5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

সেরা হরর মুভি ।। ভয় নিশ্চিত !

Now Reading
সেরা হরর মুভি ।। ভয় নিশ্চিত !

ভুতের ছবি বা হরর মুভি দেখতে কে না ভালোবাসে । ভয় পাবে জেনেও এই সব মুভি গুলো দেখার মাঝে অন্য রকম মজা আছে । আর সেই পরিবেশ যদি হয় এরকম যে , একটা অন্ধকার ঘরে আপনি এক বসে টিভি তে দেখছেন , দরজা বন্ধ করে জানালা খুলে রাতের বেলা লাইট অফ করে দেখবেন তখন ভয়ের মাত্রা দ্বিগুণ হয়ে যায় । মুভির জগতে এই রকম কিছু মুভির সাথে আজ আপনি আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিবো ।ইচ্ছে করলে আপনি এই মুভি গুলো দেখতে পারেন । আর হ্যাঁ নিজ দায়িত্বে এক ঘরে রাতের বেলা মুভি গুলো দেখবেন ।

 

D@bbe

১- [email protected] – এই হরর মুভির নাম শুনে নাই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুব মুশকিল । বিশেষ করে যারা হরর মুভি ভালোবাসেন । dabbe বেশ কিছু সিরিজ বের হয়েছে ইতি মধ্যে । যার প্রত্যেকটি ব্যবসা সফল ছবি । টার্কিশ এই মুভি বাস্তব জীবনের গল্প সিনেমার মাধ্যমে তুলে ধরেছে দর্শকদের কাছে । সম্পূর্ণ জ্বীন নির্ভর হরর মুভি । বাস্তব ধর্মী মুভি । এই মুভি আপনাকে নতুন কিছু ভাবতে শেখাবে । কিভাবে মানুষ জ্বীনদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলছে তা খুব সুন্দর ভাবে প্রকাশ পেয়েছে । ছবিকে আপনার কাছে আরো বাস্তব করতে তুলে ধরা হয়েছে কোরআন এর বিভিন্ন আয়াত । তারা বোঝাতে চেয়েছে খারাপ জ্বীন কিভাবে আপনাকে ক্ষতি করতে পারে , তার ক্ষমতা কতটুকু । এই মুভির সাউন্ড ইফেক্ট আপনাকে ভয় পেতে বাধ্য করবে । নির্মাতা খুব সুন্দর ভাবে , সাবলীল গল্পের মাধ্যমে এমন ভাবে ছবি নির্মাণ করছেন , যা আপনাকে স্ক্রিন এর পর্দায় বেঁধে রাখবে । ছবির প্রত্যেক মুহূর্তে আপনি রোমাঞ্চিত হয়ে উঠবেন , আর আপনার কাছে মনে হবে এখানে মনে হয়ে কিছু ঘটতে যাচ্ছে । এই মুভি আপনাকে দেখাবে ব্ল্যাক ম্যাজিক কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে । আপনি এই মুভি দেখতে গিয়ে একটি অসুবিধায় পড়তে পারেন , তাহলো এই মুভি আপনি ইংলিশ ডাবিং পাবেন না । আপনাকে ইংলিশ সাব টাইটেল ব্যবহার করে দেখতে হবে । ( আপনি যদি দুর্বল চিত্তের মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে আমি বলবো এই মুভি আপনার জন্য না )

 

The Exorcist

২-The Exorcist – ১৯৭৩ সালের দিকে নির্মাণ করা হয় এই মুভি । অনেকে এই হরর মুভি কে বলে থাকে , হরর মুভির রাজা । আর এই কথা আরো জোরালো হয়ে উঠে যখন the exorcist মুভি অস্কার পায় । যদি আপনাকে আমি প্রশ্ন করি , আপনার বয়স সন্ধি কালে আপনি কত টুকু নিজেকে আবিষ্কার করতে পারবেন ? প্রশ্নটা আসলে অদ্ভুত । ঠিক এই রকম কিছু সম্মুখীন হয় the exorcist মুভির কিশোরী । প্রায় রাতে সে ঘরের মধ্যে কিছু একটার অস্তিত্ব অনুভব করেন । সেই কিশোরীর কাছে মনে হয় তার বিছানা ধরে কেউ দোলনার মতো দোলাচ্ছে । আবার মাঝে মাঝে কেউ গোঙ্গানোর মতো করে কান্না করছে । যখন সে তার মা বাবা কে তার সমস্যার কথা শেয়ার করে । তার মা বাবা তাকে একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায় । ডাক্তার বলে তার বয়স সন্ধি চলছে তাই এমন হচ্ছে । এর পরের শুরু হয়ে তার সাথে আরো কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা । এভাবে এগিয়ে চলে গল্পের কাহিনী । ছবির কিছু দৃশ্য আপনাকে ভয়ে আতংকিত করে তুলবে ।

 

Curse Of Chucky

৩- Curse Of Chucky – একটা পুতুল কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে , তা এই মুভি আপনাকে প্রমাণ করে দিবে । আপনাদের নিশ্চয় পুতুল দ্বীপ এর কথা শুনেছেন । শুনে না থাকলে আমাদের সাইটে এই নিয়ে একটি লেখা আছে আপনি পড়ে দেখতে পারেন । আমি নিচে লিংক দিয়ে দিবো । মূল কথায় ফিরে আসি । আচ্ছা আপনার নামে যদি একটা আননোন পার্সেল আসে আর সেটা যদি হয় একটা পুতুল তাহলে আপনি নিশ্চয় অবাক না হয়ে পারবেন না , তাই না ? ঠিক এই মুভিটা একটা পুতুলে কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে । নিকা নামের ছোট একটা মেয়ের ঘরে একদিন পার্সেল । খুব অবাক হয়ে সে তার মাকে নিয়ে পার্সেলটি খুলে দেখতে পায় একটা পুতুল । অনেক অবাক হয় নিকা । তার পরের দিন রাতে তার মা ঘুমোতে গেলে পরের দিন তাকে মৃত আবিষ্কার করা হয় । নিকার মা কে দেখা যায় কেউ একজন ছুরি দিয়ে খুব করেছে । এই খুনের পর নিকার ঘরে ঘটতে থাকে সব অদ্ভুত ঘটনা । এই রকম একটা রোমাঞ্চকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলে ছবির কাহিনী । এই ছবির মজার ব্যাপার হলো , আপনি বুঝতে পারবেন না পরের দৃশ্যে আপনার জন্য কি অপেক্ষা করছে । প্রতি মুহূর্তে আপনি চমকে উঠবেন । নির্মাতা খুব সুন্দর ভাবে তার হরর গল্পকে উপস্থাপন করেছে ।

তাছাড়া আরো কিছু মুভির নাম বলছি যা আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য দুনিয়ায় ।

১ – মিরর ( mirror )
২ – গোস্ট রিডের ( ghost rider )
৩- মিরর ২ ( mirror ২ )
৪ – ইজরা ( ezra )

যদি আপনি এই মুভি গুলো দেখে থাকেন তাহলে , অবশ্যই নিজের মতামত জানাতে ভুলবেন না

আয়নার আয়নাবাজি – আয়নাবাজি মুভি রিভিউ

Now Reading
আয়নার আয়নাবাজি – আয়নাবাজি মুভি রিভিউ

মুভিটা গত বছর মুক্তি পেয়েছে মানে ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর । আয়নাবাজি মুক্তি পাবার আগেই সারা ফেলেছে দর্শকদের মাঝে । আয়নাটা বাজি এমন একটা মুভি যার ছবির পোস্টার থেকে শুরু করে ছবির শেষের দৃশে পর্যন্ত ছিল অসাধারণ কারু কাজ । ছবির মান নিয়ে কোনো কথা হবে না । অসাধারণ অভিনয় করেছেন ছবির অভিনেতারা ।

ছবির সামনে ও পিছনের মানুষ জন :

পরিচালনায় – অমিতাভ রেজা
চিত্রনাট্য – গাউসুল আলম শাওন , অনম বিশ্বাস
সংলাপ – আদনান আদিব খান
সংগীত পরিচালক – হাবিব ওয়াহিদ , ফুয়াদ , অর্ণব
প্রধান অভিনেত ও অভিনেত্রী – চঞ্চল চৌধুরী , নাবিলা , পার্থ বড়ুয়া লুৎফর রহমান

প্রথমে আসি অমিতাভ রেজার ব্যাপারে । নিসন্দেহে তিনি একজন ভালো নির্মাতা । উনি বেশ ভালো কাজ করেন নতুন পুরাতন সবাইকে নিয়ে । উনার বিজ্ঞাপন ও নাটকের মান খুবই ভালো । বিজ্ঞাপন ও নাটক দিয়ে এর আগেও নিজেকে প্রমান করেছেন অনেক বার । সর্বশেষ একটি টেলিকম এর বিজ্ঞাপন দিয়ে খুব ভালো ভাবে নিজেকে সবার সামনে প্রমান দিয়েছেন । এখন প্রশ্ন আসতে পারে তার ছবি নিয়ে । কারণ এর আগে তিনি কখনো ছবি পরিচালনা করেনি । তার প্রথম ছবি আয়নাবাজি । ধাপে ধাপে এগিয়েছেন এই মুভি নিয়ে । প্রথমে তিনি টিজার মুক্তির মাধম্যে সারা ফেলেদেন সবার মাঝে । তখন সবাই বুঝতে পারে ভালো কিছু আসছে । তারপর গান এবং সর্ব শেষ ছবির ট্রেলার মুক্তি দিয়ে কাঁপিয়ে দেন ইউটুবে কে । মানুষ তখন ছবি নিয়ে বেশ আলোচনা করছে । আর তখনি বোঝা গেল ছবিটা এইবার সত্যি সত্যি কাঁপিয়ে দিবে

ছবির গল্পের সাথে ছবির নামের স্বার্থগত ১০০ ভাগ মিলেছে । আয়নায় যেখানে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখা যায় ঠিক তেমনি আয়না বাজির ছবিতে আয়না চরিতের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে সবার কাছে । চঞ্চল চৌধুরী মানে আয়না নিজেকে টাকার প্রযোজনে নিজে আরেক জনের ভিতরে প্রবেশ করে । অসাধারণ তার অভিনয় । এক চরিত্র থেকে বের হয়ে আরেক চরিত্রে কাজ করা মোটেও সহজ কথা নয় । এই গুণী অভিনেতা নিজেকে প্রমান করেছেন আরো আগেই আর এই ছবির মাধম্যে নিজের জাত তুলে ধরলেন সবার কাছে । আর সঙ্গী হিসেবে ও নিজেকে বেশ ভালোই প্রমান করলেন নাবিলা ।

৩০ তারিখে মুক্তি পাবার আগে থেকে সব টিকিট বিক্রি শেষ । মানে প্রতিটা শো হাউস ফুল গিয়েছে । এই জিনিস দেখে অনেকের মধ্যে আবার ফিল হতে শুরু করলো সিনেমার সোনালী দিন আবার ফেরত আসছে । ছবির শুরু তে অমিতাভ রেজা দর্শকদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিলেন আয়না কে । সাধারণ জীবন যাপন , আর পুরান ঢাকার ঐতিহ্য কে সবার সাথে খুব ভালোভাবে তুলে ধরলেন তিনি । দেখিয়েছেন আমাদের সমাজে মানুষ টাকার জন্য কি করতে পারে আর মানুষ কে টাকা দিয়ে কি করানো যেতে পারে । দেখিয়েছে কিভাবে খুব সাধারণ ভাবে নিজের ভালোবাসা বলা যায় নিজের ভালোবাসার মানুষের কাছে । সাংবাদিক চরিত্রে খুব ভালো কাজ করেছেন পার্থ বড়ুয়া । ছবির স্বার্থে চঞ্চল চৌধুরী নিজেকে পরিবর্তন করেছেন অনেক । তিনি আয়নাবাজিতে নিজেকে মোট ৬ বারের ওপর পরিবর্তন করেছেন । কি সুন্দর তার অভিনয় । প্রথমে তিনি একটি পাগল ছেলের দৃশে অভিনয় করেন । যেখানে তিনি আরেক জন এর হয়ে জেল খেটে দিচ্ছেন ।এক এক বার তিনি এক এক জনের হয়ে জেল খাটছেন । এই ভাবে তার গল্প এগুতে থাকে ।সর্বশেষ একজন সমাজের প্রভাবশালী নেতার হয়ে জেল খাটেন কিন্তু প্রতিবার বের হতে পারলেও এই বার সে রাজনৈতিক নেতা তাকে বের না করাতে আদালত থেকে তার ফাঁসির রায় হয়ে যায় । আয়না তার নিজের মধ্যে অস্থির থাকলেও কাউকে বুঝতে দেয় না । ধীরে ধীরে বের হয়ে আসে জেল থেকে । এই ভাবে এগুতে থাকে ছবির ঘটনা ।

ছবির প্রতিটা বিভাগে কাজের মান ছিল অসাধারণ । সেই সাথে অমিতাভ রেজার পরিচালনা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না । ক্যামেরায় রাশেদ সাহেবের কাজ দেখে আপনি নতুন করে ঢাকা কে চিনবেন । বিশেষ করে তিনি পুরান ঢাকা কে তুলে ধরেছেন খুব সুন্দর ভাবে । শুধু ক্যামেরায় নয় সংলাপ থেকে শুরু করে গানের প্রতিটা কথা যেন নিজেকে ছুঁয়ে যাবে । আপনিও হারিয়ে যাবেন তাদের সাথে ।

দিন দিন আমাদের হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরে আসছে এই সব ছবির মাধ্যমে । আসলে আমাদের দেশের হলের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে ভালো মানের ছবির অভাবে । আমাদের দেশের যেই সব গুণী পরিচালকরা আছে তারা যদি নিজেদের মেলে ধরতে পারেন ও অভিনেতারা যদি তাদের অভিনয়ের ১০০ ভাগ দিয়ে থাকেন তাহলে ছবি হিট হবেই আর দিন দিন হলের সংখ্যাও বাড়বে ।

আয়নাবাজি তার আয়নাগিরি দেখিয়ে যেমন জয় করেছে বাংলাদেশের মানুষের মন ঠিক দেশের বাহিরেও ছিল আয়নার বাজির প্রভাব । দেশের মাটিতে সফল ভাবে চলে বিদেশের মাটিতেও ছিল আয়নার জয় । সেই সাথে উঠেছে অনেক গুলো পুরস্কার । দেখিয়ে দিয়েছে ভালো ছবি করলে শুধু দেশে না বিদেশের মাটিতেও চলে

একটি টিভির আত্মকাহিনী

Now Reading
একটি টিভির আত্মকাহিনী

আমি একটি অত্যাধুনিক ৪২” এল ই ডি টিভি। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এই পরিবারের ড্রয়িংরুমে আমার অবস্থান। ওরা আমাকে অনেক যত্ন করে রাখে। রোজ ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করে ঝা চকচকে করে রাখে আমার শরীরটাকে। বড্ডো ভালেবাসে। আমিও ওদের যথাযথ সেবা দিতে সবসময়েই সচেষ্ট থাকি। আমিও ওদের ভালেবাসি। যেদিন ওদের বাসায় আমার প্রথম আগমন ঘটলো, আমাকে নিয়ে ওদের আহ্লাদিপনার কমতি ছিলোনা। পাশের বাসার ভাবীদের ভিন্ন অজুহাতে ডেকে এনে আমাকে দেখাচ্ছিলো,আমার শেপ, আমার আকৃতি, আমার ছবির কেয়ালিটি। সব্বার বাহ্ বাহ্ পেতে পেতে আমারও কেমন যেন গর্ব হচ্ছিলো নিজেকে নিয়ে। বাসার অন্য ফার্নিচারগুলো আমাকে কেমন হিংসুটে চোখে দেখছিলো! অনেক মজা লাগছিলো বটে! আমি সবচে, সব্বার চেয়ে সেরা,হিংসা তো তাদের হবেই, দোষের কিছুনা।যেমন দোষের না আমার এই অহংকার করাটা।
ডিশ্ কানেকশন লাগানোর পর শুরু হলো আমার পথ চলা।

আমাকে সামনে রেখে পরিবারের সবার কত আড্ডা, চা কফি,কোক! সবচে বয়োকনিষ্ঠ সদস্যটি সুযোগ পেলেই কার্টুন নেটওয়ার্ক ছেড়ে বসে থাকে। একা একা হাসে, হুহ্-হাহ্ করে। আমার মজা লাগে,মায়া লাগে। সবচে’ বিরক্ত লাগে যখন বাড়ীর বয়োজ্যেষ্ঠ মহিলাটি কিসব প্যানপ্যানানি সিরিয়াল নামক জিনিষটাকে ছেড়ে দেয় আমার মধ্যে। ঐ কথায় কথায় কান্নাকাটি,মরে গিয়েও আবার বেঁচে ফিরে আসা,সামান্য সব ছুঁতো ধরে অসামান্য সব ঘটনা, ঝগড়াঝাটি আমার মধ্যে চলতে চলতে আমি নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ি, ওরা বোঝেনা। আমারই সিরিয়ালের ওদের মতো মরে নস্ট হয়ে যেতে মন চায়, আবার বেঁচে ফিরে আসতে আর একদম মন চায়না। রিমোট নিয়ে যখন বাড়ীর কর্তার সাথে ঐ কত্রীর ঝগড়া টাইপ কথোপকথন চলে, আমার খুব খুউব ইচ্ছা করে বেচারা কর্তার পক্ষ নিয়ে কিছু বলি। নিজের অক্ষমতায় তখন নিজেরই কষ্ট হয়। হায় প্রযুক্তিবিদগণ! এতো এতো কিছু আবিস্কার করেছেন, আর একটু কষ্ট করে আমাদের দু’চারটা মনের কথা বলতে পারার ব্যাপারটা যদি আবিষ্কার করতে পারতেন! কিছু চাইবার থাকতোনা! মাঝে কিছুদিন আমার ভিতরের খবরের এক চ্যানেলে শুনতে পাচ্ছিলাম স্টার জলসা নামক সেই ভয়ানক চ্যানেলটা নাকি বন্ধ হয়ে যাবে। নিজের কানকে বিশ্বাস হচ্ছিলোনা, সত্যিই এমন দিন আসবে? নাহ্! আসলেই তেমন দিন আসলোনা।

থাক! দুঃখের সাতকাহন গেয়ে আর কি হবে। কিছুই যখন করার নেই,কারোরই যখন আমাকে বোঝার নেই, কি লাভ আর এই দুঃখ করে! তারচে’ বরং সবচে মজার সময় কাটানোর কথা বলে মন হালকা করা যাক। বাড়ীর ছেলেটিকে আমার সেইরকম লাগে! কারন? ও আমাকে ছাড়লেই ইতংবিতং চ্যানেলগুলো ফেলে খেলার চ্যানেলগুলো দেখে। শান্তি শান্তি লাগে কেমন যেন।খেলার উত্তেজনা আমার মতো জড় পদার্থের একটা টিভির ভিতরেও ছড়িয়ে পড়ে কিভাবে যেন। কিন্তু সমস্যার কথা, এই ছেলেটির ভাগ্যে টিভি দেখা জুটেনা তার অফিসিয়াল নানান ব্যস্ততার কারনে। তার স্ত্রীর মতো আমিও ছেলেটির অপেক্ষায় থাকি। তার স্ত্রীর সংসারের কাজ করতে করতে আমার সামনে বসা খুব একটা হয়ে ওঠেনা। সেও হয়তো বসার সুযোগ পেলে সিরিয়াল ই দেখতো! তবে রাতে তারা টোনাটুনি মিলে যখন আমার সামনে বসে কোন মুভি দেখে অন্তরঙ্গ সময় কাটায়,চানাচুর বা মুড়ি খায়, ভালো লাগে আমার। তবে রোজ রোজ এই খেলা বা ওদের একসাথে বসে মুভি দেখার ব্যাপারটা হয়না আমার সাথে।তবে আমি রোজ চাই আজও খেলা হোক,আজও ওরা মুভি দেখতে বসুক। আমার ক্লান্ত লাগেনা তখন। তবে আমাকে দিয়ে বেশিরভাগ সময়েই সিরিয়াল দেখানো হয়। অবলা আমি একটু প্রতিবাদ ও করতে পারিনা।

সিরিয়াল ব্যাপারটা কি না দেখলেই নয়? এত্তো কত্তো চ্যানেল আমার ভিতর! কত্তো কত্তো মজার জিনিস হয়। ডিসকভারী বা এনিমেল প্লানেট দেখলেও তো দাদীমা!! তাও না বোঝ তো নিজের দেশেরই নাটকগুলো না হয় দেখো। তা না দেখে বস্তাপঁচা ওসব সিরিয়ালে কি মজা পাও, বুঝি না বাপু! সিরিয়াল দেখে দেখে মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি চাপাও আর সংসারে কোথাও পান থেকে চুন খসলেই ক্যাক করে ধরো। সাধারন “ভুল করে হয়ে গেছে” এভাবে ভেবে ব্যাপারটা ভুলে গেলেই হয়। তা কিভাবে হবে? সিরিয়ালের প্রভাবে তা হতে দিলে তবেই না! সেদিন আমার সামনেই তো বউটাকে সামান্য এক গ্লাস পানি আনতে দেরী হওয়ায় তার বাপ-মা তুলে কথা বললে। ডায়ালগ গুলো সবই কোথা থেকে আমদানি হলো তা বুঝতে তো আমার বাকি ছিলোনা। নেহাৎ কিছু বলতে পারার ক্ষমতা নেই বলে চুপ মেরে থাকা ছাড়া গতি ছিলোনা।কিন্তু ভিতরে ভিতরে মরমে মরে যাচ্ছিলাম যে বৌটার কথা গুলো শুনানোর একটা কারন বা মাধ্যম আমি নিজে! আজ আমি যদি না থাকতাম,হয়তো বৌটা এসব কথা শোনার হাত থেকে বাঁচতো। আসলেই কি বাঁচতো? না বাচলেও অন্তত আমি তো আর কোন মাধ্যম হিসেবে থাকতামনা। আমার জড় বিবেকটাও অনুশোচনায় বিদ্ধ হতোনা। আমার খুব প্রশ্ন করতে মন চায়, আমি একটা জড় পদার্থ,এক হাল ফ্যাশনের টিভি, আমার তাতেই বিবেক বোধটা কাজ করে, তুমি সৃস্টির সেরা জীব মানুষ হয়েও তোমার বিবেকে বাঁধে না?

সিরিয়াল তোমাকে কি শিখাচ্ছে একবার ভাবোতো দাদীমা! তোমার বাসার পরিবেশ নষ্ট করছে এই সিরিয়াল।তারচে’ বরং দাদার সাথে বসে খবর দেখতে দেখতে চা খাও, ঝগড়া হবেনা দেখো। ছেলের বৌকেও বিপক্ষের দল ভাববে না। তাকে ডেকে দু’চারটা ভালো কথা বলোই না। বা তাকে নিয়েই নিজের দেশের নিজের সংস্কৃতির একটা কোন নাটক দেখো। তুমি সবচে’ বড়। তোমাকে দেখেই তো বাকিরা শিখবে,তাই না দাদীমা। কাল যদি তোমার নাতি তোমার পাশে বসে এই সিরিয়াল গিলে,তো পরশু সে নিজেই ঘরের এসব ঝগড়াঝাটি গুলোকেই সাধারন ব্যাপার হিসাবে ধরে নেবে। তুমি তোমার প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মটাকেও প্রভাবিত করছো। একটা ভালো সিরিয়াল দেখাও আমাকে যেখান থেকে শিখার কিছু আছে! ৬৬৬
নিজের ভালো নাকি পাগলেও বোঝে। মানুষ হিসাবে তো এটা এই শ্রেনীর মানুষগুলোরও বোঝার কথা। আমি সামান্য এক ৪২” এল ই ডি টিভি। এক সময় আমার নিজেকে নিয়ে বেশ গর্ব হতো, এখন নিজেকেই কেমন ঘেন্না হয়।ঘরে ঘরে এতো ঝগড়া, অশান্তির মূলে যেন আমি নিজে!

Page Sidebar