3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

চীন সুপার পাওয়ারে পরিণত হলে ১০টি উপায়ে ঘটবে বিশ্বের পরিবর্তন

Now Reading
চীন সুপার পাওয়ারে পরিণত হলে ১০টি উপায়ে ঘটবে বিশ্বের পরিবর্তন

চীন তার লক্ষ্য স্থির করেছে যে আগামীতে তারাই হবে সুপার পাওয়ার দেশের অধিকারী। তারা ইতিমধ্যেই এ লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্ম কৌশল গ্রহণ করেছে। এ ব্যাপারে চীনের প্রেসিডেন্ট শিং জিং পিং জনসম্মুখে ঘোষণা করেছে, আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে তারা বিশ্ব নেতৃত্ব দেবে। ইরাক-সিরিয়াসহ একাধিক দেশে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ব্যস্ত আমেরিকা। এদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত এককালের দাপুটে রাশিয়া। অন্যদিকে সুনির্দিষ্ট রণকৌশল ও সাহসী পদক্ষেপ নেয়ার অক্ষমতায় ভুগছে ভারতের মতো দেশ। ফলে এই মুহূর্তে একক শক্তির আসন কার্যত টালমাটাল। আর এমন পরিস্থিতিতে সুযোগের সদ্ব্যবহার করে আমেরিকাকে ধরাশায়ী করার ছক কষছে চীন। অঢেল প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য্য, বিশাল মানব সম্পদ এবং শক্তিশালী অর্থনীতিতে ভর করে কিভাবে এগিয়ে যাওয়া যাবে এমন পরিকল্পনাই করছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

যদি চীন তার লক্ষ্য অর্জন করে তবে বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করবে পৃথিবীর আমূল এক পরিবর্তন, হয়ত আমাদের জীবদশায় তা দেখে যেতে পারব। তেমন যদি হয় ইতিহাসে প্রথমবারের মত আমেরিকার প্রভাব প্রতিপত্তি হ্রাস ঘটবে এবং অন্যদিকে বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হবে চীনের। আমাদের স্পষ্ট কোন ধারণাই নেই বিশ্ব কিরুপ অবস্থায় রুপ ধারণ করবে। চীন তাদের ইমেজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছে কিভাবে বৃহৎ শক্তি রুপে নিজেদের জানান দেয়া যায়।

আফ্রিকা হতে পারে বিশ্ব শক্তিধরের একজনঃ চীনের এমন উত্থান আবার তাদের জন্য মঙ্গল জনক নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আফ্রিকা শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এদিকে অনেকে কল্পনাই করতে পারবেনা আফ্রিকার বিষয়ে চীন খেলার কি দান টাই চালছে। বর্তমান সময়ে আফ্রিকার সাহায্যকারী প্রধান দেশ হিসেবে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তারা সেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এই পরিমাণ আরো বাড়বে। তারা সেখানে এমন অনেক প্রকল্প নিয়ে এগুচ্ছে যা ২০২৫ সালের মধ্যে বিনিয়োগের লক্ষ্য মাত্রা হবে ১ট্রিলিয়ন ডলার। পাশ্চাত্য দেশ গুলি অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে এখানে বিনিয়োগ করাতে, কেননা এই অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশই স্বৈরচার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বিভিন্ন দেশে আমেরিকান অর্থ বিনিয়োগ হয় রাজনৈতিক সংস্কার এবং গণতন্ত্রায়নের নিমিত্তে। তবে সে ক্ষেত্রে চীন এসব পরোয়া করেনা, তারা আফ্রিকার দারিদ্র বিমোচনে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, আফ্রিকায় বিনিয়োগ করা প্রতি ডলারের বিপরীতে ৬ডলার আয় করছে। ইতিমধ্যে চীন ও আফ্রিকার মধ্যে বেশ ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। চীন চাচ্ছে সে সম্পর্কের প্রসার ঘটিয়ে ব্যপক বিনিয়োগের। ইতিমধ্যে আফ্রিকাও তার সুফল পেতে শুরু করেছে, আফ্রিকার একশ কোটি লোকের মধ্যে ৩০ কোটি লোক ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে মধ্য আয়ের সারিতে। তাদের দারিদ্রতা বলতে গেলে অনেকটাই বিমোচিত হয়েছে। বলা হচ্ছে চীন ও আফ্রিকার এই সম্মীলনে ভবিষ্যতে বিশ্ব পাবে এক নতুন মাত্রা। ‘সুপার পাওয়ার’ হিসেবে বিশ্বে নিজের দাপট বাড়ানোর নকশা তৈরি করে ফেলেছে চীন। আসুন কিছু বিষয়ে আলোকপাত করি কিকি কারণে চীন তার লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মন্দাঃ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নানামুখি সংকট বর্তমান বিশ্বের এই এক নম্বর সুপার পাওয়ার দেশটির ভবিষ্যৎ অনেকটাই অনশ্চিয়তার মুখোমুখি। যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে এই সংকট হতে উত্তরণ লাভ করলেও দীর্ঘ মেয়াদে দেশটি কোনোভাবেই তার অবস্থান ধরে রাখতে পারবে বলে মনে করছেন না আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী এই সংকটের প্রধান কারণ তাদের অতিমাত্রায় ভোগবাদিতা এবং বিলাসিতা। জীবনটা বিলাসীভাবে উপভোগ করতে গিয়ে তারা অধিক মাত্রায় ঋণ করার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আর সাধারণ নাগরিকদের এই মনোভাবকে পুঁজি করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সে দেশে জমজমাট ব্যবসায় করে যাচ্ছে। এর কারণ বিশ্বের স্বল্প সুদে সহজে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সবার শীর্ষে। সেখানকার ব্যাংকগুলো ঋণ আদায়ে যথেষ্ট দীর্ঘ সুত্রিতার সম্মুখীন হচ্ছে। অনেক ব্যাংক ইতিমধ্যেই ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে দেউলিয়া হয়ে গেছে। ২০০৭ সাল থেকে ২০১১ সালের মধ্যে মোট ১৫৪টি বড় আকারের ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেছে। এ ছাড়াও দেশটি উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ না করে অনুৎপাদনশীল খাতে অতিমাত্রায় পুঁজি বিনিয়োগের ফলে ক্রমশ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। যার প্রভাব সমগ্র অর্থনীতির উপর ভর করেছে। এদিকে দেখা যাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বহির্বিশ্বের দেশগুলোতে চীনের বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি।  তাই অনেক ক্ষেত্রে এই অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে চীনের ভুমিকাও জড়িত। চীন চাচ্ছে অর্থনৈতিক কৌশল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ক্রমশ দুর্বল করে দিতে।

আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিশ্বব্যাপী ভূমিকাঃ অনেকের অনুমান সত্ত্বেও হয়ত এই মুহূর্তে চীন পৃথিবীর কোথাও তার শক্তি প্রয়োগ করবে না কিংবা কাউকে কমিউনিস্ট হতে প্রলুব্ধ করবেনা। যদি আফ্রিকার সাথে তাদের কোন চুক্তি সম্পাদিত হয়, চীন খুব শান্ত উপায়েই তা নিয়ন্ত্রণ করছে। চীনের সরকারি কিছু চুক্তি আছে আফ্রিকার সাথে যেখানে তারা কোন হস্তক্ষেপ করতে চায়না। যদিও সেক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সম্পূর্ণ উল্টো, তারা অনুন্নত দেশ এবং স্বৈরশাসক নিয়ন্ত্রিত দেশ সমুহে লিখিত কিংবা অলিখিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু চীন এর নীতি হল তারা সে দেশকে নিজেদের মত থাকতে দিতে চায়। এমনকি সুদান ও জিম্বাবুয়ের মত দেশে বিনিয়োগ সত্ত্বেও তাদের মানবাধিকার, আইন ও বিচার ব্যবস্থায় নুন্যতম প্রভাব বিস্তার করেনি চীন। আর এখানেই পার্থক্য চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। আমেরিকান সামরিক বাহিনী অক্ষম মানেই আমেরিকা অরক্ষিত, এমনকি সমগ্র ইউরোপের যে সকল দেশ গণতান্ত্রিক তাদের ক্ষেত্রেও তাই যারা আমেরিকার সামরিক বাহিনীটিকে তাদের প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে গণ্য করে। কিন্তু চীন এসব গণতন্ত্র নিয়ে ভাবেনা, এবং যদিনা আমেরিকা তার শক্তির প্রদর্শন মাত্রা ছাড়ায় সেক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতে দেখা যাবে যে চীনা সামরিক বাহিনী সমগ্র বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ সমূহ গ্রাস করে বসবে। রাজনৈতিক মাপকাঠিতে আপাত নিরীহ মনে হলেও প্রয়োজনে চীন তার ভয়ংকর রুপ প্রকাশে দ্বিধা করবে না হয়ত।

বিশ্ব বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি হবে রাজ্য নির্ধারিতঃ চীন এখন ঠাণ্ডা মাথায় তার লক্ষ্য অর্জনে এগুচ্ছে। পৃথিবীর কোথাও অস্ত্র ও বোমা ব্যবহারের পরিবর্তে অন্য পন্থা অবলম্বন করছে। তার মধ্যে আরেকটি হল চীনা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার। এই পদ্ধতিকে তারা বলছে “ সফট পাওয়ার”। তারা তাদের স্কুল ও বিশ্ব বিদ্যালয় গুলোতে বাধ্যতামূলক রাজ্য নির্ধারিত পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করেছে। এসব পাঠ্য সূচি চীন এবং কমিউনিস্ট পার্টির ভাবধারায় প্রবর্তিত। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তুলনায় তারা এখন আফ্রিকান ছাত্রদের প্রতি বেশি ঝুঁকছেন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির ব্যাপারে। কেননা সেই ছাত্ররাই হতে পারে ভবিষ্যৎ রাজনীতিবিদ বা নেতা। শুধুই যে চীনে এই ব্যবস্থা আছে তা কিন্তু নয়, চীনের এই ভাবধারাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পৃথিবীর ১৪০টি দেশে চালু হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ১৫০০টি মত চীনা স্কুল বা শিক্ষা কেন্দ্র।  সেসব শিক্ষা কেন্দ্রে নিয়োজিত আছে বহু চীনা শিক্ষক যারা প্রতিনিয়ত শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন, কিভাবে চীন উন্নয়নের মডেলে রুপান্তর হচ্ছে এবং পাশ্চাত্য ভ্রান্ত ধারণাগুলো সঠিক রুপ কি হবে। পাশাপাশি চীন সম্পর্কে বিশদ ভাবে জানা এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ঐতিহ্য সম্পর্কে ছাত্রদের মধ্যে ধারণা দেয়া। আর এ সব কিছুই চীনের রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদিত পাঠ।

নতুনভাবে চীনের ইতিহাস রচিতঃ  চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম দলীয় অধিবেশনে প্রায় ২,৩০০ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সিপিসি’র মহাসচিব হিসাবে ৫বছরের জন্য মনোনীত হয়ে পুনরায় দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে অভিষিক্ত হয়েছেন শি জিনপিং। পার্টির পলিট ব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের অভ্যন্তরে তার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এমনকি, বেঁচে থাকলে নজিরবিহীনভাবে তৃতীয় দফাতেও তিনি শীর্ষ পদে আসীন হতে পারেন। পাঁচ বছর অন্তর সিপিসি-র কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যসংখ্যা প্রায় নয় কোটি যার মধ্যে সেন্ট্রাল কমিটির সদস্যসংখ্যা ২০৪৷ পার্টির সিদ্ধান্তনুযায়ী শি জিনপিং ও তাঁর মতাদর্শকে সরকারিভাবে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷ চীনের অবিসংবাদিত নেতা মাও সে তুং এর পর এই বিরল সন্মান ও ক্ষমতা শি জিংকে চীনের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতায় পরিণত করেছে৷ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মাও সে তুং এবং তার উত্তরসূরি দেং জিয়াওপিং এর পর তৃতীয় ব্যক্তি হলেন শি জিং যিনি এই বিরল সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

এদিকে শি জিং এর মতাদর্শের একটি মূল নীতি হলো অর্থনীতি থেকে সোশ্যাল মিডিয়া অবধি সমাজজীবনের প্রতিটি অঙ্গে ও প্রতিটি ক্ষেত্রে কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকাকে সম্যক গুরুত্ব দেওয়া৷ প্রেসিডেন্ট শি জিং পার্টির জাতীয় কংগ্রেস উদ্বোধনের সময় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, চীন ২০৫০ সালের মধ্যে ‘‘ বিশ্ব নেতৃস্থানীয় দেশে’’ পরিণত হবে।

ইউরোপে বিভক্তির সম্ভাবনাঃ  ইউরোপের বিভক্তি হবে সমগ্র বিশ্বের জন্য বিপদজনক। তবে শঙ্কার বিষয় হচ্ছে যে, ইউরোপে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন বিভক্তি প্রতীয়মান। বিবিসির ‘ক্রসিং ডিভাইডস’ শীর্ষক এক জরিপে দেখা গেছে, অনেক ইউরোপিয়ান মনে করছেন তাদের দেশগুলোতে এখন যেসকল বিভক্তি দৃশ্যমান, দশ বছর পূর্বেও তা ছিল বিরল। শতকরা ৪৭ ভাগ মানুষই মনে করছেন, সমাজে সহনশীলতা অনেকটাই লোপ পেয়েছে, বেড়েছে অস্থিরতা।

‘ইপসস মরি’ নামক অনলাইনের আরেক জরিপের হিসেব অনুযায়ী, ইউরোপের ২৭টি দেশের ৬৬ ভাগ মানুষ মনে করেন তারা জাতিগতভাবে অনেক বেশি বিভক্ত। আর ৪৪ ভাগ মানুষ মনে করেন, বিশ্বব্যাপী যে উত্তেজনা চলছে তার মূল কারণ হচ্ছে রাজনীতি। এছাড়া অধিকাংশ ব্রিটিশ মনে করেন ব্রিটেনে অভিবাসী ও সেদেশের নাগরিকদের মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তি আছে। জরিপে ১১টি ইউরোপিয়ান দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। দেশগুলো হলো- জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, হাঙ্গেরি, ইটালি, পোল্যান্ড, স্পেন, সুইডেন, সার্বিয়া, যুক্তরাজ্য এবং রাশিয়া। আর যদি তাই হয় তবে এই বিভক্তি কৌশল হিসেবে কাজে লাগাতে পারে চীন। কেননা যে কোন বিষয়ে বিভক্তি মানেই পরস্পর দুইটি পক্ষ, আর বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষ হিসেবে চীন বরাবরই ভূমিকা রেখে এসেছে।

তাইওয়ান হতে পারে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুঃ তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্যে ‘তাইওয়ান ট্র্যাভেল অ্যাক্ট’ নামক পাস হওয়া বিলে স্বাক্ষর করাতে চীন প্রয়োজনে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মার্কিন সিনেট কর্তৃক সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়া বিলটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাক্ষর করলে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায়। প্রশ্ন জাগতে পারে এমন কি আছে বিলটিতে যা চীনের ঘোরতর আপত্তির কারন। বিলটিতে উল্লেখ আছে, তাইওয়ানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা ‘সম্মানজনক প্রোটোকলে আমেরিকা সফর করতে পারবেন এবং শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এর সুযোগ লাভ করবেন। বিপরীতে যেকোনো পর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তারাও তাইওয়ান সফরে গিয়ে তাদের সমকক্ষদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন।

দীর্ঘদিন ধরেই চীন স্বায়ত্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবী করে আসছে। যে কোন কিছুর বিনিময়ে তাইওয়ান করায়ত্ত করতে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাই যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে বেইজিং আপত্তিস্বরূপ প্রতিবাদ জানিয়েছে এই কারণেই যে, বিষয়টি ‘এক চীন’ নীতির পরিপন্থি। এদিকে চীন তার সামরিক শক্তি তাইওয়ান প্রণালি থেকে শুরু করে জেমস শোয়াল অঞ্চল পর্যন্ত মোতায়েন করেছে। এই অঞ্চলেই অবস্থিত বিতর্কিত পার্সেল দ্বীপপুঞ্জ, ম্যাকক্লিসফিল্ড ব্যাংক এবং স্পার্টলি দ্বীপপুঞ্জ। চীনা সেনাবাহিনী তার সর্বশেষ সংস্কারের আওতায় সাব মেরিন বহরকে উক্ত অঞ্চলে মোতায়েন করেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে যেকোন উত্তেজনাকর মুহূর্তে তাইওয়ান আক্রান্ত হতে পারে চীন কর্তৃক।

উৎপাদন খাতে চীনের আমূল পরিবর্তন অভিসম্ভাবীঃ চীনের প্রেসিডেন্ট শিং জিং পিং মেড ইন চায়না : ২০২৫ নামে এক পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন। আর চীনের এই মহাপরিকল্পনায় কার্যত দুশ্চিন্তায় পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রশ্ন জাগতে পারে কি এমন আছে সেই পরিকলনায়। পৃথিবীর যে কোন দেশে এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কোন দোকানে ঢুকে চোখ বুলালেই দেখা যাবে পণ্যের অর্ধেকই চীনের তৈরি। মেড ইন চায়নার এই সাফল্যের কাহিনী কম বেশি সকলেরই জানা। কেননা এত সস্তায় কোন জিনিস পৃথিবীর আর কেউ এখনো পর্যন্ত তৈরি করতে পারেনি। কিন্তু পণ্যের গুনগত মান নিয়ে মানুষের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা আছে। কেননা চীনের ব্যর্থতা হচ্ছে তারা এখনো বিশ্ববাজারে নিজেদের ব্র্যান্ডগুলিকে সেভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি, যেভাবে পেরেছিল এশিয়ার অন্য আরেক জায়ান্ট জাপান। চীনের পন্য গুলোতে তাদের কোন নিজস্বতা নেই বলে প্রচার আছে, কেননা তারা পন্যের হুবুহু নকল করতেই অভ্যস্থ। তাই চীন এখন ‘মেড ইন চায়নার’ এই ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ বদলে দিতে বদ্ধ পরিকর। চীনের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তার ম্যানুফাকচারিং খাত। আর সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভিন্ন কৌশলে নতুন ট্রেড মার্ক সংযোজন করতে চায় চীন।

তারা যে পরিকল্পনাটি গ্রহণ করেছে মূলত তা তিন ধাপের। ২০২৫ সাল সেই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ মাত্র। ২০২৫ সাল নাগাদ চীন যেসব পণ্য তৈরি করবে, তার সবকিছুরই গুনগত মান তারা বাড়াতে চায়। এ লক্ষ্যে শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদনে তারা প্রয়োগ করবে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি। এছাড়াও এমন কিছু চীনা ব্র্যান্ড তারা তৈরি করবে, যেগুলো কিনতে ঝাঁপিয়ে পড়বে বিশ্ববাসী।

পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে ২০৩৫ সাল, এ সময়কালে চীনা কোম্পানিগুলো বিশ্বের বাকী সব কোম্পানিকে প্রযুক্তি, পণ্যের গুনগত মান এবং সুনামে ছাড়িয়ে যেতে চায়। এ লক্ষ্যে তারা নতুন উদ্ভাবনের দিকে মনোনিবেশ করবে এবং বিশ্ব নেতৃত্ব দেবে।

আর ২০৪৯ সাল হচ্ছে পরিকল্পনার তৃতীয় ধাপ, আধুনিক চীন যখন উদযাপন করবে তার প্রতিষ্ঠার একশো বছর। এই মহেন্দ্রক্ষণে চীন ম্যানুফ্যাকচারিং জগতে  বিশ্বের এক নম্বর শক্তি হয়ে উঠার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে।

মেড ইন চায়না : ২০২৫ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে চীনা কম্পানি আর চীনা ব্র্যান্ড বিশ্ব বাজারে চীনা আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। আর এটাই যুক্তরাষ্ট্রকে মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা দেবে।

চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনাঃ সাম্প্রতিককালের ঘটনা প্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সভায় এখন এই বিষয়টি প্রকাশ্য। যুক্তরাষ্ট্র কোন প্রস্তাব করলে চীন যেমন ভেটো দিয়ে আটকে দেয় ঠিক তেমনি চীনের প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র একই ভূমিকা পালন করে। একদিকে চীন মরিয়া সুপার পাওয়ার দেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও মরণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নিজের অবস্থান সংহত রাখতে। কেউ যেন কারো চেয়ে কম নয়, আর কেউ কাউকে ছেড়েও কথা বলছেনা। এসবের বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে চীন এখন অনেকটাই মুখোমুখি। বিশ্বে প্রবাহমান বিভিন্ন সমুদ্র সীমানা দখল নিতে এই দুই শক্তিধর রাষ্ট্র চেষ্টার ত্রুটি রাখছেনা। কৌশল হিসেবে নিজেদের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তারা জোটবদ্ধ হয়ে শক্তির মহড়া প্রদর্শন করে তা বাস্তবায়ন করতে চায়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং বিমান বাহিনীর বিরুদ্ধে লেজার রশ্মি ব্যবহার করছে চীন, এমনটাই অভিযোগ মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের। চীনের লেজার আক্রমণে অনেকটাই দিশেহারা যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবী, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এমন ২০ টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে যেখানে চীন লেজার ব্যবহার করার সমস্ত প্রমাণ তাদের রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী যে লেজার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থিত চীনা সামরিক ঘাটি থেকে এর উৎস বলে মনে করা হয়। তবে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও অমূলক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং তাঁর সম্প্রতি এক ভাষণে বলেছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে চীনের সেনাবাহিনী বিশ্বের অন্যতম সেরা বাহিনীতে পরিণত হবে। তিনি আরো ঘোষণা দিয়েছেন যে, জাতীয় পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নিজেদের পরিবর্তিত করার সময় এসেছে এবং সমস্ত বিশ্বকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক পাওয়ার দেখানোর জন্য তারা তৈরি হচ্ছে।” চীনের সেনাবাহিনী সরাসরি কমিউনিস্ট পার্টির অধীনস্থ। সেনার হাইকমান্ড হলো সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন, যার চেয়ারম্যান স্বয়ং জিনপিং। তিনি এই বাহিনীর ‘কোর লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে মনেনীত হয়েছেন। জিনপিং এখন একাধারে দলের শীর্ষ নেতা, দেশের প্রেসিডেন্ট ও সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার, যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে তাকে এখন আর বেগ পেতে হবেনা। ২০১২সালে জিনপিং প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ক্রমাগত চীনের সামরিক শক্তি বাড়াতে তৎপর ছিলেন। বর্তমানে চীনের সামরিক বাজেট প্রায় ১৪ হাজার কোটি ডলার এরও অধিক, যা আমেরিকার পর সর্বোচ্চ। ২০৩৫-এর মধ্যে বাহিনীকে বিশ্বের অন্যতম সেরা করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন জিনপিং। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মাথা ব্যথার অন্যতম কারন এখন চীনের সামরিক উত্থান। দুই দেশই রয়েছে যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে, তাই আশংকা বিরাজ করছে যেকোন মুহূর্তে পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার। অভিসম্ভ্যাবি সেই যুদ্ধে দুই দেশই তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। যদি কোন কারনে যুদ্ধ বেঁধে যায়, সে ক্ষেত্রে বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে ভবিষ্যৎ সুপার পাওয়ার কে হবে।

 

রাশিয়াকে মোকাবেলায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের বিশাল সামরিক প্রস্তুতি

Now Reading
রাশিয়াকে মোকাবেলায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের বিশাল সামরিক প্রস্তুতি

রাশিয়া প্রশ্নে হটাতই দিশেহারা হয়ে পড়ল যুক্তরাষ্ট্র, তাদের মধ্যে কিসের জানি অজানা আতংক বিরাজ করছে। এজন্য প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা রাশিয়াকেই অধিক বিবেচনা করে থাকে। রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোকে অব্যাহত চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রাসেলসে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস ন্যাটোর সাথে চুক্তির পরিকল্পনা করছেন যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে ৩০ দিনের মধ্যে ন্যাটো জোটের ৩০ ব্যাটেলিয়ন স্থল সেনা, ৩০টি যুদ্ধ জাহাজ ও ৩০টি যুদ্ধ বিমান মোতায়েন করা যায়।  আজ ৭জুন বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে তিনি এই চাপ দেয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। অবশ্য আগামী জুলাইতে ন্যাটোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এই বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার পরিকল্পনা আছে। এদিকে এই পরিকল্পনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে রাশিয়া, তারা পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা হুমকির জন্য ন্যাটোকেই দায়ী করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি কোন দ্বন্ধ না থাকলেও এই দুই দেশ পরস্পর বিরোধী হিসেবে বিশ্বে সমাদৃত। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে এই দ্বন্ধ প্রকাশ্যে আশে যখন ২০১৪ সালে রাশিয়া যখন অন্য সকলের মতামত উপেক্ষা করে একক কর্তৃত্বে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় এবং ২০১৫ সালে সিরিয়া যুদ্ধে আসাদ সরকারকে সমর্থন দিয়ে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। এসব বিষয় ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। মূলত এরপর থেকে সৃষ্টি হয়েছে দূরত্ব ফলশ্রুতিতে রাশিয়ার প্রকাশ্য কোণ বার্তাকেই আর গ্রাহ্য কিংবা বিশ্বাসে নিচ্ছেনা ওয়াশিংটন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক নীতিতে রাশিয়াকে বরাবরই গণ্য করে এসেছে। চলতি বছরের পেন্টাগনের যে প্রতিরক্ষা নীতি ঘোষণা হয়েছে সেখানে মস্কোকে সবচেয়ে বড় হুমকি বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আর ঘোষিত সেই নীতিতে স্পষ্টই বলা আছে ন্যাটো জোটকে ধ্বংসের চেষ্টায় রাশিয়া তৎপর।

তাই আজ ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় যুদ্ধ প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে চাপ বাড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই পরিকল্পনায় কি পরিমাণ সেনা এবং যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করা হবে তা স্পষ্ট নয়। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া সবসময় যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে থাকে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে রনাঙ্গনে দ্রুত সেনা পাঠাতেও সক্ষম। সেই জায়গায় ন্যাটো ও অন্যান্য দেশের অনেকটাই ব্যাবধান, তারা দ্রুত চাইলেও তেমনটা পারেনা। আর এই বিষয়টি বিবেচনা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে পূর্ব থেকেই যেন সেনা মোতায়েন রাখা যায়। পরিসংখ্যান বলছে ন্যাটো জোটের প্রতি ব্যাটেলিয়ন সৈন্য সংখ্যা অবস্থাভেদে বিভিন্ন রকম হয়। প্রতি ব্যাটেলিয়ন কমকরে প্রায় ৬০০ থেকে এক হাজার সেনা থাকে। এদিকে নতুন এই মার্কিন পরিকল্পনাকে নাম দেয়া হয়েছে ৩০-৩০-৩০ নামে। এখন দেখার পালা আদৌ মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট কি পারবে রাশিয়াকে রুখতে!

কোন বিশ্বকাপ খেলা হয়েছে কোন ফুটবলে

Now Reading
কোন বিশ্বকাপ খেলা হয়েছে কোন ফুটবলে

বিশ্বকাপ শুরু হতে খুব বেশি দেরী নেই। পৃথিবীর শত কোটি মানুষের চোখ এখন রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপ এর উপর। বিশ্বকাপের অনেকগুলো অনুষঙ্গের মধ্যে প্রধান হচ্ছে ফুটবল, খেলার এই মূল অনুষঙ্গ নিয়েই আজকের লেখা। বিশ্বকাপের প্রতিটি আয়োজনের সাথে থাকে বলের নতুনত্ব এবং উন্নত সংস্করণ। বিশ্বকাপের সেইসব বলের পেছনের গল্প ও বেশ ঐতিহ্যমণ্ডিত। বিশ্বকাপের শুরুর দিকে ব্যবহার করা ফুটবল খুব একটা উন্নত এবং দৃষ্টিনন্দন ছিল না। ধারাবাহিকতার ক্রমে পাল্টেছে ফুটবল, এসেছে তার উন্নত সংস্করণ। আর এসব উন্নত ফুটবল তৈরির জন্য যুগের পর যুগ চলেছে গবেষণা, কিভাবে একে উন্নত করা যায় সে প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত। ১৯৩০ সালের উরুগুয়ের প্রথম বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপ পর্যন্ত বিভিন্নভাবে বিবর্তিত হয়েছে এই ফুটবল। ভিন্ন ভিন্ন নামে, ভিন্ন ডিজাইন ও রঙে, আধুনিক এবং খেলার সবচেয়ে উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে এই ফুটবলকে।

 

চলুন জানা যাক কোন বিশ্বকাপে কোন বলটি দিয়ে খেলা হয়েছে:

১৯৩০ উরুগুয়ে, টি মডেল

 

এবং ১৯৩০ উরুগুয়ে, টিএনটো

 

১৯৩৪ ইতালি, ফেডারেল ১০২

 

১৯৩৮ ফ্রান্স, অ্যালেন

 

<<< ১৯৪২ এবং ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ হয়নি>>>

 

১৯৫০ ব্রাজিল, ডুপলোট

 

১৯৫৪ সুইজারল্যান্ড, সুইস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন

 

১৯৫৮ সুইডেন, টপ স্টার

 

১৯৬২ চিলি, ক্র্যাক

 

১৯৬৬ ইংল্যান্ড, স্লেজেঙ্গার চ্যালেঞ্জ

 

১৯৭০ মেক্সিকো, টেলস্টার

 

১৯৭৪ জার্মানি, টেলস্টার ডারলেস্ট

 

১৯৭৮ আর্জেন্টিনা, টাঙ্গো ডারলেস্ট

 

১৯৮২ স্পেন, টাঙ্গো স্পানা

 

১৯৮৬ মেক্সিকো, আজট্যাকা

 

১৯৯০ ইতালি, এতরুসকো উইনিকো

 

১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র, কুইস্ট্রা

 

১৯৯৮ ফ্রান্স, ট্রিকোলোর

 

২০০২ দক্ষিণ কোরিয়া/জাপান, ফেভারনোভা

২০০৬ জার্মানি, টিমগেইস্ট

২০১০ দক্ষিন আফ্রিকা, জাবুলানি

২০১৪ ব্রাজিল, ব্রাজুকা

২০১৮ রাশিয়া, টেলস্টার ১৮

তবে বিশ্বকাপ ফুটবল তৈরিতে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। জার্মান এই কোম্পানিটি ১৯৬৩ সাল থেকে ফুটবল তৈরি করে আসছে। আর ১৯৭০ সাল থেকে বিশ্বকাপের জন্য বল তৈরির দায়িত্ব পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির উপর, এরপর থেকে তারা এখনো পর্যন্ত টানা বল তৈরি করেছে ফিফার জন্য। রাশিয়া বিশ্বকাপে অ্যাডিডাস এবার তৈরি করেছে টেলস্টার ১৮ নামের বল। যদিও বিগত বছর গুলোতে দেখা গেছে আয়োজক দেশের ঐতিহ্যের ছাপ রাখা হত বিশ্বকাপের বলের নাম ও ডিজাইনে। যেমন, ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ‘জাবুলানি’ এবং ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ‘ব্রাজুকা’ বল যার ডিজাইন সেইসব দেশের ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্য। কিন্তু এবার আর সে ধারা বজায় রাখেনি অ্যাডিডাস। তারা ফিরিয়ে এনেছে ৪৪ বছর পূর্বের ১৯৭০ মেক্সিকো বিশ্বকাপে ব্যবহার করা সেই সাদা-কালো টেলস্টারকে। রাশিয়ার রঙিন ক্যানভাসে আয়োজিত বিশ্বকাপের এই বলটির অফিসিয়াল নাম দেয়া হয়েছে ‘টেলস্টার ১৮’।  আধুনিকতা আর প্রযুক্তির প্রতীক হিসেবে এর কালো প্যানেলে যুক্ত হয়েছে পিক্সেল, আর ভেতরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে উন্নত প্রযুক্তির চিপ। মূলত টেলস্টার তৈরির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ঐতিহাসিক বলটিকেই নতুন করে ফিরে এনেছে অ্যাডিডাস। সেই ১৯৬৮ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম উন্মুক্ত করা হয় টেলস্টার বলকে। তারপর ১৯৭০ এবং ১৯৭৪ বিশ্বকাপেও এই বল দিয়ে খেলা হয়েছে । অ্যাডিডাস যুগের আগ পর্যন্ত স্বাগতিক দেশই বল সরবরাহ করতো। ১৯৭০ এর পূর্বের ৮টি বিশ্বকাপে যে বল দিয়ে খেলা হয়েছে চলুন জেনে নিই তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসওঃ

১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে খেলা হয়েছে “টি মডেল” নামক বল দিয়ে। সত্যি বলতে কি ঐ বিশ্বকাপে কোন অফিসিয়াল বল ছিল না। ফাইনাল শুরুর আগে দুই ফাইনালিস্ট উরুগুয়ে এবং আর্জেন্টিনার মধ্যে তর্ক বেঁধে যায় কারা বল সাপ্লাই দেবে। তবে মজার ব্যাপার হল সেই বিশ্বকাপের ফাইনালে দুইটি ভিন্ন বল দিয়েই খেলা হয়েছিল। ফাইনালের প্রথম অধ্যায়ে আর্জেন্টিনার পছন্দ করা বল “টিএনটো” দিয়ে এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে উরুগুয়ের পছন্দ করা বল “টি মডেল” দিয়ে খেলা হয়েছে। যদিও বল দুটি দেখতে একই সাদৃশ্যের ছিল। ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত আর সেরকম নজীর স্থাপন হয়নি।

শুরুর দিকে যদিও ইংল্যান্ড বেশিরভাগ বল তৈরির অধিকারী ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আরো কিছু দেশ ফুটবল তৈরি শুরু করে। ১৯৩৪ সালে আয়োজিত দ্বিতীয় বিশ্বকাপে স্বাগতিক ইটালি দাবি করে বিশ্বকাপের বল তারাই তৈরি করবে। সেই অনুযায়ী ‘ফেডারেল ১০২’ নামে ১৩টি প্যানেলের বল সরবরাহ করে স্বাগতিক ইটালি। ১৯৩৮ সালে স্বাগতিক ফ্রান্স তৈরি করে ‘অ্যালেন” নামের বল। প্যারিস কেন্দ্রিক অ্যালেন হচ্ছে প্রথম প্রতিষ্ঠান যাদেরকে নিজেদের ব্র্যান্ডের বল তৈরির অনুমতি দেয়া হয়। বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ এবং ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়নি। দীর্ঘ ১২বছর পর পুনরায় আয়োজন করা হয় বিশ্বকাপ।

১৯৩০ সালে আর্জেন্টাইন কোম্পানি তোসোলিনি ফুটবল তৈরিতে ব্রেক থ্রু নিয়ে আসে। তারা এমন একটি বল তৈরি করে, যার ভেতরে থাকত আরেকটা আচ্ছাদন বা থলি। সেই থলিতে বাতাস প্রবেশ করালেই তৈরি হত বলের প্রকৃত আকৃতি। শুরুতেই এই বলটি বিশ্বকাপের উপযুক্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি ফিফা, এতে তারা সময় নিয়েছে প্রায় ২০বছর। এই ধরণের বল নিয়ে নানান গবেষণার পর শেষ পর্যন্ত ১৯৫০ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে ফিফা ‘ডুলপোট’ নামের ওই বলটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

শুরুর দিকের বলগুলোতে ছিলো ১২ থেকে ১৩টি প্যানেল। কিন্তু ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে প্রথম ব্যবহার করা হয় “সুইস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন” নামের ১৮ প্যানেলের বল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ১০০টি বলের মধ্যে ট্রায়ালের মাধ্যমে বল নির্বাচন করে ফিফা। সেই বিশ্বকাপে স্বাগতিক সুইডেনের কোম্পানি সিডসভেন্সকা লিডারোস রেমফাব্রিকেন-র তৈরি ‘টপ স্টার’ বলটি নির্বাচিত করা হয়। টপ স্টার বলটির বিশেষ গুণ ছিল এর উপরিভাগ মসৃণ এবং জলরোধক। প্রথম বিশ্বকাপের পর থেকে পরবর্তী কয়েক দশক ধরে নিখুঁত উন্নত মানের ফুটবল তৈরির আপ্রাণ চেষ্টা চলেছে। শেষ পর্যন্ত কাঙ্খিত আলোর মুখ দেখাল অ্যাডিডাস।

১৯৭০ সালে অ্যাডিডাস এর তৈরি বিশ্বকাপের বলটি প্রথমবারের মতো নাম পেল ‘টেলস্টার’ নামে। ৩২টি বিশেষ লেদার প্যানেল দ্বারা তৈরি বলটির বিশেষত্ব অনেক যার ফলে নতুন যুগে প্রবেশ করল বিশ্বকাপের বল। তখনকার সময় রঙিন টেলিভিশন ছিলনা সাদাকালো টিভিই ছিল মানুষের ভরসা। ১২টি কালো প্যানেল বাকি সাদা প্যানেলগুলির সমন্বয়ে তৈরি টপসটার বলটি সাদাকালো টেলিভিশনে সুস্পষ্ট দেখা যেত। ‘টেলস্টার’ নামটিও এসেছে মূলত ‘টেলিভিশন’ এবং ‘স্টার’ শব্দ দুটি থেকে। ৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপই প্রথম টিভিতে সম্প্রচারিত বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা।

১৯৭৪ সালের জার্মানি বিশ্বকাপেও খেলা হয় ‘টেলস্টার’ এর পরবর্তী ভার্সনে। বলটির অফিসিয়াল নাম ছিলো ‘টেলস্টার ডারলেস্ট’। এরপর টেলস্টারের জায়গা নেয় ‘ট্যাঙ্গো’, যা দিয়ে খেলা হয়েছে পরপর দুটি বিশ্বকাপ। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা এবং ১৯৮২ স্পেন বিশ্বকাপে ট্যাঙ্গো বলটি বেশ দক্ষতা দেখায়। ৮০ এর দশকে এবং পরে যারা ফুটবল দেখেছেন বা খেলেছন তাদের এই বলটি চিনতে মোটেও ভুল হবার কথা নয়। এটিই সম্ভবত পূর্বের বিশ্বকাপগুলোতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল হিসেবে এখনো চিহ্নিত।

এরপর মেক্সিকো, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এবং জার্মানি বিশ্বকাপে পর্যায়ক্রমে আধুনিক থেকে আধুনিকতর বল তৈরি করেছে অ্যাডিডাস। যারমধ্যে কিছু হয়েছে প্রশংসিত আর কিছু সমালোচিত। সর্বশেষ ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের জন্য তৈরি ‘ব্রাজুকা’ নিয়েও ছিল কিছু সমালোচনা।

তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে সমালোচিত বল ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ‘জাবুলানি’। ফুটবল সংশ্লিষ্ট প্রায় সব পক্ষ থেকেই এসেছিলো সমালোচনা। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তারকা ফুটবলারদের মধ্যে অনেকেই দাবি করেছিলেন, খেলার মাঠে বলটির গতিবিধি অস্বাভাবিক যা তাদের বুজতে বেশ অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এডিডাস মনযোগী হয় কিভাবে একটি নিখুঁত বল তৈরি করে খেলোয়াড়দের পছন্দের করা যায়।

তবে এবার আর কোনো সমালোচনা নয়, নয় কোন দেশ কিংবা ঐতিহ্যের ছাপ। রাশিয়াতে নিজেদের সেই জনপ্রিয় বল টেলস্টারকেই ফিরিয়ে আনছে অ্যাডিডাস। তবে নতুন চেহারা ও উন্নত প্রযুক্তিতে বলটিকে তারা করেছে অসাধারণ। আর এই “টেলস্টার ১৮” বলটির মাধ্যমে প্রথমবার লাখো কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর কেড়েছিল। এখন মাঠেই দেখার পালা এই উন্নত সংস্করণের নতুন বলটি কেমন আচরণ করে, “টেলস্টার ১৮” পারবে কি খেলোয়াড়দের পছন্দের জায়গা করে নিতে!

বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন “সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মা”

Now Reading
বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন “সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মা”

বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির অর্থাৎ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে ভারত, যার নাম ‘ব্রহ্মা’। তারা ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল উৎক্ষেপণও করেছে।  এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের হাতে থাকার খবরে চিন্তিত ন্যাটো বাহিনীও। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের দ্রুত উত্থান অশনিসংকেত হিসেবে বিবেচনা করে প্রতিবেশী দুই দেশ চীন ও পাকিস্তান। এদিকে ব্রহ্মার সফল উৎক্ষেপণ এর পর বিগত দেড় দশকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ভারতের দ্রুত উত্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রহ্মা’ই ভারতের প্রথম কোনো ক্ষেপণাস্ত্র, যার কার্যক্ষমতা ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বজায় থাকবে। তবে  ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি হয়েছে ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে যা দ্রুতবেগে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দুই পরাশক্তির যৌথভাবে তৈরি ব্রহ্মা বিশ্বের সমরাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। খাড়াখাড়িভাবে উৎক্ষেপণে সক্ষম হওয়ায় এ ক্ষেপণাস্ত্র রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম। যদিও রাডার ব্রহ্মাকে চিহ্নিত করতে পারে কিন্তু মাঝপথে তা থামিয়ে কিংবা রুখে দেওয়া কার্যত কঠিন হবে। ভারত তার ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির মাধম্যে মার্কিন টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকেও বহু পেছনে ফেলে দিয়েছে। যেখানে টমাহক ক্রুজ মিসাইলের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯০ কিলোমিটার সেখানে ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৭০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ টমাহকের চেয়ে প্রায় ৪গুন বেগে লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ব্রহ্মা। বলা চলে ভারতের ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়কেই টেক্কা দিয়ে দিয়েছে।

রাশিয়া তার নিজের সামরিক বাহিনীর জন্যও ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্রের একটি সংস্করণ তৈরি করেছে, তবে ভারতেরটির তুলনায় তার পাল্লা কম। ভারতের ব্রহ্মা সংস্করণটির আওতা বাড়িয়ে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। ব্রহ্মার দুটি সংস্করণ ইতিমধ্যেই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যার একটি ভূমি এবং অপর সংস্করণটি জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য। তবে শীঘ্রই যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপণযোগ্য অপর দুটি সংস্করণও ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির অপেক্ষায়।

ভারতে ওডিশার চণ্ডীগড়ে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক মিসাইল ফ্রিগেট থেকে ব্রহ্মার সফল উৎক্ষেপণ করা হয়। এটিকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন স্থল, রণতরী, সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমান থেকে সহজেই নিক্ষেপ করা যায়।

“ইরান ডিল” থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিল যুক্তরাষ্ট্র!

Now Reading
“ইরান ডিল” থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিল যুক্তরাষ্ট্র!

২০১৫ সালে ছয় জাতির মধ্যাস্ততায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা হয়। জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের ওই সমঝোতা ‘ইরান ডিল’ নামেও পরিচিত। ইরানের সঙ্গে চুক্তিকারী দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং চীন। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি রোধে পশ্চিমা বিশ্ব বহু বছর ধরে দেশটির ওপর বাণিজ্য অবরোধ আরোপ করেছিল। কিন্তু কোনভাবে কাজ না হওয়ায় ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেতৃত্বে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে সরে আসার শর্তে দেশটির ওপর থেকে অবরোধ উঠিয়ে নিতে উক্ত চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়। চুক্তি মোতাবেক এতদিন এগুচ্ছিল সবকিছু। কিন্তু নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হটাত ইরানের সঙ্গে বহুজাতিক পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে চুক্তির বাকী দেশ সমূহ। চুক্তি মোতাবেক প্রতি ছয় মাস পরপর তা নবায়ন হয়। সেটি নবায়নের সময় ঘনিয়ে এলে ট্রাম্প জানিয়ে দেয় তিনি চুক্তি নবায়নে সম্মতি দেবেন না। বেশ কিছুদিন ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে ছয় জাতির ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি বহুবার দিয়েছেন। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগ থেকেই বলে এসেছেন যে বারাক ওবামা ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, তা ‘জঘন্য, ধ্বংসাত্মক ও বোকামি’। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি ওই চুক্তি বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দেন তার নির্বাচনী প্রচারণায়। এখন ট্রাম্প চাইছেন ইরানের সামরিক শক্তি আরও সীমিত করার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করে নতুন একটি চুক্তি করতে।

এদিকে ট্রাম্পকে চুক্তিতে ধরে রাখতে না পারার বিষয়টি যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের মিত্রদেশগুলোর চরম কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই চুক্তির পক্ষে অবস্থান বজায় রেখে কাজ করে যেতে বদ্ধ পরিকর বাকী দেশগুলো। বাকী পাঁচ দেশের মধ্যে দুই দেশ নিজেদের সহ্য করতে পারেনা বলা চলে রাশিয়া আর যুক্তরাজ্য পরস্পর জাতশত্রু। যুক্তরাজ্য চাইছে যুক্তরাষ্ট্র যেন এই চুক্তিতে থাকে কেননা তাদের ছাড়াই চুক্তি কার্যকর রাখতে গেলে শর্ত মোতাবেক ইরানের সঙ্গে ইউরোপের কোম্পানিগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে হবে। তাদের মিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপেক্ষা করে আদৌ কি তারা কাজ করতে পারবে? এই চুক্তি বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ইউরোপীয় মিত্ররা খুব বেশি যে অগ্রসর হতে পারবে তা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি যেকোন উপায়ে এই চুক্তি বজায় রাখার পক্ষে। ট্রাম্পের চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা পরবর্তী যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে ‘দুঃখ ও উদ্বেগ’ প্রকাশ করে বলেছে, তারা চুক্তিটি কার্যকর রাখতে কাজ করে যাবে। তারা বিবৃতিতে এও প্রত্যাশা করেছে, চুক্তি কার্যকর রাখতে বাধা হয় এমন সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়নে যেন যুক্তরাষ্ট্র বিরত থাকে।

তবে চুক্তি স্বাক্ষরকারী অপর দুই দেশ রাশিয়া ও চীন বরাবরই ইরানের প্রতি নমনীয় ও বন্ধু প্রতিম। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি তিনি ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অবরোধ আরোপেরও ঘোষণা দেন। একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের মাধম্যে করে তিনি ইরানের সঙ্গে সব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাবসা বাণিজ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবরোধ অমান্যকারী কোম্পানিগুলোকে কঠিন সাজার মুখোমুখি হতে হবে। এমতাবস্থায় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান লেনদেন চুকিয়ে নিতে ছয় মাস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে জরুরী বৈঠক করেন। তারা যৌথভাবে ওই চুক্তি থেকে সরে না আসার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেন। কিন্তু কার্যত দীর্ঘদিনের মিত্র এসব দেশের সব ধরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এটিকে একপ্রকার ইউরোপের মিত্রদের কূটনৈতিক পরাজয় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিশেষত যুক্তরাজ্যের জন্য এমন পরিস্থিতি বেশ অস্বস্থির। কেননা ইরান চুক্তির এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের অবস্থান অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের চিরশত্রু রাশিয়ার দিকেই ঝুঁকে গেল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেড়িয়ে ব্রেক্সিট নিয়ে দর কষাকষিতে অন্যান্য মিত্রদের সাথে টানাপোড়নে রয়েছে যুক্তরাজ্য। তাই ইউরোপের অন্যতম শক্তি জার্মানি ও ফ্রান্সের মন রক্ষার্থে চাইলেও “ইরান ডিল” থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে পারছেনা যুক্তরাজ্য।এদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ঐতিহাসিকভাবে অনুশোচিত’ হতে হবে। ২০১৫ সালে তেহরানের সঙ্গে বহুজাতিক শক্তিগুলোর করা পরমাণু চুক্তির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে এমন সতর্কবার্তাই দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সিদ্ধান্ত মোকাবেলায় ইরানের সদুরপ্রসারি পরিকল্পনা রয়েছে। রুহানি বলেন, যদি এমন কিছু ঘটে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পূর্ব থেকেই দেয়া আছে।

চীন-রাশিয়া মোকাবেলায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বিলুপ্ত মার্কিন দ্বিতীয় নৌবহর

Now Reading
চীন-রাশিয়া মোকাবেলায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বিলুপ্ত মার্কিন দ্বিতীয় নৌবহর

চীন আর রাশিয়াকে মোকাবেলা করতে এবার যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিলুপ্ত দ্বিতীয় নৌবহর ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চীফ অব নেভাল অপারেশন এডমির‍্যাল জন রিচার্ডসন বলেছেন, ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের যে দ্বিতীয় নৌবহরটি বিলুপ্ত করা হয়েছে তা আবার পুনরায় গঠন করা সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় নৌবহরটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল খরচ কমানো এবং অন্যান্য কাঠামোগত বিষয় চিন্তা করে। এটি ফিরিয়ে আনা হলে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকুল এবং উত্তর আটলান্টিকে মোতায়েন করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। মূলত রাশিয়া এবং চীনকে মোকাবেলার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত আবার পুনর্বিবেচনা হচ্ছে বলে তার বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে।

জন রিচার্ডসন আরও বলেছেন, এ বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের যে নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল প্রকাশ করেছে তাতে এটা পরিস্কার যে পৃথিবীতে বৃহৎ শক্তিধর দেশগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রতীয়মান।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধম্যে প্রকাশ পেয়েছে যে, দ্বিতীয় নৌবহরকে ফিরিয়ে আনার এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ মনে করা হচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক দশকগুলিতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশে আভ্যন্তরীণ বিদ্রোহীদের তৎপরতা দমনের উপর বেশি মনোযোগী ছিল। তবে এখন তারা তাদের মনোযোগ গভীরভাবে নিবেশ করেছে বিশ্বের বড় বড় শক্তিধর দেশগুলোর উপর, বিশেষত  রাশিয়ার প্রতি তাদের মনোযোগটি প্রাধান্য পেয়েছে।

সম্প্রতি রাশিয়া তাদের নৌশক্তি বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করেছে। রুশ সামরিক বাহিনী বাল্টিক সাগর, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর এবং আর্কটিক অঞ্চলে তাদের সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে। আর এতেই ঘুম হারাম হয়ে গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। বিশ্ব কর্তৃত্ব তাদের হাত থেকে ফস্কানোর আগেই কোমর বেঁধে যুদ্ধংদেহী অবস্থায় নেমে পরেছে ময়দানে।

বহু বছর ধরেই রাশিয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব ক্রমশ বেড়েই চলছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার নাক গলানো বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তাছাড়া সিরিয়ায় বাশার-আল-আসাদের প্রতি সমর্থন এবং ব্রিটেনে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপলের ওপর বিষ প্রয়োগের ঘটনা নিয়ে রাশিয়ার উপর বেঝায় চটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। ফলে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে।

এমতাবস্থায় মার্কিন প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে বিলুপ্ত করা দ্বিতীয় নৌবহরটি তারা পুনরায় ফিরিয়ে আনবে। যার উদ্দেশ্য রাশিয়া ও তার মিত্রদের কোণঠাসা করা। এদিকে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিলেও কে এই দ্বিতীয় নৌবহরের কমান্ডার হবেন এবং এই বহরে কি কি যুক্ত থাকবে সে বিষয়ে পরিস্কার করেনি মার্কিন প্রশাসন।

খরচ কমানো এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনায করে ২০১১ সালে দ্বিতীয় নৌবহরটি বিলুপ্ত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ডিকমিশন্ড কালে দ্বিতীয় নৌবহরে যুক্ত ছিল প্রায় ১২৫ টি জাহাজ, প্রায় সাড়ে চার হাজার বিমান। তাছাড়া উক্ত নৌবহরে কাজ নিযুক্ত ছিল ৯০ হাজার নৌ সেনা ও অন্যান্য কারিগরি কর্মীগণ। দ্বিতীয় নৌবহরটির কাভারেজ এরিয়া ছিল আটলান্টিক মহাসাগর, উত্তর মেরু ও ক্যারিবীয় সাগর যেখানে সে টহল দিতো প্রায় ৬৭ লাখ মাইল।

এদিকে যে কারণে এই নৌবহরটি ফিরে আসছে সে রাশিয়া তাদের নৌশক্তি বাড়ানোর প্রচেষ্টা ক্রমাগত জোরদার করেছে। তারা বাল্টিক সাগর, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর এবং আর্কটিক অঞ্চলে রুশ সামরিক তৎপরতা বাড়তে বদ্ধপরিকর। পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে যে মার্কিন দ্বিতীয় নৌবহর ফিরে আসলে, মহা সাগরগুলোতে মার্কিন আধিপত্য কয়েকগুণ বাড়বে সেই সাথে শক্তিধর দেশগুলোতেও সামরিক শক্তি বাড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু হবে।