অভিশপ্ত সুখ

Now Reading
অভিশপ্ত সুখ

অনেক দিন পর দেশের মাটিতে পা রেখেই

পরিবেশটাকে কেমন
যেনো অচেনা লাগছে অনিকের কাছে ।
সাতবছর আগে যে পরিবেশ
দেখে গেছে তা অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে ।
নিজের দেশে অনেকবছর পর
ফিরে এসে কয়েকটি স্মৃতিকাতর
জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যেই
বাড়ি থেকে বের হয়েছে অনিক ।
সাভারের স্মৃতিসৌধটা দেখার পর ফিরবার
পথে একটা বাসে টিকিট করে অনিক ।
বাসে ওঠার পর অনিক দেখে বাসটিতে ঠিক
সামনের সীট টাতে অর্পনা তার
হাসবেন্ডকে নিয়ে বসে আছে ।
অনিককে দেখে অর্পনা কিছুটা বিব্রত কর
অবস্থার মধ্যে পড়ে গেলেও
নিজেকে সামলে নেবার
গুনটা অর্পনাকে স্বাভাবিক করে তোলে ।
অনিক নিজের সীটে চুপচাপ বসে পড়ে আর
অর্পনার এহেতুক আচরন তার সাত বছরের
পুরাতন ব্যাথাটাকে আবার জাগ্রত
করে তোলে ।
বাস ছেড়ে দিলে অনিক জানালাটা একটু
খুলে হালকা বাতাসে আনমনা হয়ে যেতে লাগল
।ভাবনারভীড়ে একটা কথাই অনিকের
মনে বারবার ফিরে আসছে এই কি সেই
অর্পনা যাকে সে সাতবছর আগে চিনত ?
অর্পনা কি সত্যিই তাকে চিনতে পারল
না নাকি চিনেও না চেনার অভিনয় করল ?
অভিনয়টা অবশ্য অর্পনার জন্য নতুন কিছু
না তারপরও আনিক কে দেখার পর একটু হলেও
প্রতিক্রিয়া করাটা অবাস্তব কিছুতো না ।
অর্পনাকে দেখার পরথেকে অনিকের
উদাসীনতা ক্রমেই বাড়তে চলেছে । সাতবছর
আগে যে অর্পনা অনিককে একদিন
না দেখতে পেলে কান্নাকাটি করে চোখ
ফুলিয়ে ফেলত , অনিকের ফোন বন্ধ
থাকলে পাগলের মত হয়ে যেত সেই
অর্পনা আজ কতটা পরিবর্তন লাভ
করেছে তা সত্যিই বিস্ময়কর ।
একবারতো অনিকের ভীষন জ্বর বাধে ।
অর্পনা অনিকের বাসা পর্যন্ত
চলে এসেছিলো । সারাদিন
এটা করো না ,ওটা করো না ,এদিকে যেও
না ,ওদিকটা ভালোনা কতত
কেয়ারিং ছিলো মেয়েটা । প্রতিদিন
ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে তাকে ফোন
করে উষ্ণ অভিবাদন
না জানালে রেগেমেগে সবকিছু মাথাই তুলত ।
বছরে স্পেশাল দিনগুলোতে অনিককে তার
পাশে চাই ই চাই । অনিক ও একরকম পাগলীর
পাগলামোতে আবির্ভূত হয়ে স্বর্গময় জগতের
বাসিন্দাহয়ে সময়গুলো পার করত । দুজন
একসাথে পার্কে হাটা ,বাদাম
খাওয়া ,বাইকে ঘোরা ,হাত
ধরে বৃষ্টিতে ভেজা ,মাঝে মাঝে সিনেমা দেখা সবকিছুতেই
একটা অন্যরকম
অনুভূতি ভরা রোমান্টিকতা ছিলো দুজনার
মধ্যে ।
পরিস্থিতিটা পালটে যেতে থাকলো ধীরে ধীরে ।
মাঝে মাঝে অনিক অর্পনাকে অন্য রকম
ভাবে কিছু ভাবতে দেখতো । অনেক প্রশ্ন
করেও কোনো উত্তর জানতে পারে নি অনিক ।
মাঝে মাঝেই অর্পনা অনিক কে বলত ওর
অনেক কষ্ট তবে সেটা শুধু অনুভবই
করে কারনটা জানেনা । অনিক বোকার মত
অর্পনার সব কথা গিলে নিতো ।
ভালোবাসার সম্পর্কের ফাকা স্থান
তৈরি হতে খুব বেশী সময় লাগলো না ।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অর্পনা বলেই
ফেলে সে অনিক কে ভালোবাসে না , অন্য
কারো কাছে হারিয়ে ফেলা ভালোবাসা কল্পনায়
খুজে ফেরে অনিকের কাছে । অনিকের
চোখে খোজে ঐ ছেলেটির চোখ ,অনিকের
হাসিতে খুজে ফিরত সেই
চেনা মুখটিকে যে তাকে কাদিয়ে চলে গেছে অন্য
কাউকে হাসাতে ।
কথাটা শোনার পর নিরব নিথর ভগ্নহৃদয়
নিয়ে অনিক অনেক কষ্টে অর্পনার
সামনে থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলো ।
ব্যাথা ভূলতে অনিক দেশ ছেড়ে দেবার মত
সিদ্ধান্ত নিতেই অনিকের পরিবার দ্বিমত
করলোনা ।
অর্পনা অনিকে ফেরাবার চেস্টা না করেই
বাসা থেকে ঠিক করা পাত্রের
সাথে বিয়েতে রাজী হয়ে গেলো । অনিক আর
অর্পনা দুজনাই এখন দুমেরুর বাসিন্দা । কিন্তু
হঠাত অনাকাঙ্খিত দেখা হয়ে যাওয়ায়
অনিকের মনের পুরাতন ক্ষতটা আবার
অগ্নিগিরী মত জেগে উঠেছে ।
মাঝপথে যাত্রাবিরতিতে অনিক বাস
থেকে নেমে পাশের দোকান
থেকে একটা সিগারেট জালিয়ে বাসের
দিকে তাকাতেই চোখে পড়ল অর্পনা তার
দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । অনিক
সিগারেট টা শেষ করে পেছন
দিকে হাটতে হাটতে চলে গেলো অচেনা পথ
ধরে ।
বাসটা বিরতি শেষে ছেড়ে গেলো কিন্তু
অনিক আর ফিরে গেলোনা তার সীটে ।
আস্তে আস্তে বাস
সামনে এগিয়ে যেতে থাকল আর
অর্পনা জানালা থেকে যতদূর সম্ভব অনিকের
দিকে চেয়ে থাকল । সামনের দোকান
থেকে আবার একটা সিগারেট
ধরিয়ে পিছনফিরেআ হাটতে লাগল অনিক ।
সেই দুরত্ব যা কয়েকবছর আগেই বিস্তৃত রুপ
লাভ করেছে তা আজ আবারও দীর্ঘায়িত
হলো ।
কিছু স্বার্থপর মানুষ হয়ত বা এমনই হয়
যারা যুগে যুগে অর্পনার
প্রতিচ্ছবি হয়ে অনিকদের
ব্যাথাকে অগ্নিগিরিতে রুপ দেয় । নিজের
স্বার্থে কারো আবেগ
নিয়ে খেলা করতে একটুও খারাপ
লাগেনা তাদের । নিস্পাপ ভালোবাসার
সংঙ্গা কে কলুষিত করতে তাদের বিবেকবোধ
জাগ্রত হয় না । নারীসমাজকেই
তারা বানিয়ে তোলে অনিকদের
চোখে প্রতারক মহল । গোয়ালপোড়া গরু যেমন
সিঁদুরেমেঘ দেখলেই ভয়ে দৌড়ে পালাই
অনিকও তেমনি নারীসংঙ্গে ছলনার
প্রতিমূর্তি দেখে আতকে ওঠে । এদের জন্য
সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত শাস্তির
অপেক্ষা ছাড়া অনিক অন্য কিছুই
আশা করেনা ।মানুষ এতটা স্বার্থপর
কিভাবে হয় ? ভালোবাসাকে অসম্মান করার
এরকম শত শত ঘটনা সমাজে ঘটে চলেছে ।
ধিক্কার নারীরুপি ঐসকল ডাইনিদের , ধ্বংস
যাদের জন্য অনিবার্য আর সুখ যাদের জন্য
অভিশপ্ত ।