1
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
ফ্রেশ!
REGISTER

হয়তো প্রেমের গল্প

Now Reading
হয়তো প্রেমের গল্প

সূচনা –

প্রথম প্রথম সব কিছু ভালো লাগে । যেমন, প্রথম দিন স্কুলে যাওয়া । সবার ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা এক না । কিন্তু প্রথম স্কুল জীবন পেরিয়ে কলেজে যাওয়াটা কিন্তু সবার কাছে আনন্দের । আবার কলেজ পেরিয়ে ভার্সিটি , এইটা মনে পড়লে নিজেকে তখন অনেক বড় বড় লাগে । ঠিক আমার প্রথম দিনটাও ছিল স্মরণীয় । ভার্সিটির প্রথম দিন আমি র‍্যাগিং নামক একটি বস্তুর সম্মুখীন হয়েছিলাম । আমাকে বলা হয়েছিল পানিওয়ালা ডান্স নামক গানের সাথে নাচতে । আমি জীবনে কখনো নিজের অজান্তে নাচ করিনি । সেদিন আমাকে বাধ্য হয়ে করতে হয়েছিল । আমার পাশে একটা আপু , মনে হয় আপুই হবে , সে খুব হাসছিল । বুঝতে পেরেছিলাম উনাকে খুব আনন্দ দিতে পেরেছি । র‍্যাগিং শেষে তার পাশের সিটে গিয়ে বসে প্রথমে মুচকি হাসি দিলেও . নিজের কৃতকর্মের জন্য হাসি আর ধরে রাখতে পারছিলাম না । পরিচিত হলাম । আমি শান্ত । আপনি ?
আমি চাঁদনী ।
না আমি কোনো লেখক নই , না আমি কোনো কবি , তার নাম শোনা মাত্রই আমি কবিতা বানিয়ে ফেলবো । শুধু জিজ্ঞেস করেছিলাম আপু কোন সেমিস্টারে আছেন ?
৪র্থ সেমিস্টারে আছি ।
বুঝতে পারছিলাম না কি করবো । প্রথম দেখায় প্রেম কি এখানে কবর দিয়ে দিবো নাকি আরো একটু সময় নিবো । যাই হোক কিছু না বলে উঠে আসি । যেহেতু একই ভার্সিটিতে লেখা পড়া . সেই সুবাদে প্রায় তার সাথে আমার দেখা হয় । ক্যান্টিনে বসে প্রায় আড্ডা দেয়া হয় । ভাব শুরু , এক সময় ভাব পরিণত হয় ভালোবাসায় । আজ আমি তাকে নিয়ে কবিতা লিখি । তাকে নিয়ে ভাবি । কারণ আজ যে আমি তার প্রেমিক ।

পরিণাম

সব কিছুর সুন্দর শেষ হবে তা কোথাও লেখা নেই । লেখা থাকলে ভালো হতো । আজ অন্তত সে আমার হতো । বিছানার পাশে একটি বিয়ের কার্ড । বেশি কিছু হয়নি , যেখানে আমার বাবা ডাক শোনার কথা ছিল সেখানে হয় আমি মামা না হয় চাচা । কথা গুলো শুনতে অনেক সহজ শোনালেও , আমি জানি আমার মধ্যে দিয়ে কি যাচ্ছে । কারণ তার সাথে সময় কাটানো প্রতিটা মুহূর্ত , প্রতিটা জায়গা আমাকে প্রতিদিন মেরে ফেলবে । আর সে ঠিক তার জামাইকে নিয়ে ভালো থাকবে । আসলে আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো প্রকৃতি । আবার খুব কাছের বন্ধু হলো প্রকৃতি । প্রকৃতির খেলা বোঝা বড় মুশকিল । আজ প্রকৃতি আমাদের আলাদা করে দিয়েছে । যেখানে আজ সমাজ নামের প্রকৃতি সমবয়স মেনে নেয় না , আর সেখানে আমার থেকে বড় । অনেকটা হাসির মতো শোনালেও কথা সত্য । আমার জীবনে সবচেয়ে বড় অভিশাপ আমি এখনো ছাত্র , মানে আমি বেকার । প্রতিরাতে অনেক পরিমাণ অশ্রুবৃষ্টি হয় আমার ঘরে । চাঁদনীর ঘরে যে অশ্রু বৃষ্টি হচ্ছে না , তা কিন্তু নয় । ওদের ঘরেও হচ্ছে কিন্তু সেই বৃষ্টি তার জীবনের ভালোবাসার বৃষ্টি । এইখানেও আমাদের প্রকৃতি তার অদ্ভুত রূপ দেখিয়েছে । একই বৃষ্টি আজ দুই জায়গায় । পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ার কারণে আজ অশ্রুর নামও পরিবর্তন হয়েছে । আজ আমার সঙ্গী কিছু গান –

অন্ধকার ঘরে, কাগজের টুকরো ছিঁড়ে
কেটে যায় আমার সময়
তুমি গেছো চলে
যাওনি বিস্মৃতির অতলে
যেমন শুকনো ফুল বইয়ের মাঝে রয়ে যায়

রেখেছিলাম তোমায় আমার হৃদয় গভীরে
তবু চলে গেলে এই সাজানো বাগান ছেড়ে
আমি রয়েছি তোমার অপেক্ষায়……

নিকষ কালো এই আঁধারে
স্মৃতিরা সব খেলা করে
রয় শুধু নির্জনতা
নির্জনতায় আমি একা
একবার শুধু চোখ মেলো
দেখো আজ পথে জ্বালি আলো
তুমি আবার আসবে ফিরে
বিশ্বাসটুকু দু’হাতে আঁকড়ে ধরে।

গানটার সাথে আজ আমার বড়ই মিল ।

উপসংহার

আজ আমার ২য় বাচ্চাটি জন্ম নিয়েছে । বড় ছেলে ক্লাস ৫ এ পড়ে । প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে অফিসে যেতে আর ভালো লাগে না । ইচ্ছে করে বৌয়ের সাথে কিছু সময় কাটাই । ওর পাশে আমার থাকাটা অনেক জরুরি । কিন্তু ব্যস্ত নগরী তার ব্যস্ততার মাঝে আমাকে গিলে খেয়েছে । আচ্ছা ভার্সিটিতে থাকতে আমি একটা মেয়েকে ভালোবেসে ছিলাম । কি যেন তার নাম ? বেশ কিছু দিন ধরে অনেক চেষ্টা করছি মনেই করতে পারছি না । ও হ্যাঁ , চাঁদনী । মনে পড়েছে । আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একা একা হাসি । কতই না বোকা ছিলাম । হাহাহা কত রাত কেঁদে কাটিয়েছি । ধন্যবাদ দিতে চাই স্রষ্টাকে । আমার জীবন থেকে ওই মেয়ে না গেলে হয়তো এই রকম মিষ্টি একটি বউ পেতাম না । না নিজের সাথে আর আয়নায় দাঁড়িয়ে কথা বলা যাবে না । অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে । চলে যাই ।

লেখকের মন্তব্য

জীবন থেমে থাকে না । কারণ জীবনের সংজ্ঞায় আছে , জীবন থেমে থাকার নয় , প্রবহমান নদীর মতো । কোনো রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে , নিজের চলার জন্য আরেকটি রাস্তা তৈরি করে নেয় । হয়তো আমরা কাউকে পেয়ে খুব ভালো থাকি । আবার কয়েক বছর পর আমাদের মনে হয় . আজ তাকে না পেয়ে আমি অনেক ভালো আছি কি মনে হয় সেটা পরের কথা । আমি লেখক হিসেবে আপনাকে এইটা বলতে পারি , নিজের কথা নিজে বোঝার চেষ্টা করবেন । নিজের মন কি চায় সেটা বোঝার চেষ্টা করবেন । অন্যদের প্রতি স্বার্থপর হয়ে নিজের সুখের দিকটা ভাবেন । কারণ আপনি দুঃখী হলে কেউ এসে আপনাকে সুখী করবে না । নিজেকে নিজেরই সুখী করতে হবে । ভালো রাখেন নিজেকে , আগলে রাখেন নিজের ভালোবাসাকে ।

জয় হোক সত্যের ।

আমি পতিতা বলছি । শেষ পর্ব

Now Reading
আমি পতিতা বলছি । শেষ পর্ব

প্রথম পর্বের পর

মেজাজটা খারাপ হয়েছে আমার আগে আসবে বলে আমাকে ১ ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখেছে । ১ ঘণ্টা পর হাঁপাতে হাঁপাতে আসে আমার সামনে । মেজাজটা এতো খারাপ হচ্ছিলো যে , ইচ্ছে করছিলো কষিয়ে একটা থাপ্পড় মারি , কিন্তু না আমি থাপ্পড় তো মারলাম না উল্টো রাসেল কে দেখে কেঁদে দিলাম । যাই হোক আমাকে শান্ত করে রিকশা করে একটা বাসায় নিয়ে গেলো ।

রাসেল আমি যদি আজ হারিয়ে যেতাম । আমার অনেক ভয় করছিলো । ঢাকায় এতো মানুষ !
হা হা হা কি যে বলো না , রাস্তায় এতো জ্যাম ছিল যা বলার বাহিরে । তাই দেরি হয়েছে । আচ্ছা এই সব কথা বাদ দাও তো । যাও হাত মুখ ধুয়ে খাবার খেয়ে নাও । আমি তোমার জন্য হোটেল থেকে খাবার এনে রেখেছি ।

আমি আর কোনো কথা না বলে হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে নিলাম । আমি যেই রুমে আছি সেখানে একা আমি একটা মেয়ে না , আমার সাথে অনেক মেয়ে আছে । আর তাদের দেখতে অনেক অদ্ভুত লাগছে । কি রকম ভাবে যেন সেজে আছে । আমি রাসেল কে বললাম ওরা করা ? আর আমার কাজ কি ?
রাসেল বলল ওরা ও নাকি কাজের জন্য ঢাকায় আসছে । আর আমাকে কাল বা পরশু জয়েন করবে ।
আমি আর কোনো কথা বললাম না । আমাকে খাওয়ানো শেষ হলে রাসেল চলে গেলো । আমি একা একটা রুমে শুয়ে পড়লাম । পরের দিন সন্ধ্যায় একটা লোক কে নিয়ে আসলো রাসেল । আমাকে দেখিয়ে কি যেন বলে চলে গেলো লোকটি । আমি রাসেল কে বললাম

রাসেল এই লোকটি কে ?
তুমি যেখানে কাজ করবে তার বস উনি । তোমাকে দেখতে এসেছে । কাল সন্ধ্যা থেকে তোমার কাজ শুরু ।
কাল সন্ধ্যা ? কাল সন্ধ্যা কেন । মানুষ তো দিনে কাজ করে আমি রাতে কেন করবো ?
আসলে এইটা একটা বিদেশী কোম্পানি তো তাই ।

আমি আর কোনো কথা না বলে খেয়ে গতকালের মতো আজকেও শুয়ে পড়লাম । কাল সন্ধ্যায় রাসেলের সাথে যেই লোকটি এসেছে সে আসলো আমার রুমে । আমি খাটের এক পাশে বসে আছি । উনি ঢুকে রুমের দরজা বন্ধ করে দিলো । আমি সাথে সাথে বলে উঠলাম , আপনি কি করছেন দরজা বন্ধ করেছেন কেন ? উনি জবাব না দিয়ে আমার সামনে এসে বসে আমার গায়ে হাত দিচ্ছিল । আমি সাথে সাথে দৌড়ে ঘরের এক কোনায় চলে গেলাম । উনি বলে উঠলো দৌড়িয়ে লাভ নেই । আমার কাছে তোমাকে ধরা দিতে হবে । রাসেল হেব্বি একটা মাল রেডি করেছে আমার জন্য ।

দেখেন আপনি ভুল করছেন । আমি কাজ করতে এসেছি । গ্রামে আমার বাবা । খুব অসহায় । আমার কোনো ক্ষতি করবেন না । আমাকে যেতে দিন । রাসেল কোথায় । এই বলে আমি চিৎকার চেঁচামেচি করা শুরু করলাম ।
উনি বলে উঠলো রাসেল তোমাকে আমার কাছে আজ রাতের জন্য বেঁচে দিয়েছে । এখন তুমি আমার । এই কথা বলে হিংস্র ক্ষুধার্ত বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো । আমি কত না চিৎকার করছি । উনাকে আমি বাবা বলেও ডাকছি নিজের ইজ্জত টুকু বাঁচানোর জন্য ।কিন্তু না কোনো কিছু তে কাজ হচ্ছে না । আমার কান্নায় সেদিন সেই রুমের বাতাস পর্যন্ত কেঁদে ছিল । কিন্তু ওই নর পিচাশের মন একবার কেঁদে উঠেন । সেদিন থেকে আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গিয়েছে । সারা রাত চলে আমার উপর অমানবিক নির্যাতন । ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে আমাকে উলঙ্গ রেখে আমার দেখার উপর ২ হাজার টাকা রেখে উঠে চলে যায় ।
আচ্ছা পাঠক আপনাদের কাছে একটা প্রশ্ন আমার ইজ্জত কি ২ হাজার টাকা ? আপনার মা বোনের ইজ্জত কি ২ হাজার টাকা ?
কিছুক্ষণ পর রাসেল আসে আমার রুমে । কি আমার ভালোবাসা ! আহা আমাকে উলঙ্গ দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি আমার ভালোবাসা । আমার এই নির্যাতিত দেখার উপর চলে আরেক দফা নির্যাতন । বিশ্বাস করেন এইবার আমি চিৎকার করেনি । আমি নড়াচড়াও করেনি । শুধু কান্না করেছি , নীরব কান্না । আমাকে এমন একটা ঘরে রাখা হয়েছিল আশে পাশে কি ঘটছে বলাও যায়না ।

তারপর থেকে আমাকে আর জোর করতে হয়নি , আমি নিজে স্বেচ্ছায় গিয়েছি তাদের সাথে । আর যেটাকে কামাই করেছি তা দিয়ে আমি এতিমদের খাইয়েছি । সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত নিজের বাবাকে একটা টাকাও পাঠায়নি । কিভাবে পাঠাবো ? নিজের দেহ বেচা টাকা কিভাবে নিজের বাবাকে খাওয়াই ।

আর রাসেল এর অবস্থা হলো . রাসেল দুই বছর পর একটি মেয়েকে বিয়ে করে । কিন্তু তাদের কোনো বাচ্চা হচ্ছিলো না । অনেক চেষ্টার পর একটা বাচ্চা হলো , তাও মেয়ে ! কিন্তু মেয়েটি সর্ব অঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী । না কথা বলতে পারে না ভালো ভাবে হাঁটতে পারে । রাসেল কোনো দিন তার সন্তানের মুখে বাবা ডাক শুনেনি । আমি যেখানে আজ দেহ ব্যবসা করি এখানে অনেক মেয়ের আশা হয়েছে তার হাত ধরে । আজ রাসেল ভালো হয়ে গিয়েছে . কিন্তু আমার মতো অনেক মেয়ের কান্নার আর্তনাদ মিশে আছে তার আশে পাশে ।

আজ আমি আপনাদের ভদ্র সমাজে পতিতা । কিন্তু আপনারা ?

আমি পতিতা বলছি । পর্ব ১ম

Now Reading
আমি পতিতা বলছি । পর্ব ১ম

একদিন একটা আননোন নাম্বার থেকে আমার নাম্বার এ কল আসে । গল্পটা আমাদের এভাবেই শুরু । আমার নাম নীলা । বাবা কৃষক , যার কারণে বেশিদূর আমার লেখা পড়া আলোর মুখ দেখেনি । মা মারা গিয়েছে ছোট বেলায় । বড় হয়েছি নানুর কাছে । বাবার সাথেই নানুর বাসা ছিল । নানু বুড়ো হয়ে যাবার কারণে আমার দিকে তেমন খেয়াল রাখতে পারতো না । আর আমাদের পরিবারকে যদি বলতে চাই এক কথায় , তাহলে বলবো আমরা দিন আনি দিন খাই । অনেক সময় চুলায় আগুন জ্বলে না । পাঠক নিশ্চয়ই আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগছে আমি কেন এই সব কথা বলছি ? কারণ আমার পতিতা হয়ে উঠার পিছনে অনেকটা আমার পরিবারের দায় ছিল । যাই হোক মূল গল্পে ফিরে আসি ।

আমি মোবাইল আননোন নাম্বার খুব কম ধরি । কিন্তু কি বুঝে যেন সেদিন ধরলাম । অপর প্রান্ত থেকে একজন বলল আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি । আমি এই কথা শোনার পর কিছু না বলেই লাইন কেটে দেই । ভয়ে তখন বুক ধরফর করছিলো । এই প্রথম কেউ আমাকে এই সব কথা বলল । কিছুক্ষণ পর আবার কল আসে সেই নাম্বার থেকে । আমি কল ধরিনি ।

২ মাস পর আবার কল আসে সেই নাম্বার থেকে । আমি প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম তখন কার কথা । কল ধরার সাথে সাথে বলে আমাকে মাফ করে দিন । আমি অবাক হয়ে বলি কে আপনি ?
কিছু দিন আগে আপনার নাম্বারে আমার বন্ধু ভুল করে কল দিয়ে i love you বলেছে । আসলে ও একটু দুষ্ট ধরণের । আমি ওর পক্ষ আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি ।
এভাবে আমাদের কথা শুরু হয় ।
প্রথম দিকে কিছু দিন পর পর আমাকে কল দিয়ে কথা বলতো । তার পর কল আসাটা অনেকটা নিয়মিত হয়ে পড়েছে । আমি ও উনাকে ভালো লাগা শুরু হয়েছে । উনি কিভাবে যেন কথা বলতেন । একদম মায়ায় জড়ানো কথা । আমি হারিয়ে যেতাম তার কথায় ।

এক সময় আমাদের পরিচয় ভালোবাসায় পরিণত হয় । উনার পরিচয়টা দেয়া যাক । উনার নাম রাসেল । ঢাকায় অনেক বড় একটা কোম্পানিতে পিয়ন হিসেবে কাজ করে । শুনেছি ভালো বেতন পান । বাবা নেই , মা কে নিয়ে থাকে । একটা বোন ছিল বিয়ে হয়েছে ৪ বছর । উনার মা মেয়ে দেখছেন তার জন্য । কিন্তু উনি চান একটা গ্রামের মেয়ে বিয়ে করবে , যাতে করে উনার মা কে দেখে শুনে রাখতে পারে । খুব ভালো মানুষ । মেয়েদের অনেক সম্মান দিয়ে কথা বলে । এমন কোনো সময় ছিল না উনি কল ধরে আমাকে সালাম দেননি ।

একদিন আমি তাকে বলি , আমার পরিবার তো অনেক গরিব তোমার মা কি আমাকে মেনে নিবে ? আমি তো দেখতেও সুন্দর না , আমাদের টাকা পয়সাও নেই । মাঝে মাঝে মনে হয় আমাকে কি তুমি সত্যি ভালোবাসো ?

অরে দূর পাগলী ভালোবাসা কি চেহারা দিয়ে হয় নাকি । ভালোবাসা মনের বেপার । তোমার সাথে আমার মনের অনেক মিল । যার সাথে যার মনের মিল তার সাথেই তো বাসা বাধা যায় । আর টাকা পয়সা কয়দিন , ভালোবাসা চিরদিন ।

আসলে এর আগে আমি কোনো ছেলের সাথে মেশা হয়ে উঠেনি । ছেলে মানুষ মনে হয় অনেক ভালো হয় তাই না ? অভাবের সংসার নিজে যদি কিছুটা সাহায্য করতে পারি পরিবার কে তাহলে অনেক ভালো হয় । এইভাবে রাসেল কে বলি আমি তো তেমন লেখা পড়া করিনি , কোনো রকম ক্লাস ৪ পাশ করেছি । এর আগে আমি কখনো ঢাকায় আসিনি । আমি চাচ্ছিলাম ঢাকায় এসে একটা কাজ করতে । প্রথম দিকে উনি অনেক রাগ করেছে এই কথা শুনে । ভয়ে উনাকে আর কখনো বলিনি আমি কাজ করতে চাই । মাস খানিক যেতে না যেতে উনি আমাকে বলল , তুমি কিছু দিন আগে বলেছিলে একটা কাজের জন্য । আমি অনেক ভেবে দেখলাম আসলে তুমি যদি কাজ করো তাহলে একদিকে তোমার পরিবার ভালো চলবে আরেক দিকে তুমি বাস্তবতাকে চিনবে । আর তাছাড়া এখন পর্যন্ত তোমাকে ছবিতে ছাড়া সামনা সামনি দেখাও হয়নি । এই উসিলায় তোমার সাথে দেখাও হবে আমার । আমি শুনে খুব খুশি হলাম । আমি আমার ভালোবাসার মানুষের সাথে দেখা করতে পারবো আর কিছু ইনকাম করে পরিবার কে দিতে পারবো । এদিক সেদিক না ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম আমি ঢাকায় যাবো ।

ব্যাগ গুছিয়ে বাবার চোখের পানি উপেক্ষা করে নতুন জীবনের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম ঢাকা । যাওয়ার সময় শুধু গাড়িভাড়া নিয়ে গিয়েছিলাম । কাৰণ রাসেল বলেছে আমার জন্য বাস স্ট্যান্ডে অপেক্ষা করবে । ভয় ও লাগছিলো আরেক দিকে আনন্দ লাগছিলো এখন থেকে আমার বাবা কষ্ট কিছুটা হলেও কমবে । কিন্তু আমি এখনো জানিনা ঢাকায় কি কাজ করবো । রাসেল বলেছে আমার জন্য নাকি অনেক ভালো একটা কাজ জোগাড় করে রেখেছে । গাড়িতে উঠে ঘুমিয়ে গিয়েছি , স্বপ্নে দেখলাম রাসেল কে নিয়ে খুব সুখে আছি , আমাদের ঘরে খুব সুন্দর একটা মেয়ে হয়েছে । কখন যে ঢাকায় আসলাম টের পেলাম না ।

বাস স্ট্যান্ড এ নেমে মেজাজটা এতো খারাপ হলো । কারণ …….

 

চলবে ।

ভালবাসার প্রকারভেদ

Now Reading
ভালবাসার প্রকারভেদ

আজ আমাদের ভালবাসা বন্দি হয়ে গিয়েছে কিছু যন্ত্রের মাঝে । এখন আর আগের মতো আবেগ কাজ করে না মানুষের মধ্যে । কিছু সান্তনার বাণী দিয়ে আমাদের কাজ শেষ । আমরা যত বেশি আধুনিক হচ্ছি আমাদের আবেগ মমতা ততটা কমে যাচ্ছে ।

আমি আসলে কাউকে কষ্ট দেয়ার জন্য কথা গুলো বলছি না । কিছু কিছু সময় আমাদের বাস্তবতার কাছে হার মেনে আবেগ কে বস্তা বন্দি করে রাখতে হয় , আবার কিছু কিছু সময় যন্ত্রের মাধ্যমে কিছু কথা বলে আবেগ কে সীমাবদ্ধ রাখছি । দুইটি উদাহরণ দিলে সব কিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে ।

প্রথম ঘটনা রিফাতের সাথে ঘটে ছিল । বাস্তবতার কাছে হার মেনে সংসারের হাল ধরার জন্য পারি জমায় কুয়েতে । ঘরে রেখে যায় মা বাবা আর ছোট দুই ভাই কে । ঘরের বড় ছেলে হবার দরুন তাকে বিদেশে কাজ করতে যেতে হয় । প্রথম দিকে তার খুব কষ্ট হতো বিদেশ থাকতে । শুধু মা, বাবার কথা মনে পড়তো আর দেশের ভাষা , মাটি পরিবেশ সব কিছু মিস করতো । খুব কষ্ট করে নিজেকে মানিয়ে নেয় সেখানে । প্রতিমাসে ৩৫০০০ হাজার টাকা বেতন পেলে নিজের জন্য কিছু টাকা রেখে বাকি সব টাকা দেশে পাঠিয়ে দেয় । যাতে করে মা বাবা খুব ভাল থাকতে পারে আর ছোট দুই ভাইয়ের লেখা পড়া বন্ধ হয়ে না যায় । প্রথম তিন বছর যাওয়ার পর বাংলাদেশে আসে ২ মাসের ছুটিতে । দেশে এসে বিয়ে করেন । খুব ভাল সময় কাটছিলো রিফাতের । যখন তার যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসলো তখন তার বাবা কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়লো । এইদিকে তার যাওয়ার সময় হয়ে গেলো । না গিয়েও পারবে না কারণ এখন যদি না যায় তাহলে তার ভিসা বাতিল করে দিবে । বাধ্য হয়ে নিজের মনে পাথর বেঁধে চলে গেলো কুয়েত । মাস খানিক যাওয়ার পর খবর আসলো তার স্ত্রী প্যাগনেট । খুশির সাথে আরেকটি খারাপ খবর হলো তার বাবার অবস্থা ভাল না । তার এক সপ্তাহ পর খবর আসলো তারা বাবা আর নেই । কিন্তু রিফাত সাহেবের কিছুই করার নেই । কারণ তিনি তাইলেই এখন বাংলাদেশে আসতে পারবে না । কারণ তিনি মাত্র দেড় মাস আগে বাংলাদেশ থেকে ছুটি কাটিয়ে এসেছেন । তার পরেও মালিকে বললো কিছু কাজের কাজ কিছুই হলো না । ছুটি পেলো না । নির্ঘুম কিছু রাত কাটিয়ে চোখের জলে ভাসিয়ে দিলো নিজের মাথার নিচের বালিশ টা । শুধু মনে পড়ছিলো যখন তিনি খেতে পারতেন না তখন তার বাবা ভাত খাওয়া অবস্থায় থাকলে , সেই ভাত রেখে উঠে যেতেন আর ছেলের পছন্দ মতো খাবার নিয়ে আসতেন । রিফাত সাহেবকে নিজ হাত ধরে সাঁতার শিখিয়েছেন তার বাবা । আজ সেই বাবা মারা গেলো কিন্তু ইচ্ছা থাকা শর্তেও যেতে পারলেন না তিনি । নিজের আবেগ কষ্ট কে সব বালিশের নিচে চাপা দিয়ে পরের দিন কাজে লেগে গেলেন । কয়েক মাস পর খবর আসলো তিনি কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছেন । হলে কি হবে কিছুই করার নেই । নিজের খুশি কে ইমো এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন । এই হলো বাস্তবতা আর আবেগকে বস্তায় বন্দি রাখা ।

প্রবাস

প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক

দ্বিতীয় গল্প – হানিফ সাহেব অনেক বড় একজন ব্যবসায়ী । সারা দিন ব্যবসা নিয়ে পরে থাকেন । এমনকি ব্যবসা এর কাজে বাহিরের দেশে গিয়ে বেশ কয়েক মাস তাকে থাকতে হয় । আর হানিফ সাহেবের স্ত্রী রিমা । নিজে একজন গৃহিনী হলেও দিনের বেশির ভাগ সময় একটি স্কুল স্টুডেন্ট পড়িয়ে তার সময় কাটে । তাদের একমাত্র ছেলে আরিফ । ছেলে সারাদিন ঘরের বুয়ার কাছে থাকে । যত টুকু সময় পায় হানিফ ও রিমা বেগম ততটুকু সময় তারা বিশ্রাম করে কাটিয়ে দেন । ছেলেকে সময় দেয়ার মতো সময় ও তাদের কাছে নাই । কিন্তু ছেলের কোনো অভাব রাখেনি । যখন যা লেগেছে দিয়েছে । শুধু দিতে পারেনি মা বাবার ভালবাসা আর স্নেহ । রিমা বেগম স্কুল শিখিয়ে থাকে কিভাবে নিজেদের মধ্যে নীতিগত মূলোবোধ তৈরী করতে হয় , কিন্তু আজ তাদের মধ্যে এই জিনিসটার বড় অভাব । বুয়ার কাছে বড় হতে থাকে তাদের আদরের সন্তান । একসময় স্কুল , কলেজ পেরিয়ে লেখা পরের জীবন চুকিয়ে বাবার ব্যবসায় হাত দেন আরিফ । বাবা ততদিনে ব্যবসা থেকে অবসর নিয়েছে ছেলের হাতে দায়িত্ব দিয়ে । কিছু দিন পর বিয়ে করে তাদের সমাজের এক বড় লোকের মেয়ে কে । বয়স বারার সাথে সাথে রিমা ও হানিফ সাহেবের শরীরে বাসা বাধে বিভিন্ন রোগ । আর এই সব এর জন্য ছেলের বৌ এর কাছে অসহ্য হয়ে ওঠে তারা ।এ নিয়ে প্রতিদিন আরিফ এর সাথে জগড়া হয়ে । একদিন আরিফ সিদ্ধান্ত নেয় সে তার মা বাবা কে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসবে । মা বাবা অনেক কাকুতি মিনুতি করার পরেও ছেলের মনে একটুও ময় জন্ম নিলো । নিবেই বা কিভাবে । ছোট থেকে তো মা বাবার ভালবাসা বা তাদের প্রতি কি কতব্য টা কাজের বুয়া শিখায়নি । জোর করে মা বাবা কে রেখে আসে বৃদ্ধাশ্রমে । আর প্রতি বছর মা দিবস বা বাবা দিবস আসলে লিখে আমি তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি । তুমি কষ্ট করে আমাকে গর্বে ধরেছো । বাবা অনেক কষ্ট করে টাকা কামিয়েছি তাই আজ আমি রাজার হলে ।

বৃদ্ধাশ্রম

বৃদ্ধাশ্রম এক বাবা

আর ফেইসবুক স্টেটাস লিখে সবাই কে মা দিবসের শুভেচ্ছা ।সবাই তাদের মা বাবার প্রতি যত্ন নিবেন । আজ আমি গিয়েছিলাম একটি বৃদ্ধাশ্রমে . দেখে আসলাম কিছু মায়ার চোখের পানি । প্লীজ আপনারা এই রকম আর কেউ করবেন না।

এই হলো আরিফ এর মতো কিছু দেখানো আবেগ এর যন্ত্রের আবেগ । একটা পোস্ট দিয়ে অনেক মানুষের বাহাবা পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ।

আমি বলছি না যন্ত্রের ব্যবহার করতে না কিন্তু সব কিছুর উর্ধে আমাদের ভালবাসা কে পিওর রাখা উচিত । শুধু ভালবাসা ভালবাসা দিবনের মধ্যে বা কোনো দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয় । ভরে যাক ভালবাসা দিয়ে আমারে এই ধরণী ।

না জানা এক গল্পের রচয়িতা যিনি

Now Reading
না জানা এক গল্পের রচয়িতা যিনি

যে গল্পটা কেউ জানে না, সেই গল্পটার রচয়িতা আমার বাবা। শুধু আমার না, আমাদের প্রত্যেকের। এই পৃথিবীতে আমরা প্রত্যেকেই তো স্বার্থের পেছনেই ছুটি। একটু খানি ভাল থাকার পেছনে ছুটি। কিন্তু এত সব স্বার্থ আর ভাল থাকার মাঝেও আধো পাকা চুলের একজন মানুষ আমাদের প্রত্যেকের পরিবারেই থাকেন, যে মানুষটা স্বার্থ বোঝেন না। ভাল থাকা বোঝেন না। বোঝেন কেবল নিজের ছেলে মেয়ে আর কয়েক দশক ধরে এক সাথে ঘর সাজিয়ে যাওয়া মানুষটার ভাল মন্দের দায়িত্ব।

নয় বছর বয়সে একটা ক্রিকেট ব্যাট চেয়ে না পাওয়া আক্ষেপটা আমার বেশ পুরোনো। কিন্তু নয় বছর পরে এসে সেই ব্যাট কিনে না দেওয়া বাবা যখন, মাসের দুই তারিখের মাঝে অযুথের হিসেবে টাকা পাঠিয়ে দেন, তখন চোখের কোণায় ঝাপসা এক আবরণ জন্মে। কান্না পায়।

একটা গল্প বলি। আমি তখন বেশ ছোটো। মাত্রই ঢাকায় একটা বেশ টাকা পয়সা ওয়ালা কলেজে ভর্তি হয়েছি। গ্রামের সুতি কাপড়ের পায়জামা ছেড়ে নিউমার্কেটের জিন্স পরতে শুরু করেছি তখন। ঢাকায় যারা নতুন নতুন আসে, তাদের চলাফেরায় একটা কৃত্রিম পরিবর্তন আসে। সেই পরিবর্তন আমার মধ্যেও তখন এসেছে। কোনো এক মাসে বাবার টাকা পাঠাতে পাঠাতে একটু দেরী হয়ে গেল। অন্যান্য মাসে তিনি দুই তারিখের মাঝেই ১৫ হাজার করে টাকা পাঠিয়ে দিতেন। ওটা দিয়ে আমার মেসের বিল আর কলেজের বেতন হয়ে প্রায় হাজার চারেক টাকা বাঁচত। মনে আছে আমার, খুব খারাপ ব্যবহার করেছিলাম ওইদিন বাবার সাথে। ফোনের এপাশ থেকে আমি কেবল বলে যাছি, ছেলেকে টাকা দেয়ার যোগ্যতা নেই, তাকে ঢাকা কেন পড়তে পাঠালে?

ফোনের ওপাশের বাবা হয়তো নিশব্দে কাঁদছিলেন। তাই মুখ ফুটে বলতে পারেন নি, এক মাত্র ছেলেকে যে খুব করে চেয়েছিলাম রাজধানী শহরে থেকে মানুষের মত মানুষ হোক! কিন্তু ছেলেটা আমার বছর ঘুরতে না ঘুরতেই অমানুষ হয়ে গেল!

অমানুষ হওয়ার মত তেমন কিছু অবশ্য আমার মধ্যে ছিল না। ব্ল্যাক সিগারেট খেতাম। খুব একটা দামী ব্র্যান্ড তো আর না। ছেলের সামান্য ব্ল্যাক সিগারেটের দাম যে বাবা দিতে পারেন না, তিনি আবার বাবা হন কী করে!

বাবা হয়তো কেঁদেছিলেন সেদিন খুব। কিন্তু আজ আমি যতটা কাঁদি, এতোটা হয়তো না। তখন আমি আরো কিছুটা বড় হয়েছি। কলেজ পার করে একটা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। কিভাবে যেন ভেতরে একটা পরিবর্তন এলো। আর পরিবর্তনটা চাপের মাঝেই এসেছিল। কারণ চার মাস পর পর ষাট হাজার টাকা সেমিস্টার ফি আসলে বাবার দেয়ার অবস্থা একদমই ছিল না। বাধ্য হয়ে টিউশন ম্যানেজ করতে হল। নিজে যেই মাত্র কামাই শুরু করলাম, ভেতরে অস্বাভাবিক এক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। এই পরিবর্তনটা ঢাকায় নতুন নতুন আসার পরের সেই কৃত্রিম পরিবর্তন না। এটা ভেতর থেকে এক ধরনের রিয়েলাইজেসন।

সালটা মনে নেই। তবে কোনো একটা ঈদের আগেকার কথা। যেহেতু টুকটাক ইনকাম করতে শুরু করেছিলাম, তাই ভেতর থেকে ইচ্ছা করতো বাবা মায়ের জন্য কিছু কিনতে। কিন্তু ঢাকার ব্যাচেলর মাত্রই বাস্তবতাটা খুব ভাল করেই জানেন যে, এখানে টিউসন করিয়ে যে ইনকামটা হয়, তাতে করে আসলে নিজেরই চলার ব্যবস্থা থাকে না।

তারপরেও, সেবার আব্বুর জন্যে একটা শার্টের পিস আর মায়ের জন্য একটা ছয়’শ টাকার শাড়ি কেনার টাকা হলো। অবাক হয়ে ভেবে দেখলাম, প্রথমবার… হুম জীবনে প্রথমবার আমি আমার বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে হয়ে আমার বাবা মায়ের জন্য কিছু কিনেছি! একটা মানুষ তিনি, সারাটা দিন গাধার মত খাটেন শুধুমাত্র আমাকে আর মা’কে খুশি রাখার জন্য। আমাদের ভাল জামা কাপড় পরতে দেয়ার জন্য। যে মানুষটা প্রতি মাসের দুই তারিখের মধ্যে অযুথের হিসাবে টাকা পাঠিয়ে দেন, সেই মানুষটাই  শতকের হিসাব ডিঙিয়ে নিজের জন্য সামান্য একটা শার্টও কিনেন না। সাদা একটা শার্টে তাকে দেখছি মনে হয় আমার জন্মের পর থেকেই।

বাবা সেবার শার্ট পেয়ে কোনো কথা বলেছিলেন না। একটা ধন্যবাদও না। একটু খুশিও না। একটু মন খারাপও না। কিন্তু আমি ঠিক জানি, তিনি কেঁদেছিলেন। ঠিক তখনকার মত করে, যখন আমি তাঁকে টাকার জন্য যাচ্ছে তাই ভাবে অপমান করতাম!

বাংলাদেশের ক্রিকেটে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে আনসাং হিরো বলা হয়। সাইড নায়ক অথবা পার্শ্ব চরিত্রে তার ধরা বাধা জায়গা। ব্যাপারটাতে একটা হতাশা আছে। একটা কষ্ট মিশে আছে। রিয়াদকে নিয়ে পাতার পর পাতা রচনা তবু লেখা হয় অনলাইন আর অফলাইনে। কিন্তু যে সাইড নায়ক, আমাদের প্রত্যেকের ঘরেই রয়েছে, তাঁকে নিয়ে কেন আমরা চার লাইন সারসংক্ষেপও লেখি না?

যে মানুষটা ঠিক গাধার মত পরিশ্রম করে আমাদের মুখে খাবার তুলে দেন, তাঁকে নিয়ে আমাদের সামান্য একটু ভাবারও সময় হয় না? মাকে আমরা সহজেই জড়িয়ে ধরে ভালবাসি বলতে পারি। কিন্তু ভারী ফ্রেমের চশমা পরা ভদ্রলোককে কখনো জড়িয়ে ধরা তো দূরে থাক, হাতটা ধরার সংকোচও কাটিয়ে উঠতে পারি না আমরা। কখনো সব লজ্জা ঝেরে ফেলে বলতে পারি না, ভালবাসি বাবা… খুব বেশীই ভালবাসি।

আমাদের প্রত্যেকের বাড়ির আনসাং হিরোর জন্য শুভ কামনা। বেঁচে থাকুন নায়ক, পার্শ্ব নায়ক! না দেখানো, না বলা, না বুঝতে পারা এক সাগর ভালবাসা আপনার জন্য।

কিছু আসমানীদের গল্প আর তাদের ভালবাসা

Now Reading
কিছু আসমানীদের গল্প আর তাদের ভালবাসা

প্রতিদিন অনেক মানুষকে হাসিয়ে পৃথিবীতে জন্ম নিচ্ছে অনেক মানুষ । সেই সাথে ঠিক অপর প্রান্তে অনেক কে কান্নার রোলে ভাসিয়ে চলে যাচ্ছে না ফেরার দেশে । এইটাই দুনিয়ার খেলা । এই খেলা থেকে আমি আপনি কখনই বের হতে পারবো না । এইটাই আমাদের নিয়তি । আমরা প্রকৃতির কাছে খুব বেশি অসহায় । আমার অনেক কিছু আবিষ্কার করেছি । অনেক নাম না জানা রোগের ওষুধ বের করেছি । জয় করেছি চাঁদ সহ অনেক গ্রহ উপগ্রহ । কিন্তু মৃত্যু নামের বস্তুর কাছে আমরা সবাই পরাজিত

অনেক মানুষ বিদায় নিচ্ছে পৃথিবী থেকে । কারো বা স্বাভাবিক মৃত্যু আবার কারো বা অস্বাভাবিক মৃত্যু । আচ্ছা যেই সব মৃত্যুকে আমরা স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালিয়ে দেয় সেগুলো আদো কি স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল ? না ভাই আমি আন্তাজে পাগলের মতো প্রশ্ন করছি না । তাহলে চলুন আজ আমি আপনাদের একটি গল্প শুনাই

মা বাবার প্রথম সন্তান তাও আবার মেয়ে । বাবার খুশি রাখার জায়গা নেই । খুব শখ ছিল তার প্রথম সন্তান মেয়ে হবে আর হলো ও তাই । গ্রামের সবাইকে মেয়ে হবার খুশিতে দাওয়াত করে খাওয়ালো । রহিম সাহেব জসিমউদ্দিন এর আসমানী কবিতা পড়ার সময় আসমানী নামটা খুব পছন্দ হয়েছিল । আর সেখানে থেকে মেয়ের নাম রেখেছে আসমানী । সারা ঘরে আসমানী আসমানী বলে মাতিয়ে রাখতেন রহিম সাহেব । মেয়েও কম যায়না , বাবাকে ছাড়া যেন কিছুই বোঝে না ।

ধীরে ধীরে আসমানী কথা বলতে শিখলো । প্রথম যখন আলতো করে বাবা বলে উঠলো সেদিন তো রহিম সাহেব কান্না করে দিলেন খুশিতে । আসলে খুশি মনে হয় একেই বলে । আস্তে আস্তে আসমানী ও বড় হতে লাগলো আর সেই সাথে বাবা মেয়ের সম্পর্ক আরো বন্ধুত্ব পূর্ণ হয়ে উঠলো । আসমানী প্রথম যেদিন স্কুলে গিয়েছিলো সেদিন তার বাবা ক্লাস এর বাহিরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মেয়েকে দেখছিলো । অসাধারণ মুহূর্ত ছিল রহিম সাহেবের কাছে । বাবা মেয়ের দুষ্টুমিতে সারা দিন ঘরটা মেতে থাকতো । ধীরে ধীরে মেয়ে বড় হতে লাগলো । স্কুল পার করে এখন আসমানী কলেজে । আসমানী বড় হয়ে গিয়েছে অনেক । কিন্তু রহিম সাহেব মনে হয় বড় হতে পারেনি । এখনো ঘুমোতে যাওয়ার আগে আসমানীর কপালে চুমু না দিলে মনে হয় রহিম সাহবে বেঁচে নেই । নিজের থেকেও বেশি ভালবাসেন তার মেয়ে কে । এই মেয়ের জন্য আর কোনো সন্তান নেন নি ।

প্রতিদিন রাতে রহিম সাহেব বারান্দায় দাঁড়িয়ে কান্না করে । এই কান্না কেউ দেখে না । তিনি ভাবেন মেয়ে বড় হয়ে গিয়েছে কিছুদিন পর মেয়ে কে বিয়ে দিতে হবে । আমি কি নিয়ে থাকবো । কাকে নিয়ে বাঁচবো । এই ভাবে অনেক রাত কাটিয়ে দেন না ঘুমিয়ে । আসলে মেয়েদের বাবারা বুঝি এমনি হয় ।

কিছু দিনের মধ্যে কলেজ পাশ করে আসমানী ভর্তি হয় ইউনিভার্সিটি তে । ধীরে ধীরে আসমানীর নতুন জগৎ তৈরী হয় । সেই জগতে ঠাই হয় তার বান্ধবী নীলা , ফারিয়া , রিমা সহ আরো অনেকে । আর তাদের মধ্যে সবচেয়ে কাছের বান্ধবী নীলা । সারাক্ষন নীলের সাথে সময় কাটায় আসমানী । কিছুদিন যাবার পর অন্তর নামের একটি ছেলের সাথে পরিচয় হয় আসমানীর । তারা একই ভার্সিটিতে পড়ে । অন্তর লেখা পড়ায় খুবই ভাল স্টুডেন্ট । আসমানীর সাথে পরিচয় হয় বন্ধুত্বের রেশ ধরে । কখন যেন আসমানীর ভাল লেগে যায় অন্তর কে । কিন্তু প্রকাশ করেনি । ধীরে ধীরে তাদের কথা বলার পরিমান বেড়ে যায় । ঠিক এই পরিবর্তনটা ধরে ফেলে তার বাবা । প্রথমে বুঝতে পারলেও মেয়ে কে কিছু বলেনি । প্রায় রাতে মেয়ের ঘর থেকে কথার শব্দ পেতেন রহিম সাহেব । এভাবে চলতে থাকে কিছু দিন । একদিন সাহস করে বলেই ফেলে অন্তর প্রথম দেখতে তোমাকে আমার খুব ভাল লাগে । এই প্রথম কোনো ছেলেকে আমার ভাল লেগেছে । আমি জানি তুমি হয়তো এইসব কথা শুনলে আমার সাথে আর বন্ধুত্ব রাখবে না কিন্তু আমি আর নিজেকে বোঝাতে পারছিলাম না । তাই আজ বলেই ফেললাম । সব সময় তো ছেলেরা আগে বলে আজ আমি না হয় তোমাকে বলে দিলাম আমি তোমার মনের অন্তরের অন্তর হতে চাই । এইসব কথা শুনে অন্তর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না । অন্তরও বলে দিলো আসমানী আমিও তোমার মনের আকাশে একমাত্র চাঁদ হতে চাই । যে শুধু আলো দিবে তোমায় আর আলো কিতো করে রাখবে তোমাকে ।

এই ভাবে তাদের ভালবাসা এগোতে থাকে । আর সেই সাথে পরিবর্তন হতে থাকে আসমানীর । একদিন সকালে তার বাবা জিজ্ঞেস করলো – আসমানী মা তুমি কি কাউকে পছন্দ করো
আসমানী এদিক সেদিক না ভাবে বলে ফেললো হ্যাঁ বাবা আমি একজন কে খুব ভালবাসি । এক কথা শুনে পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেলো রহিম সাহেবের । সে কখনো বুঝে উঠতে পারেনি কখন যে তার মেয়ে বড় হয়ে গিয়েছে । তার বাবা হাসি মুখে বললো ছেলে কে কাল বলো যেন আমার সাথে দেখা করে । মেয়েও খুশি , আর মেয়ের খুশিতে বাবাও খুশি ।

ছেলে আসলো । ছেলে কে দেখে মেনেও নিলো তার বাবা । শুধু বলার মধ্যে বলেছিলো বাবা আমি আমার মেয়েকে খুব ভালবাসি । আমি কখনো ওকে কষ্ট দেয়নি , তুমি কখনো আমার মেয়েকে কষ্ট দিও না ।

আসমানীর একদিন খুব বমি করছিলো । হঠাৎ করে মেয়ের বমি দেখে তার বাবা খুব ভয় পেয়ে গেলো । কি হলো আমার মায়ের ।এই বলতে বলতে হসপিটালে নিয়ে গেলো আসমানী কে । ডাক্তার কে শুধু এই টুকু বললো যত টাকা লাগে আমি দিবো দরকার হলে আমার শরীরের সব রক্ত বিক্রি করে দিবো তবুও শুধু আমার মেয়েকে দেখেন । কারণ তখনো বমি বন্ধ হচ্ছিলো না আর তার সাথে কিছু টা রক্ত যাচ্ছিলো । ডাক্তার কিছু টেস্ট করে দেখলো তার ক্যান্সার ধরা পড়েছে ।

গল্প টা এখানে শেষ হলেও হতে পারতো আর ১০ টা সাধারণ গল্পের মতো কিন্তু আপনাদের গল্পের সাথে এই গল্পের কোনো মিল নেই ।

ডাক্তার যখন বললো রহিম সাহেব আপনার মেয়ের এত বড় রোগ হয়েছে কখনও টের পাননি ? সারা শরীরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ছে তার বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম । ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে তার । এক কথা শুনে রহিম সাহেব মনে হয়ে আর দুনিয়াতে ছিল না । চার পাশের সব কিছু কেমন যেন তার কাছে ঘোলাটে লাগছে । ডাক্তার বললো আপনার মেয়ে আর বেশি দিন বাঁচবে না ।

রহিম সাহেব বুঝতেই পারলো না কবে কখন তার আসমানে এতো বড় মেঘ জমা হয়েছে । এক সময় আসমানীও বুঝে ফেললো তার রোগের কথা । অন্তর জেনে গেলো আসমানী আর বেশি দিন বাঁচবে না । যখন থেকে অন্তর জানলো আসমানী বাঁচবে না তখন থেকে কেমন যেন আসনামী কে এড়িয়ে চলছে অন্তর । কারণ প্রতিটা কেমোর সাথে চলে যাচ্ছে অনেক চুল । আসমানী আর আগের আসমানী নেই । আর তার বাবা? দিন রাত কান্না করছে আল্লাহর দরবারে ।

আসমানীর ফোন ধরছে না অন্তর । কল দিলে কেটে দেয় । এসএমএস দিলে উত্তর দেয় না । ঠিক বুঝতে উঠতে পারছিলো না আসলে অন্তরের কি হয়েছে । একদিন একলা হসপিটালে বসে মোবাইলের মধ্যে দেখতে পেলো তার বান্ধবী নীলা কে । মানে ফেসবুকে নীলা অন্তরের সাথে খুব অন্তরঙ্গ ভাবে ছবি দিয়েছে । এই দেখে আসমানীর আর বুঝতে বাকি রইলো না কেন অন্তর তার কল ধরছে না ।

ডাক্তার এর মধ্যে বলে দিয়েছে আসমানীর শরীরে কোনো কেমো কাজ করছে না । আর সব রক্ত বমির সাথে বের হয়ে যাচ্ছে । মনে হয়না আসমানী আর ২ মাসের বেশি বাঁচবে । মানে দুই মাস হতে এখনো ৪০ দিন বাকি । ক্যান্সার এর কষ্ট থেকেও আসমানী অন্তরের কষ্ট মেনে নিতে পারছে না । ক্যান্সারের কষ্ট তো সবাই দেখে কিন্তু আসমানীর মনের ভিতরে যেই ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে এইটা কে দেখে । কে দিবে সেই ক্যান্সার এর কেমো ? না আসমানী আর পেরে উঠছে না । ঠিক তার দুই দিনের মাথায় সবার মায়া ত্যাগ করে আসমানী বিদায় নিলো । বিদায় নিলো অন্ততেরে অন্তর থেকে , বিদায় নিলো তারা বাবার সেই চুমু খাওয়া থেকে

শুধু তার দেহটা পরে আছে । সবাই দেখলো আসমানী মারা গিয়ে ক্যান্সার । তার বাবা সেই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে হার্ট এটাক করলো আর সেই সাথে প্যরালাইস হয়ে গেলো ।

আচ্ছা এখন আপনার কাছে আবার সেই আগের প্রশ্নটি করছি এইটা কি স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল ?

এই রকম হাজারো মৃত্যু হচ্ছে আমাদের দেশে । শুধু আমাদের দেশে নয় এই রকম আসমানী মারা যাচ্ছে এই পৃথিবীতে । যা আমাদের চোখে খুবই স্বাভাবিক । মারা যাচ্ছে অনেক বাবাদের স্বপ্ন । আমরা যদি তাকে ভালবাসতে নাইবা পারি কি দরকার ভাই তার সাথে অভিনয় করার ? কেন তাকে মরে যাওয়ার আগে মৃত্যুর স্বাদ বুঝিয়ে দিচ্ছেন ? আপনি কি একবার ও ভেবেছেন তার এই মৃত্যুর সাথে কত রহিম সাহেবের মৃত্যু হচ্ছে । জানি আপনি বুঝেনি । কোনদিন বুঝবেন না , যেদিন আপনি এই রকম আরেকটি আসমানীর বাবা হবেন ঠিক সেদিন বুঝবেন ।

ভাল থাকুক আসমানীরা আর ভাল থাকুক তাদের বাবারা ।

লেখাটি ফেরদৌস সাগর ভাইকে উৎসর্গ করছি । কারণ উনার লেখা দেখে খুব অনুপ্রাণিত হই আমি ।
মাফ করবেন অনুমতি ছাড়াই উৎসর্গ করলাম

যুদ্ধ নাকি ভালবাসা ?

Now Reading
যুদ্ধ নাকি ভালবাসা ?

আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় আপনি কি চান মানে যুদ্ধ নাকি ভালোবাসা ? আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি আপনি বলবেন আপনি ভালোবাসা চান । শুধু আপনি না আপনার মতো যাকেই জিজ্ঞাস করা হোক না কেন তাদের সবার উত্তর আসবে তারা ভালোবাসা চায় । কেউ বলবে না যুদ্ধ চায় ।

আসলে আপনি ভালোবাসা দিয়ে যতনা সহজে মানুষের মন জয় করতে পারবেন যুদ্ধ দিয়ে তা কখনোই পারবেন না । যুদ্ধ মানুষ কে বিপদ গামী করে ফেলে । আর ভালোবাসা মানুষ কে নতুন করে অনুপ্রেরণা যোগায় ।

তাহলে কি যুদ্ধের প্রয়োজন নেই ?
এই কথার উত্তর আসবে হ্যা যুদ্ধের প্রযোজন আছে ।

কখন ?
তখনি যুদ্ধের প্রয়োজন যখন আপনার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন আসবে । তখনি যখন আপনার বা আপনার দেশের স্বাধীনতা হারানোর সংশয় তৈরী হবে । তখনি আপনি যুদ্ধে লিপ্ত হতে পারেন । যেমন ধরেন ১৯৭১ সালের কথা । শুরুতে কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কোনো আক্রমণ করা হয়নি । প্রথমে বাংলাদেশ সমঝোতা করতে চেয়ে ছিল । তারা যুদ্ধ চায় নি তারা শান্তি পূর্ণ ভাবে সমস্যার সমাধান চেয়েছিলো । কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তান শান্তি পূর্ণ আলোচনা মেনে নিতে পারেনি । আর রাতের অন্ধকারে চলে বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের উপর আক্রমণ । যখন বাংলাদেশ দেখলো তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছে তখন তারা নিজেদের স্বাধীনতার জন্য আক্রমণ করে পাকিস্তানের উপর । আপনাকে যুদ্ধ করতে হবে কিছু নিয়ম মেনে । আপনি অসহায় মানুষদের উপর আক্রমণ করতে পারবেন না । আপনি মানুষের ঘরে আগুন দিতে পারবেন না এমন কি যুদ্ধে কোনো বাচ্চা কে মারতে পারবেন না । কিন্তু পাকিস্তান তার কোনো তোয়াক্কা করেনি । যেভাবে পেরেছে হত্যা করেছে ।

আবার আরেক প্রকারের যুদ্ধ আছে তা হলো মনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ । এই যুদ্ধ সবচেয়ে বড় কষ্টের যুদ্ধ । ধরেন আপনি আপনার খুব কাছের মানুষ কে হারালেন । তখন আপনার তার কথা বাড়ে বাড়ে মনে পড়বে । আপনি না চাইলেও মনে পড়বে । তখন শুরু হয়ে যায় মনের সাথে যুদ্ধ । বেশির ভাগ সময় আমরা মনের সাথে যুদ্ধ করে পেরে উঠি না । আর যখনি পেরে উঠি না তখনি আমরা ভুল সিদ্ধান্ত নেই । কেউ হয়তো আত্মহত্যা করে আবার কেউ বা খারাপ পথে ধাবিত হয় । আবার আমরা প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে যুদ্ধ করছি । বেঁচে থাকার তাগিদে যুদ্ধ করছি এই পৃথিবীর সাথে ।

তাহলে কি যুদ্ধই এক মাত্র সমাধান ?

না ভাই যুদ্ধ কখনো সমাধান হতে পারে না । ভালোবাসা হলো আমাদের সমাধান । আমাদের উচিত সবাই কে ভালোবাসা । আমরা কে কোন ধর্মের বা কোন দেশের সেই কথা বাদ দিয়ে যদি সবাই কে আমাদের বুকে টেনে নিতে পারি , যদি আমরা একে ওপরের পরিপূরক হয়ে যেতে পারি তাহলে যুদ্ধ নামের কথাটাই মুছে যাবে এই পৃথিবী থেকে ।

আজ আমাদের হিংসা ক্রোধ এর কারণে ধ্বংস হচ্ছে এক এক দেশ । সেই সাথে ধ্বংস হচ্ছে অনেক অসহায় মানুষ । কিন্তু একটাবার ও কি ভেবে দেখেছি আজ আমাদের ভালোবাসার কারণে কয়টা দেশকে তৈরী করতে পেরেছি । আজ আমাদের ভালোবাসার কারণে কয়টা তারকাটার বেড়া তুলে ফেলেছি । না আসলে আমাদের ভালোবাসা আজ ব্যর্থ। আজ আমাদের ভালোবাসা আজ ওই তার কাটা নামক জায়গায় বন্ধি হয়ে আছে আর পার্থক্য করে দিয়ে ওইটা তোমার আর এইটা আমার । কিন্তু ভালোবাসা আজ আমাদের এইটা বলতে শিখায় নাই যে এই পৃথিবীটা আমাদের । না তোমার না আমার , এইটা আমাদের । আসলে আমাদের মুখ থেকে আমাদের কথাটাই উঠে গিয়েছে । শুধু আমার তোমার কথাটা প্রচলন বেড়ে গিয়েছে । যার ফলে আজ নিজেদের ক্ষমতা প্রকাশ করার জন্য নিজের আপন ভাইকেও অপমান করতে দ্বিধা বোধ করছি না । আজ আমাদের মানবতা হারিয়ে গিয়েছে নিজেদের স্বার্থের কাছে ।স্বার্থের দেয়াল আজ এতই বড় হয়েছে যে ভালোবাসা আর বিলুপ্তের পথে । দিন দিন বেড়েই চলেছে আমাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ । আসলে আজ আমরা আমাদের জাত ভুলে গিয়েছি , আজ আমরা এতটাই নিচে নেমে গিয়েছি যে আজ আমাদের সাথে সভ্য সমাজের মানুষরাও কোনো প্রাণীর সাথে তুলনা করে সে প্রাণীকে অপমান করতে চায় না ।

আপনি কখনো খেয়াল করছেন কিনা জানি না , বাঘ বা সিংহ কখনই নিজেরদের জাতের মাংস নিজেরা খায় না । তারা নিজেদের নিজেরা কখনো হত্যা করে না । ইউটুবে ঘাটলে আজ আমরা দেখতে পাই বাঘ আর হরিণ এক সাথে পানি খাচ্ছে । আর আমরা কালো সাদা এক সাথে চলতে পারি না । যেখানে দুই জাত এক সাথে পানি খাচ্ছে আর আমরা কিনা একই জাতের মানুষ হয়ে সামান্য রঙের কারণে মিশতে পারছি না । এমন কি হত্যা কাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছি ।

তাহলে আমাদের করণীয় কি ?

আজ আমরা এমন একটা সময়ে এসে হাজির হয়েছি যে , এমন সব প্রশ্ন শুনতে হয় এখন আমাদের করণীয় কি ? বরং আমাদের এমন ভাবে চলা উচিত ছিল যে প্রশ্ন আসার কথা আমরা কিভাবে আরো বেশি করে মানুষ কে ভালোবাসতে পারি ? আমাদের উচিত মানুষ কে ভালোবাসা কোনো কারণ ছাড়া । দুর্বলদের প্রতি অন্যায় বন্ধ করা । ধনীদের উচিত গরিবদের পাশে এসে ধরানো । মানুষ কে মানুষ ভাবা । তাকে কোনো ধর্ম, জাত , টাকা পয়সা বা অন্য কিছু দিয়ে বিচার না করা ।

কেবল ভালোবাসলেই আপনি আরেক জন থেকে ভালোবাসা আশা করতে পারেন । ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে ফেলুন আমাদের এই পৃথিবীকে । পৃথিবীতে আজ কোনো কিছুরই অভাব নেই । কিন্তু আজ ভালোবাসার বড়ই অভাব । অভাব মুক্ত করে দিন মন কে প্রসস্থ করে দিন দেখবেন শান্তি ধরা দিতে বাধ্য ।

ফুটপ্রিন্ট লেখক লগিন