যে ১০টি কারণে আধুনিক ব্রিটেন বিশ্বের সেরা দেশ গুলোর মধ্যে অন্যতম

Now Reading
যে ১০টি কারণে আধুনিক ব্রিটেন বিশ্বের সেরা দেশ গুলোর মধ্যে অন্যতম

যুক্তরাজ্য নিয়ে অনেকের মাঝে বিভ্রান্তি আছে। তা হলো লন্ডন, ইংল্যান্ড, ব্রিটেন, গ্রেট ব্রিটেন, ইউকে, যুক্তরাজ্য ইত্যাদি নাম নিয়ে। ভৌগলিকভাবে ব্রিটেনের মূল দ্বীপে অবস্থিত তিনটি দেশ ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, আর ওয়েলস নিয়ে গ্রেট ব্রিটেন গঠিত. গ্রেট ব্রিটেনের সাথে ইউনাইটেড কিংডম এর পার্থক্য হলো ইউনাইটেড কিংডম এ গ্রেট ব্রিটেনের তিনটি দেশের সাথে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড সংযোজিত। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস আর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ছাড়াও আরো ১৪ টি সার্বভৌম রাষ্ট্র আছে রানী এলিজাবেথ এর অধীনে যাদেরকে আলাদাভাবে ব্রিটিশ ওভারসিস টেরিটরি বলা হয়। আসুন সংক্ষেপে জেনে নিই ঠিক কি কি কারণে ব্রিটেন এতটাই আধুনিক এবং অন্যদের চাইতে উত্তম।

উচ্চ শিক্ষার প্রবর্তনঃ ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থা গুণগত উৎকর্ষতার জন্য প্রসিদ্ধ। সারা পৃথিবীর বিশ্ব বিদ্যালয়ের তালিকানুযায়ী, বিশ্ব ব্যাপী প্রায় ২৬০০০ এর মত বিশ্ববিদ্যালয় আছে। আর তার মধ্যে হাতে গোনা কয়টি সেরা বিশ্ব বিদ্যালয়ের নাম বলতে বলা হলে ২টি ব্রিটেনেরই থাকবে। হ্যাঁ ঠিকই ধরতে পেরেছেন অক্সফোর্ড আর ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাই বলছি। এ দুটি বিশ্ব বিদ্যালয়কে বলা হয় উচ্চ শিক্ষার শস্য বুনার স্থান এবং তা কেবলই যে ঐতিহাসিক তা কিন্তু নয়। সমগ্র ব্রিটেন জুড়েই এই উচ্চ শিক্ষার পদ্ধতিটি ক্রমাগতভাবে যোগান দিয়ে যাচ্ছে গ্রহের সর্বোচ্চ ভাল ফলাফল। ভবিষ্যত্-পিয়াসীদের কাছে এমন একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য ব্রিটেন। বিশেষত ব্রিটিশ শাসিত উপনেবেশিক রাষ্ট্রগুলোতে বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে ব্রিটিশ ডিগ্রীধারীদের সমাজে উচ্চ চোখে দেখা হয় ।

আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাঃ বিশ্বের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রবক্তা হিসেবে ধরা হয় ব্রিটেনকে। এখানে যেমন রয়েছে আধুনিক সব চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিক কিভাবে তা প্রয়োগ ঘটাতে হয় তার জন্য রয়েছে বিশ্বখ্যাত সব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশ থেকে এখানে চিকিৎসা শাস্ত্রের উপর উচ্চতর ডিগ্রী নিতে প্রতি বছর ভিড় করেন মানুষ।

বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ রাষ্ট্রঃ অস্থায়ী কিংবা স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে মানুষ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। নাগরিকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় পৃথিবীর অন্যতম নিরাপদ রাষ্ট্র হচ্ছে যুক্তরাজ্য। তুলনামুলকভাবে এখানে হত্যা প্রবণতা কম অন্যসব রাষ্ট্র থেকে।

ব্যাক্তি স্বাধীনতা যথেষ্ট শক্তিশালী যেমনটা আমরা চাইঃ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ব্রিটেনে মুক্তবাদ চর্চা বেশ স্বাধীন। এখানে আপনি যদি কোন নিদিষ্ট মতবাদ ধারণ করেন তবে রাষ্ট্র আপনাকে কখনোই বাঁধা দেবে না। কেননা এখানকার রাষ্ট্র ব্যবস্থা এমন একটা ভিত্তির উপর বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত যে ব্যক্তি স্বাধীনতাকে এখানে বেশ সন্মানের দৃষ্টিতে দেখে। তার মানে এই নয় যে আপনি যেমন খুশি তেমন করতে পারেন। আইন, সামাজিক মূল্যবোধ কিংবা জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে এমন স্বাধীনতার সুযোগ এখানে নেই।

জীবন যাত্রার মান খুবই সুন্দরঃ যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি হচ্ছে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি। ফলে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান তুলনামূলক অন্য রাষ্ট্রের চাইতে বেশ উন্নত। এই রাষ্ট্রের প্রত্যেকেই একটা শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন উপভোগ করেন আর এই নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপনই তাদের সুখের অন্যতম কারণ। ব্রিটিশরা অপ্রয়োজনীয় এবং লাগামহীন জীবন উপভোগ করতে পছন্দ করেন না। বিলাস জীবনে অভ্যস্ত একজন ব্রিটিশও নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলেন। ফলে সামগ্রিকভাবে ব্রিটিশদের জীবন যাত্রার মান বেশ ঐতিহ্যমণ্ডিত।

শিল্প বিপ্লবের সূচনাকারীঃ আঠারো শতকের শেষার্ধে শিল্পোৎপাদনের ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয় সাধারনভাবে তাই শিল্প বিপ্লব নামে পরিচিত। শিল্প বিপ্লব ইংল্যান্ড তথা পাশ্চাত্য জগতের ইতিহাসে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর ফলে ইংল্যান্ড বিশ্বের প্রথম শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশটির সমৃদ্ধির ভিত্তি রচিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও শিল্প বিপ্লব সদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে। শিল্প বিপ্লব কোন আকস্মিক ঘটনা ছিলনা। দীর্ঘদিন আগে থেকেই শিল্পোৎপাদনের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছিল। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এ অগ্রগতির প্রধান দিকগুলো ছিল অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, কৃষি ও শিল্পখাতে উৎপাদন ক্রমশ বৃদ্ধি, বণিক পুঁজির বিকাশ, বিজ্ঞান চর্চায় উন্নতি ও উৎপাদনের কোন কোন ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ব্যাংক, বীমা এবং স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠা।

ব্রেক্সিট সত্যিকার অর্থেই ব্রিটিশদের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারেনিঃ সারা দুনিয়ায় এখন আলোচনার বিষয় একটিই। আর সেটি হলো ‘ব্রেক্সিট’। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়াকে সংক্ষেপে ব্রেক্সিট বলা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তথা এক্সিট বোঝাতে ব্রেক্সিট শব্দটি ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের আধিক্য দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়াতে ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি দেখা দেয়। কেননা ইইউ’র নিয়ম অণুযায়ী ইইউভুক্ত ২৮টি দেশের নাগরিক ভিসা ছাড়াই এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবেশ করার কিংবা বাস করার অধিকার রাখে।  তাই ডেভিড ক্যামেরন সরকার ইইউ থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার উপর অর্থাৎ ব্রেক্সিট নিয়ে ২০১৬ সালের ২৩ জুন এক গণভোটের আয়োজন করেন। যাতে ব্রিটিশরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দেন। উক্ত গণভোটে ইইউ এর সাথে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের রায় পাওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ডেভিড ক্যামেরুন। প্রায় ২বছরে বেক্সিট এর ফলে ব্রিটিশ জনগণের উপর তেমন কোন প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি। উলটো ব্রিটেন ক্রমান্বয়ে নিজেদের সেরা প্রমাণ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ব্রিটিশদের ভেতরকার ঐক্য পূর্বের মতই অটুট রয়েছে। এদিকে ব্রেক্সিট আইন অনুমোদন দিয়েছেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে। গতকাল মঙ্গলবার ব্রেক্সিট ইস্যুতে রাজকীয় এই সম্মতি দেন ব্রিটেনের রানি।

ব্রিটিশরা সত্যিকার অর্থেই অসাধারণঃ যদি আপনি কখনো সত্যি সত্যি যুক্তরাজ্যে যান এবং একজন ব্রিটিশ এর সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তবে খেয়াল করবেন তারা অবিশ্বাস্য রকমের ভদ্র, কিছুটা মজার প্রকৃতির, সানন্দেই সাহায্য করার প্রবণতা এবং মার্জিত ব্যক্তিত্ব। এটা সত্যি যে, তারা হয়ত আপনাকে তাদের দেশের আবহাওয়া সম্পর্কে বলতে বাধ্য করবে তবে এটা তাদের ব্যবহারের তুলনায় এমন কিছুই নয়। যদিও তারা খুব সৎ, কিন্তু তাদের মজার অনুচ্ছেদটি কিছুটা অযৌক্তিক। এলকোহল গ্রহণের ফলে ব্রিটিশদের সৃষ্ট সহিংসতা তুলনামুলকভাবে অনেক কমে এসেছে।  পৃথিবীর এমন কোন জাতি নেই যারা সত্যিকার অর্থেই খাঁটি, কোননা কোনভাবে তারা সমস্যায় জর্জরিত, হয়ত তাদের সরকার উন্নতি করছে। কিন্তু আধুনিক ব্রিটেন সত্যিকার অর্থেই বেশ ভাল অবস্থানে আছে যা তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বেশ প্রসার করেছে।

 

ব্রিটিশ সংস্কৃতি দ্বিতীয়টি আর নেইঃ

ব্রিটিশ প্রযুক্তি বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়ঃ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মঞ্চায়নে অবতীর্ণ হওয়া বিশ্ব শক্তিধর রাষ্ট্রসমূহের দ্বন্ধ

Now Reading
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মঞ্চায়নে অবতীর্ণ হওয়া বিশ্ব শক্তিধর রাষ্ট্রসমূহের দ্বন্ধ

১৯৩৯ সালের ১সেপ্টেম্বর পোল্যান্ড আক্রমণের মাধম্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করেন হিটলার। এই যুদ্ধ (১৯৩৯-১৯৪৫) দীর্ঘ ছয়বছর স্থায়ী ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও পৃথিবীর ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো দুভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল, এর একটি পক্ষ অক্ষশক্তি অন্যটি মিত্রশক্তি। অক্ষশক্তির মধ্যে ছিল জার্মানি, ইতালি এবং জাপান অন্যদিকে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ মিত্রশক্তি গঠিত হয়েছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে। যদিও অপ্রত্যাশিতভাবে রাশিয়াও ছিল মিত্রশক্তির দলে। যুদ্ধে একের পর এক জার্মানির পরাজয়ের প্রেক্ষিতে ১৯৪৫সালের এপ্রিলে জার্মানি ও ইতালি মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। হিটলার নিজেকে ধরা না দিয়ে আত্মহত্যা করেন এবং ইতালির একনায়ক মুসোলিনিকে গ্রেফতার পরবর্তী হত্যা করা হয়। অন্যদিকে, ১৯৪৫সালের ২আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও রাশিয়া পটাসডাম সম্মেলনে জাপানকে আত্মসমর্পণ করতে বললে জাপান তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে ৬ ও ৯ আগস্ট হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আনবিক বোমা বর্ষণ করা হয় ফলে ১৪ আগস্ট ১৯৪৫ জাপান শর্তহীনভাবে আত্মসমর্পণ করে।  এখানে একটা কথা বলা ভাল আর তা হচ্ছে জাপান কর্তৃক পার্ল হারবারে হামলা। ১৯৪১ সালের ৭ডিসেম্বর হাওয়াই এর ওয়াহু দ্বীপে অবস্থিত পার্ল হারবারে মার্কিন নৌ ও বিমান ঘাঁটিতে জাপান বিমান হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করে দেয়। জাপানী বিমান হামলায় চোখ খুলে যায় মার্কিনীদের, তারা সিদ্ধান্ত নিল জাপানে মরনাস্ত্রের আঘাত হানার। তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিল। ১৯৪৫ সালের ১৬জুলাই নিউ মেক্সিকোর মরুভূমিতে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটায়। এর ঠিক তিন সপ্তাহ পর হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা বর্ষণ করা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছিল আনবিক বোমার ভয়াবহতা। বিংশ শতাব্দীতে এ ঘটনা পরবর্তী বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরণের প্রভাব ফেললেও বৃহৎ শক্তিগুলো কখনো মরনাস্ত্র তৈরি, উৎপাদন ও পরীক্ষা থেকে পিছ পা হয়নি। বিংশ শতাব্দী প্রত্যক্ষ করেছে আটটি দেশের উত্থান, যারা নিজেদেরকে পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেছে। নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে কিছু কিছু অগ্রগতি হলেও (এনপিটি চুক্তি ও সিসিবিটি চুক্তি স্বাক্ষর) বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূমিকা বরাবরই প্রশ্নের সম্মুখীন ছিল। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার ও উৎপাদন বন্ধের ব্যাপারে তারা কখনো আন্তরিক ছিলনা। এমনকি জাতিসংঘও এ ব্যপারে তেমন কোন বড় ভূমিকা পালন করতে পারেনি। বিংশ শতাব্দীতে এটা ছিল একটা বড় ব্যর্থতা যে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেও সভ্য সমাজ মরনাস্ত্র প্রতিযোগিতায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করেছিল।

একনজরে দেখে নিই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি কি কারনে সংঘটিত হয়েছিলঃ

i) ভার্সাই চুক্তিঃ এই চুক্তির ফলে জার্মানি তার যাবতীয় উপনিবেশ হাত ছাড়া করল। শুধু তাই নয়, উপনিবেশে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ লগ্নী করা হয়েছিল তাও বিফলে গেল। সবদিক থেকে জার্মানিকে দুর্বল করাই ছিল ভার্সাই চুক্তির লক্ষ্য। সুতরাং এটা অনুমেয় ছিল যে জার্মানি এ চুক্তির শর্ত মনে প্রাণে স্বীকার করে নেবে না।

ii) দীর্ঘ যুদ্ধ বিরতিঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী শান্তি, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর যখন ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হল তখন দেখা গেল গণতন্ত্র, নিরাপত্তা ও শান্তি কোনটাই নিরাপদ নয়। সে জন্য দুই মহাযুদ্ধের মধ্যখানের সময়টাকে শান্তিপূর্ণ নয় বলে দীর্ঘ যুদ্ধ বিরতি বলা হয়।

iii) অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদঃ ভার্সাই চুক্তি জার্মানিকে নিঃস্ব করেছিল। চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর জার্মানির একমাত্র লক্ষ্য ছিল যে, কোন প্রকারে যুদ্ধপূর্ণ অবস্থায় ফিরে যাওয়া। জাপান ও ইতালি মনে করেছিল যে, আন্তর্জাতিক বানিজ্যে সব রকম সুযোগ সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত। তাই অর্থনৈতিক পুনর্গঠনকে তারা অপরিহার্য মনে করেছিল।

iv) আন্তর্জাতিক নৈরাজ্যঃ আন্তর্জাতিক নৈরাজ্যকে অনেকেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ মনে করে। লীগ অফ নেশনস যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় লীগের সদস্যবৃন্দ ও অন্যান্য রাষ্ট্র শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সনাতন পদ্ধতির আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল, আর এ পদ্ধতি হল জোট তৈরি করা। অনেকের মনে তখন  এ বিশ্বাস জন্মেছিল যে, লীগের সফল হওয়া মানে যুদ্ধের সম্ভাবনা কমে যাওয়া আর ব্যর্থতা মানে যুদ্ধ অনিবার্য।

v) নিরস্ত্রীকরণে ব্যর্থতাঃ লীগ অফ নেশনস এর প্রণেতাগণ মনে করেছিলেন শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে নিরস্ত্রীকরণ অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু এই স্বদিচ্ছাকে ফলপ্রসূ করতে হলে বৃহৎ শক্তিবর্গের যে পরিমাণ সহযোগিতা ও লীগ কর্তৃপক্ষের দৃঢ়তা প্রয়োজন তার কোনটাই ছিলনা।  বৃহৎ শক্তিবর্গ অস্ত্র উৎপাদনের অশুভ প্রতিযোগিতায় নিজেদের নিমজ্জিত করেছিল। অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ না হওয়ায় তা যুদ্ধের জন্ম দিয়েছিল।

vi) উগ্রজাতীয়তাবাদঃ হিটলারের ধারণা ছিল জার্মানজাতি পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র উৎকৃষ্ট ও শ্রেষ্ঠজাতি, অন্যরা নিকৃষ্ট। অতএব নিকৃষ্টের উপর শ্রেষ্ঠের কর্তৃত্ব থাকা খুবই স্বাভাবিক। জার্মানজাতি গোটা ইউরোপের উপর প্রাধান্য বিস্তার করবে এই স্বপ্নে হিটলার বিভোর ছিলেন। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করতে গিয়ে তিনি এক সর্বধ্বংসী যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়েছিলেন।

vii) সর্বাত্মকবাদঃ হিটলার ও মুসোলিনি উভয়েই গণতন্ত্রকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন। তাঁরা গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণরুপে ধ্বংস করে সর্বাত্মকবাদ এর পথকে সর্বোৎকৃষ্ট উপায় বলে মেনে নিয়েছিলেন। তখন জার্মানি, জাপান ও ইতালির কাছে নিজেদের সংকীর্ণ জাতীয়তাবোধ ছাড়া অন্য কোন মূল্যবোধ যথাযথ মর্যাদা পায়নি।

viii) অন্যান্য কারণঃ এ ছাড়া লোকার্ণো চুক্তি, ওয়াশিংটন নৌ-সম্মেলনসহ কেলগ-ব্রিয়াণ্ড চুক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পরস্পর বিরোধী দুই মতাদর্শের বিকাশ ঘটেছে যা আজো বিদ্যমান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর বিশ্ব রাজনীতিতে একটি সদুরপ্রসারী ফলাফল আমরা প্রত্যক্ষ করি। আমরা এও দেখতে পাই বৃহৎ শক্তি হিসেবে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের পতন হয়েছে এই যুদ্ধ পরবর্তী অন্যদিকে  বৃহৎ শক্তি হিসেবে আবির্ভাব ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের। উত্থান ঘটেছে সোভিয়েত ইউনিয়নের আর বিস্তৃতি বাড়িয়েছে স্নায়ু যুদ্ধের, যা নতুন আরেক বিশ্বযুদ্ধের ধামামা ক্রমাগত বাজিয়েই চলছে।

প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে যে সব ভুলের কারণে জার্মানির পরাজয় ঘটেছিল

Now Reading
প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে যে সব ভুলের কারণে জার্মানির পরাজয় ঘটেছিল

এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ১৯১৪ সালের জুলাই মাসের ২৮ তারিখে অস্ট্রো-হাঙ্গেরি এবং সার্বিয়ার মধ্যেকার যুদ্ধের মাধ্যমে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সূচনা ঘটে। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এই যুদ্ধের প্রভাব পুরো ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পরে। পরবর্তিতে যা আটলান্টিক পার হয়ে মার্কিনমুল্লুকে বিস্তার ঘটে। তবে এশিয়ার কিছু দেশও এই ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছিল। ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ছিল এই মহাযুদ্ধের ব্যাপ্তি, এতে উভয়পক্ষের হতাহতের সংখ্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে যা অতীত কালের অন্য সকল যুদ্ধের নৃশংসতা কে হার মানিয়েছে! শুধু তাই নয়, যে পরিমাণ অর্থনৈতিক ও ভৌগলিকভাবে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বিশ্বের জন্য ছিল পুরোপুরি নতুন এক অভিজ্ঞতা। এই যুদ্ধে বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রের অংশগ্রহণের ফলে এটাকে বলা হয় মহাযুদ্ধ বা বিশ্বযুদ্ধ।

প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে সামরিক দিক থেকে জার্মানি ছিল সব দিক থেকে শ্রেষ্ঠ। কিন্তু রনাঙ্গনে ভুল চাল দেয়া হচ্ছে যুদ্ধ কৌশলের ব্যর্থতা। আসুন জেনে নিই কি কি কারণ ছিল জার্মানির পরাজয়ের পেছনে?

প্রথমত, জার্মানির পক্ষে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব ছিলনা। কিন্তু ব্রিটেন ও ফ্রান্স উপনিবেশগুলো থেকে অর্থ ও লোকবল সংগ্রহ করে যুদ্ধকে বিলম্বিত করে।

দ্বিতীয়ত, সেনা পরিচালনা করার দিক থেকে জার্মানির বেশ অসুবিধা ছিল। ইউরোপের পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে জার্মানিকে সেনা সমাবেশ করতে হয়েছিল- ফলে জার্মান সেনাবাহিনী দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, যা তাদের যুদ্ধে পরাজয়ের অন্যতম কারণ।

তৃতীয়ত, রাশিয়ার বিপুল পরিমাণ সেনাবাহিনীর সামনে জার্মানি তার নিজ ভূখণ্ডে নিজস্ব সেনাবাহিনীকে এক রনাঙ্গন থেকে অন্য রনাঙ্গনে স্থানান্তর করা অসম্ভব ছিল। চারদিক হতে মিত্র পক্ষ জার্মানির সীমান্তে চাপ সৃষ্টি করলে জার্মানির বিপর্যয় ঘটে।

চতুর্থত, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আমেরিকার নৌ বাহিনীর তুলনায় জার্মান নৌবাহিনী ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল। যা তাদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে স্বীকৃত।

পঞ্চমত, সমুদ্রের উপর ব্রিটিশ নৌ শক্তির প্রাধান্য জার্মানির অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর প্রচণ্ড আঘাত হানে। এছারা নিতান্ত প্রয়োজনীয় খাদ্যের অভাব ও অপুষ্টির ফলে জার্মানদের প্রতিরোধব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। সর্বোপরি প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ।

এসব কারণে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে জার্মানি হেরে যায়। জার্মানির পরাজয় ছিলো তাদের জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং জাতিগত অপমান। কিন্তু যে উগ্রবাদ জার্মানিকে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে টেনে নিয়ে গিয়েছিল, সেই উগ্রবাদিতার কারণেই জার্মানি পুনরায় দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সূচনা করেছিল।

“ইরান ডিল” থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিল যুক্তরাষ্ট্র!

Now Reading
“ইরান ডিল” থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিল যুক্তরাষ্ট্র!

২০১৫ সালে ছয় জাতির মধ্যাস্ততায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা হয়। জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের ওই সমঝোতা ‘ইরান ডিল’ নামেও পরিচিত। ইরানের সঙ্গে চুক্তিকারী দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং চীন। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি রোধে পশ্চিমা বিশ্ব বহু বছর ধরে দেশটির ওপর বাণিজ্য অবরোধ আরোপ করেছিল। কিন্তু কোনভাবে কাজ না হওয়ায় ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেতৃত্বে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে সরে আসার শর্তে দেশটির ওপর থেকে অবরোধ উঠিয়ে নিতে উক্ত চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়। চুক্তি মোতাবেক এতদিন এগুচ্ছিল সবকিছু। কিন্তু নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হটাত ইরানের সঙ্গে বহুজাতিক পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে চুক্তির বাকী দেশ সমূহ। চুক্তি মোতাবেক প্রতি ছয় মাস পরপর তা নবায়ন হয়। সেটি নবায়নের সময় ঘনিয়ে এলে ট্রাম্প জানিয়ে দেয় তিনি চুক্তি নবায়নে সম্মতি দেবেন না। বেশ কিছুদিন ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে ছয় জাতির ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি বহুবার দিয়েছেন। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগ থেকেই বলে এসেছেন যে বারাক ওবামা ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, তা ‘জঘন্য, ধ্বংসাত্মক ও বোকামি’। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি ওই চুক্তি বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দেন তার নির্বাচনী প্রচারণায়। এখন ট্রাম্প চাইছেন ইরানের সামরিক শক্তি আরও সীমিত করার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করে নতুন একটি চুক্তি করতে।

এদিকে ট্রাম্পকে চুক্তিতে ধরে রাখতে না পারার বিষয়টি যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের মিত্রদেশগুলোর চরম কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই চুক্তির পক্ষে অবস্থান বজায় রেখে কাজ করে যেতে বদ্ধ পরিকর বাকী দেশগুলো। বাকী পাঁচ দেশের মধ্যে দুই দেশ নিজেদের সহ্য করতে পারেনা বলা চলে রাশিয়া আর যুক্তরাজ্য পরস্পর জাতশত্রু। যুক্তরাজ্য চাইছে যুক্তরাষ্ট্র যেন এই চুক্তিতে থাকে কেননা তাদের ছাড়াই চুক্তি কার্যকর রাখতে গেলে শর্ত মোতাবেক ইরানের সঙ্গে ইউরোপের কোম্পানিগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে হবে। তাদের মিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপেক্ষা করে আদৌ কি তারা কাজ করতে পারবে? এই চুক্তি বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ইউরোপীয় মিত্ররা খুব বেশি যে অগ্রসর হতে পারবে তা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি যেকোন উপায়ে এই চুক্তি বজায় রাখার পক্ষে। ট্রাম্পের চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা পরবর্তী যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে ‘দুঃখ ও উদ্বেগ’ প্রকাশ করে বলেছে, তারা চুক্তিটি কার্যকর রাখতে কাজ করে যাবে। তারা বিবৃতিতে এও প্রত্যাশা করেছে, চুক্তি কার্যকর রাখতে বাধা হয় এমন সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়নে যেন যুক্তরাষ্ট্র বিরত থাকে।

তবে চুক্তি স্বাক্ষরকারী অপর দুই দেশ রাশিয়া ও চীন বরাবরই ইরানের প্রতি নমনীয় ও বন্ধু প্রতিম। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি তিনি ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অবরোধ আরোপেরও ঘোষণা দেন। একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের মাধম্যে করে তিনি ইরানের সঙ্গে সব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাবসা বাণিজ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবরোধ অমান্যকারী কোম্পানিগুলোকে কঠিন সাজার মুখোমুখি হতে হবে। এমতাবস্থায় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান লেনদেন চুকিয়ে নিতে ছয় মাস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে জরুরী বৈঠক করেন। তারা যৌথভাবে ওই চুক্তি থেকে সরে না আসার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেন। কিন্তু কার্যত দীর্ঘদিনের মিত্র এসব দেশের সব ধরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এটিকে একপ্রকার ইউরোপের মিত্রদের কূটনৈতিক পরাজয় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিশেষত যুক্তরাজ্যের জন্য এমন পরিস্থিতি বেশ অস্বস্থির। কেননা ইরান চুক্তির এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের অবস্থান অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের চিরশত্রু রাশিয়ার দিকেই ঝুঁকে গেল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেড়িয়ে ব্রেক্সিট নিয়ে দর কষাকষিতে অন্যান্য মিত্রদের সাথে টানাপোড়নে রয়েছে যুক্তরাজ্য। তাই ইউরোপের অন্যতম শক্তি জার্মানি ও ফ্রান্সের মন রক্ষার্থে চাইলেও “ইরান ডিল” থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে পারছেনা যুক্তরাজ্য।এদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ঐতিহাসিকভাবে অনুশোচিত’ হতে হবে। ২০১৫ সালে তেহরানের সঙ্গে বহুজাতিক শক্তিগুলোর করা পরমাণু চুক্তির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে এমন সতর্কবার্তাই দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সিদ্ধান্ত মোকাবেলায় ইরানের সদুরপ্রসারি পরিকল্পনা রয়েছে। রুহানি বলেন, যদি এমন কিছু ঘটে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পূর্ব থেকেই দেয়া আছে।