রবিউল হত্যায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিলেন তিনজনকে, সাথে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

Now Reading
রবিউল হত্যায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিলেন তিনজনকে, সাথে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

মেহেরচন্ডি এলাকার নসু মিয়ার ছেলে রবিউলের সঙ্গে ঐ এলাকার এক নারীর ল্যাপটপ চুরির ঘটনা নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলামকে ২০১৩ সালে ১৪ এপ্রিল বিভিন্ন দেশিয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম হত্যা মামলায় তিনজনকে আজ বুধবার দুপুরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত সেইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ রায় ঘোষণা করেন রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার।
রবিউল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেহেরচন্ডী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি।
দন্ড পাওয়া আসামিরা হলেন নগরের মেহেরচন্ডি এলাকার হাসান হকের ছেলে সেতু ইসলাম, বাবু কসাইয়ের ছেলে বাবলা ও বাবলু ড্রাইভারের ছেলে সোহাগ। এছাড়াও এ মামলায়া খালাস দেওয়া হয়েছে রাজন, সুরুজ, কাজল, শাকিব, সাঈদ, রেজাউল ও নিটুল নামের মোট সাতজনকে। রায় ঘোষনার সময় সেতু ছাড়া সবাই আদালতে হাজির ছিলেন।
বাদী ও আসামি পক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ।
জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা মাঠে রবিউলের ওপর রড, পেপসির বোতলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে তাঁকে আহত করেন দুর্বৃত্তরা। রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনার পরের দিন ১৫ এপ্রিল নিহত ছাত্রলীগ নেতার বড় ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নগরের বোয়ালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের মেহেরচন্ডী এলাকার সেতু, বাবু, বাবলা, সোহাগ, সাঈদ, রেজাউল, নিটুল, রাজন, সুমন, জামিল, কোয়েল, সুরুজ, মিঠুসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ৬ জনকে মোট ১৮ জনকে আসামি করা হয়।
তিন দফায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর ২০১৪ সালের ৫ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর শরীফ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে বাদী আদালতে নারাজি দিলে আদালত পুনরায় তদন্তের জন্য নগর গোয়েন্দা পুলিশকে দায়িত্ব দেন। এখানেও কয়েক দফা তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর ২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই রাশেদুল ইসলাম আদালতে ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে ২০১৮ সালে মামলাটি রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। শুনানি শেষে আজ বিচারক এই রায় দেন।
রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বাদী পক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক। উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন। এই রায়ে ন্যায়বিচার পাইনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন আসামিদের ফাঁসির রায় প্রত্যাশা করেছিলাম। ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য তিনি উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান। সেইসাথে আসামি পক্ষের একজন আইনজীবীও বলেন, তারাও যাবেন উচ্চ আদালতে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন উচ্চ আদালতে দন্ড পাওয়া আসামিরা অব্যাহতি পাবেন।