জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব- কালো জাদু

Now Reading
জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব- কালো জাদু

আমার অন্যতম সফল একটি সিরিজ হল জ্বীন সমাচার ।

বেশ কিছুদিন পর আবার আরেকটি নতুন পর্ব নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি । আজকের পর্বটি বিগত পর্বের থেকে একটু আলাদা থাকবে । বিগত পর্বে মূলত সরাসরি জ্বীন এর কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখা হলেও আজ একটু ভিন্ন ধরণের লেখা হবে । লেখার আগে বলে নিই , এই সিরিজের প্রতিটা গল্প সত্য । হয়তো আপনাদের কাছে বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে । এখানে প্রতিটা ঘটনা আমার সাথে না হয় আমার কাছের মানুষদের সাথে ঘটে যাওয়া । আমার ঘটনার সাথে হয়তো খোঁজ নিলে আপনার বা আপনার আশেপাশের মানুষদের সাথে মিলে যাবে ।

মূলত আজকের ঘটনা কালো জাদু নিয়ে । কালো জাদু নিয়ে ইতিমধ্যে আমার প্রিয় লেখক ও বন্ধুসুলভ ফেরদৌস ভাই লিখেছেন । আমি আজ আপনাদের সাথে একটা ঘটনা শেয়ার করবো যা আমার কাছের একজন মানুষের সাথে ঘটে গিয়েছে ।

প্রথমে আপনাদের কালো জাদু সম্পর্কে ধারণা দিয়ে নিই । কালো জাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিক হল এমন একটা মাধ্যম , যার সাহায্যে আপনি অন্যের ক্ষতি করতে পারবেন , সেই সাথে অনেক নিষিদ্ধ কাজ কিছুটা সহজ উপায়ে করতে পারবেন । নিষিদ্ধ কাজ বলতে বোঝানো হয়েছে , আমাদের ধর্মে বলা হয়েছে আপনি কোনো জ্বীনকে নিজের বশ করতে পারবেন না । কিন্তু কালো জাদুর মাধ্যমে আপনি খারাপ বা দুষ্ট জ্বীনদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন , আবার অনেক সময় আপনি তাদের হুকুমের গোলামও করতে পারবেন । কিন্তু এতে আপনার উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কা অনেক বেশি । কি রকম ক্ষতি বা কালো জাদু – তা নিয়ে আমি আরেকটি লেখা লিখবো !! আজ আমি সরাসরি আমার ঘটনায় চলে আসি ।

সুমির ( ছদ্ম নাম ) বিয়ে হয়েছে আজ ৫ বছর । বিয়ের আগে থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ২ বছর । একে অপরকে অনেক ভালোবাসে । সম্পর্কের দুই বছরের মাথায় ভালোবাসাকে পরিপূর্ণতা দেয় বিয়ের মাধ্যমে । খুব ভালো ভাবে চলছিল তাদের সংসার । সাগর ( ছদ্ম নাম ) মানে সুমির হাজবেন্ড মূলত একজন ব্যবসায়ী । প্রায় তাকে ব্যবসার কাজে ঢাকার বাহিরে যেতে হয় । বিয়ের দুই বছরের মাথায় তাদের সংসার আলোকিত করে আসে এক মেয়ে । সুখের যেন অভাব ছিল না । ঠিক বিয়ের ৩ বছরের মাথায় সাগরের ব্যবহারে কিছুটা পরিবর্তন দেখতে পায় সুমি । কেমন যেন তাকে ইগনোর করে । হুট করে ক্ষেপে যায় । প্রথম দিকে সুমি ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবে নিলেও পরবর্তীতে অস্বাভাবিক আকার ধারণ করে । কথায় কথায় গালি দিয়ে কথা বলে সাগর , যা এর আগে কখনো করেনি । এখন সুমির গায়ে হাত তুলতে লাগলো । সুমি কিছুতেই বুঝতে পারছে না সাগরের কি হয়েছে । সুমির বান্ধবীর মামা একজন সাইক্রিয়াটিস্ট । সুমি একদিন তার সাথে দেখা করে ও তার সব সমস্যা খুলে বলে । সমস্যা অনুযায়ী তাকে সমাধান দেয়া হলেও , সেই সমাধান কোনো কাজেই আসছে না । দিন দিন তাদের সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করছে । শেষে সুমি উপায় না পেয়ে তাদের এলাকার এক হুজুরের কাছে দ্বারস্থ হয় । হুজুর সম্পূর্ণ ঘটনাটি মনোযোগ দিয়ে শোনেন । হুজুর তখন বলেছিলেন,তিনি সমস্যাটা ধরতে পেরেছেন । এটার চিকিৎসাও আছে কিন্তু তার হাজব্যান্ডকে নিয়ে আসতে হবে । সুমি চিন্তায় পড়ে যায় । সাগর আর আগের মতো নেই । আর যেই ব্যবহার সাগর সুমির সাথে করে, কিভাবে এখন ওই হুজুরের কাছে নিয়ে যাবে বুঝে উঠতে পারছে না । একদিন দেখতে পেল সাগরের মনটা কিছুটা ভালো । সেইদিন সাগরকে অনেক বুঝিয়ে নিয়ে গেলো হুজুরের কাছে । বিকেল ৪ টার দিকে গেলেও তাদের মাগরিবের ওয়াক্ত পর্যন্ত বসিয়ে রেখেছে । মাগরিবের পর তাদেরকে একটা রুমের মধ্যে নিয়ে বসালো । প্রথমে হুজুর সাগরকে এক গ্লাস পানি খেতে দিলো । পানি খাওয়া মাত্রই সাগর বমি করা শুরু করলো । প্রচুর বমি শুরু হল । সুমি ভয় পেয়ে গিয়েছে । পানির মধ্যে এমন কি আছে যে খাওয়া মাত্র বমি শুরু করলো – হুজুরকে প্রশ্ন করলো সুমি ।
হুজুর বলল মা একটু চুপ থাকো আমি তোমাদের সব খুলে বলবো । ১০ মিনিট পর তার বমি বন্ধ হয়ে যায় । বমির কারণে সাগর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে । তখন হুজুর মূল ঘটনা খুলে বলে। আমি হুজুরের কথা সম্পূর্ণ তুলে ধরলাম ।

মা তোমার জামাই মনে হয় ঢাকার বাহিরে যায় কাজের জন্য । ঠিক এই রকম কাজের জন্য একবার চট্টগ্রামে যায় তোমার জামাই । সেখানে এক ক্লায়েন্ট এর বাসায় সম্ভবত উঠে । সেইদিন রাতে সেখানে ভাতের সাথে চিলের আর মুরগির মাংস মিলিয়ে খেতে দেয়া হয় । ওই চিলের মাংসে কুফুরী কালাম করা ছিল । সেদিনকার পর থেকে তোমার জামাই তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে । মূলত তারা চেয়েছিল তোমার জামাই পাগল হয়ে যাক । তাহলে আর ব্যবসা করতে পারবে না । তার মার্কেট দখল করবে । এখানে আমি পানিপড়া দিয়ে দিয়েছি । আজ রাতে তাকে কিছু খেতে দিয়ো না । কাল সকালে খালি পেটে এই পানি খেতে দিও ।হয়তো আরেকবার বমি করলেও করতে পারে । তার পেটের ভেতরে যা ছিল বের হয়ে গিয়েছে । এখন আশা রাখি আর কোন সমস্যা হবে না ।

সুমি হুজুরের কথা মতো কাজ করলো । এরপর দেখলো ধীরে ধীরে সাগর এর উন্নতি হচ্ছে । তারপর থেকে সাগর বাহিরে কাজের জন্য বের হলেও কোনো ক্লায়েন্ট এর বাসায় কিছু খায় না ।

আমি আবারও বলছি । লেখাটা আপনার বিশ্বাস যোগ্য নাও লাগতে পারে । বা আপনার কাছে এর ব্যাখ্যা থাকতে পারে । আবার এমনও হতে পারে এই রকম একটি ঘটনা আপনার বা আপনার কাছের মানুষের সাথেও ঘটে যেতে পারে । আমি যা শুনেছি তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম ।

সেরা হরর মুভি ।। ভয় নিশ্চিত !

Now Reading
সেরা হরর মুভি ।। ভয় নিশ্চিত !

ভুতের ছবি বা হরর মুভি দেখতে কে না ভালোবাসে । ভয় পাবে জেনেও এই সব মুভি গুলো দেখার মাঝে অন্য রকম মজা আছে । আর সেই পরিবেশ যদি হয় এরকম যে , একটা অন্ধকার ঘরে আপনি এক বসে টিভি তে দেখছেন , দরজা বন্ধ করে জানালা খুলে রাতের বেলা লাইট অফ করে দেখবেন তখন ভয়ের মাত্রা দ্বিগুণ হয়ে যায় । মুভির জগতে এই রকম কিছু মুভির সাথে আজ আপনি আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিবো ।ইচ্ছে করলে আপনি এই মুভি গুলো দেখতে পারেন । আর হ্যাঁ নিজ দায়িত্বে এক ঘরে রাতের বেলা মুভি গুলো দেখবেন ।

 

D@bbe

১- [email protected] – এই হরর মুভির নাম শুনে নাই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুব মুশকিল । বিশেষ করে যারা হরর মুভি ভালোবাসেন । dabbe বেশ কিছু সিরিজ বের হয়েছে ইতি মধ্যে । যার প্রত্যেকটি ব্যবসা সফল ছবি । টার্কিশ এই মুভি বাস্তব জীবনের গল্প সিনেমার মাধ্যমে তুলে ধরেছে দর্শকদের কাছে । সম্পূর্ণ জ্বীন নির্ভর হরর মুভি । বাস্তব ধর্মী মুভি । এই মুভি আপনাকে নতুন কিছু ভাবতে শেখাবে । কিভাবে মানুষ জ্বীনদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলছে তা খুব সুন্দর ভাবে প্রকাশ পেয়েছে । ছবিকে আপনার কাছে আরো বাস্তব করতে তুলে ধরা হয়েছে কোরআন এর বিভিন্ন আয়াত । তারা বোঝাতে চেয়েছে খারাপ জ্বীন কিভাবে আপনাকে ক্ষতি করতে পারে , তার ক্ষমতা কতটুকু । এই মুভির সাউন্ড ইফেক্ট আপনাকে ভয় পেতে বাধ্য করবে । নির্মাতা খুব সুন্দর ভাবে , সাবলীল গল্পের মাধ্যমে এমন ভাবে ছবি নির্মাণ করছেন , যা আপনাকে স্ক্রিন এর পর্দায় বেঁধে রাখবে । ছবির প্রত্যেক মুহূর্তে আপনি রোমাঞ্চিত হয়ে উঠবেন , আর আপনার কাছে মনে হবে এখানে মনে হয়ে কিছু ঘটতে যাচ্ছে । এই মুভি আপনাকে দেখাবে ব্ল্যাক ম্যাজিক কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে । আপনি এই মুভি দেখতে গিয়ে একটি অসুবিধায় পড়তে পারেন , তাহলো এই মুভি আপনি ইংলিশ ডাবিং পাবেন না । আপনাকে ইংলিশ সাব টাইটেল ব্যবহার করে দেখতে হবে । ( আপনি যদি দুর্বল চিত্তের মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে আমি বলবো এই মুভি আপনার জন্য না )

 

The Exorcist

২-The Exorcist – ১৯৭৩ সালের দিকে নির্মাণ করা হয় এই মুভি । অনেকে এই হরর মুভি কে বলে থাকে , হরর মুভির রাজা । আর এই কথা আরো জোরালো হয়ে উঠে যখন the exorcist মুভি অস্কার পায় । যদি আপনাকে আমি প্রশ্ন করি , আপনার বয়স সন্ধি কালে আপনি কত টুকু নিজেকে আবিষ্কার করতে পারবেন ? প্রশ্নটা আসলে অদ্ভুত । ঠিক এই রকম কিছু সম্মুখীন হয় the exorcist মুভির কিশোরী । প্রায় রাতে সে ঘরের মধ্যে কিছু একটার অস্তিত্ব অনুভব করেন । সেই কিশোরীর কাছে মনে হয় তার বিছানা ধরে কেউ দোলনার মতো দোলাচ্ছে । আবার মাঝে মাঝে কেউ গোঙ্গানোর মতো করে কান্না করছে । যখন সে তার মা বাবা কে তার সমস্যার কথা শেয়ার করে । তার মা বাবা তাকে একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায় । ডাক্তার বলে তার বয়স সন্ধি চলছে তাই এমন হচ্ছে । এর পরের শুরু হয়ে তার সাথে আরো কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা । এভাবে এগিয়ে চলে গল্পের কাহিনী । ছবির কিছু দৃশ্য আপনাকে ভয়ে আতংকিত করে তুলবে ।

 

Curse Of Chucky

৩- Curse Of Chucky – একটা পুতুল কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে , তা এই মুভি আপনাকে প্রমাণ করে দিবে । আপনাদের নিশ্চয় পুতুল দ্বীপ এর কথা শুনেছেন । শুনে না থাকলে আমাদের সাইটে এই নিয়ে একটি লেখা আছে আপনি পড়ে দেখতে পারেন । আমি নিচে লিংক দিয়ে দিবো । মূল কথায় ফিরে আসি । আচ্ছা আপনার নামে যদি একটা আননোন পার্সেল আসে আর সেটা যদি হয় একটা পুতুল তাহলে আপনি নিশ্চয় অবাক না হয়ে পারবেন না , তাই না ? ঠিক এই মুভিটা একটা পুতুলে কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে । নিকা নামের ছোট একটা মেয়ের ঘরে একদিন পার্সেল । খুব অবাক হয়ে সে তার মাকে নিয়ে পার্সেলটি খুলে দেখতে পায় একটা পুতুল । অনেক অবাক হয় নিকা । তার পরের দিন রাতে তার মা ঘুমোতে গেলে পরের দিন তাকে মৃত আবিষ্কার করা হয় । নিকার মা কে দেখা যায় কেউ একজন ছুরি দিয়ে খুব করেছে । এই খুনের পর নিকার ঘরে ঘটতে থাকে সব অদ্ভুত ঘটনা । এই রকম একটা রোমাঞ্চকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলে ছবির কাহিনী । এই ছবির মজার ব্যাপার হলো , আপনি বুঝতে পারবেন না পরের দৃশ্যে আপনার জন্য কি অপেক্ষা করছে । প্রতি মুহূর্তে আপনি চমকে উঠবেন । নির্মাতা খুব সুন্দর ভাবে তার হরর গল্পকে উপস্থাপন করেছে ।

তাছাড়া আরো কিছু মুভির নাম বলছি যা আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য দুনিয়ায় ।

১ – মিরর ( mirror )
২ – গোস্ট রিডের ( ghost rider )
৩- মিরর ২ ( mirror ২ )
৪ – ইজরা ( ezra )

যদি আপনি এই মুভি গুলো দেখে থাকেন তাহলে , অবশ্যই নিজের মতামত জানাতে ভুলবেন না

জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ৩য়

Now Reading
জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ৩য়

আমি আবার ও বলি , আবারো কথা বলার কারণ এর আগের পর্বেও বলেছি আমি আপনাদের সামনে সত্য মিথ্যা প্রমাণ করতে আসিনি , আমার সাথে বা আমার পরিবারের সাথে বা কাছের মানুষদের সাথে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো । এমন হতে পারে এই ঘটনা গুলো আপনার বা আপনার কাছের মানুষের সাথে ঘটেছে । আজ তেমনি একটা ঘটনা শেয়ার করবো আপনাদের সাথে

একদিন আমি শুয়ে ছিলাম । আমার নানু এসে আমার পাশে বসলো । আমি আবার ছোট বেলা থেকে গল্প শোনার পাগল । সেই খাতিরে নানুকে বললাম একটা ভয়ের গল্প শুনাও । নানু বলল তাহলে শুনে আমার সাথে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা

নানুর যেভাবে বলেছে আমি ঠিক সেভাবে তুলে ধরলাম । একদিন খুব সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছিলো । আমার নতুন বিয়ে হয়েছে তাই মায়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি । তোর নানা সেদিন মাছ ধরতে গিয়েছে । বর্ষা কালে নতুন পানিতে মাছ উপরে উঠে আসে । তখন জালে অনেক মাছ ধরা পড়ে । আমি তাকে নিষেধ করেছিলাম সেই সাথে আমার মা ও নিষেধ করেছে । কে শুনে কার কথা , তোর নানা মাছ ধরতে যাবেই যাবে । সারা দিন বৃষ্টি , কখন অনেক জোরে আবার কখনো গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি । আমি জানালার পাশে বসে ছিলাম । হঠাৎ করে একটা জিনিস দেখে আমার চোখ সেখানে আটকে গেলো । আমি নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না । দেখলাম একটা আগুনের গোলা একবার এই দিক থেকে দৌড় দিয়ে মাঠের অন্য প্রান্তে যাচ্ছে , আবার মাঠের ওই প্রান্ত থেকে দৌড় দিয়ে এই প্রান্তে ফিরে আসছে । আমি প্রথমে ভাবলাম হয়তো আমি ভুল কিছু দেখছি । আমি দৌড়ে মায়ের কাছে গিয়ে সব ঘটনা খুলে বললাম । আমার মায়ের বুঝতে আর বাকি রইলো না ঐটা কি ছিল । সাথে সাথে মা আমার বাবা কে ডেকে বলে – জামাই নাকি এই বৃষ্টির মধ্যে মাছ ধরতে গিয়েছে তুমি একটু গিয়ে দেখ তো কি হয়েছে , এখনো আসছে না কেন ?

তখন আমার ও একটু চিন্তা হচ্ছিলো কারণ বের হয়েছে সেই সকালে এখন প্রায় দুপুর । এতো সময় লাগার কথা না । যাই হোক আমার তোর বড় আব্বা ( মানে আমার নানুর বাবা ) গিয়ে তোর নানা কে ধরে ধরে বাসায় নিয়ে আসছিলো । আমরা সবাই অবাক হয়ে যাই । সকালে সুস্থ মানুষ মাছ ধরতে গেলো , এখন সেই মানুষকে ধরে ধরে আনতে হচ্ছে ! ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত লাগলো আমাদের কাছে । আমরা তখন কিছু তাদের জিজ্ঞেস না করে শরবত দিলাম , কিন্তু আমার আব্বা থামিয়ে দিয়ে বলল জামাই কে আগে একটু লবণ পানি দাও আর সাথে একটু কালিজিরা । তোর বড় আব্বা আবার একটু ঝাড়ফুঁক জানতো । তখন তোর নানা কে কালিজিরা আর লবণ পানিতে কি জানি বির বির করে পড়ে খাইতে দিলো । কিছুক্ষণ পর তোর নানা সুস্থ হলে জিজ্ঞেস করলাম তোমার কি হয়েছে আর মাছ কি? এই কথা শুনে তোর নানা অনেকটা রেগে গিয়ে বলল – আমি এখানে মরে যাই আর তুমি আছো মাছ নিয়ে । কেন তোমার কি হয়েছিল নানু নানাকে জিজ্ঞেস করলো । নানা তখন সব ঘটনা খুলে বলল । নানার কথা ছিল এমন –

 

আমি যখন ঘর থেকে মাছ ধরতে বের হই তখন কেন যেন মনে হচ্ছিলো আমার পিছনে কিছু একটা আসছে । আমি পিছন ফিরে তাকিয়ে কয়েক বার দেখলাম , দেখি কেউ নেই । তার পর আমি আমার মতো করে পুকুর ঘটে গিয়ে দেখলাম , পুকুরের পারে অনেক কৈ মাছ পড়ে আছে ( নতুন পানি পেলে কৈ মাছ লাফিয়ে পুকুরের পারে উঠে আসে ) । আমি ওই গুলো কিছু আমার ব্যাগ এ রেখে জাল মারলাম । প্রথম বার কিছু উঠলো না । আমি অবাক হলাম , পানিতে অনেক মাছ দেখা যাচ্ছে কিন্তু আমি জাল মারি কিন্তু উঠছে না কেন ? কিছু না ভেবে আমার জাল উড়িয়ে মারলাম । সেই বারো কিছু উঠলো না । তৃতীয় বার যখন মারলাম তখন অনেক মাছ উঠলো । তখন আমার প্রথম দুই বারের কথা ভুলে গিয়েছি । দেখে অনেক খুশি হয়েছি । মাছ গুলো বাগে রেখে আবার জাল মারলে আবার মাছ উঠলো । যখন বাগে মাছ রাখতে যাবো তখন দেখি প্রথম বার যেই মাছ গুলো ধরেছি তা নেই ? আমি প্রথমে ভয় পেয়ে যাই কারণ এতো কষ্ট করে মাছ ধরলাম যদি ব্যাগ ছিঁড়া থাকে সেখান দিয়ে মাছ গুলো চলে গেলে । তাই ভালো মতো ব্যাগ চেক করলাম , না কোথাও কোনো ছেড়া নেই । আশে পাশে খুঁজলাম কোথাও পেলাম না । যাক এতো শত না ভাবে জালের মাছ গুলো আবার বাগে রাখলাম । কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার যখন মাছ মারতে যাবো তার আগে বাগে কি ভাবে যেন তাকালাম । আর তখনি দেখলাম অবাক করা এক কাণ্ড । একটা কুকুর । যেমন তেমন কুকুর না । আমার থেকে কুকুরটা ১০ হাত দূরে , কিন্তু কিভাবে যেন মুখ থেকে জিহ্বা বের করে ব্যাগ থেকে মাছ নিয়ে খাচ্ছিল । এইটা দেখে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারিনি । অনেক ভয় পাচ্ছিলাম । এর পর কি হলো কিছু মনে নেই । যখন ঘুম ভাঙলো দেখো আব্বা আমার মাঠের উপর হাত বুলিয়ে দিচ্ছে ।

এই ছিল আমার নানা ও নানুর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা । অনেকের সাথে মিলে যেতে পারে । হয়তো আপনার পরিবারের খালা , নানা . নানী বা দাদা দাদির সাথে ঘটে যেতে পারে এমন ঘটনা । কিছু জিনিসের অস্তিত্ব ঠিকই আছে কিন্তু বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত না । যার কারণে আমাদের কাছে বিশ্বাস যোগ্য হয়ে পারে না ।

যদি আপনাদের কারো সাথে এমন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানান ।

 

চলবে

জ্বীন ও প্যারানর্মাল কি একই বিষয় ? পর্ব – 2

Now Reading
জ্বীন ও প্যারানর্মাল কি একই বিষয় ? পর্ব – 2

যারা বিজ্ঞান মনস্ক তারা প্যারানরমাল ব্যাপারটাকে খুব হালকা ভাবে নিয়ে থাকে .

তাদের কথা হলো প্যারানরমাল ব্যাপার সম্পূন আমাদের মস্তিষ্কে ঘটে থাকে , এর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই তো বটেই বিজ্ঞানেও এর কোনো স্থান নেই , তারা এইটাকে শুধু মানুষিক সমস্যা বলে থাকে , তারা বলে এইটা হলো হেলিসুনেশন . এইটা সম্পূন তাদের কাল্পনিক জগৎ , তাদের যুক্তি মূলত হলো যদি প্যারানরমাল কিছু থেকেই থাকে তাহলে কেনো তা মানুষের সাথে দিনের বেলা ঘটে না . যারা এইসব কথা বলে তাদের মধ্যে আবার কিছু লোক জ্বীনে বিশ্বাস করে আবার কেউ করে না . যারা জ্বীনে বিশ্বাস করে তারা আবার এইটা বিশ্বাস করে না যে কিছু অন্ধকার ঘরে মোমবাতি জ্বালিয়ে জ্বীন হাজির করা হয়ে থাকে , কিন্তু প্যারানরমাল মানে ভুতপেত এই জিনিসে তাদের বিশ্বাসী নেই ,

জ্বীন কি খেয়ে জীবন ধারণ করে ?

আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ মনে করে থাকে জ্বীনদের প্রধান খাদ্য হলো মিষ্টি . তারা শুধু মিষ্টি খেয়ে থাকে বা তাদের অতি প্রিয় খাবার . হ্যা মিষ্টি তারা খেয়ে থাকে ঠিক আছে কিন্তু তাদের প্রধান খাবার কিন্তু মিষ্টি না . তাদের প্রধান খাবার হলো গোবর আর পশুর রান্না করা হাড়. এই সম্পর্কে প্রমান পাওয়া যায় এই হাদিস থেকে

তিরমিযী হাদিসে উল্লেখ আছে যে, নবী করীম (স.) বলেছেন, “তোমরা দুটি জিনিস অর্থাৎ হাড় ও গোবর দিয়ে ইন্তিজা করো না, কেননা ওগুলো হলো তোমাদের জ্বীন ভাইদের খাদ্য”।

এইটা তাদের প্রিয় খাদ্য হলেও তারা মানুষ এর মতো ভাত খেয়ে থাকে .প্রমান স্বরূপ কাজী আবু ইয়ালা (রহঃ) বলেছেন যে, জ্বীন মানুষের ন্যায় খাওয়া-দাওয়া করে থাকে। এরাও চিবিয়ে এবং গিলে খায়।

ইয়াবীদ বিন জাবির বলেছেন যে, মুসলমান জ্বীন মানুষদের যে বাড়িতে খাবার রান্না হয় , আর সেই বাড়ির চালে কিম্বা ছাদে বসবাসরত ঐ জ্বীনরা নেমে এসে সে খাবার খেয়ে থাকে। অনেক সময় মানুষের সাথে বসেও খায়, অথচ মানুষ স্থূল বিধায় অতসব খেয়াল করতে পারে না। আর এসব জ্বীনরা মানুষদের বালা-মুসিবত ও মন্দ-জ্বীন থেকে রক্ষা করে থাকে। এদিকে খারাপ জ্বীনরা সাধারণত নাপাক নোংরা জায়গায় থাকে, যেমন-ময়লার গাদা, আঁস্তাকুড়, নর্দমা, গাছের ঝাড়, গোসলখানা, পায়খানা, ইত্যাদি। মূলত জ্বীনদের প্রধান খাদ্য হলো- হাড়, গোবর, কয়লা ইত্যাদি।

তাহলে উপরের কথা থেকে বুঝা যায় জ্বীনদের চরিত্রের উপর নির্ভর করে তাদের খানাপিনা . যেহেতু তাদের প্রকার ভেদের উপর নির্ভর করে তারা খাবার খেয়ে থাকে তাহলে অনেক ধরণের জ্বীন এর অস্তিত্ব আছে তা প্রমান হয় . তাদের চরিত্রের উপর তাদের নাম করুন করা হয়েছে যেমন ইফরিত .ক্বারিন , শয়তান ইত্যাদি , একটি হাদিস দ্বারা প্রমান হয় যে প্রতিটা মানুষের সাথে একজন জ্বীন রয়েছে , যার নাম ক্বারিন , অনেক আবার একে শয়তান জ্বীন বা সরাসরি শয়তান বলে থাকে . এই জ্বীনের কাজ হলো ইনসান মানে মানুষ কে ধোকা দেয়া । মানুষকে ভুল পথে পরিচালনা করতে সাহায্য করা । নানান রকম লোভ লালসা দেখানো ,

এই সম্পর্কে হাদিস হল “তোমাদের প্রত্যেককে জ্বীনদের মধ্য হতে একজন সঙ্গী দেয়া হয়েছে।” সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, “এমনকি আপনাকেও ইয়া আল্লাহর রাসুল (সঃ)? তিনি বলেনঃ এখন সে আমাকে শুধু ভাল করতে বলে।” [মুসলিম কর্তৃক সংগৃহীত vol. 4 p.1540 , no. 7134]

কেউ কি জ্বীন বস করতে পারে ?

কেউ কেউ স্বীকার করে তারা নাকি জ্বীন বস করতে পারে , মানে তাদের অধীনে জ্বীন থাকে . কিন্তু বাস্তবে এই কথার একদম ভিত্তি নেই . কারণ জ্বীন বস করার ক্ষমতা শুধু মাত্র সোলায়মানকে দেয়া হয়েছিল . এমন কি হযরত মুহাম্মদ (সা ) কেও দেয়া হয়নি , এর প্রমান কোরআন শরীফে পাওয়া যায়

“যথার্থই গত রাতে জ্বীনদের মধ্যে হতে একজন ইফরিত (একটি বলিষ্ঠ অথবা খারাপ জিন)” আমার সালাত ভেঙ্গে দেবার জন্য থু থু নিক্ষেপ করেছিল। যাহোক আল্লাহ তাকে পরাভূত করতে আমাকে সাহায্য করেন এবং যাতে তোমরা সকালে তাকে দেখতে পারো সে জন্য তাকে আমি মসজিদের একটি স্তম্ভের সঙ্গে বেঁধে রাখতে চেয়েছিলাম। অতঃপর আমার ভ্রাতা সোলাইমানের দোয়া মনে পড়লঃ “হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা কর এবং আমাকে দান কর এমন এক রাজ্য যাহার অধিকারী আমি ছাড়া কেহ না হয়।” [সুরা সাদ ৩৮:৩৫]

তাহলে যারা বলে থাকে তারা জ্বীন পালে নিছক মানুষকে বোকা বানানোর জন্য বলে থাকে , কোনো কারণ ছাড়া জ্বীনদের সাথে যোগাযোগ করা মূলত ধর্মদ্রোহী কাজের মধ্যে পড়ে . কারণ মানুষ কে সেই ক্ষমতা দেয়া হয়নি . আর যারা কুফরী কালাম করে জ্বীনদের ডেকে থাকে আর সেই ডাকে যেই সব জ্বীন সারা দেয় তারা মূলত দুষ্ট জ্বীন , আমরা মূলত আরব রজনীতে যেসব ঘটনা দেখে থাকি জ্বীনরা অনেক অসাধ্য কাজ সাধন করেছে . মূলত এইসব গল্প ও কল্প কাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে . জ্বীনদের শুধু অদৃশ্য ও প্রয়োজনে বিভিন্ন সুরতে থাকার ক্ষমতা আছে , নিমিষেই আপনাকে জ্বীন বড় লোক বানিয়ে দিবে বা আপনাকে উড়িয়ে নিয়ে কোথাও চলে যাবে তা কখনোই সম্ভব নয় .

“এইরূপে মানব ও জ্বীনের মধ্যে শয়তানদিগকে প্রত্যেক নবীর শত্রু করিয়াছি।” [সুরা-আল্-আন্’আম ৬:১১২]

যেহেতু জ্বীন বস করার কথা উঠেছে তাহলে তার পাশা পাশি প্রশ্ন আসে জ্বীন কি তাহলে ভবিষৎ বলতে পারে ?

চলবে

জ্বীন ও প্যারানর্মাল কি একই বিষয় ? পর্ব – ১

Now Reading
জ্বীন ও প্যারানর্মাল কি একই বিষয় ? পর্ব – ১

আমাদের চারপাশে এমন অনেক জিনিষ আছে যাদের অস্তিত্ব আছে কিন্তু অনুভব করা যায় না . তাদেরকে কেউ জীন বলে আবার কেউ তাদের ভুত বলে আখ্যায়িত করে . আর এই সব ঘটনাকে বলে থাকে প্যারানর্মাল ঘটনা .

আমাদের চারপাশে বস্তু থাকলেই যে আমরা তাদের অস্তিত্ব অনুভব করতে পারবো তা কিন্তু নয় . যে সব জিনিষের অস্তিত্ব আছে কিন্তু অনুভব করা যায় না তাই হলো জিন  . কিছু কিছু সময় তারা তাদের অস্তিত্ব প্রমান এর জন্য আমাদের সাথে অনেক অস্বাভাবিক আচরণ করে থাকে . যাতে আমরা বুঝতে পারি তাদের অস্তিত্ব কে .

অনেকে তাদের অনেক ভাবে নিয়ে থাকে ও অনেক নাম ডেকে থাকে , যেমন কেউ তাদের স্রেফ মনের ভুল বলে উড়িয়ে দেন আবার কেউ তাদের ভুত বলে আখ্যায়িত করে অনেক ধরণের রং লাগিয়ে প্যারানর্মাল ঘটনা বলে চালিয়ে দেন .আর ধর্ম বিশ্বাস থেকে ধরলে তাদের কে বলা হয়ে থাকে জ্বীন  .

আল্লাহ তালা কোরআন শরীফে বলে দিয়েছেন
“আমি তো মানুষ সৃষ্টি করিয়াছি ছাঁচে-ঢালা শুষ্ক ঠনঠনে মৃত্তিকা হইতে। এবং ইহার পূর্বে সৃষ্টি করিয়াছি জ্বীন অত্যুষ্ণ বায়ুর উত্তাপ হইতে।” [সূরা আল্-হিজর ১৫:২৬,২৭]

তাহলে বোঝা যাচ্ছে জিন এর অস্তিত্ব সত্য . আর জিন কিসের তৈরী তা প্রমান করার জন্য নিয়ে আয়াত যথেষ্ট
”সে বললঃ আমি তার চেয়ে উত্তম আপনি আমাকে আগুনের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।” [ সূরা সাদ ৩৮:৭৬ ]

তার মানে জ্বীন আগুনের তৈরী . আর মানুষ মাটির তৈরী . মানুষ মাটির তৈরী হবার কারণে মাটির সাথে বায়ু , পানি ও অগ্নির সংমৃশ্ৰণ রয়েছে যার দরুন মানুষ সহজে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে . আর জ্বীন আগুনের তৈরী হবার কারণে তারা বৃষ্টির দিনে বাহিরে বের হতে পারে না . পানি ও বজ্রপাতের জন্য , পানি ও বজ্রপাতের আলো জ্বীনদের খুব ক্ষতি করে থাকে . এই খানে আরেকটা জিনিষ প্রমান করা যায় জ্বীনদের শরীরে আগুনের সাথে কিছুটা জলীয় দ্রবনের সংমিশ্রন আছে . এর স্বপক্ষে যুক্তি হলো: রসুল (স.) একদা উল্লেখ করেছিলেন যে, শয়তান বলে একটি জ্বীন একদা নামাজের সময় তাঁর সাথে মোকাবিলা করতে এলে তিনি ঐ জ্বীনকে গলা টিপে ধরলে, সেইক্ষণে জ্বিনের থুথুতে শীতলতা অনুভব করেছিলেন।[সুরা সাদ ৩৮:৩৫] এতে প্রতীয়মান হয় যে, জিন যদি পুরোপুরি দাহ্য হতো, তাহলে ঠাণ্ডা থুথুর থাকার কথা নয়।

জ্বীনদের বয়স নিয়ে অনেক মত পার্থক আছে . সবচে বেশি যেটা শোনা যায় তা হল একজন জ্বীন এর প্রাপ্ত বয়স্ক হতে সময় নেন ৩০০ বছর . এইটা থেকে বুঝা যায় তারা দীর্গ সময় বেঁচে থাকে .. তাদের মধ্যে ও যৌন প্রক্রিয়ার মাধম্যে বংশ বৃদ্ধি হয়ে থাকে . অনেকে আবার মেয়ে জ্বীনদের পরী নাম ডেকে থাকে . আসলে আমরা রূপকথার যেই পরীকে চিন্তা করি বাস্তবিক অর্থে পরী ঐরকম নয় . তারা বিশাল দেখার অধিকারী এবং যেকোনো রূপ ধারণ করতে সক্ষম .

মূলত জ্বীনদের চলাচলের উপর ভাগ করে এদের কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়

এক রকম যারা সারাক্ষণ আকাশে উড়ে,

অন্য আর এক রকম যারা সাপ এবং কুকুর হিসাবে বিদ্যমান এবং পৃথিবীর উপর বসবাসকারী

আর এক রকম যারা একস্থানে বাস করে অথবা উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়।”

দ্বিতীয় লাইনের কথা থেকে বুঝা যায় তারা যেকোনো রূপ ধারণ করতে পারে . মানে তারা কখনো কখনো মানুষ এর রূপ ধারণ করে মানুষ এর সাথে চলাচল করে আবার কখনো কখন কুকুর বা সাপ এর রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে অবস্থান করেন . এক রেওয়াতে আছে জ্বীন যখন যাই রূপ ধারণ করে তখন তার মধ্যে ঠিক সেই রূপ পরিমান শক্তি আসে . মানে জ্বীন যদি মানুষ এর রূপ ধারণ করে তাহলে তার মধ্যে মানুষের শক্তি বিদ্যমান থাকবে .আর যদি সে সাপ এর রূপ ধারণ করে তাহলে সাপ এর শক্তি থাকবে , তাছাড়া উপরের আয়াত থেকে বুঝা যায় তাদের থেকে মানুষ কে বেশি শক্তি শালী করে বানিয়েছে .
তাহলে প্রশ্ন জগতে পারে তারা আমাদের কি ভাবে ক্ষতি করে যদি তারা আমাদের থেকে দুর্বল হয় ?
তারা আমাদের ক্ষতি বেশি করে ভয় দেখিয়ে . ভয় এমন একটা বেপার , যখন আমরা ভয় পাই তখন আমাদের হিতাহিত বুদ্ধি হারিয়ে ফেলি আর সেই সুযোগটা নিয়ে জিন রা আমাদের ক্ষতি করে থাকে .এদের ক্ষতি করার উদ্দেশ দুইটা কারণে হয়ে থাকে . আপনি যদি না জেনে তাদের ক্ষতি করে থাকে তাহলে তারা আপনার ক্ষতি করার চেষ্টা করবে , আরেকটা কারণ হলো তাদের মধ্যে কিছু দুষ্ট প্রকৃতির আছে তাদের কাজ ই হল অন্যের ক্ষতি করা .

তাহলে প্যারানর্মাল আর জিনের ঘটনা কি এক ?
আমাদের প্রথমে বুঝতে হবে প্যারানর্মাল বিষয়টা কি ? প্যারানর্মাল বিষয় মুলুত মানুষ তখনি ব্যবহার করে যখন তার সাথে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে , আর আমাদের সমাজে মানুষ মূলত প্যারানর্মাল ঘটনা বলতে ভুত প্রেতের কথা বুঝে থাকে . মানুষ কিছু একটা ঘটলে তারা ধরে নেয় এইটা ভুত এর কাজ . আসলে ভুত বলতে কিছুই নেই . এইটা যেমন সত্য ঠিক জ্বীন দ্বারা মানুষ আক্রমণ হয় সেটাও সত্য . যখন সে জ্বীন দ্বারা আক্রমণ হয় তখন সেই ঘটনাটাই মূলত প্যারানরমাল ঘটনা .

চলবে