হঠাৎ সেন্ট মার্টিনে বিজিবি মোতায়েন!

Now Reading
হঠাৎ সেন্ট মার্টিনে বিজিবি মোতায়েন!

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কর্মীদের গতকাল সেন্ট মার্টিন দ্বীপে “ভারী অস্ত্র” দিয়ে চোরাচালান পরীক্ষা এবং বঙ্গোপসাগরের ছোট্ট দ্বীপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল। গতকাল বিজিবি সদর দফতর থেকে জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থাপনা সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করে। তবে ২২ বছর পর সরকার বিজিবির সদস্যদের নিয়োগের জন্য কী নির্দেশ দিয়েছে তাও বলা হয়নি।
সরকারের নির্দেশ অনুসারে বিজিবিকে দক্ষিণ সেন্ট্রাল পয়েন্ট, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ভারী অস্ত্র দিয়ে পুনর্বহাল করা হয়েছে। 1997 সাল পর্যন্ত বিজিবি তার নিরাপত্তার জন্য দ্বীপে নিয়োজিত ছিল। দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিন্দু পাহারা দেওয়ার জন্য সরকার বিজিবিকে পুনরায় বরাদ্দ দিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু মিয়ানমারের পুলিশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শাফেঈনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের বিজিবি প্রতিনিধি মিয়ানমার সফরকালে মিয়ানমারের একটি উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। মায়ানমারের রাজধানী নয়াপিডাউতে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের সম্মেলন বাংলাদেশে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য প্রবাহ বন্ধ এবং সন্ত্রাসবাদ ও দমন নিষিদ্ধকরণ সম্পর্কিত মতামত নিয়ে আলোচনা করবে।
ঢাকার বিজিবি সূত্র জানায়, কক্সবাজারসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি আধা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা গতকাল সকালে দ্বীপটিতে টহল শুরু করে।

সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের সরকারী ওয়েবসাইটগুলি সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে তার অঞ্চলের অংশ হিসেবে দেখায়। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুইবার ঢাকায় মায়ানমারের দূতকে আহ্বান জানিয়েছে – গত বছরের অক্টোবরে এবং ফেব্রুয়ারি মাসে এবং মায়ানমারের দাবির বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদ জানিয়েছে। মিয়ানমারের প্রতি “জোরালোভাবে কথিত” প্রতিবাদ নোটে মন্ত্রণালয়ও তৎক্ষণাৎ সংশোধনমূলক ব্যবস্থা দাবি করেছে এবং দায়িত্ব নেয়ার জন্য নয়াপিডোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ও মিথ্যা দাবিগুলি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ ইস্ট এশিয়া উইংয়ের মহাপরিচালক দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মিয়ানমারের সরকারি ওয়েবসাইটগুলি যা সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে তাদের অঞ্চল হিসাবে দেখায় গত বছর অক্টোবরে বাংলাদেশ প্রতিবাদ করার কয়েক মাস পর অব্যাহত ছিল। কিন্তু একই মাসে মিয়ানমারের সরকারি ওয়েবসাইটগুলিতে আবারও মিথ্যা দাবি করা হয়েছিল। গত বছর ৬ই অক্টোবর বাংলাদেশ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানায়।

জবাবে মায়ানমার ২১শে অক্টোবর একটি নোট লিখেন যে, প্রতিষ্ঠানটি সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সম্পর্কে মিথ্যাভাবে উল্লিখিত সমস্ত লিঙ্কও মুছে ফেলেছে।” কিন্তু মহান উদ্বেগের সাথে বাংলাদেশ কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছেন যে মিয়ানমারের শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনসংখ্যা বিভাগের ওয়েবসাইটে উন্নত ইন্টারেক্টিভ মানচিত্র (www.dop.gov.mm), মায়ানমারের মতো সেন্ট মার্টিন দ্বীপের জনসংখ্যা এবং ভূমি টাইপের অনুরূপ তথ্য গ্র্যাডিয়েন্টগুলিও চলতে থাকে।

সেন্টমার্টিন সীমান্তে ফের বিজিবি মোতায়েন

Now Reading
সেন্টমার্টিন সীমান্তে ফের বিজিবি মোতায়েন

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী দ্বীপ সেন্টমার্টিন এলাকার নিরাপত্তায় ফের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার (৭ এপ্রিল) থেকে সেন্টমার্টিনে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

দীর্ঘ ২২ বছর পর হঠাৎ সেন্টমার্টিন দ্বীপে নতুন করে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার বিজিবির এক প্লাটুন সদস্য সেন্টমার্টিনে মোতায়েন করা হয়। ১৯৯৭ সালের পর গতকাল রবিবার সেন্টমার্টিন দ্বীপ এলাকায় ফের বিজিবি মোতায়েন করা হলো। সেন্টমার্টিনের নিরাপত্তার জন্য বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ মহসীন রেজা।
মিয়ানমার সরকারের জনসংখ্যা বিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইট সম্প্রতি তাদের দেশের যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে, তাতে সেন্টমার্টিনকে তাদের ভূখণ্ডের অংশ দেখানো হয়। যদিও সেন্টমার্টিনকে বাংলাদেশের ধরে নিয়েই মায়ানমারের সঙ্গে ১৯৭৪ সালে সমুদ্রসীমা চুক্তি হয়। ৬ অক্টোবর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও’কে তলব করে এর প্রতিবাদ জানায়। এরপর মিয়ানমার মানচিত্র থেকে সেটি পরিবর্তন করে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, ১৯৩৭ সালে মানচিত্রে সেন্টমার্টিন ভারত উপমাহদেশের অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের পর সেন্টমার্টিন ছিল পাকিস্তানের অংশে। আর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের অংশ।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান জানান, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য কোস্টগার্ডের পাশাপাশি বিজিবিও কাজ করবে। এ কারণেই বিজিবি সেন্টমার্টিনে টহল শুরু করেছে।

নতুন করে সামরিক আদালত গঠন করা হয়েছে রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে

Now Reading
নতুন করে সামরিক আদালত গঠন করা হয়েছে রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২০১৭ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে সামরিক আদালত গঠন করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে হামলার জের ধরে সেখানে সন্ত্রাস দমন অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। তাদের সবাই অভিযোগ করেছে, মিয়ানমারের সেনারা রোহিঙ্গাদের হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন এবং তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ চালিয়েছে। জাতিসংঘ রোহিঙ্গা নিপীড়নের এ ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে অভিহিত করেছে। গত বছর জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন বলেছে, রাখাইনে ‘গণহত্যার উদ্দেশ্যে’ সেনাবাহিনী অভিযান চালায়। দেশটির সেনাপ্রধান ও পাঁচ জেনারেলকে ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে গুরুতর অপরাধ সংঘটনের’ অভিযোগে বিচার করারও সুপারিশ করে ওই মিশন।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলে, রাখাইনের ঘটনা তদন্তে সেনাবাহিনীর একজন মেজর জেনারেল ও দুজন কর্নেলের সমন্বয়ে সামরিক আদালত গঠন করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর নিয়োগ করা জজ অ্যাডভোকেট-জেনারেলের মূল্যায়ন ও পরামর্শ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগের ভিত্তিতে এই সামরিক আদালত গঠন করা হয়েছে।

নতুন করে সামরিক আদালত গঠনের বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক পরিচালক নিকোলাস বেকুইলিন বলেন, আন্তর্জাতিক চাপ ঠেকাতে এটি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ‘আরেকটি চাল’। তিনি বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে গুরুতর অপরাধ করলেও এখন পর্যন্ত এই বাহিনীতে সংস্কারের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় মিয়ানমারকে “কাঠগড়ায়” দাঁড় করানোর আহ্বান

Now Reading
রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় মিয়ানমারকে “কাঠগড়ায়” দাঁড় করানোর আহ্বান

রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)’র কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪০তম সেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

২০১৭ সালের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বর্মি বাহিনী ও দেশটির উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের হাত থেকে জীবন ও সম্ভ্রম বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার চুক্তি করলেও এখনও শুরু হয়নি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। এর মধ্যেই বিষয়টি আইসিসি’তে তোলার আহ্বান জানালেন জাতিসংঘ দূত।

ইয়াংহি লি বলেন, মিয়ানমার পরিস্থিতি অবশ্যই আইসিসি’তে তোলা উচিত। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, কোনও দেশ কিংবা বিভিন্ন দেশের জোট থেকে এ বিষয়টি সেখানে তোলা যেতে পারে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এই বিশেষ দূত বলেন, ঘটনার শিকার মানুষদের যন্ত্রণা লাঘবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এগিয়ে আসা উচিত। এ ব্যাপারে বৈশ্বিক নিষ্ক্রিয়তার মধ্যে অপেক্ষমান থাকতে তাদের বাধ্য করা উচিত নয়। বিষয়টি যদি আইসিসি’তে তোলা সম্ভব না হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত একটি স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বিবেচনা করা।

২০১৮ সালের আগস্টে রাখাইনের মানবাধিকার হরণের ওপর জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন তাদের প্রতিবেদন হাজির করে। তদন্তের ফলাফলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর পরিচালিত অভিযানকে ‘গণহত্যার উদ্দেশ্যতাড়িত’ আখ্যা দেওয়া হয়। গণহত্যায় জড়িত থাকার আলামত সাপেক্ষে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ ৬ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার বিচার দাবি করা হয় সেই তদন্ত প্রতিবেদনে। এরপর বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে নিষিদ্ধ করে।

আন্তজার্তিক অপরাধ আদালতের সনদ ও রোম স্ট্যাচুতে স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই দাবি করে আসছে কিন্তু তাদের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারের এখতিয়ার নেই। এমন প্রেক্ষিতেই প্রয়োজনে স্বাধীন একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলেন জাতিসংঘ দূত।

সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশের নয়জন সদস্য নিহত

Now Reading
সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশের নয়জন সদস্য নিহত

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশের নয়জন সদস্য নিহত হয়েছেন। রাখাইনের রাজধানী সিত্তে থেকে উত্তরে এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত ইয়োতায়োক গ্রামে এই হামলা হয়।
ঘটনার যেসব ছবি দেখা যায়, জরাজীর্ণ পুলিশ স্টেশনের উঠানে কয়েকটি লাশ রয়েছে। লাশগুলো কম্বল দিয়ে ঢাকা। কম্বল ভেদ করে রক্ত বের হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। একজন আহত হয়েছেন। আর একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

হামলার দায় এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি। হামলার ব্যাপারে আরাকান আর্মির কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলার ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রাখাইনে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী ও ধর্মীয় সংঘর্ষের জেরে রাখাইনে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। ২০১৭ সালে রাখাইনে সহিংস সামরিক অভিযানের মুখে লাখো রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ২০১৭ সালে রাজ্যটিতে সহিংস সামরিক হামলায় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

এখন দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এমন একটি ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে, যারা নিজেদের রাখাইন বৌদ্ধদের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করছে।

বাংলাদেশের সাথে আবারো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করল মিয়ানমার

Now Reading
বাংলাদেশের সাথে আবারো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করল মিয়ানমার

মিয়ানমার বাংলাদেশকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে তাদের কারাগারে আটক ৮৩জন বাংলাদেশীকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। তারা আদৌ বাংলাদেশী কিনা তা প্রকাশ না করে কিংবা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তা যাচাই বাচাইয়ের সময় দিতেও নারাজ। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে এই ৮৩ জন কারাবন্দীকে ফেরত নিতে মিয়ানমার কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার চেয়েছিল বিজিবি ও মিয়ানমারের বিজিপি এর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এসব রাজনৈতিক বন্দীদের চিহ্নিত করে যেন তাঁদের ফেরত আনা যায়। মিয়ানমার তাঁদের সীমান্ত পয়েন্ট দিয়েও এসব বন্দীদের প্রত্যাবাসনে আগ্রহী নয়। এখন মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এই বন্দীদের বোঝা উল্ল্যেখ করে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত বিমান করে ফেরত নিতে চাপ দিচ্ছে। মিয়ানমার সরকার তাদের প্রেরিত চিঠিতে জানিয়ে দিয়েছে, রাখাইন রাজ্যের কারাগারে আটক বাংলাদেশীদের মুক্তি দিয়ে রাজধানী ইয়াঙ্গুনে স্থানান্তর করতে তাদের আর্থিক খরচ ও অন্যান্য সহযোগিতা বাড়তি বোঝার মত। আটক বাংলাদেশীদের বিমানে ফিরিয়ে দিতে ইয়াঙ্গুন হাইকমিশনের আর্থিক সামর্থ্য অপর্যাপ্ত। তাই বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগেই এসব বন্দীদের কালক্ষেপণ না করে বিমানে ফিরিয়ে নিতে হবে।

মিয়ানমারের এমন অবন্ধুত্বসুলভ আচরণে হতাশ এবং ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ সরকার। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের এই আচরণকে ঔদ্ধত্যমূলক ও সুপ্রতিবেশীসুলভ নয় বলে জানিয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে তাদের ১১লাখ রোহিঙ্গা নাগরিককে মানবিক কারণে বাংলাদেশ নিজ ভূখণ্ডে সাময়িক স্থান দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মিয়ানমারের অনুরোধে বাংলাদেশ বন্ধুত্বের নিদর্শন স্থাপন করতে গিয়ে তাদের নাগরিককে ক্ষমা করে দিয়েছে।  সমুদ্রপথে অবৈধ উপায়ে মালয়েশিয়া কিংবা থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আটককৃতদের নাম ও পরিচয় বাংলাদেশের কাছে পাঠানোর রীতি অনুসরণ করত মিয়ানমার যেটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও একইভাবে অনুসরণ করা হয়। কিন্তু এবারের মিয়ানমারের তোড়জোড় পূর্বের সকল উদাহরণকে ছাপিয়ে উদ্দেশ্যমূলক মনে করছে বাংলাদেশ।

সূত্রমতে, বাংলাদেশের কারাগারে মিয়ানমারের প্রায় দেড়শ বন্দী রয়েছে, সে বিষয়ে তারা নির্বিকার। তাদের বন্দীদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে কোন আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। তাদের এহেন আচরণে বাংলাদেশও সেইসব বন্দীদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে বলবে।

১৯৮০ সালের সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ আটক অনুপ্রবেশকারীদের বিভিন্ন সময়ে বিনিময় বা হস্তান্তর করেছে। অনেক সময় বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া দুইদেশের জেলেরা ভুলবশত একে অন্যের সীমানায় প্রবেশ করে আটক হত। পরে দুই দেশের সমতা ও আলাপের ভিত্তিতে বন্দী বিনিময় বা হস্তান্তর হত। কিন্তু হটাত মিয়ানমার রোহিঙ্গা ইস্যু পরবর্তীতে বাংলাদেশের সাথে অবন্ধুত্বসুলভ আচরণ করে যাচ্ছে।

Page Sidebar