

Page Sidebar