ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি ইচ্ছুকদের জন্য কিছু কথা

Now Reading
ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি ইচ্ছুকদের জন্য কিছু কথা

শুধুমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং এর স্টুডেন্ট যারা এবার ভর্তি ভর্তি পরীক্ষা দিবে তাদের উদ্দেশ্য কিছু কথাঃ
এই সময়টা অনেক মূল্যবান। কি ভাবছেন? শুধু আপনার জন্যই মূল্যবান এই সময়টা? তাহলে আমার উত্তর হল না। কেননা আপনার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার মাধ্যমে আপনার মা বাবা রঙিন স্বপ্ন বাস্তব হবে, আপনার আত্মীয়দের নিকট, বন্ধুদের নিকট, প্রতিবেশীদের নিকট আপনার মা,বাবা আর আপনার মর্যাদা অনেকাংশে বেড়ে যাবে। কেন এই কথা বললাম তা আপনি ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পরই বুঝতে পারবেন। দেখবেন যে আপনাকে এখন নিজের পরিচিত বলে পরিচয় দিতেই ভয় পায় সেই আপনাকে তখন আপনার বন্ধু আত্মীয় বলে পরিচয় দেবে। এটাই বাস্তব। আপনার এলাকার সবচেয়ে দামী টিউশনিটা আপনি এ পাবেন। হয়তোবা আপনি তখন তাও পড়াতে চাইবেন না। আগেই তো বললাম আপনি তখন অন্য স্থানে চলে যাবেন। আর একটা অাদর্শ প্রতিষ্ঠানে আপনাকে পড়তে হবে। সেই অাদর্শ প্রতিষ্ঠানটি অবশ্যই পাবলিক হতে হবে তা নয় কিন্তু পাবলিক প্রতিষ্ঠানে যে সুবিধা আপনি পাবেন একটা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে সে সুযোগ আপনি পাবেন না। তাই যারা এই পাবলিক হিসেবে খ্যাত প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চান তাদের জন্য কিছু কথা বলছি। কথাগুলো আমার বড়ভাই এর মুখে শোনা। উনি এখন একজন ইঞ্জিনিয়ার।
১. সব প্রবলেম বুঝতে চেষ্টা করেন, সাথে সাথে প্র্যাকটিস বাড়ান। মনে রাখবেন যত প্র্যাকটিস করবেন সমস্যা সমাধান করতে তত কম সময় লাগবে। আপনি সব উত্তর করতে পারবেন না। তাই মোট সময়কে প্রশ্ন সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রতি প্রশ্নের জন্য সময় বরাদ্দ করবেন না। এতে আপনার নিজের ভিতর একটা ভীতি চলে আসতে পারে। তাই এইসব কাজ করে সময় নষ্ট না করে চেষ্টা করুন কত কম সময়ে আপনি সমস্যা সমাধান করতে পারেন। মনে রাখবেন একটা প্রশ্নের সমাধানে আপনি যত কম সময় ব্যবহার করবেন অন্য একটি প্রশ্নের জন্য ঠিক তত সময় আপনি বেশি পাবেন।

২. সমস্যার চিত্র একে সমাধান করার চেষ্টা করুন কারন কোন সমস্যার চিত্র আঁকলে আর মাথা দিয়ে কল্পনা করতে হয় না আর সময়টাও কম লাগে। আপনি যখন একটা চিত্র একে সমস্যার সমাধান করবেন তখন সেটা আপনি আর কখনো না ভুলার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ একটা মুখস্থ করা পড়া আপনি একবার ভুলে গেলে আপনি আর মনে করতে পারবেন না। আর পারলেও তাতে অনেক সময় পর পারবেন। তার মানে সময় অপচয়। কিন্তু যখন আপনি ব্যবহারিক ভাবে পড়াটি পরবেন তখন সেটা আপনার মুখস্থ করে সময় নষ্ট করতে হবে না আর দ্রুততার সাথে আপনি যে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। আর এর জন্যই আপনাদের অতীতে গ্রুপ ভিত্তিক বিষয়গুলোতে ব্যবহারিক করানো হয়েছে।

images(2).jpgo

৩. বেশি কঠিন অংক দেখে ঘাবড়ানোর কিছু নেই।প্রতিবারই ত্যাঁদড় মার্কা কিছু অংক পরীক্ষায় আসে যেগুলো দেখে মাথা গরম করছেন তো ঝামেলায় পরছেন। কথিত আছে যে ভর্তি পরিক্ষায় যে যত ছাড়তে পারে তার সম্ভবনা তত বেশি। তো সব প্রশ্নের উত্তর করা থেকে বিরত থাকাই ভালো।

৪. গাধা খাটুনির কোনো দরকার নেই। প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা পড়তে হবে, এই সময় একটি ঘণ্টা নষ্ট করিলেও আমার চলিবে না বিষয়টা এমন না। বুদ্ধি খাটিয়ে ৫-৬ ঘণ্টা নিয়মিত পড়াশুনা করলে চান্স মোটামুটি নিশ্চিত। কিন্তু যে সময়টুকু আপনি পরবেন তখন যেন শুধু পড়ার ভিতরেই আপনার মন ব্যস্ত থাকে। অন্য কোনো বিষয় এই সময়ে ভাবা চলবে না।

৫. যারা একসাথে সব সূত্র মনে রাখতে পারেন না তারা আর্ট পেপারে সব সূত্র লিখে নিজের রুমে টাঙ্গিয়ে রাখতে পারেন তাতে প্রতিদিন উঠতে বসতে এগুলো দেখলে মনবে রাখতে অনেক সুবিধা হবে। হয়ত এটাই আপনার সাথে আপনার প্রতিযোগীদের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
৬. শর্টকাট মনে রাখতে গিয়ে আসল সূত্র ভুলে যাবেন না কারন পরীক্ষাতে অধিকাংশই আসল সূত্র দিয়ে অংক করে না। কারন এত অল্প সময়ে এগুলো এত মনে থাকেনা। কিন্তু এতে অনেক সমস্যা আছে। কারণ অনেক অংক শর্টকাট দিয়ে নাও মিলতে পারে। তখন শর্টকাট দিয়ে একাধিকবার চেষ্টা করলে আপনার সময়ের অপচয় হতে পারে। তাই আসল সূত্র মনে রাখা খুব জরুরি। কারণ আপনি কখনো চাইবেন না যে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট হোক। আর “একবার না পারিলে দেখ শতবার” এই কথাটি অন্তত এক্সাম এর সময়টাতে আপনার ভুলে যাওয়াটাই উত্তম। তা না হলে আপনার স্বপ্ন হয়তো স্বপ্নই থেকে যেতে পারে।
৭. এখন আপনার বন্ধু কি করছে বা সে কত ঘণ্টা পড়ছে তা ভেবে সময় নষ্ট করবেন না। কেননা আপনার বন্ধু আর আপনার মেধা এক না। সবসময় ভাবার চেষ্টা করবেন আপনি আপনার বন্ধুর থেকে কম পারেন আর আপনাকে আরো অনেক বেশি চেষ্টা করতে হবে।
৮. কোচিং এর ক্লাসগুলো নিয়মিত করবেন। আর প্রথম থেকেই গুরুত্ত সহকারে করবেন। ফাঁকি দিলে আপনার নিজেরই ক্ষতি।
পরিশেষ এ বলতে চাই একটা মূল্যবান কথা। দয়া করে “কখনো অতীতকে ভুলে যাবেন না”। কেননা আপনার আজকের অবস্থানের মূলে আপনার অতীত।
সবাই তো আর পাবলিক এ পড়ার সুযোগ পাবে না। তাই আপনি পেয়েছেন বলে তাদের সাথে ভাব দেখাবেন না। মনে রাখবেন আপনি আর আপনার বন্ধুও এক্সাম এর আগে সমান ছিলেন। বাবা-মা কে অনেক সন্তানই একটা ভালো স্থানে চলে যাওয়ার পর বোঝা মনে করে। আমি ধিক্কার জানাই তাদেরকে। দয়া করে আপনি যেন এমনটা না হন। হয়ত তাহলে আগামীতে অন্য কেউ ধিক্কার জানাবে।
মানুষকে ভালোবাসুন। আপনার কাছে হয়ত অনেকে বিপদে আছে। তার দিকে আপনার মূল্যবান সহায়তার হাতটি বাড়িয়ে দিন। মনে রাখবেন আপনার সৃষ্টিকর্তা আপনাকে তখনি সহায়তা করবেন যখন আপনি তার সৃষ্টিকে সহায়তা করবেন।
সবার জন্য শুভকামনা রইলো। ধন্যবাদ

images(1).jpg