অবশেষে সমাধান মিলেছে কঠিন ভাইরাসের ! ! !

Now Reading
অবশেষে সমাধান মিলেছে কঠিন ভাইরাসের ! ! !

সম্প্রতি ওয়ানাক্রাই র‍্যানসমওয়্যার নামের একটি ভাইরাস বিভিন্ন দেশের কম্পিউটার বা পিসিতে আক্রমণ শুরু করে। গত ১২ই মে শুক্রবার র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ শুরু হয়। ১৫০টি দেশের ৩ লক্ষ পিসিতে ম্যালওয়্যারটি আক্রমণ করে। এটি পিসির গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলোকে এনক্রিপ্ট করে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে পিসি ইউজারকে অর্থ পরিশোধ করতে বলে। তা নাহলে পুরো ফাইল নষ্টের হুমকি দেয়া হয়। এই আর্টিকেল এ মূলত পিসি ভাইরাস এবং র‍্যানসমওয়্যার নিয়ে বিস্তারিত বলা হবে। তবে প্রথমেই পিসি ভাইরাস সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক।

কম্পিউটার ভাইরাস বা পিসি ভাইরাস কি?

কম্পিউটার ভাইরাস বা পিসি ভাইরাস হল এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা ব্যবহারকারীর অনুমতি বা কোন রকম ধারণা ছাড়াই নিজে নিজেই কপি হতে পারে। মেটামর্ফিক ভাইরাসের মত তারা প্রকৃত ভাইরাসটি কপিগুলোকে পরিবর্তিত করতে পারে অথবা কপিগুলো নিজেরাই পরিবর্তিত হতে পারে। একটি ভাইরাস এক কম্পিউটার থেকে অপর কম্পিউটারে যেতে পারে কেবলমাত্র যখন আক্রান্ত কম্পিউটারকে স্বাভাবিক কম্পিউটারটির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। যেমন: কোন ব্যবহারকারী ভাইরাসটিকে একটি নেট ওয়ার্কের মাধ্যমে পাঠাতে পারে বা কোন বহনযোগ্য মাধ্যম যথা ফ্লপি ডিস্ক, সিডি, ইউএসবি ড্রাইভ বা ইণ্টারনেটের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এছাড়াও ভাইরাসসমূহ কোন নেট ওয়ার্ক ফাইল সিস্টেমকে আক্রান্ত করতে পারে, যার ফলে অন্যান্য কম্পিউটার যা ঐ সিস্টেমটি ব্যবহার করে সেগুলো আক্রান্ত হতে পারে। কম্পিউটারের বিভিন্ন ফাইল ক্র্যাক করা বা নষ্ট করাই হচ্ছে কম্পিউটার ভাইরাসের মূল কাজ।

কম্পিউটার ওয়ার্ম কি?

সাধারণত কম্পিউটার ভাইরাস ও কম্পিউটার ওয়ার্ম কে এক জিনিস ভাবা হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। একটি কম্পিউটার ওয়ার্ম হল একটি স্বাধীন ম্যালওয়্যার কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা নিজেকে নকল করতে পারে যাতে তা অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রায়শই এটি ছড়িয়ে পড়ার করার কাজে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এবং অন্য কম্পিউটারের নিরাপত্তা ব্যর্থতার সুযোগ নেয়। একটি কম্পিউটার ভাইরাসের মত এটিরও নিজেকে কোন প্রোগ্রামে যোগ করার প্রয়োজন হয় না। এগুলো সবসময় নেটওয়ার্কের কিছু ক্ষতি করে এমনকি ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ও খরচ করে। কিন্তু ভাইরাস একটি কম্পিউটারের ফাইল নষ্ট করে বা আক্রান্ত করে। অন্যান্য ম্যালওয়্যার দ্বারাও পিছনের এই দরজা বা গোপন দরজা তৈরীর চমৎকার কাজটি হয়ে থাকে যাতে ওয়ার্মও রয়েছে।

ম্যালওয়্যার কি?

পিসি বা মোবাইলে ক্ষতিকর প্রোগ্রামের লিংকসহ আসা ই-মেইলকে বলা হয় ম্যালওয়্যার। ম্যালওয়্যার (Malware) শব্দটি ইংরেজি malicious software থেকে এসেছে। malicious software এর সংক্ষিপ্ত রূপ হল ম্যালওয়্যার (Malware)। এ হল একজাতীয় সফ্‌টওয়্যার যা কম্পিউটার অথবা মোবাইল এর স্বাভাবিক কাজকে ব্যহত করতে, গোপন তথ্য সংগ্রহ করতে, কোনো সংরক্ষিত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে বা অবাঞ্ছিত বিজ্ঞাপন দেখাতে ব্যবহার হয়। ১৯৯০ সালে Yisrael Radai ম্যালওয়্যার শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহারে আনেন। ইতিপূর্বে এই জাতীয় সফ্‌টওয়্যারকে কম্পিউটার ভাইরাস বলা হত। ম্যালওয়্যার সংজ্ঞাত হয় তার হানিকারক উদ্দেশ্য দ্বারা। এরা কম্পিউটার ব্যবহারকারীর স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে।

র‍্যানসমওয়্যার কি?

কোন ম্যালওয়্যার যখন কম্পিউটার ফাইল খুলতে বাধা দেয় ও তা খোলার জন্য অর্থ দাবি করলে তখন তাকে র‍্যানসমওয়্যার বলে। র‍্যানসমওয়্যার হল এক ধরনের ম্যালওয়্যার যেটি কিনা একটি কম্পিউটার ডিভাইসকে আক্রান্ত করার পর ব্যবহারকারীকে তার মেশিনে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখে এবং ব্যবহারকারীর প্রবেশগম্যতা সীমাবদ্ধ করে দেয় এবং এই সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য ব্যবহারকারীর কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করে। কিছু র‍্যানসমওয়্যার আছে যা সিস্টেমের হার্ড ড্রাইভে অবস্থিত সকল ফাইল একটি বড় কী দিয়ে এনক্রিপ্ট করে ফেলে। এনক্রিপশন কী এতটাই বড় হয় যে মুক্তিপণ না দিয়ে একে ভেঙে ফেলা প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রায় অসম্ভব।

র‍্যানসমওয়্যার কিভাবে কাজ করে? 

সাধারণত ডাউনলোডকৃত ফাইলের মাধ্যমে এরা কোনো ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করে এবং ট্রোজান হিসেবে সংখ্যাবৃদ্ধি করে। এরপর প্রোগ্রামটি একটি পেলোড রান করে। পেলোড হয়ত কোনো সত্তা (যেমন – আইন প্রয়োগকারী সংস্থা) কর্তৃক জাল সতর্কবাণী দেখাবে। যেমন- আপনার সিস্টেম অবৈধ ক্রিয়াকলাপ করতে ব্যবহার করা হয়েছে এবং আপনার সিস্টেমে অবৈধ কনটেন্ট আছে যেমন – পর্নোগ্রাফি, পাইরেটেড সফটওয়্যার বা মিডিয়া ফাইল অথবা মাইক্রোসফট উইন্ডোজের পাইরেটেড সংষ্করণ।কিছু পেলোড সরল অ্যাপলিকেশন দিয়ে গঠিত যা এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যে, মুক্তিপণ না দেওয়া পর্যন্ত তা সিস্টেমকে তালাবদ্ধ করে রাখে অথবা ব্যবহারকারীর সিস্টেমে প্রবেশগম্যতা সীমাবদ্ধ করে। কিন্তু বর্তমানে সবচেয়ে আধুনিক শ্রেণীর পেলোড হল শক্তিশালী এনক্রিপ্টশন ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর সিস্টেমের সকল ফাইলকে এনক্রিপ্ট করে ফেলে। ম্যালওয়্যালটি এমনভাবে ফাইলসমূহকে এনক্রিপ্ট করে যে, ক্ষতিকারক প্রোগ্রামটির লেখকের কাছে সংরক্ষিত ডিক্রিপশন কী ছাড়া ফাইলগুলো পড়া সম্ভব হয় না।গত এক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া আলোচিত সাইবার হামলা র‍্যানসমওয়্যারে ১৫০টি দেশের তিন লক্ষ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার আক্রান্ত হয়। মূলত এই হামলায় শিল্প খাতে আক্রান্তের হার বেশি।

ফ্রান্সের একদল গবেষক ওয়ানাক্রাই আক্রান্ত এনক্রিপ্টেড উইন্ডোজ ফাইল খোলার সমাধান বের করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ফ্রান্সের অ্যাড্রিয়েন গুইনেট, বেঞ্জামিন ডেলপি, ম্যাথিউসুচি অন্যতম। ম্যাথিউ সুচি তার ব্লগ পোষ্টে ওয়ানাক্রাইয়ের প্রতিষেধক এর একটি লিংক দেন। সেখানে সফটওয়্যার টুল ওয়ানাকি বিল্ট বা গুইনেট এর লিংক দেয়া হয়। এই টুল উইন্ডোজের সব অপারেটিং সিস্টেম ( ৭, এক্স পি, ২০০৩ ) এ কাজ করবে। টুলটির নামকরণ করা হয় ‘ ওয়ানাকিউয়ে ’। এটি পিসি মেমরিতে ডিক্রিপশন কির অবশিষ্টাংশ অনুসন্ধান করে কাজ শুরু করে। তারা এটি বিনামূল্যে বাজারে ছেড়েছে।অবশেষে সমাধান মিললো ওয়ানাক্রাই র‍্যানসমওয়্যার এর হাত থেকে।