আয়ারল্যান্ড থেকে হারিয়ে গিয়েছে মুস্তাফিজ !!!!!!!!!!!!!!!!

Now Reading
আয়ারল্যান্ড থেকে হারিয়ে গিয়েছে মুস্তাফিজ !!!!!!!!!!!!!!!!

না ভাই আপনি ভুল কিছু পড়েনি । জী আয়ারল্যান্ড থেকে কিছুক্ষন আগে হারিয়ে গিয়েছে আমাদের মুস্তাফিজ ।

আস্তে ভাই আমাকে পাগল বা গালি দেয়ার আগে লেখাটি পড়েনিন । কিভাবে হারালো সেটা বলার আগে মুস্তাফিজ সম্পর্কে কিছু কথা বলে নেই ।

কিছুদিন আগে ফিজ কাউন্টি খেলতে ইংল্যান্ড এ গিয়ে ছিলেন । তখন তিনি সম্পুন ছন্দে । খুব ভাল বল করছিলেন সেখানে । ২১ জুলাই ঢাকা ছাড়েন মুস্তাফিজ । ইংল্যান্ড এ গিয়েই যোগ দেন সাসেক্সে এ । প্রথম ম্যাচে নিয়ে নেন ৪ উইকেট । এবং পেয়ে যান ম্যাচ সেরার উপহার । প্রথম ম্যাচেই নিজের জাত চিনিয়ে দেন খেলোয়াড়দের । কিন্তু পরের ম্যাচে দেখা গেল সেই সমস্যা । আইপিএল খেলতে গিয়ে প্রথমে পায়ে ব্যাথা পান তিনি । কিছু দিন ব্যাথা নিয়ে খেলে ফিরে আসেন দেশে ।দীর্ঘ এক মাস পুনর্বাসনের পর খেলার জন্য প্রস্তুত হন তিনি । তার পর তিনি সাসেক্সে হয়ে খেলতে দিয়ে ২য় ম্যাচে কাধে কিছুটা ব্যাথা অনুভব করেন । সেখান থেকে আর খেলা হয়ে উঠেনি ফিজের । কাধে ব্যাথা পান তিনি । এমআরআই করে দেখা গিয়েছে তার কাধে স্ল্যাপে (সুপিরিয়র ল্যাব্রাম অ্যান্টিরিয়র অ্যান্ড পোস্টেরিয়র) সমস্যা। আর তাকে খেলনো হয়নি। দেশে ফিরে আসেন

এর আগে তিনি ঘরের মাঠে যে কোন দলের জন্য ছিলেন বিপদ জনক । যার তাণ্ডবে উরে গিয়েছে ইন্ডিয়া , পাকিস্তান , নিউজিল্যান্ড সহ অনেক বড় বড় দল । ডাক পেয়ে গেলেন আইপিয়েলে । সানরাইজের হয়ে খুব ভাল খেলচ্ছিলেন । এমন কি আইপিয়েলে উদীয়মান সেরা খেলোয়াড় এর পুরস্কার তাকে দেয়া হয় । উইকেট শিকারির তালিকায় নিজেকে রেখেছিলেন সবার উপরে ।

চারিদেক যেন জয় জয়ো কার ছিল ফিজের । ঠিক তখনি ফিজকে সম্মান জানাতে ভুল করেনি আইসিসি । সেরা খেলোয়াড় এর তালিকায় তার নাম রাখা হয় । আর সেই সাথে ঘরোয়া লীগ তো আছে , সেখানেও তিনি তার নামের সুবিচার করে গিয়েছেন ।

কথায় আছে মানুষ তখনি সফল হয় যখন বাধা পাওয়ার পর আবার ফিরে আসে তার আপন রুপে ।

আর সেই রুপ দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেক দিন । ফিজ তার আসল রুপে ফিরতে মনে হয় একটু বেশি সময় নিয়ে ফেলেছিলেন । কিন্তু তার সহকারী রা বলল ভিন্ন কথা । মাশরাফির বলেন আগে মুস্তাফিজ যা করেছে তা ছিল প্রায় অস্বাভাবিক কিন্তু এখন ফিজ যা করছে তা স্বাভাবিক । তাকে ব্যাটসম্যান রা জাজ করছে । তার খেলা দলের স্টাফ রা দেখছে দুর্বল পয়েন্ট গুলো খুঁজে বের করছেন । আমরা চাই ফিজ যেন আগের রুপে ফিরে এসে দলের জয়ের ভূমিকা রাখতে পারে ।

১১ আগস্ট লন্ডনের বুপা ক্রমওয়েল হাসপাতালে শল্যবিদ অ্যান্ড্রু ওয়ালেস অস্ত্রোপচার করেন তার কাঁধে। এরপর প্রায় আড়াই মাস পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন তিনি। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া থেকে ফিরে রিদম খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি । সবার একটাই কথা তাহলে মুস্তাফিজ কি ফুরিয়ে গেল ? এই প্রশ্নের উত্তর যেন সবাই খুজছে । এই উত্তর পাওয়ার জন্য সবাই তাকিয়ে ছিল নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকা সিরিজের উপর । না এই বারও তিনি নিজে কে আগের রুপে প্রমনা করতে পারেন নি । উইকেট নেয়ার প্রবণতা আর ইনজুরি যে তার রিদম কে হারিয়ে ফেলেছে ।

এই বছর আইপিএল খেলতে উড়ে গেলেন ইন্ডিয়াতে । প্রথম ম্যাচ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে দেখা গেল আরেক ফিজ কে । ২.৪ ওভারে দিয়েছেন ৩৪ রান । ওই ম্যাচের হারের কারন বোধ হয় তিনিই ছিলেন যার কারনে তাকে আর পরবর্তী ম্যাচ এ দেখা যায়নি ।

তারপর উড়াল দিলেন ট্রাই নেশন সিরিজ খেলার জন্য । প্রথম ম্যাচ বৃষ্টির জন্য পরিতেক্ত হয়ার কারনে আর নিজে কে প্রমান করতে পারেন নি ফিজ । ২য় ম্যাচ নিউজিল্যান্ড এর বিপক্ষে খুব ভাল বল করেছেন তিনি ৩৩ রানে দুই উইকেট তুলে নেন । আভাষ দিয়ে দেন মুস্তাফিজ আসছে ।

৩য় ম্যাচে আইরিশদের বিপক্ষে দেখা গেল আগের সেই ফিজ কে । প্রথম দুই বল ইনসুইঙ্গার দিয়ে বুঝিয়ে দেন আমি আবার আসছি । ঠিক ৩য় বলে তুলে নেন তার প্রথম উইকেট । ব্যাক অব লেন্থের লাফিয়ে উঠা বল ডিফেন্স করতে যান পল । বল ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় থার্ড ম্যানে । আরো অবাক কথার মত বিষয় হল তিনি প্রথম ওভারে কোন রান দেননি । এর পর এক অসাধারন ক্যাচ ধরেন মোসাদ্দেক । এই ভাবে ফিরিয়ে দেন আরো দুই জন ব্যাটসম্যান কে । আর তুলেনেন ৪ উইকেট । ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে দলের হয়ে এই ম্যাচ বেশি উইকেট শিকারি তিনি হন । ২ টি করে উইকেট নেন ম্যাশ ও সানজামুল । আর একটি করে উইকেট নিয়ে খাতায় নাম লিখান সাকিব ও মোসাদ্দেক ।

ফিজ এর তাণ্ডবে আর মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারেনি আইরিশ রা ।মাত্র ১৮২ রাতে ফিরতে হয় তাদের ১১ জন খেলোয়াড়দের । সেই সাথে হারিয়ে যায় ফিজের সাথে লেগে থাকা যত সমালোচনা । আয়ারল্যান্ড এর মাটিতে হারিয়ে যায় ফিজের অফ ফর্ম। ফিরে আসেন আগের রুপে । আশা করি তিনি তার এই ফর্ম ধরে রাখতে পারবেন সামনের ম্যাচ গুলোতে

মুস্তাফিজ: একজন বৈচিত্র‍্যময়ী বোলার

Now Reading
মুস্তাফিজ: একজন বৈচিত্র‍্যময়ী বোলার

মুস্তাফিজ, বদলে যাওয়া বাংলাদেশের এক নতুন আশ্চর্যের নাম। যার প্রতি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের এক বিস্ময়কর ভালোবাসা। যাকে বাংলাদেশের মানুষ ভালোবেসে ডাকে ” কাটার মাস্টার ” আর ক্রিকেট বিশ্বের কাছে সে “দ্য ফিজ ( The Fizz)”। যার অর্জনে রয়েছে বিশ্বের সেরা সেরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ভিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা,মাহেন্দ্র সিং ধোনি, ক্রিস গেইল, এবিডি ভিলিয়ার্স, হাশিম আমলা, শহিদ আফ্রিদি, মোহাম্মদ হাফিজ, কেন উইলিয়ামসনদের উইকেট।

মুস্তাফিজুর রহমান একজন বামহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার যার প্রথম অভিষেক ঘটে ২৪ এপ্রিল ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টি-২০ ম্যাচে। অভিষেক ম্যাচেই তার ঝুলিতে এসে যায় পাকিস্তান দলের অন্যতম সেরা দুইজন ব্যাটসম্যান শহিদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ হাফিজের উইকেট। মুস্তাফিজের প্রথম উইকেটটি আসে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে। যেখানে ব্যাটসম্যানরাই তার বল বুঝতে ভুল করছিল সেখানে আম্পায়ারই বা কেনো ভুল করবে না!

মুস্তাফিজ তার ভিতরে যে প্রতিভা রয়েছে তার প্রমান দেন বাংলাদেশ- ভারত মধ্যকার ওডিআই সিরিজে যা তাকে সবার থেকে আলাদা ভাবতে বাধ্য করেছে। সে তার ওডিআই অভিষেকে ভারতের কঠিন ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেয় তার নিখুঁত বোলিং লাইন লেন্থ ও কাটারের বৈচিত্র্যের সাহায্যে। ৯.২ ওভার বল করে নিয়ে নেন অভিষেকে ৫ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব এবং অর্জন করেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। ২য় ওডিআইতে ৬ উইকেট নিয়ে গড়েন ক্রিকেট ইতিহাসে দুই ম্যাচে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড। আর বাংলাদেশ পেয়ে যায় ভারতকে প্রথম ওডিআই সিরিজে হারানোর স্বাদ। শেষ এবং ৩য় ওডিআইতে ২উইকেট নিয়ে ৩ ম্যাচে ১৩ উইকেট শিকারের মাধ্যমে অর্জন করেন অভিষেকে ৩ম্যাচে সেরা উইকেট শিকারির স্থান। এই অভ্যুত্থান এর মধ্যে দিয়ে জানিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে রাজত্ব করার জন্য আসছেন এক নতুন রাজা। কিন্তু  তার এইস্থানে আসা মোটেও সহজ ছিলো না। একমাত্র সেরারাই পারে এইরকমভাবে ভাবে সবার মাঝে তার নিজের জন্য জায়গা করে নিতে।

মুস্তাফিজুর রহমান ১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলার তেতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বড় ভাই তাকে প্রতিদিন বাড়ি থেকে ৪০ কি.মি দূরে অনুশীলননের জন্য দিয়ে আসতেন যা তাকে খেলার প্রতি আরও দৃঢ় হতে অনুপ্রেরণা দেয়। ২০১২ সালে মুস্তাফিজ ঢাকায় বিসিবি ফাস্ট বোলার ক্যাম্পে এসে নজর কারেন কোচের। তার নিজ জেলায় অনুষ্ঠিত অনুর্ধ্ব-১৭ লিগে অসাধারণ খেলার জন্য বিসিবি তাকে পেস ফাউন্ডেশনে অন্তর্ভুক্ত করে। সে ২০১৪ সালে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীততে তার বোলিং বৈচিত্র্যের কারনে তাকে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-২০ ম্যাচে খেলার জন্য ডাকা হয়। এরপর থেকে মুস্তাফিজ চলছে আর সাথে চলছে তার বোলিং জাদু।

মুস্তাফিজের বোলিং পরিসংখ্যানঃ
টেস্ট 
ম্যাচ সংখ্যাঃ ৪
রানঃ ২৭৮
উইকেটঃ ১২
বোলিং গড়ঃ ২৩.১৬
৫ উইকেটঃ ০
সেরা বোলিংঃ ৪/৩৭

ওডিঅাই
ম্যাচ সংখ্যাঃ ১৬
রানঃ ৬১৯
উইকেটঃ ৩৮
বোলিং গড়ঃ ১৬.২৮
৫ উইকেটঃ ৩
সেরা বোলিংঃ ৬/৪৩

 টি-২০
ম্যাচ সংখ্যাঃ ১৭
রানঃ ৪০৩
উইকেটঃ ২৭
বোলিং গড়ঃ ১৪.৯২
৫ উইকেটঃ ১
সেরা বোলিংঃ ৫/২২

প্রথম শ্রেণি
ম্যাচ সংখ্যাঃ ১৯
রানঃ ১১৬১
উইকেটঃ ৫৬
বোলিং গড়ঃ ২০.১৯
৫ উইকেটঃ ১
সেরা বোলিংঃ ৫/২৮
সূত্রঃ http://www.espncricinfo.com/bangladesh/content/…/330902.html

মুস্তাফিজের বোলিং পরিসংখ্যান দেখলেই বুঝা যায় তার জন্ম হয়েছে ক্রিকেটে নতুন রেকর্ড তৈরি করার জন্য,  ক্রিকেট সহ পুরো পৃথিবীতে বাংলাদেশের নামকে উজ্জল করার। মুস্তাফিজের প্রথম টেস্ট অভিষেক হয় দক্ষিন আফ্রিকার বিরুদ্ধে। ১ম টেস্টেই সে অর্জন করে ম্যাচ সেরা হওয়ার গৌরব।যার ফলে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অর্জন করে অভিষেক ওয়ানডে এবং টেস্ট ম্যাচে ম্যাচ সেরা হওয়ার খেতাব।

মুস্তাফিজ ২০১৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আইপিএল এ ” সানরাইর্জাস হায়দ্রাবাদ” দলে খেলেছেন। সেখানে সে ২০১৬ এর সেরা উদিয়মান ক্রিকেটার হিসেবে খেতাব অর্জন করে এবং তার দল হায়দ্রাবাদকে প্রথম শিরোপা লাভের স্বাদ গ্রহন করতে সাহায্য করে। এছাড়া সেই একই বছর ইংল্যান্ডের কাউন্টি দল সাসেক্সের হয়ে ন্যাটওয়েস্ট টি-২০ খেলেছেন।

মুস্তাফিজ ২০১৫ সালে জায়গা করে নেয় আইসিসি ঘোষিত বর্ষসেরা দলে এবং ২০১৬ সালে লাভ করে বর্ষসেরা উদিয়মান ক্রিকেটার এর খেতাব।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে একজন ভালো মানের পেসার পাওয়া এবং তার জাতীয় দলে টিকে থাকা একমাত্র মাশরাফি ছাড়া আর সহজে কাউকে দেখা যায়না। বাংলাদেশের একসময়ের খেলোয়াড়দদের মধ্যে তালহা যুবায়ের, সৈয়দ রাসেল, রবিউল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন তারা খুব প্রতিভাবান ছিলো কিন্তু তাদের কারোরই জাতীয় দলে দীর্ঘ সময় ধরে থাকা সম্ভব হয়নি কারণ তাদের ইনজুরি।মুস্তাফিজও ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। তার ইনজুরি তাকে কিছু সময়ের জন্য তার ধারালো বোলিং অ্যাকশন থেকে দূরে রেখেছে। কিন্তু মুস্তাফিজ ইনজুরি থেকে আসা অফফর্মে ভুগতে থাকা কোনো সাধারণ ক্রিকেটার নন। শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্টে তার বোলিং স্পেল দেখে বুঝা যাচ্ছিলো তার অফফর্ম সাময়িক কিন্তু তার ক্লাস পার্মানেন্ট। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডের সাথে তার বোলিং জানান দিচ্ছে এইবার আসছি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বড় একটা দাগ ফেলতে। মুস্তাফিজ আমাদের দেশের সম্পদ। তাকে সঠিকভাবে পরিচর্যা না করতে পারলে সেও হারিয়ে যাবে অন্যদের মতো। বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ ক্রিকেটে শাসন করতে হবে  আর তার জন্য প্রয়োজন মুস্তাফিজের মতো বৈচিত্র‍্যপূর্ন বোলার।

মুস্তাফিজ এর বোলিং দেখার জন্য বাংলাদেশের মানুষ অন্য যে কোনো প্রান্ত থেকে হলেও ঠিকই সময় বের করে নিয়ে বসবে তার খেলা দেখতে  । তাকে টিভির পর্দায় দেখে ঘরের ছোট্ট ছেলেটিও বলে উঠবে আমাদের মুস্তাফিজ, আমাদের কাটারমাস্টার।

বাংলাদেশের ময়না তদন্ত !!!!

Now Reading
বাংলাদেশের ময়না তদন্ত !!!!

শুরুটা যেমন হবার কথা ছিল ঠিক তেমনি হয়েছে ।

দারুন শুরু ছিল ওপেনাদের । তামিম ও সৌম্য সরকার যেভাবে শুরু করেছে তা দেখে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ অন্তত ২৮০ এর কাছে গিয়ে বিশাল বড় টার্গেট দিবে নিউজিল্যান্ড কে । কিন্তু মিডেল অর্ডারদের খামখেয়ালির জন্য বাংলাদেশ বড় পুজি পায়নি । বিশেষ করে সাকিব আল হাসান থেকে এই ম্যাচ বড় একটি ইনিসং দেখতে চেয়েছিল র্দশকরা । কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছেন তার স্বভাব মত খেলা খেলতে । বাংলাদেশের হার এর পিছনে রয়েছে বোলিং ব্যর্থতা তার সাথে কিছুটা ব্যাটিং ।

আজ দলীয় রান হয়েছে  ২৫৭/৯ । আর নিউজিল্যান্ড ২৫৮ রান করতে হারিয়েছে ৬ উইকেট। ১৫ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় কিউয়ইরা ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউ জিল্যান্ড ৪৭.৩ ওভারে ২৫৮/৬ (বাংলাদেশ ২৫৭/৯)

প্রথমে টসে হেরে ব্যাট করতে আসে বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার । খুব ভাল একটা শুরু করেন তারা দুই জন।এক দিকে তামিম ইকবাল যেমন ধরে খেলছিলেন অন্য দিকে সৌম্য সরকার ছিলেন মারকুটে । আজ আর আগের দিনের মত উইকেটে সবুজ গালিচা ছিলা না । ঘাস ছিল কিন্তু তা তুলনা মূলক ভাবে কম আগের দিনের আয়ারল্যান্ড ম্যাচ থেকে । ঘাস ছিল কিন্তু মরা ঘাস , যার কারনে বল ব্যাটে আসতে সময় নিচ্ছিল । যদি ব্যাটসম্যান রা ধরে খেলতে পারতো তাহলে ২৮০ করা তেমন একটা ব্যাপার ছিল না বাংলাদেশের  জন্য । ছোট ছোট অনেক ইনিংস থাকলেও ছিল না বড় করার প্রবনতা ।

টস জিতলে ব্যাটিং নিত মাশরাফি কিন্তু টস হেরে যে খুব একটা ক্ষতি হয়েছে তা কিন্তু না।শুরু টা ভাল ছিল । কিন্তু সমস্যা ছিল খেলার রানের চাকা সচল রাখা । ৭ ওভার শেষ এ তামিম ও সৌম্য সমান ২১ বল খেলে রান ছিল ৬ ও ২৬ । এক প্রান্ত যেমন ধরে খেলছিল অন্য প্রান্ত ছিল মার মুখি ।

প্রথম ১০ ওভার রান কম থাকলেও রান রেট ছিল ৪.৪৪ এর কাছা কাছি । অনবধ্য ১৫ ওভার খেলেছিল ওপেনার জুটি ।

তামিম ইকবাল – শুরুতে ধীর গতি নিয়ে খেললেও যখন ক্রিজে স্থায়ী হয়ে গিয়েছেন তখন খেলেছেন খুব সুন্দর একটি ইনিংস । প্রথম ওভারে ব্যাটের কানায় লেগে চার পাওয়া তামিম দ্বিতীয় চার পান দশম ওভারে। কিন্তু যখনি ব্যক্তিগত রানের চাকা সচল করতে গেলেন ঠিক তখনি থাকে দেখতে হল প্যভিলিয়নের পথ । ১৫ তম ওভারের প্রথম বল জিমি নিশামের অনেক বাইরের বল উড়িয়ে কাভারে ধরা পড়লেন তামিম। ভাঙল ৭২ রানের উদ্বোধনী জুটি। ব্যক্তিগত  ২৩ রান ৪৬ বলে করে মুনরো হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি । তার স্টাইক রেট ছিল ৫৪.৮ ।

সাব্বির রহমান –  আগের দিনের মত ব্যর্থ ছিল সাব্বির । আগের দিন যেমন নিজের বা দলীয় রান এ তেমন কিছু যোগ করতে পারেনি , ঠিক আজও শূন্য হাতে ফিরে গেলেন তিনি । ১৬.৩ বলের সময়  মিচেল স্যান্টনারের সামনে খেলার বল পেছনে খেলে লাইন মিস করে বোল্ড সাব্বির রহমান । ৪ বলে করেছেন ১ রান। স্টাইক রেট ছিল ২৫ ।

সৌম্য সরকার – ভালই খেলছিল সৌম্য । কিন্তু তিনি  ৫০ রান কে টেনে ১০০ রান করতে পারছিলেন না অনেক গুলো ম্যাচ থেকেই।দারুন এক ৫০ রান তুলেনেন সৌম্য । কিন্তু নিজের ব্যক্তিগত ৬১ রানে ফিরে যান ইশ সোধিকে সুইপ করতে গিয়ে । বলে গিয়ে ধরেন ল্যাথহাম । ৬১ রান করতে তিনি খরচ করেন ৬৭ বল । তার স্টাইক রেট ৯১ ।

সাকিব আল হাসান – আগের ম্যাচ এর মত ব্যর্থ সাকিব । চিরচেনা রুপে কেন যেন তিনি নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন না । IPL যেমন তিনি প্রথম ম্যাচ এ ব্যর্থ ছিলেন ঠিক গত ও আজকের ম্যাচ ও তিনি ব্যর্থ ছিলেন । আজ তিনি সোধির বলে ক্যাচ দেন নিশাম কে । ১৪ বলে করেন মাত্র  ৬ রান ।তার স্টাইক রেট ৪২.৯

মুশফিক – আজ খুব ভাল খেলেছেন । দলের প্রয়োজনে দলের হাল ধরেছেন । মাহমুদউল্লাহ কে নিয়ে করেন এক অসাধারন জুটি । নিজের ব্যক্তি গত ৬৬ বলে ৫৫ রান করে ফিরে যান এই ব্যাটসম্যান । নিশাম এর বল তাকে বোকা বানিয়ে ক্যাচ লুফে নেন উইকেটকিপার রনচি । দল তখন বিপদ মুক্ত ।তার স্টাইক রেট ছিল ৮৩.৩

মাহমুদউল্লাহ –  তিনি দলের শেষের দিকটা টেনে নিয়ে গিরে দল কে কিছু রান উপহার দেন । শেষের দিকে মেরে খেলতে গিয়ে আউট হয়ে যান এই খেলোয়াড় । দলীয় রান যখন ২৪২ তখন তিনি আউট হন , তার রান ৫১ । স্টাইক রেট ছিল ৯১.১

শেষের দিকে মোসাদ্দেক ছাড়া আর কেউ তেমন দলের জন্য রান করতে পারেন নি । ব্যক্তিগত ৪১ রানের ফিরে যান মোসাদ্দেক । আর বাকিরা ছিল আসা যাওয়ার মিছিলে । ৫০ ওভারে বাংলাদেশ করে ২৫৭/৯

নিউজিল্যান্ড

জয়ের আশা নিয়ে মাঠে নেমে ছিল কিউইয়ি রা । শুরুতে তাদের ব্যাটিং ধরন দেখে তা মনে হচ্ছিল । মাশরাফি প্রথম তিন বলেই হজম করলেন চার ও ছক্কা।মাশরাফির কামব্যাকটা ওতটা ভাল হয়নি । লুক রনকিকে ফিরিয়ে বিপজ্জনক উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছেন মুস্তাফিজ। কিন্তু নিয়মিত উইকেট নিয়ে কিউইদের চাপে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ।আজ মুস্তাফিজ কে দেখা গিয়েছে তার আগের রুপে।তবে এখনো তিনি সম্পুন রুপে ফিরতে পারেন নি । কিউইয়ি ব্যাটসম্যান রা ব্যক্তিগত রান না করতে পারলেও কিছু কিছু পাটনারশিপ ছিল দলের জন্য অনেক কার্জ কারি । ওপেনিংয়ে অর্ধশতক করেছেন অধিায়ক ল্যাথাম। মিডল অর্ডার রান পেয়েছেন নিল ব্রুম।পঞ্চম উইকেটে ব্রুম ও জিমি নিশামের ৮০ রানের জুটিতেই জয় অনেকটা নিশ্চিত করে ফেলে নিউ জিল্যান্ড ।

এই ম্যাচে প্রাপ্তি বলতে বাংলাদেশের ছিল কিছু ব্যাটসম্যান এর রানে ফিরা এবং বিশেষ করে মুস্তাফিজের আগের রুপে কিছুটা ফিরে আসা । আর রুবেলের বোলিং ও শরীরয় ভাষা ছিল অসাধারন ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ৫০ ওভারে করে ২৫৭/৯ (তামিম ২৩, সৌম্য ৬১, সাব্বির ১, মুশফিক ৫৫, সাকিব ৬, মাহমুদউল্লাহ ৫১, মোসাদ্দেক ৪১, মিরাজ ৬, মাশরাফি ১, রুবেল ০*, মুস্তাফজ ০*; রান্স ০/৬৬, বেনেট ৩/৩১, স্যান্টনার ১/৩৭, নিশাম ২/৬৮, সোধি ২/৪০, মানরো ০/১৪)।

নিউ জিল্যান্ড: ৪৭.৩ ওভারে ২৫৮/৬ (ল্যাথাম ৫৪, রনকি ২৭, ওয়ার্কার ১৭, টেইলর ২৫, ব্রুম ৪৮, নিশাম ৫২, মানরো ১৬*, স্যান্টনার ৫*; মাশরাফি ১/৫৮, সাকিব ০/৫০, মুস্তাফিজ ২/৩৩, মিরাজ ০/৪৫, মাহমুদউল্লাহ ০/৮, মোসাদ্দেক ০/৭, রুবেল ২/৫৩)।

ফল: নিউ জিল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: জিমি নিশাম