৩৮ লাখ মানুষের ত্রান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে………

Now Reading
৩৮ লাখ মানুষের ত্রান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে………

এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে গত বছর উত্তর কোরিয়ায় সর্বনিম্ন খাদ্য উৎপাদন হয়েছে। অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা দেশটি গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ বছর দেশটির প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। চলতি বছর অর্থায়ন করা না গেলে বেশ কয়েকটি মানবিক সংস্থা দেশটিতে ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হবে বলেও জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

বিগত কয়েক দশক ধরেই অস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে উত্তর কোরিয়া। তবে কৌশলে মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমকে বাদ রাখা হতো এসব নিষেধাজ্ঞায়। তবে গত বছর দেশটির ব্যাংকিং ও জাহাজ পরিবহনের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর উত্তর কোরিয়ায় ত্রাণ কার্যক্রম প্রায় স্থগিত হয়ে পড়ে। ওই সময়ে মার্কিন নাগরিকদের উত্তর কোরিয়া সফরও নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো বহু সংস্থার কর্মীরাও সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না।
গত বছর নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করে পিয়ংইয়ং। গত মাসে জাতিসংঘে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত খাবার সংকটের বিষয়ে সতর্কতার কথা জানিয়েছেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, দীর্ঘায়িত তাপপ্রবাহের সাথে টাইফুন এবং বন্যার কারণে খাবার উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। ২০১৭ সালের তুলনায় গত বছর নয় শতাংশ কম খাবার উৎপাদন হয়েছে। উত্তর কোরিয়ায় জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি তপন মিশ্র জানিয়েছেন, খাবার সংকটের কারণে দেশটির প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের জন্য প্রায় ১২ কোটি মার্কিন ডলারের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। এ বছর পর্যাপ্ত তহবিল ছাড়া বেশ কয়েকটি সংস্থা কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। আর এতে দেশটির লাখ লাখ মানুষের জীবন শঙ্কার মুখে পড়তে পারে।