3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব- কালো জাদু

Now Reading
জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব- কালো জাদু

আমার অন্যতম সফল একটি সিরিজ হল জ্বীন সমাচার ।

বেশ কিছুদিন পর আবার আরেকটি নতুন পর্ব নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি । আজকের পর্বটি বিগত পর্বের থেকে একটু আলাদা থাকবে । বিগত পর্বে মূলত সরাসরি জ্বীন এর কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখা হলেও আজ একটু ভিন্ন ধরণের লেখা হবে । লেখার আগে বলে নিই , এই সিরিজের প্রতিটা গল্প সত্য । হয়তো আপনাদের কাছে বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে । এখানে প্রতিটা ঘটনা আমার সাথে না হয় আমার কাছের মানুষদের সাথে ঘটে যাওয়া । আমার ঘটনার সাথে হয়তো খোঁজ নিলে আপনার বা আপনার আশেপাশের মানুষদের সাথে মিলে যাবে ।

মূলত আজকের ঘটনা কালো জাদু নিয়ে । কালো জাদু নিয়ে ইতিমধ্যে আমার প্রিয় লেখক ও বন্ধুসুলভ ফেরদৌস ভাই লিখেছেন । আমি আজ আপনাদের সাথে একটা ঘটনা শেয়ার করবো যা আমার কাছের একজন মানুষের সাথে ঘটে গিয়েছে ।

প্রথমে আপনাদের কালো জাদু সম্পর্কে ধারণা দিয়ে নিই । কালো জাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিক হল এমন একটা মাধ্যম , যার সাহায্যে আপনি অন্যের ক্ষতি করতে পারবেন , সেই সাথে অনেক নিষিদ্ধ কাজ কিছুটা সহজ উপায়ে করতে পারবেন । নিষিদ্ধ কাজ বলতে বোঝানো হয়েছে , আমাদের ধর্মে বলা হয়েছে আপনি কোনো জ্বীনকে নিজের বশ করতে পারবেন না । কিন্তু কালো জাদুর মাধ্যমে আপনি খারাপ বা দুষ্ট জ্বীনদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন , আবার অনেক সময় আপনি তাদের হুকুমের গোলামও করতে পারবেন । কিন্তু এতে আপনার উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কা অনেক বেশি । কি রকম ক্ষতি বা কালো জাদু – তা নিয়ে আমি আরেকটি লেখা লিখবো !! আজ আমি সরাসরি আমার ঘটনায় চলে আসি ।

সুমির ( ছদ্ম নাম ) বিয়ে হয়েছে আজ ৫ বছর । বিয়ের আগে থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ২ বছর । একে অপরকে অনেক ভালোবাসে । সম্পর্কের দুই বছরের মাথায় ভালোবাসাকে পরিপূর্ণতা দেয় বিয়ের মাধ্যমে । খুব ভালো ভাবে চলছিল তাদের সংসার । সাগর ( ছদ্ম নাম ) মানে সুমির হাজবেন্ড মূলত একজন ব্যবসায়ী । প্রায় তাকে ব্যবসার কাজে ঢাকার বাহিরে যেতে হয় । বিয়ের দুই বছরের মাথায় তাদের সংসার আলোকিত করে আসে এক মেয়ে । সুখের যেন অভাব ছিল না । ঠিক বিয়ের ৩ বছরের মাথায় সাগরের ব্যবহারে কিছুটা পরিবর্তন দেখতে পায় সুমি । কেমন যেন তাকে ইগনোর করে । হুট করে ক্ষেপে যায় । প্রথম দিকে সুমি ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবে নিলেও পরবর্তীতে অস্বাভাবিক আকার ধারণ করে । কথায় কথায় গালি দিয়ে কথা বলে সাগর , যা এর আগে কখনো করেনি । এখন সুমির গায়ে হাত তুলতে লাগলো । সুমি কিছুতেই বুঝতে পারছে না সাগরের কি হয়েছে । সুমির বান্ধবীর মামা একজন সাইক্রিয়াটিস্ট । সুমি একদিন তার সাথে দেখা করে ও তার সব সমস্যা খুলে বলে । সমস্যা অনুযায়ী তাকে সমাধান দেয়া হলেও , সেই সমাধান কোনো কাজেই আসছে না । দিন দিন তাদের সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করছে । শেষে সুমি উপায় না পেয়ে তাদের এলাকার এক হুজুরের কাছে দ্বারস্থ হয় । হুজুর সম্পূর্ণ ঘটনাটি মনোযোগ দিয়ে শোনেন । হুজুর তখন বলেছিলেন,তিনি সমস্যাটা ধরতে পেরেছেন । এটার চিকিৎসাও আছে কিন্তু তার হাজব্যান্ডকে নিয়ে আসতে হবে । সুমি চিন্তায় পড়ে যায় । সাগর আর আগের মতো নেই । আর যেই ব্যবহার সাগর সুমির সাথে করে, কিভাবে এখন ওই হুজুরের কাছে নিয়ে যাবে বুঝে উঠতে পারছে না । একদিন দেখতে পেল সাগরের মনটা কিছুটা ভালো । সেইদিন সাগরকে অনেক বুঝিয়ে নিয়ে গেলো হুজুরের কাছে । বিকেল ৪ টার দিকে গেলেও তাদের মাগরিবের ওয়াক্ত পর্যন্ত বসিয়ে রেখেছে । মাগরিবের পর তাদেরকে একটা রুমের মধ্যে নিয়ে বসালো । প্রথমে হুজুর সাগরকে এক গ্লাস পানি খেতে দিলো । পানি খাওয়া মাত্রই সাগর বমি করা শুরু করলো । প্রচুর বমি শুরু হল । সুমি ভয় পেয়ে গিয়েছে । পানির মধ্যে এমন কি আছে যে খাওয়া মাত্র বমি শুরু করলো – হুজুরকে প্রশ্ন করলো সুমি ।
হুজুর বলল মা একটু চুপ থাকো আমি তোমাদের সব খুলে বলবো । ১০ মিনিট পর তার বমি বন্ধ হয়ে যায় । বমির কারণে সাগর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে । তখন হুজুর মূল ঘটনা খুলে বলে। আমি হুজুরের কথা সম্পূর্ণ তুলে ধরলাম ।

মা তোমার জামাই মনে হয় ঢাকার বাহিরে যায় কাজের জন্য । ঠিক এই রকম কাজের জন্য একবার চট্টগ্রামে যায় তোমার জামাই । সেখানে এক ক্লায়েন্ট এর বাসায় সম্ভবত উঠে । সেইদিন রাতে সেখানে ভাতের সাথে চিলের আর মুরগির মাংস মিলিয়ে খেতে দেয়া হয় । ওই চিলের মাংসে কুফুরী কালাম করা ছিল । সেদিনকার পর থেকে তোমার জামাই তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে । মূলত তারা চেয়েছিল তোমার জামাই পাগল হয়ে যাক । তাহলে আর ব্যবসা করতে পারবে না । তার মার্কেট দখল করবে । এখানে আমি পানিপড়া দিয়ে দিয়েছি । আজ রাতে তাকে কিছু খেতে দিয়ো না । কাল সকালে খালি পেটে এই পানি খেতে দিও ।হয়তো আরেকবার বমি করলেও করতে পারে । তার পেটের ভেতরে যা ছিল বের হয়ে গিয়েছে । এখন আশা রাখি আর কোন সমস্যা হবে না ।

সুমি হুজুরের কথা মতো কাজ করলো । এরপর দেখলো ধীরে ধীরে সাগর এর উন্নতি হচ্ছে । তারপর থেকে সাগর বাহিরে কাজের জন্য বের হলেও কোনো ক্লায়েন্ট এর বাসায় কিছু খায় না ।

আমি আবারও বলছি । লেখাটা আপনার বিশ্বাস যোগ্য নাও লাগতে পারে । বা আপনার কাছে এর ব্যাখ্যা থাকতে পারে । আবার এমনও হতে পারে এই রকম একটি ঘটনা আপনার বা আপনার কাছের মানুষের সাথেও ঘটে যেতে পারে । আমি যা শুনেছি তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম ।

জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ৩য়

Now Reading
জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ৩য়

আমি আবার ও বলি , আবারো কথা বলার কারণ এর আগের পর্বেও বলেছি আমি আপনাদের সামনে সত্য মিথ্যা প্রমাণ করতে আসিনি , আমার সাথে বা আমার পরিবারের সাথে বা কাছের মানুষদের সাথে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো । এমন হতে পারে এই ঘটনা গুলো আপনার বা আপনার কাছের মানুষের সাথে ঘটেছে । আজ তেমনি একটা ঘটনা শেয়ার করবো আপনাদের সাথে

একদিন আমি শুয়ে ছিলাম । আমার নানু এসে আমার পাশে বসলো । আমি আবার ছোট বেলা থেকে গল্প শোনার পাগল । সেই খাতিরে নানুকে বললাম একটা ভয়ের গল্প শুনাও । নানু বলল তাহলে শুনে আমার সাথে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা

নানুর যেভাবে বলেছে আমি ঠিক সেভাবে তুলে ধরলাম । একদিন খুব সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছিলো । আমার নতুন বিয়ে হয়েছে তাই মায়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি । তোর নানা সেদিন মাছ ধরতে গিয়েছে । বর্ষা কালে নতুন পানিতে মাছ উপরে উঠে আসে । তখন জালে অনেক মাছ ধরা পড়ে । আমি তাকে নিষেধ করেছিলাম সেই সাথে আমার মা ও নিষেধ করেছে । কে শুনে কার কথা , তোর নানা মাছ ধরতে যাবেই যাবে । সারা দিন বৃষ্টি , কখন অনেক জোরে আবার কখনো গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি । আমি জানালার পাশে বসে ছিলাম । হঠাৎ করে একটা জিনিস দেখে আমার চোখ সেখানে আটকে গেলো । আমি নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না । দেখলাম একটা আগুনের গোলা একবার এই দিক থেকে দৌড় দিয়ে মাঠের অন্য প্রান্তে যাচ্ছে , আবার মাঠের ওই প্রান্ত থেকে দৌড় দিয়ে এই প্রান্তে ফিরে আসছে । আমি প্রথমে ভাবলাম হয়তো আমি ভুল কিছু দেখছি । আমি দৌড়ে মায়ের কাছে গিয়ে সব ঘটনা খুলে বললাম । আমার মায়ের বুঝতে আর বাকি রইলো না ঐটা কি ছিল । সাথে সাথে মা আমার বাবা কে ডেকে বলে – জামাই নাকি এই বৃষ্টির মধ্যে মাছ ধরতে গিয়েছে তুমি একটু গিয়ে দেখ তো কি হয়েছে , এখনো আসছে না কেন ?

তখন আমার ও একটু চিন্তা হচ্ছিলো কারণ বের হয়েছে সেই সকালে এখন প্রায় দুপুর । এতো সময় লাগার কথা না । যাই হোক আমার তোর বড় আব্বা ( মানে আমার নানুর বাবা ) গিয়ে তোর নানা কে ধরে ধরে বাসায় নিয়ে আসছিলো । আমরা সবাই অবাক হয়ে যাই । সকালে সুস্থ মানুষ মাছ ধরতে গেলো , এখন সেই মানুষকে ধরে ধরে আনতে হচ্ছে ! ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত লাগলো আমাদের কাছে । আমরা তখন কিছু তাদের জিজ্ঞেস না করে শরবত দিলাম , কিন্তু আমার আব্বা থামিয়ে দিয়ে বলল জামাই কে আগে একটু লবণ পানি দাও আর সাথে একটু কালিজিরা । তোর বড় আব্বা আবার একটু ঝাড়ফুঁক জানতো । তখন তোর নানা কে কালিজিরা আর লবণ পানিতে কি জানি বির বির করে পড়ে খাইতে দিলো । কিছুক্ষণ পর তোর নানা সুস্থ হলে জিজ্ঞেস করলাম তোমার কি হয়েছে আর মাছ কি? এই কথা শুনে তোর নানা অনেকটা রেগে গিয়ে বলল – আমি এখানে মরে যাই আর তুমি আছো মাছ নিয়ে । কেন তোমার কি হয়েছিল নানু নানাকে জিজ্ঞেস করলো । নানা তখন সব ঘটনা খুলে বলল । নানার কথা ছিল এমন –

 

আমি যখন ঘর থেকে মাছ ধরতে বের হই তখন কেন যেন মনে হচ্ছিলো আমার পিছনে কিছু একটা আসছে । আমি পিছন ফিরে তাকিয়ে কয়েক বার দেখলাম , দেখি কেউ নেই । তার পর আমি আমার মতো করে পুকুর ঘটে গিয়ে দেখলাম , পুকুরের পারে অনেক কৈ মাছ পড়ে আছে ( নতুন পানি পেলে কৈ মাছ লাফিয়ে পুকুরের পারে উঠে আসে ) । আমি ওই গুলো কিছু আমার ব্যাগ এ রেখে জাল মারলাম । প্রথম বার কিছু উঠলো না । আমি অবাক হলাম , পানিতে অনেক মাছ দেখা যাচ্ছে কিন্তু আমি জাল মারি কিন্তু উঠছে না কেন ? কিছু না ভেবে আমার জাল উড়িয়ে মারলাম । সেই বারো কিছু উঠলো না । তৃতীয় বার যখন মারলাম তখন অনেক মাছ উঠলো । তখন আমার প্রথম দুই বারের কথা ভুলে গিয়েছি । দেখে অনেক খুশি হয়েছি । মাছ গুলো বাগে রেখে আবার জাল মারলে আবার মাছ উঠলো । যখন বাগে মাছ রাখতে যাবো তখন দেখি প্রথম বার যেই মাছ গুলো ধরেছি তা নেই ? আমি প্রথমে ভয় পেয়ে যাই কারণ এতো কষ্ট করে মাছ ধরলাম যদি ব্যাগ ছিঁড়া থাকে সেখান দিয়ে মাছ গুলো চলে গেলে । তাই ভালো মতো ব্যাগ চেক করলাম , না কোথাও কোনো ছেড়া নেই । আশে পাশে খুঁজলাম কোথাও পেলাম না । যাক এতো শত না ভাবে জালের মাছ গুলো আবার বাগে রাখলাম । কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার যখন মাছ মারতে যাবো তার আগে বাগে কি ভাবে যেন তাকালাম । আর তখনি দেখলাম অবাক করা এক কাণ্ড । একটা কুকুর । যেমন তেমন কুকুর না । আমার থেকে কুকুরটা ১০ হাত দূরে , কিন্তু কিভাবে যেন মুখ থেকে জিহ্বা বের করে ব্যাগ থেকে মাছ নিয়ে খাচ্ছিল । এইটা দেখে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারিনি । অনেক ভয় পাচ্ছিলাম । এর পর কি হলো কিছু মনে নেই । যখন ঘুম ভাঙলো দেখো আব্বা আমার মাঠের উপর হাত বুলিয়ে দিচ্ছে ।

এই ছিল আমার নানা ও নানুর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা । অনেকের সাথে মিলে যেতে পারে । হয়তো আপনার পরিবারের খালা , নানা . নানী বা দাদা দাদির সাথে ঘটে যেতে পারে এমন ঘটনা । কিছু জিনিসের অস্তিত্ব ঠিকই আছে কিন্তু বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত না । যার কারণে আমাদের কাছে বিশ্বাস যোগ্য হয়ে পারে না ।

যদি আপনাদের কারো সাথে এমন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানান ।

 

চলবে