রাশিয়ার কোটিপতি নারী বিমান দুর্ঘটনায় নিহত

Now Reading
রাশিয়ার কোটিপতি নারী বিমান দুর্ঘটনায় নিহত

রাশিয়ার এক কোটিপতি নারী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হয়েছেন। তিনি ছিলেন রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এয়ারলাইনস সাইবেরিয়া এয়ারলাইনসের (এস-৭) অন্যতম কর্ণধার নাতালিয়া ফিলেইভা। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়। এ ঘটনায় বিমানের চালকসহ আরও দুজন নিহত হন।
গতকাল রোববার নাতালিয়া ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে ফ্রান্সের কান থেকে ফিরছিলেন। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের এগলসবাক বিমানবন্দরের কাছে এসে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এতে উড়োজাহাজের চালকসহ তিন যাত্রীই নিহত হন। তবে কী কারণে এটি বিধ্বস্ত হয় তা নির্ণয় করা যায়নি বলে জানিয়েছে এস-৭। রাশিয়ান এবং আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্তে কাজ শুরু করেছে।৫৫ বছর বয়সী নাতালিয়া রাশিয়ার অন্যতম নারী ধনী। ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্যমতে, তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৬০ কোটি ডলার। তাঁর মৃত্যুতে কোম্পানির পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে ভালো দিন!

Now Reading
ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে ভালো দিন!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে ভালো দিন হচ্ছে, ট্রাম্পের রুশ সংযোগ নিয়ে বিশেষ তদন্তকারী রবার্ট মুলারের প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ প্রকাশের দিনটি। ওই সারসংক্ষেপকে এভাবেই আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনমন্ত্রী উইলিয়াম বার গত রবিবার (২৪ মার্চ) ওই প্রতিবেদনের একটি সারসংক্ষেপ যুক্ত করে কংগ্রেসের কাছে চিঠি লিখেছেন। এত বলা হয়েছে, প্রতিবেদনে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণা শিবিরের কোনও আঁতাত থাকার অভিযোগ আনা হয়নি। রবার্ট মুলার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তার তদন্তে বাধা দেওয়ারও কোনও অভিযোগ আনেননি। ফলে আইনি ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই ট্রাম্প সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা ট্রাম্প স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন বলে মনে করছেন বিবিসি-র উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদক জন সোপেল।
২০১৬ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়টি অনেকদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে। অভিযোগ রয়েছে, এই নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জেতাতে মস্কো প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছিল, যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পালন করেছিল বড় ভূমিকা। গত শুক্রবার (২২ মার্চ) বিশেষ তদন্তকারী রবার্ট মুলার তার তদন্ত প্রতিবেদন মার্কিন আইনমন্ত্রী উইলিয়াম বারকে হস্তান্তর করেছেন। প্রতিবেদনের বিষয়ে কংগ্রেসকে দ্রুত অবহিত করার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গত রবিবার প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ জানিয়ে কংগ্রেসের কাছে চিঠি লেখেন উইলিয়াম বার। সেখানেই উঠে আসে স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুলার কর্তৃক ট্রাম্পকে অভিযুক্ত না করার তথ্য।
এমন পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটরা যদি ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চান তাহলে তাদের অপেক্ষা করতে হবে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত। গত ২২ মাস ধরে ট্রাম্পের ওপর যে কালো মেঘের ছায়া ছিল মুলারের তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ প্রকাশের মাধ্যমে যেন তা সরে গেল। ট্রাম্প নির্ভার হলেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত রবিবারই ছিল এই মেয়াদকালে তার শ্রেষ্ঠ সময়।
মুলারের প্রতিবেদনে দুইটি অংশ রয়েছে। প্রথমে অংশে তুলে ধরা হয়েছে ২০১৬ সালের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়ে তথ্য। দ্বিতীয় অংশে রয়েছে, তদন্ত বাধাগ্রস্ত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প কোনও ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন কি না। উইলিয়াম বারের তৈরি সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, রবার্ট মুলার তার প্রতিবেদনে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের আঁতাতের কোনও প্রমাণ পাননি। দৃশ্যত ট্রাম্পের রুশ সংযোগ সংক্রান্ত অভিযোগের এখানেই ইতি ঘটেছে।
আইনমন্ত্রী উইলিয়াম বার জানিয়েছেন, তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রড রোজেন্সটেইনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা মনে করেন, রবার্ট মুলারের তদন্ত কার্যক্রম ট্রাম্প বাধাগ্রস্ত করেছিলেন কি না সে বিষয়ে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টিতে ট্রাম্প নির্দোষ। তবে ট্রাম্প রবার্ট মুলারের তদন্ত বাধাগ্রস্ত করেছিলেন কি না সে বিষয়ে কিছুটা দ্ব্যর্থবোধকতা রয়েছে। এ বিষয়ে মুলার যে মন্তব্য করেছেন তাকে ‘খুবই আগ্রহ উদ্দীপক’ আখ্যা দিয়েছে বিবিসি: একদিকে যেমন প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়নি, তেমনি এতে তাকে কোনও দায়মুক্তিও দেওয়া হয়নি।
মুলারের ভাষ্যে যে দ্ব্যর্থবোধকতা রয়েছে সেটাকে নিয়েই এগোতে চান ডেমোক্র্যাটরা। আইনি দিক থেকে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের জুডিশিয়ারি কমিটি রবার্ট মুলারের পুরো প্রতিবেদনের তথ্য দেখতে চাইবে। কমিটির সদস্যরা বুঝতে চাইবেন, কেন মুলার ট্রাম্পকে আইনি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করার মতো মতো যথেষ্ঠ প্রমাণ পাননি। এখানে স্মরণ রাখা দরকার, আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ট্রাম্পকে অভিশংসিত করা হতে পারে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে।
কমিটি তাদের সাধ্যমতো এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নথিপত্র হাজির করার আদেশ দিতে পারে। প্রেসিডেন্টের বিরোধিতা করার জন্য তারা যতদিন সম্ভব এটা নিয়ে নাড়াচাড়া করবে। কিন্তু ট্রাম্পকে যদি সত্যি আইনি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করতে হয় তাহলে প্রমাণ করতে হবে, এফবিআইয়ের সাবেক প্রধান জেমস কোমিকে অপসারণ ও তদন্তের বিরুদ্ধে তার নিয়মিত টুইটার বার্তা লেখার উদ্দেশ্য ছিল তদন্ত বাধাগ্রস্ত করা। তা যদি না হয়, তাহলে ট্রাম্প আইনত কোনও দোষ করেননি।
রাজনৈতিক দিক থেকে একটি বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে ডেমোক্র্যাটদের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ারই কথা বলে মনে করেন বিবিসি-র উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদক জন সোপেল। তিনি মনে করেন, ডেমোক্র্যাটরা যে রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের ক্ষতি করতে চাইবেন তা বোধগম্য হলেও এতে প্রাপ্তির চেয়ে হারাবার ঝুঁকি বেশি। কারণ ভোটারদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই শেষ পর্যন্ত মুলারের প্রতিবেদনের পুরোটুকু পড়ার মতো ধৈর্য রাখেন। বরং প্রতিবেদন জমা দিয়ে দেওয়ার পর ভোটারদের অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন এই ভেবে যে, তদন্ত শেষ হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটরা যদি ট্রাম্পের অভিশংসনের জন্য প্রচেষ্টা চালায় তাহলে হারাবার ঝুঁকি যতটা রিপাবলিকানদের থাকবে, ততটাই থাকবে ডেমোক্র্যাটদের। সোপেল স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন যদিও অসত্য বলেছিলেন তারপরও ২০০০ সালে তিনি যখন অভিশংসিত হন তখন তার প্রতি সমর্থন (অ্যাপ্রুভাল রেটিং) অনেক বেশি ছিল। এর কারণ কিছুটা অর্থনৈতিক। তখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির অবস্থা ভালো ছিল। কিন্তু অপর বিষয়টি হচ্ছে, ডেমোক্র্যাটরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। তারা ভাবছিল, রিপাবলিকানরা নিজেদের দলীয় স্বার্থকে দেশের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। ঠিক একই ঘটনা ঘটতে পারে ট্রাম্পকে অভিশংসনের দিকে নিয়ে যেতে চাইলে।
বিল ক্লিনটনের সময় ডেমোক্র্যাটরা ভেবেছিল, রিপাবলিকানরা ‘উইচহান্ট’ করছে। এবার রিপাবলিকানরাও তেমনটাই ভাববে। ট্রাম্প নিজেও এতদিন তার বিরুদ্ধে থাকা মুলারের তদন্ত বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগের বিষয়ে ‘উইচহান্টের’ দোহাই দিয়ে এসেছেন। ডেমোক্র্যাটরা তার ‘উইচহান্ট’ করতে চাইলে উল্টো তার সমর্থন বেড়ে যেতে পারে। ফলে মুলারের প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ প্রকাশের দিনটি ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে হাজির হয়েছে।

জরুরি সাহায্য ও ১০০ সেনা নিয়ে রাশিয়ার দুটি উড়োজাহাজ ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পৌঁছেছে

Now Reading
জরুরি সাহায্য ও ১০০ সেনা নিয়ে রাশিয়ার দুটি উড়োজাহাজ ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পৌঁছেছে

ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে রাশিয়ার বিমানবাহিনীর দুটি উড়োজাহাজ পৌঁছেছে। দুই বিমানে ৩৫ হাজার টন জরুরি সাহায্য ছাড়াও একজন কমান্ডারের নেতৃত্বে ১০০ সৈন্য পাঠিয়েছে রাশিয়া।জানা গেছে, ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের সাইমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশটির পদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা রাশিয়ার ত্রাণবহরকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এই ত্রাণবহরে কী কী পণ্য রয়েছে কিংবা এই বহরে কেন সেনাসদস্য পাঠানো হয়েছে সে সম্পর্কে ভেনিজুয়েলার গণমাধ্যম কিছু জানায়নি।
এর আগে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করে রাশিয়া। একইসাথে দেশটিতে হস্তক্ষেপের ব্যাপারে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দেয় রাশিয়া।
সম্প্রতি ভেনিজুয়েলার বিরোধদলীয় নেতা হুয়ান গুয়াইদো দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কোনো পৃষ্ঠপোষক নেই। তার ওই বক্তব্যের পর রাশিয়া ভেনেজুয়েলায় সেনাসদস্যসহ দুটি উড়োজাহাজ পাঠালো।

এখন ইন্টারনেটই হচ্ছে পুতিনের টার্গেট

Now Reading
এখন ইন্টারনেটই হচ্ছে পুতিনের টার্গেট

এখন আমরা যেকোনো খবর আমরা খুব সহজেই পেয়ে যাই। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন এই খবর পাওয়ার এক মাত্র মাধ্যম রেডিও বা টেলিভিজ। টিম বার্নার্স লি ইন্টারনেট আবিষ্কারের পর থেকে ধীরে ধীরে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। এখন ইন্টারনেটের দুনিয়ায় সংবাদের অনেকগুলো বিকল্প উৎস তৈরি হয়ে গেছে। আর এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিশ্বের একনায়ক ঘরানার শাসকেরা।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজের দেশে শাসক হিসেবে একমেবাদ্বিতীয়ম। দিন দিন নিজের ক্ষমতার পরিধি তিনি বাড়িয়েই চলেছেন। এবার হাত দিয়েছেন ইন্টারনেটের দুনিয়ায়। অন্তর্জালে সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সব আয়োজন শেষ করে এনেছেন পুতিন। এবার জাল গুটিয়ে আনার পালা। এই কাজ শেষ হলেই রুশ ভার্চ্যুয়াল জগৎ নিয়ন্ত্রণের ‘সুইচ’ চলে আসবে পুতিনের পকেটে।
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে গণমাধ্যমের ওপর কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছিল। ১৯৯১ সালের ১৯ আগস্ট যখন মিখাইল গর্বাচেভের বিরুদ্ধে ‘ক্যু’ সংঘটিত হয়েছিল, তখন সোভিয়েতের সব টিভি চ্যানেলে বিনোদনধর্মী অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছিল। বোকা বাক্সের সামনে বসে থাকা রুশ জনগণের বোঝারও উপায় ছিল না যে, দেশে ওলট-পালট ঘটে যাচ্ছে! ক্রেমলিনে তখন চলছিল বুলেট-বোমার কাব্য, আর রুশ জনগণের ড্রয়িংরুমের বোকা বাক্সে চলছিল নাচগান।
বোকা বাক্স দিয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর দিন এখন আর নেই। ইন্টারনেট পুরো পৃথিবীকে একটি ছোট গণ্ডির মধ্যে এনে ফেলেছে। সেই ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ হাতের মুঠোয় নেওয়াও কঠিন। সেই কষ্টসাধ্য কাজটিই করতে চাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সাবেক সোভিয়েত আমলের অভিজ্ঞতা থেকে ভালোই শিখেছেন একসময়কার এই কেজিবি এজেন্ট। তিনি বুঝেছেন যে, জনগণকে যত কম জানানো যায় ততই মঙ্গল। এরা যত বেশি জানে, তত বেশি বোঝে! সুতরাং জনগণের জানা-বোঝার সুযোগ সীমিত করে দেওয়াই ক্ষমতা সংরক্ষণের উৎকৃষ্ট উপায়।
রুশ সংস্থা লেভাদা সেন্টার সম্প্রতি একটি জরিপ করেছে। তাতে দেখা গেছে, টেলিভিশনের ওপর রাশিয়ার জনগণের আস্থা কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ২০০৯ সালের পর এই প্রথম টিভি চ্যানেলের ওপর রুশদের আস্থার পরিমাণ ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। উল্টো দিকে তথ্যের ইন্টারনেটভিত্তিক উৎসের ওপর রুশদের আস্থা পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। যদিও রাশিয়ার বয়স্ক মানুষেরা এখনো টেলিভিশন থেকে সংবাদ পেতেই অভ্যস্ত, কিন্তু ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ইন্টারনেটনির্ভরতা অনেক বেশি।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, রাশিয়ায় জাতীয় টেলিভিশনের একচেটিয়া আধিপত্যে ভাগ বসিয়েছে ইউটিউব। রাশিয়ার ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের ৮২ শতাংশই সংবাদ পেতে ইউটিউবে চোখ রাখছেন। রুশদের মধ্যে ইউটিউবে সংবাদ খোঁজার প্রবণতা বেশি। রাশিয়ায় পুতিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে অন্যতম আলেক্সেই নাভালনি। তিনি খুব ভালো করেই জানেন, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টিভি চ্যানেলে তাঁর খবরাখবর আসার আশা নেই। তাই দুটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে তাতে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রচার করছেন নাভালনি। গত বছর এই দুটি ইউটিউব চ্যানেলের দর্শকসংখ্যা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। প্রতি মাসে কমপক্ষে ২৫ লাখ সাবস্ক্রাইবার পান তিনি।
অর্থাৎ এটি স্পষ্ট যে, খবরের জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক উৎসের প্রতি রুশদের নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। আর এতেই কপালের ভাঁজ বাড়ছে পুতিনের। ক্রেমলিন এখন সরকারবিরোধী প্রোপাগান্ডা থামাতে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের পথ খুঁজছে। লন্ডনের কিংস কলেজের শিক্ষক ও রুশ ইন্টারনেট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ গ্রেগরি আসমোলোভ বলেন, ‘ইন্টারনেটকে কীভাবে টিভি চ্যানেলে রূপান্তর করা যায়—সরকার এখন সেই চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও বলেন, এর জন্য শুধু কঠোর নিয়মকানুন যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে ইন্টারনেট অবকাঠামো ও কনটেন্টের প্রবাহের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে।
পুতিনের সরকার সেই পথেই হাঁটতে শুরু করেছে। সরকারবিরোধী কথাবার্তাকে ‘ফেক নিউজ’-এর তকমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি রাশিয়ায় ফেক নিউজ প্রতিরোধে নতুন আইন পাস হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেই আইনে স্বাক্ষরও করে দিয়েছেন। নতুন আইনের আওতায়, যে তথ্যকে সরকারের কাছে মিথ্যা বলে মনে হবে, তা নিষিদ্ধ করে দেওয়া যাবে। এ ছাড়া যে তথ্যকে জনশৃঙ্খলা লঙ্ঘনের কারণ বলে মনে করবে সরকার, সেটিও নিষিদ্ধ করা যাবে। এর শাস্তি হিসেবে ৪ লাখ রুবল (প্রায় ৬ হাজার ১০০ ডলার) পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে যেকোনো ওয়েবসাইট ব্লকও করে দিতে পারবে সরকার।
বিজনেস ইনসাইডার অবশ্য বলছে, যে দোষের শাস্তি নিশ্চিত করতে এই আইন পাস করা হয়েছে, সেই দোষে দুষ্ট রাশিয়াই! বিশ্বে যত ফেক নিউজ তৈরি হয়, তার একটি বড় অংশই আসে রাশিয়া থেকে। ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো এই অভিযোগ করেছে। অন্য সরকার ও অধিকার সংস্থাগুলোও রাশিয়ার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলেছে।
তবে পুতিনের সরকারের দাবি, পুরো বিশ্বেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে নানা ধরনের ফেক নিউজ তৈরি করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন উদ্দেশ্যমূলকভাবে এমন প্রোপাগান্ডা তৈরি করছে। এসব সাইবার আক্রমণ ঠেকানোর জন্যই কঠোর আইন প্রয়োজন।
ব্লুমবার্গ বলছে, নতুন আইন ব্যবহার করে স্রেফ এক সুইচ টিপে পুরো রাশিয়ার তথ্যপ্রবাহ থমকে দিতে পারবেন পুতিন। এই নকশাতেই তৈরি করা হয়েছে ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব’ শীর্ষক আইনটি। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই সোলদাতোভ বলেন, ‘কোনো বিদেশি হুমকি বা ফেসবুক-গুগলকে ঠেকাতে এই আইন করা হয়নি। ওই কাজ এখনই পারে রুশ সরকার। বেসামরিক বিক্ষোভের সময় কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেটের পুরো ট্রাফিক সিস্টেমই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এই আইনের আওতায়। ফলে সরকারবিরোধী প্রচার সহজেই শনাক্ত করে বন্ধ করা যাবে।’
চীনের পথ ধরছে রাশিয়া?
ইন্টারনেটের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ চীনের তৈরি। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে নিজেদের আলাদা করে ফেলে চীন। ওই ব্যবস্থাকে ‘গ্রেট ফায়ারওয়াল’ বলে অভিহিত করা হয়। এখনো ফেসবুক ঘাঁটি গাড়তে পারেনি চীনে। বৈশ্বিক ইন্টারনেটের জগৎ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন চীন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীনের পথেই হাঁটতে চাইছে রাশিয়া। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন। চীন তো শুরু থেকেই কঠোর নিয়মকানুন আরোপ করে রেখেছে। আর রাশিয়া বৈশ্বিক ইন্টারনেটের দুনিয়ায় যুক্ত হয়েছে অনেক আগেই। ইন্টারনেটের বৈশ্বিক অবকাঠামোয় রাশিয়ার বড় বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়ে আছে। রাশিয়ায় সার্ভার স্থাপন করেছে গুগলের মতো টেক জায়ান্ট। তার চেয়ে বড় কথা, ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে গেছে রুশরা। সেই অভ্যাস সমূলে উৎপাটন করা কঠিন। এতে করে নতুন করে জনবিক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে।
তবে হ্যাঁ, বন্ধ করার চেয়ে, ইচ্ছে হলেই বন্ধ করতে পারি—এমন বার্তা বেশি কাজে দেয়। এতে করে ফেসবুক, গুগলের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানও নিজেদের গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়। ফেক নিউজ ঠেকাতে নিপীড়নমূলক আইন পাস করে সেটিই করতে চাইছেন পুতিন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার অধ্যাপক রংবিন হান বলেন, ‘চীনের দেখানো পথেই যাচ্ছে রাশিয়া। রাজনৈতিক মতভিন্নতা উচ্ছেদ করতে পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থা বন্ধ করার দরকার পড়ে না। এর চেয়ে অনলাইন কনটেন্টগুলো ফিল্টার করলেই চলে। সেটিই চমৎকার উপায়।’
ইন্টারনেট পুতিনের হবে?
গত কয়েক বছর ধরেই ফেসবুক, গুগল, টুইটার, লিংকডইনসহ বিভিন্ন বড় বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে দৌড়ের ওপর রেখেছে ক্রেমলিন। অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে সেন্সর করতে চাইছে পুতিনের সরকার। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাশিয়ায় সার্ভার স্থাপনের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
অনলাইন নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে মস্কোভিত্তিক গোষ্ঠী রসকমসনাবোদা। এই গোষ্ঠীর হিসাব বলছে, বর্তমানে মোট ৮০ হাজার ওয়েবসাইটকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা আগোরা বলছে, ২০১৫ সাল থেকে সাইবার আক্রমণের দায়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মামলা হয়েছে রাশিয়ায়, রায় হয়েছে ১৪৩টিতে। রুশ তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানায় ঢোকানো হচ্ছে পুতিনপন্থীদের। এর জন্য বলপ্রয়োগও করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে এগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হচ্ছে সরকারের হাতে।

ওদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ৬৬ বছর বয়সী প্রেসিডেন্টের ওপর রুশ জনগণের আস্থা কমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে, ঠেকেছে ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশে। ২০০৬ সালের পর এবারই তা সর্বনিম্ন। অথচ ২০১৫ সালের জুলাইয়ে তা পৌঁছেছিল ৭১ শতাংশে।
অর্থাৎ, লক্ষণ খুব একটা ভালো নয়। দেশের ইন্টারনেট দুনিয়ায় থাবা বসিয়ে কত দিন স্বস্তিতে থাকতে পারেন পুতিন, তাই এখন দেখার বিষয়।

প্রায় ১৭ হাজার কোটি ডলার দিয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কিনছে মিসর

Now Reading
প্রায় ১৭ হাজার কোটি ডলার দিয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কিনছে মিসর

রাশিয়ার কাছ থেকে ২০টিরও বেশি সুখোই এসইউ-৩৫ বহুমাত্রিক যুদ্ধবিমান কিনছে মিসর। দুই দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়াকে ১৬ হাজার ৮৭৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার পরিশোধ করবে মিসর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের শেষ দিকে দুই দেশের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে যুদ্ধবিমান ছাড়াও বিভিন্ন সমরাস্ত্রের উল্লেখ রয়েছে। ২০২০-২০২১ সালে এগুলো মিসরকে সরবরাহের কথা রয়েছে।

এ চুক্তির মধ্য দিয়ে তৃতীয় দেশ হিসেবে রাশিয়ার কাছ থেকে সুখোই এসইউ-৩৫ বহুমাত্রিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করছে মিসর। এর আগে এই মডেলের ২৪টি যুদ্ধবিমান কিনেছিল চীন। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়াও এই মডেলের ১১টি যুদ্ধবিমান সংগ্রহে সম্মত হয়।

রুমানিয়ায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের জবাবে ক্রিমিয়ায় পরমাণু অস্ত্রবাহী বোমারু বিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত রাশিয়ার।

Now Reading
রুমানিয়ায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের জবাবে ক্রিমিয়ায় পরমাণু অস্ত্রবাহী বোমারু বিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত রাশিয়ার।

২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় রাশিয়া। তখন থেকেই দুই দেশের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। উত্তেজনার মধ্যেই ১০১৮ সালের ডিসেম্বরে ক্রিমিয়ায় রুশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে রাশিয়া। সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে অঞ্চলটিতে পরমাণু অস্ত্রবাহী বোমারু বিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিলো মস্কো।

রুমানিয়ায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের জবাবে ক্রিমিয়ায় পরমাণু অস্ত্রবাহী বোমারু বিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। রুশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ভিক্তোর বোন্দারেভ দেশটির এমন সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। মস্কোয় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ক্রিমিয়ার ভারদিস্কোই বিমান ঘাঁটিতে দূরপাল্লার তোপোলেভ টিইউ-২২এম৩ বোমারু বিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভিক্তোর বোন্দারেভ বলেন, ‘রুমানিয়ায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রাশিয়ার জন্য একটি মারাত্মক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলার জন্যই ক্রিমিয়ায় পরমাণু অস্ত্রবাহী বোমারু বিমান মোতায়েনের পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রাশিয়ার এ পদক্ষেপের ফলে এ অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যে আমূল পরিবর্তন আসবে।’

রাশিয়ার এই আইনপ্রণেতা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ক্রিমিয়ায় মোতায়েন হতে যাওয়া কৌশলগত এসব বোমারু বিমান ইউরোপের যে কোনও স্থানে থাকা আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে

Now Reading
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে

নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকট ভেনেজুয়েলার জনগণকে তাড়িত করেছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। বিক্ষোভের সুযোগে গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদো। এরপরই তাকে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্রসহ ৫০টিরও বেশি দেশ। এরপর দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি শোডাউনের মধ্যেই গত ৮ মার্চ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ভেনেজুয়েলার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা। দেশটির ২৩টির মধ্যে ১৮টি রাজ্যেই অন্ধকারে কাটাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সরকারবিরোধীরা এই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম ইন্টারফ্যাক্সের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ। তিনি বলেন, দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে রাশিয়া তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ফেরাতে সব বিকল্প নিয়ে ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সংক্রান্ত সব বিকল্পই টেবিলে রয়েছে। নিকোলাস মাদুরো’র কবল থেকে ভেনিজুয়েলার জনগণের পরিত্রাণ পেতে যা যা করার প্রয়োজন হয় তা-ই করবে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া ও কিউবা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সমর্থন দিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করছে।

মাইক পম্পেও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন ভেনেজুয়েলার জনগণের নিকট গণতন্ত্র পৌঁছে দিতে বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প সব উপায় নিয়ে ভাবছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনর্নির্মাণ করে দেবে যেখানে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য দেশটির জনগণ আবারও সম্পদের মালিক হবে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল না কিনতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান পম্পেও। এমন সময়ে তিনি এ আহ্বান জানালেন যখন ভেনেজুয়েলাকে তেল বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে রাশিয়ার একটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়।

মাদুরে সরকার গুয়াইদোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন

Now Reading
মাদুরে সরকার গুয়াইদোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাতে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলে জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ার করে দিয়ে আরো বলেন স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদোর কোনো ক্ষতি হলে মাদুরো প্রশাসনকে চড়া মূল্য দিতে হবে। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলায় সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসন প্রতিহতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাশিয়া।
ঐদিকে মাদুরো সরকার ঘোষণা দিয়ে বলেন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় গুয়াইদোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটকের হুমকি উপেক্ষা করেই গতকাল রবিবার ইকুয়েডর থেকে কারাকাসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন ভেনেজুয়েলার স্বঘোঘিত অন্তবর্তী প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদো। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে তার ভেনেজুয়েলায় পৌঁছানোর কথা। ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বিরোধী গণআন্দোলন জোরদারের জন্য কর্মী সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গুয়াইদো। এর আগে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেলিন মোরেনোর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে মাদুরো সরকারের প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন গুয়াইদো।
ভেনেজুয়েলার স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদো বলেন, এক নায়কতন্ত্রের দুঃশাসন থেকে মুক্তির লক্ষ্যে নতুন নির্বাচনেরে দাবিতে পুরো ভেনেজুয়েলাবাসী ঐক্যবদ্ধ। আমরা সংঘাত চাই না। তবে আমাদের দেশে কোনো শান্তি নেই। মানুষ না খেয়ে, বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। মাদুরো সরকার জনগণের জন্য ত্রাণ সহায়তাও পৌঁছাতে দিচ্ছে না। আমরা সঙ্কটের সুষ্ঠু সমাধান চাই।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত সপ্তাহে সমর্থন আদায়ে লাতিন আমেরিকা সফরে যান গুয়াইদো। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আমান্য করায় তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড ভুগতে হবে বলে জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক কার্লোস ভালদেজ।
এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ডের ব্যাংকে আটকা পড়া সম্পদ ও অর্থ উদ্ধারে মাদুরো প্রশাসন কাজ করছে বলে জানান ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলচি রদ্রিগেজ।
ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেশচি রদ্রিগেজ বলেন, ইংল্যান্ডের ব্যাংক অনৈতিকভাবে আমাদের যে সম্পদ জব্দ করেছে সেগুলো পুনঃরুদ্ধারে ইতোমধ্যে আমরা আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছি। হুয়ান গুয়াইদোকে দেয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের যে অর্থ জব্দ করেছে সেগুলো উদ্ধারেও আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গুয়াইদো শুধু দেশে নিজেকে হাস্যকর ব্যক্তি বানাননি তিনি ক্রমাগতভাবে আন্তর্জাতকি অঙ্গনেও তাচ্ছিল্যের পাত্র হচ্ছেন। সরকার উৎখাতে ষড়যন্ত্রের কারণে ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছি।
এরমধ্যেই গুয়াইদোর কিছু হলে মাদুরো প্রশাসনকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে আবারও হুঁশিয়ার করেছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। এছাড়া মাদুরো প্রশাসকে উৎখাতে বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত মাদুরো সরকারকে উৎখাতে বৃহত্তর ঐক্য গড়ায় কাজ করছি আমরা। আমরা একাই ভেনেজুয়েলাকে মোকাবিলা করতে পারি। কিন্তু আমরা চাই সবাইকে নিয়ে ভেনেজুয়েলায় পূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়।
মার্কিন সামরিক আগ্রাসন প্রতিহত করতে সম্ভাব্য সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাশিয়া। রুশ কেন্দ্রীয় পরিষদের স্পিকার ভেলেন্তিনা মাতভিয়েনকো বলেন, ভেনেজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপ পরিচালনার জন্য ইস্যু খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে সতর্ক মস্কো। ভেনেজুয়েলায় অবৈধ হস্তক্ষেপ করলে তা হবে আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। রাশিয়া তা কখনো মেনে নেবে না।
কয়েক বছর ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, চরম মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে মাদুরোর বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপির অভিযোগ উঠে। ২৩ ফেব্রুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন হুয়ান গুয়াইদো সে সুযোগে । অন্তত ৫০ দেশ গুয়াইদোকে সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ । ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে বিভক্ত হয়ে পড়ে বিশ্বরাজনীতি, রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরান মাদুরোর প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার কারণে।

চীন সুপার পাওয়ারে পরিণত হলে ১০টি উপায়ে ঘটবে বিশ্বের পরিবর্তন

Now Reading
চীন সুপার পাওয়ারে পরিণত হলে ১০টি উপায়ে ঘটবে বিশ্বের পরিবর্তন

চীন তার লক্ষ্য স্থির করেছে যে আগামীতে তারাই হবে সুপার পাওয়ার দেশের অধিকারী। তারা ইতিমধ্যেই এ লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্ম কৌশল গ্রহণ করেছে। এ ব্যাপারে চীনের প্রেসিডেন্ট শিং জিং পিং জনসম্মুখে ঘোষণা করেছে, আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে তারা বিশ্ব নেতৃত্ব দেবে। ইরাক-সিরিয়াসহ একাধিক দেশে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ব্যস্ত আমেরিকা। এদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত এককালের দাপুটে রাশিয়া। অন্যদিকে সুনির্দিষ্ট রণকৌশল ও সাহসী পদক্ষেপ নেয়ার অক্ষমতায় ভুগছে ভারতের মতো দেশ। ফলে এই মুহূর্তে একক শক্তির আসন কার্যত টালমাটাল। আর এমন পরিস্থিতিতে সুযোগের সদ্ব্যবহার করে আমেরিকাকে ধরাশায়ী করার ছক কষছে চীন। অঢেল প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য্য, বিশাল মানব সম্পদ এবং শক্তিশালী অর্থনীতিতে ভর করে কিভাবে এগিয়ে যাওয়া যাবে এমন পরিকল্পনাই করছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

যদি চীন তার লক্ষ্য অর্জন করে তবে বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করবে পৃথিবীর আমূল এক পরিবর্তন, হয়ত আমাদের জীবদশায় তা দেখে যেতে পারব। তেমন যদি হয় ইতিহাসে প্রথমবারের মত আমেরিকার প্রভাব প্রতিপত্তি হ্রাস ঘটবে এবং অন্যদিকে বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হবে চীনের। আমাদের স্পষ্ট কোন ধারণাই নেই বিশ্ব কিরুপ অবস্থায় রুপ ধারণ করবে। চীন তাদের ইমেজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছে কিভাবে বৃহৎ শক্তি রুপে নিজেদের জানান দেয়া যায়।

আফ্রিকা হতে পারে বিশ্ব শক্তিধরের একজনঃ চীনের এমন উত্থান আবার তাদের জন্য মঙ্গল জনক নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আফ্রিকা শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এদিকে অনেকে কল্পনাই করতে পারবেনা আফ্রিকার বিষয়ে চীন খেলার কি দান টাই চালছে। বর্তমান সময়ে আফ্রিকার সাহায্যকারী প্রধান দেশ হিসেবে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তারা সেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এই পরিমাণ আরো বাড়বে। তারা সেখানে এমন অনেক প্রকল্প নিয়ে এগুচ্ছে যা ২০২৫ সালের মধ্যে বিনিয়োগের লক্ষ্য মাত্রা হবে ১ট্রিলিয়ন ডলার। পাশ্চাত্য দেশ গুলি অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে এখানে বিনিয়োগ করাতে, কেননা এই অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশই স্বৈরচার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বিভিন্ন দেশে আমেরিকান অর্থ বিনিয়োগ হয় রাজনৈতিক সংস্কার এবং গণতন্ত্রায়নের নিমিত্তে। তবে সে ক্ষেত্রে চীন এসব পরোয়া করেনা, তারা আফ্রিকার দারিদ্র বিমোচনে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, আফ্রিকায় বিনিয়োগ করা প্রতি ডলারের বিপরীতে ৬ডলার আয় করছে। ইতিমধ্যে চীন ও আফ্রিকার মধ্যে বেশ ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। চীন চাচ্ছে সে সম্পর্কের প্রসার ঘটিয়ে ব্যপক বিনিয়োগের। ইতিমধ্যে আফ্রিকাও তার সুফল পেতে শুরু করেছে, আফ্রিকার একশ কোটি লোকের মধ্যে ৩০ কোটি লোক ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে মধ্য আয়ের সারিতে। তাদের দারিদ্রতা বলতে গেলে অনেকটাই বিমোচিত হয়েছে। বলা হচ্ছে চীন ও আফ্রিকার এই সম্মীলনে ভবিষ্যতে বিশ্ব পাবে এক নতুন মাত্রা। ‘সুপার পাওয়ার’ হিসেবে বিশ্বে নিজের দাপট বাড়ানোর নকশা তৈরি করে ফেলেছে চীন। আসুন কিছু বিষয়ে আলোকপাত করি কিকি কারণে চীন তার লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মন্দাঃ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নানামুখি সংকট বর্তমান বিশ্বের এই এক নম্বর সুপার পাওয়ার দেশটির ভবিষ্যৎ অনেকটাই অনশ্চিয়তার মুখোমুখি। যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে এই সংকট হতে উত্তরণ লাভ করলেও দীর্ঘ মেয়াদে দেশটি কোনোভাবেই তার অবস্থান ধরে রাখতে পারবে বলে মনে করছেন না আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী এই সংকটের প্রধান কারণ তাদের অতিমাত্রায় ভোগবাদিতা এবং বিলাসিতা। জীবনটা বিলাসীভাবে উপভোগ করতে গিয়ে তারা অধিক মাত্রায় ঋণ করার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আর সাধারণ নাগরিকদের এই মনোভাবকে পুঁজি করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সে দেশে জমজমাট ব্যবসায় করে যাচ্ছে। এর কারণ বিশ্বের স্বল্প সুদে সহজে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সবার শীর্ষে। সেখানকার ব্যাংকগুলো ঋণ আদায়ে যথেষ্ট দীর্ঘ সুত্রিতার সম্মুখীন হচ্ছে। অনেক ব্যাংক ইতিমধ্যেই ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে দেউলিয়া হয়ে গেছে। ২০০৭ সাল থেকে ২০১১ সালের মধ্যে মোট ১৫৪টি বড় আকারের ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেছে। এ ছাড়াও দেশটি উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ না করে অনুৎপাদনশীল খাতে অতিমাত্রায় পুঁজি বিনিয়োগের ফলে ক্রমশ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। যার প্রভাব সমগ্র অর্থনীতির উপর ভর করেছে। এদিকে দেখা যাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বহির্বিশ্বের দেশগুলোতে চীনের বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি।  তাই অনেক ক্ষেত্রে এই অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে চীনের ভুমিকাও জড়িত। চীন চাচ্ছে অর্থনৈতিক কৌশল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ক্রমশ দুর্বল করে দিতে।

আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিশ্বব্যাপী ভূমিকাঃ অনেকের অনুমান সত্ত্বেও হয়ত এই মুহূর্তে চীন পৃথিবীর কোথাও তার শক্তি প্রয়োগ করবে না কিংবা কাউকে কমিউনিস্ট হতে প্রলুব্ধ করবেনা। যদি আফ্রিকার সাথে তাদের কোন চুক্তি সম্পাদিত হয়, চীন খুব শান্ত উপায়েই তা নিয়ন্ত্রণ করছে। চীনের সরকারি কিছু চুক্তি আছে আফ্রিকার সাথে যেখানে তারা কোন হস্তক্ষেপ করতে চায়না। যদিও সেক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সম্পূর্ণ উল্টো, তারা অনুন্নত দেশ এবং স্বৈরশাসক নিয়ন্ত্রিত দেশ সমুহে লিখিত কিংবা অলিখিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু চীন এর নীতি হল তারা সে দেশকে নিজেদের মত থাকতে দিতে চায়। এমনকি সুদান ও জিম্বাবুয়ের মত দেশে বিনিয়োগ সত্ত্বেও তাদের মানবাধিকার, আইন ও বিচার ব্যবস্থায় নুন্যতম প্রভাব বিস্তার করেনি চীন। আর এখানেই পার্থক্য চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। আমেরিকান সামরিক বাহিনী অক্ষম মানেই আমেরিকা অরক্ষিত, এমনকি সমগ্র ইউরোপের যে সকল দেশ গণতান্ত্রিক তাদের ক্ষেত্রেও তাই যারা আমেরিকার সামরিক বাহিনীটিকে তাদের প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে গণ্য করে। কিন্তু চীন এসব গণতন্ত্র নিয়ে ভাবেনা, এবং যদিনা আমেরিকা তার শক্তির প্রদর্শন মাত্রা ছাড়ায় সেক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতে দেখা যাবে যে চীনা সামরিক বাহিনী সমগ্র বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ সমূহ গ্রাস করে বসবে। রাজনৈতিক মাপকাঠিতে আপাত নিরীহ মনে হলেও প্রয়োজনে চীন তার ভয়ংকর রুপ প্রকাশে দ্বিধা করবে না হয়ত।

বিশ্ব বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি হবে রাজ্য নির্ধারিতঃ চীন এখন ঠাণ্ডা মাথায় তার লক্ষ্য অর্জনে এগুচ্ছে। পৃথিবীর কোথাও অস্ত্র ও বোমা ব্যবহারের পরিবর্তে অন্য পন্থা অবলম্বন করছে। তার মধ্যে আরেকটি হল চীনা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার। এই পদ্ধতিকে তারা বলছে “ সফট পাওয়ার”। তারা তাদের স্কুল ও বিশ্ব বিদ্যালয় গুলোতে বাধ্যতামূলক রাজ্য নির্ধারিত পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করেছে। এসব পাঠ্য সূচি চীন এবং কমিউনিস্ট পার্টির ভাবধারায় প্রবর্তিত। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তুলনায় তারা এখন আফ্রিকান ছাত্রদের প্রতি বেশি ঝুঁকছেন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির ব্যাপারে। কেননা সেই ছাত্ররাই হতে পারে ভবিষ্যৎ রাজনীতিবিদ বা নেতা। শুধুই যে চীনে এই ব্যবস্থা আছে তা কিন্তু নয়, চীনের এই ভাবধারাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পৃথিবীর ১৪০টি দেশে চালু হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ১৫০০টি মত চীনা স্কুল বা শিক্ষা কেন্দ্র।  সেসব শিক্ষা কেন্দ্রে নিয়োজিত আছে বহু চীনা শিক্ষক যারা প্রতিনিয়ত শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন, কিভাবে চীন উন্নয়নের মডেলে রুপান্তর হচ্ছে এবং পাশ্চাত্য ভ্রান্ত ধারণাগুলো সঠিক রুপ কি হবে। পাশাপাশি চীন সম্পর্কে বিশদ ভাবে জানা এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ঐতিহ্য সম্পর্কে ছাত্রদের মধ্যে ধারণা দেয়া। আর এ সব কিছুই চীনের রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদিত পাঠ।

নতুনভাবে চীনের ইতিহাস রচিতঃ  চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম দলীয় অধিবেশনে প্রায় ২,৩০০ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সিপিসি’র মহাসচিব হিসাবে ৫বছরের জন্য মনোনীত হয়ে পুনরায় দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে অভিষিক্ত হয়েছেন শি জিনপিং। পার্টির পলিট ব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের অভ্যন্তরে তার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এমনকি, বেঁচে থাকলে নজিরবিহীনভাবে তৃতীয় দফাতেও তিনি শীর্ষ পদে আসীন হতে পারেন। পাঁচ বছর অন্তর সিপিসি-র কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যসংখ্যা প্রায় নয় কোটি যার মধ্যে সেন্ট্রাল কমিটির সদস্যসংখ্যা ২০৪৷ পার্টির সিদ্ধান্তনুযায়ী শি জিনপিং ও তাঁর মতাদর্শকে সরকারিভাবে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷ চীনের অবিসংবাদিত নেতা মাও সে তুং এর পর এই বিরল সন্মান ও ক্ষমতা শি জিংকে চীনের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতায় পরিণত করেছে৷ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মাও সে তুং এবং তার উত্তরসূরি দেং জিয়াওপিং এর পর তৃতীয় ব্যক্তি হলেন শি জিং যিনি এই বিরল সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

এদিকে শি জিং এর মতাদর্শের একটি মূল নীতি হলো অর্থনীতি থেকে সোশ্যাল মিডিয়া অবধি সমাজজীবনের প্রতিটি অঙ্গে ও প্রতিটি ক্ষেত্রে কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকাকে সম্যক গুরুত্ব দেওয়া৷ প্রেসিডেন্ট শি জিং পার্টির জাতীয় কংগ্রেস উদ্বোধনের সময় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, চীন ২০৫০ সালের মধ্যে ‘‘ বিশ্ব নেতৃস্থানীয় দেশে’’ পরিণত হবে।

ইউরোপে বিভক্তির সম্ভাবনাঃ  ইউরোপের বিভক্তি হবে সমগ্র বিশ্বের জন্য বিপদজনক। তবে শঙ্কার বিষয় হচ্ছে যে, ইউরোপে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন বিভক্তি প্রতীয়মান। বিবিসির ‘ক্রসিং ডিভাইডস’ শীর্ষক এক জরিপে দেখা গেছে, অনেক ইউরোপিয়ান মনে করছেন তাদের দেশগুলোতে এখন যেসকল বিভক্তি দৃশ্যমান, দশ বছর পূর্বেও তা ছিল বিরল। শতকরা ৪৭ ভাগ মানুষই মনে করছেন, সমাজে সহনশীলতা অনেকটাই লোপ পেয়েছে, বেড়েছে অস্থিরতা।

‘ইপসস মরি’ নামক অনলাইনের আরেক জরিপের হিসেব অনুযায়ী, ইউরোপের ২৭টি দেশের ৬৬ ভাগ মানুষ মনে করেন তারা জাতিগতভাবে অনেক বেশি বিভক্ত। আর ৪৪ ভাগ মানুষ মনে করেন, বিশ্বব্যাপী যে উত্তেজনা চলছে তার মূল কারণ হচ্ছে রাজনীতি। এছাড়া অধিকাংশ ব্রিটিশ মনে করেন ব্রিটেনে অভিবাসী ও সেদেশের নাগরিকদের মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তি আছে। জরিপে ১১টি ইউরোপিয়ান দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। দেশগুলো হলো- জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, হাঙ্গেরি, ইটালি, পোল্যান্ড, স্পেন, সুইডেন, সার্বিয়া, যুক্তরাজ্য এবং রাশিয়া। আর যদি তাই হয় তবে এই বিভক্তি কৌশল হিসেবে কাজে লাগাতে পারে চীন। কেননা যে কোন বিষয়ে বিভক্তি মানেই পরস্পর দুইটি পক্ষ, আর বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষ হিসেবে চীন বরাবরই ভূমিকা রেখে এসেছে।

তাইওয়ান হতে পারে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুঃ তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্যে ‘তাইওয়ান ট্র্যাভেল অ্যাক্ট’ নামক পাস হওয়া বিলে স্বাক্ষর করাতে চীন প্রয়োজনে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মার্কিন সিনেট কর্তৃক সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়া বিলটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাক্ষর করলে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায়। প্রশ্ন জাগতে পারে এমন কি আছে বিলটিতে যা চীনের ঘোরতর আপত্তির কারন। বিলটিতে উল্লেখ আছে, তাইওয়ানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা ‘সম্মানজনক প্রোটোকলে আমেরিকা সফর করতে পারবেন এবং শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এর সুযোগ লাভ করবেন। বিপরীতে যেকোনো পর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তারাও তাইওয়ান সফরে গিয়ে তাদের সমকক্ষদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন।

দীর্ঘদিন ধরেই চীন স্বায়ত্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবী করে আসছে। যে কোন কিছুর বিনিময়ে তাইওয়ান করায়ত্ত করতে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাই যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে বেইজিং আপত্তিস্বরূপ প্রতিবাদ জানিয়েছে এই কারণেই যে, বিষয়টি ‘এক চীন’ নীতির পরিপন্থি। এদিকে চীন তার সামরিক শক্তি তাইওয়ান প্রণালি থেকে শুরু করে জেমস শোয়াল অঞ্চল পর্যন্ত মোতায়েন করেছে। এই অঞ্চলেই অবস্থিত বিতর্কিত পার্সেল দ্বীপপুঞ্জ, ম্যাকক্লিসফিল্ড ব্যাংক এবং স্পার্টলি দ্বীপপুঞ্জ। চীনা সেনাবাহিনী তার সর্বশেষ সংস্কারের আওতায় সাব মেরিন বহরকে উক্ত অঞ্চলে মোতায়েন করেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে যেকোন উত্তেজনাকর মুহূর্তে তাইওয়ান আক্রান্ত হতে পারে চীন কর্তৃক।

উৎপাদন খাতে চীনের আমূল পরিবর্তন অভিসম্ভাবীঃ চীনের প্রেসিডেন্ট শিং জিং পিং মেড ইন চায়না : ২০২৫ নামে এক পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন। আর চীনের এই মহাপরিকল্পনায় কার্যত দুশ্চিন্তায় পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রশ্ন জাগতে পারে কি এমন আছে সেই পরিকলনায়। পৃথিবীর যে কোন দেশে এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কোন দোকানে ঢুকে চোখ বুলালেই দেখা যাবে পণ্যের অর্ধেকই চীনের তৈরি। মেড ইন চায়নার এই সাফল্যের কাহিনী কম বেশি সকলেরই জানা। কেননা এত সস্তায় কোন জিনিস পৃথিবীর আর কেউ এখনো পর্যন্ত তৈরি করতে পারেনি। কিন্তু পণ্যের গুনগত মান নিয়ে মানুষের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা আছে। কেননা চীনের ব্যর্থতা হচ্ছে তারা এখনো বিশ্ববাজারে নিজেদের ব্র্যান্ডগুলিকে সেভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি, যেভাবে পেরেছিল এশিয়ার অন্য আরেক জায়ান্ট জাপান। চীনের পন্য গুলোতে তাদের কোন নিজস্বতা নেই বলে প্রচার আছে, কেননা তারা পন্যের হুবুহু নকল করতেই অভ্যস্থ। তাই চীন এখন ‘মেড ইন চায়নার’ এই ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ বদলে দিতে বদ্ধ পরিকর। চীনের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তার ম্যানুফাকচারিং খাত। আর সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভিন্ন কৌশলে নতুন ট্রেড মার্ক সংযোজন করতে চায় চীন।

তারা যে পরিকল্পনাটি গ্রহণ করেছে মূলত তা তিন ধাপের। ২০২৫ সাল সেই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ মাত্র। ২০২৫ সাল নাগাদ চীন যেসব পণ্য তৈরি করবে, তার সবকিছুরই গুনগত মান তারা বাড়াতে চায়। এ লক্ষ্যে শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদনে তারা প্রয়োগ করবে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি। এছাড়াও এমন কিছু চীনা ব্র্যান্ড তারা তৈরি করবে, যেগুলো কিনতে ঝাঁপিয়ে পড়বে বিশ্ববাসী।

পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে ২০৩৫ সাল, এ সময়কালে চীনা কোম্পানিগুলো বিশ্বের বাকী সব কোম্পানিকে প্রযুক্তি, পণ্যের গুনগত মান এবং সুনামে ছাড়িয়ে যেতে চায়। এ লক্ষ্যে তারা নতুন উদ্ভাবনের দিকে মনোনিবেশ করবে এবং বিশ্ব নেতৃত্ব দেবে।

আর ২০৪৯ সাল হচ্ছে পরিকল্পনার তৃতীয় ধাপ, আধুনিক চীন যখন উদযাপন করবে তার প্রতিষ্ঠার একশো বছর। এই মহেন্দ্রক্ষণে চীন ম্যানুফ্যাকচারিং জগতে  বিশ্বের এক নম্বর শক্তি হয়ে উঠার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে।

মেড ইন চায়না : ২০২৫ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে চীনা কম্পানি আর চীনা ব্র্যান্ড বিশ্ব বাজারে চীনা আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। আর এটাই যুক্তরাষ্ট্রকে মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা দেবে।

চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনাঃ সাম্প্রতিককালের ঘটনা প্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সভায় এখন এই বিষয়টি প্রকাশ্য। যুক্তরাষ্ট্র কোন প্রস্তাব করলে চীন যেমন ভেটো দিয়ে আটকে দেয় ঠিক তেমনি চীনের প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র একই ভূমিকা পালন করে। একদিকে চীন মরিয়া সুপার পাওয়ার দেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও মরণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নিজের অবস্থান সংহত রাখতে। কেউ যেন কারো চেয়ে কম নয়, আর কেউ কাউকে ছেড়েও কথা বলছেনা। এসবের বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে চীন এখন অনেকটাই মুখোমুখি। বিশ্বে প্রবাহমান বিভিন্ন সমুদ্র সীমানা দখল নিতে এই দুই শক্তিধর রাষ্ট্র চেষ্টার ত্রুটি রাখছেনা। কৌশল হিসেবে নিজেদের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তারা জোটবদ্ধ হয়ে শক্তির মহড়া প্রদর্শন করে তা বাস্তবায়ন করতে চায়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং বিমান বাহিনীর বিরুদ্ধে লেজার রশ্মি ব্যবহার করছে চীন, এমনটাই অভিযোগ মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের। চীনের লেজার আক্রমণে অনেকটাই দিশেহারা যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবী, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এমন ২০ টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে যেখানে চীন লেজার ব্যবহার করার সমস্ত প্রমাণ তাদের রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী যে লেজার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থিত চীনা সামরিক ঘাটি থেকে এর উৎস বলে মনে করা হয়। তবে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও অমূলক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং তাঁর সম্প্রতি এক ভাষণে বলেছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে চীনের সেনাবাহিনী বিশ্বের অন্যতম সেরা বাহিনীতে পরিণত হবে। তিনি আরো ঘোষণা দিয়েছেন যে, জাতীয় পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নিজেদের পরিবর্তিত করার সময় এসেছে এবং সমস্ত বিশ্বকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক পাওয়ার দেখানোর জন্য তারা তৈরি হচ্ছে।” চীনের সেনাবাহিনী সরাসরি কমিউনিস্ট পার্টির অধীনস্থ। সেনার হাইকমান্ড হলো সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন, যার চেয়ারম্যান স্বয়ং জিনপিং। তিনি এই বাহিনীর ‘কোর লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে মনেনীত হয়েছেন। জিনপিং এখন একাধারে দলের শীর্ষ নেতা, দেশের প্রেসিডেন্ট ও সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার, যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে তাকে এখন আর বেগ পেতে হবেনা। ২০১২সালে জিনপিং প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ক্রমাগত চীনের সামরিক শক্তি বাড়াতে তৎপর ছিলেন। বর্তমানে চীনের সামরিক বাজেট প্রায় ১৪ হাজার কোটি ডলার এরও অধিক, যা আমেরিকার পর সর্বোচ্চ। ২০৩৫-এর মধ্যে বাহিনীকে বিশ্বের অন্যতম সেরা করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন জিনপিং। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মাথা ব্যথার অন্যতম কারন এখন চীনের সামরিক উত্থান। দুই দেশই রয়েছে যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে, তাই আশংকা বিরাজ করছে যেকোন মুহূর্তে পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার। অভিসম্ভ্যাবি সেই যুদ্ধে দুই দেশই তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। যদি কোন কারনে যুদ্ধ বেঁধে যায়, সে ক্ষেত্রে বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে ভবিষ্যৎ সুপার পাওয়ার কে হবে।

 

রাশিয়াকে মোকাবেলায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের বিশাল সামরিক প্রস্তুতি

Now Reading
রাশিয়াকে মোকাবেলায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের বিশাল সামরিক প্রস্তুতি

রাশিয়া প্রশ্নে হটাতই দিশেহারা হয়ে পড়ল যুক্তরাষ্ট্র, তাদের মধ্যে কিসের জানি অজানা আতংক বিরাজ করছে। এজন্য প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা রাশিয়াকেই অধিক বিবেচনা করে থাকে। রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোকে অব্যাহত চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রাসেলসে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস ন্যাটোর সাথে চুক্তির পরিকল্পনা করছেন যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে ৩০ দিনের মধ্যে ন্যাটো জোটের ৩০ ব্যাটেলিয়ন স্থল সেনা, ৩০টি যুদ্ধ জাহাজ ও ৩০টি যুদ্ধ বিমান মোতায়েন করা যায়।  আজ ৭জুন বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে তিনি এই চাপ দেয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। অবশ্য আগামী জুলাইতে ন্যাটোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এই বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার পরিকল্পনা আছে। এদিকে এই পরিকল্পনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে রাশিয়া, তারা পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা হুমকির জন্য ন্যাটোকেই দায়ী করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি কোন দ্বন্ধ না থাকলেও এই দুই দেশ পরস্পর বিরোধী হিসেবে বিশ্বে সমাদৃত। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে এই দ্বন্ধ প্রকাশ্যে আশে যখন ২০১৪ সালে রাশিয়া যখন অন্য সকলের মতামত উপেক্ষা করে একক কর্তৃত্বে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় এবং ২০১৫ সালে সিরিয়া যুদ্ধে আসাদ সরকারকে সমর্থন দিয়ে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। এসব বিষয় ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। মূলত এরপর থেকে সৃষ্টি হয়েছে দূরত্ব ফলশ্রুতিতে রাশিয়ার প্রকাশ্য কোণ বার্তাকেই আর গ্রাহ্য কিংবা বিশ্বাসে নিচ্ছেনা ওয়াশিংটন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক নীতিতে রাশিয়াকে বরাবরই গণ্য করে এসেছে। চলতি বছরের পেন্টাগনের যে প্রতিরক্ষা নীতি ঘোষণা হয়েছে সেখানে মস্কোকে সবচেয়ে বড় হুমকি বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আর ঘোষিত সেই নীতিতে স্পষ্টই বলা আছে ন্যাটো জোটকে ধ্বংসের চেষ্টায় রাশিয়া তৎপর।

তাই আজ ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় যুদ্ধ প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে চাপ বাড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই পরিকল্পনায় কি পরিমাণ সেনা এবং যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করা হবে তা স্পষ্ট নয়। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া সবসময় যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে থাকে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে রনাঙ্গনে দ্রুত সেনা পাঠাতেও সক্ষম। সেই জায়গায় ন্যাটো ও অন্যান্য দেশের অনেকটাই ব্যাবধান, তারা দ্রুত চাইলেও তেমনটা পারেনা। আর এই বিষয়টি বিবেচনা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে পূর্ব থেকেই যেন সেনা মোতায়েন রাখা যায়। পরিসংখ্যান বলছে ন্যাটো জোটের প্রতি ব্যাটেলিয়ন সৈন্য সংখ্যা অবস্থাভেদে বিভিন্ন রকম হয়। প্রতি ব্যাটেলিয়ন কমকরে প্রায় ৬০০ থেকে এক হাজার সেনা থাকে। এদিকে নতুন এই মার্কিন পরিকল্পনাকে নাম দেয়া হয়েছে ৩০-৩০-৩০ নামে। এখন দেখার পালা আদৌ মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট কি পারবে রাশিয়াকে রুখতে!

Page Sidebar