মেসিই পারে এই জাদু, ফ্রি কিকেও ‘পানেকা’!

Now Reading
মেসিই পারে এই জাদু, ফ্রি কিকেও ‘পানেকা’!

লা লিগায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। এই দিনেও মেসির পারফমেন্স ছিল অন্য মাপের। পেনাল্টিতে ‘পানেনকা’ শট নতুন কিছু নয়। স্পটকিকে অনেকেই এই শটে ‘পা যশ’ দেখিয়েছেন। কিন্তু ফ্রি কিকে এমন কিছু এর আগে কেউ দেখেছেন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে। জবাবটা পরোক্ষভাবে দিয়ে দিয়েছেন সার্জিও বুসকেটস, ‘(মাঠের) বাইরে থেকে তাঁর খেলায় বিস্ময় জাগতে পারে। কিন্তু এসবে আমরা আর অবাক হই না। অনুশীলনে সে যা করে ম্যাচে তা করা আরও কঠিন। কিন্তু আমাদের সয়ে গেছে।’
তা যেতেই পারে। কিন্তু দর্শকেরা কাল লিওনেল মেসিকে আবিষ্কার করেছেন নতুন করে। এস্পানিওলের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। ৭১ মিনিটে মেসির প্রথম গোল ছাপিয়ে গেছে এই জয়। ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার বিষয়বস্তু, পেনাল্টিতে পানেনকা শট দেখা গেছে। দূরত্বটা মাত্র ১২ গজ হলেও ওখান থেকে পানেনকা শটে গোল করা ভীষণ স্নায়ুচাপের ব্যাপার। একটু গড়বড় হলেই লক্ষ্যভ্রষ্ট। আর সেখানে মেসি কি না, ফ্রি কিক নিলেন পানেনকা শটে! অনেক ফুটবলারের কাছে এই ভাবনাটুকুই তো দুঃসাহসের শামিল।
কেননা, গোলশূন্য ব্যবধানে থাকা ম্যাচের ওই পরিস্থিতিতে অমন শট অনেকের কাছেই স্রেফ ‘ইচ্ছাপূরণ’ ছাড়া আর কিছুই মনে হবে না। আর ১২ গজ দূরত্বের পানেনকা শট-ই বেশির ভাগ সময় গড়বড় হয়ে যায়, সেখানে ২০ গজ দূরত্বের ফ্রি কিকে এই শট নিলে লক্ষ্যভেদের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। কিন্তু প্রতিভাদের কাজ হলো শূন্য সম্ভাবনাকে সাফল্যের পূর্ণতা দেওয়া। মানব দেয়াল সামনে রেখে মেসি ২০ গজ দূরত্বের ফ্রি কিকে পানেনকা শট নিয়ে ঠিক এ কাজটিই করেছেন—গোল!
ফ্রি কিক নেওয়ার আগে কিছুই টের পাওয়া যায়নি। আর দশটা ফ্রি কিকের মতো সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। শুধু এস্পানিওল গোলরক্ষক গোলপোস্টের ডান দিকে একটু সরে দাঁড়িয়েছিলেন। ডিফেন্ডার ভিক্টর সানচেজ বাঁ প্রান্তে, আর দুজনের সামনে মাঝে মানব দেয়াল। মেসি করলেন কি আলতো শটে—দেখে মনে হবে পা-কে চামচ বানিয়ে বল তুলছেন—বলকে এস্পানিওল মানব দেয়ালের ওপর দিয়ে খানিকটা বাঁক খাইয়ে মাঝ বরাবর পাঠালেন। সানচেজ একটু সরে এসে হেডে বলের গতিপথ পাল্টানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর কিছুই করার ছিল না, হেডটা শুধু গোল ঠেকানোর ব্যর্থ প্রয়াস। বল তাঁর মাথা ছুঁইয়ে আশ্রয় নেয় জালে।
মেসির অনেক গোলই অনেকের কাছে স্মরণীয়। উপস্থিত বুদ্ধি ও দক্ষতার মিশ্রণে কালকের করা গোলটা এই তালিকায় হয়ে থাকবে সবশেষ সংযোজন। আবার এই গোলটি দিয়ে বার্সা তারকা এক দশকে প্রতি মৌসুমে ন্যূনতম ৪০ গোলের মাইলফলক ছুঁলেন। তবে ফ্রি কিকে মেসি যে পানেনকা শট নেবেন, তা স্বয়ং বার্সা কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দেরও ধারণায় ছিল না। ম্যাচ শেষে ভালভার্দে বলেন, ‘সে কী করতে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এটি আমাদের পরিকল্পনার অংশ ছিল, তা বলতে পারলে ভালোই লাগত। কিন্তু ব্যাপারটি সেরকম নয়। সে আমার কোনো কিছু না শুনেই গোলটা করেছে। আশা করি গোলটা মেসি পাবে।’
ভালভার্দের ইচ্ছাপূরণ হয়েছে। গোলটা ‘আত্মঘাতী’ না লিখে মেসির নামের পাশেই লিখেছেন ম্যাচের রেফারি। তবে ফ্রি কিক থেকে মেসির পানেনকা শটে গোল করা কিন্তু এই প্রথম নয়। ২০১০ সালে আলমেইরার বিপক্ষে ফ্রি কিক থেকে অনেকটা একইভাবে গোল করেছিলেন মেসি। সেবার অবশ্য বল সরাসরি জড়িয়েছিল জালে। তখন আর্জেন্টাইনের বয়স ছিল ২২ বছর। আর এখন চলছে ৩২ বছর। মাঝের এই এক দশকে কত কিছু পাল্টেছে। কিন্তু বল পায়ে মেসির ধার, বুদ্ধিমত্তা আর দক্ষতা থেকে গেছে আগের মতোই।

সোয়া ৪ কোটি টাকা আর্জেন্টিনার ক্ষতি হয়েছে মেসি না খেলায়

Now Reading
সোয়া ৪ কোটি টাকা আর্জেন্টিনার ক্ষতি হয়েছে মেসি না খেলায়

লিওনেল মেসি মরক্কোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলেননি। আর্জেন্টিনা তাঁকে ছাড়া জিতলেও ১-০ ব্যবধানকে দাপুটে বলা যায় না। অর্থাৎ মাঠে মেসির অভাবটা টের পেয়েছে আর্জেন্টিনা। শুধু কি মাঠে? মেসির অনুপস্থিতিতে আর্জেন্টিনা কিন্তু আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিষয়টি এমন নয় যে মরক্কোর বিপক্ষে খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েও মেসি খেলেননি। নয় মাস পর তিনি জাতীয় দলে ফিরেছেন ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে। আর্জেন্টিনার হেরে যাওয়া সেই ম্যাচের আগেই গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, মরক্কোর বিপক্ষে মেসি সম্ভবত খেলতে পারবেন না। ভেনেজুয়েলা ম্যাচে মেসির চোট সেই গুঞ্জনকে সত্য প্রমাণ করে দেয়। আর এতে আর্জেন্টিনার কাছে ম্যাচ হারলেও বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ বেঁচে গেছে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের।
মেসির বিশ্বব্যাপী যে ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা, তাতে যেখানেই খেলতে যান না কেন, বেশ দুপয়সা লাভ হয় আয়োজকদের। আর্জেন্টিনা তাদের সবশেষ প্রীতি ম্যাচটি খেলেছে মরক্কোর তাঞ্জিয়ারে। দেশটির সংবাদমাধ্যম আল আহদাজ জানিয়েছে, মরক্কোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মেসি খেললে তাদের দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছ থেকে ১০ লাখ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা) পেত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। কিন্তু মেসি না খেলায় সাড়ে ৫ লাখ ইউরো ( প্রায় ৫ কোটি ২১ লাখ টাকা) পেয়েছে এএফএ। অর্থাৎ, বার্সেলোনা তারকা না থাকায় সাড়ে ৪ লাখ ইউরো (প্রায় ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা) আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তাদের।
তবে এখানেও কথা থাকে। ধরে নেওয়া যাক, মরক্কোর বিপক্ষে মেসি মাঠে নামলেন। প্রথমার্ধ খেলে উঠে গেলেন। তাহলে কিন্তু শুধু মেসির জন্য চুক্তিমতো সাড়ে ৪ লাখ ইউরো পেত না এএফএ। এই প্রীতি ম্যাচের চুক্তিপত্রে শর্ত ছিল, পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলারকে মাঠে নেমে অন্তত ৭০ মিনিট খেলতে হবে।
মেসি না খেলায় বড় অঙ্কের টাকা বেঁচে গেলেও রয়্যাল মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশন (এফআরএমএফ) মোটেও খুশি নয়। মেসি এই ম্যাচ খেলবেন না জানার পরই এফআরএমএফ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। মেসি খেললে স্বাগতিক মরক্কোও এই ম্যাচ থেকে কয়েক গুণ বেশি লাভ করতে পারত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ফলে মেসি না খেলায় ক্ষতিটা শুধু আর্জেন্টিনার নয়, মরক্কোরও।

বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়াবিজ্ঞানীদের একজন, প্রমাণ করল মেসিই সেরা

Now Reading
বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়াবিজ্ঞানীদের একজন, প্রমাণ করল মেসিই সেরা

অনেকের মতে বিশ্বের সেরা ফুটবলার মেসি। আবার অনেকে তা মনে করেন না। বর্তমান বিশ্বে সেরা ফুটবলার কে এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। কিন্তু লিওনেল মেসিই সেরা এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়াবিজ্ঞানীদের একজন সাইমন ব্রান্ডিশ। বিশ্বখ্যাত এই ক্রীড়াবিজ্ঞানীর মতে পৃথিবীর সেরা একজনই। আর ‘মেসি যত দিন বেঁচে আছেন তাঁর মতো আর কেউ হবে না’।
তবু যদি আপনার মনে হয় মেসি নয়, সেরা অন্য কেউ, আপনার উদ্দেশে ব্রান্ডিশের জবাব, ‘আপনি তখনই মেসি বাদে অন্য কাউকে সেরা বলতে পারবেন, যদি মেসি পা ভেঙে এক বছর ধরে পড়ে থাকেন, কিংবা ধরুন মেসি মরেই গেছেন; অথবা আপনি মিথ্যা বলছেন।’
বিজ্ঞানীদের তত্ত্ব আবেগ দিয়ে চলে না। তা প্রমাণ করতে হয়। ব্রান্ডিশ মেসিকে সেরা প্রমাণ করতে দুটি পরিসংখ্যান হাজির করলেন। সিএনএনকে ব্রান্ডিশ বলেছেন, এই মুহূর্তে মেসি প্রতি ৪৮ মিনিটে একটি গোল করছেন বা কাউকে দিয়ে করাচ্ছেন। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে মেসি দুটি করে গোল বা অ্যাসিস্ট করেন। যে পরিসংখ্যানে মেসির ধারেকাছে কেউ নেই।
আবার গোল করা বা করানোতেও শুধু নয়, মেসির আসল জাদু লুকিয়ে আছে খেলাটা বানিয়ে তোলায়। যদিও গোল করা বা করানোই সাধারণত চোখে পড়ে। কিন্তু বার্সেলোনার মতো দল খেলাটা গুছিয়ে আক্রমণে যায়। ফলে প্রতিটা গোলের পেছনে অনেকের অবদান থাকে। এই অবদান বের করার উপায় হলো এক্সজি-বিল্ড নামের একটি পরিসংখ্যান-তত্ত্ব।
এই পরিসংখ্যানে যিনি গোল করেছেন আর যিনি গোল করতে সহায়তা করেছেন তাঁদের বাদ দিয়ে বাকি সবার অবদান মাপা হয়। ধরা যাক একজন গোলরক্ষক প্রথমে একজন ডিফেন্ডারকে বল ঠেলেছিলেন। সেই ডিফেন্ডার বল দিয়েছিলেন এক মিডফিল্ডারকে। মিডফিল্ডার থেকে উইঙ্গার, সেখান থেকে গোলমুখে থাকা কোনো খেলোয়াড়কে বল ঠেলা হলো। তারপর এল গোল। এক্সজি-বিল্ড তত্ত্বে অ্যাসিস্টকারী উইঙ্গার আর গোলদাতা বাদে বাকি সবার অবদান পরিমাপ করা হয়। এখানে গোলরক্ষক, ডিফেন্ডার, মিডফিল্ডার পয়েন্ট পাবেন, শেষের দুজন নয়।
মেসি যে অবিশ্বাস্য হারে গোল করেন এবং গোলে সহায়তা করেন; তাতে সাধারণ হিসাব বলে, এক্সজি-বিল্ডে মেসির তেমন পয়েন্ট আসার কথা নয়। এলেও যেকোনো বিল্ডআপে শুরুর দিকে যাঁরা থাকবেন, তাঁদের পয়েন্ট মেসির চেয়ে বেশি হবে। কিন্তু ব্রান্ডিশ হিসাব করে দেখিয়েছেন, এখানেও মেসির স্কোর অনেক বেশি!
২০১৭-১৮ মৌসুমের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মেসির এক্সজি-বিল্ড স্কোর চেলসির এডেন হ্যাজার্ড, আর্সেনালের মেসুত ওজিল কিংবা টটেনহামের ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের চেয়েও বেশি। এই পরিসংখ্যানে মেসি পেছনে ফেলেছেন রোনালদো, মোহাম্মদ সালাহ ও নেইমারকেও।
মেসির গোলসংখ্যা, মেসির অ্যাসিস্ট, এর সঙ্গে মেসির এক্সজি-বিল্ড স্কোর…সবই বিবেচনায় নিয়ে ব্রান্ডিশ আপনাকে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন, ‘কে সেরা সেই প্রশ্নে যুক্তিতর্কের কোনো সুযোগ কি আছে?’

জাতীয় দল আবারও মেসিকে হার উপহার দিল

Now Reading
জাতীয় দল আবারও মেসিকে হার উপহার দিল

বিশ্বকাপের পর এই প্রথম জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন মেসি, কিন্তু আবারো পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হল মেসিকে। দীর্ঘ নয় মাস পর দলে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। কিন্তু এ ফেরাটা তার জন্য সুখকর হলো না। ছুটি কাটিয়ে ফেরার পর জাতীয় দল আবারও তাঁকে হার উপহার দিল। এবার ৩-১ গোলের হার, সেটাও ভেনেজুয়েলার কাছে। দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ খেলা হয়নি যাদের।
ফেরার আগেই মেসি একটা দুঃসংবাদ পেয়েছিলেন। এই ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনার ফেরার কথা ছিল অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ারও, কিন্তু অনুশীলনে পেশিতে চোট পেয়েছেন পিএসজি উইঙ্গার। এ কারণে দলের ছকই বদলেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ৪-২-৩-১-এর বদলে ৩-৪-২-১। সবার সামনে ইন্টার মিলানের লাওতারো মার্তিনেজ, তাঁর পেছনে মেসির পাশে পিতি মার্তিনেজ। এ পরীক্ষায় মেসিরা সদলবলে ফেল করেছেন।

এতে মেসির কোনো দায় ছিল না। নিজের সর্বোচ্চটাই দিয়েছেন। মার্তিনেজের সঙ্গে তাঁর জুটি ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী করে তুলতে পারে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের। বারবার ভেনেজুয়েলার রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে মার্তিনেজের কাছে বল পাঠিয়েছেন। মার্তিনেজও খারাপ করেননি। আর্জেন্টিনার একমাত্র গোলটি তাঁরই। সেটাও ওই মেসির ডিফেন্সচেরা এক পাস থেকেই। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ফ্যারিনেজ বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ দিয়ে দলকে বাঁচিয়েছেন। মেসিকেও বার দুয়েক গোলবঞ্চিত করেছেন এই তরুণ।এটুকু পড়লে মনে হতে পারে ম্যাচে ভেনেজুয়েলার জয় তাহলে অপ্রত্যাশিত। ভুল! এর আগে ১৬ বারের দেখায় আর্জেন্টিনাকে মাত্র একবার হারালেও আজ শুরু থেকে দুর্দান্ত খেলেছে দলটি। চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত তারা। সেটা নিয়ে হাপিত্যেশ করার আগেই ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে গেছে তারা। নিজেদের অর্ধ থেকে রোসালেসের নিখুঁত থ্রু বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঠান্ডা মাথায় প্লেসিং করেছেন রনডন। এগিয়ে গিয়েও খেলায় প্রাধান্য ছিল ভেনেজুয়েলার। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের দুয়োও শোনা যাচ্ছিল। খেলার ধাঁচে মনে হচ্ছিল, মেসির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে না এই তরুণ দল।
২০ মিনিটের পর থেকে ম্যাচে ফেরে আর্জেন্টিনা। মেসি ও মার্তিনেজের সমন্বয়ে ভয় জাগানো বেশ কিছু আক্রমণও হয়েছে। পাল্টা আক্রমণে ভেনেজুয়েলাও আর্জেন্টিনার তিনজনের রক্ষণ নিয়ে নামার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছিল। ৪৪ মিনিটের দ্বিতীয় গোলে অবশ্য রক্ষণের সংখ্যার কোনো অবদান নেই। ডি-বক্সের সামনে ফ্রি কিক পেয়ে দ্রুত বল নিয়ে বেরিয়ে যান প্রথম গোলের কারিগর রোসালেস। ঝিম মেরে পড়ে থাকা আর্জেন্টিনা রক্ষণকে অবাক করে দিয়ে বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে গোলার মতো এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মুরিলো। ঝাঁপিয়ে পড়া আরমানির পক্ষে সম্ভব ছিল না সেটা ঠেকানো।
বিরতির পর এক গোল শোধ করে আর্জেন্টিনা। ৫৯তম মিনিটে নিজেদের অর্ধে বল পেয়ে মেসি খুঁজে নেন লা সোলসোকে। তার রক্ষণচেরা পাস খুঁজে নেয় মার্টিনেজকে। আর সেখান থেকেই ব্যবধান কমান মার্টিনেজ।

৭৫তম মিনিটে ভেনেজুয়েলার জয় নিশ্চিত করেন জোসেফ মার্টিনেজ। ডি-বক্সে ফরোয়ার্ড ডাউইনকে ডিফেন্ডার হুয়ান ফেইথ ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ভেনেজুয়েলা। সেখান থেকে সফল স্পট কিকে ব্যবধান ৩-১ করেন মার্টিনেজ।

বলের দখল প্রতিপক্ষের চেয়ে দ্বিগুণ রেখেও তাই লাভ হয়নি আর্জেন্টিনার। হার দিয়েই জাতীয় দলে ফিরতে হলো মেসিকে।

মেসির ক্লোন মাঠে নামবে, মেসি অবসরের পর

Now Reading
মেসির ক্লোন মাঠে নামবে, মেসি অবসরের পর

মেসি বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার। মেসির খেলা অপছন্দ করে এমন একজন ফুটবল প্রেমী খুজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু মেসির বয়স হয়ে যাচ্ছে, এক সময় তিনি অবসর নিবেন। তখন নামানো হবে মাঠে হুবুহু আরেকজন মেসিকে। না, মেসির এমন কোনো ‘যমজ’ ভাই আবিষ্কৃত হয়নি। বার্সেলোনা তারকার মতোই দেখতে, এমন একজনের নাম শোনা গিয়েছিল ইরানে। ফুটবলপ্রেমী রিজা পেরেস্তেস। কিন্তু ফুটবল সামর্থ্যে রিজা তো মেসির ধারেকাছেও নেই। তাই যমজ দূরের কথা, খেলা নিয়েও দুজনের মধ্যে সাযুজ্য খোঁজা অবান্তর। ইউরোপিয়ান জিনোম আর্কাইভের জিন-বিশেষজ্ঞ আর্কাদি নাভারো ঠিক এমন বৈপ্লবিক কিছুই ভেবেছেন। ধরুন, মেসি অবসর নেওয়ার বেশ কিছুদিন পর মাঠে নামলেন মেসির ‘ক্লোন’! যিনি দেখতে হুবহু পাঁচবারের বর্ষসেরা আর্জেন্টাইনের মতো, আবার খেলার ধারও একই রকম।
অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে মেসির ‘ক্লোন’ বানানো সম্ভব, এমনটাই মনে করছেন নাভারো। এ নিয়ে দারুণ পরিকল্পনাও করেছেন এই স্প্যানিশ বিজ্ঞানী। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমরা মেসির খুব কাছাকাছি কাউকে পেতে পারি। বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর (মেসি) “ক্লোন” করা সম্ভব, যাকে দেখে যমজ বলেই মনে হবে। ব্যাপারটা এমন হবে যে, দুজন যমজ জন্ম নিয়েছে এর মধ্যে একজনকে রাখা হবে “টাইম চেম্বার”-এ। ২০-৩০ বছর পর আমরা তাঁকে (টাইম চেম্বার থেকে) ফিরিয়ে আনব সঠিক সময়ে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সে সবকিছুতেই একই রকম হবে।’
মেসির ‘ক্লোন’ যে তাঁর মতোই ফুটবলের মহাতারকা হবে, নাভারো সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছেন না। তাঁর ভাষায়, ‘বংশগতিবিদ্যা আমাদের একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। মেসির সব গুণ-ই সে হয়তো পাবে, কিন্তু মেসির ফুটবল প্রতিভায় দুটি বিষয় মূল। একটি হলো, সে খুব চালাক এবং তা বংশানুগতিক। আরেকটি তাঁর শিক্ষা-দীক্ষা ও পরিবেশ। মেসি মেসি-ই এবং তা শুধু বংশানুগতির ওপর নির্ভর করে না। লা মাসিয়ায় বেড়ে ওঠা, হরমোন চিকিৎসা এবং পরিবেশের ওপর নির্ভর করেই সে বেড়ে উঠেছে। বংশগতিবিদ্যা শুধু একটা সম্ভাবনা দেখাতে পারে। মেসির ক্ষেত্রে তা পরিপূর্ণভাবে সম্পাদিত হবে কি না, সেটি তখনকার পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে।’
ক্লোন করা মানুষ হুবহু একই রকম দক্ষতার হয় কি না, এ নিয়ে সদুত্তর মেলে না। তবে তার আগে এই প্রশ্নের উত্তর মেলাতে হবে, মেসির ক্লোন করার অনুমতি কি মিলবে?

গতকাল উন্মোচিত হলো কোপা আমেরিকাতে মেসিরা কোন জার্সি পরে খেলবেন

Now Reading
গতকাল উন্মোচিত হলো কোপা আমেরিকাতে মেসিরা কোন জার্সি পরে খেলবেন

গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হলো কোপা আমেরিকাতে মেসিরা কোন জার্সি পরে খেলবেন। এবারের কোপা আমেরিকার পর আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের অনেক পরিচিত খেলোয়াড়ই হয়তো অবসরে যাবেন। মাচেরানোর মতো সতীর্থরা কিছুদিন আগে জাতীয় দল থেকে বিদায় নিয়েছেন। কার্লোস তেভেজ, সার্জিও আগুয়েরো, গঞ্জালো হিগুয়েইনরাও শুনছেন শেষের ডাক, আগের মতো কেউই এখন আর আর্জেন্টিনা দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ নন। তাই এবারের কোপা আমেরিকা হতে পারে জাতীয় দলের হয়ে মেসিদের শেষ টুর্নামেন্ট। সম্ভাব্য শেষ টুর্নামেন্টে কোন জার্সি পরে খেলবেন, গতকাল সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হলো।
আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জার্সির পৃষ্ঠপোষক অ্যাডিডাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছে। আর্জেন্টিনা ছাড়াও কলম্বিয়ার জার্সির পৃষ্ঠপোষকতা করছে অ্যাডিডাস। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের জার্সিও উন্মোচিত হয়েছে গতকাল।

আর্জেন্টিনা ছাড়াও কাল উন্মোচিত হয়েছে কলম্বিয়ার জার্সি।

বার্সেলোনার দ্বারাই এটা সম্ভব

Now Reading
বার্সেলোনার দ্বারাই এটা সম্ভব

বার্সেলোনা হচ্ছে এমন একটা দল যাদের কাছে ফুটবল প্রেমীদের প্রত্যাশা সবসময় অনেক বেশি থাকে। বার্সেলোনাও সেই প্রত্যাশা পূরণ করে চলেছে। এমনই একটি ম্যাচ হয়ে গেলো গতকাল।

শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লা লিগায় দুর্দান্ত গতিতে ছুটে চলা বার্সা। সোমবার মেসি-সুয়ারেজের দেওয়া গোলে দেপোর্তিভো আলাভেসকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ভালভারদের দল।
প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ যেখানে জয়ের মুখ দেখছে না সেখানে সুনিপুণ ভাবে জয় তুলে নিচ্ছে বার্সা।
ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যু-তে রায়ো রায়ো ভায়েকানোকে ৩-১ গোলে হারিয়ে লা লিগায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন মেসিরা। অথচ প্রথমে গোল খেয়ে কাতালানরা ব্যাকফুটে চলে যায়। এই গোলই প্রথম ও শেষ গোল রায়োর। পরের গল্প শুধু মেসি-সুয়ারেজদের। তবে গল্পের প্রথম সূচনা করেন জেরার্ড পিকে।
৩৮ মিনিটে ডান পাশ থেকে করা মেসির ফ্রি-কিকে দুর্দান্ত গতিতে হেড দিয়ে রায়োর জালে বল জড়ান পিকে। সমতা এনে তবে স্বস্তিতে বিরতিতে যায় বার্সা। বিরতি থেকে ফেরার সাত মিনিট পর বার্সা আবারও গোলের দেখা পায়। এবার গোলের নায়ক স্বয়ং মেসি। পেনাল্টি থেকে গোল দিয়ে মেসি এগিয়ে দেন বার্সাকে।
আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে বার্সার খেলোয়াড়রা একের পর এক গোল মিস না করলে আরও বড় ব্যবধানে জয় পেত নিঃসন্দেহে। ম্যাচে শেষ বাঁশি বাজার আগে গোল দিয়ে রায়োর কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন লুইস সুয়ারেজ।
ইভান রাকিতিচের সহায়তায় ৮২ মিনিটে ডি-বক্সে মেসির পাসে বল যায় রাকিতিচের পায়ে, রাকিতিচ দেরি না করে বল দিয়ে দেন সুয়ারেজের কাছে, দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে সুয়ারেজ জালে বল জড়াতে ভুল করেননি।

কীভাবে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত জয় পেতে হয় বার্সেলোনার চেয়ে বেশী আর কোন ক্লাব মনে হয় জানে না। লা লিগায় রায়ো ভায়েকানোকে হারিয়ে জয়ের ধারা বজায় রাখল কাতালান ক্লাবটি।

কে জিতবেন গোল্ডেন বুট এমবাপ্পে নাকি মেসি…

Now Reading
কে জিতবেন গোল্ডেন বুট এমবাপ্পে নাকি মেসি…

ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুটের লড়াই জমে উঠেছে। এ লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন সুপারস্টার মেসি। তবে এতে স্বস্তিতে নেই মেসিভক্তরা। মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে।

মনে হচ্ছিল ষষ্ঠবারের মতো মর্যাদার এই পুরস্কারটি বার্সা অধিনায়কের হাতেই উঠতে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। লড়াইটা আর একপেশে নেই।পেছন থেকে ধেয়ে আসছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাঠে নামলেই গোল পাচ্ছেন। রীতিমতো উড়ছেন এ ফরাসি তরুণ।
সর্বশেষ ম্যাচেও জোড়া গোল এসেছে তার পা থেকে। শেষ ৪ ম্যাচে ৬ গোল করেছেন তিনি। অন্যদিকে একই দিনে এল ক্লাসিকোতে মেসি ছিলেন গোলহীন।অথচ মৌসুমের শুরুতে লিগ গোলের তালিকায় মেসির চেয়ে অনেক অনেক পিছিয়ে ছিলেন এমবাপ্পে।
শেষ হিসাবটা নখদর্পণে রয়েছে এ দুই সেরা খেলোয়াড়ের ভক্তদের। লিগে ২৪ ম্যাচে ২৫ গোল করে সবার ওপরে অবস্থান মেসির। তার পয়েন্ট সংখ্যা ৫০।মেসির ঠিক পেছনেই এমবাপ্পে হাসছেন। মেসির চেয়ে তিন ম্যাচ কম খেলে এখন পর্যন্ত ২৪ গোল করেছেন এ পিএসজি তারকা।
তা এবারের গোল্ডেন বুটের লড়াইটা শুধুই কি মেসি-এমবাপের? আর কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই? আছে, তবে তারা অনেকটাই পেছনে। দৌড়ে তিন নম্বরে থাকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো যেমন করেছেন ১৯ গোল। মানে এমবাপের চেয়েও ৫ গোল পেছনে জুভেন্টাসের পর্তুগিজ সুপারস্টার।
১৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন এসি মিলানের পোলিশ তরুণ কজিসতফ পিয়াতেক ও ম্যানচেস্টার সিটির আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড সার্জিও আগুয়েরো। লিভারপুলের মিশরীয় ফরোয়ার্ড মোহামেদ সালাহ, এমবাপের ক্লাব সতীর্থ উরুগুইয়ান তারকা এডিনসন কাভানিরা গোল করেছেন সমান ১৭টি করে।
এখন শুধু অপেক্ষা কার হাতে উঠে গোল্ডেন বুট।

আর্জেন্টাইন সমর্থকরা নিষিদ্ধ রাশিয়া বিশ্বকাপে!

Now Reading
আর্জেন্টাইন সমর্থকরা নিষিদ্ধ রাশিয়া বিশ্বকাপে!

আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের পাগলা একটি সমর্থক গোষ্ঠীর নাম ‘বারাস ব্রাভাস’। ফুটবল মাঠে সমর্থক হিসেবে এই বারস ব্রাভাসদের সুখ্যাতির চেয়ে কুখ্যাতিটাই দ্বিগুণ। ১৯৫০ সালে আর্জেন্টিনায় সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠা হয় বারাস ব্রাভাস নামের এই সংগঠনটি। ইউরোপের অন্যান্য চরমপন্থী সমর্থক সংগঠনের আদলে গড়ে উঠেছে দলটি এবং ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়েছে লাতিন আমেরিকার অন্য দেশগুলোতেও। বারাস ব্রাভাস গ্রুপ আর্জেন্টিনার স্থানীয় ফুটবলে কুখ্যাত হিসেবে পরিচিত। গ্রুপটি আর্জেন্টিনার স্থানীয় ফুটবলের আসরে প্রায় প্রতিটিতেই তুলকালাম বাঁধিয়ে দেয়। মাঠে বোমা-পটকা ফাটানো, স্ল্যাং করা, বিকট সুরে চিল্লানো, বিকৃত অঙ্গভঙ্গি, মারামারি, বিশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে যত সহিংস কাজ করা সম্ভব তার যেন সবটুকুই উজার করে দেয় তারা। আর্জেন্টিনা দল মাঠে খেললে দর্শক সাড়িতে বারাস ব্রাভাসরা এসব কর্মকাণ্ডের প্রায় সবগুলোই ‘সফল’ বাস্তবায়ন ঘটায়। অর্থাৎ আর্জেন্টিনা মাঠে খেলবে আর বারাস ব্রাভাসরা হট্টগোল পাকাবে না, এ যেন কল্পনাই করা যায় না। যার ফলে এদের অনেককেই চিহ্নিত করে স্থানীয় ফুটবল স্টেডিয়ামগুলোতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই আর্জেন্টাইন ফুটবল কর্তৃপক্ষ (এএফএ) বদনাম থেকে বাঁচতে আগেভাগেই রাশিয়াকে এমন তিন হাজার উগ্র সমর্থকদের তালিকা সরবরাহ করে। কেননা প্রতি বিশ্বকাপেই এই বারাস ব্রাভাসদের কারণে কথা শুনতে হয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনকে (এএফএ)। আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থাটি এই বারাস ব্রাভাসদের অসামাজিক কর্মকাণ্ডে এতটাই বিরক্ত যে শুধু তালিকা দিয়েই তারা ক্ষান্ত হয়নি, তারা সরকারি ছয়জন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে রাশিয়ায় প্রেরণ করছেন যারা সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখবেন যেন আর্জেন্টিনার বারাস ব্রাভাসরা ফাঁকি দিয়ে মাঠে ঢুকে পড়তে না পারে। ফলে বারাস ব্রাভাসরা রাশিয়া গেলেও কোন ভেন্যুতে প্রবেশ করার সুযোগ থাকছেনা।

এদিকে রাশিয়াও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, দাঙ্গাবাজ কিংবা বিতর্কিত কোনো আর্জেন্টাইন সমর্থককে তারা অনুমোদন দেওয়া কিংবা স্বাগত জানাবে না। বিশেষ করে বারাস ব্রাভাস গ্রুপ এর সদস্যদের প্রতি তাদের বাড়তি মনযোগ থাকবে এবং বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলোতে তারা কোনভাবেই প্রবেশ করতে পারবেনা। আর্জেন্টাইন ফুটবল ম্যাচের নিরাপত্তা পরিচালক গুইলারমো মাডেরো স্বীকার করেছেন আর্জেন্টাইন সমর্থকদের নামের তালিকা রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি। ঐ কর্মকর্তা আরো জানিয়েছেন বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ান ফেডারেশনের সাথে তাদের একটি চুক্তি হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০১০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-জার্মানি মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের পূর্বেই বারাস ব্রাভাসের নিজেদের মারামারিতে কেপটাউনে নিহত হয়েছে এক আর্জেন্টাইন সমর্থক, তখন এই সংগঠনটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ফুটবল নিয়ে দাঙ্গায় আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে প্রতি বছর হতাহতের ঘটনা প্রায় স্বাভাবিক বিষয় বলা যায়।

রাশিয়ায় ঢুকতে নিষেধাজ্ঞা এসেছে বটে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের জন্য, তবে আশার কথা হচ্ছে সেটা কেবল আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের উগ্র সমর্থক গোষ্ঠী ‘বারাস ব্রাভাস’ এর জন্য। শান্ত আর্জেন্টিনার ফুটবল সমর্থকদের মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে কোন বাঁধা নেই।

মেসি সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

Now Reading
মেসি সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

মেসি কে জানে না এমন মানুষ হয়তো নেই। মেসি ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় যিনি টানা পাচটি ফিফা বালোঁ দ’অর পুরস্কার জিতেছেন। এছাড়া প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি তিনটি ইউরোপীয়ান গোল্ডেন শু পুরস্কারও জিতেছেন। বার্সেলোনার হয়ে মেসি সাতটি লা লিগা, দুইটি কোপা দেল রে, পাঁচটি স্পেনীয় সুপার কোপা, চারটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ, দুইটি উয়েফা সুপার কাপ জিতেছেন। তবে তার সম্পর্কে সব কি সব জানেন? তবে চলুন জেনে নেই তার সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য :

১।তার পুরো নাম লুইস লিওনেল আন্দ্রেস মেসি

২।সে বিশ্বের সর্বনিম্ন ফরোয়ার্ডার

৩। গ্রোথ হরমোন এর সমস্যা হওয়ায় তার শারীরিক বৃদ্ধিতে সমস্যা ছিল

৪।বিশ্বাস না হলেও সত্য যে লিওনেল মেসি তার প্রথম বার্সেলোনা চুক্তিটি টিস্যু পেপারের একটি অংশে স্বাক্ষর করেন

৫।মেসি তার প্রথম ম্যাচ এ মাত্র ৪৪ সেকেন্ড মাঠে ছিলেন কারন এরপর সে লাল কার্ড পান

৬।মেসির বয়স যখন পাঁচ বছর তখন থেকে তিনি তার স্ত্রীকে চেনেন

৭।মেসি দুটি দেশ এর নাগরিকতা আছে – আর্জেন্টিনার এবং স্পেন এর

৮।২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিক গেমসে তিনি আর্জেন্টিনীয় ফুটবল দলের হয়ে অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন

৯।লিওনেল মেসি বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ফুটবল খেলোয়াড়

১০।বার্সেলোনা যদি কোন করনে লিওনেল মেসির সাথে তাদের চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে চুক্তির একটি বিধি ঙ্ঘনের জন্য বার্সেলোনাকে ৩৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হবে।

 

ব্রিঃদ্রঃ এই পোষ্টে ব্যবহৃত তথ্য গুলো ব্যক্তিগত অনুসন্ধান ও উইকিপিডিয়ার সাহায্যে প্রকাশিত ।

Page Sidebar