হযরত খানজাহান আলী (রঃ) ও তাঁর মাজার

Now Reading
হযরত খানজাহান আলী (রঃ) ও তাঁর মাজার

হযরত খানজাহান আলি (র.) (জন্ম ১৩৬৯ – মৃত্যু অক্টোবর ২৫, ১৪৫৯) ছিলেন একজন মুসলিম ধর্ম প্রচারক এবং বাংলাদেশের বাগেরহাটের স্থানীয় শাসক। তাঁর অন্যান্য নামের মধ্যে রয়েছে উলুঘ খানখান-ই-আজম ইত্যাদি।

হযরত উলুঘ খানজাহান আলি (র.) ১৩৬৯ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লিতে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আকবর খাঁ এবং মাতার নাম আম্বিয়া বিবি ( সূত্র দরকার)। ধারণা করা হয় যে তার পূর্বপুরুষগণ তুরস্কের অধিবাসী ছিলেন। খানজাহান আলির প্রাথমিক শিক্ষা তার পিতার কাছে শুরু হলেও তিনি তার মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন দিল্লিস্থ বিখ্যাত ওয়ালি এ কামিল পির শাহ নেয়ামত উল্লাহর কাছে। তিনি কুরআন, হাদিস, সুন্নাহ ও ফিকহ শাস্ত্রের উপর গভীর জ্ঞানার্জন করেন।

খানজাহানের প্রথম স্ত্রীর নাম সোনা বিবি। কথিত আছে সোনা বিবি ছিলেন খানজাহানের পির নুর-কুতুবুল আলমের একমাত্র কন্যা। খানজাহানের দ্বিতীয় স্ত্রী রূপা বিবি ওরফে বিবি বেগনি ধর্মান্তরিত মুসলমান ছিলেন। খানজাহান আলি তাঁর দুই স্ত্রীর নাম অনুসারে সোনা মসজিদ এবং বিবি বেগনি মসজিদ নামে মসজিদ নির্মাণ করেন।

 

তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন সম্বন্ধেও খুব বেশী কিছু জানা যায় না । যতদুর জানা যায় তিনি সুখী দাম্পত্য জীবন যাপন করেন এবং তাঁর এক বা একাধিক স্ত্রী ছিল। তবে তিনি নিঃসমত্মান ছিলেন। গবেষকগণ অনুমান করেন তিনি সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ্-এর সমসাময়িক এবং সম্ভবতঃ তিনি গৌড়ের সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সেনানায়ক ছিলেন। সুলতানের প্রতিনিধিরূপে তিনি তাঁর অনুসারীদের নিয়ে বাগেরহাট অঞ্চলে বিশাল জনপদ সৃষ্টি করেন এবং রাজ্য বিসত্মার করে শাসন কাজ চালাতে থাকেন। সে জন্যই তিনি এ অঞ্চলের নামকরণ করেন “খলিফাত-ই-আবাদ”। খানজাহান (রঃ) এমন এক মহাপুরম্নষ ছিলেন যাঁর মহতী গুনাবলীর দ্বারা বাগেরহাটসহ সমগ্র ভাটি অঞ্চল উপকৃত ও ধন্য হয়েছে।

খাঞ্জেলী দীঘির উত্তর পাড়ে এক উচ্চ ভূমিতে তাঁর সমাধি সৌধ নির্মিত। সমাধি সৌধটি বর্গাকৃতি, এর আয়তন ৪২ফুট X৪২ ফুট এবং প্রাচীরের উচ্চতা ২৫ফুট, এর ছাদে একটি গম্বুজ আছে। সমাধি সৌধের ভিতর একটি প্রসত্মর নির্মিত বেদিতে হযরত খানজাহান (রঃ)এর মাজার অবস্থিত । দরগাহ বা সমাধি সৌধের সহাপত্য শিল্প অনেকটা ষাটগুম্বজের ন্যায়। শিলালিপিতে মৃত্যু তারিখ, দাফন তারিখ ছাড়াও আলস্নাহর নাম,কোরআন শরিফের কয়েকটি সূরা এবং তাঁর উপর আলস্নাহর শামিত্ম বর্ষিত হোক ইত্যাদি লিপিবদ্ধ আছে। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে হাজার হাজার ভক্ত তাঁর রম্নহানী দোয়া লাভের আশায় মাজার জিয়ারত করতে আসেন। এছাড়া প্রতি বছর ২৫ অগ্রহায়ণ এ মহান সাধকের মাজার প্রাঙ্গনে বার্ষিক ওরশ মোবারক এবং চৈত্র মাসের প্রথম পূর্ণিমায় বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে এক বিরাট মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ ওরশ ও মেলায় দূর-দূরামত্ম থেকে হাজার হাজার ভক্ত শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মাজারে সমবেত হন।

হযরত খানজাহান আলি (র.) অক্টোবর ২৫, ১৪৫৯ তারিখে (মাজারশরিফের শিলালিপি অনুযায়ী ৮৬৩ হিজরি ২৬শে জিলহাজ) ষাট গম্বুজ মসজিদেরদরবার গৃহে এশার নামাজ রত অবস্থায় ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

প্রতি বছর চৈত্র মাসের পূর্ণিমার সময় খান জাহান আলির মাজারে ওরস অনুষ্ঠিত হয় এবং লক্ষাধিক লোক তাতে সমবেত হয়। বর্তমানে মোড়ল বংশ তারই সবচেয়ে নিকটবর্তী বংশধর হিসেবে খুলনা ,রামপালসহ বিভিন্ন দেশ বিদেশ এ বসবাস করছে।

 

জাফলং ভ্রমণ – শেষ পর্ব

Now Reading
জাফলং ভ্রমণ – শেষ পর্ব

সিলেট শহর থেকে জাফলং তেমন একটা দূর না । কিন্তু আপনার যাত্রা পথে সবচেয়ে যাই ঝামেলায় আপনি পড়বেন তা হল রাস্তা । কারণ জাফলং যাওয়ার পথে রাস্তা খুবই খারাপ । যা আপনাকে ভোগান্তিতে ফেলবে ।

আমাদের সিএনজি এগিয়ে চলছে । আমি সিএনজি এর সামনে বসার কারণে বাহিরের খুব সুন্দর দৃশ গুলো খুব কাছ থেকে দেখতে পারছিলাম .। তামাবিল এর আগে থেকে আপনার চোখ যেন বাহির থেকে আর সরতে চাইবে না । কি সুন্দর তার দৃশ , আমি যতই যেন দেখছি ততই যেন মুগ্ধ হচ্ছি . কি সুন্দর পাহাড় . আমার মনে হচ্ছিলো আরেকটু হলে বুঝি মেঘের সাথে গিয়ে বারি খাবে .

আমি শুধু চিন্তা করছিলাম জাফলং যাওয়ার আগে যদি এত সুন্দর দৃশ দেখা যায় , না জানি জাফলং এ আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে . আমি বাহিরের ছবি ক্যামেরা বন্ধি করতে ভুললাম না . আমরা এখন যেই  দিক দেখছি মূলত তা হলো ভারতের মেঘালয় , বাহিরের সুন্দর দৃশ দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম জাফলং এর পাহাড়ে .

আমরা গিয়েছিলাম ২৫০ টাকা করে . যখন সিএনজি থেকে নেমে যাচ্ছিলাম তখন সিএনজি ড্রাইভার বলছিলো আপনারা আবার কি ফিরে যাবেন আমার সাথে . আমি বললাম যাবো . তখন উনি বললেন তাহলে আপনাদের ৩৫০ টাকা করে পরবে. আমরা প্রথমে একটু অবাক হলাম . তিনি আমাদের বললেন যাওয়ার সময় লোক পাওয়া যায় না আর অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে আমাদের জন্য . আমি বললাম না ভাই আপনি চলে যান .

যখনি সিএনজি থেকে নামবেন তখনি আপনাকে একদল লোক ঘিরে ধরবে . ভয় পাবেন না তারা নিজেদের গাইড বলে দাবি করবে , আপনি ইচ্ছা করলে তাদের ভাড়া করতে পারেন , কিন্তু আমি আপনাদের বলবো না নেয়াটাই বেস্ট , আমরা না নিয়ে প্রথমে দাঁড়িয়ে পাহাড় থেকে মেঘলয়ের দৃশ উপভোগ করলাম , তার পর পাহাড় বেয়ে নিচে নেমে গেলাম . সাবধানের সাথে নামবেন , যখনি নিচে নামছিলাম জাফলং নদী এর দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম কিভাবে ইন্ডিয়া থেকে আমাদের দেশে পানি আসছিলো .

আসলে বাংলাদেশ অনেক সুন্দর তখনি আপনি উপভোগ করতে পারবেন যখন আপনি চামড়ার চোখ দিয়ে না দেখে মনের চোখ দিয়ে দেখবেন . .আমরা পাহাড় বেয়ে নিচে নেমে গেলাম. নামার সময় আমাদের সামনে একটা মাঠ এর মতো একটা জায়গা পড়লো . সেখানে আপনি বাহারি দোকান দেখতে পাবেন , হরেক রকমের মালামাল নিয়ে তারা বসে আছে , যেহেতু ইন্ডিয়া কাছে তাই বেশির ভাগ পণ্য আপনি ইন্ডিয়ার দেখতে পারবেন , সেখানে আমাদের দেশি শাল পাওয়া যায় কিন্তু আমার কাছে মানের দিক থেকে তেমন একটা ভালো লাগে নি , একটু সামনে এগিয়ে গেলে আপনার চোখে ধরা দিবে জাফলং এর আসল সুন্দর্য , তখন শীত কাল থাকার কারণে পানি কিছু টা কম ছিল. জাফলং বর্ষায় এক রূপ ধারণ করে আর শীতে আরেক রূপ ধারণ করে . আমার কাছে শীতের দৃশ টা মন কেরে নিয়েছে .পানি কখনই আপনার হাঁটুর উপরে যাবে না , আমাদের আর তর সইলো না . নেমে পড়লাম পানি তে . ভিজিয়ে নিলাম নিজেদের পা কে আর মনে মনে বলতে লাগলাম অবশেষে আমি ইহাকে জয় করতে পারলাম . মাথার উপর যেমন রোদ আবার পায়ের নিয়ে বরফের চেয়েও ঠান্ডা পানি . আপনির দিকে তাকালে আপনি নিচে পাথরের টুকরো দেখতে পারবেন . পানি খুবই স্বচ্ছ হবার কারণে পানিতে যেই সব মাছ ও পাথর আছে আপনি তা খালি চোখে দেখতে পারবেন .

আপনি জাফলং এ কিছু লোক দেখতে পাবেন যারা টাকার বিনিময়ে আপনার ছবি তুলে দিবে . আপনি ইচ্ছা করলে তাদের দিয়ে ছবি তুলিয়ে নিতে পারেন . নেয়ার আগে অব্যশই দাম জিজ্ঞেস করে নিবেন , আমরা একটা সাইডে আমাদের ব্যাগ রেখে নেমে পড়লাম পানিতে . পানিতে বসে শুয়ে যেভাবে পারি মজা করলাম. পানি এতো পরিমান ঠান্ডা ছিল যে মনে হচ্ছিলো শরীর বুঝি এখনই জমে যাবে .আর হে মালামাল রাখার ক্ষেত্রে সাবধানতার দিকে খেয়াল রাখবেন ,

বাংলাদেশের পাশেই ইন্ডিয়া . আমাদের সাইড টাকে বলা হয় জাফলং আর তাদের সাইড কে বলা হয় মেঘলায় . মাঝে আপনি বিএসফ ও আমাদের দেশের বিজিবি কে দেখতে পাবেন. যারা সর্বদা সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত . আপনি যখনি ইন্ডিয়ার সাইডে ঢুকতে থাকবেন পানির পরিমান আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে , আরেকটু যাওয়ার পর বিএসফ আপনাকে সাবধান করে বাংলাদেশের সীমান্তে ফিরে জিতে বলবে , ওই খানে না যাওয়াটাই ভাল .

আমরা কিছু ক্ষণ মজা করে ছবি তুলে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম . বার বার মনে হচ্ছিলো এর মজার সময় গুলো যদি শেষ না হতো তাহলে অনেক ভালো হতো . পেটে তখন প্রচন্ড খুদা . যাই মাঠ ধরে নদীর দিকে গিয়েছিলাম সেই মাঠ ধরে এগুলে দেখতে পেলাম একটা খাবারের দোকান . বসে পড়লাম খেতে . আমার কাছে পুরো ভ্রমণের এই জায়গাটা বেশি ভালো লেগেছে কারণ পিছনে পাহাড় আর সামনে নদী মাঝে মাঠের মধ্যে বসে খাবার খাওয়া এক অন্য রকম ফিলিং . টাকি মাছের ভর্তা সাথে ডিম্ আর ডাল. মনে হয় স্বর্গের খাবার . খাবার খেয়ে রওয়না দিলাম . আপনি যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে হবে কোথা থেকে বাস ছেড়ে যায় কদম তলির উদ্দেশে . অটো তে করে গেলে ভাড়া লাগবে ১০ টাকা . ভালোমত ধরে বসবেন রাস্তা খুবই খারাপ / তারা আপনাকে বাসস্ট্যান্ড এ নামিয়ে দিবে বাস আসলে উঠে পড়বেন ভাড়া নিবে ৫০ টাকা .

এই ছিল আমাদের সিলেটের জাফলং ভ্রমণ . আজকের দিনে এসেও স্মৃতিতে ভাসে সেই দিনগুলো . আসলে প্রতিটা ভ্রমণই খুবই আনন্দের

জাফলং ভ্রমণ – পর্ব ৩য়

Now Reading
জাফলং ভ্রমণ – পর্ব ৩য়

মনে প্রাণে বিশ্বাস করা হয় , এইখানের যেসব কবুতর মাজারের বাহিরে উড়ে চলে যায় তার বিশ্বাসঘাতক ।

তারা মাজারের সাথে বেঈমানি করে মাজারের বাহিরে চলে গিয়েছে । এই স্থান থেকে সামনে এগিয়ে গিয়ে প্রথমে আপনার চোখে পড়বে বড় একটি পাতিলা । যেখানে মানুষ মানতের টাকা দিচ্ছে । খুব সুন্দর একটি জায়গা এই মাজার। যখনি আপনি মাজারের ভিতর ঢুকবেন সাথে সাথে নিজেকে রিফ্রেশ মনে হবে । মাজারের গেট দিয়ে বরাবর তাকালে দেখতে পারবেন বিশাল এক উঁচু বিল্ডিং ।বিল্ডিং মূলত মসজিদ । মসজিদ দিয়ে উঠার আগে সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে আপনার জুতা জমা দিতে হবে ।তা না হলে জুতা হারানোর ভয় থাকে । জুতা জমা দিয়ে আপনি মাসজিদ বরাবর উঠে যান । সোজা উঠে হাতের ডান পাশে আপনি একটি রাস্তা দেখতে পাবেন । সেই রাস্তা ধরে এগুলে আপনি সরাসরি চলে আসবেন শাহ্‌ জালালের মাজারে । আপনি উপরে উঠার সময় আগরবাতি বা কয়েকটি মোমবাতি কিনে নিয়ে যেতে পারেন । আমরা সেখানে দাড়িয়ে কিছুক্ষন দুরুদ পড়ালাম । ঠিক নেমে আসার পথে আপনি যেই ডানে মোড় দিয়ে মাজারে উঠে গিয়েছিলেন সেই মোড়ে দাঁড়ালে আপনি ছোট একটি রাস্তা পাবেন যেখান দিয়ে আপনি সরাসরি মাজারের কবর স্থানে চলে যাবেন ।

আমি গিয়ে প্রথমে প্রয়াত সালমান শাহ্‌ এর কবর খুঁজে বের করলাম । অনেক খোঁজা খুজি করে বের করলাম তার কবর । তার কবরের সামনে গিয়ে দাড়িয়ে কবর জিয়ারত করলমা। খুব কষ্ট পেলাম যখন দেখলাম কিছু লোক ছবি তোলার জন্য তার কবরের মাঝে গিয়ে দাড়াতে ও দ্বিধা বোধ করছে না । শেষে নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে বললাম ভাই আপনারা এক কাজ করেন কবর খুড়ে তাকে বের করে ছবি তোলেন ।

আপনি আশে পাশ ঘুরে দেখতে পারেন । খুব সুন্দর একটি জায়গা । আপনার ঘুরাঘুরি শেষ হলে দর্গার গেট দিয়ে বের হয়ে আসলে দেখবেন আপনাকে সবাই ঘিরে ধরবে। আমরা যখন বের হয়ে আসলাম সবাই আমাদের বলছিল্ যাবেন নাকি ভাই শাহ্‌ পরাণ । আপনি ইচ্ছা করলে দুই ভাবে যেরে পারেন
১ – রিজার্ভ করে যেতে পারেন
২ – শেয়ার করা সিএনজি তে করে যেতে পারেন ।

যদি আপনি শেয়ার করা সিএনজি তে যেতে চান তাহলে আপনাকে দর্গার বাহির হয়ে একদম শেষ মাথায় গিয়ে দাড়াতে হবে । সেখানে লোকাল সিএনজি পাবেন , আমরা চলে গেলাম একদম শেষের দিকে । উঠে পড়লাম সিএনজি তে । ভাড়া নিবে ২৫ টাকা করে । আমরা যাওয়ার পথে সিলেটে অপরুপ দৃশ গুলো উপভোগ করলাম । তখন মনে মনে বলতে লাগলাম আসলে আমাদের দেশ অনেক সুন্দর । মনে ভরে যাচ্ছিল সিলেটের সৌন্দর্য দেখে । যাওয়ার পথে আপনার চোখে পড়বে অসংখ্য ছোট ছোট টিলা । যখন আপনি মাজারের কাছা কাছি চলে আসবেন ঠিক তার আগ মুহূর্তে দেখতে পাবেন এমসি কলেজ । খুব সুন্দর কলেজটি । আমাদের চোখ কে বার বার অবাক করে দিচ্ছে এই সিলেট শহর । রাস্তা ঘাঁট আপনি পরিষ্কার পাবেন । অন্যান্য জেলার রাস্তার তুলনায় সিলেটের রাস্তা আমরা কম ভাঙা পেয়েছি। বলা যেতে পারে আমাদের কাছে শাহ্‌ জালাল থেকে শাহ্‌ পরাণ পর্যন্ত এক আরাম দায়ক ভ্রমণ ছিল । কখন যে চলে আসলাম শাহ্‌ পরাণের মাজারে টের পেলাম না।সিএনজিতে পরিচয় হয়েছিল এক লোকের সাথে । তিনি তামাবিল যাবেন । আমাদের জন্য ভালোই হল এক জন লোক পেলাম জাফলং যাওয়ার জন্য । আমরা মাজারের কাছে নেমে চলে গেলাম মাজার জিয়ারত করতে । শাহ্‌ পরাণের মাজার আবার উঁচু একটি টিলার উপরে । এই খানেও আপনাকে জুতা জমা দিয়ে যেতে হবে । আমরা শাহ্‌ জালাল যেভাবে জিয়ারত করলাম ঠিক একই ভাবে শাহ্‌ পরাণ জিয়ারত করে বের হয়ে পড়লাম জাফলং এর জন্য ।

আপনি যদি রির্জাভ যান তাহলে ১৫০০ থেকে ২০০০ এর মত লাগবে । আমরা ছিলাম ৩ জন । সাথে আরেক জন যোগার করে লোকাল সিএনজি তে করে রওনা হলাম সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাফলং এ । আমাদের লোকাল সিএনজিতে করে যেতে এক এক জনের লেগেছে প্রায় ২৫০ টাকা করে । আপনি কদমতলি থেকে বাসে করে যেতে পাড়েন ।ভাড়া পড়বে ৬০ টাকা করে । আমি বলবো যাওয়ার সময় সিএনজি তে করে যেতে । কারন জাফলং এর আসল সৌন্দর্য দেখতে পাবনে তার যাওয়ার পথে । আমাদের সিএনজি চলছে তার আপন মনে । কিছু দুর গিয়ে ড্রাইভার গ্যাস নিয়ে নিল । আমি খুব ভালো আড্ডা শুরু করে দিলাম সিএনঞ্জি ড্রাইভার এর সাথে । সিএনজি যতই সামনে যাচ্ছে আমার তখন মনে হচ্ছিল আমরা মনে হয় সৌন্দর্যের স্বর্গের মধ্যে প্রবেশ করছি । কিছু ক্ষন যাওয়ার পর আমরা একটা ব্রিজের উপর উঠলাম । আমি আগে থেকে জানতাম ব্রিজের নিচে যে নদী বয়ে যাচ্ছে তার পানির রঙ নীল । বাংলাদেশের এক মাত্র নদী যার পানি নীল । সেখানে সিএনজি থামিয়ে কিছু সৃতি বন্দি করলাম ক্যামেরায় । সামান্য যাত্রা বিরতি নিয়ে আবার যাত্রা শুরু হল জাফলং এর উদ্দেশে ।

জাফলং ভ্রমণ

Now Reading
জাফলং ভ্রমণ

ভালবাসার আরেক নাম বাংলাদেশ 

খুব সুন্দর আমাদের এই বাংলাদেশ । সবুজের ছায়া ঘেরা , নদী মাতৃক আমাদের এই সুন্দর দেশ । যতোই রুপ দেখবেন তারপরেও যেন দেখা শেষ হবে না । কবির ছন্দের মত আমাদের এই দেশ বাংলাদেশ । ষড় ঋতুর এই দেশে যেন এক এক সময় রঙের খেলা শুরু হয় । যেমন ঋতুর খেলা আছে আমাদের দেশে ঠিক আবার এক এক জেলা যেন সেজেছে তার আপন রুপে । কোথাও পাহাড়ের মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা , আবার কোথাও সাগরের খেলা । কোথাও আবার নদীর মোহনা মীলিত হবার খেলা , কোথাও আবার সবুজে ঘেরা । অপরূপ আমাদের এই বাংলাদেশ ।

আজ জানবো আমরা সিলেট সম্পর্কে ।

শাহ্‌ পরানের দেশ সিলেট । শাহ্‌ জালালের দেশ সিলেট ।সুরমা নদীর দেশ সিলেট । এই রকম হাজারো নামে পরিচিত করা যায় সিলেট কে । বাংলাদেশের লন্ডন হল আমাদের এই সিলেট । কতই না সুন্দর  আমাদের এই সিলেট । কিছু দিন আগে ঘুরে আসলাম এই সিলেট নগরি।আজ তা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো কিছু অভিজ্ঞতা।

সিলেটে কিছু দিন 

বেশ কিছু দিনের আগে থেকে প্ল্যান ছিল সিলেটের জাফলং গিয়ে ঘুরে আসবো । এর আগেও গিয়েছিলাম কিন্তু জাফলং যাওয়া হয়নি । এই বার আমি ও আমার কাছের এক বড় ভাই ঠিক করলাম ডিসেম্বর এর শেষের দিকে গিয়ে ঘুরে আসবো । যাই হক সিন্ধান্ত নিলাম ডিসেম্বার এর ২৩ তারিখ রাতে ট্রেন এ করেন সিলেট যাব। তাই ১৯ তারিখে আমরা ট্রেন এর টিকেট অগ্রিম কেটে নিলাম , তা না হলে সিট পাওয়া যাবে না। শোভন চেয়ার নিয়ে নিলাম ৩২০ টাকা কর । পারাবত ট্রেন ২৩ তারিখ বিকেল ৩.১০ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাবার কথা । আমরা ২.৩৫ মিনিটে প্লাটফর্মে হাজির হলাম । ট্রেন প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিলা। কিন্তু কি এক না জানা কারনে ট্রেন ছাড়লও বিকেল ৪.৩০ মিনিটে । 

কিছু ক্ষনের মধ্যে শীতের ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে শীত ধরিয়ে দিলা ।জানালার পাশে বসা ছিলাম , মনে হচ্ছিল রাস্তা পিছনের দিকে যাচ্ছে আর আমি এগিয়ে চলছি আমার গন্তবে । কিছু ক্ষনের মধ্যে আসে পড়লাম এয়ারপোর্ট এ । কিছু যাত্রী নিয়ে আবার ট্রেন চললো তার আপন গতিতে । জানালে দিয়ে দিনের শেষ আলোতে দেখা যাচ্ছিল জেলেরা মাছ ধরছে । আর কিছু মানুষ কাজ করছে সবজির ক্ষেতে । যেন তারা আমাদের জন্যই তৈরি করছে শীতের সবজি । কিছু দূর যাওয়ার পর গাড়িতে হরেক রকমের খাবার নিয়ে উঠলো ফেরিওয়ালারা । তখন প্রায় সন্ধ্যা নেমে গিয়েছে । এর মধ্যে শরিফ ভাই দুই কাপ রঙ চা নিলেন ট্রেন এর ভিতর চা ওয়ালা থেকে । ভালোই লাগছিল জানালা দিয়ে আসা ঠাণ্ডা বাতাস আর গরম গরম চায়ে চুমুক দেয়া , এ যেন এক স্বর্গের অনুভূতি । বাহিরে কুয়াশার জন্য কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।বাহিরে দূশ্য দেখতে দেখতে যে কখন চা এর কাপ থেকে চা শেষ হয়ে গিয়েছে টেরি পেলাম না । এর মধ্যে ট্রেনের এক যাত্রীর সাথে খুব ভাল খাতির হল আমার । উনি প্রবাসি ভাই । উনি থাকেন তুর্কি তে । উনি বিয়ে করেছেন এক ইজরাইল এর মেয়ে কে।উনার সাথে খুব ভাল একটা আড্ডা জমে উঠলো আমার।অনেক্ কথা হল আমাদের । এই দিকে গাড়ি চলছে তার গতিতে । কিছু দূর যাবার পর ট্রেন থেমে গেল । সামনে আরেকটি ট্রেন যাবে তাই তাকে রাস্তা দিচ্ছে । আমি ট্রেন থেকে নেমে সামনে বাজারে গিয়ে কয়েক টা গরম গরম চিতল পিঠা কিনে নিয়া আসলাম আর সাথে আনলাম ঝাল শুঁটকির ভর্তা । আমি শরিফ ভাই আর ট্রেন ভাইয়াটা খেলাম । কি যে মজা তা লিখে প্রকাশ করা যাবে না। শীতের বাতাসের আর কুয়াশার মধ্যে ট্রেন এ বসে পিঠা খাওয়ার মজাই অন্য রকম । কিছু দুর যাবার পর আবার ট্রেন থেমে গেল ক্রসিং এর জন্য । এরি মধ্যে আমরা আশুগঞ্জ এ আসে পড়লাম । সেখানে ট্রেন ৫ মিনিট এর মত দাঁড়ালো । আমি নেমে পড়লাম কিছু হালকা নাস্তা করার জন্য । কিছু নাস্তা নিয়ে উঠে গেলাম ট্রেন এ । ঘড়িতে তখন রাত ৯ বেজে ১০ মিনিট। কিছু ক্ষনের মধ্যে ট্রেন আবার যাত্রা শুরু করলো । কিছু ক্ষন চলার পর যখন ট্রেন আবার ক্রসিং এ পড়লো ঠিক তখনি ঘটলো এক ঘটনা । ট্রেন এর বগি থেকে চিৎকার এর শব্দ । দৌড়ে গেলাম । গিয়ে দেখি ক্রসিং এ থামার সময় ঐ মহিলা মোবাইলটা জানালার কাছে নিয়ে বসছিল , কোন এক লোক আসে তার মোবাইলটি টান দিয়ে নিয়ে গিয়েছে । হাতে কিছুটা ব্যথা পেয়ছিল । আমরা নিজ নিজ জায়গা থেকে সবাই সাবধান হয়ে গিয়ে ছিলাম । মাঠ ঘাঁট পেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের ট্রেন । জানালা থেকে খুব জমকালো একটি প্রাসাধ আমার চোখে পড়লো । সেটি ছিল কেল্লা শাহ্‌ এর মাজার শরীফ । শীতের সময় প্রায় সব মাজারে ওরস হয়ে থাকে । তখন ভক্ত দের ভীর জমে উঠে এই সব মাজারে।বাহিয়ের ঘন অন্ধকার আর কুয়াশা দেখে খুব ভালোই কাটছিল সময় গুলো।