বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন “সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মা”

Now Reading
বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন “সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মা”

বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির অর্থাৎ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে ভারত, যার নাম ‘ব্রহ্মা’। তারা ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল উৎক্ষেপণও করেছে।  এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের হাতে থাকার খবরে চিন্তিত ন্যাটো বাহিনীও। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের দ্রুত উত্থান অশনিসংকেত হিসেবে বিবেচনা করে প্রতিবেশী দুই দেশ চীন ও পাকিস্তান। এদিকে ব্রহ্মার সফল উৎক্ষেপণ এর পর বিগত দেড় দশকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ভারতের দ্রুত উত্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রহ্মা’ই ভারতের প্রথম কোনো ক্ষেপণাস্ত্র, যার কার্যক্ষমতা ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বজায় থাকবে। তবে  ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি হয়েছে ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে যা দ্রুতবেগে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দুই পরাশক্তির যৌথভাবে তৈরি ব্রহ্মা বিশ্বের সমরাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। খাড়াখাড়িভাবে উৎক্ষেপণে সক্ষম হওয়ায় এ ক্ষেপণাস্ত্র রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম। যদিও রাডার ব্রহ্মাকে চিহ্নিত করতে পারে কিন্তু মাঝপথে তা থামিয়ে কিংবা রুখে দেওয়া কার্যত কঠিন হবে। ভারত তার ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির মাধম্যে মার্কিন টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকেও বহু পেছনে ফেলে দিয়েছে। যেখানে টমাহক ক্রুজ মিসাইলের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯০ কিলোমিটার সেখানে ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৭০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ টমাহকের চেয়ে প্রায় ৪গুন বেগে লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ব্রহ্মা। বলা চলে ভারতের ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়কেই টেক্কা দিয়ে দিয়েছে।

রাশিয়া তার নিজের সামরিক বাহিনীর জন্যও ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্রের একটি সংস্করণ তৈরি করেছে, তবে ভারতেরটির তুলনায় তার পাল্লা কম। ভারতের ব্রহ্মা সংস্করণটির আওতা বাড়িয়ে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। ব্রহ্মার দুটি সংস্করণ ইতিমধ্যেই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যার একটি ভূমি এবং অপর সংস্করণটি জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য। তবে শীঘ্রই যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপণযোগ্য অপর দুটি সংস্করণও ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির অপেক্ষায়।

ভারতে ওডিশার চণ্ডীগড়ে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক মিসাইল ফ্রিগেট থেকে ব্রহ্মার সফল উৎক্ষেপণ করা হয়। এটিকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন স্থল, রণতরী, সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমান থেকে সহজেই নিক্ষেপ করা যায়।

তিস্তা চুক্তি ও তার পানি বণ্টন প্রশ্ন!

Now Reading
তিস্তা চুক্তি ও তার পানি বণ্টন প্রশ্ন!

তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি আবারো সামনে চলে এসেছে। সম্প্রতি শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন এবং বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারত গমন করেছিলেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর একই অনুষ্ঠানে ছিলেন পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানারজি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অনুষ্ঠান পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গের তাজ বেঙ্গল হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী একান্তে বৈঠক করেছেন মমতা ব্যানার্জি। উক্ত বৈঠকটি বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়, স্বাভাবিকভাবে এপার বাংলার জনগণের আসার সঞ্চার হয়।

বৈঠক শেষে মমতা ব্যানার্জি যখন গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার তিস্তা পানি-বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তখন সবার আশা আকাঙ্খা প্রবলভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু আশায় কিছুটা ভাঁটা পরেছে যখন মমতা আলোচনার বিষয়বস্তু এখনই প্রকাশ করবেন না বলে জানান। ছিটমহলের মতো বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়েছে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে। কিন্তু তিস্তার এই পানি বণ্টন চুক্তিটি বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। কার্যত কোন সমাধানই হচ্ছেনা, এর প্রধান কারন মমতা ব্যানারজির একগুয়ামি। মমতা ব্যানার্জি বরাবরই বলে আসছেন, সিকিমে অনেকগুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হয়েছে তারা প্রতিটি প্রকল্পের জন্যই নদীর পানি সাময়িকভাবে ধরে রেখে তারপরে ছাড়ে। এসব প্রকল্পে সাময়িকভাবে পানি ধরে রাখার ফলে পশ্চিমবঙ্গে আসার পরে তিস্তার প্রবাহ খুবই ক্ষীণ হয়ে গেছে। এই অল্প পরিমাণের পানি দিয়েই পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের চাষের প্রয়োজন মেটানো যাচ্ছে না। সুতরাং বাংলাদেশকে পানি দেয়ার পূর্বে তাকে তার নিজের রাজ্যের কৃষকদের প্রয়োজনের কথাটাই অগ্রাধিকার পাবে। স্বাভাবিকভাবে তার কথায় যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়, কিন্তু মিথ্যে অজুহাতে দিনের পর দিন এভাবে পানি ধরে রেখে বাংলাদেশের সাথে এক প্রকার বিমাতা সুলভ আচরণ করছে মমতা। বাংলাদেশকে পানি ছাড়লে পশ্চিমবঙ্গে শুষ্কতা দেখা দেবে এমন টুনকো যুক্তিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা শুরু থেকেই এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে আছেন। তবে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এর সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে তিস্তার পানি-বণ্টন নিয়ে মমতা ব্যানার্জি আগের অনড় অবস্থান থেকে সড়ে আসছেন। অর্থাৎ বলা যায় তিস্তার বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বরফ আস্তে আস্তে গলতে শুরু করেছে। তবে এটা ভেবে আনন্দে আত্মহারা হলে বোকামি হবে

মুখ্যমন্ত্রী মমতা তিস্তার পানি-বণ্টন নিয়ে খোলা খুলি কোন প্রতিশ্রুতি দেননি। তাছাড়া দুই দেশের ঘনিষ্ঠ কোন পক্ষই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, ফলে এখনই নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না তিস্তা নিয়ে মমতা তাঁর অবস্থান বদলেছেন। তবে সবপক্ষই এটা স্বীকার করছেন যে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে জটিল এ সমস্যার চটজলদি কোন সমাধান শিগ্রই হচ্ছেনা। চুক্তি বাস্তবায়নের পূর্ব শর্ত হিসেবে বেসিন ম্যানেজমেন্ট বা অববাহিকায় সুষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

গত বছর দুই দেশের বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক হলেও কার্যত বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষিত তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী সে সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দুই সরকারের মেয়াদ থাকা অবস্থাতেই এই চুক্তি স্বাক্ষর এবং বাস্তবায়ন হবে। এদিকে শান্তিনিকেতনে নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবন উদ্ভোধনের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছিলো সেখানে, তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যুটি ঘুরে ফিরে আলোচনায় এসেছে – এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ডিলিট ডিগ্রী গ্রহণ করার প্রাক্কালে এক ভাষণে মমতা ব্যানারজিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, – অনেক কিছুই বলার ছিল কিন্তু সেসব বলে এত সুন্দর একটা অনুষ্ঠান নষ্ট করতে চাইনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন কিছু বলতে চেয়েও অভিমান করে বললেননা। যাই হউক তিস্তা বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বৈরতা থাকা সত্ত্বেও আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন অনেকে। ইতিমধ্যে তিস্তা নিয়ে দুই দেশের যৌথ কমিশন কাজ শুরু করেছে।

 

হঠাৎ করেই বেড়ে গেল বাংলাদেশ থেকে ভারতে জ্বালানি তেল পাচার!

Now Reading
হঠাৎ করেই বেড়ে গেল বাংলাদেশ থেকে ভারতে জ্বালানি তেল পাচার!

ভারতে বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর পর প্রতিবেশীদেশ বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের ডিজেলের দামে অনেকটাই ব্যবধান তৈরি হয়ে গেছে। ফলশ্রুতিতে সীমান্ত এলাকায় ডিজেলের চোরাচালান পূর্বের চেয়ে হটাত করেই আবার বেড়ে গেছে। যদিও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ দাবি করছে ডিজেল পাচারের ঘটনা এখনও তেমন করে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছয়নি। এদিকে এই চোরাচালানের ফলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এর মধ্যেই বিপুল রাজস্ব হারানোর সম্ভাবনা করছে। তাই তারা সীমান্ত এলাকার পেট্রোল পাম্পগুলোতে গুরুত্ব দিয়ে মনিটরিংও শুরু করেছে। এদিকে ভারতের অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারত যতদিন না জ্বালানি তেলে শুল্ক ও করের পরিমাণ কমাচ্ছে ততদিন তেল এই পাচারের সমস্যা থেকেই যাবে।

ভারতে ডিজেলের দাম এখন প্রায় প্রতিদিনই পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে যা দেশের গর রেকর্ডে সর্বকালীন বেশি। বাংলাদেশের সাথে লাগোয়া সীমান্তবর্তী ভারতের আসাম বা পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ৭১ রুপিতে, যা বাংলাদেশের ৮৮ টাকার সমান। তার বিপরীতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ডিজেলের দাম মাত্র ৬৫ টাকা লিটার অর্থাৎ টাকার হিসেবে ভারতে প্রায় ২৩টাকা বেশি হিসেবে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। আর এই কারণেই সীমান্ত এলাকা দিয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে ডিজেল সহ অন্যান্য জ্বালানি এবং হঠাৎ করেই তৎপর হয়েছে চোরাকারবারীরা। গবেষকদের মতে পাশাপাশি দুটো দেশে জ্বালানির দামে এতটা তারতম্য থাকলে স্মাগলিং ঠেকানো বেশ মুশকিল। যেহেতু সীমান্তও নিশ্ছিদ্র নয়, সেখানে জ্বালানি চোরাচালান সহজেই করা যায়। বস্তুত বাংলাদেশ বা আরও অন্যান্য সার্ক দেশে জ্বালানি পাচারের এই সমস্যাটা বারবার ঘটছে , পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে যদি জ্বালানির মূল্যের এই ফারাকটা থাকে তবে চোরা পথে পাচারও ঘটবে। আশার কথা হচ্ছে- হয়তো তারা বিরাট কোনও স্কেলে করতে পারবে না, অর্থাৎ ট্যাঙ্কার বা লড়িতে করে হয়তো তেল পাচার করা যাবে না – কিন্তু ছোট ছোট মাপে এটা পাচার হবেই।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বা বিপিসি-র শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাদের ভর্তুকি দেওয়া ডিজেল যে ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে তারা এই সমস্যা সম্পর্কে অবহিত। বিপিসির ভাষ্য, “বাংলাদেশ সরকার প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় বাইশ-তেইশ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এখন সীমান্ত এলাকার পাম্পগুলোতে ডিজেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে কি না তাও বলা মুশকিল। তবে তারা তাদের সকল তেল কোম্পানিকে আদেশ দিয়েছে তারা যেন ওখানকার সব পাম্পে ভাল করে যাচাই-বাছাই করে তার পরেই তেল দেয়।” এদিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তারা বলেছেন তা হল- “বেনাপোল বা বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে শত শত ট্রাক আসে মাল নিয়ে তারা ট্যাঙ্ক প্রায় খালি করে বাংলাদেশে ঢোকে আর ফিরে যাওয়ার সময় ট্রাকের ট্যাঙ্ক পুরোটাই ভর্তি করে নিয়ে যায়। চোখের সামনে প্রতিদিন এভাবে একশো থেকে দেড়শো ট্রাক সস্তার ডিজেল পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে।

বিএসএফ দাবি করছে, ফেন্সিডিল বা গরুর মতো অত সহজে এই দাহ্য পদার্থটি পাচার করা যায় না। তারা বলছে ভারতে ডিজেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি হলেও এই মার্জিনটা তত লোভনীয় নয়। তারা হয়ত তাদের স্বপক্ষে বক্তব্য দিতেই পারে, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যেকার চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত দিয়ে ছোট ছোট জ্যারিকেন বা কন্টেনারে করে ডিজেল পাচারের ঘটনা সম্প্রতি খুব বেড়ে গেছে। একদিকে ডিজেলে বাংলাদেশের ভর্তুকি অন্যদিকে ভারতে বসানো শুল্ক। সবমিলিয়ে ডিজেল এখন চোরাকারবারিদের অন্যতম লাভের হাতিয়ার।
ভারতের বিজেপি সরকার ২০১৪ পরবর্তী এ পর্যন্ত মোট ৯বার জ্বালানি তেলের ওপর এক্সাইজ ডিউটি বাড়িয়েছে বিপরীতে কমিয়েছে মাত্র ১বার। বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ বর্ডারে জ্বালানি তেলের সহজলভ্যতা রোধ করে কঠোর নজরদারি বাড়ানো, অন্যথা রাষ্ট্র হারাবে তার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তানের ফাইনাল যাত্রা

Now Reading
আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তানের ফাইনাল যাত্রা

pak.jpg

ক্রিকেট মানেই অনিশ্চয়তার খেলা, যে খেলার রঙ মুহূর্তেই পাল্টে যায়, সব হিসাব নিকাশের খাতা উল্টে দেয়।

ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে আনপ্রেডিক্টেবল দল বলতে যে দলকে বুঝায়, সে দল হল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। হারা ম্যাচ জিতে যাওয়া, জিতা ম্যাচ হেরে যাওয়ার বহু নজির রয়েছে এই পাকিস্তান ক্রিকেট দলের।

এইতো সেই দিন, যেদিন খাঁটি পাকিস্তান দলের সাপোর্টারও আশা করে নাই যে পাকিস্তান সেমি ফাইনাল অথবা ফাইনালে যাবে, সেই পাকিস্তান দলই এখন সেমি ফাইনালের বাঁধা টপকে এখন ফাইনালে পৌঁছে গেছে! তাও আবার ইংল্যান্ডের মত জায়ান্ট দলকে হারিয়ে।

কথাটা অবাক লাগলেও আর মিথ্যা না, এটাই সত্য। চলুন দেখে নেই পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জার্নি কেমন ছিল।

ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল দল ও আট দলের মধ্যে সবার নিচের র‍্যাংকিং এ থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু করে পাকিস্তান।

প্রথম ম্যাচ ভারতের বিপক্ষেঃ

invp.jpg

এজবাস্টন মাঠে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে শেষ ৯ ম্যাচের ৭টিতে টসে হার দেখে পাকিস্তান। তবে বাকি দুইবার সফল টস শেষে ম্যাচে জয়ের স্মৃতি পাকিস্তানের।আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের দল ভারত নির্ধারিত ৪৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান তোলে। জবাবে, ওয়াহাব রিয়াজের ইনজুরিতে নামা না হলে ৩৩.৪ ওভারে বাকি সবক’টি উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস থামে ১৬৪ রানের মাথায়।

হাইভোল্টেজ ম্যাচে বৃষ্টির জন্য পাকিস্তানের ইনিংস দেরিতে শুরু হওয়ার টার্গেট ছিল ৪১ ওভারে ২৮৯ রান। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে ১২৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে দেয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে।আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে দীর্ঘ আট বছরে জয়ের স্মৃতি নেই পাকিস্তানের।

দ্বিতীয় ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেঃ ind.sa.jpg

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আগের টানা ছয় ম্যাচে হারের স্মৃতি ছিল পাকিস্তানের। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কুলীন এ ওয়ানডে আসরে পাকিস্তান সর্বশেষ জয় দেখেছিল ২০০৯-এ ভারতের বিপক্ষে।চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ‘বি’ গ্রুপে বাঁচা-মরার ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে যায় পাকিস্তান।ব্যাট হাতে শুরুটা খারাপ ছিল না প্রোটিয়াদের। ওপেনিং জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর বোর্ডে ৪০ রান জমা করেন হাশিম আমলা ও কুইন্টন ডি কক। তবে দলীয় ১১৮ রানে প্রোটিয়াদের শীর্ষ ৬ উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন পাকিস্তানি বোলাররা। পাঁচ নম্বরে ব্যাট হাতে ডেভিড মিলারের ১০৩ বলের হার না মানা ৭৫ রানের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত দলীয় ২১৯ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।জবাবে ৭.২তম ওভারে দলীয় ৪০ রানে প্রথম উইকেট খোয়ায় পাকিস্তান।প্রোটিয়া পেসার মরনে  মরকেলের ডেলিভারিতে হাশিম আমলার হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে ২৯ বলে ৩১ রান করেন পাকিস্তানের অভিষিক্ত ওপেনার ২৭ বছর বয়সী ফখর জামান।২৩.২তম ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ পৌঁছে ৯২/৩-এ।পাকিস্তান ইনিংসের ২৭তম ওভার শেষে বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এ সময় ১১৯/৩ সংগ্রহ নিয়ে বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে এগিয়ে ছিল পাকিস্তান। ফলে আর খেলা না হওয়ায় বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে জয় পায় পাকিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস: ২১৯/৮ (৫০ ওভারে) (ডি কক ৩৩, আমলা ১৬, ডু প্লেসি ২৬, ডি ভিলিয়ার্স ০, মিলার ৭৫*, ডুমিনি ৮, পারনেল ০, মরিস ২৮, রাবাদা ২৬, মরকেল ০*; আমির ৫০/০, জুনায়েদ ৫৩/২, ইমাদ ২০/২, হাফিজ ৫১/১, হাসান ২৪/৩, শাদাব ২০/০)।

পাকিস্তানের ইনিংস: ১১৯/৩ (২৭ ওভারে) (আজহার ৯, ফখর ৩১, বাবর ৩১*, হাফিজ ২৬, মালিক ১৬*; রাবাদা ৩৬/০, পারনেল ২৫/০, মরকেল ১৮/৩, মরিস ২২/০, তাহির ১৬/০।

তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষেঃsri.jpg

‘বি’ গ্রুপ এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৪৯ দশমিক ২ ওভারে ২৩৬ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। জবাবে ৩১ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে ২৩৭ রান তুলে জয়ের স্বাদ পায় পাকিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলংকা : ২৩৬/১০, ৪৯.২ ওভার (ডিকেবলা ৭৩, ম্যাথুজ ৩৯, জুনায়েদ ৩/৪০)।
পাকিস্তান : ২৩৭/৭, ৪৪.৫ ওভার (সরফরাজ ৬১*, জামান ৫০, প্রদীপ ৩/৬০)।
ফল : পাকিস্তান ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : সরফরাজ আহমেদ (পাকিস্তান)।

সেমি ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেঃPak125.jpg

সেমিফাইনালের লড়াই। যে দল জিতবে সেই দল টুর্নামেন্টে টিকে থাকবে। মানে, পেয়ে যাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের টিকিট। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, হারলে নিশ্চিত হবে বিদায়। এমনই এক ম্যাচে কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড।পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলতে থাকা ইংল্যান্ড এই আসরের অন্যতম ফেবারিট।গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে যেতা ইংল্যান্ডের জন্য জয়টা কোন কঠিন কিছু ছিল না। কিন্তু প্রতিপক্ষ যে পাকিস্তান, যে দল যে কোন মুহূর্তে যে কোন কিছু ঘটাতে পারে, তাই সবার চোখ ছিল দুই দলের লড়াইয়ের দিকে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ডের শুরু আর শেষটা হলো ভিন্ন। পাকিস্তানি বোলারদের তোপে নির্ধারিত ৫০ ওভারই ব্যাট করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ৪৯.৫ ওভারে ২১১ রানে অলআউট হয় ইয়ন মরগানের দল।জো রুট সর্বাধিক ৪৬ এবং ওপেনার বেয়ারস্টো ৪৩ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া স্বাগতিক দলের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস ও অধিনায়ক ইয়োইন মরগান করেছেন যথাক্রমে ৩৪ ও ৩৩ রান।পাকিস্তানের হয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন হাসান আলী। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন জুনায়েদ খান ও অভিষেক পাওয়া রুম্মন রইস।জয়ের জন্য ২১২ রানে লক্ষ্যমাত্র নিয়ে খেলতে নেমে মাত্র ৮ উইকেট হারিয়ে ১১.৫ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় পাকিস্তান। বাবার আজম ৩৮ এবং মোহাম্মদ হাফিজ ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড: ৪৯.৫ ওভারে ২১১ (বেয়ারস্টো ৪৩, হেলস ১৩, রুট ৪৬, মরগান ৩৩, স্টোকস ৩৪, বাটলার ৪, মঈন ১১, রশিদ ৭, প্লানকেট ৯, উড ৩, বল ২*; জুনায়েদ ২/৪২, রইস ২/৪৪, ওয়াসিম ০/১৬, শাদাব ১/৪০, হাসান ৩/৩৫, হাফিজ ০/৩৩)

পাকিস্তান: ৩৭.১ ওভারে ২১৫/২ (আজহার ৭৬, জামান ৫৭, বাবর ৩৮*, হাফিজ ২৭*; উড ০/৩৭, বল ১/৩৭, স্টোকস ০/৩৮, প্লানকেট ০/৩৩, রশিদ ১/৫৪, মঈন ০/১৫)

ফল: পাকিস্তান ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: হাসান আলি (পাকিস্তান)।

ফাইনালে পাকিস্তান দল আজ দ্বিতীয় সেমি ফাইনালে মুখোমুখি দল বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে জয়ী দলের সাথে মোকাবেলা করবে। এখন দেখার বিষয় পাকিস্তান ফাইনালে কেমন করে।

যদি বাংলাদেশের ড্রোন বিমান থাকতো!

Now Reading
যদি বাংলাদেশের ড্রোন বিমান থাকতো!

কয়েক মাস আগেই বাংলাদেশের নৌ-বহরে যুক্ত হয়েছে দুটি সাবমেরিন। সাবমেরিন দুটি নেয়া হয়েছে চীন থেকে। আর তাতেই প্রতিবেশী দেশ ভারতের মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল: বাংলাদেশের কেন সাবমেরিন নিতে হল? কি প্রয়োজন তাদের? তাদের তো কোনো শত্রু নেই। তাহলে?

খুব হেসেছিলাম সেই সময় তাদের কিছু রাজনীতিবিদ এর কথা শুনে। আমাদের যে কারা শত্রু আর কারা মিত্র সেটা আমরা বাংলাদেশীরা খুব ভালো করেই জানি। ৭১’ এ শরণার্থী আশ্রয়, অস্ত্র দিয়ে সাহায্য আর কয়দিন লোক দেখানো যুদ্ধ দেখিয়ে যারা বলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা তো ভারতের দান, তারা কি করে বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র হয়? সীমান্তে নির্বিচারে বন্ধু রাষ্ট্র ভারত আমাদের দেশের মানুষ হত্যা করে। ওহ আচ্ছা! বন্ধু রাষ্ট্র বলে কথা। আর পাকিস্তানের কথা তো বাদই দিলাম, ওরা কি কোনো জাতি হলো নাকি?

তো যা বলছিলাম আরকি! বাংলাদেশের সাবমেরিন কেনা দেখে ভারতের তো মাথা এমনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছে! না জানি পাকিস্তানের ছেঁড়া তার আরো ছিঁড়ে গিয়েছে কিনা? ওরা তো এমনিই বাংলাদেশকে ভয় পায়। তো, ভারতীয় রাজনীতিবিদরা আসলেই ভড়কে গিয়েছিল। কে বলেছে বাংলাদেশের কোন শত্রু নেই? পাকিস্তান তো এমনিই চিরশত্রু।  জাত শত্রু। দেশের মানুষ ভারতকেও আজকাল সহ্য করতে পারেনা। বেশ আগে বাংলাদেশীজম এর ইউটিউব চ্যানেলে নাহিদ ভাইকে দেখেছিলাম ভিডিও তৈরী করেছেনঃ যদি বাংলাদেশের পারমাণবিক বোমা থাকতো?

আসলেই তো, বাংলাদেশের পারমাণবিক বোমা থাকলে ভারত আর পাকিস্তানের সাথে আমরাও সমানে সমান থাকতাম, পাকিস্তান তো এমনিই ভয়ে চুপ করে থাকে, কিন্তু ভারত তো সবসময় চেষ্টা করে আমাদের দেশটাকে কিভাবে চাপে রাখা যায়, কেন? আমরা ছোট দেশ বলে? পশ্চিম বাংলার দাদাদের মুখে তো বাংলাদেশীদেরকে বলার জন্যে ঠোঁটের কোণায় গালি প্রস্তুত হয়েই থাকে। ঐ গালিগুলো “ভূতের মুখে রাম রাম” এর মত শোনা যায়। হাস্যকর বটে।

এইবার আসি আমাদের মূল আলোচনায়, সংবাদমাধ্যমে আমরা প্রায়ই দেখে থাকি, ভারত ড্রোন দিয়ে ঐ করেছে সেই করেছে, চীন আর পাকিস্তানকে চাপে রাখতে চায় তারা, আমেরিকা থেকে শক্তিশালী ড্রোন কিনবে ইত্যাদি ইত্যাদি, এমনকি বেশ আগে ২০১৩ সালে জার্মান ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ডয়েচে ভেলে কে সংবাদ করতে দেখেছিলাম যে, ভারত নাকি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ড্রোন মোতায়েন করেছিল বা করতে চেয়েছিল। তো, এই সব সংবাদের ভিত্তিতে যদি বলি আমাদের তথা বাংলাদেশেরও যদি মিলিটারি ড্রোন থাকতো, তাহলে কেমন হতো? কি হতো? চলুন একটু বিশ্লেষণ দেখে আসিঃ

আমরা প্রায়ই নিউজ দেখে থাকি, বিমানবন্দরে ড্রোন আটক। তবে এই ধরণের ড্রোনগুলো মূলত মিডিয়া বা ভিডিও ধারণ করার ক্ষেত্রে উপযোগী। এগুলো এদেশে ঢোকেও ব্যক্তিগত চালান হিসেবে কিন্তু বিমানবন্দরে আটকে দেয়ার সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে যা আমাদের মূল বিষয়বস্তু থেকে ভিন্ন। তাই ওসব নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছিনা। কিন্তু, আমাদের সরকার যদি সামরিক বাহিনীতে সামরিক বা মিলিটারি ড্রোন যুক্ত করে, তবে সেটা কিন্তু ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করি। ঠিক এই মুহুর্তে আমাদের হয়তো ভারত বা পাকিস্তানের মত পারমাণবিক বোমা নেই, হয়তো একদিন হবে কিন্তু সরকার চাইলে ড্রোনের ব্যাপারটা ভেবে দেখতে পারেন।

যতটুকে জেনেছি, ড্রোন অনেক রকমের হলেও মিলিটারি ড্রোনের ক্ষেত্রে মূলত দুই প্রকার ড্রোন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

১। সার্ভেইলেন্স ড্রোন

২। লিথাল ড্রোন

সার্ভেইলেন্স ড্রোন মূলত নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই ড্রোনের মাধ্যমে ছবি ও তথ্য পাওয়া যায়। অন্যদিকে লিথাল ড্রোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

আমাদের যদি ড্রোন বিমান থাকতো, তাহলে ভারত আর পাকিস্তান এটা নিয়ে একটু হলেও চাপে থাকতো, বিশেষ করে ভারত। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এরা সবাই আমাদের মিত্র। আমাদের সরকার চাইলেই এদের কাছ থেকে ড্রোন বিমান কিনতে পারে। হ্যাঁ, আমাদের অর্থনীতি খুব বেশি বড় নয়; আবার দিনে দিনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধও হচ্ছে কিন্তু। আমাদের ইকোনোমি দিন দিন বাড়ছে। পাশের দেশ ভারতের ড্রোন রয়েছে, তারা বড় দেশ, তাদের বাজার বড় হলেও তাদের ইকোনোমি কিন্তু সেভাবে উপরে উঠছে না। সেদিক দিয়ে তাকালে আমরা ছোট দেশ হয়েও তাদের সাথে সমান তালে পাল্লা দিয়ে উপরে উঠছি। যদিও তারা বাংলাদেশকে টেনে ধরে নিচে নামানোর চেষ্টায় ব্যস্ত! তো, আমাদের যা অর্থনীতি আছে, তা দিয়ে আমরা ড্রোন কিনতেও পারি, আবার নিজেদের প্রযুক্তি দিয়েও ড্রোন তৈরী করতে পারি। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা কিন্তু প্রায়ই বিভিন্ন ধরণের ড্রোন বানিয়ে থাকে, তাদের সেই মেধা আছে। সরকারী সহযোগীতা আর বিজ্ঞানীদের সাহায্য পেলে আমরা নিজেরাই নিজেদের দেশের সুরক্ষার জন্য মিলিটারি ড্রোন তৈরী করতে পারি। আমাদের তো অন্য দেশের সাথে আসলেই কোনো শত্রুতা নেই কিন্তু শত্রুতা হবেনা এমনটা কোথাও তো বলা নেই তাইনা? নিজের দেশকে সুরক্ষা করতে আমরা সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকতে চাইবো এটাই স্বাভাবিক। ভারত যদি সীমান্তে ড্রোন আনতে চাইতে পারে, আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো? চোরাচালানি কি শুধু বাংলাদেশীরা একাই করে, না ভাই, এক হাতে তালি বাজেনা, দেখেন গিয়ে, ওরাই বেশী ওস্তাদ এসব কাজে। আমাদের ড্রোন বিমান থাকলে, পরবর্তীতে যদি পারমাণবিক শক্তিও আসে, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, পাশের দেশ আমাদেরকে আর বাঁকা চোখে দেখবে না। সীমান্তে মানুষ মারার জন্য রাইফেলের ট্রিগার চাপার আগে একশবার ভেবে দেখবে। আমাদের নদীর পানি চুরি করার আগে মমতা ব্যানার্জিও ভেবে দেখবে কি করা উচিত। দেখা যাবে দিল্লী থেকে আমাদের সরকারের ওপর আর চাপ আসছে না, বরং আমরাই চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের ন্যায্য সুবিধা আদায় করে নিতে পারবো। এখানে পাকিস্তানের কথা তো বাদই দিলাম। একটা কথা আছে, “শক্তের ভক্ত, নরমের যম”- সেটাই প্রয়োগ করতে চাই।

আমরা চাই, আমাদের দেশের সামরিক শক্তি আরো শক্তিশালী হোক, সাবমেরিন যদি আসতে পারে, ড্রোন কেন বাকি থাকবে? নিজেদের সামরিক ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে দোষ কিসের? আমাদের পাশের দুই দেশ ভারত আর বার্মার ওপর তো বিশ্বাস নেই। আমরা কেন চাইবো মাঝখানে কোণঠাসা হয়ে থাকতে? আমাদের কি নেই? আমাদের জিডিপি দিন দিন বাড়ছে, বাইরের বিশ্বে বাজার সম্প্রসারণ করছি আমরা, আমাদের অর্থনীতি দিন দিন উপরে উঠছে। আমাদের দেশে দূর্নীতি কমে গেলে, রাজনীতিবিদরা নিজের স্বার্থকে বাদ দিয়ে দেশের দিকে তাকালে এই এশিয়ার সবচাইতে প্রভাবশালী আর ধনী দেশ হবার ক্ষমতা আমরাও রাখি।

আমরা চাইনা, ফেলানীর মত কোনো বোনের লাশ কাঁটাতারে আর ঝুলে থাক, আমরা এটাও শুনতে চাইনা, দিল্লী ঢাকার ওপর চাপ প্রয়োগ করছে সামরিক চুক্তির জন্য, দেখতে চাইনা ভারতীয় আর পাকিস্তানিদের আমাদের দেশকে নিয়ে ট্রল করার দুঃসাহস, শুনতে চাইনা ভারতীয়দের কাছে যে আমরা তাদের দয়ায় স্বাধীনতা পেয়েছি বা তারা আমাদের স্বাধীন করে দিয়েছে। না, আমরা স্বাধীন হয়েছি ৩০লক্ষ প্রাণ আর দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে।

আমরা চাই, সত্যিকার বাংলাদেশী হয়ে বাঁচতে। এই দেশ আমার মা, আমার রক্তে আমার বাংলা ভাষা!