ঢাকার মধ্যে একদিনের আনন্দ ভ্রমণ – পর্ব ১ম

Now Reading
ঢাকার মধ্যে একদিনের আনন্দ ভ্রমণ – পর্ব ১ম

আপনি চাইলে আপনার পরিবার অথবা আপনার কাছের মানুষ কে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার মধ্যে কিছু সুন্দর জায়গা থেকে । যাকে বলে এক দিনের আনন্দ ভ্রমণ ।

ঘুরতে আসলে কে না ভালোবাসে । আমাদের এই ব্যস্ততার জীবনে , কাজ থেকে একটু অবসর পেলে আমরা বেরিয়ে পড়ি পরিবার , আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব নিয়ে ঘুরতে । প্রকৃতি আর মানুষের মধ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত মিল । একে অপরের প্রতি রয়েছে ভালোবাসা , যার ফলে একটু ফাঁক পেলে বেরিয়ে পরে এই প্রকৃতিকে আবিষ্কার করতে । আজ সেই রকম কিছু জায়গার কথা আপনাদের বলবো । সামনে ঈদ , ইচ্ছে করলে ঘুরে আসতে পারেন সেই সব জায়গা গুলো ।

শিশু পার্ক – শিশু পার্ক এর নাম শুনে নাই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল । গ্রাম থেকে কেউ ঢাকায় ঘুরতে আসলে , তাদের ঘোরার জায়গার প্রথম দিকে থাকে এই শিশু পার্ক । আর আপনি যদি নতুন বিবাহিত হন , আর আপনার যদি একটি বাচ্চা থাকে , তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে বেস্ট জায়গা হবে শিশু পার্ক । ঢাকার অন্যতম প্রাণ কেন্দ্র হলো শাহবাগ । আর সেখানেই অবস্থিত শহীদ জিয়া শিশু পার্ক । এই ঈদে আপনি আপনার ছোট সোনামণি কে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন শিশু পার্ক থেকে । ভেতরে রয়েছে ১৯ টির বেশি রাইড । প্রতি রাইডের উঠতে আপনাকে গুনতে হবে মাত্র ৮ টাকা । শিশু পার্কের ভেতরে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাইড হলো ট্রেন ,ফাঁইটার জেট, মেরি গো রাউন্ড, ইত্যাদি । শুধু মাত্র রবিবার বন্ধ থাকে । শুক্রবার নামাজের পর থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকে । আপনি যদি শিশু পার্কে যান তাহলে আমি আপনাকে বলবো আপনি একটু সামনে এগিয়ে গেলে জাদুঘর পেয়ে যাবেন । ইচ্ছা করলে সেখান থেকেও ঘুরে আসতে পারেন ।

শিশু পার্ক

চিড়িয়াখানা – ঢাকার মধ্যে সর্ব বৃহৎ চিড়িয়াখানাটি হলো মিরপুর চিড়িয়াখানা । ১৮৬.৬০ একর জমির উপর তৈরি করা হয়ে চিড়িয়াখানাটি । বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি জায়গা । আপনি আপনার কাছের মানুষ , পরিবার , অথবা ছোট সোনামণিকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন । যেন কোনো জায়গা থেকে মিরপুর ১ গামী বসে উঠে পড়লে আপনি চলে আসতে পারবেন চিড়িয়াখানা । আগে প্রবেশ মূল্য ছিল ১০ টাকা । এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা । খুব সুন্দর একটি জায়গা । আপনি মুগ্ধ অবশ্যই হবেন । ভেতরে আপনি বাঘ মামার দেখা পাবেন , সেই সাথে পাবেন বানরের বাঁদরামো । আপনি দেখতে পাবেন ময়ূর , সেই সাথে হরেক রকমের সাপ । তাছাড়া ভেতরে একটি প্রাণী জাদুঘর রয়েছে । মাত্র ১০ টাকা টিকিট মূল্য আপনি ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন । চিড়িয়াখানার সাথে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উদ্যান বোটানিক্যাল গার্ডেন । আপনি ঘুরে আসতে পারেন সেখান থেকেও । আর আপনার জন্য সাবধানতা হলো আপনি ভেতরে ভুলেও কোনো খাবার দোকানে বসবেন না । বাহির থেকে পানি কিনে নিয়ে যাবেন । যদি বসেন ৫০ টাকা দামের খাবার রাখা হবে ৩০০ টাকা ।

 

চিড়িয়াখানা

সোনারগাঁ জাদুঘর – ঢাকা থেকে একটু বাহিরে ,গ্রামীণ পরিবেশে পাবেন সোনারগাঁ জাদুঘর । একে কারু শিল্পের মেলা ও বলা হয় । ঢাকা থেকে মাত্র ২৪ কিলো মিটার দূরে অবস্থিত । আপনি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যেতে পারেন অথবা আপনি বাস যোগে যেতে পারেন । আপনি বাসে গেলে আপনাকে নামতে হবে সোনারগাঁ মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায়। সেখান থেকে আপনি কিছু সি এন জি পাবেন , যারা আপনাকে সোনারগাঁ জাদুঘর এর সামনে নামিয়ে দিবে । ভাড়া পড়বে জন প্রতি ২০ টাকা । একদম জাদুঘরের গেটের সামনে নামিয়ে দিবে । জাদুঘরে প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা করে । এখন হয়তো বাড়তে পারে । আপনার জন্য উপযুক্ত সময় হবে যদি বৈশাখ মানে ঘুরতে যান । তখন সেখান মেলা বসে । আর আপনি যদি শীতকালে ঘুরতে যান তাহলে আপনার জন্য থাকবে মাছ ধরার ব্যবস্থা । ছাড়া আপনি পাবেন অনেক ঐতিহাসিক বস্তু ।ভেতরে বই পড়ার জন্য পাবেন লাইব্রেরি । আপনি ইচ্ছা করলে নৌকা ভ্রমণ করতে পারেন ।

 

সোনারগাঁ জাদুঘর

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর – বাংলাদেশে প্রথম কোনো বেসামরিক জাদুঘর হলো বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর । তেজগাঁও বিমানবন্দর মানে পুরাতন বিমানবন্দর এর পাশে আছে বাংলাদেশ বিমান জাদুঘর । আপনি জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে আপনার গুনতে হবে মাত্র ২০ টাকা । এর বিনিময় আপনি ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন । জাদুঘরের ভেতরে মূল আকর্ষণ হলো ডাকোটা বিমান যা উপহার হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে দিয়েছিলো । তাছাড়া বলাকা নামের একটি প্লেন আছে , আপনি ইচ্ছা করলে এর ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন টিকিট কেটে । টিকিটের মূল্য পড়বে ৩০ টাকা । তাছাড়া আপনি অনেক উঁচু উঁচু রাডার দেখতে পাবেন । আর বিমান বাহিনীর কিছু ব্যবহৃত বিমান দেখতে পাবেন । একটু সামনে এগিয়ে গেলে আপনার চোখে পড়বে মানচিত্র, যা আপনাকে বলে দিবে এই জাদুঘরে কোথায় কি আছে । রবিবার ব্যতীত সব দিন খোলা আছে বিমান বাহিনী জাদুঘরে । সকাল ১০ থেকে খোলা থাকে ।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর

চলবে

ঘুরে আসুন দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম মিঠা পানির হাওর হাকালুকি হাওর

Now Reading
ঘুরে আসুন দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম মিঠা পানির হাওর হাকালুকি হাওর

বাংলাদেশকে বলা হয় নদী মাত্রিক দেশ । আবার ষড়ঋতুর দেশেও বলা হয় আমাদের দেশ কে । কি নেই আমাদের দেশে ? আপনি সব কিছু খুঁজে পাবেন আমাদের এই বাংলাদেশে । তাইতো লেখক বলেছে
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,7
সকল দেশের রানি সে যে – আমার জন্মভূমি।
আসলে আমাদের দেশ সকল দেশের রানী ।

বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে রয়েছে অসংখ্য হাওর ।সম্ভবত সিলেট বিভাগ একমাত্র বিভাগ যেখানে এতো পরিমাণ হাওর রয়েছে । আজ আমি আলোচনা করবো মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর ।বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম হাওর । পাখিদের অভয় অরণ্য বলা হয়ে এই হাকালুকি হাওর কে । শীতকালে প্রচুর পরিমাণে অতিথি পাখি আসে এই হাওরে ।

হাওর পরিচিতি

মৌলভীবাজারের অন্যতম বৃহত্তর হাওর । মৌলভীবাজারের অনেক গুলো উপজেলাকে নিয়ে গঠিত এই হাওর । সর্ববৃহৎ বড়লেখা কে নিয়ে গঠিত হয়েছে এই হাওর । মূল হাওরের প্রায় ৪০% বড়লেখায় পড়েছে । এই হাওর প্রায় ২৩৮ টি বিল নিয়ে গঠিত । বাংলাদেশে যে কয়টি মিঠা পানির হাওর আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো হাকালুকি হাওর । মাছের জন্য বিখ্যাত এই হাওর । বর্ষার মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে ডিম পাড়ে মা মাছ । সিলেট সহ প্রায় বাংলাদেশের অনেক জেলাতে এই মাছ সরবরাহ করে মাছের চাহিদা পূরণ করা হয় । শীত কালে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ প্রজাতির হাঁস সহ অনেক পাখি আসে । প্রতিবছর শীত কালে তাদের আনাগোনা পাওয়া যায় । শুধু যে শীতে পাখি দেখতে পাওয়া যায় তা কিন্তু না , শীত ব্যতীত সারা বছর এই হায়রে পাখি থাকে । তাই পাখিদের জন্য অভয় অরণ্য বলা হয় । হাকালুকি হায়রে প্রায় ৫২০ প্রজাতির উদ্ভিদ আছে । শুধু বিদেশী পাখি না , সেখানে আছে দেশি প্রজাতির পাখি । তাদের সংখ্যা ও কম না । প্রায় ৩০০ প্রজাতির উপরে আছে দেশি পাখি । অনেক প্রজাতির মাছ ও আছে । এমন অনেক প্রাণী আপনি দেখতে পাবেন যা বিলুপ্তির পথে । শীতকালে পানি কমে যায় । যার ফলে অনেকে ধান চাষ করে । আবার কেউবা কম পানি থাকার কারণে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে ।

আপনি যদি যেতে চান তাহলে দুই সময়ে যেতে পারেন । শীত কালে আর বর্ষাকালে । আমি বলবো শীত কাল বেস্ট হবে । তখন অতিথি পাখির আগমন থাকে । যা আপনাকে মুগ্ধ করবেই । আরো ভালো হয় যদি আপনি হাওরের পাশে রাত্রি যাপন করতে পারেন তাঁবু ফেলে । জোছনা রাত , পাশে পানির শব্দ সেই সাথে হায়রে অতিথি পাখি । স্বর্গীয় সুখ আপনার জন্য ।

কিভাবে যাবেন ?

আপনি দুইটি পথ ধরে যেতে পারেন হাকালুকি ।মূলত কয়েকটা উপজেলা নিয়ে গঠিত হওয়ার কারণে আপনি বাস বা ট্রেন দিয়ে গেলে এক এক জেলায় নামতে হবে ।

ট্রেন – আপনি যদি ট্রেনে যেতে চান তাহলে আপনাকে কুলাউড়া নেমে যেতে হবে । কারণ হাওরের কিছু অংশ কুলাউড়া পড়েছে । প্রথমে আপনাকে ঢাকা থেকে ট্রেনের টিকিট কাটতে হবে । ভাড়া পড়বে ৩৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে । সিলেট গামী যেকোনো ট্রেনের টিকিট কাটলেই হবে । আপনার পৌঁছাতে প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা লাগবে ।ট্রেনে করে গেলে আপনি যেমন আপনার জার্নি কে উপভোগ্য করে তুলতে পারবেন ঠিক টাকাও বেঁচে যাবে । কুলাউড়া নেমে আপনি সি এন জি করে চলে আসুন বড়লেখা । সেখানে নেমে অটো রিক্সা করে চলে আসুন হায়রে ।

বাস – আপনি বসে করে সরাসরি নেমে যেতে পারেন বড়লেখায় । শ্যামলী বা হানিফ এ করে আসতে পারেন । ভাড়া পড়বে ৫০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে । বসে আসলে একটু টাকা হয়তো বেশি লাগবে কিন্তু সময়ের দিকে থেকে আপনি বেঁচে যাবেন । মানে আপনি অনেক সময় সেভ করতে পারবেন । মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লাগবে মৌলভীবাজার আসতে । আপনি বড়লেখা নেমে সি এন জি করে চলে আসুন কানন গো বাজার । এখানে আপনাকে একটি তথ্য দিয়ে রাখি । আপনি যদি বসে করে বড়লেখা নামেন তাহলে কয়েকবার আপনাকে সি এন জি পাল্টাতে হবে । প্রথমে কানন গো বাজার পর্যন্ত । আবার সেখানে নেমে সি এন জি করে কুটাউরা বাজার পর্যন্ত । এখন আপনি ইচ্ছা করলে হেঁটে বা সি এন জি তে করে ওয়াচ টাওয়ার পর্যন্ত যেতে পারেন । যদি বসে যান তাহলে রাতে রওনা দেয়ার চেষ্টা করবেন । আর ট্রেনে গেলেও রাতে যাওয়ার চেষ্টা করবেন । তাহলে আপনি পরের সম্পূর্ণ দিনটা পাবেন ।

কি আছে দেখার মতো ?

আমি যেভাবে যান না কেন , যদি পৌঁছাতে পারেন তাহলে হাকালুকি আপনাকে স্বাগতম করার জন্য বসে আছে । আপনি সেখানে পাখি ওয়াচ টাওয়ার দেখতে পাবেন । আপনি ওয়াচ টাওয়ার থেকে সম্পূর্ণ হাওর কে কভার করতে পারবেন । অপরূপ সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করে বাধ্য । আর যদি আপনি শক্তি কালে গিয়ে থাকেন তাহলে তো কথায় নেই । আপনার ভ্রমণের সম্পূর্ণ টাকা উসুল । আপনি নৌকা ভাড়া করে হাওর ঘুরতে পারবেন । আবার আপনি সরাসরি জেলে থেকে মাছ কিনতে পারবেন ।
হাওরের আশে পাশের কোনো থাকার হোটেল পাবেন না । আপনাকে থাকতে হলে দিনে দিনে ফিরে আসতে হবে কুলাউড়া অথবা বড়লেখা । সেখানে কিছু ভালো মানের রেস্ট হাউস পাবেন । কিছু হোটেল পাবেন কিন্তু তেমন উন্নত মানের নয় । খাবারের দাম কম । বিশেষ করে মাছের দাম খুব কম পাবেন ।

সূর্য উদয়ের দেশ কুয়াকাটা – কুয়াকাটা ভ্রমণ

Now Reading
সূর্য উদয়ের দেশ কুয়াকাটা – কুয়াকাটা ভ্রমণ

সাগর কন্যা কুয়াকাটা . সূর্য্যস্থ ও সূর্য উদয় এর দেশ কুয়াকাটা . এ যেন এক অপরূপ দৃশ . আসলে আমাদের দেশ ছবি তে আঁকা রং তুলির এক বাংলাদেশ

বাংলাদেশের পরতে পরতে যেন ভালোবাসা মিশে আছে . চলুন আজ আপনাকে নিয়ে ঘুরে আসি কয়েকটা থেকে .

সমুদ্রের পাশে একটি ছবিতে আঁকা দেশ , যার আমি সাগর কন্যা . না ভাই আপনি ভুল পড়েন নি আসলে সে সাগর কন্যা . সাগরের সুন্দর্য যেন সব এই খানে এসে জমা হয়েছে .

আপনি ঢাকা থেকে দুইটি উপায়ে কুয়াকাটা যেতে পারেন ,

বাস যোগে যেতে পারেন . আপনি সায়দাবাদ অথবা গাবতলী টার্মিনাল থেকে যেতে পারেন , কুয়াকাটা , কনক , সাকুরা এই সবগুলো বাস কুয়াকাটা হয়ে যায় . যদি আপনি এসি বাসে যান তাহলে আপনার ভাড়া পর্বে ১১০০ থেকে ১৩০০ টাকার মধ্যে . আর আপনি যদি নন এসি বাসে যান তাহলে আপনার খরচ পর্বে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে . আমি বলবো আপনি বাসে গেলে সায়দাবাদ থেকে যেতে . এই খান থেকে আপনার ভাড়া কিছুটা কম পর্বে . প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘন্টা জার্নি করে আপনি পৌঁছে যাবেন সাগর কন্যার দেশে .

২য় উপায় হলো আপনি লঞ্চে যেতে পারবেন . যারা ভ্রমণ টাকে আর রোমাঞ্চকর করতে চান , ভালোমতো উপভোগ করতে চান তারা লঞ্চে করে যেতে পারেন , আপনি যেইখানে ই থাকেন না কেন প্রথমে আপনাকে আস্তে হবে সদরঘাট লঞ্চ ঘটে . সেখান থেকে আসে আপনি টিকিট কাটতে পারেন / আপনি ঢাকা টু পটুয়াখালী এর টিকিট কেটে সোজা লঞ্চে গিয়ে বসে যান . ভাড়া নিবে ডেক ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে . আর আপনি যদি কেবিনে করে যেতে চান তাহলে ভাড়া নিবে ১০০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে . আপনি লঞ্চে খাবার এর সুবিধা পাবেন . লঞ্চে করে গেলে আপনার যাত্রা শুরু হবে সন্ধা ৫ টা থেকে ৬ টার মধ্যে . আর পৌছেবেন পরের দিন ভোরে . লঞ্চে সবচে বড় সুবিধা হলো আপনি আসে পাশের পরিবেশটা খুব ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন , আর শীতের রাতে পূর্ণিমা হলে তো কোথায়ই নেই . আপনার জার্নিটাকে পুরো মধুর করে তুলবে , যখন লঞ্চ পটুয়াখালী আসে পড়বেন তখন আসে পাশেরটি থেকে হালকা নাস্তা করে উঠে পড়ুন ইজি বাইকে .ভাড়া নিবে ১৫ টাকা , বলবেন আপনি কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল যেতে চান. তারা আপনাকে সেখানে নামিয়ে দিবেন. নেমে আপনি দেখবেন অসংখ্য বাস কুয়াকাটা যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে , আপনি যেকোনো একটি বাসে উঠে পড়ুন ভাড়া নিবে ৭০ টাকার মধ্যে / সময় লাগবে ১.৫ ঘন্টা থেকে ২ ঘন্টার মধ্যে .

আপনি এই দুই উপায় ছাড়া আরো কিছু উপায় আছে সেগুলোতে গেলে আপনার যেমন টাকার পরিমান ও বাড়বে তার সাথে জার্নি এর সময় ও বাড়বে .

বাস থেকে নেমে পড়ুন হোটেলের খোঁজে . কুয়াকাটা তে সব ই তিন তারকা মানের হোটেল
কুয়াকাটা গ্রান্ড এবং নিলাঞ্জনা বেষ্ট তবে পর্যটন এর হোটেল গুল অনেক সস্তা ও ভাল মানের,. আপনি যদি অফ সিজনে যান তাহলে হোটেল ভাড়া কম পড়বে .আপনি ৭০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে রুম পাবেন . আর যদি সিজনে যান তাহলে আপনার খরচ যেমন বাড়বে তার সাথে আপনাকে ঢাকা থেকে অগ্রিম বুকিং দিয়ে যেতে হবে . তখন আপনার খরচ পড়বে ১৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকার মতো .

মাছের দেশ হিসেবেও কুয়াকাটার বেশ নাম ডাক আছে . আপনি হোটেল থেকে নেমে আসে পাশে ঘুরে দেখতে পারেন , সাথে কিছু মাছ কিনতে পারেন লোকাল বাজার বা জেলেদের কাছ থেকে . খুবই কম দামে মাছ পাবেন. আপনি যেই হোটেলে উঠবেন সেখানে রান্নার বেবস্থা থাকলে তাদের কিছু টাকা দিলে তারা আপনাকে রান্না করে দিবে , আপনি যদি বাসমতি চাল দিয়ে সেই টাটকা মাছ খান তাহলে আপনার জার্নি কিছু টা কমে যাবে . সেই সাথে সেখানে আপনার জন্য দোকান সাজিয়ে বসে আছে হরেক রকমে শুঁটকি . আপনি যদি শুঁটকি প্রিয় হয়ে থাকেন তাহলে ঢাকায় আসার পথে কিছু শুঁটকি কিনে নিয়ে আসতে পারেন . মাছের মতো শুঁটকি এর দাম ও কম .

আমি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে যান . বাহিরে গিয়ে আপনি দেখতে পাবেন এক উপরুপ দৃশ .. সূর্য উদয় দেখে আপনার মনে হবে সূর্য যেন পানির নিচ্ থেকে উপরে উঠছে . সূর্য উদয় দেখা শেষে আপনি চলে যেতে পারেন লাল কাঁকড়া এর বীচে মানে গংগামতি . সেখানে আপনি দেখতে পাবেন লাল কাঁকড়া এর ঝাঁক . বিকেলে চলে যেতে পারেন বড় মন্দির . অনেক পুরাতন এর মন্দির দেখে আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে , আপনি ইচ্ছে করলে আপনার ট্যুর টাকে আরো দীর্ঘায়ত করতে পারেন আসে পাশের পর্যটক স্থান ঘুরে . আপনি চলে যেতে পারেন পান বাগান . আপনি ইচ্ছে করলে সম্পূন ট্যুর ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে করে ফেলতে পারেন মাত্র ২০০০ থেকে ৩০০০ হাজার টাকার মধ্যে .যদি আপনি বাসে যান তাহলে .

আর আপনি যদি লঞ্চে করে যেতে চান তাহলে সেই খরচ আরো কমে যাবে আপনি ৩ দিনের খরচ ২৫০০ টাকার মধ্যে শেষ করতে পারবেন .

লঞ্চ ডেক ভাড়া আসা যাওয়া সহ পড়বে ৫০০ টাকা

আপনি দুই দিন দুই রাত হোটেলে থাকলে পড়বে ১২০০ টাকা

৩ দিনের খাবার যাওয়ার দিন থেকে ৬০০ টাকা

আর পটুয়াখালী থেকে বাস ভাড়া আসা যাওয়া পড়বে ১৪০ টাকা

সর্ব মোট খরচ ২৪৪০ টাকা . লাল কাঁকড়া বিচ প্লাস মন্দির বা অন্যান্য যে সব জায়গা তার টাকা ধরা হয়নি ঐটা আপনি নিজের ইচ্ছা উপর নির্ভর করতে কোথায় যাবেন আর কেমন টাকা খরচ করবেন

আশা করি ভালো একটা ট্যুর দিতে পারবেন

জাফলং ভ্রমণ – শেষ পর্ব

Now Reading
জাফলং ভ্রমণ – শেষ পর্ব

সিলেট শহর থেকে জাফলং তেমন একটা দূর না । কিন্তু আপনার যাত্রা পথে সবচেয়ে যাই ঝামেলায় আপনি পড়বেন তা হল রাস্তা । কারণ জাফলং যাওয়ার পথে রাস্তা খুবই খারাপ । যা আপনাকে ভোগান্তিতে ফেলবে ।

আমাদের সিএনজি এগিয়ে চলছে । আমি সিএনজি এর সামনে বসার কারণে বাহিরের খুব সুন্দর দৃশ গুলো খুব কাছ থেকে দেখতে পারছিলাম .। তামাবিল এর আগে থেকে আপনার চোখ যেন বাহির থেকে আর সরতে চাইবে না । কি সুন্দর তার দৃশ , আমি যতই যেন দেখছি ততই যেন মুগ্ধ হচ্ছি . কি সুন্দর পাহাড় . আমার মনে হচ্ছিলো আরেকটু হলে বুঝি মেঘের সাথে গিয়ে বারি খাবে .

আমি শুধু চিন্তা করছিলাম জাফলং যাওয়ার আগে যদি এত সুন্দর দৃশ দেখা যায় , না জানি জাফলং এ আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে . আমি বাহিরের ছবি ক্যামেরা বন্ধি করতে ভুললাম না . আমরা এখন যেই  দিক দেখছি মূলত তা হলো ভারতের মেঘালয় , বাহিরের সুন্দর দৃশ দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম জাফলং এর পাহাড়ে .

আমরা গিয়েছিলাম ২৫০ টাকা করে . যখন সিএনজি থেকে নেমে যাচ্ছিলাম তখন সিএনজি ড্রাইভার বলছিলো আপনারা আবার কি ফিরে যাবেন আমার সাথে . আমি বললাম যাবো . তখন উনি বললেন তাহলে আপনাদের ৩৫০ টাকা করে পরবে. আমরা প্রথমে একটু অবাক হলাম . তিনি আমাদের বললেন যাওয়ার সময় লোক পাওয়া যায় না আর অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে আমাদের জন্য . আমি বললাম না ভাই আপনি চলে যান .

যখনি সিএনজি থেকে নামবেন তখনি আপনাকে একদল লোক ঘিরে ধরবে . ভয় পাবেন না তারা নিজেদের গাইড বলে দাবি করবে , আপনি ইচ্ছা করলে তাদের ভাড়া করতে পারেন , কিন্তু আমি আপনাদের বলবো না নেয়াটাই বেস্ট , আমরা না নিয়ে প্রথমে দাঁড়িয়ে পাহাড় থেকে মেঘলয়ের দৃশ উপভোগ করলাম , তার পর পাহাড় বেয়ে নিচে নেমে গেলাম . সাবধানের সাথে নামবেন , যখনি নিচে নামছিলাম জাফলং নদী এর দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম কিভাবে ইন্ডিয়া থেকে আমাদের দেশে পানি আসছিলো .

আসলে বাংলাদেশ অনেক সুন্দর তখনি আপনি উপভোগ করতে পারবেন যখন আপনি চামড়ার চোখ দিয়ে না দেখে মনের চোখ দিয়ে দেখবেন . .আমরা পাহাড় বেয়ে নিচে নেমে গেলাম. নামার সময় আমাদের সামনে একটা মাঠ এর মতো একটা জায়গা পড়লো . সেখানে আপনি বাহারি দোকান দেখতে পাবেন , হরেক রকমের মালামাল নিয়ে তারা বসে আছে , যেহেতু ইন্ডিয়া কাছে তাই বেশির ভাগ পণ্য আপনি ইন্ডিয়ার দেখতে পারবেন , সেখানে আমাদের দেশি শাল পাওয়া যায় কিন্তু আমার কাছে মানের দিক থেকে তেমন একটা ভালো লাগে নি , একটু সামনে এগিয়ে গেলে আপনার চোখে ধরা দিবে জাফলং এর আসল সুন্দর্য , তখন শীত কাল থাকার কারণে পানি কিছু টা কম ছিল. জাফলং বর্ষায় এক রূপ ধারণ করে আর শীতে আরেক রূপ ধারণ করে . আমার কাছে শীতের দৃশ টা মন কেরে নিয়েছে .পানি কখনই আপনার হাঁটুর উপরে যাবে না , আমাদের আর তর সইলো না . নেমে পড়লাম পানি তে . ভিজিয়ে নিলাম নিজেদের পা কে আর মনে মনে বলতে লাগলাম অবশেষে আমি ইহাকে জয় করতে পারলাম . মাথার উপর যেমন রোদ আবার পায়ের নিয়ে বরফের চেয়েও ঠান্ডা পানি . আপনির দিকে তাকালে আপনি নিচে পাথরের টুকরো দেখতে পারবেন . পানি খুবই স্বচ্ছ হবার কারণে পানিতে যেই সব মাছ ও পাথর আছে আপনি তা খালি চোখে দেখতে পারবেন .

আপনি জাফলং এ কিছু লোক দেখতে পাবেন যারা টাকার বিনিময়ে আপনার ছবি তুলে দিবে . আপনি ইচ্ছা করলে তাদের দিয়ে ছবি তুলিয়ে নিতে পারেন . নেয়ার আগে অব্যশই দাম জিজ্ঞেস করে নিবেন , আমরা একটা সাইডে আমাদের ব্যাগ রেখে নেমে পড়লাম পানিতে . পানিতে বসে শুয়ে যেভাবে পারি মজা করলাম. পানি এতো পরিমান ঠান্ডা ছিল যে মনে হচ্ছিলো শরীর বুঝি এখনই জমে যাবে .আর হে মালামাল রাখার ক্ষেত্রে সাবধানতার দিকে খেয়াল রাখবেন ,

বাংলাদেশের পাশেই ইন্ডিয়া . আমাদের সাইড টাকে বলা হয় জাফলং আর তাদের সাইড কে বলা হয় মেঘলায় . মাঝে আপনি বিএসফ ও আমাদের দেশের বিজিবি কে দেখতে পাবেন. যারা সর্বদা সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত . আপনি যখনি ইন্ডিয়ার সাইডে ঢুকতে থাকবেন পানির পরিমান আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে , আরেকটু যাওয়ার পর বিএসফ আপনাকে সাবধান করে বাংলাদেশের সীমান্তে ফিরে জিতে বলবে , ওই খানে না যাওয়াটাই ভাল .

আমরা কিছু ক্ষণ মজা করে ছবি তুলে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম . বার বার মনে হচ্ছিলো এর মজার সময় গুলো যদি শেষ না হতো তাহলে অনেক ভালো হতো . পেটে তখন প্রচন্ড খুদা . যাই মাঠ ধরে নদীর দিকে গিয়েছিলাম সেই মাঠ ধরে এগুলে দেখতে পেলাম একটা খাবারের দোকান . বসে পড়লাম খেতে . আমার কাছে পুরো ভ্রমণের এই জায়গাটা বেশি ভালো লেগেছে কারণ পিছনে পাহাড় আর সামনে নদী মাঝে মাঠের মধ্যে বসে খাবার খাওয়া এক অন্য রকম ফিলিং . টাকি মাছের ভর্তা সাথে ডিম্ আর ডাল. মনে হয় স্বর্গের খাবার . খাবার খেয়ে রওয়না দিলাম . আপনি যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে হবে কোথা থেকে বাস ছেড়ে যায় কদম তলির উদ্দেশে . অটো তে করে গেলে ভাড়া লাগবে ১০ টাকা . ভালোমত ধরে বসবেন রাস্তা খুবই খারাপ / তারা আপনাকে বাসস্ট্যান্ড এ নামিয়ে দিবে বাস আসলে উঠে পড়বেন ভাড়া নিবে ৫০ টাকা .

এই ছিল আমাদের সিলেটের জাফলং ভ্রমণ . আজকের দিনে এসেও স্মৃতিতে ভাসে সেই দিনগুলো . আসলে প্রতিটা ভ্রমণই খুবই আনন্দের

একটি ভ্রমণের নেপথ্যে

Now Reading
একটি ভ্রমণের নেপথ্যে

ভ্রমণ মানুষের জ্ঞানের পথ কে অনেক প্রসারিত করে। সেটা হোক দেশ ভ্রমণ অথবা বিদেশ ভ্রমণ। তবে মজার ব্যাপার হল এটা যে,  এই জ্ঞান টা আপনি মজার মাধ্যমে অর্জন করতে পারবেন।  ভ্রমন কাহিনী নিয়ে অনেক গল্প পড়েছি,  তবে আমি আজ কোন ভ্রমন কাহিনী লিখতে বসিনি।  এই ভ্রমন এর নেপথ্যে কি থাকে সেটা নিয়ে আমার ব্যাক্তি জীবনের কিছু কথা লিখছি।

বন্ধুদের সাথে কোথাও ঘোরতে যাওয়ার মজাই আলাদা, আর যদি সেটা হয় সব বাল্যকালের বন্ধুদের নিয়ে, তাহলেত কথাই নেই।

আমারা বন্ধুরা অনেক সময় অনেক জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা করি, তবে ভ্রমণের জন্য যে তিনটি বিষয় অপরিহার্য ভাবে সমন্বয় করতে হয় (সময়, অর্থ, স্থান) সেই বিষয় গুলো ঠিক হয়ে ওঠে না বিদায় সেটা কেবল পরিকল্পনাতেয় স্বীমাবদ্ধ থাকত।

তবে গত বছর আর সেটা পরিকল্পনাতে সীমাবদ্ধ ছিল না।

আমারা ছিলাম ৭-৮ জনের মত। এদের মধ্যে অনেকে পড়ালেখা করে, আর অনেকে পড়ালেখা শেষ করে চলে গেছে যে যার কর্মস্থলে। ভ্রমণে যাওয়ার জন্য সবার আগে আমাদের যেটা নিয়ে ভাবতে হয়েছে তা হল সময়, তারপর বন্ধুদের মধ্যে অনেকে ছাত্র, তাদের কথা ভেবে অর্থের কথাও বিবেচনা করতে হয়েছে, তার পর হল ভ্রমন স্থান নির্ধারণ করা।

সময় টা খুব বড় ব্যাপার হয়ে  দাড়াল।  কারো পরীক্ষা কারো আবার কাজের চাপ। তবে অনেক ভেবে চিন্তে, সবার কথা ভেবে,  কয়েক দিনের টানা সরকারী ছুটিতে অক্টোবর মাসের দিকে একটা তারিখ নির্ধারণ করা হল।

এর পরে যে বিষয় টা আসে তা হল অর্থ। সেটা নিয়ে আমাদের তেমন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। কেননা আমাদের পরিকল্পনাটা অনেক দিন আগে থেকেই করা হচ্ছিল, তাই আমরা প্রতিদিন কিছু কিছু করে টাকা জমাতে থাকলাম। এরপরও যাদের টাকার একটু সমস্যা ছিল,  তাদের টাকা ধার করে জোগাড় করে দেওয়া হল।

তার পরে আসে স্থান। আমাদের বাংলাদেশে অনেক দর্শনীয় স্থান আছে। সবার আগে যে স্থানের কথা মাথায় আসে তাহল কক্সবাজার বাজার, তাছাড়া রাঙামাটি,  সিলেট,  সুন্দরবন ইত্যাদি।  তবে স্থান নির্ধারণ করার সময় একেক জন একেক মত দিতে থাকল, তবে এক সাথে সব জায়গা যাওয়া সম্ভব নয় বিধায়, আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমরা শুধু এই একবার ঘুরেই আমাদের অভিযান শেষ করে দিবনা, আমাদের অভিযান চলতে থাকবে। ঘুরব আমরা সারাদেশ, প্রতি বছর নতুন নতুন কোন স্থানে ভ্রমণে বেরিয়ে পরব আমরা। এর জন্য আমরা আমদের ফেসবুকে একটা গ্রুপ খুলি, একেকজন একেক জায়গায় থাকলেও সব সময় সংযুক্ত থাকি, আর ভ্রমণের তারিখ কাউন্টডাউন করতে থাকি। তবে গতবার আমরা কক্সবাজার ই যাই, কক্সবাজার ভ্রমণ নিয়ে গল্প আরেক দিন লিখব।

এই বছর আবার নতুন কোন জাগায় ভ্রমণে বেরিয়ে পরব। আমাদের এই ভ্রমণ বিলাস চলতেই থাকবে।

জাফলং ভ্রমণ – পর্ব ৩য়

Now Reading
জাফলং ভ্রমণ – পর্ব ৩য়

মনে প্রাণে বিশ্বাস করা হয় , এইখানের যেসব কবুতর মাজারের বাহিরে উড়ে চলে যায় তার বিশ্বাসঘাতক ।

তারা মাজারের সাথে বেঈমানি করে মাজারের বাহিরে চলে গিয়েছে । এই স্থান থেকে সামনে এগিয়ে গিয়ে প্রথমে আপনার চোখে পড়বে বড় একটি পাতিলা । যেখানে মানুষ মানতের টাকা দিচ্ছে । খুব সুন্দর একটি জায়গা এই মাজার। যখনি আপনি মাজারের ভিতর ঢুকবেন সাথে সাথে নিজেকে রিফ্রেশ মনে হবে । মাজারের গেট দিয়ে বরাবর তাকালে দেখতে পারবেন বিশাল এক উঁচু বিল্ডিং ।বিল্ডিং মূলত মসজিদ । মসজিদ দিয়ে উঠার আগে সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে আপনার জুতা জমা দিতে হবে ।তা না হলে জুতা হারানোর ভয় থাকে । জুতা জমা দিয়ে আপনি মাসজিদ বরাবর উঠে যান । সোজা উঠে হাতের ডান পাশে আপনি একটি রাস্তা দেখতে পাবেন । সেই রাস্তা ধরে এগুলে আপনি সরাসরি চলে আসবেন শাহ্‌ জালালের মাজারে । আপনি উপরে উঠার সময় আগরবাতি বা কয়েকটি মোমবাতি কিনে নিয়ে যেতে পারেন । আমরা সেখানে দাড়িয়ে কিছুক্ষন দুরুদ পড়ালাম । ঠিক নেমে আসার পথে আপনি যেই ডানে মোড় দিয়ে মাজারে উঠে গিয়েছিলেন সেই মোড়ে দাঁড়ালে আপনি ছোট একটি রাস্তা পাবেন যেখান দিয়ে আপনি সরাসরি মাজারের কবর স্থানে চলে যাবেন ।

আমি গিয়ে প্রথমে প্রয়াত সালমান শাহ্‌ এর কবর খুঁজে বের করলাম । অনেক খোঁজা খুজি করে বের করলাম তার কবর । তার কবরের সামনে গিয়ে দাড়িয়ে কবর জিয়ারত করলমা। খুব কষ্ট পেলাম যখন দেখলাম কিছু লোক ছবি তোলার জন্য তার কবরের মাঝে গিয়ে দাড়াতে ও দ্বিধা বোধ করছে না । শেষে নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে বললাম ভাই আপনারা এক কাজ করেন কবর খুড়ে তাকে বের করে ছবি তোলেন ।

আপনি আশে পাশ ঘুরে দেখতে পারেন । খুব সুন্দর একটি জায়গা । আপনার ঘুরাঘুরি শেষ হলে দর্গার গেট দিয়ে বের হয়ে আসলে দেখবেন আপনাকে সবাই ঘিরে ধরবে। আমরা যখন বের হয়ে আসলাম সবাই আমাদের বলছিল্ যাবেন নাকি ভাই শাহ্‌ পরাণ । আপনি ইচ্ছা করলে দুই ভাবে যেরে পারেন
১ – রিজার্ভ করে যেতে পারেন
২ – শেয়ার করা সিএনজি তে করে যেতে পারেন ।

যদি আপনি শেয়ার করা সিএনজি তে যেতে চান তাহলে আপনাকে দর্গার বাহির হয়ে একদম শেষ মাথায় গিয়ে দাড়াতে হবে । সেখানে লোকাল সিএনজি পাবেন , আমরা চলে গেলাম একদম শেষের দিকে । উঠে পড়লাম সিএনজি তে । ভাড়া নিবে ২৫ টাকা করে । আমরা যাওয়ার পথে সিলেটে অপরুপ দৃশ গুলো উপভোগ করলাম । তখন মনে মনে বলতে লাগলাম আসলে আমাদের দেশ অনেক সুন্দর । মনে ভরে যাচ্ছিল সিলেটের সৌন্দর্য দেখে । যাওয়ার পথে আপনার চোখে পড়বে অসংখ্য ছোট ছোট টিলা । যখন আপনি মাজারের কাছা কাছি চলে আসবেন ঠিক তার আগ মুহূর্তে দেখতে পাবেন এমসি কলেজ । খুব সুন্দর কলেজটি । আমাদের চোখ কে বার বার অবাক করে দিচ্ছে এই সিলেট শহর । রাস্তা ঘাঁট আপনি পরিষ্কার পাবেন । অন্যান্য জেলার রাস্তার তুলনায় সিলেটের রাস্তা আমরা কম ভাঙা পেয়েছি। বলা যেতে পারে আমাদের কাছে শাহ্‌ জালাল থেকে শাহ্‌ পরাণ পর্যন্ত এক আরাম দায়ক ভ্রমণ ছিল । কখন যে চলে আসলাম শাহ্‌ পরাণের মাজারে টের পেলাম না।সিএনজিতে পরিচয় হয়েছিল এক লোকের সাথে । তিনি তামাবিল যাবেন । আমাদের জন্য ভালোই হল এক জন লোক পেলাম জাফলং যাওয়ার জন্য । আমরা মাজারের কাছে নেমে চলে গেলাম মাজার জিয়ারত করতে । শাহ্‌ পরাণের মাজার আবার উঁচু একটি টিলার উপরে । এই খানেও আপনাকে জুতা জমা দিয়ে যেতে হবে । আমরা শাহ্‌ জালাল যেভাবে জিয়ারত করলাম ঠিক একই ভাবে শাহ্‌ পরাণ জিয়ারত করে বের হয়ে পড়লাম জাফলং এর জন্য ।

আপনি যদি রির্জাভ যান তাহলে ১৫০০ থেকে ২০০০ এর মত লাগবে । আমরা ছিলাম ৩ জন । সাথে আরেক জন যোগার করে লোকাল সিএনজি তে করে রওনা হলাম সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাফলং এ । আমাদের লোকাল সিএনজিতে করে যেতে এক এক জনের লেগেছে প্রায় ২৫০ টাকা করে । আপনি কদমতলি থেকে বাসে করে যেতে পাড়েন ।ভাড়া পড়বে ৬০ টাকা করে । আমি বলবো যাওয়ার সময় সিএনজি তে করে যেতে । কারন জাফলং এর আসল সৌন্দর্য দেখতে পাবনে তার যাওয়ার পথে । আমাদের সিএনজি চলছে তার আপন মনে । কিছু দুর গিয়ে ড্রাইভার গ্যাস নিয়ে নিল । আমি খুব ভালো আড্ডা শুরু করে দিলাম সিএনঞ্জি ড্রাইভার এর সাথে । সিএনজি যতই সামনে যাচ্ছে আমার তখন মনে হচ্ছিল আমরা মনে হয় সৌন্দর্যের স্বর্গের মধ্যে প্রবেশ করছি । কিছু ক্ষন যাওয়ার পর আমরা একটা ব্রিজের উপর উঠলাম । আমি আগে থেকে জানতাম ব্রিজের নিচে যে নদী বয়ে যাচ্ছে তার পানির রঙ নীল । বাংলাদেশের এক মাত্র নদী যার পানি নীল । সেখানে সিএনজি থামিয়ে কিছু সৃতি বন্দি করলাম ক্যামেরায় । সামান্য যাত্রা বিরতি নিয়ে আবার যাত্রা শুরু হল জাফলং এর উদ্দেশে ।

জাফলং ভ্রমণ – ২য় পর্ব

Now Reading
জাফলং ভ্রমণ – ২য় পর্ব

দেখতে দেখতে চলে আসলাম হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এ ।

ট্রেন কিছু সময় এর জন্য এইখানে থামলো। আমি নেমে পড়লাম একটু হাটা হাটির জন্য । স্টেশনটা আমার খুব পরিচিত । নানার বাড়ি হবার কারনে। রুটি ও ভাঁজি নিয়ে উঠে পড়লাম ট্রেনে। খুব ধীরগতিতে ট্রেন চলছে , যখনি চায়ের রাজ্য শ্রীমঙ্গল পার হল তখন ট্রেনের স্প্রিড বাড়িয়ে দেয়া হল।ঘন কুয়াসা থাকার কারনে বাহিয়ের পরিবেশটা উপভোগ করতে পারছিলাম না।যাই হক অনেক প্রতীক্ষার পর ঠিক রাত ১২.৩০ মিনিটে আসে পড়লাম সিলেট রেলওয়ে স্টেশন এ । আমার সবাই ক্লান্ত।অনেক বছর পর সিলেটে এসেছি ।রাত হবার কারনে আমাদের কাছে সিলেট শহরটাকে খুব অপরিচিত লাগছে । স্টেশন থেকে বের হবার পথে পড়লাম আরেক ঝামেলায় । আমাদের সাথে ট্রেনে যার পরিচয় হয়েছিল তিনি টিকিট করে ছিলেন শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত । স্টেশন মাষ্টার তাকে প্লাটফর্মে আটকিয়ে দিয়েছে । পরে শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেটের ভাড়া সম্পুনটা তাকে দিতে হয়েছে । তাই আমারা যারা সিলেট ভ্রমণে বের হব তারা যেন টিকিটের ব্যাপার টা খেয়াল রাখি ।

স্টেশন থেকে বের হতে বিভিন্ন CNG ও ট্যাক্সি ড্রাইভাররা ডাকতে শুরু করলো । আপনি তাদের কোন কথায় কান দিবে না,। সোজা বের হয়ে যাবেন । আমরাও তাই করলাম বের হয়ে গিয়ে দেখি একটা খাবারের দোকান খোলা । সেখান থেকে তিন জন খেয়ে নিলাম । আমি ডিম দিয়ে ভাত খেলাম অন্য দুই জন রুটি আর ভাঁজি খেল ।

খাবারের রিভিউ ঃ খুব জঘন্য খাবার ছিল।একদম টেস্ট ছিল না ।রুটি ছিলা তেলে ভরা মনে হয় ডুবো তেলে ভেজে নিয়ে এসেছে । আর ভাঁজি নিয়ে তো কোন কথাই হবে না । অন্তত এই গুলো না খেয়ে খালি পেটে থাকা ভাল ছিল।
রুটি – ৩/১০
ভাঁজি – ২/১০
ডিম ভাজা – ৫.৫/১০
ভাত – ৫/১০

যাই হক কোন রকম খেয়ে আশে পাশের মানুষ কে জিজ্ঞাস করেন নিলাম যে হোটেল কোথায় ভাল হবে । প্রায় সবাই বললো দর্গার কাছে ভাল হোটেল পাওয়া যাবে । নিয়ে নিলাম সিএনজি। ভাড়া নিয়েছে ২৫ টাকা করে । আপনি রাতের অন্ধকারে এক অন্য রকম সিলেট কে দেখতে পাবেন। রাতের বেলা যখন আপনি ক্রিন ব্রিজে উঠবেন তখন আপনার মন ভরে যাবে। চোখে ঘুম আর শরীরে ক্লান্ত নিয়ে এসে পড়লাম দর্গার গেটে ।

আপনাকে সিএনজি ওয়ালা রাস্তায় নামিয়ে দিতে চাইবে আপনি বলবেন ভিতরে যেতে । তা না হলে আপনাকে অনেক টা পথ হেটে যেতে হবে।

যখন গিয়ে নামলাম দেখলাম কিছু হোটেল এর লোক আমাদের ডাকছে । আমরা তাদের ডাকে সারা দিয়ে গেলাম ৩ বেডের রুম তার চেয়েছে ২ হাজার টাকা। মোটা মুটি সব হোটেলে আপনি ১২০০ টাকার নিয়ে সিঙ্গেল বেডের রুম পাবেন । আমরা আর রুম নিলাম না। দর্গার গেট দিয়ে বের হয়ে এক সিকিউরিটি কে বললাম কম দামে কোথায় ভাল রুম পাওয়া যাবে । উনি আমাদের কে কদমতলি বাজারে যেতে বললেন । রাত তখন প্রায় ১.৩০ বাজে ।
কদমতলি কাউকে জিজ্ঞাস করে হেটে যাবেন । সময় ১৫ মিনিট এর মত লাগবে । আর তা না হলে আমাদের মত করে সিএনজি ভাড়া ২০ টাকা করে দিতে হবে । কদমতলি গিয়ে দেখি সব হোটেল এর দরজা বন্ধ করে দিয়ে ম্যনেজার ঘুমাচ্ছে । প্রথমে তারা আপনাকে বলবে রুম নেই । একটু বিনয়ের সাথে বললে তারা রুম দিয়ে দিবে । কারন রাত ১ টার পর তারা সাধারনত কাউকে রুম ভাড়া দিতে চায় না।

আমরা দুই রুম নিয়ে নিলাম । রুমের দাম শুনে আমার মত আপনিও অবাক হবেন । দুই বেডের রুম ভাড়া মাত্র ১৮০ টাকা আর সিঙ্গেল রুম টিভি সহ ১৫০ আর টিভি ছাড়া ১২০ । যারা গ্রুপ নিয়ে যাবেন আমি তাদের বলবো এই খানে রুম্ নিলে টাকা বেচে যাবে । আর যারা ফ্যামিলি নিয়ে যাবেন তাদের জন্য দর্গার কাছে রুম নেয়া ভাল।

আমরা দুই ভাই সারা রাত ঘুমাতে পারিনি । রুম গুলো কেমন জানি প্যারানমাল লাগছিল আমার কাছে। কেমন যেন গা ছম ছম করছে । এইটা যে নিছক মনের ভয় তা বুঝতে পারছিলাম কিন্তু ভয় লাগছে এইটাই ছিলা বড় কথা । ;যখন আমি আমার রুম মেট কে বললাম উনিও কিছুটা ভয় পেয়ে গেলেন। সারা রাত জেগে রইলাম । আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে দিলাম রাত খানা । সারা দিনের ক্লান্ত শরীর আর রাত জাগা এক অন্য রকম অনুভূতি । অবশ্য ভাল অনুভূতি যে নয় তা আপনরা লেখা পড়েই বুঝতে পারছেন ।

ফজরের আজান দেয়ার সাথে সাথে আমরা দুই ভাই ঘর থেকে বের হয়ে গেলাম চাবিটা কাউন্টারে জমা দিয়ে । প্রথমে আমাদের উদ্দেশ্য হল আমরা মাজার জিয়ারত করবো। রাতের মত আর সিএনজি নিয়ে ভুল করলাম না। হেটে হেটে চলে আসলাম শাহ্‌ জালাল এর মাজারে ।

শাহ্‌ জ্বালাল এর মাজার

আপনি যখন শাহ্‌ জালাল এর মাজারে ঢুকবেন প্রহতমেই আপনার চোখে পড়বে এক জায়গায় মানুষের ভিড় । ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে দেখি সবাই জালালি কবুতরকে সবাই খাবার কিনে খাওয়াচ্ছে ।

( চলবে )